নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাঙালি জাতির মতোই আমার অবস্থা নাজুক। মৌলিক এবং সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ জাতির অবলা এক নাগরিক মাত্র।

অবলা জাতি

দেশের সুদিন দেখার অপেক্ষায়....

অবলা জাতি › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভ্যাটিকান সমগ্র

২৩ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৫

জেনে নেওয়া যাক পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটি সম্পর্কেঃ

রাজধানীঃ ভ্যাটিকান সি
বৃহত্তম শহরঃ রাজধানী
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহঃ লাতিন , ইতালীয়
স্বাধীনতাঃ ইতালি রাজত্ব
(লাটেরান চুক্তি ফেব্রুয়ারি ১১)
আয়তনঃ মোট ০.৪৪ বর্গকিমি
জনসংখ্যাঃ
-২০০৯ আনুমানিক ১০০০
-ঘনত্ব ১,৮৭৭ / বর্গ কিমি
অথবা-৪,৮৫৯ / বর্গমাইল
মুদ্রাঃ ইউরো (€)
কলিং কোডঃ ৩৭৯

ভ্যাটিকান সিটি একটি শহর-রাষ্ট্র ।
২ দাপ্তরিক কার্যাকার্যে ব্যবহৃত হয়। দে ফ্যাকটো ভাষাগুলো হলো ইতালীয়,
জার্মান , স্পেনীয় , ফরাসি , এবং পর্তুগিজ , এর পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা সর্বাধিক ব্যবহৃত। পোপের সুইস গার্ডদের ভাষা হলো জার্মান। ডিপ্লোম্যাটিক ভাষা হলো ফরাসি।

যদিও ভ্যাটিকান সিটি ইতালীয় টেলিফোন নাম্বারিং পরিকল্পনার অধীন এবং ইতালীর কান্ট্রি কোড 39-ই ব্যবহার করে, তবে ITU-T ভ্যাটিকান সিটিকে 379 কোডটি বরাদ্দ করেছে।
ভ্যাটিকান সিটি ইতালির রোম শহরের ভিতরে অবস্থিত স্বাধীন রাষ্ট্র। পোপ এখানকার রাষ্ট্রনেতা। এটি রোমান ক্যাথলিক গির্জার বিশ্ব সদর দফতর হিসেবে কাজ করে। সম্পূর্ণভাবে রোমের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভ্যাটিকান সিটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র, যার আয়তন ১১০ একর।
উত্তর-পশ্চিম রোমের ভ্যাটিকান পাহাড়ের উপর একটি ত্রিভুজাকৃতি এলাকায়, তিবের নদীর ঠিক পশ্চিমে, ভ্যাটিকান শহর অবস্থিত। দক্ষিণ-পশ্চিমের পিয়াৎসা সান পিয়েত্রো বা সেন্ট পিটার চত্বর বাদে বাকি সবদিকে ভ্যাটিকান শহর মধ্যযুগ ও রেনেসাঁর সময়ে নির্মিত প্রাচীর দিয়ে রোম শহর থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রাচীরের ভেতরে আছে উদ্যান, বাহারী দালান ও চত্বরের সমাবেশ। সবচেয়ে বড় দালানটি হলো সেন্ট পিটারের ব্যাসিলিকা, যা রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান গির্জা। ভ্যাটিকান সিটিতে রয়েছে একটি মহাকাশ অবজারভেটরি, লাইব্রেরী ভ্যাটিকানা।
ভ্যাটিকান সিটির নিজস্ব সংবিধান, ডাকব্যবস্থা, সীলমোহর, পতাকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতীক বিদ্যমান। ভ্যাটিকানের নিজস্ব সেনাবাহিনীও আছে, যার নাম সুইস গার্ড; এর সদস্যসংখ্যা প্রায় ১০০। ভ্যাটিকান রেডিও নামের সরকারি বেতার স্টেশন সারা বিশ্বে পোপের কণ্ঠ ছড়িয়ে দেয়। ২০০১ সালে ভ্যাটিকান শহরে জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১০০০। এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে ও পোপের দেয়া বিশেষ দায়িত্ব পালন করে এখানকার নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব।
ভ্যাটিকান সিটি শেষ পোপীয় রাষ্ট্র। ক্যাথলিক গির্জা বহু শতাব্দী ধরে মধ্য ইতালির বেশ কিছু এলাকাতে এই রাষ্ট্রগুলি স্থাপন করেছিল, যার শাসনকর্তা ছিলেন পোপ। ইতালীয় সরকার ও পোপ সম্প্রদায়ের মধ্যে বহু বছর ধরে বিতর্কের পর ১৯২৯ সালে লাতেরান চুক্তির অধীনে ভ্যাটিকান সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই চুক্তির অধীনে ক্যাথলিক গির্জা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে অন্য সব পোপীয় রাষ্ট্র থেকে দাবী প্রত্যাহার করে নেয় এবং স্বাধীন ভ্যাটিকান সিটি হিসেবে সার্বভৌমত্ব অর্জন করে। এর বর্তমান প্রধান পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট (বেনেডিক্ট ১৬) ১৯ এপ্রিল ২০০৫ সালে পূর্ববর্তী পোপ জন পলের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন।

ইতিহাসঃ
মূল নিবন্ধ: পাপাল রাজ্য
লাটেরান চুক্তি অনুসারে ভ্যাটিকান সিটির অঞ্চলসমূহ
খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তনের আগে থেকেই এই রাজ্যের স্থানটুকুকে পবিত্র বলে গণ্য করা হতো এবং রোমের এই অংশটুতুতে এর আগে কখনই বসতি গড়ে উঠেনি বা কেউ এখানে বসতি স্থাপন করতে চায়নি। রোমান সাম্রাজ্যের সময় এই স্থানে ফ্রিজিয়ান দেবী সিবেল এবং তার স্বামী আটিসের উপাসনা করা হতো। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর কোনো এক সময়ে আগ্রিপিনা দ্য এল্ডার (খ্রিস্টপূর্ব ১৪ - ৩৩ খ্রিস্টাব্দ) এই অঞ্চলের একটি পাহাড় কেটে বিশাল উদ্যান তৈরি করেন। পরবর্তীতে সম্রাট
ক্যালিগুলা এখানে একটি সারকাস তৈরির উদ্যোগ নেন যদিও তিনি তা সম্পূর্ণ তৈরি করে যেতে পারেননি। তার পরবর্তী সম্রাট নিরো এই সার্কাস সম্পন্ন করেন। এই সার্কাসটিকে তাই "নিরোর সার্কাস" ( সার্কাস অফ নিরো) নামে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমানে সেই ভ্যাটিকানের একমাত্র দৃশ্যমান ভগ্নাবশেষ হচ্ছে ভ্যাটিকান ওবেলিস্ক। এই ওবেলিস্কটি সম্রাট ক্যালিগুলা হেলিওপলিস থেকে ভ্যাটিকানে নিয়ে এসেছিলেন তার সার্কাসের স্পিনা সাজানোর জন্য। ৬৪ খ্রিস্টাব্দে রোমে বৃহৎ অগ্নিকাণ্ডে শহীদ খ্রিস্টানদের সমাধিস্থল হিসেবে এই স্থানটিকে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাচীন প্রথাগত বিশ্বাস অনুসারে বলা হয় এই সার্কাসের প্রান্তরেই সেন্ট পিটারকে মাথা নিচে ও পা উপরে দিয়ে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। সার্কাসের বিপরীত দিকে ছিল একটি সমাধিসৌধ, যা ভিয়া করনেলিয়া দ্বারা সার্কাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিল। এই ভ্যাটিকানেই বহুত্ববাদী
ধর্মগুলোর (যেমন প্যাগান ধর্ম) উপাসনালয়, শেষকৃত্যের সৌধ এবং অন্যান্য সৌধ ও মিনার নির্মিত হয়েছিল। এই সবকিছু নির্মিত হয়েছিল ৪র্থ খ্রিস্টাব্দের আগে। ৪র্থ খ্রিস্টাব্দের প্রথমভাগে সম্রাট
কন্স্টান্টাটাইন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তিনিই ভ্যাটিকানের কেন্দ্রভূমিতে
সেন্ট পিটারের ব্যাসিলিকা নির্মাণ করেন। তখন ভ্যাটিকানের প্যাগান স্থাপনাসমূহ ধ্বংস করে ফেলা হয়। এই ব্যাসিলিকাটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে পোপদের সক্রিয় তত্ত্বাবধানে ব্যাসিলিকার মূল স্থাপনা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষত
রেনেসাঁর সময় এর খননকাজ দ্রুত এগোতে থাকে। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে পোপ দ্বাদশ পিউস-এর নির্দেশে সম্পূর্ণ স্থাপনাটি ভূমি থেকে উত্তোলিত করা হয়।

রাজনীতিঃ
ভ্যাটিকান শহরের রাজনীতি একটি পরম ধর্মীয় রাজতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। পোপ হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। রাষ্ট্রের নির্বাহী কর্মকাণ্ড, আইন প্রণয়ন ও বিচার ব্যবস্থা সমস্ত কিছু পোপের অধীনে পরিচালিত হয়।

ভূগোলঃ
ভ্যাটিকান সিটির আয়তন মাত্র ০.৪৪ বর্গকিলোমিটার। এটি ইতালির রোম শহরের মধ্যস্থলে প্রাচীর বেষ্টিত একটি এলাকা। ভ্যাটিকান সিটির অভ্যন্তরে কোন প্রাকৃতিক জলাশয় নেই। শহরটি মূলত একটি ছোট পাহাড়ের উপর অবস্থিত, যার নাম ভ্যাটিকান পাহাড়।

অর্থনীতিঃ
ভ্যাটিকান শহরের অর্থনীতি একটি বিশেষ ধরনের অবাণিজ্যিক অর্থনীতি। বিশ্বব্যাপী রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের অনুদানের মাধ্যমে অর্থনীতিটি জিইয়ে রাখা হয়। এছাড়া স্ট্যাম্প ও পর্যটকদের জন্য স্মারক সামগ্র মেমেন্টো বিক্রির টাকা, জাদুঘরে প্রবেশের ফি এবং বিভিন্ন রচনাবলি বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থও কাজে লাগানো হয়।

ভাষাঃ
ভ্যাটিকান সিটির কোন সরকারী ভাষা নেই, তবে ইতালীয় ভাষা সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা। রোমান ক্যাথলিক গির্জার দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে
লাতিন ভাষার বিশেষ মর্যাদা আছে।

( সমাপ্ত)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.