নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অরক্ষিত সীমান্ত

অরক্ষিত সীমান্ত › বিস্তারিত পোস্টঃ

লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত

০২ রা জুন, ২০১৫ সকাল ৮:৫৯



১৪ই শা'বান দিবাগত রাতটি হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত বা বরাতের রাত্র। কিন্তু অনেকে বলে থাকে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও শবে বরাত বলে কোনো শব্দ নেই। শবে বরাত বিরোধীদের এরূপ জিহালতপূর্ণ বক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, শবে বরাত শব্দ দু'টি যেরূপ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও নেই তদ্রূপ নামায, রোযা, খোদা,ফেরেশতা, পীর ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও নেই। এখন শবে বরাত বিরোধী লোকেরা কি নামায, রোযা ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এ না থাকার কারনে ছেড়ে দিবে? খোদা, ফেরেশতা ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এ না থাকার কারনে মহান আল্লাহ পাক ও ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অস্বীকার করবে? মূলত শবে বরাত, নামায, রোযা , খোদা ,ফেরেশতা , পীর ইত্যাদি ফার্সী ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত। ফার্সী শব অর্থ রাত্রি এবং বরাত অর্থ ভাগ্য বা মুক্তি। সুতরাং শবে বরাত মানে হল ভাগ্য রজনী বা মুক্তির রাত।

মূলতঃ শবে বরাত এবং এর ফযীলত কুরআন শরীফ এ আয়াত শরীফ এবং অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। কুরআন শরীফ এ শবে বরাতকে লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর হাদীছ শরীফ এ শবে বরাতকে লাইলাতুন নিছফি মিন শা'বান বা শা'বান মাসের মধ্য রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ এ ইরশাদ করেন,
وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ
فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
أَمْرًا مِّنْ عِندِنَا إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ

অর্থঃ শপথ প্রকাশ্য কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।" (সূরা দু'খান, আয়াত শরীফ ২-৫)

কেউ কেউ বলে থাকে যে, "সূরা দু'খানের উল্লেখিত আয়াত শরীফ দ্বারা শবে ক্বদর-কে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত আয়াত শরীফ এ সুস্পষ্টই উল্লেখ আছে যে, নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি........। আর কুরআন শরীফ যে ক্বদরের রাতে নাযিল করা হয়েছে তা সূরা ক্বদরেও উল্লেখ আছে ।"

এ প্রসঙ্গে মুফাসসির কুল শিরোমণি রঈসুল মুফাসসিরীন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি স্বীয় তাফসীরে উল্লেখ করেন,
" মহান আল্লাহ পাক তিনি লাইলাতুম মুবারাকাহ বলতে শা'বান মাসের মধ্য রাত বা শবে বরাতকে বুঝিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি এ রাতে প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলোর ফায়সালা করে থাকেন।" (ছফওয়াতুত তাফাসীর, তাফসীরে খাযীন ৪র্থ খন্ডঃ ১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে ইবনে আব্বাস,তাফসীরে মাযহারী ৮ম খন্ডঃ ৩৬৮ পৃষ্ঠা, তাফসীরে মাযহারী ১০ম খন্ড, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে খাযিন, বাগবী, কুরতুবী, কবীর, রুহুল বয়ান, আবী সাউদ, বাইযাবী, দূররে মানছূর, জালালাইন, কামলালাইন, তাবারী, লুবাব, নাযমুদ দুরার, মাদারিক)

লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাতকে বুঝানো হয়েছে তার যথার্থ প্রমাণ সূরা দু'খানের ৪ নম্বর আয়াত শরীফ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ। এই আয়াত শরীফ এর يُفْرَقُ শব্দের অর্থ ফায়সালা করা। প্রায় সমস্ত তাফসীরে সকল মুফাসসিরীনে কিরামগণ يُفْرَقُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের তাফসীর করেছেন ইয়ুকতাবু অর্থাৎ লেখা হয়, ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়, ইয়ুতাজাও ওয়াযূ অর্থাৎ বন্টন বা নির্ধারণ করা হয়, ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বাজেট করা হয়, ইয়ুকদ্বিয়ু অর্থাৎ নির্দেশনা দেওয়া হয় । কাজেই ইয়ুফরাকু -র অর্থ ও তার ব্যাখার মাধ্যমে আরো স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাত্রিতে সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বছরের জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্যলিপি অনুসারে রমাদ্বান মাসের লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদরে তা চালু হয়। এজন্য শবে বরাতকে লাইলাতুত্ তাজবীজ অর্থাৎ ফায়সালার রাত্র এবং শবে ক্বদরকে লাইলাতুল তানফীয অর্থাৎ নির্ধারিত ফায়সালার কার্যকরী করার রাত্র বলা হয়। (তাফসীরে মাযহারী,তাফসীরে খাযীন,তাফসীরে ইবনে কাছীর,বাগবী, কুরতুবী,রুহুল বয়ান,লুবাব)

সুতরাং মহান আল্লাহ পাক তিনি যে সুরা দু'খান-এ বলেছেন, " আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি " এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল " আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি "। আর সুরা ক্বদর-এ " আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি " এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল " আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি "।
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি শবে বরাতে কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং শবে ক্বদরে তা নাযিল করেন।

হাদীছ শরীফ এ ও শবে বরাতে সমর্থন পাওয়া যায়। হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, " উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। একদা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ! আপনি কি জানেন, লাইলাতুন নিছফি মিন শা'বান বা শবে বরাতে কি সংঘটিত হয়? তিনি বললেন, হে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! এ রাত্রিতে কি কি সংঘটিত হয়? মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এ রাতে আগামী এক বছরে কতজন সন্তান জম্মগ্রহণ করবে এবং কতজন লোক মৃত্যূবরণ করবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। আর এ রাতে বান্দার (এক বছরের) আমলসমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পেশ করা হয় এবং এ রাতে বান্দার (এক বছরের) রিযিকের ফায়সালা হয়"। (বাইহাক্বী, ইবনে মাজাহ্, মিশকাত শরীফ)

হাদীছ শরীফ আরও ইরশাদ হয়েছে, " উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, একদা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কোন এক রাত্রিতে রাতযাপন করছিলাম। এক সময় উনাকে বিছানায় না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিনি হয়ত অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফ এ তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে উনাকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। সেখানে তিনি উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফ এ ফিরে এলে তিনিও ফিরে এলেন এবং বললেনঃ আপনি কি মনে করেন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন? আমি বললামঃ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারনা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফ এ তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি শা'বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বণী কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন"। (বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাযাহ, রযীন, মিশকাত শরীফ)

হাদীছ শরীফ এ আরও ইরশাদ হয়েছে, "হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি শা'বান মাসের ১৫ তারিখ রাত্রিতে ঘোষনা করেন যে, উনার সমস্ত মাখলুকাতকে ক্ষমা করে দিবেন। শুধু মুশরিক ও হিংসা-বিদ্বেষকারী ব্যতীত।" (ইবনে মাযাহ্, আহমদ, মিশকাত শরীফ)

হাদীছ শরীফ এ আরও ইরশাদ হয়েছে, "হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যখন অর্ধ শা'বানের রাত তথা শবে বরাত উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং দিনের বেলায় রোযা রাখবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষাণা করতে থাকেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করব। কোন মুছিবগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব। এভাবে সুবহে ছাদিক পর্যন্ত ঘোষাণা করতে থাকেন।" (ইবনে মাযাহ্,মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)

হাদীছ শরীফ এ আরও ইরশাদ হয়েছে, "মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শা'বানের মধ্য রাতে (শবে বরাত) ইবাদত করবে তারই জন্য সুসংবাদ এবং তার জন্য সমস্ত কল্যাণ"

হাদীছ শরীফ এ আরও ইরশাদ হয়েছে, "মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে এবং অর্ধ শা'বানের রাত তথা শবে বরাতের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, সে ব্যক্তির অন্তর ঐদিন মরবে না বা পেরেশান হবে না যে দিন সকলের অন্তর পেরেশান থাকবে।" (মুকাশাফাতুল কুলুব)

শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, "মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পাঁচটি রাত এমন রয়েছে যেগুলোতে দোয়া করলে তা রদ বা বাতিল হয়না । (১) পহেলা রজবের রাত (২) শা'বানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত (৩) জুমুয়ার রাত (৪) পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত (৫) পবিত্র ঈদুল আযহার রাত।" (দায়লামী শরীফ)

শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল প্রসঙ্গে অন্য হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দোয়া বা মুনাজাত পাঁচটি রাতে কবুল হয়ে থাকে । (১) পহেলা রজবের রাত (২) শা'বানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত (৩) ক্বদরের রাত (৪) পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত (৫) পবিত্র ঈদুল আযহার রাত (মা ছাবাত বিস্ সুন্নাহ, গুনইয়াতুত্ ত্বালিবীন, মুকাশাফাতুল কুলুব)

সুতরাং কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত যে, শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
অনেকে উপরে উল্লেখিত শবে বরাত সম্পর্কিত কিছু হাদীছ শরীফ দ্বয়ীফ বলে শবে বরাতকে বিদায়ত বলে থাকেন। তাই দ্বয়ীফ হাদীছের ব্যাপারে নিচে আলোচনা করা হলঃ

দ্বয়ীফ হাদীছঃ
যে হাদীছ শরীফ এর রাবী হাসান হাদীছ শরীফ এর রাবীর গুণ সম্পন্ন নন তাকে দ্বয়ীফ হাদীস বলা হয়।
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন কথাই দ্বয়ীফ নয় বরং রাবীর দুর্বলতার কারণে হাদীছ শরীফ কে দ্বয়ীফ বলা হয়।
দ্বয়ীফ হাদীসের দুর্বলতার কম বা বেশী হতে পারে। কম দুর্বলতা হাসানের নিকটবর্ত্তী আর বেশি হতে হতে মওজুতে পরিণত হতে পারে। এ ধরনের হাদীছ শরীফ আমলে উৎসাহিত করার জন্য বর্ণনা করা যেতে পররে বা করা উচিৎ। তবে আইন প্রণয়নে গ্রহনযোগ্য নয়।
এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম ইবনে হুমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, "দ্বয়ীফ হাদীছ যা মওজু নয় তা ফজিলতের আমল সমূহে গ্রহণযোগ্য" (ফতহুল ক্বাদীর)
বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফক্বিহ হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, "সকলেই একমত যে দ্বয়ীফ হাদীছ ফজিলত হাসিল করার জন্য আমল করা জায়েজ আছে।" (আল মওজুআতুল কবীর, ১০৮ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা প্রমাণিত হল যে, দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাসিল করার জন্য আমল করা জায়েজ আছে। তবে দ্বয়ীফ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত সকল আমল মুস্তাহাব।

যেমনঃ আল্লামা ইব্রাহিম হালবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার গুলিয়াতুল মুস্তামালী ফি শরহে মুনিয়াতুল মুছাল্লি কিতাবে উল্লেখ করেছেন, "গোসলের পরে রূমাল (কাপড়) দিয়ে শরীর মোছা মুস্তাহাব। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে – মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক টুকরা কাপড় (রূমাল) ছিল যা দিয়ে তিনি অযুর পরে শরীর মুবারক মুছতেন" (তিরমিযি শরীফ)
এটা দ্বয়ীফ হাদীছ। কিন্তু ফযীলত হাসিল করার জন্য আমল করা যাবে।

হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার আল মওজুআতুল কবীরের ১০৮ পৃষ্ঠায় বলেন,
"সকলে একমত যে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাসিল করার জন্য আমল করা জায়েজ আছে। এজন্য আমাদের আইম্মায়ি কিরামগণ বলেছেন, অযুর মধ্যে গর্দান মসেহ্ করা মুস্তাহাব।"
তার মানে অযুর মধ্যে গর্দান মসেহ্ করা -এটি দ্বয়ীফ হাদীছ।

সুতরাং যারা শবে বরাতের হাদীছ শরীফ সংক্রান্ত কিছু দলিলকে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ বলে শবে বরাত পালন করা বিদায়াত বলে তাদের এধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভূল, জিহালত পূর্ণ, কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর সম্পূর্ন খিলাফ।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা জুন, ২০১৫ সকাল ৯:১০

আহমেদ রশীদ বলেছেন: প্রত্যেক রাত-ই- আল্লাহর কাছে সমান। সারা বছর যদি আল্লাহ সোবহানা তাআলাকে পাওয়ার জন্য রাতের মধ্যভাগ জাগ্রত হই তাহলে সমস্যা কিসের? আাজ পর্যন্ত কোন আলেম উলামা শবে বরাতের কোন সঠিক হাদিস দিতে পারে নাই। আর যারা শবে বরাতের হাদিস বা উক্তি পেশ করেছে তা কিতাবুল মফিজের অন্তর্ভুক্ত। তবে হ্যাঁ শবে মিরাজের কথা আল্লাহ কোরআনে সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। এটা অস্বিকার করার কিছুই নেই। কিন্তু আজ এই শবে বরাতের ওছিলা করে যুব সমাজ খারাপের দিকে পা বাড়াচ্ছে। সারা রাত জেগে থেকে মাজারে মাজারে হুক্কা টানছে। আর আতশ বাজির কথা নাই বল্লাম। অথচ অনেকেই এই সব অনৈসলামিক কর্ম করে ফজরের নামাজ না পড়েই ঘুমিয়ে পড়ে। অথচ ফরজ নামাজ কতই না মর্তবা। নফলের পিছে ছুটতে যেয়ে ফরজকে ধ্বংস করছে। হাই আফসোস এই সব ফালতু হাদিসের মাধ্যমে মানুষ আজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে এই সবের কোন বালাই নেই। শবে বরাত সম্বন্ধে তারা কোন কিছু জানেই না! আল্লাহ মাফ করুন! আমীন!!

২| ০২ রা জুন, ২০১৫ সকাল ৯:২২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মহাপবিত্র শবে বরাত শরীফ উঁনার দলীল ভিত্তিক পোষ্ট ও প্রমাণ পবিত্র আল কুর’আন এবং হাদিস শরীফ উঁনাদের থেকে।

১৪ই শা’বান দিবাগত রাতটি হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাতের রাত্রি। কিন্তু অনেকে বলে থাকেন কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও শবে বরাত বলে কোনো শব্দ নেই। শবে বরাত বিরোধীদের এরূপ জিহালতপূর্ণ বক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, পবিত্র শবে বরাত শব্দ দু’টি যেরূপ মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও নেই তদ্রূপ পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা, পবিত্র খোদা, পবিত্র ফেরেশতা, পবিত্র পীর ইত্যাদি পবিত্র শব্দও মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও নেই। এখন পবিত্র শবে বরাত বিরোধী লোকেরা কি পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা ইত্যাদি পবিত্র শব্দ মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও না থাকার কারনে তা ছেড়ে দিবে? পবিত্র খোদা, পবিত্র ফেরেশতা ইত্যাদি শব্দ মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও না থাকার কারনে মহান আল্লাহ পাঁক ও উঁনার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উঁনাদেরকে অস্বীকার করবেন? মূলত পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা, পবিত্র খোদা, পবিত্র ফেরেশতা, এবং পবিত্র পীর ইত্যাদি ফার্সী ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত। ফার্সী শব অর্থ রাত্রি এবং বরাত অর্থ ভাগ্য বা মুক্তি। সুতরাং শবে বরাত মানে হল ভাগ্য রজনী বা মুক্তির রাত।

মূলতঃ পবিত্র শবে বরাত এবং উঁনার ফযীলত সম্পর্কে মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের অসংখ্য আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনার মধ্যে শবে বরাতকে লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রজনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে শবে বরাতকে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা পবিত্র শা’বান মাসের মধ্য রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক করেন, অর্থঃ শপথ প্রকাশ্য কিতাব উঁনার! নিশ্চয়ই আমি(মহান আল্লাহ পাঁক) বরকতময় রজনীতে মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই(মহান আল্লাহ পাঁক) নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই(মহান আল্লাহ পাঁক) প্রেরণকারী।” (পবিত্র সূরা দু’খান শরিফঃ আয়াত শরীফ ২-৫)

কেউ কেউ বলে থাকেন যে, “পবিত্র সূরা দু’খান উঁনার উল্লেখিত আয়াত শরীফ উঁনার দ্বারা মহাসম্মানিত পবিত্র শবে ক্বদর উঁনাকে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত আয়াত শরীফ উঁনার মধ্যে সুস্পষ্টই উল্লেখ আছেন যে, নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে মহাসম্মানিত পবিত্র আল কওরআন উল কারিম উনাকে নাযিল করেছি। আর মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনাকে যে পবিত্র ক্বদরের রাত্রে নাযিল করা হয়েছে তা সম্মানিত পবিত্র সূরা ক্বদর উঁনার মধ্যেও উল্লেখ আছে।” এ প্রসঙ্গে মুফাসসির কুল শিরোমণি রঈসুল মুফাসসিরীন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উঁনার স্বীয় তাফসীরে তিঁনি উল্লেখ করেন,” মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি পবিত্র লাইলাতুম মুবারাকাহ বলতে শা’বান মাসের মধ্য রজনী বা শবে বরাতকে বুঝিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি এ রাতে প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলোর ফায়সালা করে থাকেন।

দলিলঃ– (ছফওয়াতুত তাফাসীর, তাফসীরে খাযীন ৪র্থ খন্ডঃ ১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে ইবনে আব্বাস, তাফসীরে মাযহারী ৮ম খন্ডঃ ৩৬৮ পৃষ্ঠা, তাফসীরে মাযহারী ১০ম খন্ড, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে খাযিন, বাগবী, কুরতুবী, কবীর, রুহুল বয়ান, আবী সাউদ, বাইযাবী, দূররে মানছূর, জালালাইন, কামলালাইন, তাবারী, লুবাব, নাযমুদ দুরার, মাদারিক)।

পবিত্র লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা যে পবিত্র শবে বরাত উনাকে বুঝানো হয়েছে উহার যথার্থ প্রমাণ পবিত্র সূরা দু’খান উঁনার ৪ নাম্বার আয়াত শরীফ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ। এই পবিত্র আয়াত শরীফ উঁনার يُفْرَقُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের অর্থ ফায়সালা করা। প্রায় সমস্ত তাফসীর শরিফে সকল মুফাসসিরীনে কিরামগণ يُفْرَقُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের তাফসীর করেছেন ইয়ুকতাবু অর্থাৎ লেখা হয়, ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়, ইয়ুতাজাও ওয়াযূ অর্থাৎ বন্টন বা নির্ধারণ করা হয়, ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বাজেট করা হয়, ইয়ুকদ্বিয়ু অর্থাৎ নির্দেশনা দেওয়া হয়। কাজেই ইয়ুফরাকু উঁনার অর্থ ও উহার ব্যাখার মাধ্যমে আরো স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাত্রিতে সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বছরের জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্যলিপি অনুসারে পবিত্র রমাদ্বান মাসের পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর বা পবিত্র শবে ক্বদর উঁনার রাত্রে তা চালু হয়। এজন্য পবিত্র শবে বরাত উঁনাকে লাইলাতুত্ তাজবীজ অর্থাৎ পবিত্র ফায়সালার রাত্র এবং পবিত্র শবে ক্বদরকে লাইলাতুল তানফীয অর্থাৎ নির্ধারিত ফায়সালার কার্যকরী করার রাত্র বলা হয়। (তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে খাযীন, তাফসীরে ইবনে কাছীর, বাগবী, কুরতুবী, রুহুল বয়ান, লুবাব)

মহাসম্মানিত পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনার থেকেঃ- সুতরাং মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি যে সুরা দু’খান শরীফ উঁনার মধ্যে বলেছেন, “আমি বরকতময় পবিত্র রজনীতে মহাসম্মানিত পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনাকে নাযিল করেছি” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হলোঃ “আমি বরকতময় পবিত্র রজনীতে মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উনাকে নাযিলের ফায়সালা করেছি”। আর পবিত্র সুরা ক্বদর শরীফ উঁনার মধ্যে “আমি পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উঁনার পবিত্র রজনীতে আল কোরআন উল কারিম নাযিল করেছি” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল “আমি পবিত্র ক্বদর উঁনার পবিত্র রজনীতে আল কোরআন উল কারিম নাযিল করেছি” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি পবিত্র শবে বরাত উঁনার রাত্রে মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনাকে নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং পবিত্র শবে ক্বদর উঁনার রাত্রে তা নাযিল করেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার থেকেঃ- পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যেও পবিত্র শবে বরাত উঁনার সমর্থন পাওয়া যায়। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উঁনার থেকে বর্ণিত আছে। একদা মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বললেন, হে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! আপনি কি জানেন, পবিত্র লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা পবিত্র শবে বরাতে কি সংঘটিত হয়? তিঁনি বললেন, হে মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ রাত্রিতে কি কি সংঘটিত হয়? (উত্তরেঃ) মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বললেন, এ রাতে আগামী এক বছরে কতজন সন্তান জম্মগ্রহণ করবেন এবং কতজন লোক মৃত্যূবরণ করবেন তা লিপিবদ্ধ করা হয়। আর এ পবিত্র রজনীতে বান্দার (এক বছরের) আমলসমূহ মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার নিকট পেশ করা হয় এবং এ রাতে বান্দার (এক বছরের) রিযিকের ফায়সালা হয়”।

দলিল – (বাইহাক্বী শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উঁনার থেকে বর্ণিত আছে। তিঁনি বলেন, একদা মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার সাথে কোন এক রাত্রিতে রাত্রিযাপন করছিলাম। এক সময় উনাকে বিছানায় না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিঁনি হয়ত অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উঁনাদের হুজরা শরীফ এ তাশরীফ মোবারক নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে উনাকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। সেখানে তিঁনি উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফ এ ফিরে এলে তিঁনিও ফিরে এলেন এবং বললেনঃ আপনি কি মনে করেন মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন? আমি বললামঃ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারনা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উঁনাদের হুজরা শরীফ-এ তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর হুযুর পাঁক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বললেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি পবিত্র শা’বান মাস উনার ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর তিঁনি বণী কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন”। দলিল – (বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, রযীন শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, যে “হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিঁনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি পবিত্র শা’বান মাস উঁনার ১৪ তারিখ রাত্রিতে ঘোষনা করেন যে, উঁনার সমস্ত মাখলুকাতকে ক্ষমা করে দিবেন। শুধু মুশরিক ও হিংসা-বিদ্বেষকারী ব্যতীত।” দলিল – (ইবনে মাযাহ্ শরীফ, আহমদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিঁনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বলেন, যখন অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাত উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং দিনের বেলায় রোযা রাখবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি উক্ত রাতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষাণা করতে থাকেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করব। কোন মুছিবগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব। এভাবে সুবহে ছাদিক পর্যন্ত ঘোষাণা করতে থাকেন।” দলিল – (ইবনে মাযাহ্ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন, যে ব্যক্তি পবিত্র শা’বানের মধ্য রাতে (শবে বরাত) ইবাদত করবে তারই জন্য সুসংবাদ এবং তার জন্য সমস্ত কল্যাণ” পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে এবং অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাতের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, সে ব্যক্তির অন্তর ঐদিন মরবে না বা পেরেশান হবে না যে দিন সকলের অন্তর পেরেশান থাকবে।” দলিল – (মুকাশাফাতুল কুলুব)

শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, যে “মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বলেন, পাঁচটি রাত এমন রয়েছে যেগুলোতে দোয়া করলে তা রদ বা বাতিল হয়না ।

(১) পবিত্র পহেলা রজবের রাত

(২) পবিত্র শা’বানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত

(৩) পবিত্র জুমুয়ার রাত

(৪) পবিত্র পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত

(৫) পবিত্র পবিত্র ঈদুল আযহার রাত।” দলিল (দায়লামী শরীফ)

শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল প্রসঙ্গে অন্য হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন, নিশ্চয়ই দোয়া বা মুনাজাত পাঁচটি রাতে কবুল হয়ে থাকে ।

(১) পবিত্র পহেলা রজবের রাত

(২) পবিত্র শা’বানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত

(৩) পবিত্র ক্বদরের রাত

(৪) পবিত্র পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত

(৫) পবিত্র পবিত্র ঈদুল আযহার রাত। দলিল – (মা ছাবাত বিস্ সুন্নাহ, গুনইয়াতুত্ ত্বালিবীন, মুকাশাফাতুল কুলুব)

সুতরাং কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত যে, শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।"

আশা করি ধৈয্য নিয়ে পাঠ করে বুঝে তথ্য প্রমাণ সহ উত্তর দিয়ে বাধীত করবেন।মহাপবিত্র শবে বরাত শরীফ উঁনার দলীল ভিত্তিক পোষ্ট ও প্রমাণ পবিত্র আল কুর’আন এবং হাদিস শরীফ উঁনাদের থেকে।

১৪ই শা’বান দিবাগত রাতটি হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাতের রাত্রি। কিন্তু অনেকে বলে থাকেন কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও শবে বরাত বলে কোনো শব্দ নেই। শবে বরাত বিরোধীদের এরূপ জিহালতপূর্ণ বক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, পবিত্র শবে বরাত শব্দ দু’টি যেরূপ মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও নেই তদ্রূপ পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা, পবিত্র খোদা, পবিত্র ফেরেশতা, পবিত্র পীর ইত্যাদি পবিত্র শব্দও মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও নেই। এখন পবিত্র শবে বরাত বিরোধী লোকেরা কি পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা ইত্যাদি পবিত্র শব্দ মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও না থাকার কারনে তা ছেড়ে দিবে? পবিত্র খোদা, পবিত্র ফেরেশতা ইত্যাদি শব্দ মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের কোথাও না থাকার কারনে মহান আল্লাহ পাঁক ও উঁনার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উঁনাদেরকে অস্বীকার করবেন? মূলত পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা, পবিত্র খোদা, পবিত্র ফেরেশতা, এবং পবিত্র পীর ইত্যাদি ফার্সী ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত। ফার্সী শব অর্থ রাত্রি এবং বরাত অর্থ ভাগ্য বা মুক্তি। সুতরাং শবে বরাত মানে হল ভাগ্য রজনী বা মুক্তির রাত।

মূলতঃ পবিত্র শবে বরাত এবং উঁনার ফযীলত সম্পর্কে মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনাদের অসংখ্য আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনার মধ্যে শবে বরাতকে লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রজনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে শবে বরাতকে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা পবিত্র শা’বান মাসের মধ্য রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক করেন, অর্থঃ শপথ প্রকাশ্য কিতাব উঁনার! নিশ্চয়ই আমি(মহান আল্লাহ পাঁক) বরকতময় রজনীতে মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই(মহান আল্লাহ পাঁক) নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই(মহান আল্লাহ পাঁক) প্রেরণকারী।” (পবিত্র সূরা দু’খান শরিফঃ আয়াত শরীফ ২-৫)

কেউ কেউ বলে থাকেন যে, “পবিত্র সূরা দু’খান উঁনার উল্লেখিত আয়াত শরীফ উঁনার দ্বারা মহাসম্মানিত পবিত্র শবে ক্বদর উঁনাকে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত আয়াত শরীফ উঁনার মধ্যে সুস্পষ্টই উল্লেখ আছেন যে, নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে মহাসম্মানিত পবিত্র আল কওরআন উল কারিম উনাকে নাযিল করেছি। আর মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনাকে যে পবিত্র ক্বদরের রাত্রে নাযিল করা হয়েছে তা সম্মানিত পবিত্র সূরা ক্বদর উঁনার মধ্যেও উল্লেখ আছে।” এ প্রসঙ্গে মুফাসসির কুল শিরোমণি রঈসুল মুফাসসিরীন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উঁনার স্বীয় তাফসীরে তিঁনি উল্লেখ করেন,” মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি পবিত্র লাইলাতুম মুবারাকাহ বলতে শা’বান মাসের মধ্য রজনী বা শবে বরাতকে বুঝিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি এ রাতে প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলোর ফায়সালা করে থাকেন।

দলিলঃ– (ছফওয়াতুত তাফাসীর, তাফসীরে খাযীন ৪র্থ খন্ডঃ ১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে ইবনে আব্বাস, তাফসীরে মাযহারী ৮ম খন্ডঃ ৩৬৮ পৃষ্ঠা, তাফসীরে মাযহারী ১০ম খন্ড, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে খাযিন, বাগবী, কুরতুবী, কবীর, রুহুল বয়ান, আবী সাউদ, বাইযাবী, দূররে মানছূর, জালালাইন, কামলালাইন, তাবারী, লুবাব, নাযমুদ দুরার, মাদারিক)।

পবিত্র লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা যে পবিত্র শবে বরাত উনাকে বুঝানো হয়েছে উহার যথার্থ প্রমাণ পবিত্র সূরা দু’খান উঁনার ৪ নাম্বার আয়াত শরীফ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ। এই পবিত্র আয়াত শরীফ উঁনার يُفْرَقُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের অর্থ ফায়সালা করা। প্রায় সমস্ত তাফসীর শরিফে সকল মুফাসসিরীনে কিরামগণ يُفْرَقُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের তাফসীর করেছেন ইয়ুকতাবু অর্থাৎ লেখা হয়, ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়, ইয়ুতাজাও ওয়াযূ অর্থাৎ বন্টন বা নির্ধারণ করা হয়, ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বাজেট করা হয়, ইয়ুকদ্বিয়ু অর্থাৎ নির্দেশনা দেওয়া হয়। কাজেই ইয়ুফরাকু উঁনার অর্থ ও উহার ব্যাখার মাধ্যমে আরো স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাত্রিতে সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বছরের জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্যলিপি অনুসারে পবিত্র রমাদ্বান মাসের পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর বা পবিত্র শবে ক্বদর উঁনার রাত্রে তা চালু হয়। এজন্য পবিত্র শবে বরাত উঁনাকে লাইলাতুত্ তাজবীজ অর্থাৎ পবিত্র ফায়সালার রাত্র এবং পবিত্র শবে ক্বদরকে লাইলাতুল তানফীয অর্থাৎ নির্ধারিত ফায়সালার কার্যকরী করার রাত্র বলা হয়। (তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে খাযীন, তাফসীরে ইবনে কাছীর, বাগবী, কুরতুবী, রুহুল বয়ান, লুবাব)

মহাসম্মানিত পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনার থেকেঃ- সুতরাং মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি যে সুরা দু’খান শরীফ উঁনার মধ্যে বলেছেন, “আমি বরকতময় পবিত্র রজনীতে মহাসম্মানিত পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনাকে নাযিল করেছি” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হলোঃ “আমি বরকতময় পবিত্র রজনীতে মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উনাকে নাযিলের ফায়সালা করেছি”। আর পবিত্র সুরা ক্বদর শরীফ উঁনার মধ্যে “আমি পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উঁনার পবিত্র রজনীতে আল কোরআন উল কারিম নাযিল করেছি” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল “আমি পবিত্র ক্বদর উঁনার পবিত্র রজনীতে আল কোরআন উল কারিম নাযিল করেছি” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি পবিত্র শবে বরাত উঁনার রাত্রে মহাপবিত্র আল কোরআন উল কারিম উঁনাকে নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং পবিত্র শবে ক্বদর উঁনার রাত্রে তা নাযিল করেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার থেকেঃ- পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যেও পবিত্র শবে বরাত উঁনার সমর্থন পাওয়া যায়। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উঁনার থেকে বর্ণিত আছে। একদা মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বললেন, হে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! আপনি কি জানেন, পবিত্র লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা পবিত্র শবে বরাতে কি সংঘটিত হয়? তিঁনি বললেন, হে মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ রাত্রিতে কি কি সংঘটিত হয়? (উত্তরেঃ) মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বললেন, এ রাতে আগামী এক বছরে কতজন সন্তান জম্মগ্রহণ করবেন এবং কতজন লোক মৃত্যূবরণ করবেন তা লিপিবদ্ধ করা হয়। আর এ পবিত্র রজনীতে বান্দার (এক বছরের) আমলসমূহ মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার নিকট পেশ করা হয় এবং এ রাতে বান্দার (এক বছরের) রিযিকের ফায়সালা হয়”।

দলিল – (বাইহাক্বী শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উঁনার থেকে বর্ণিত আছে। তিঁনি বলেন, একদা মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার সাথে কোন এক রাত্রিতে রাত্রিযাপন করছিলাম। এক সময় উনাকে বিছানায় না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিঁনি হয়ত অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উঁনাদের হুজরা শরীফ এ তাশরীফ মোবারক নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে উনাকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। সেখানে তিঁনি উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফ এ ফিরে এলে তিঁনিও ফিরে এলেন এবং বললেনঃ আপনি কি মনে করেন মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন? আমি বললামঃ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারনা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উঁনাদের হুজরা শরীফ-এ তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর হুযুর পাঁক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বললেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি পবিত্র শা’বান মাস উনার ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর তিঁনি বণী কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন”। দলিল – (বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, রযীন শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, যে “হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিঁনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি পবিত্র শা’বান মাস উঁনার ১৪ তারিখ রাত্রিতে ঘোষনা করেন যে, উঁনার সমস্ত মাখলুকাতকে ক্ষমা করে দিবেন। শুধু মুশরিক ও হিংসা-বিদ্বেষকারী ব্যতীত।” দলিল – (ইবনে মাযাহ্ শরীফ, আহমদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিঁনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বলেন, যখন অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাত উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং দিনের বেলায় রোযা রাখবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি উক্ত রাতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষাণা করতে থাকেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করব। কোন মুছিবগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব। এভাবে সুবহে ছাদিক পর্যন্ত ঘোষাণা করতে থাকেন।” দলিল – (ইবনে মাযাহ্ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন, যে ব্যক্তি পবিত্র শা’বানের মধ্য রাতে (শবে বরাত) ইবাদত করবে তারই জন্য সুসংবাদ এবং তার জন্য সমস্ত কল্যাণ” পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে এবং অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাতের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, সে ব্যক্তির অন্তর ঐদিন মরবে না বা পেরেশান হবে না যে দিন সকলের অন্তর পেরেশান থাকবে।” দলিল – (মুকাশাফাতুল কুলুব)

শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উঁনার মধ্যে আরও ইরশাদ মোবারক হয়েছে, যে “মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বলেন, পাঁচটি রাত এমন রয়েছে যেগুলোতে দোয়া করলে তা রদ বা বাতিল হয়না ।

(১) পবিত্র পহেলা রজবের রাত

(২) পবিত্র শা’বানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত

(৩) পবিত্র জুমুয়ার রাত

(৪) পবিত্র পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত

(৫) পবিত্র পবিত্র ঈদুল আযহার রাত।” দলিল (দায়লামী শরীফ)

শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল প্রসঙ্গে অন্য হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুযুর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন, নিশ্চয়ই দোয়া বা মুনাজাত পাঁচটি রাতে কবুল হয়ে থাকে ।

(১) পবিত্র পহেলা রজবের রাত

(২) পবিত্র শা’বানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত

(৩) পবিত্র ক্বদরের রাত

(৪) পবিত্র পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত

(৫) পবিত্র পবিত্র ঈদুল আযহার রাত। দলিল – (মা ছাবাত বিস্ সুন্নাহ, গুনইয়াতুত্ ত্বালিবীন, মুকাশাফাতুল কুলুব)

সুতরাং কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত যে, শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।"

আশা করি ধৈয্য নিয়ে পাঠ করে বুঝে তথ্য প্রমাণ সহ উত্তর দিয়ে বাধীত করবেন।

৩| ০২ রা জুন, ২০১৫ সকাল ৯:৩২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: অস্তমিত সুর্য বলেছেন: শবে বরাতের ফযীলত সংক্রান্ত কিছু হাদী

(১)হযরত মুআয ইবনে জাবাল ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) বলেন, রাসূলে করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে ( শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে ) সৃষ্টির দিকে ( রহমতের ) দৃষ্টি দেন এবংগ মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

(২)হযরত আয়েশা সিদ্দীক ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা ) বর্ণনা করেন, মহানবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে আয়েশা! তুমি কি জান? আজ রাত ( নিসাফে শাবান ) কী? হযরত আয়েশা ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো
জানি না, দয়া করে বলুন। মহানবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বললেন, আজ রাতে আগামী বছরে যে সমস্ত বনী আদম জমীনের বুকে জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মৃত্যুবরণ করবে, তাদের তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে বান্দাদের আমলনামা মহান আল্লাহর নিকট প্রকাশ করা
হয়।
#
হযরত আয়েশা ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা ) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদীসে মহানবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেন, আমি এক রাতে মহানবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ঔয়া সাল্লাম )-কে বিছানায় পেলাম না। তাই আমি অত্যন্ত পেরেশান হয়ে খোঁজাখুঁজি আরম্ভ করলাম। খুঁজতে খুঁজতে দেখি, তিনি জান্নাতুল বাকীর মধ্যে মহান আল্লাহর প্রার্থনায় মগ্ন। তখন তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! আমার নিকট হযরত জিবরাইল
( আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, আজ রাত হল নিসফে শাবান ( অর্থাৎ, লাইলাতুল বারাআত )। এ রাতে আল্লাহ তাআলা অধিক পরিমাণে জাহান্নামবাসী লোকদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এমনকি কালব বংশের বকরীগুলোর লোম সমপরিমাণ গুনাহগার বান্দা হলেও। ( মিশকাত শরীফ-১১৫ পৃ )

(৩)হযরত আলী ( রাদীয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেছেন,পনেরো শাবানের (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে, তখন তোমরা রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনে রোযা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম
আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করবো। আছে কি কোন রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দিব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদেরকে ডাকতে থাকেন। ( সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস-১৩৮৪,
বাইহাকী-শুআবুল ঈমান, হাদীস-৩৮২৩ )

৪| ০২ রা জুন, ২০১৫ সকাল ৯:৫৬

সোজা সাপটা বলেছেন: ভাগ্য কি প্রতি বছর বছর রিনিউ করা হয় ?

তৌসিক আহম্মেদের ব্লগ টা তুলে ধরলাম .....
১. কোরআনে শব-ই-বরাতের ব্যাপারটা বর্ণনা করে একটি শব্দ পর্যন্ত নাই।

২. নির্ভরযোগ্য কোন হাদীস দ্বারা (বিশেষত সিহাহ সিত্তাহ) দ্বারা শব-ই-বরাত প্রমাণ করা যায় না। শুধু 'মিশকাত শরীফে' যা বলা হয়েছে তাতে শব-ই-বরাতের মূল ধারনা কোনক্রমেই প্রমাণিত হয় না।

৩. আমাদের এই উপমহাদেশ বাদে বিশ্বের অন্য কোন মুসলমান প্রধান দেশে শব-ই-বরাত পালনের রীতি নাই। সত্যতা জানার জন্য, প্রয়োজনে সৌদি অ্যম্বাসির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

৪. কোরআনে শব-ই-মেরাজের রাত্রিতে রাত জেগে ইবাদত করার ব্যাপারে তাগিদ দেয়া হয়েছে। শব-ই-বরাতের কোন কনসেপ্ট সেখানে নাই।

৫. মূলত অগ্নিপূজকদের মাধ্যমে এই রীতি মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে। অগ্নিপূজকরা তাদের দেবতাদের খুশি করার জন্য সারারাত পূজা করত এবং চারপাশে আগুন জ্বালিয়ে আলোকজ্জ্বল রাত্রি উদযাপন করত।

৬. আমাদের দেশের ফতোয়াবাজ মৌলভিরা এই প্রথার প্রধান রক্ষক। কারন, এই রাত্রিতে তাদের বেশ কিছু উপরি ইনকাম হয়।

৭. খুব স্পষ্ট করে বললে, শব-ই-বরাত পালন করা বেদআ'ত ছাড়া আর কিছুই নয়।


আরো কিছু বর্ননা

Month of shaban is one of the blessed months in Islamic year. This month brings with it lots of chances to earn reward and pleasure of ALLAH swt. MUHAMMAD s.a.w.w used to do worship and pray the most in this month, other than the month of Ramadan. In a hadith of bukhari, umul momineen hazrat Aiysha r.a. said that Prophet s.a.w.w used to fast in this month.



Bukhari : Book 3 : Volume 31 : Hadith 190
Narrated 'Aisha: Allah's Apostle used to fast till one would say that he would never stop fasting, and he would abandon fasting till one would say that he would never fast. I never saw Allah's Apostle fasting for a whole month except the month of Ramadan, and did not see him fasting in any month more than in the month of Sha'ban.

Hence, the blessings of this month cannot be overlooked. But there have been introduced many bidaats (acts that have no place in quran and sunnah) in our religion in order to earn reward but these unjustified acts cannot invite any glad tidings or blessings from ALLAH swt, instead they are just prohibited acts, since MUHMMAD s.a.w.w said: “action which is not ordered by me is rejected in sight of ALLAH ” (Muslim: 1718). One such biddat is the invention of “shab-e baraat” on 15th of shaban. This night is no where seen celebrated by MUHAMMAD s.a.w.w as a blessed night but there are many people who support the truthfulness of this night by quoting the fabricated ahadith, through which they do not only visit graves but also worship the whole night by making it the night of “closing of the deeds register” and fasting.

The famous weak hadith quoted by these people is given below, which is mentioned in ibn-e majah’s hadith collection and it’s proven as a weak hadith.

{Hadrat `Ali (RA ) reported that RasulAllah (SAWS) said: "When it is the fifteenth night of Sha'baan, observe prayer during the night and observe fast during the day; for Allâh (SWT) descends to the heaven of the world as the sun sets and says: Is there anyone to seek forgiveness so that I should forgive him? Is there anyone to seek sustenance so that I should provide him? Is there anyone in trouble so that I may relieve him? And so on and so forth, until the dawn breaks." [Ibn Mâjah]}

But there is no single sahih hadith ever quoted in any sahih collection regarding 15th of shaban. The supporters of shab-e baraat quote a verse from hoyl quran regarding this night, which is the 4th verse of surah dukhan but that verse does not talk about the 15 shaban nowhere, instead, ibn-e kathir has mentioned in his tafsir of the forth verse of surah dukhan, surah qadar.

The 4th verse of surah dukhan talks about the same night i.e. the night of qadar, the night in which ALLAH swt started revealing Quran.

Let us see the first 3 verses of surah dukhan to decide what the two verse of surah dukhan talk about.

Surah dukhan: verse 2-4
“(I swear) By this manifest Book. Surely, We have revealed (this Quran) on a blessed night; so We are ever Warner with surety. Therein (this night) every affair is decided with full wisdom.”

So by seeing the verse number 4 of in context of verse number 2 and 3, it is clear that there is no such thing like shab-e baraat and the evidences and logics presented by the pro-shab-e barat people are wrong and have no place in Islam.




আনোঠের টোপিচ



Shab-e-Barat :: Authentic or not ??
‘Shab-e-Barat’ is observed with due solemnity and religious fervor in different parts of the world. Specially in this subcontinent, the night is observed as an age old celebration. Although the references as to observance of ‘Shab-e-Barat’ in the Holy Hadith are regarded as weak injunctions, but the night draws a large number of devotees to salat, fasting, ziarat, poor feeding, sweet distribution and more!

Devoted Muslims of only Bangladesh, India, Pakistan and Afghanistan celebrate the ‘Shab-e-Barat’ on the 15th day of Shaban (the eighth month of the Islamic lunar calendar). Although this night is not celebrated in any other Muslim land. ‘Shab-e-Barat’, also known as ‘Laylatul Barat’ or ‘Laylatul Nusfmin Shaban’, is a traditional Islamic day of festival and worship in the South Asia. According to the ascetic Muslims, this is the day of divine benediction. Offering prayers and fasting in this particular day is said to have greater acceptance from God.

But if one traces back the root of this prestigious night, one might come up with the fact that “No” verse of the Holy Quran has any indication pointing to the existence of any such an occasion called ‘Shab-e-Barat’. The result is same if one goes through the authentic ‘Ahadeeth’ (plural of Hadeeth), which is the sayings or doings of our great Prophet Muhammad. Nothing firm and reliable has been established on the authority of the Prophet that he held nigh vigil prayer and fasted during the day of the 15th of ‘Shaban’. So, the night of the 15th of ‘Shaban’ is like any other night, and if someone regularly observes acts of worship during other nights, then he may hold night vigil prayer on this night without assuming anything special.

It should be noted that an Islamic celebration must have its evidences in the two penultimate sources of Islam, the Quran and the Hadeeth. According to the Islamic creed, none has the right to innovate a way of worship. Only the God and his messenger, our great Prophet, hold the right to set such an occasion.

In Islam, if there is no authentic proof in an act then the act is regarded as an innovation and all innovations are misguidance. So, what we can finally tell is that, though this celebration will be observed with utmost respect by the contemporary Muslim society here in the subcontinent, but one should really think seriously about what it is all about.

৫| ০২ রা জুন, ২০১৫ সকাল ১০:০৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: @সোজা সাপটা! আপনার কাছৈ তৌসিফ আহমেদের ব্যক্তিগত ভাবনা বা মত কি হাদীসের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ!!!!!! ??

তবে আপনাকে সালাম! আপনার হেদায়াত আল্লাহর হাতে!

৬| ০২ রা জুন, ২০১৫ সকাল ১০:০৮

আহমেদ রশীদ বলেছেন: আমি দেখছি কিছু হুজুররা লাইলাতুল বরাত সম্বন্ধে বলতে গিয়ে লাইলাতুল কদরকে টেনে নিয়ে আসে। অথচ বরাতের কোন স্পষ্ট আয়াত বলতে পারে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.