| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইমন জুবায়ের
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]
প্রাচীন পারস্যের রাজা সাইরাসকে বাংলায় কুরু বলা হয়। কেননা, প্রাচীন পারস্যের ভাষায় শব্দটি ছিল "কুরোস"। ওখান থেকেই বাংলায় কুরু। সাইরাস বলে ইংরেজরা । কাজেই আমরাও বলি। কুরু শব্দের মূলে রয়েছে "সূর্য" শব্দটি।
তো, কুরু ছিলেন প্রাচীন পারস্যের আকামেনিদ রাজবংশের সর্বশ্রেষ্ট শাসক। কুরুর সময়কাল ৬০০ থেকে ৫৩০ খ্রিস্টপূর্ব।
কুরুর ছেলেবেলা এমন চমকপ্রদ যে কী বলব। সে বিষয়ে লিখেছেন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোদতাস তাঁর বিখ্যাত “ইতিহাস” গ্রন্থে।
সেসবই এখন একবার স্মরণ করি।
সে কালে পারস্যে ছিল মদ্র রাজ্য। সেই মদ্ররাজ্যের অধিপতি ছিলেন সম্রাট এসটাইয়াজেস। তাঁর মেয়ের নাম ছিল মাদানে। মাদানের স্বামীর নাম ছিল ক্যামবাইসেস। ক্যামবাইসেস পারস্যের এনশান প্রদেশের শাসক করত। সম্ভবত বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে প্রদেশটি পেয়েছিল ক্যামবাইসেস। সম্রাটরা তো কন্যার সুখের জন্য সব ব্যবস্থাই করেন।
মাদানে মা হল। ফুটফুটে সুন্দর পুত্রকে নিয়ে মাদানে-ক্যামবাইসেস দম্পতির দিন কাটছিল সুখে।
তো, কার দীর্ঘকাল সুখে কাটে এ ধরায়?
ভয়ঙ্কর এক বিপর্যয় নেমে এল।
কেননা, একরাত্রে এক বদ স্বপ্ন দেখলেন সম্রাট এসটাইয়াজেস। দেখলেন, তার সদ্যজাত নাতি, মানে মাদানের ছেলেটি তাকে উৎখাত করবে। কী ভয়ঙ্কর কথা!
সম্রাট এসটাইয়াজেস-এর ছিল পাথর-হৃদয়। তিনি তার সদ্যজাত নাতিকে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন! ঐ জঘন্য কাজটি যাকে করতে বললেন তার নাম ছিল হারপাগাস। হারপাগাস-এর ছিল কোমল-হৃদয়। সে মায়বশত নবজাতককে হত্যা করতে পারেনি। সে অনভিপ্রেত দায়িত্বটি অন্যকে দেয়। দায়িত্ব যে পেল-সেই লোকটার, কী আশ্চর্য, ঠিক তখনই একটি সদ্যজাত সন্তান মারা গিয়েছিল। কাজেই সে শিশুটিকে খুন না-করে বরং শিশুটিকে তার বউয়ের কোলে তুলে দিল। লোকটার বউ শিশুটিকে লালনপালন করতে লাগল।
কুরুর বয়স বছর দশেক হলে তার শরীরে আভিজাত্যের লক্ষণ ফুটে উঠতে লাগল। এই সময়, হিরোদোতাস লিখেছেন, সম্রট এসটাইয়াজেস বালক কুরুকে দেখলেন। সম্ভবত কোনও রাজকীয় অনুষ্ঠানে। দশ বছরের বালক দেখে তিনি সম্রাট ভীষন অবাক। আমার সঙ্গে এত মিল! তিনি হারপাগাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। হারপাগাস সব জানল সম্রাটকে । সম্রাট তখন কুরুকে মেয়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। ততদিনে হয়তো স্বপ্নের কথা ভুলে গিয়েছিলেন সম্রাট এসটাইয়াজেস।
হয় তো এ সবই কাল্পনিক। গ্রিক ঐতিহাসিক হিরোদোটাসের লেখায় পাই। তবে চমকপ্রদ যে- সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।
যাহোক। আগেই বলেছি-কুরুর বাবা ছিলেন পারস্যের এনশান প্রদেশের শাসক। বয়স হলে কুরু বাবার উত্তরাধিকার পেল।
কী ভেবে কুরু মদ্র শাসনের বিদ্রোহ করলেন। তিনি মাতামহ এসটাইয়াজেসকে বন্দি করলেন!
এসটাইয়াজেস এর স্বপ্ন যখন ফলল তখন তিনি বন্দি।
সম্রাট এসটাইয়াজেসকে উৎখাত করে কুরু নিজেকে পারস্যের সম্রাট বলে দাবি করলেন। সেই দাবির বৈধতা দিতেই যেন পাশ্ববর্তী রাজ্যগুলো জয় করার জন্য এক সামরিক অভিযানে বেরুলেন কুরু।
একে একে জয় করলেন লিডিয়া ব্যাবিলন মিশর।
কিন্তু, কোথাও অহেতুক ধ্বংসযজ্ঞ চালান নি। ইউরোপের ইতিহাসবিদেরা এ বিষয়ে একমত। কোথাও অহেতুক ধ্বংসযজ্ঞ চালান নি কুরু। তিনি স্থানীয় প্রশাসনই বহাল রাখতেন। কেবল তাদের পারস্যরাজকে কর দিতে হত।
ব্যাবিলন জয় করার পর এক মহৎ সিদ্ধান্ত নিলেন কুরু।
ইহুদিরা দীর্ঘদিন ব্যাবিলয়ে বন্দি ছিল। তিনি ইহুদিদের মুক্ত করে দিলেন। জেরুজালেমে ফিরে সলোমনের উপাসনালয়টি পুনর্নিমানের অনুমতি দিলেন। সলোমনের উপাসনালয়টি ব্যবিলনের রাজা নেবুচাদনেজার ধ্বংস করে ফেলেছিলেন। এই ঘটনাটি ওল্ড টেস্টামেন্টে রয়েছে।
পারস্য সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে, বর্তমান আফগানিস্থানে স্থানীয় ট্রাইবের সঙ্গে এক যুদ্ধে নিহত হন কুরু।
তাঁর মরদেহটি পারস্যের। পাসারগাদ-এ আনা হয়েছিল।
কেননা, কুরুর রাজধানী ছিল পারস্যের পাসারগাদ-এ।
তাঁর সমাধিসৌধটি ওখানেই। সেই সমাধি সৌধটি এত ছিমছাম যে কি বলব। প্রবল প্রতাপশালী সম্রাট বলেই মনে হয় না।
সাইরাসকে তাই আমার দার্শনিক রাজা কিংবা সুফি শাসক বলেই মনে হয়।
অতি সাধারণ সমাধিসৌধের ছবিটি নিচে দেখুন।
সূত্র:
Microsoft ® Encarta ® 2008. © 1993-2007 Microsoft Corporation. All rights reserved.
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: লিখব।
২|
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:২১
নাজিম উদদীন বলেছেন: ভাল লেখা। আচ্ছা পুরু নামে একজন ছিলেন, তার বিষয়ে জানাবেন।
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: পুরু ছিলেন প্রাচীন ভারতের শাসক।
আলেকজান্দার যখন ভারত আক্রমন করেছিলেন সে সময়ে পুরুর রাজ্য ছিল বর্তমান পাঞ্জাবে।
পুরুর সৈন্যবাহিনীতে ছিল রণহস্তি; মানে যোদ্ধা হাতি। আলেকজান্দার ও তার গ্রিক সৈন্যরা ওই প্রথম রণহস্তির মুখোমুখি হল।
ঝিলাম নদীর নাম কি শুনেছেন?
সেই ঝিলাম পাড়ে পুরুর সঙ্গে যুদ্ধ হল গ্রিকদের। খুব লড়ল পুরু। শেষমেশ অবশ্য হারতে হল। আলেকজান্দার পুরুর বীরত্মের প্রশংসা করেছিল।
আপনাকে ধন্যবাদ নাজিম ভাই।
৩|
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:০০
রামন বলেছেন: ভালো লাগলো মিনি ইতিহাসটি পড়ে। দিকবিজয়ী আলেকজান্ডার সকল যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল কিনতু ভারত বর্ষের রাজা পুরুর বিরুদ্ধে সে জয়লাভ করতে পারে নাই এ যবত এটি জানতাম।
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: পুরুর সঙ্গে যুদ্ধের আগে রাত্রির অন্ধকারে আলেকজান্দার ঝিলাম নদী যেভাবে পাড় হয়েছিলেন -বিশ্বের সামরিক ইতিহাসে তা আজও এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
৪|
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১০
এমিল বলেছেন: ভাল্লাগলো।
কুরুর এই কাহিনী কৃষ্ণের জন্ম কাহিনীর সাথে মিলে যায়।
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: প্রাচীন রোমেও এমন কাহিনী প্রচলিত ছিল।
৫|
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১১
এমিল বলেছেন: আপনি কি একটু কষ্ট করে আপনার লেখা গুলো
comments.plz@জিমেইল.com এ পাঠিয়ে দিতে পারবেন?
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ব্যাপারটা আমার কাছে নতুন। একটু খুলে বলুন প্লিজ। মানে কী ভাবে পাঠাব?
৬|
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৮
এমিল বলেছেন: জাস্ট লেখাটা সিলেক্ট করে কপি কর্বেন, তারপর কম্পোজ মেইলে পেস্ট করে সেন্ড করে দেবেন ![]()
সিম্পল ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৫২
মানুষ বলেছেন: লেখাটা ভাল্লাগলো। এমন আরো লেখা চাই।