| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছোটদা
বললে তো অনেক কথাই বলা লাগে, কয়টা বলব ??\nথাক এখন না, পরে বলব নে..।.।.।
ধানমন্ডি লেকের ধারে সেই কখন থেকে বসে আছে শুভ্র । এর মাঝে ৫৭ বার ফোন করেছে নীলা কে । অন্য দিনের চেয়ে আজ ওর লাক অনেক ভালো । তিন বার ফোন রিসিভ করেছে । তিন বার রিসিভ করে সেই একি বাক্য বলেছে, “আসছি তো... একটু ওয়েট করোনা......”
এই একটি বাক্য আজ দুই বছর ধরে শুনছে শুভ্র । ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ শব্দের বাক্যটি প্রথম যেদিন শুনেছিল সেদিন যেমন অন্য রকম একটা ভালোলাগার অনুভূতি জেগেছিল আজও সেই অনুভূতির কোন ব্যাতায় ঘটেনি । প্রতিদিন শব্দটি শুনতে খুব ভালো লাগে শুভ্র ।
প্রথম দেখা করার সেদিনটি ছিল বৃহস্পতিবার । সকালে সোনা রোদ নিয়ে সূর্য উঠেছিল । ১০ টায় যখন ও বাসা থেকে বের হয় তখন তো প্রচন্ড রোদ । শুভ্র রোদে স্বাভাবিক ভাবে তাকাতে পারেনা তাই বাইরে বের হলে ওর একটা সানগ্লাস লাগেই । ছমাস আগে কেনা সানগ্লাসটার কাচে একটু ফাটল ধরেছে । কাল ভাবছিলো নতুন একটা কিনবে কিন্তু টাকা ম্যনেজ করতে পারেনি । কি আর করা এটা নিয়েই বেরিয়ে পরে ।
কালোর মাঝে লাল রঙের চেক একটা শার্ট পরেছে । শার্টটা পুরনো হয়ে গেছে । পিঠের দিকে একটু রঙ্গটা ঝলসেও গেছে । তমালের সাথে গত ১২ তারিখ বসুন্ধরায় কেডস আই এর শো রুমে গিয়েছিল । হালকা বাদামী কালারের একটা শার্ট খুব পছন্দ হয়েছে কিন্তু সমস্যা তো ঐ একটাই টাকা ম্যানেজ হচ্ছেনা । ও ভাবছিল তমাল কিছু টাকা ধার দিবে কিন্তু না ঐ আশার গুড়ে বালি । তমাল নাকি নতুন একটা হেডফোন কিনবে তাই এখন টাকা ধার দিতে পারবে না । মনটা খারাপ হলেও মুখটা উজ্জ্বল করেই বসুন্ধরা থেকে বের হল । তার পর চার দিন পেরিয়ে গেছে তমালের কোন ফোন ও আর রিসিভ করেনি ।
অবশ্য এই চেক শার্টে ওকে খারাপ লাগেনা । তাছাড়া নীলাও ওর অবস্থা সম্পকে খুব ভালভাবেই জানে । নীলাকে পরিচয়ের শুরুতেই ও বলেছে,
“দেখ আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে । চার হাজার টাকায় আমার মাস চলে যায় । দশ টাকা রিকশা ভাড়া বাচানুর জন্য পনের মিনিট হেটে যাই । ফাস্টফুডের দোকানে ঠিক কত দিন আগে ঢুকেছিলাম মনে নেই । ও হ্যা মনে পড়ছে, তন্ময়ের জন্মদিনে ও আমাদের একটা ফাস্টফুডের দোকানে ট্রিট দিয়েছিল । আমার প্রতি মাসে মোবাইল খরচ কত জানো ? মাত্র পঞ্চাশ টাকা । আমি গ্রামের ছেলে এটাতো জানই । আমার বাড়িতে কিন্তু গ্যাস নেই । মা লাকড়ি দিয়ে রান্না করেন । বাড়িতে কোন কাজের মেয়েও নেই । বাড়ির প্রতিটি কাজ মাকেই করতে হয় ।
তুমি কি কখনও রান্না ঘরে গিয়েছ? কোন দিন অনুভব করেছ চুলার আগুনের তীব্রতাটা কেমন? তুমি কি চা বানানোর রেসিপিটা জানো ???
শোনলে আরও আশ্চর্জ হবে আমাদের বাড়িতে এখনও ইলেকট্রিসিটিই পৌঁছায়নি । আর তোমার রুমে সারাক্ষণ এসির ঠান্ডা বাতাস বয় । তুমি জানই না লোডশেডিং কাকে বলে কারন তোমার বাসায় সিঙ্গেল না, ডাবল আইপিএস ।
হারিকেনের আলোয় এক ঘন্টা থাকতে পারবে তুমি??
তোমার কাছে শুনেছি তোমার গাড়িতেও নাকি এসি আছে । জ্যামে আটকালেও তোমার কোন কষ্টই হয়না ।
সকাল নয়টার পাবলিক বাসের ভিতবে তাকিয়ে দেখেছিলে কোন দিন ???
দেখ নীলা জীবনটা ছেলে খেলা না । তুমি এক জগতের বাসিন্দা, আর আমি ভিন্ন জগতের । তুমি তোমার পথে হাঁটো, আমি আমার পথে হাটবো ।”
পরের দুই দিন নীলার আইডি থেকে কোন মেসেজ আসেনি । শুভ্র ভেবেছিল সব শেষ । ধনীর দুলালিকে এবার পিছু হটাহে পেরেছে । মেয়েটা যে কি......!! এত্ত অদ্ভুত আচরন করে কিচ্ছু বোঝা যায়না । আর দশটা মেয়ের থেকে আলাদা । বেশিদিন হয়নি ওদের পরিচয়ের মাসখানেক হবে হয়ত । কি যেন এক পেজের পোস্টে কমন্ট করে দুজনের পরিচয়ের সূত্রপাত । সেই থেকে শুরু । প্রতিদিন চ্যাট আর চ্যাট । শুভ্র হঠাত করে একদিন টের পায় ও আস্তে আস্তে নীলার প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে । ঠিক তখনি নীলা প্রপোজ করে বসে ওকে ।
দুই দিন পর ইনবক্সে নীলার মেসেজ পায় । দুটি ছবি ।
একটিতে নীলা তরকারি রান্না করছে । আরেকটাতে একটি ভাঙ্গা এসির পিক । দেয়ালের কালার দেখে বোঝ গেলো এটার নীলার ঘরের এসি ।
টেক্সট এ লেখা, তোমার জন্য আমি সব করতে পারবো .........।
আসসালামু আলাইকুম......
সালামের শব্দে ধ্যান ভাঙ্গে শুভ্রর । তাকিয়ে দেখে নীলা সামনে দাড়িয়ে ।
- কেমন আছ ? তোমাকে বলেছিনা, আমাকে কল দিবেনা, পাবলিক বাসে কিচ্ছু শোনা যায়না......
মেয়েটা শুধু মাত্র ওকে পাবার জন্যই এত পালটে নিয়েছে নিজেকে । কাজটা কি ঠিক হচ্ছে ???
ভাবতে গিয়েও ফিরে আসে । চিন্তাটাকে ঝেড়ে ফেলে উঠে দাড়ায় । শক্ত করে নীলার হাতটি ধরে বলে,
-চল, আজ তোমাকে কেএফসি তে খাওয়াবো.....ফেইসবুকে আছি, এই এখানে
©somewhere in net ltd.