নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ও আমার পৃথিবী

কালো রাজপুত

কালো রাজপুত › বিস্তারিত পোস্টঃ

না বলা কিছু কথা

০৯ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:২১

ছোট্র সে শিশুটি আজ অনেক বড় হয়েছে।জীবন কী ?জ়ীবন কেন? জীবনকে কি করে বাস করতে হয় সব কিছু আজ বুঝতে শিখেছে বাঁচতে শিখেছে।অথচ এই ছেলেটিকে নিয়ে বাবা মায়ের এক সময় চিন্তার অন্ত ছিল না।ছেলের ভবিষৎ কি হবে ছেলে কি করবে এসব।আর চিন্তা করবে না কেন?লেখা পড়ার প্রতি বিন্দুমাএ আগ্রহ যার ছিল না তাকে নিয়ে ভাববে নাতো কাকে নিয়ে ভাববে?ছেলেটি যে সবসময় দুষ্টামি বাদ্রামি করে কাটাত।সারদিন টো টো করে ঘুরে বেড়াত।বন্ধুদের নিয়ে সারাদিন খেলাধুলায় মেতে থাকত। কখনও ক্রিকেট কখনও বা হা-ড়ু-ড়ু,চো্র ডাকাত পুলিশ খেলা,টুক টুক খেলা ,পানিতে লাফঝাফ,মাছ ধরা, হৈ হো্ল্লুর করা আরও কতকিছু।কখনও বা পাখির বাসায় হামলা দিয়ে ডিম ভেঙে ফেলা,বাচ্চাগুলো ধরে নিয়ে অযথা মা বাবা পাখিগুলোকে কস্ট দেওয়া।হইত এই কাজগুলো সে বুঝে বা না বুঝে করত বা ইচ্ছা করেই আনন্দ পাওয়ার জন্য করত।নানুর বাড়িতে গিয়ে খালাত ভাই বোনদের সাথে সারাক্ষন আড্ডা আর খুনসুটি করে কাটাত।সে ভাবত এটাই হইত জীবন।এসবের বাইরেও যে আরও অনেক কিছু করার আছে ছোট্র ছেলেটি কিন্তু তা জানত না বা জানার চেষ্টা করত না।আস্তে আস্তে ছেলেটি বড় হতে লাগলো অনেক কিছুই বুঝতে শিখলো। S.S.C. তে স্কুলের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ফলাফল করল।তারপর বাবা মা আদুরের ছেলেটিকে ভর্তি করে দিল শহরের একটা ভাল নামকরা কলেজে।বাবা মায়ের সপ্ন পুরনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শহরে চলে গেল।প্রথম প্রথম বাবা মাকে ছেড়ে থাকতে অনেক কষ্ট হত।বাবা মাকে ছেড়ে যে একদিন তাকে এতদুরে সপ্ন পুরনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে পড়ে থাকতে হবে সেটা তার এতদিন কল্পনাতী্ত ছিল।নির্দিষ্ট সময়ে H.S.C পাশ করল ভাল গ্রেড পেয়ে।পরে একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হল।আসল সময় আসলো HMM তাকে যে DOCTOR হতেই হবে।তাকে থাকতে হল একটা আত্নীয়র বাসাতে ঐ বাসার দুই ছেলে মেয়েকে পড়িয়ে যে টুকু সময় পেত তখন নিজের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকত।ভালই প্রস্তুতি ছিল ভাবল যে কোন একটা মেডিকেলে চান্স হয়ে যাবে কিন্তু ঐ বছর আর চান্স হল না ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্ন, পরিক্ষার আগের দিন রাতে ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারনে।ছেলেটি খুব খুব ভেংগে পড়ে। ঢাকা ভার্সিটে চান্স হয়েছিল যদিও তার জন্য আলাদা কোন প্রস্তুতি ছিল না।মেরিট স্কো্র প্রথম ১০০০ এর মধ্যে হয়েও ভাল বিষয় পেল না।ভর্তি হল অনিচ্ছা সত্ত্বেও।অনেকে বিভিন্নভাবে হাসি ঠাট্রা করত কেউ আশার বানী শোনাত না শুধুই হতাশ করা ছাড়া।নিজকে বড়ই একা মনে হত আপনা আপনি চোখ দিয়ে টল টল করে পানি বের হয়ে আসত।কেউই তার পাশে দাড়ানি কেউ আশার বানী শো্নায়নি।কিন্তু তাতে কি আত্নবিশ্বাসী মানুষ কখন নিজকে হারিয়ে ফেলে না ।হারতে পারে না হারতে শেখেনি ।শুধু জয় করতে শিখেছে।তাকে যে তাকে মেডিকেলে পড়তেই হবে।ডাক্তার হতেই হবে।মানবসেবা করে সবার মন জয় করবে।সবার মাঝে নিজকে অনেক বড় উচ্চতায় যে নিয়ে যেতে হবে ।তাই ঢাকা ভার্সিটে ভর্তি হয়েও আর ক্লাস করল না। মাঝে মাঝে হইত দু একটা প্রগ্রামে আসত।বেশ কিছু বন্ধুও জোগাড়ও হয়ে গেল।ওদেরকে নিয়ে আড্ডা দিত ক্রিকেট খেলত কষ্টগুলো ভুলে থাকার চেষ্টা করত।এইভাবেই সময় তার আপন গতিতে পার হতে লাগল।পরবর্তী বছরের ভর্তি পরিক্ষার সময়ও ঘনিয়ে আসল।এর মধ্যে কোথায় থেকে এসে জন্ডিস বর করল।হাসপাতালে এক সপ্তাহ থাকতে হল।পরে গ্রামে চলে গেল।ভাবছে আর বুঝি মেডিকেলে পড়া হল না।কিন্তু ঐ যে বললাম আত্নবিশ্সাষী মানুষ কখন নিজকে হারিয়ে ফেলে না,তাই গ্রামে থেকেই নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করল ।এইবার আর কোন কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া হল না।নির্দীষ্ট সময়ে পরিক্ষা দিল এবং সাথে সাথে বাবাকে বলল এবার তাকে আর কেউ আটকাতে পারবে না।আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের একনাম্বার মেডিকেলেই চান্স পেল।সবাই অনেক অনেক খুশি, মা বাবা ভাই বোন আত্নীয় স্বজন সবাই,সবার আনন্দে খুশিতে ছেলেটি ভুলে যায় সব কষ্ট ক্লান্তি।এইতো ছেলেটি আর একবছর পর আল্লাহর রহমত্ মা বাবা সবার দোয়াই ডাক্তার হয়ে বের হচ্ছে।আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন যেন সে তার প্রতিশ্রুতি পূর্ন্য করতে পারে সবার মাঝে নিজকে বিলিয়ে দিতে পারে।

"লাইফ আসলেই অনেক সুন্দর,অনেক সময় হতাশা আপনাকে ভর করতে চাইবে কিন্তু আপনি কখনোই হতাশ হবেন না সুদূঢ মনোবল নিয়ে আপনার কাজে লেগে থকুন দেখবেন আপনি সফল হবেনই।সফলতা আপনার হাতে এসে ধরা দিবে।"

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:২৫

খেয়া ঘাট বলেছেন: অনেক শুভকামনা ।

০৯ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:২৯

কালো রাজপুত বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।লিখাটি এক বছর আগের লিখা।নতুন করে আবার প্রকাশ করলাম।

২| ০৯ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:৩৬

খেয়া ঘাট বলেছেন: এইতো ছেলেটি আর একবছর পর আল্লাহর রহমত্ মা বাবা সবার দোয়াই ডাক্তার হয়ে বের হচ্ছে ।

তাহলেতো আপনি ইনশাল্লাহ এতোদিনে ডাক্তার হয়ে গেছেন।
ডাক্তারঃ
মানুষের জীবন বাঁচানোর ডাক
আর জীবন জোড়া লাগানোর তার = ডাক্তার।

দেশে ডাক্তারের অভাব নেই ,তবে একজন মানবিক মূল্যবোধের আর ভালো ডাক্তারের খুব অভাব রয়েছে। আশাকরি আপনি সে অভাব পূর্ণ করবেন।

ডাক্তার না পারভিনের ব্লগ ঘুরে আসতে পারতেন। ধন্যবাদ।

০৯ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:৪৪

কালো রাজপুত বলেছেন: আলহামদুল্লিলা।আসলেই তাই সেই ছেলেটি আজ এম বি বি এস ডাক্তার।আজ তার ইনর্টানশীপের প্রথম দিন ছিল।দোয়া করবেন যাতে একজন ভাল ডাক্তার হয়ে ছেলেটি মানুষের সেবা করে যেতে পারে।

৩| ০৭ ই জুন, ২০১৩ রাত ১০:০১

কালোপরী বলেছেন: আপনি সম্ভবত এইচএসসি ০৬ ব্যাচের


শুভ কামনা রইল :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.