| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডাইরেক্টরঃ জেক স্নাইডার
প্রডিউসারঃ খ্রিস্টোফার নোলান
অভিনয়েঃ হেনরি কেভিল , রাসেল ক্রু , এমি এডামস , মাইকেল শ্যানন প্রমুখ
জ্যাক স্নাইডারের কাজ কারবার কেমন 300 নামের মুভিটা যারা দেখেছেন বুঝতে পারবেন। সাকার পাঞ্চ, ওয়াচমেন দেখা থাকলে আরো ওয়াইড রেঞ্জে ধারণা থাকার কথা। আর খ্রিস্টোফার নোলানের ব্যপারে কি লিখবো। দ্যা ডার্ক নাইট আরো স্পেসিফিকেলি ব্যটমেন ট্রলজি, ইনসেপশন, প্রেস্টিজ , মিমিন্টো। এইগুলার একটা দেখা থাকলেই বুঝতে পারবেন পাওয়ার অফ নোলান। এদের দুইজনের হাত ধরে এসেছে ম্যান অফ স্টিল। সুপারহিরো যত মুভি আছে তার মাঝে সুপারম্যান নিয়ে চর্চা হয় বেশী। নাম সুপারম্যান হলেও সুপারম্যান নিয়ে নাকি সুপার মুভি হয় না বরং মানুষ মুখ ত্যাড়া করে বেশী। তবে এইখানে এমনটা হয় নি। সুপারম্যান নতুন আচার ব্যাবহার নিয়ে হাজির হয়েছে এই মুভিতে। অতিমাত্রার জটিলতা বর্জিত কাহিনী সরল রেখা ধরে গেছে। সরল রেখা ধরে গেছে বলে বুঝবেন না কাহিনী যুত পায় নাই মনে হয়। এমনটা ভাবা ভুল। ডেলিশাস কাহিনী করতে এস গয়ার এক চিমটি এক চিমিটি করে ঠিক ঠিক যায়গা মত কমপ্লেক্স রেখে দিয়েছেন। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখতে চাইবেন পরে কি হয়। নিখুত সিনমাটোগ্রাফি। একশান দৃশ্যের প্রাচুর্য আছে মুভিতে। একশান লাভারদের ভালো লাগেবে নিঃসন্দেহে। ক্লার্ক কেন্ট উরফে কাল এল উরফে সুপারম্যনের অভিনয় হয়েছে ছবিতে সবচেয়ে সুন্দর। একদম নিউ ডেফিনেশন নিয়ে হাজির এবারের সুপারম্যান। হেনরি কেভিল চমৎকার অভিনয় করেছেন। ছবির জন্য নির্ভুল সিলেকশন। রাসেল ক্রু তো সেরা অভিনেতা তার মত তিনি অভিনয় করে গেছেন। ছবিতে ব্যলেন্স রাখার জন্য আরেকটা পার্ফেক্ট সিলেকশন হলেন মাইকেল শ্যানন যিনি ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই পর্শনে স্পয়লার থাকতে পারেঃ জেক , নোলান টাইপ মুভি মেকার ক্রিটিকদের মাথায় রেখে মুভি তৈরী করেন না। নিজেরা যেইটাতে আরাম পান সেটাই মুভিতে ঢেলে দেন। মুভিতে ভালো স্পেশাল ইফেক্ট আছে তবে একটা দুইটা দৃশ্যে মনে হবে ভিডিও গেমের ট্রেলার। কোন যায়গায় একশন লো গেছে ঠিক পরের অংশেই জমজমাট। রোমানস লাভারদের জন্য পরিমিত রোমানস থাকলে আর জোস হতো। এই টাইপ মুভিতে রোমানস সবসময় কাজে দেয়।
তারপরও বলবো মুভি অবশ্যই দেখার মতো। সুপারম্যান মুভি হওয়া সুপার হবে সবাই এমনটাই আশা করে। এই আশাই মুলত আশাহত করে সবাইকে।
২|
১৬ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:৩৮
রাখালছেলে বলেছেন: পোষ্ট পড়ে দেখা বা না দেখার মধ্যে আছি । এই পর্যন্ত কোন মুভির পরের পর্বটা ভাল হয় না। কেমন যেন প্যাচানো মনে হয় ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৫:২৩
অনন্ত জীবন বলেছেন: সুপারহিরোদের নিয়ে বানানো সিনেমা দেখার আগে যে ধারনা নিয়ে বসতে হয়: শান্ত শিষ্ঠ ভদ্র ছেলেটা ধীরে ধীরে তার সুপার পাওয়ার টের পায়, কিন্তু কখনো সেটা খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে না।তবু নিরাপত্তা বাহিনীর রোষানলে পড়ে যায়। হঠাৎ শহরে উজবুক কিছু প্রাণীর উপদ্রব এ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দালান কোটা ইমারৎ গুলো হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে। লোকজন পালাতে পালাতে হঠাৎ দাড়িয়ে পড়ে মজা দেখে, আর অজস্র বিপদগ্রস্তের মধ্য থেকে দু’একজন কে রক্ষা করে ক্যামেরার সামনে পড়ে যায় সুপারহিরোটি। দেশবাসী টিভির দিকে তাকিয়ে থাকে। শেষপর্যন্ত সুপারহিরোর জয় হয়, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ভূল বুঝতে পারে। মূলত এটাই ফমূর্লা।
Man of Steel এ যা দেখলাম,
ক্রিপটন গ্রহে ছেলে পয়দা করে কার্লের ড্যাডি ষ্টীল বানাবেন বলে ডাইসের ভিতর ঢুকিয়ে দেন। দুর্ঘটনা ক্রমে গ্রহ, নক্ষত্র, সাত সমুদ্র, তের নদী পাড়ি দিয়ে ক্যাপসুলের ভিতর কার্ল পৌছে যায় পৃথিবীতে তার পালক পিতা মাতার কাছে। তাদেরকেই বাবা মা হিসেবে জানে। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে তার অস্বাভাবিকতার কথা। কালো কুত্তাটাকে বাচাতে গিয়ে অকালে ঝড়ে মরেন তার পালক পিতা। ক্রিপটন গ্রহের সেনাপ্রধান জড যে এ ছবির খলনায়ক কেমন কেমন করে চলে আসেন পৃথিবীতে। ঘাড়ে লাল দোপাট্টা উড়িয়ে কার্ল হয়ে ওঠেন সুপারম্যান। জড খলনায়ক হলেও তার গ্রহপ্রেম অসীম। ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিজের গ্রহকে ঠিক করতে চান পৃথিবী থেকে মানুষ আমদানি করে। ক্রিপটন এত বোকা কেন কে জানে, বাংলাদেশে আসলেই পারত, আমেরিকার মানুষ কি অত সস্তা! নিমেষেই ঝকঝকে তকতকে শহরটিতে জ্বলে ওঠে আগুন। ১২০তলা ভবনটি পরিণত হয় রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপে। জনৈক সাংবাদিকের ভাষায় একের পর এক তলা স্যান্ডুউচের মত লেপ্টে যায়, স্যান্ডুউচের ভেতর কত লোক ডিমপোচ হয় কে জানে। কেবল গ্রাউন্ড ফ্লোরে হঠাৎ রড ধরে নাড়া দেয় রেশমা। শাবল দিয়ে রেশমাকেও বের করে আনা হয়। নায়িকাকে চুম্বনের মধ্য দিয়ে শেষ দৃশ্য রচনার দিকে চলে যায় ছবি।
সবমিলিয়ে ভালোই লাগে, বলা হয় কাহিনীতে নতুনত্ব আছে। কিন্তু প্রিন্টটা আমার কাছে কেমন যেন লাগল, একবার ভাবলাম আমার চশমার সমস্যা কিনা! পাশের সিটের জোয়ান বয়সী বুড়োকে জিজ্ঞেস করলাম, তার কাছে কেমন লাগছে। আমার কাছে ভৃট্টার গাছগুলো কেমন ব্লারি মনে হচ্ছে, সে বলল ঠিক আছে। অগ্যতা আর চশমা পরিবর্তন করার ঝামেলায় গেলাম না। ধ্বংসস্তুপ তৈরীর ছবি খুব বেশি পছন্দ না, সিনেপ্লেক্স এ গিয়ে দেখার একমাত্র কারণ হলো ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তিতে প্রদর্শন।
মোদ্দাকথা: লোহার চেয়ে দামী ধাতু হলো স্টীল, স্থান কাল পাত্র ভেদে কদুর ভাল নাম লাউ। বহুমাত্রিক ছবিকে ত্রিমাত্রিক করা বাহুল্যমাত্র।