| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তিন সপ্তাহ ধরে, বিবিজানের আবদার অনন্ত জলিলের “নিঃস্বার্থ ভালবাসা” মুভিটা দেখবে। মুভিটা নাকি খুব ভালো!! আমারও আগে জলিলের ছবি দেখা হয় নাই।
গত রবিবার, অনন্ত জলিলের “নিঃস্বার্থ ভালবাসা” মুভিটা দেখলাম বসুন্ধারায়। হল নাম্বার ৪। বিরাট হল, বিরাট হল, প্রায় পুরাটাই খালি, হয়তো রবিবার বলে। কারণ শনিবার দেখতে চেয়েছিলাম, টিকিট পাই নাই।
যাইহোক অদ্ভুত এক ছবি “নিঃস্বার্থ ভালবাসা”। আমার মতে আধা আমার আমার মতে আধা ঘণ্টার ছবি, দুই ঘণ্টার বেশি ধরে দেখানো হইছে। ছবি শুরু হওয়ার ১৫ মিনিটের মাথায় বিবিজান আমাকে সরি বলা শুরু করছে। খারাপ ছবি আমি আগেও দেখেছি, কিন্তু এই রকম খারাপ ছবি আগে দেখেছি কিনা মনে করতে পারলাম না।
জলিল সাহেবের টাকা আছে, তার টাকায় ছবি হয়। সে তো নিজেকে ফুটাবেই, এতে আমার কোনও আপত্তি নাই, আমার কিঞ্চিত আপত্তি হল, এটাকে ছবি না বলে বলা উচিত জলিল সাহেবের মার্কেটিং। আমরা চাকুরীজীবী দর্শকরা নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে দেখতে যাই, জলিল সাহেব একজন মহান মানুষ। মেয়েটা খালি ডিগবাজি খায়, আর জলিল সাহেব তার হাজার কোটি টাকার সম্পতি মেয়েটার নামে লিখে দিতে চায়। এটা নাকি নিঃস্বার্থ ভালবাসা?
যাই হোক ছবি নাকি হিট। আমাদের সিনেমা জগত এতটাই শূন্য, যাই দেখায় তাই দেখি। এত ভালো দর্শক অন্য কোনও দেশে আছে কিনা সন্দেহ। জলিল সাহেব পর্দায় কেরামতি দেখায়, গুণ্ডাদের সাথে ডিশুম ডিশুম ফাইট করে, কড়া কড়া ডায়লগ দেয় দর্শকদের জন্য। আর দর্শকরা সিটে বসে হাসাহাসি, চিৎকার করে কমেন্টের ছড়াছড়ি। এ যেন সিনেমা দেখা নয়, তথ্যের আদানপ্রদান চলছে। বর্ষার কথা বাদ। মদ খাওয়া, নাচানাচি আর খাট ভাঙা ছাড়া তার কোনও কাজ ছিল কিনা সন্দেহ।
সিনেমা দেখে বের হলাম। রাত সাড়ে নয়টার কিছু বেশী। আকাশে ঝিরঝির বৃষ্টি। বউয়ের হাত ধরে গাড়িতে বসে আছি বসুন্ধারার সামনে। ভীষণ জ্যাম। ভাবছিলাম একজন মানুষের কত টাকা থাকলে এমন গাজাখুরি সিনেমা বানায়। আর আমরাও দেখি। কত অপচয়!
৪ কিংবা ৫ বছর হবে, একটা বাচ্চা মেয়ে। গায়ে লাল জামা। চুলগুলো এলোমেলো, ঘাড় পর্যন্ত লম্বা। খালি পায়ে। ঝিরঝির বৃষ্টিতে আমাদের সামনে একটা গাড়ির কাঁচে হাত দিয়ে টাকা চাচ্ছে, আবার আপন মনে গাড়ির বডিতে ছোটছোট আঙ্গুল দিয়ে কি যেন লিখে চলছে। হয়তো অ, আ কিংবা ১,২,৩ কিংবা একটা ছোট ঘর আঁকছে। গাড়ির উপর বৃষ্টির পানি কিছুটা হলেও তাকে আঁকতে সাহায্য করছে। শিশুর শিল্পিক মনে কি আঁকছে কে জানে? গাড়ির গ্লাসে একবার দুইবার ছোট ছোট হাত দিয়ে থাপড় আবার গাড়ির বডিতে আকাআকি। উপরে ঝিরঝির বৃষ্টি। গাড়ির ভিতরে এসির বাতাসে মানুষগুলো বোধহয় ভীষণ বিরক্ত জ্যাম নিয়ে। সিনেমা দেখা শেষ, এইবার তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারলেই যেন বাঁচে।
আমি হতভাগা প্রথমে বাচ্চাটার বাবা মা কে কিছুক্ষণ মনে মনে গালাগালি করলাম। গালি দিলাম এনজিও গুলোকে, এই বাচ্চাদের নামে টাকা নিয়ে তারা বিদেশি এক্সপার্টদের সাথে চাইনিজ বুফে খায়। গালি দিলাম সমাজ নেতাদের। নেতা হয়ে নিজেদের আখের গোছায়। গালি দিলাম জলিলদের। টাকা দিয়ে তারা এই বানায়? কেন পারতো না, কিছু গরিবের ভারপোষণের দায়িত্ব নিতে?
ঠক ঠক। চমকে উঠলাম। আমাদের গাড়ির জানলায় সেই রকম একটা বাচ্চা মেয়ে, ১ বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে টাকা চাচ্ছে। তাড়াতাড়ি মানিব্যাগ বের করলাম। তিনটা ১০০ টাকার নোট আর কয়েকটা ১০ টাকার নোট। মাসের শেষ, ছোট চাকরি করি, ১০০ টাকার নোটটা দিতে পারলাম না। গ্লাস নামিয়ে একটা ১০ টাকার নোট দিলাম। বউ উপদেশ দিয়ে দিল, বৃষ্টির মধ্যে না ভিজতে! শিশুটার ক্ষতি হবে। দ্রুত টাকা নিয়ে মেয়ে টা উধাও। জানি না আমাদের কথা শুনবে কিনা।
মনে মনে সমাজ কে গালি দেওয়া আমি, ৫০০ টাকা খরচ করে জলিলের ছবি দেখলাম, আর মেয়েটা কে ১০ টাকার বেশি দিতে পারলাম না।
মনে হোলো বিবেক আমার গালে একটা চড় মারল।
২|
০১ লা অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৩
ইমরুল_কায়েস বলেছেন: মনে মনে সমাজ কে গালি দেওয়া আমি, ৫০০ টাকা খরচ করে জলিলের ছবি দেখলাম, আর মেয়েটা কে ১০ টাকার বেশি দিতে পারলাম না।
মনে হোলো বিবেক আমার গালে একটা চড় মারল।
৩|
০১ লা অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:১৫
আমিনুর রহমান বলেছেন:
মনে হোলো বিবেক আমার গালে একটা চড় মারল।
ভীষণ ভালো লাগলো।
তাও তো আপনার বিবেক ভালো কিছু বলছে। কিছু কিছু মানুষের এই বাচ্চাদের সাথে ব্যবহার দেখলে ভীষণ অবাক লাগে। কিছু করতে না পারি মিষ্টি একটা হাসি তো দিতে পারি ![]()
৪|
০২ রা অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:৩৬
অনির্বাণ তন্ময় বলেছেন:
কিছুই বলার নেই। শুধু ভালো লাগা দিয়ে গেলাম।।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৬
চুরি যাওয়া আগুন... বলেছেন: মনে হোলো বিবেক আমার গালে একটা চড় মারল।