নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিপ্লব019

বিপ্ল০১৯

আমি বিপ্লব, একটি বেসরকারি টেলিভিশনে চাকুরীরত আছি।

বিপ্ল০১৯ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুন্সীগঞ্জে লঞ্চ ডুবি : ৩ সন্তান হারিয়ে মা হাসির মুখে কান্না

০৭ ই আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৫:২২

নাড়ি ছেড়া ধন তথা বুকের মানিক তিন সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগল প্রায় পরিবারের একমাত্র বেচে আসা মা হাসি। প্রমত্তা পদ্মার বুভুক্ষ জলে সন্তানদের হারিয়ে মা ভাসছেন দু’চোখে পানিতে। নাম তার হাসি। সব সময় হাসি মুখে থাকাই ছিল যার ধর্ম। সব হারিয়ে মাওয়া ঘাট কান্না পুরিতে রূপান্তর করেছেন এই মা।



মুন্সীগঞ্জে লঞ্চ ডুবিতে মা হাসি তার তিন সন্তানকে হারান। এখন সন্তানদের লাশের অপেক্ষায় মাওয়া পাড়ে তার জীবনের সবচেয়ে কালো সময় পার করছেন তিনি।



দুর্ঘটনায় কবলিত লঞ্চটি থেকে জীবন নিয়ে ফিরে আসা মা হাসি বেগম জানান, লঞ্চটিতে পানি উঠতে দেখে বোনের ছেলে সুজনেকে (২০) জুতা খুলতে বলে নিজের সন্তান রিপা (১৪) মিরাজ (৯) ও আঠার মাসের পুত্র ইব্রাহিমকে কোলে তুলে নিচ তলা থেকে উপর তলায় উঠে আসেন।



মূহুর্তের মধ্যে লঞ্চটি ডুবে গেলে তার দু’সন্তান রিপা ও মিরাজ পানির স্রোতে ভেসে যায়। উদ্ধারকারিরা তাকে টেনে তোলার পূর্ব মূহুর্তে কোল থেকে ছুটে যায় ছোট ছেলে ইব্রাহিম। উদ্ধারকারিদের ট্রলারে উঠে ভাগনে সুজনকে দেখে চিৎকার দেন হাসি বেগম। এর পর থেকেই মা হাসির মুখের হাসি চিরতরে নিভে যায়।



মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী রহিম মাদবরকে দেখা যায় স্ত্রী হাসি বেগমকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাদঁছেন। মাঝে মাঝে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন আবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তার কান্নায় মাওয়ার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।



রহিম মাদবর জানান, তাদের বাড়ি শিবচর উপজেলার করুপচর গ্রামে। তিনি ঢাকার গুলশান নতুন বাজার এলাকায় একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকুরী করেন। পরিবার পরিজন নিয়ে সেখানেই থাকেন। ঈদ উপলক্ষে সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছিলেন। তিনি বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে চলে আসেন। ভায়রার ছেলে সুজনকে দায়িত্ব দেন তার স্ত্রী-সন্তানদেরকে নিয়ে ঢাকায় আসার জন্য।



সোমবার সকালে লঞ্চে উঠে হাসি বেগম তার সাথে ফোনে কথা বলেন। এর এক ঘন্টা পর একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে সুজন তাকে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানালে তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তিনি এখনো বিশ্বাস করেন না যে, তার তিন সন্তান হারিয়ে গেছে। তারা আর কোন দিন বাবা বলে ডাকবে না।



সন্তানদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন হাসি আর রহিম। অন্তত মৃত্যু দেহ পেলেও কিছুটা শান্তনা পাবে তাদের মন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুকের মানিকদের মৃত্যু দেয়গুলোও পাবেন কিনা তা জানেন না তারা।



শুধু হাসি আর রহিম নয় স্বজন হাড়া শতাধিক পরিবারের সদস্যদের এমনই দৃশ্যে পদ্মার দু’পার মাওয়া কাওড়ান্দিতে এখন শোকের মাতম চলছে।



এমদাদুল হক বিপ্লব।











মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.