| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গতকাল মাশরাফি ভাইয়ের অবসরের ঘোষনাটি আমার মত প্রায় সকল ভক্তকুলের কাছে অতন্ত দুঃখজনক একটি সংবাদ ছিল।কেউ এই সংবাদটি এত দ্রুত পাবে তা কখনোই আমাদের সকলের কাছেই কাম্য ছিল না। ব্যাক্তিগতভাবে আমি নিজেও অনেক আবেগকেন্দ্রিক হয়ে আমার কান্না ধরে রাখতে পারিনি।আর আমার মত তার অন্য কোন ভক্তাও পারবেনা।তার সমন্ধে যাই বলি না কেন কমই হবে।তিনি শুধু বাংলাদেশ দলের অধিনায়কই ছিলেন না ছিলেন বাংলাদেশ দলের একজন অভিভাবক,একজন বড় ভাই তরুণ খেলোয়ারদের কাছে,এই মানুষটি হল সেই মানুষটি যিনি শত বাধা বিপত্তি থাকা সত্তেও কখনো কেন কিছু থেকে পিছওা হোন নি।এখন পযন্ত তিনি তার করুণ ভাগ্যের সাথে যুদ্ধ করে তার খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন খুব দারুণভাবে, আর এইরকম একজন অদম্য খেলোয়ার কিনা টি টোয়েণ্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিবেন তাই আচমকা তা কিছুতেই সম্ভব না। তাও কিনা যেই ব্যাক্তিটি এই কয়েকদিন আগেই নিউজিল্যান্ড সিরিজে নিজ মুখেই তার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন যে তিনি এই তরুন টিমকে একটি শক্তিশালী দলে পরিণত করবেন।আর এই কিছুদিনের মধ্যে কিংবা এই শ্রীলংকা সিরিজের ওয়ানডে সিরিজের পর কি এমন হলো যে তিনি আচমকা এই সিদ্ধান্ত নিলেন???? মাশরাফি একজন অধিনায়কই নয় একজন সরল মনের মানুষ,মজাদার আনন্দদায়ক মানুষ, অনুপ্রেরণা দানকারী মানুষ, একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক যিনি কিনা দেশপ্রেম বজায় রাখতে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫ এর ইংল্যান্ড ম্যাচ এর আগে তার নিজের ছেলে অসুস্থ হওয়া সত্তেও সে নিজের দেশের জন্য খেললো, শত ইনজুরি হওয়া সত্তেও এখন পযন্ত খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।দেশের ভালোর জন্য নিহপ অবসর নিলেন আর বাহানা দিলেন তরুণদের খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত তাই তিনি নিজের জায়গাটি ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছেন যাতে তরুনরাও এবং নতুনরাও খেলার সুযোগ পায় এবং আগামী টি টোয়েণ্টির জন্য যাতে ভাল করে অনুশীলন করে ভাল একটি দল তৈরি করতে পারে। আদৌ কি তাই তারা হয়তো সবাই খেলবে কিন্তু খেলার মাঠে মিস করবে আপনার অনুপ্রেরণা, সাহস,আত্মবিশ্বাস জাগানো তারা কি সেইভাবে উদযাপন করতে পারবে ম্যাচ জয়ের পর আনন্দের সময়গুলো??? বিশ্বসেরা হয় একজন, ভাল ওপেনার হয় যেমনি হয় একজন তেমনি দলনেতা ও হয় ওই একজনই।আর তুমি মাঠে থাকলেই যথেষ্ট তাইলেই আমাদের জন্য অনেককিছু। কারণ তুমি মাঠে থাকলে জয় এমনিতেই আশবে ইনশাল্লাহ।আর গতকালও তুমিই তো খেললে ২ উইকেট নিলে তুমি খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট।আমার মত সকলেই আশা করি একই ভাবনা ভাবতাছে।তুমি দেশের জন্য অবসর নিতেছো আর তোমার ভক্ত এবং অনুসারীদের কথা একবার অ ভাবলে না? আর মাননীয় কোচ মাশরাফি ভাইকে অবসর নিতে বাধ্য করতে কি খুবই জরুরি ছিল?? সবই তে ভাল চলছিল।তরুণরা তরুণদের খেলা খেলতো তার জন্য মাশরাফি ভাইকে অধিনায়ক থেকে এবং পুরোপুরি টি টোয়েণ্টি থেকেই অবসর নিতে বাধ্য করলেন, আর পাপন স্যার আপনিও শেষমেষ এই সিদ্ধান্তে সায় দিলেন। আপনি কি ভুলে গেছেন এই বাংলাদেশকে কি এতদুরে এগিয়ে নিয়ে এলেন কে তিনি তিনি আর কেউ নন এই মাশরাফি বিন মরতুজা।আর বললেন মাশরাফি ভাই টি টোয়েণ্টি খেলার উপযুক্ততা হারিয়েছে তাহলে কি ভুলে গেছেন এই মাশরাফিই ২০০৬ সালে তার টি টোয়েণ্টি অভিষেক ম্যাচেই ৪ উইকেট নিয়েই তার ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়েছিলেন তাহলে নিজেই বুঝে কে কতটুকু উপযুক্ত।যাই হোক এই সিদ্ধান্তের পরপরই ১ ঘণ্টার মধ্যে তারা সকল ভক্তরা কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন এবং তাকে তার অবসর প্রত্যাহারের সুপারিশ জানান এতে খুব সহজেই বুঝতে পারছেন একজন দেশপ্রেমিক,জেদি,সহজ সরল মায়াবী, একজন ভালো মানুষ এবং একজন ভাল বন্ধু টিমমেট কিংবা একজন সফল অধিনায়কের প্রতি তার ভক্তকুলের ভালোবাসা কতটুকু।তিনি বলেছেন আগামীকালর ম্যাচের পর তিনি টি টোয়েণ্টি থেকে অবসর নিবেন তাই তার অবসরকে স্বরণীয় করে রাখতে তার টিমমেট এবং তার কোচরা তাকে একটি জয় উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।তাই তাদের সবার প্রতি আসুন আমরা সকলেই দোয়া করি যেন তারা আগামীকালের ম্যচে জয় দিয়ে শেষ করে সিরিজ সমতায় আনতে পারে।কথায় আছে শেষ ভালো যার সব ভালো তার।তাই আমি চাইব এবিং আমরা সবাই চাইব যাতে তিনি তার টি টোয়েণ্টি ক্যারিয়ার থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়।ভাই দেশের অগণিত ভক্তদের জন্য হলেও খেলে যান আর দেশের জন্য খেলে যান আমরা আপনাকে টিটোয়েণ্টি ফরম্যাটেও দেখতে চাই ফিরে আসুন।সালাম মাশরাফি ভাই সালাম। শেষমেষ আমি এই কথাই বলবো কে কি শিখছে তার কাছ থেকে তা আমি জানিনা তবে আমি সত্যি কথা বলতে অনেক কিছু শিখেছি যা না বললেই নয় :নেতৃত্ব,অনুপ্রেরণা যোগানো,ভাল মানুষ হওয়া,দেশের জন্য যেকোন কঠিন পরিস্থিতে কঠিন সিধান্ত নেওয়া,দেশপ্রেমিক হওয়া,মজাদার মানুষ হওয়া,জীবনে কখনো হার মানতে না চাওয়া,নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখা,নিজের লক্ষ্যের প্রতি অটুট থাকা,কখনো কোন পরিস্থিতিতে নিজের উপর নিজের বিশ্বাস হারিয়ে না ফেলা।যাই হোক অনেক কথা বলে ফেললাম।আমি আজ নিজে লেখতে বসে আবেগে আপ্লুত নিজের বাধভাংগা কান্নাটা যদি দেখাতে পারতাম যাই হোক গত দুইদিন ধরে সকল ভক্তদের অপরিসীম ভালোবাসা দেখে আমিও বুঝলাম যে আমি আমার আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করার একজন মানুষ হিসেবে সঠিক মানুষটিকেই বেছে নিয়েছিলাম।অনেকেই আমাকে নানাভাবে এই কথাটি জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার আদর্শ কে আমি কাকে অনুসরণ করি আপনাদের উত্তর আশা করি আপনারা পেয়ে গেছেন।আমার জীবনে সফলতার কৌশলগুলো তার থেকেই রপ্ত করেছি আমি। আমিও তার মতো কয়েকবার যুদ্ধ করেছি কিছু ককিছু উদ্দেশ্য পূরনের জন্য।আমার ও কিন্তু দুইবার অপারেশন করা হয়েছে ডান পায়ে এবং মাশরাফি ভাইয়েরও সাতবার।এইবার আপনারাই বুঝে নিন আমি কেন তাকে অনুসরণ করি। যাই হোক আগামী ম্যাচের জন্য দোয়া ও শুভকামনা থাকলো। ' আল্লাহর রহমত থাকলে শ্রীলংকার বিপক্ষে আমরা আমাদের সেরা খেলা খেলে আগামীকালের ম্যাচে আমরাই জিতবো ইনশাল্লাহ।সবাই দোয়া করবেন কালকের ম্যাচ জয়ের জন্য।আল্লাহ হাফেয।
©somewhere in net ltd.