নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হাজার হাজার অসাধারন লেখক+ব্লগারের মাঝে আমি এক ক্ষুদ্র ব্লগার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া লেখালেখির গুণটা চালিয়ে যাচ্ছি ব্লগ লিখে। যখন যা দেখি, যা মনে দাগ কাটে তা লিখি এই ব্লগে। আমার ফেসবুক এড্রেস: https://www.facebook.com/sohani2018/

সোহানী

আমি অতি বিরক্ত হয়ে আমার অনেক লিখাই ড্রাফটে নিয়েছি কারন সামুতে আমার কিছু ভাবনা শেয়ার করছি, আর এ ভাবনা গুলো আমার অনুমতি ব্যাতিরেকে কপি না করার অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু যত্রতত্র আমার লিখার কপি পেস্ট দেখেই যাচ্ছি দিনের পর দিন।

সোহানী › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার বই "জীবন ও জীবিকার গল্প".......... এবং তার পরবর্তী প্যাচাল?

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ৯:৫৩



এবার বইমেলা সুপার ফ্লপ! এ ফ্লপের মাঝেই আমার বই নিয়া খুব হাউকাউ করলাম ক'দিন। তারপর একটু সময় চোখ বন্ধ কইরা টাইম পার করলাম সবার রিয়েকশান দেখার জন্য। কারন যারা গাঁটের পয়সা খরচ কইরা বইটা কিনছেন তারা কি আমারে গালি দিসেন নাকি হাসি দিসেন তা দেখতে চাইলাম। এবং রেজাল্ট যা পাইলাম তাতে আমি কিন্তু বেশ খুশি।

যাক্, এবার আমি আসল কথায়। আমি বই বের করার পর বলেছিলাম বইটি নিয়ে বিশ্লেষন দিবো। কিন্তু একজন ফুলটাইম চাকরীজীবি, ফুলটাইম কাজের বুয়া, কাম বাজার সরকার, কাম বেবিসিটার, কাম সুইপার, কাম মালী, কাম ক্লিনার হবার কারনে ফুরসত পাচ্ছিলাম না। তারপরও আসলাম অডিট রিপোর্ট নিয়ে :P

সম্পদ এর হিসাব:

আমি ব্যাক্তিগতভাবে অসম্ভব আনন্দিত যে যেরকম আশা করেছি তারচেয়েও বেশী আপনাদের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি। যেভাবে ভালোবেসে আমাকে সাদরে গ্রহন করেছেন সবাই তা এক কথায় আমি অভিভুত। অন্তত আমার পরিচিত প্রায় প্রত্যেকেই আমার আহবানে সাড়া দিয়েছেন, তাদের ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন। একজন নতুন লেখক হিসেবে এর চেয়ে বড় সম্পদ আর কি হতে পারে?

কিন্তু যদি সত্য বলি তাহলে বলবো, আমি মোটেও স্যাটিসফাইড না বইটি নিয়ে। যেভাবে লিখতে চেয়েছিলাম সেভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারিনি। গল্পের সংখ্যা, বইয়ের পৃষ্ঠার সংখ্যা, শব্দের সংখ্যার মারপ্যাচে অনেক কিছুই কাঁটছাট দিতে হয়েছে। কোন কোন গল্পকে টেনে ছোট করতে হয়েছে। যে সব থিম নিয়ে শুরু করেছিলাম তাতে গল্পগুলো আরো ডিটেইলস হলে ভালো হতো। কিন্তু ধুম করে শেষ করে দিতে হয়েছে। তবে এটা সত্য যে আমি সবসময়ই খুব বেশী সমাজ নিয়ে ভাবি, আমার চোখে যা অসঙ্গতি তা সবার সাথে আলোচনার চেস্টা করি। সে হিসেবে বইটি ও আমার চিন্তা-চেতনার বাইরে নয়।

প্রতিশ্রতির দায়:

বইটি থেকে সংগ্রহিত অর্থ দিয়ে কিছু করার প্রতিশ্রতি ছিল। কিন্তু দেশের বাইরে থাকার কারনে এ দায়িত্ব দায়িত্বশীল একজনকে দেবার চিন্তা থেকেই জাদিদ ভাই এর ঘাড়ে এ দায়িত্ব তুলে দিয়েছি। এর পিছনে ব্যাখ্যা হলো আমার বইটির সাথে আপাদমস্তক ব্লগের মানুষজনই বলতে গেলে জড়িত। যার কারনে ব্লগের গার্জিয়ান হিসেবে জাদিদ ভাইকে এ দায়িত্ব দিয়ে নিজে ভারমুক্ত হয়েছি। উনিই যথাসময়ে সবাইকে জানাবেন এ নিয়ে।

গল্পের পিছনের গল্প:

প্রথমেই আমি জানিয়েছিলাম যে প্রতিটি গল্পই সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে এবং সময় করে পিছনের গল্পগুলো নিয়ে আসবো। তাই আসলাম এবার তা নিয়ে। তাহলে শুনুন আমার বকবক।

পার্ভাট: বইয়ের প্রথম গল্প। গল্পটি পড়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েছেন। কারন সমাজের এ কুৎসিত দিকটার দিকে সবাই চেস্টা করে চোখ বন্ধ রাখতে। তবে আমাদের দেশের মতো সমাজে এরকম ঘটনা হয়তো কম কিন্তু পরিবারহীন পশ্চিমা কালচারে এ ধরনের ঘটনা প্রচুর। গল্পের ব্রকলিন মেয়েটির সাক্ষাতকার দেখেছিলাম একটি স্থানীয় টিভি চ্যানেলে। সে চক্রটি যখন পুলিশের হাতে ধরা পরে তখন ব্রকলিনকে স্যোসাল কাস্টডিতে নেয়া হয়। সেখানেই এক রিপোর্টার তার উপর একটি ডকুমেন্টারী তৈরী করে। সে সাক্ষাতকারে মেয়েটির অঝোরে কান্না আমার হ্ণদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল।

দ্বিচারিণী: এটি একটি প্রতারণার গল্প, প্রেম ভালোবাসার একজন আরেকজনকে ঠকানোর গল্প। কখনো কখনো বাস্তব যেন গল্পকেও হার মানায়। একটু চোখ মেললেই এমন ঘটনা আপনিও হয়তো দেখতে পাবেন যা আমিও দেখেছি।

আশ্রয়: এটি আমার প্রবাসী জীবনের চারপাশে থাকা বৃদ্ধদের গল্প। এ গল্পে রিটায়রমেন্টের পর পশ্চিমা বৃদ্ধদের জীবন সম্পর্কে ধারনা দিতে চেয়েছি পাঠকদের। আর সে সাথে আমাদের দেশের অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরকে কিছু ম্যাসেজ দিতে চেয়েছি। আমি খুব চাই এ দেশের বাবা-মায়েরা একদিন এমন করেই নিজেদের ভালো খুঁজে নিবে, নিজেদের স্বার্থ দেখবে।

একজন হাফ মানুষের গল্প: দেশের একজন সাধারন কেরানির গল্প। একটু তাকালেই এরকম চরিত্র আমাদের অফিস পাড়ায় দেখতে পাবেন। এ মানুষগুলো মনে করে পরিশ্রমই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু এ বোকাসোকা মানুষগুলো জানে না কিভাবে সবাই ব্যবহার করে তাদের। তার উদাহরন দিতে চেয়েছি আমি এ গল্পে।

কনক্লিক্ট: এ গল্পটি আমি বিদেশে বড় হওয়া ২য় প্রজন্মকে নিয়ে লিখেছি। খুব কাছ থেকে তাদের দ্বিধা দ্বন্দে বেড়ে উঠা দেখেছি। আর খুব কাছ থেকে তাদের কষ্টটা দেখেছি। তারা না পারছে বাঙ্গালী হতে না পারে পুরোপুরি বিদেশী কালচারে নিজেদেরকে সপে দিতে। এমন দোটানার মাঝে কাটে এ প্রজন্মের।

জলে ভাসা পদ্ম: এ গল্পটা আমার আপনার দেখা অসংখ্য সংসার জীবনের গল্প, খুব কাছ থেকে দেখা এমন সংগ্রামরত একটি মেয়ের গল্প।

একটি প্রোফাইল পিক এবং একজন সরীসৃপ: খুব কমন থিমের উপর লিখা একটি গল্প। অনলাইনে প্রেমে নামে প্রতারনার ফাঁদে পা দেবার গল্প। যা হয়তো আপনিও জানেন কিংবা নিজেই দেখেছেন।

একজন জরিনা বা কোন এক আকবরের স্ত্রী: এটি আমার খুব প্রিয় একটি গল্প। অনেক পরিশ্রম করে লিখাটা লিখেছিলাম এক সময়। যখন গার্মেন্টস সেক্টরে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা ঘটছিল তখনকার সময়ের এর উপর ভিত্তি করেই গল্পের থিম।

এক টুকরো ভালোবাসা: গল্পটা রোমেলা আর আশিক নামের প্রবাসী দম্পতির। যা আরো আট দশটা প্রবাসী পরিবারের মতই তারা ভিন্ন পরিবেশে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যাস্ত। কিন্তু এ লড়াই সম্পর্কে তেমন কোন ধারনাই নাই আমাদের দেশে থাকা অনেকেরই। খুব কাছ থেকে দেখা এমন কিছু মানুষের গল্প বলার চেস্টা করেছি। !

যোদ্ধা: এক প্রতিবাদী নারীর গল্প। আমার জীবনে এমন নারীর দেখা পেয়েছি অসংখ্য কিন্তু এ সংগ্রামরত মেয়েগুলো খুব কমই সফল হয়েছে অফিস নামক পুরুষশাসিত যাঁতাকলে।

মানুষ কিংবা অমানুষ: অবসর নেওয়া উচ্চমধ্যবিত্ত তোফাজ্জল সাহেবের গল্প যার ছেলেরা দেশের বাইরে স্যাটেলড্। বিপদে আপদে আপনজনকে কাছে না পাওয়া অসহায় বাবা মায়েদের অবস্থা তুলে ধরার চেস্টা করেছি এ গল্পে। এমন পরিবারের সংখ্যা এখন বেড়েই চলছে দেশে।

সিদ্ধান্ত: দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করা সুমনা নামের এক স্ত্রীর গল্প। এমন সুমনারা জীবনভর সহ্য করে স্বামীর অত্যাচার কিন্তু খুব কমই পারে সমাজ সংসার এর শিকল ভেঙ্গে এর থেকে বের হতে। এমন চরিত্রের দেখা আমি পেয়েছি অসংখ্য এবং একটু চোখ মেললে আপনিও পাবেন এমন কাছের কাউকে।

পিশাচ: এ গল্পটিি লিখার পর চোখ বন্ধ করে অনেকক্ষন বসেছিলাম। নিজের অজান্তেই চোখ ভিজে উঠেছিল রাশিদা নামের মেয়েটির কথা মনে করে। বাস্তবতা কখনো কখনো গল্পকেও হার মানায়।

পাত্রী চাই: এ গল্পটিতে আমি ছেলেদের একটা অংশের চাওয়া পাওয়ার চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেস্টা করেছি। যারা বিয়ে করার সময় রুপে গুনে চরিত্রে শিক্ষায় চলনে পোষাকে ও জমিদারের বংশের মেয়েদের খোঁজেন। কিন্তু আয়নায় নিজের চেহারা দেখে না ভুলেও।

এই হলো আমার লিখা ১৪ টি গল্পের বিশ্লেষন। আবারো অসংখ্য ধন্যবাদ সবসময়ই সাথে থাকার জন্য।

মন্তব্য ৫৬ টি রেটিং +১৮/-০

মন্তব্য (৫৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:০৭

হাবিব বলেছেন: ম্যাম, আপনার লেখা পড়েছি উপেক্ষিতাতে। মন্তব্যও করেছি।

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:২০

সোহানী বলেছেন: হাবিব স্যার, আমি ম্যাম না :P ..........

২| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:১৭

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনার বইটা আসলে আগেই অর্ডার দেয়া উচিত ছিল। ভিতরে কি আছে জানতাম না তাই একটু অলসতা কাজ করেছে। গল্পগুলির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আমার মধ্যে আরও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আমি রকমারিতে মাঝে মাঝে অর্ডার দেই। পরের অর্ডারে ইনশাল্লাহ অর্ডার দেব। আমার মনে হচ্ছে আমি কিছু মিস করছি। :) আপনার বই থেকে মনে হচ্ছে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা আমার হবে, যে জগত সম্পর্কে আমার ধারনা কম।

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:২২

সোহানী বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার লিখাটি আপনার আগ্রহ তৈরী করেছে বলে। আমি একজন ক্ষুদ্র লেখক, লেখনীর মাধ্যমে সমাজ বদলাবার চেস্টা করি। কারন এর বাইরে আমার কোন ক্ষমতা নাই। তবে সত্যটা হলো আপনি মিছুই মিস করেননি, কারন এর মাঝেই আপনার বাস।

৩| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:৩২

পদ্মপুকুর বলেছেন: নতুন বইয়ের জন্য ফিল্ড সার্ভে চলছে না কি আপা? :-B

ইদানিং আমিও একজন ফুলটাইম চাকরীজীবি, পার্টটাইম কাজের বুয়া, কাম বাজার সরকার, কাম সুইপার, কাম মালী, কাম ক্লিনার হবার কারনে ফুরসত পাচ্ছিনা।.....

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:৩৫

সোহানী বলেছেন: হাহাহাহাহা.......... আসেন দুক্ষে কোলাকুলি করি :P ..........


না ঠিক সার্ভে না। নিজের কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে লিখা।

৪| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:৩৮

পদ্মপুকুর বলেছেন: ওরে সর্ব্বনাশ, ইন্সট্যান্ট রিপ্লাই!! আপনার ওখানে এখন বেশ রাত না?

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:৪২

সোহানী বলেছেন: হাহাহাহা...... বুয়ারা সব কাজ শেষ করেই ঘুমাতে যায়। কাজ একটু বাকি তাই কাজের ফাঁকে রিপ্লাই দিচ্ছি। প্রায় রাত একটা বাজে :P !

৫| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:৪১

জুন বলেছেন: সোহানী
সুপার ফ্লপ বইমেলাতেও আপনার বই পাঠক প্রিয়তা অর্জন করেছে তার জন্য সকল কৃতিত্ব আপনার ক্ষুরধার লেখনীর :)
অভিনন্দন আপনাকে।

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:৪৩

সোহানী বলেছেন: ওরে আপুরে, ক্ষুর আছে বাট ধার নাই B-)) । তারপরও এই ভোতা ক্ষুর দিয়াই পারলে দফারফা করি.........হাহাহাহা

অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু সবসময়ই সাথে থাকার জন্য।

৬| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১১:০৬

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: কবে যে পড়বাম বইটা ।

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫১

সোহানী বলেছেন: কেন আফা, কি হইছে! ১১২ পাতার বই পড়তে ঘন্টা লাগবো!! শুরু করে দেন।

৭| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১১:০৭

স্প্যানকড বলেছেন: দেশের মানুষ পড়ার দরকার মনে করে পড়ে বাস্তব হলো এ নিয়ে ভাবে না বা মাথা ঘামায় না। যদি তাই হতো এত এত লেখা লাগতো না। ঐ এক নজরুল, রবীন্দ্রনাথ পড়েই সমাজের চিত্র আর মানুষ ঠিক হয়ে যেতো। অবশ্য ইদানীং মানুষ আসমানী কিতাব ও কম পড়ে। পড়লেও মানে না। তবু আপনে চেষ্টা করেছেন তাই আপনাকে ধন্যবাদ।

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫৪

সোহানী বলেছেন: আপনি পড়ছেন সাথে আরো কিছু ব্লগার পড়ছে। তারপর সবার চিন্তাধারায় কিছুটা ছাপ ফেলবে। সেটার প্রভাব পড়বে আপনার আশেপাশে সবার। আস্তে আস্তে একদিন পরিবর্তন হবেই। আমি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ।

৮| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১:৪৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: মূল জিনিস পড়া বা দেখার আগে পেছনের জিনিস দেখতে মন চায় না আমার, তাই পুরাটা পড়লাম না। ঠিক একই কারনে কোন মুভি দেখার আগে বিহাইন্ড দ্য সীনও দেখি না আমি। আপনে তো ব্লগের নেতৃস্থানীয় লেখিকা, তাই ভাবতেছি আজ থিকা আপনেরে স্যার কমু। তো, সোহানী স্যার........আপনের এই বইটা আমি (মানে আমার হয়ে আরেকজন) খরিদ করেছি, তবে কবে নাগাদ হাতে পাবো সেটা নীচে করোনা স্যার আর উপরে আল্লাহ জানে!!! B-)

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০০

সোহানী বলেছেন: ভাইজান, স্যার উপাধি একমাত্র সরকারী কর্মকর্তা আর বিশেষ দলীয় লোকজনের প্রাপ্য। আমি এ ক্যাটাগরিতে কোনভাবেই পড়িনা। তাই শুধু শুধু আমারে উপহাসের পাতিহাঁস কেন বানান!!!!!

অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইজান বইটা যে সংগ্রহ করছেন। ক্ষমতা থাকলে সবার বাড়ি বাড়ি পৈাছায়ে দিতাম। কিন্তু তা হবার না।

আশাকরি শীঘ্রই করোনা পরিস্থিতি দেশে স্বাভাবিক হবে। যদিও প্রতিদিন বাসার ডাক্তারদের কাছ থেকে যে তথ্য উপাত্ত পাচ্ছি তা ভয়াবহ!!!

৯| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: দ্বিতীয় বইয়ের কাজ শুরু করেছেন?

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০২

সোহানী বলেছেন: আরে না ভাই, হাড়িপাতিল মাঝতে মাঝতেই আমার জীবন শেষ :P

আপনি কেমন আছেন? দুই মিস্টি পরীর ছবি দেখেছি ফেসবুকে....

১০| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৩:২৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: অভিনন্দন ও শুভকামনা রইলো।

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০২

সোহানী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ব্রো। ফুল বিশেষজ্ঞ...........

১১| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৫:৩৪

আমি তুমি আমরা বলেছেন: বইটা পড়া হয়নি। রকমারীতে পাওয়া যাবে?

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৩

সোহানী বলেছেন: মনে পাওয়া যাবে।

অনেক ধন্যবাদ ভাই আগ্রহ প্রকাশের জন্য ।

১২| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২০

নীল আকাশ বলেছেন: আমি আপনার গল্প সংকোলন পড়ে শেষ করেছি কিন্তু অল্প কিছুদিন এতটাই ব্যস্ত যে এর প্রতিক্রিয়া লিখবো লিখিব ভেবেও কুলিয়ে উঠতে পারছি না। হাতে সামান্য অবসর আসলে প্রথমেই আপনার বই নিয়ে বসবো।
আপনার লেখার ধরন ভিন্ন। আর দশটা মানুষ সমাজকে যে দৃষ্টিতে দেখে আপনি সেই ভাবে দেখেন না। আপ্নি দেখেন অতসী কাঁচ দিয়ে। যারা এইগল্পগুলি পড়বে তারা খোলসের ভিতরের আরেক্ট সমাজ জীবন দেখবে। আর এই কারনেই আপনি আমার খুব প্রিয় একজন লেখিকা। সবাই এইসব বিষয় নিয়ে লিখতেও পারে না। সাহসও পায় না।
শুভ কামনা নিরন্তর।

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১১

সোহানী বলেছেন: ও মাই গড, কি বললেন আকাশ ভাই!! আমি অভিভূত!!!!!

আমি ভাই সামান্য লেখক। মাঝে মাঝে নিজের চিন্তা নিয়ে নিজেই বিব্রত হই, বিরক্ত হই। কেন এতো চিন্তা আমার মাথায় আসে। যেমন কারো সাথে পরিচয়ের সাথে সাথে কম্পিউটারের স্ক্রীনের মতো কিছু তথ্য মাথায় ঘুরতে থাকে....হাহাহাহা। কি যে এক অদ্ভুত সমস্যা। তাই লিখে ব্রেনের কোষ কিছু খালি করার চেস্টা করি.......।

আপনিও চমৎকার লিখেন। ও একই ধারায় লিখেন। তাই বুঝতে পারি আমার চিন্তা ভাবনার প্যাটার্ন আপনার মাথায়ও খেলা করে......... ;)

আপনার কি অবস্থা? আপনার নতুন বই নিয়ে কোন কথা শুনছি না!!!

১৩| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ৮:৪৮

নীল আকাশ বলেছেন: আমাদের দুইজনের লেখার দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় একই ক্যাটাগরির। যেই কারনে আমাদের দুইজনের অনেক লেখার মাঝে সহজেই মিল পাওয়া যায়। আপনার গল্পগুলি পড়তে যেয়ে আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়েছে, আচ্ছা! আমি কেন এটা নিয়ে আগে লিখিনি?
করোনার এবং লক ডাউনের কারনে প্রকাশকের অফিস বন্ধ। এখন শুধুই ছাপানোর কাজ বাকি।
শুভ রাত্রী।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:২১

সোহানী বলেছেন: ঠিক এই কথাই বলতে চেয়েছি। আপনার লিখা সে কারনে আমি অসম্ভব পছন্দ করি। তবে আপনি পুরুষ লেখক হিসেবে বেশী প্রশংসার দাবীদার। কারন এরকম উপলব্ধি খুব কম পুরুষই করতে পারে। সব পুরুষকুল যদি এমন করে ভাবতে পারতো তাহলে পৃথিবীতে এমন অনাচার থাকতো না।

তাহলে আগামী বইমেলায়ই আসুক। বইমেলায় বই আসার আনন্দই আলাদা।

১৪| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ৯:১২

ইসিয়াক বলেছেন: আপু আমি আপনার বইটি অনেক আগেই সংগ্রহ করেছি। গল্পগুলো খুব ভালো লেগেছে।


০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:২২

সোহানী বলেছেন: ছোটভাই, আমি জানি যে আপনি বইটা সংগ্রহ করেছেন ও পড়েছেন। এখন ভালো লেগেছে শুনে খুব ভালো লাগছে।

অনেক অনেক ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

১৫| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ৯:১৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আপু লেখার পিছনের গল্পে ভালো লেগেছে।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:২৩

সোহানী বলেছেন: ধন্যবাদ সুইটি ......। তোমার বইয়ের অপেক্ষায় আছি কিন্তু।

১৬| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ৯:১৮

নীল-দর্পণ বলেছেন: ব্লগে কম আসা হতো ফলে বইটার কথা জানিনা। আপাতত বই পড়ার অবস্থা নাই তবে পড়ার লিস্টে রাখলাম বইটা। দ্রুতই সংগ্রহ করতে হবে । :)

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:২৬

সোহানী বলেছেন: বলেন কি নীল, এতো হাউকাউ করলাম পুরো বইমেলা জুড়ে আপনি কই ছিলেন???

সগ্রহ করার আগ্রহে অনেক ধন্যবাদ।

১৭| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:০২

রানার ব্লগ বলেছেন: লেখার পেছনে যে মুগ্ধকর গল্প থাকে তাও কিন্তু কম আকর্ষণীয় না।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:২৯

সোহানী বলেছেন: ওহ নো..... এটা অনেকটা ডিফেন্সিভ লিখা :P । তারপরও ভালোলেগেছে কারন ভালোবাসেন বলে।

১৮| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:২৭

করুণাধারা বলেছেন: গল্প লেখার পিছনের গল্প পড়তে ভালো লাগলো।

এদেশের মেয়েদের গল্প কি প্রজন্ম বদলের সাথে বদলাচ্ছে!! মনে হয় না। :(

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:৩২

সোহানী বলেছেন: না বদলাচ্ছে না মোটেও। শুধু এক ধরন থেকে আরে ধরনে পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে মনে মে ভাবতাম পশ্চিমা বিশ্বে মনে হয় এ ধরনের সমস্যা নেই। এখন দেখছি সব জায়গায় একই দৃশ্য। শুধু পার্থক্য, রাস্ট্র এখানে মেয়েদের পিছনে আছে। কিন্তু আমাদের দেশে তাও নেই।

অনেক ধন্যবাদ আপু। কিন্তু আপনি টুপ করে আসেন আবার টুপ করে চলে যান!!!!

১৯| ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:৩৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপনার বই সম্পর্কে ফেবুতে সম্ভবত হুমায়ূন কবির ভাইয়ের পোস্ট মারফত একটা ধারণা লাভ করেছিলাম।পাঁচমিশালী জীবনের অভিজ্ঞতা।আজ আপনার সৌজন্যে আরও একবার গল্পগুলো সম্পর্কে জানা হলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
বইটি থেকে আপনার ইচ্ছা পূরণ হোক কামনা করি।

শুভেচ্ছা জানবেন আপু।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:৪৩

সোহানী বলেছেন: ধন্যবাদ ব্রো। হাঁ, হুমায়ূন কবির ভাই সহ অনেকেই রিভিউ দিয়েছিল। আপনি তখন ছাদ বাগান নিয়ে এতো বিজি ছিলেন যে বাকিগুলো খেয়ার করেননি............।

ফলনের কি অবস্থা? নতুন কি তুললেন ঘরে। আমার ক্যাপসিকাম, টমেটু আর মরিচ প্রচুর ধরেছে। আর বেশ কিছু ফুল। ওওফুলের ছবি দেই....




২০| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ২:০১

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
বিদেশে সবাই ফুলটাইম চাকরী করার পরও, কাজের বুয়া, বাজার পিয়ন, সুইপার, মালী, ঝাড়ুদার ড্রাইভার। এটাই বাস্তবতা।
বইটার পেছনে অনেক শ্রম দিয়েছেন, তাই সংগ্রহ করে পড়তে হবে।
ধন্যবাদ।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:৪৮

সোহানী বলেছেন: ওওও ড্রাইভারগিরির কথাতো বলতে ভুলেই গেছি। এখন বাচ্চাদের স্কুল সামারের বন্ধ বলে বেচেঁ গেছি। নতুবা সাত সকালে উঠে পাগলের মতো দৈাড়াইতে হয়। সবচেয়ে বড় পেইন ওইটা।

আসলে বইটির পিছনে আমি তেমন শ্রম দেইনি। ছোট গল্প বলে ধারাবাহিকতা বঝায় রাখতে হয়নি। একটু একটু লিখেই শেষ করেছি। আর আমার অভ্যাস একটা লিখা একবারেই লিখি, বারবার বসি না। কারন তাতে গল্পের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।

অনেক ধন্যবাদ সংগ্রহের আগ্রহের জন্য। রকমারীতে না পেলে আমাকে জানাবেন।

২১| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ সকাল ৭:৩৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার লেখা বই জীবন ও জীবিকার গল্প এবং তার পরবর্তী প্যাচাল পাঠে ভাল লাগল ।
বই মেলা চলাকালে দেশের বাইরে থাকায় নীজে বইটি সংগ্রহ করতে পারিনি । অন্যের মাধ্যমে অবশ্য
বইটি সংগ্রহ করেছি । তবে এখনো হাতে না পাইলেও টেলিফোনে বেশ কয়েক দফায় গল্পগুলির কাহিনী
শুনেছি সংগ্রাহকের কাছ হতে । আমি ভাল পুস্তক রিভিউ করতে পারিনা, লিখতে গেলে লেখার আকার
ক্রমেই বড় হয়ে যায়। তার পরেও পুস্তকের ভিতরে থাকা লেখার গুণাগুনের প্রকাশ হয়না মোটেও ,
এটা আমার অক্ষমতাই বটে। তবে লেখা পাঠ করি বেশ মনযোগ দিয়েই। ভাল লাগার কথা বলে যাই
আগপাছ যেমন পারি তেমন করেই । গল্পগুলির পাঠ শুনে যেমনটি মনে হয়েছে, অপনার বলা গল্পের
পিছনের কাহিনীর সাথে অনেকটাই মিলে যায় আপনার সাহিত্য কর্মের সাথে এই সামুতেই ভাল করে
পরিচিত হয়েছি বলে। তাই গল্পগুলির নাম ধরেই কিছু আলোচনা রেখে যেতে চাই এই মন্তব্যের ঘরে ।

পার্ভার্ট : নারী চরিত্র নিয়ে শতাব্দী ধরে হেলাফেলা করা হয়েছে অনেক , এবার সময় এসেছে পার্ভার্ট চরিত্র
চরিত্র গুলির স্বরূপ উন্মোচনের।সবাই চেষ্টা করে সমাজের কুৎসিত দিকটার দিকে চোখ বন্ধ করে রাখতে।আমাদের
দেশের সমাজেও এ ধরনের লোকের সংখ্যা একেবারে কম নয়।গল্পে পার্ভার্ট চরিত্রের স্বরূপ প্রকাশ হয়েছে
দারুন ভাবে। ভাবনার ও দেখার জগতে এর প্রভাব পড়বে পাঠকের মাঝে । পাঠককে নিয়ে যাবে বাস্তবতা
উপলব্দির জগতে ।

দ্বিচারিণী : প্রেম ভালবাসায় প্রতারনা ও ঠকানোর গল্প। সত্যিই অনেক সময় বাস্তবকেও হার মানায় ।
প্রেমহীনতার যন্ত্রণা মানুষের জীবনকে ছাড়খার করে দেয় ।একটু চোখ মেললে এমন ঘটনা আমরাও
অনেক দেখে থাকি অমাদের চারপাশে । গল্পে দ্বিচারীণী চরিত্র চিত্রিত হয়েছে সুন্দরভাবে ।

আশ্রয় : প্রবাস জীবনে চারপাশে থাকা বৃদ্ধদেরকে নিয়ে গল্পটি আমাদের সমাজের অসহায় বৃদ্ধদের জন্য
একটি ম্যসেজ দেয়ার অপুর্ব কাহিনী বর্ণিত হয়েছে সুন্দরভাবে । বিদেশের মত আমাদের দেশেও বৃদ্ধাশ্রম
গড়ে উঠুক সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে । দেশের এনজিউরা এগিয়ে আসতে পারে এ লক্ষ্যে। প্রবাসীদের
রেমিটেন্স হতে অর্থায়ন করা যেতে পারে বৃদ্ধাশ্রম স্থাপন ও পরিচালনার কাজে ।

একজন হাফ মানুষের গল্প : দেশের এজন ছাপোষা কর্মজীবী মানুষের গল্প। সত্যিই এ মানুষগুলো
মনে করে পরিশ্রমই জীবনের সাফল্যের চাবিকাঠি । তবে সহজ সরল প্রকৃতির মানুষগুলি জানেনা তাদের চারপাশে
থাকা চতুর লোকেরা কিভাবে তাদের কাঁধে ভর করে তর তর করে উচ্চতর সোপানে পৌঁছে যাচ্ছে ।
এ বিষয়গুলি সুন্দরভাবে উঠে এসেছে গল্পের মাঝে ।

কনফ্লিক্ট : বিদেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের মানুষদের জীবনাচারের কাহিণি। তারা বলতে গেলে দুটি
ভিন্নধারার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে উঠে , ঘরে মা বাবার দেশী কালচার আর বাইরে স্কুলে এবং
তাদের পরিচিত মহলে সে দেশের কালচার, এর মাঝেই তারা বড় হয়ে উঠে । তাদের মাঝে জন্ম নেয়
বিভিন্ন ধররের দ্বিধা দন্ধ । তারা আধা বাঙালী , বাংলা বলতে পারে বাবা মার কাছ হতে শুনে কিন্তু
লিখতে জানেনা বাংলা , যে দেশে বাস করে সেখানকার ভাষা বলতে ও লিখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে ,
সে দেশের সঙস্কৃতি তাদের মন মানসিকতায় প্রভাব ফেলে , আবার পৈত্রিক জন্মভুমির প্রতি তাদের
থাকে একটি নাড়ীর টান । এই টানাপোড়নের সার্বিক চিত্রই যেন ফুটে উঠেছে লেখাটিতে ।

জলে ভাসা পদ্ম : লেখকের দেখা অসংখ মানুষের জীবনাচারের বৈচিত্রময় গল্প । এতে থাকা
একটি মেয়ের সংগ্রামী জীবনালেক্ষের সুন্দর প্রকাশ পাঠকের মনে বিষাদের ছায়া ফেলে । মানুষকে ভাবতে
শেখায় পরের দু:খে একাত্বতা প্রকাশের প্রয়াসের দিকে । একজন গল্পকারের স্বার্থকতাতো এখানেই ।

একটি প্রোফাইল পিক এবং একজন সরীসৃপ : খুবই সাধারণ বোধের উপরে ভিত্তি করে লেখা গল্প ।
এই ডিজিটাল যুগে প্রেমের ভূবনে বিচিত্র এবং অভিনব ফাদ বা প্রতারনার শিকাড়ে পরিনত হওয়ার
দিক নিয়ে লেখা একটি ভাল সমাজ সচেতনতামুলক লেখা , গল্পের আবহে পাঠক মনে যে সচেতনতার
সৃস্টি হয় তা নীজ সহ পরিচিত জনের কাছে সঞ্চালনেও ভাল ভুমিকা রাখে । এটা এই সময়ের জন্য
একটি সুন্দর লেখা তাতে কোন সন্দেহ নেই ।

একজন জরিনা বা কোন এক আকবরের স্ত্রী : সমসাময়ীক কালে পোশাক শিল্পখাতে সংগঠিত
বিষয়াবলী ও তা খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে কেমন প্রভাব ফেলেছে তার করুনগাথারই যেন মুর্ত প্রকাশ ।
অনেক দরদ দিয়ে লেখা একটি গল্প , এই গল্পের রেশ কবে যে কাটবে তা আল্লাই জানেন । এইতো দিন
কয়েক আগে নারায়নগঞ্জের কাছে কারখানায় আগুন লেগে কত জরিনা আর আকবরদের স্ত্রীর জীবন হয়েছে
ছাড়খার , তবু কি সংস্লিষ্টদের হবেনা হুস । তারা কি এমন করেই জীবন দিয়ে যাবে লোভাতুর মানুষের খাম
খেয়ালীপনার কাছে। আর জরিনারা স্থান পাবে গল্প ও কবিতায় মানুষের বুক চাপরানো হাহাকারের মাঝে।

একটুকরা ভালবাসা : প্রবাসীদের জীবনের করুন অনেক দিকই থেকে যায় অজানা দেশে বসবাসকারী
অনেকের কাছেই । প্রবাশে জীবন চাকচিক্যময় দেখালেও এর আড়ালে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে থাকে অনেক
অনেক কষ্ট ও বিষাদের ছায়া যা প্রবাসীরা অনেকসময়ই করেন না প্রকাশ স্পষ্ট করে অনেক সময় লাজ
লজ্জার কারণে।সেই অবলা অব্যক্ত কথাগুলির কিছুটা উঠে এসেছে গল্পাকারে, লেখিকার কলমের আচরে।
গল্পটি পাঠে অনেকেই জানতে পারবেন প্রবাস জীবনে অনেকের টিকে থাকার লড়াইএর কথা ।

যোদ্ধা : লেখিকা নীজেই একজন প্রতিবাদী নারী । তাঁর ক্ষুরধার লেখনী একজন প্রতিবাদী নারীর
গল্পকথা বলেছে দারুনভাবে । এমন লেখাইতো এখন প্রয়োজন ভীষনভাবে । ঘুনে ধরা সাজটিকে নাড়া
দিবে প্রবলভাবে ।

মানুষ কিংবা অমানুষ : গল্পের ভিতরের ঘটনা প্রবাহগুলি একান্ত কাছে থেকে দেখা বলেই মনে হয়েছে ,
তাইতো হয়েছে লেখা এমন প্রানবন্ত গল্পকথা । এ ধরনের আসহায় মা বাবা শান্তনা পাবেন গল্টটি পাঠে যদিও
বিষাদের ছায়া থাকবে তাতে ।

সিদ্ধান্ত : অত্যাচার সয্য করা গৃহবধু সুমনারা রয়েছে আমাদের চারিধারে যারা জীভনভর সয্য করে
স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর বিবিধ রকমের অত্যাচার । অনেকের কষ্টকর জীবনের কাহিনী থেকে যায় লোক চক্ষুর
অন্তরালে । অনেক গৃহবধুই করেন না তার প্রকাশ অপরের কাছে । এদের কঠীন আর কষ্টকর জীবনাচারের
করুনগাথা দক্ষ কারিগরের মত সুনিপুনভাবে উঠে এসেছে সিদ্ধান্ত গল্পটির মাঝে । আমরা সাধারণ চোখে
যা দেখি তার থেকেও অনেক গভীরে গিয়ে তাদের দু:খ গাথার চিত্র আঁকা হয়েছে গল্পটিতে । গল্পটি পড়ে
পাঠকের মনে যে করুন রসের সঞ্চার করে তার সুফল সমাজ পাবে বলে মনে করি,এটাই গনমুখী সাহিত্যের
স্বরূপ বলে মনে বাজে । লেখিকাকে সাধুবাদ জানাই অন্তরের অন্তস্থল হতে ।

পিশাচ : হ্যাঁ বাস্তবতা অনেক সময় গল্পকে হার মানায় , তাইতো তারা পিশাচ নামে পরিচিতি পায় ।
লেখিকার অনুভুতির দারুন প্রকাশ ঘটেছে গল্টটিতে তাতে একমত হবেন সকলেই , কত গভীরে গেলে এমন
কথামালা ঝড়ে গল্পে, তা গল্পটি পাঠ না করলে বুঝার উপায় নাই । এত এত ব্যস্ততার মাঝে এমন গল্প লিখেন
কেমন করে তা ভেবে কেবল অবাকই হয়ে যাই ।

পাত্রী চাই : গল্পটা কাজে দিবে অনেকের তরেই, তবে ভাল কথা বলেছেন পাত্রী চাওয়ার সময়
নীজের চেহারাটা আয়নায় দেখা প্রয়োজন , রূপ নয় গুণই হোক পাত্রী চাওয়ার নির্ণায়ক । গল্পের স্বার্থকতা
নেমে আসুক পাত্রী চাওয়ার কালচারে , দেশী বিদেশী সব জায়গাতেই ।

করুনার এই দুর্যোগময় টানাপোড়নের দিনে অনুষ্ঠিত বই মেলায় পুস্তকটি বেশ পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে জেনে
খুব খুশী হয়েছি । সুন্দর , মুল্যবান ও উন্নত প্রকাশশৈলী সমাহারে রচিত গল্পগুচ্ছ পুস্তকটির উত্তরোত্তর
সাফল্য কামনা করছি ।

প্রতিশ্রতির দায় মিটানোর দায়িত্ব উপযুক্ত হাতে অর্পন করেছেন , তার ঈঙ্গিত আমরা পুর্বেই পেয়েছি ।
গনমুখী সাহিত্যের জনমুখী ব্যবহারের আমরা পুলকিত, সে সাথে লেখিকার সহব্লগার হিসাবে আমরা
নিজেরাও গর্বিত অনুভব করছি ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:০২

সোহানী বলেছেন: গতকাল রাতেই এক ফাঁকে আপনার মন্তব্যটা দেখেছিলাম। তারপর অনেকক্ষন চুপ করে বসে ভাবছিলাম কি লিখবো, কি উত্তর দিবো, কিভাবে নিজের আনন্দ/ভালোলাগাটা প্রকাশ করবো। কিন্তু কোনভাবেই লিখতে পারছিলামনা। কারন কিছু কারনে মনটা একটু বিক্ষিপ্ত ছিল, কোনভাবেই চিন্তাকে একই রেখায় আনতে পারছিলাম না। সত্যি বলছি, আমি অভিভূত আপনার শব্দমালার আন্তরিকতায়। যে ভালোবাসার ছোয়া প্রতিটি শব্দে যা আমাকে আরো দায়বদ্ধ করছে আপনাদের প্রতি আমার লিখালিখির প্রতি। আমি মনে হয় একটু আবেগী কিছু বিষয়ে নিয়ে তাই সে বিষয়গুলো নিয়ে লিখতে বসলে আমি অন্য সবকিছু ভুলে যাই। পুরোপুরি সে চরিত্রের সাথে মিশে যাই।

দেশের বাইরে থেকেও বইটি অন্যের মাধ্যমে সংগ্রহ করে এবং বিকল্প উপায়ে পড়েছেন জেনে অভিভূত। যে কষ্টটা করেছেন তা একমাত্র অপরিসীম ভালোবাসা থাকলেই একমাত্র সম্ভব। এর চেয়ে বেশী নাই বলি।

আপনাদের মতো গুনীজনের আর্শীবাদই হোক আমার বাকি জীবনের পথচলা।

২২| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ সকাল ১১:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: আরে না ভাই, হাড়িপাতিল মাঝতে মাঝতেই আমার জীবন শেষ :P
আপনি কেমন আছেন? দুই মিস্টি পরীর ছবি দেখেছি ফেসবুকে....


শুধু হাড়ি পাতিল মাজলে হবে না বোন। নতুন বইয়ের কাজ শুরু করুন। এবার একটা উপন্যস লিখুন।
আমি ভালো নাই। কন্যারা ভালো আছে। দোয়া করবেন।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:০৯

সোহানী বলেছেন: হাহাহাহা........ পেটের ধান্ধা সবচেয়ে বড় সাহিত্য।

কন্যারা সবসময়ই ভালো থাকে। কারন তাদের বাবারা তাদেরকে ভালো রাখার জন্য নিজেরা খারাপ থাকে। তারপরও বাবাদের মাদের ভালো থাকতে হয়। ভালো থাকার চেস্টা করতে হয়।

২৩| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১২:৪৬

রানার ব্লগ বলেছেন: আমি আপনার গল্প গুলর কথা বলেছি !!! এক জায়গায় আপনি বলেছেন গল্পটা লেখার পর আপনি নিজেও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নাই !!!

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:১০

সোহানী বলেছেন: হাঁ সত্য। কারন সবগুলোই প্রায় সত্য ঘটনার উপর লিখা।

২৪| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানী,





একজন ফুলটাইম চাকরীজীবি, ফুলটাইম কাজের বুয়া, কাম বাজার সরকার, কাম বেবিসিটার, কাম সুইপার, কাম মালী, কাম ক্লিনার যে জীবন ও জীবিকার গল্পের পেছনের গল্প‌ও সুন্দর করে লিখতে পারেন তা দেখলুম!
আপনার দেখার চোখ যে কতো জোড়ালো তা আপনার প্রকাশিত বইয়ের গল্পেই পরিষ্কার।

গল্পের পেছনের এই গল্পে আপনার সমাজ নিয়ে সুস্থ্য ভাবনার আভাস আছে। আছে সমাজের খোলসের ভেতরে থাকা অন্ধকারের দিকে, অসংগতির দিকে আমাদের চোখ ফেরানোর চেষ্টা।
সবটাই একজন মানবপ্রেমীর ছবি।

শুভেচ্ছান্তে।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:১৮

সোহানী বলেছেন: সত্যিই জানি না আমার ভাবনা সুস্থ্য নাকি বাকি সবার। কারন আমারতো চারপাশ দেখে মনে হচ্ছে আমিই ভুল আর বাকি সবাই ঠিক। এ সমাজে বাঁচতে হলে হতে হবে স্বার্থপর, লোভী, হিংস্র, অমানবিক...... নতুবা এ সমাজ তোমাকে ছুড়ে ফেলে দিবে।

একা লড়াই খুব কঠিন সবকিছুর সাথে। .........

অনেক ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন সবসময়।

২৫| ০৮ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:০৫

রানার ব্লগ বলেছেন: আচ্ছা আমাকে একটা কথা বলেন একজন নারী যখন লেখে তখন সে একজন পুরুষ কে অপরাধীর কাতারে ফেল তারপর লেখে কেনো?

১০ ই আগস্ট, ২০২১ ভোর ৪:৪৫

সোহানী বলেছেন: এখানে দু'টো বিষয়, ১) লেখক সত্বা ২) নারী সত্বা

একজন নারী যখন লিখতে শুরু করে তখন প্রধান থাকে তার নারী সত্বা। তাই সেখানে পুরুষদেরকে বিচার করা হয় নারীর মানসিকতা থেকে। কিন্তু নারী যখন পূর্ণ লেখিকা হয়ে উঠে তখন সব সে নারী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। আর তখনকার লিখাগুলো হয় ভারসাম্যের। আমাদের চারপাশে যেসব লেখিকা আছেন হয়তো তারা এখনো পুরোপুরি লেখিকা হয়ে উঠেননি।

এছাড়াও আরেকটি কারন হলো একটি নারী যেভাবে একটি ঘটনার মানবিক বিশ্লেষন করতে পারে একজন পুরুষ লেখক তা খুব পারে। আর নারী লেখক সেসব সামনে আনে বলেই হয়তো পুরুষরা কিছুটা অস্বস্তিতে থাকেন।

২৬| ১৪ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ২:৪৯

নয়ন বড়ুয়া বলেছেন: খুব ইচ্ছে ছিলো, এবারের বইমেলায় আপনার সাথে দেখা করার...
করোনার ভয়ে আর যাওযা হয়নি আপা...

১৫ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:৪২

সোহানী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ দেখা করার আগ্রহের জন্য। কিন্তু এবার আমিও সব মিলিয়ে যেতে পারিনি দেশে।

অবশ্যই একসময় সবার সাথেই দেখা হবে।

২৭| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:২৫

ঢুকিচেপা বলেছেন: আপনার লেখা সবগুলো গল্পই আমার ভালো লেগেছে। প্রতিটা গল্পতেই বাস্তবতা রয়েছে।
আমার কেনার ২টা উদ্দেশ্য ছিল।
১. ব্লগাররা ব্লগারের বই কিনবে তার পাশে থাকার জন্য।
২. বই বিক্রির টাকার ক্ষেত্রে যে উদ্দেশ্যে ছিল তাতে শরিক হওয়া।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৩:৫৪

সোহানী বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ ঢুকি। অনেকদিন আপনাকে মনে হয় দেখি না। যদিও আমিই অনিয়মিত।

সবসময়ই সাথে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। কিছু করার তাগিদে এমন ভাবনা। অনেক ভালো থাকুন।

২৮| ২২ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৪৯

সেলিম তাহের বলেছেন: বইটি রকমারীতে পাওয়া যাবে?

২৪ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৩৬

সোহানী বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ বইটি সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

মাত্রই চেক করলাম রকমারীতে একটি মাত্রই কপি আছে। আর আমি এটির দ্বিতীয় মূদ্রনে যাবো না আপাতত:। তাই বলতে গেলে এটিই শেষ কপি রকমারীতে। লিংক দিলাম,
https://www.rokomari.com/book/207777/jibon-o-jibikar-golpo

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.