নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

:) পাগলি তবে এখনও কামড়ায় না।

বিষাক্ত_অর্কিড

আমি কেউ না।

বিষাক্ত_অর্কিড › বিস্তারিত পোস্টঃ

হঠাৎ দেখা

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:২৩

নীরা ছোটবেলা থেকেই সবার কাছে পরিচিত শান্তশিষ্ট আর ভীষণ রকম আঁতেল একটি মেয়ে হিসেবে। নীরার সারাদিন কাটতো বই নিয়ে, কখনও ক্লাসের বই তো কখনও গল্পের বই। নীরার ব্যাক্তিত্ব, ইস্পাত কঠিন রাগ আর গম্ভীর স্বভাবের কারণে তার খুব বেশি বন্ধু ছিল না। সে নিজে কারো সাথে কথা বলত না ফলে তার ক্লাসমেটরা খুব সহজে তার সাথে কথা বলতে পারত না। ছোটবেলা থেকে যারা তার বন্ধু ছিল, কলেজ লাইফ পর্যন্ত তারা ছাড়া নীরার তেমন কোন বন্ধু ছিল না।

পূর্ণ নীরাদের পাশের বাসায় থাকে, নীরার ছোটবেলার বান্ধবী। পাশাপাশি বাসায় থাকত বলে স্কুল, কলেজ, টিউটরের বাসায় তারা এক সাথে যেত। পূর্ণ ছিল নীরার সম্পূর্ণ বিপরীত। খুব চঞ্চল, লেখাপড়ায় অমনোযোগী, বাচাল একটি মেয়ে যার বন্ধু প্রায় ক্লাসের সব ছেলে-মেয়ে।

২০০৮ সাল। নীরা আর পূর্ণ এস এস সি পাস করে কলেজে ভর্তি হয়। বাস্তব জীবনে নীরা কোন ছেলের সাথে কথা না বললেও ফেসবুকে তার অনেক বন্ধু ছিল।ভার্চুয়াল দুনিয়ায় কেউ তাকে চিনত না, তার সম্পর্কে কিছুই জানত না কিন্তু কোন এক অদৃশ্য টানের কারণে সবাই এই অদেখা অপরিচিত মেয়েটিকে বন্ধু হিসেবে খুব ভালবাসত, বিশ্বাস করত। নীরাও খুব আনন্দে থাকত তার এই নতুন দুনিয়াতে যেখানে সে সবাইকে দেখতে পেত কিন্তু তার উপস্থিতি সবাই উপলব্ধি করতে পারলেও কেউ তাকে দেখতে পেত না।

নীরা আর পূর্ণর সাথে একটি ছেলে পড়ত, রিফাত। এমন আহামরি কিছু নেই ছেলেটির মাঝে; খুব সাধারন মায়াবী চেহারার একটি ছেলে। সাধারন হলেও সবার কাছে সে গ্রহণযোগ্য ছিল তার মেধা আর অসম্ভব বন্ধুবাৎসল্যের কারণে। খুব অল্পদিনে সে সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছিল সে জীবনে কিছু একটা করে দেখাতে পারবে।
একসাথে পড়লেও নীরার সাথে রিফাতের কখনও কথা হয়নি। নীরা রিফাতকে চিনেছিল পূর্ণর কারণে। সারাদিনে যতক্ষণ সময় নীরা আর পূর্ণ একসাথে কাটাত পূর্ণ সব সময় রিফাতের কথা শোনাত। পূর্ণর মুখে রিফাতের গল্প শুনে নীরা বুঝতে পারে পূর্ণ রিফাতকে অসম্ভব ভালবাসে, কিন্তু বলতে পারছে না ভয়ে যদি রিফাত ফিরিয়ে দেয়! চুপ করে থেকে একদিকে রিফাতকে হারানোর ভয় আবার সবকিছু বলে দিয়ে রিফাতের সাথে থাকা অসাধারণ বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ভয় পূর্ণকে সব সময় তাড়া করে ফিরছিল।

নীরা আঁতেল হলেও তার মাথায় সব সময় নানা রকম দুষ্টুমি বুদ্ধি খেলা করত। নীরা ঠিক করে সে ফেসবুকে রিফাতের সাথে বন্ধুত্ব করবে, অতঃপর রিফাতের কাছ থেকে জানবে সে পূর্ণ সম্পর্কে কি ভাবে? কোন ভাবে যদি জানতে পারে রিফাতও পূর্ণকে বন্ধুর থেকে বেশি কিছু ভাবছে তাহলে পূর্ণর রিফাতকে সব কিছু বলতে আর কোন সমস্যা থাকবে না।
এরপরের ৬ মাসে নীরা নিজের নাম পরিচয় লুকিয়ে মেঘবালিকা হয়ে রিফাতের সাথে খুব ভাল একটা বন্ধুত্ব তৈরি করে। একদিন মেঘবালিকা রিফাতের কাছে জানতে চায় তার ভালবাসার গল্প। রিফাত মেঘবালিকারূপী নীরাকে জানায় তার ক্লাসের একটি মেয়েকে সে পাগলের মত ভালবাসে। মেয়েটির যে বর্ণনা রিফাত দেয় তার সাথে নীরা তাদের ক্লাসের কোন মেয়েকে মেলাতে পারে না। প্রায় ৯-১০ মাস পরে মেঘবালিকা রিফাতের কাছে মেয়েটির নাম জানতে চায়। রিফাত জানায় যে মেয়েটিকে সে ভালবাসে তার নাম নীরা......

সম্পূর্ণ হতভম্ব নীরা ভেবে পায় না কি করবে? পূর্ণ যদি জানতে পারে রিফাত নীরাকে ভালবাসে সে খুব কষ্ট পাবে। আর নীরার পক্ষেও তার ছোটবেলার বান্ধবীকে কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে রিফাত নামক ছেলেটির ভালবাসা গ্রহন করা সম্ভব না। এতটা স্বার্থপর সে হতে পারবেনা।
ঠিক এরকম সময়ে নীরার বাবা ট্রান্সফার হয়ে খুলনায় চলে যান। নীরা ঠিক করে সে রিফাত আর পূর্ণর জীবন থেকে হঠাৎ হারিয়ে যাবে। সত্যি সত্যি নীরা কাউকে কিছু না জানিয়ে কলেজ পরিবর্তন করে তার বাবার কাছে খুলনায় চলে যায় আর তার আম্মুকে বলে যায় পূর্ণ বা অন্য কাউকে যেন তার নতুন ফোন নাম্বার না দেয়। নীরা ভেবেছিল তাকে চোখের সামনে না দেখলে হয়ত রিফাতের মন থেকে নীরা হারিয়ে যাবে আর পূর্ণকে রিফাত গ্রহণ করবে।

এরপর পূর্ণ আর রিফাতের জীবনে কি ঘটে নীরা জানতে পারে নি। নীরা কল্পনা করে নিয়েছে রিফাত আর পূর্ণ খুব সুখে আছে একে অপরের সাথে। মাঝে মাঝে পূর্ণর কথা খুব মনে পড়ে নীরার কিন্তু কখনও ফোন করে না। এতদিনে হয়ত রিফাত পূর্ণকে বলে দিয়েছে একসময় সে নীরাকে ভালবাসত।এটা শুনে পূর্ণ খুব রাগ-অভিমান করেছে হয়ত।

সাল ২০১৩। নীরা তার ছোটবোনের সাথে শপিং করছে। হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে তার ছোট বোন হাতে থাকা সব প্যাকেট মাটিতে ফেলে দেয়। যখন নীরা আর তার ছোটবোন দাঁড়িয়ে ঝগড়া করছে কার দোষে প্যাকেটগুলো পড়েছে , ততক্ষণে একটি ছেলে মাটিতে পড়ে থাকা সব প্যাকেটগুলো তুলে নীরার দিকে এগিয়ে দেয়। অবাক বিস্ময়ে নীরা দেখে ছেলেটি রিফাত। মুচকি হেসে রিফাত শুধু বলে এতগুলো বছর পরও তুমি আগের মত রয়ে গিয়েছ, কোন কিছুই বদলায়নি। যতক্ষণে নীরা বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে উঠে কিছু বলত, ততক্ষনে রিফাত নীরার ছোটবোনের কাছ থেকে ধন্যবাদ নিয়ে হারিয়ে গিয়েছে মানুষের ভিড়ে।

রিফাতের চোখের দিকে তাকিয়ে নীরা কিছু বোঝার চেষ্টা করছিল। হয়ত কিছু অজানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল। বোধয় কিছু প্রশ্নের উত্তর অজানা থাকায় ভাল। বাস্তব অনেক সময় কল্পনার মত সুন্দর হয়না, কি দরকার রূঢ় বাস্তবতার মুখমুখি হওয়ার......... :)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.