| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাছের-মানুষ
মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে বদলায়, অকারণেও বদলায় । তবে আমি মনে হয় আগের মতই আছি , কখনও বদলাবওনা মনে হয় ! !
আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!" আমি থাকি আমেরিকার ইস্ট কোস্টে। কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম আমেরিকার অনেকটা ওয়েস্টে, কলোরাডোতে একটি কনফারেন্সে যোগ দিতে। সেখানে আমার একটি প্রেজেন্টেশন ছিল! আজ বাসায় ফেরার কথা। কলোরাডো থেকে নর্থ ক্যারোলিনা হয়ে আমার স্টেটে যাওয়ার কথা। নর্থ ক্যারোলিনায় নেমে জানলাম, খারাপ আবহাওয়ার জন্য আমার পরবর্তী ফ্লাইট বাতিল!
প্লেন ছাড়বে সকাল আটটার দিকে। এত রাতে হোটেল পাওয়া মুশকিল, অগত্যা এয়ারপোর্টে ঝিম মেরে বসে আছি! ভাবলাম দু-চারটা বাক্য নিক্ষেপ করি, অনেকদিন কিছু লেখা হয় না! এয়ারপোর্টে আছি, আমার এই মুহুর্তে মনে পরছে প্রথম দেশ ছাড়ার কথা। সেই আঠারো বছর আগের কথা। আমার তখন আমি তাগড়া যুবক, দেশের বাইরে যাচ্ছি আন্ডারগ্র্যাড করতে, কোরিয়ান সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে! টানটান উত্তেজনা, নতুন দেশ, নতুন এক সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার এক দুর্বার আকুতি মনের মাঝে! আমার এলাকা থেকে আমিই সম্ভবত প্রথম দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে যাচ্ছি! দেশ ছাড়ার কয়েকদিন আগে থেকেই চারদিকে আমার নাম ছড়িয়ে পড়েছে, আমি কোরিয়ান সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে চলে যাচ্ছি!
আমি বিমানের টিকিট কাটতে গেলাম মতিঝিলের এক অফিসে। ম্যানেজার সম্ভবত আমাকে তাঁর অফিস রুমে নিয়ে বেশ খাতির-যত্ন করলেন, সরকারি স্কলারশিপে যাচ্ছি শুনে! আমি বললাম, এই বছর দুজন স্টুডেন্টকে সরকার নিয়ে যাচ্ছে, দুজনের মধ্যে আমি একজন! ম্যানেজার বোঝার চেষ্টা করলেন, দেশে এত মানুষ থাকতে আমাকেই কেন নিয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম, ওরা রেজাল্টের থেকেও এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি দেখে। আমি একটি ইলেকট্রিক্যাল মেশিন বানিয়েছি, সেটা প্রথম আলোতে এসেছিল (আসলে এখন হাসি পায়, তেমন কিছু না, একটি ইলেকট্রিক্যাল ইনভার্টার বানিয়েছিলাম সার্কিট দিয়ে)! ম্যানেজার বললেন, খাইছে আমারে, আমার দেশের মেধা এমনি চলে যাচ্ছে!
যাই হোক, আমি যেদিন কোরিয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছি, আমার এলাকার অনেকেই বিদায় জানাতে এসেছিল! পরিবারকে সাথে নিয়ে সিএনজি করে এয়ারপোর্টে গেলাম। সে এক এলাহি কাণ্ড, কত মানুষ যে এয়ারপোর্টে! সত্যিই বিমানবন্দরের প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে থাকে এক নতুন গল্প। তবে একটা জিনিস, অনেকে যাওয়ার সময় উহ্ আহ্ করে, তবে আমার দেশ ছাড়তে কষ্ট হয়নি, বরং উত্তেজনা কাজ করছিল, নতুনকে দেখার এক তীব্র আকুতি যাকে বলে!
আজ দেখতে দেখতে দেশ ছাড়ার দেড় যুগ হয়ে গেল। সেই কোরিয়া, তারপর ডেনমার্ক হয়ে আজ আমেরিকায় বাসা বেঁধেছি যাযাবরের মতো! সেই ছাত্র থেকে আজ আমেরিকায় শিক্ষকতা করছি। সময় কত দ্রুত চলে যায়!
কিছুদিন আগে আমার রিসার্চ ল্যাবের সাইট বানালাম! ব্লগারদের সাথে শেয়ার করছি! আমার রিসার্চ, স্টুডেন্ট, প্রজেক্ট ইত্যাদি তথ্য দেয়া আছে!
myprismlab.com
©somewhere in net ltd.