| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডার্ক মার্ক
অনেক কিছু মাথায় ঘুরছে. এবার ওদেরকে বাক্যবন্দী করবোই করবো (www.facebook.com/darkmarkseen)
-বাপজান, ওঠো. ফজরের নামাজ পড়বানা?
-উম্....হু... উঠতাছিরে বাপ.
জব্বার মিয়া আর তার ছেলে সাদেক. পুরো পরিবারে সদস্যসংখ্যা এই দুইজনেই সীমাবদ্ধ. জব্বার মিয়ার স্ত্রী মারা গেছেন সাদেকের জন্মের বছরখানেক পরেই. ছেলেটার কথা ভেবে তিনি আর বিয়ে থা করেননি. বাপ-ব্যাটায় ভীষণ খাতির. একসাথে খায়,ঘুমায়, বাজারে যায়. নদীতে বাপ-ব্যাটা দুজনে মিলে সাঁতারের প্রতিযোগীতা করে. ছেলেকে মায়ের অভাব বুঝতে দিতে চাননা জব্বার মিয়া. তিনি একটা ফলের বাগানের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন. ফল সংগ্রহ করে দেয়াই তার কাজ. বিনিময়ে যা পান তা দিয়েই কোনরকমে বাপ ব্যাটায় সুখের সংসার চলে যায়. বাপ-ব্যাটার এমন ভালোবাসায় গ্রামবাসীও মুগ্ধ. আড়ালে সবাই বাপ-বেটার খুব প্রশংসা করে. এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিলো. দেখতে দেখতে বৈশাখ মাস চলে এলো. ফলের মৌসুম বলে জব্বার মিয়াকে প্রায় সারাদিনই ফল সংগ্রহ করার কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো. সাদেকের স্কুল বন্ধ থাকলে মাঝেমধ্যে সেও বাপকে কাজে সাহায্য করে.
এক শুক্রবারের ঘটনা.
সেদিন আকাশটা সকাল থেকেই বেশ থমথমে. বড় কোনো দূর্যোগের পূর্বাভাসই বলা চলে. সাদেকের স্কুল বন্ধ থাকায় সে তার বাবার সাথে কাজে চললো. তখন প্রায় সকাল ১১টা. বাপ-ব্যাটাতে মিলে আমগাছতলা থেকে আম কুড়িয়ে ঝুড়িতে রাখছিলো. ইতোমধ্যে দমকা বাতাস-বজ্রপাত শুরু হয়ে গেছে. জব্বার মিয়া ভাবলো এই গাছের আমগুলো কুড়োনো শেষ হলেই ফিরে যাবে. কিছুক্ষণ পর আচমকা এ প্রচন্ড দমকা হাওয়ায় শেকড় সমেত উপড়ে গেলো আমগাছটা. সাদেক গাছটার একেবারে নীচে দাড়িয়ে ছিলো. জব্বার মিয়া এক চিত্কার দিয়ে সাদেককে সরিয়ে নিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো. তারপর.....
জব্বার মিয়ার বাড়ির আঙিনায় পাশাপাশি নতুন দুটি কবর. বাপ-ব্যাটায় নিদ্রাযাপন করছে পরম নিশ্চিন্তে. গ্রামবাসী কবরের দিকে তাকিয়ে শুধুই চোখের জল ফেলে...
©somewhere in net ltd.