| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
উৎসর্গ
তোমাকে, তোমাদেরকে
আমার শবদেহ কি দীর্ঘ মনে হচ্ছে তোমাদের কফিনের মাপে!
----------------------------------------------------------------------------------
প্রস্তুতি
মৃত্যুন্মুখ
আমি তো শ্রাবণ
শিশুপুত্র তোমার
চুম্বন করো, আমি তো উদগ্র ঈশ্বর তোমার!
প্রেমিক, প্রজাতন্ত্রী
শীতার্ত দিনে
হেসে ওঠো কুকুর ও হাস্নাহেনা
বিষুব অঞ্চলে
মোম বৃক্ষের ছায়া পড়ে আছে।
পীথ-বর্ণ পথে
গৃহে ফিরব না আর
প্রেমিক, প্রজাতন্ত্রী চিরকাল
দাঁড়িয়েছি সমুদ্রতীরে
লোমশূন্য গাছের স্মৃতি।
ফিতা
মাদারিপুরের স্তনের দিকে ধাবমান সিদ্ধিরগঞ্জ...
বাতাসে ব্লেড উড়ছে
বাতাসে ব্লেড উড়ছে...
কেওড়ার ডালে
মৃত ময়ূরীর চুল দেখা যায়...
... এ ছায়া কর্দমাক্ত
ঠিক মানুষ নয়, মানুষের মত অবয়ব।
শূন্য পাকস্থলী ফুঁড়ে জন্ম নিচ্ছে অজগর
দিদিরা যমুনামুখী অভ্যন্তর ফেলে দিতে
জরায়ন পরিত্যাগ করি...
আমি আর কেউটে সাপ অভিযাত্রী পরস্পর।
সু-প্রভাত নামে গ্রামের জঠরে...
রেলের বগিতে চড়ে চড়ুই পাখিটি যাচ্ছে
দাউ দাউ মহানগরের দিকে
আমাদের বেড়িবাঁধের পরে
রাত্রিময় পড়ে রয়েছিল দুধসাদা বিবমিষা না কি পূর্ণিমা!
চক্ষুদ্বয়ে আসমান গলে যেতে থাকে
চক্ষুদ্বয়ে আসমান গলে যেতে থাকে...
আমি আর রেলগাড়ি
নদী পাড়ি দেই অস্তিত্বের ডিঙিতে চড়ে
জলে কর্ণ-গেঁথে শুনা যায়
আধখানা বাঘ, মহিষের হৃৎপিন্ডের আওয়াজ...
আর বেশি দূরে নয়
ঘূর্ণাবর্তে পিষে যাচ্ছি আলো
ল্যাম্পপোস্টে দন্ডিত হবে আলো, শিশুর ক্রন্দন...
স্বর্গের সরুপথ দিয়ে
আমরাও পৌঁছে যাব আপন জংশনে,
দূর বন্দরে রূপসীদের দেখা যায় মাংস-বোঝাই জাহাজের মাথায়
আমি দেখব না
ঢালাইয়ের নীচে চাপা-পড়ে-থাকা সন্তান পাথর
অহ শিশু, পাথর শাবক!
এ যজ্ঞে শুয়ে থাকি মর্গের ভেতর...
গন্ধ ফেটে পড়ে যোনী ও নেপথেলিনের
ইঁদুরের দেহে দূর্ভিক্ষের মত কাম আসে
ইঁদুরের তিনটি পা উরু বেয়ে উঠে আসছে
নাসারন্ধ্রের জমাট রক্তে, অবশিষ্ট ছায়ায়...
ক্রমে কালো হচ্ছে সাদা সাদা শবের বরফ।
আমার প্রেয়সী হায়!
মরু জ্যোৎস্নায় সে তো এক মেঘের জিরাফ
কেউ আমায় নিতে আসে না
কেউ আমায় নিতে আসে না...
মর্গে একা শুয়ে থাকি
জল ও অগ্নি বহুটা আংরা হলে ঘুম আসে, ঘুম আসে...
দূর গাঁয়ে তোমার লন্ঠনের আলো নিভে যাচ্ছে মা
দূর গাঁয়ে তোমার লন্ঠনের আলো নিভে যাচ্ছে মা...
খন্ডিত আপেল
উৎসর্গ: সখিনা আফ্রোদিতি
ঘুমের কাফন ফুঁড়ে তুমি আস
লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে আমাকে নিয়ে বেড়াতে যাও
নিরানব্বই স্তনের আড়ালে
ঐ যে কুয়াশার গ্রাম বহুদিনের পরিচিত মনে হয়।
কতবার তোমায় বলেছি- আমরাও বীরভূমে যাব
অসহ্য উঁচু হতে লাফ দিয়ে
দু’চোখ বন্ধ করে দেব
... আর আমার কাম ঢুকরে উঠবে কান্নার মত।
নড়ে উঠি ঘুমের ভেতরে
অতর্কিত লাথি পড়ে যায়
অস্তিত্বের মাথায়; ভেসে ওঠে যমুনা নদী...
নিম্নভূমে তাকিয়ে দেখি
ঝরে-পড়া শিশ্নের মাথায় হিমাঙ্ক রমণীর দাঁতের কারুকাজ
চিকচিক চিকচিক করে।
এখনও কি বুঝতে হবে
নারী ও নুড়ি পাথরের ব্যবধান
বাবা কি বলবে আমায়-
জেগে ওঠো বল্লম রায়
তুমি তোমার সৎ মায়ের স্তন্যপান করবে
তুমি রাজমেস্তরী হবে!
নিদ্রা ভেঙ্গে যায়
জাগ্রত, বয়স্ক বালিকার খোঁজে
ঐ যোনীমূলে লেগে আছে ঠোঁটের মানচিত্র আমার।
পবিত্র শয়তান
আপনি কি মাঙ্গলিক আছেন? প্রেয়সী আমার
কুশল জিজ্ঞাসা করি ফেরেশতার মহাত্ম্য নিয়ে
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে
ধরায় এসেছি পূর্ণিমা রাতে, পাপিষ্ট পর্বত হতে
আমি তো অজ্ঞান, অজ্ঞাত ছিলাম...
জ্ঞাত হই- প্রেম আর কামের কৌশলে
আপনিও ঘর্মাক্ত শ্রাবণের জলে?
ঐ স্বর্ণলতা, সোনায় মোড়ানো বক্ষভূমে
দাফনা হয়েছিল যাদের
নিশ্চয়ই তারা ছিল মানুষ, কবির বংশধর।
আরো উর্ধ্তন
স্বর্গ নরক একাকার করে
অগ্নোৎপাতে আপনি অনন্যা
তাই দেখি, স্তনবিদ্যুতে কাঁপে
পৃথিবীর সব ঈষান কন্যা।
থৈ থৈ অন্ধকার দিকচক্রব্যাপি
আজ নরকমন্ডল হতে অগ্নি এনেছি
কোনো এক সাঁওতাল গ্রামে, পশু হত্যা আর তৃণের উৎসবে।
ভষ্মবৎ
জল ও স্থলের নির্যাস- আপনি তো পূণ্যবান
আমি শুধু তাবেদারি করি
পূতঃ পবিত্র শয়তান।
২.
মদ্যপান করি দু’জনে
সূর্যাতীত হিরকের বনে...
অর্বাচীন পোকা ও মাকড় ভুলে
আপনাকে নিয়ে
পরিভ্রমণে ভাসে জল ও নাভীর ফেনা।
চর্বন, চোষ্য-পেয়
এই সেই ঘন-গন্দম, রক্তাক্ত আপেল নিয়ে আসি
বেহেস্তী জল্লাদ হত্যা করে...
ছিলাম তো শয়তানের পিতা
সঙ্গম সখির বাতাসে আমিও মানুষ হয়ে যাই।
৩.
মহারন্ধ্রে ছাই হল
জগতের সব উজ্জ্বল শিখা
শূন্যস্থানে ভাসমান
আপনি ও চন্দ্রমল্লিকা।
চিরকম্পমান
আমার ডানায় ছিল নারকীয় শীত
ধরণীতে কে আপনি ওমেশ্বরী, জীবপন্ডিত!
আপনি কি সদাসত্য, আলোকিত ভুল
ঘুর্ণিঝড়ে আমি কেন দেখি উলঙ্গ মাস্তুল!
ওহে ধনবান
চন্ডাল আমি, নীচ
তবু, স্বর্গ হতে আনতে ভুলিনি
রক্তের কিরিচ।
প্রত্যাখ্যাত
বরণ করি ঈশ্বরের সাজা
মহারাষ্ট্রে তাই আমি শয়তানের রাজা।
দোযখ সুন্দরী
স্মরণ:
এ-তো মানুষের মন
কার্বনকুপির নীচে ঐ দেখা যায়
মজ্জার ভ্রমণ...
১.
ক্ষুরধার ক্ষুধা
ক্রোধান্ধ জানি
বারংবার আসে লিঙ্গ পরিচয়ে।
কামার্ত সাপের গন্ধে
পুষ্পমল্লিকা ফোটে হাড় হতে হাড়ে
দৃশ্যমান খোরাসান গ্রামে
শুভ্র রাজহংস ভাসে ফেটে-পড়া রক্তের নদে।
গায়ত্রী-কাম বীজ প্রেমে গঠিত...
অস্তিত্বের অধিক
এই দেহ সত্য জানি
কামের দেবতা তাই ঈশ্বর অথবা মদন কুমার।
২.
ঘাসের মস্তকে থুত্থুরে এই গৃহস্থ সংসার...
ক্লান্ত শূকরী অপরাহ্নে শুয়েছিল মার্বেল বনে
শূন্যক্লান্তিরেখা থৈ থৈ জানি
তীক্ষ ছায়ায় ভেসে ওঠে শার্দুল
রৌদ্রোজ্জ্বল আমার শাবক।
আমি তো শূকর পুরাতন
আমার প্রেমিকারা, প্রাণরসায়নী তারা
শূলদন্ড বরণ করে পাপ ও পূর্ণিমা রাতে।
রক্তগর্ভ
প্রাণবান সন্তানের ভবে
আমার জীবযাত্রা হয় কৃষ্ণচূড়া উৎসবে।
৩.
যৌনভোরে হল হল করে ক্ষুধা ও পত্রবাগিচা
লউ-ফাটা ফেউসের জ্বালা
ক্ষেতের গুঁড়িতে জ্বলে ধিকি ধিকি, ধিকি ধিকি
মনে হয়
মৎস্য প্রেমিকার সাথে পাতাল ভ্রমণে রেখে আসি
উদভ্রান্ত আলোর ঝিলিক
ঘুরে আসি ঘূর্ণিজল নিযুত রজনীতে।
ক্রোশবিদ্ধ
চিরদিন মানব কুমার আমি
চৌচির মাঠে নিরন্তর কুড়িয়েছি কাঁকড়ার ছায়া
বংশবতী
কেয়ামত কালে বাজিয়েছো যজ্ঞের বীণ
চিতার আগুনে পুড়ে নিতম্ব-জমিন।
৪.
তোমাদের গ্রামে রেলপথে পড়েছিল কুয়াশার দানা...
শ্মশান নিভে গেলে থেমে থাকা ধূয়া জানি পোকার খাবার
বাঁশবনে হল হল বাতাস শোনা যায়... নাভী আর নাওয়ের ঘুঙুর
এ দিবস শান্তিবারোমাসি
অচিন নক্ষত্র ওঠে শ্রীধর বানিয়ার দেশে।
দূরবর্তী ঐ আলোর দামামা...
ছিলাম তো পাথর নিঃপ্রাণ
কে তুমি ছড়ালে দেহভরা শ্যাওলার ঘ্রাণ!
জল ও ছুরিকা
১.
কোমল কঙ্কাল, শূন্যতা হায়!
অসীম অন্তরে ছুরিকা ও জলবায়ু বিঁধে আছে।
প্রাণনাথ পতঙ্গরাজি
তারা পুষ্পপলাতক, ফিরে যায় কাদায়
কারা তরে ছায়াবাসী
নীলবর্ণ দাঁত, নখর সংসারে!
ভাঁজ হতে ভাঁজে
দেহ তার উলঙ্গ মাছের কাঁটা
অমৃতবাসী
তারা তো মানুষ নয়- সমুদ্রসন্ন্যাসী।
২.
জন্মভিখারি
সেই সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়েছি চক্ষুহীন
দুই হাতে পাপ ও পূণ্য তুলে দিয়ো
ফুটা ফুটা ঘাম, জিওল জীবন।
যেন বা বরণ করি প্রার্থনা
প্রতিঅঙ্গে তীব্র খঞ্জর ও প্রভূর বিস্তারে
তনোমনে এবাদত জেগে আছে
এইবার তবে তৃষ্ণা নিবারণ কর ঘাতক ফণা।
রেত
মাতৃমূলে
নৃ-তত্ত্বের ইলিশ বহে যমুনায়
এ বক্ষে বিঁধে আছে নখ
শব্দ ও বর্ণবিভায় লোভাতুর বক্রধনুক।
পাথরের পেটে বিঁধে-থাকা পিতার চক্ষু
আয় উড়ে চিত্রানদী।
কম্পমান তারা
জ্যোতির্ময় রাগিণীরা কুকিল রজনীতে...
ভয়াল বন্দরে একদিন ভিড়ে যাব
শবযাত্রী নিয়ে সন্তান মাঝি।
... অতৃপ্য আত্মার সাধ
তোমার আকাশে ভাসে যেন এক ঘু ঘু-ডাকা চাঁদ।
জলবদন
রঙের পৃথিবী দেখি
ধূসর হয়েছে নারাঙ্গিবনে
আমার পাতিহাড় ভেঙ্গে রামগিরি পর্বতে আজ
মেঘ ভিড়িয়াছে।
আর কেউ সনে নেই- না বৃক্ষ না বনস্পদ
এমন বিরহ বেলা
এ জন্ম বিঁধে যায় কাঁটায় কাঁটায়।
ছিলাম আমিওতো মানব সুরতে
জরায়ন শীতে নদী কেঁপে ওঠে...
শূন্যগর্ভ, আজ বড় নতশির
দাবানলে বিছিয়েছি জলের শরীর।
রে...
১.
তীরবিদ্ধ বালিহাঁস হায়!
মরু-খন্ডে চেয়েছিলে জলের শুশ্রুষা।
স্থলের সৌরভ
আর কি আসি রে ফিরে
নদীয়াবাসীরে...
২.
মৃত্যুর পরে
আমায় ভাসিয়ো জলে
স্থলের সৌরভ...
পাথর হে পন্ডিত
কৌরব কাঁটার দহন
ভালবাসি ঘৃণাবীজ, রক্তের দানা।
উদ্ভট আলোয় কেন তবে ফুটে আছ মূর্খ গোলাপ!
আমি তো তন্দ্রাঘোর
মৃত প্রেয়সীর বাহুবন্ধে দীর্ঘ শুয়ে আছি।
সৌরালোকে
আমার পালক দিগি¦দিগ পোড়ে
চৈতন্য আলোয় রাজহাঁস, চিতাবাঘ ওড়ে।
ধ্যানে, জ্ঞানে
আমার বেদনারাশি পন্ডিত পাথর জানে
আঙ্খিমূলে
আলোর বিচ্ছুরণ হায়!
উড়ে যায় কৃষ্ণকাক, কালের শরীর।
নদীতীরে
১.
নদীতীরে
দু’চোখ অন্ধ হল তবু
বৃদ্ধ হল না তোমাকে ঘিরে।
কুসুম শিকারী নই
সেই বনমালি আমি
সতত পাথর কুড়িয়েছি।
২.
ঐ নিম্নভূমে নেমে এসেছিল চাঁদ ও পিঁপড়ে
মেঘের উর্ধতন ভেসে ওঠে রক্তের লালা।
ছিলাম তো নিদ্রাতুর
এ জন্ম গ্রহণ করি বিমলা নদীর ডাকে।
৩.
কোথায় খুইয়ে এসেছ দন্তের বিষ
হায় সাপ! কুচবর্ণ সাপ
মাথার ওপরে তোমার ফুটে আছে শুভ্র গোলাপ।
৪.
জঠরে আগুন মাগো
কক্ষপথে উড়ে যায় কালো কালো দিন
জন্ম দিলে না তবু
জরায়নে বেঁধে রাখো যমজ হরিণ।
পরিয়াল পাখিদের জানা
মাগো, এ আমার চিতা নয়
সংক্রামক আলোর ঠিকানা।
৫.
পাঁপড়ি খুলে কোথাও তো খুঁজিয়াছি পরম উত্তাপ...
অমৃত দীঘির জলে কেঁপে ওঠো শহর ও পদ্মফুল
সে তো জ্যোৎস্নাবতী
মাথার ওপরে অচিন নক্ষত্র এক স্থির হয়ে আছে...
৬.
জলের ঐপারে ছিল আমাদের ঘর
কোন সে ধুলায় হারিয়েছে আজ
জুলেখা নগর।
মনে পড়ে যায়- সেই সুর, ধানসি ধানসি গীতি
মনে পড়ে কি পড়ে না মনে নেই
উড়ে যাওয়া পাখির স্মৃতি!
বিম্বের দিকে
উগলে পড়ে সন্ধ্যার বীজ
শ্রাবণ ধরণীতে
উঠোনের জল সমুদ্রে ফিরে যায়।
দর্শনশাস্ত্ররূপিনী এক
অঙ্গভরে ফুটি দেয়
অনঙ্গ আগুন
এ চরণ স্থলে-ভেজা
সেই ভূমে ক্লান্তি নিবারণ করে বৃক্ষের ছায়া
চাঁদ ওঠে
পরগনা সুলতানপুরে।
তারা মাতৃ ও পিতৃভাষী
উঁচা-বৃন্তে পঙ্খী-ধনরাজ মূর্চ্ছনা ছড়ায়
সীমান্তে
অসীম আসমান খামচে ধরে সাদা বক
রজনী সর্পিল হয়।
বিম্বমুখী
এ বড়ো আয়না-রজনী
পিতার উদ্দেশে যাত্রারম্ভ করে
সন্তানের চিতা...
পিতৃলোকে
তপস্যায়
তপোবনে
আমায় অন্ধ কর হে প্রভু
ইন্দ্রপলাতক হে ঈশ্বর, ভ্রাতা ও পিতা।
কেন তবে ফিনকি দিয়েছ
চাকুর সৌরভ
দেহ-মঞ্জরী আমার!
মুক্ত করো শরীর
পাড়-ভাঙ্গা জোয়ার ও ভাটা
অসহ্য আলোর কাঁটা।
জিহ্বাবলী, হে জলবায়ু
নরকের উজান বৃষ্টি শুনা যায়
বেগবান কীটের কম্পন...
মর্ত্যলোকে
কলিজার ডালে বিঁধেছিল প্রেম, পাখির নখর।
সেই সব বেদুঈন দিনে
জবাই করেছি এক লাল টুকটুকে আরবের চাঁদ
এমন চাকুর মতো চিকচিক দিনে
ধূমপান করি জলবায়ু, রঙের প্রকার।
পবনপক্ষী
১.
শূন্যাবর্তে
একা দাঁড়িয়েছি ভষ্মবৎ চাঁদের ছায়া
যুদ্ধ, বিগ্রহহীন নফসের কুটুম অনন্ত
দ্বি-খন্ডিত করিয়াছি যমুনার জল।
স্নায়ূর কূটাভাস আমার
ঝরে-পড়া পত্রে জানি মনুষ্য নিবাস।
২.
ত্রৈলোক্যে
পবনপক্ষী হে
চৌচির পঞ্চনদী আজ দিওয়ানা, দিওয়ানা
নবুওতী নিয়ে ভালবাসি আমি আগুনের ডানা।
পায়ে পায়ে উর্ধ্বালোক নাচে
আমি তো নতশির! ভালবেসে
জমিনে জমিনে পড়ি মেঘের ছায়া।
অংকরেখা
কোমল হস্তে
জবাই কর জলহস্তি, সমুদ্র ক্ষুধা নৃত্যরত
শুভ্র আসমানে হলুদ হলুদ পরী দেখা যায়
দাউ দাউ
অন্বেষী জীবের জঠর
অন্য পৃথিবীতে জড়বৃষ্টি শোনা যায়।
অমৃতজন
মর্ত্যলোকে পান করে উজ্জ্বল আলোক অথবা
নীলবর্ণ জলের নকশা।
তারা পিতমহ
কুড়িয়েছ আতাফল, অংকরেখা।
চূড়ান্ত সরোবরে
মৈথুনমগ্ন টিকটিকি
গির্জার চূড়া হতে লাফিয়েছে
এ বক্ষে বিঁধে আছে মাছি ও নীলবর্ণ মাছের ফলা।
ভৈরব বাসিন্দারা
নদী পাড়ি দিয়েছিলে শীত ও গ্রীষ্মে
একদাকার ক্রৌঞ্চ বিষাদে
কেউ কেউ ফলিয়েছ হরিণের পাতা।
অমাবশ্যা তখন
ঠোঁটের ঠোকর থেমে গেলে
বিগত ব্রহ্মান্ডে রক্তাক্ত বাজপাখি ওড়ে
তারা তো মনুষ্য-প্রাণ
বৌদ্ধের গ্রামে প্রতিদ্বন্ধী ছিল টিকটিকির
ঈশ্বর অথবা আত্মাহুতির।
জন্মান্ধ গোলাপগুচ্ছ
উদ্ভিদ-কেশর ছিঁড়িয়াছি
ঐ ওড়ে রক্তের হলুদ আর
যন্ত্রণার বীজ।
ভাসে
পাপ ও পূণ্য সরোবরে
ডুবে যাওয়া সূর্যের স্মৃতি
জন্মদুখী বন্ধুরা আমার পঙ্গু ও বীর।
দূরে
আরো দূর লিখে যাই শস্যরেখা, আমার মরণ।
মেঘমতি
বাহিরে বাতাস টলমল
মেঘমন্দ্র ডানায় কার নামে ভেসে ওঠো
ডাহুকের গ্রাম।
দাউ দাউ কাঁঠালের বিচি পোড়ে যায়।
হলদে পাতায়
পিতা ও পুত্রের মৃত চুম্বন ওড়ে।
বাহিরে মানুষ
ষড়ঋতু।
বিগত ভ্রমর : জুঁইফুল
ঘন এবং অতিশুভ্র বনভূমে আমিও কি রোপন করি
অক্ষরের কবর? আমিও কি তবে
কবিতা লিখি!
আমি তো তৃণভোজী
দরিয়ার ডাকে জল হতে জুঁইফুল কুড়িয়েছি
স্মৃতি তাই কোনো এক নদীতীরে বড়শিজোড়া গ্রাম।
হলুদ জন্মভূমে আমিওতো যাই
নীলভূমে ভেসে যায় জলের ঘোড়া।
কবিতা ও অন্ধপাখি
শব্দের অধিক দ্রুততম
পৌঁছে যাচ্ছি স্তব্দ তারায়
পৌঁছে যাচ্ছি স্তব্দ তারায়
কোন সে কবি
ভাঙ্গা খঞ্জর হতে মূর্চ্ছনা কুড়িয়েছ!
ধ্যানের ধরণীতে
কোন সে দরিয়া ভয়ার্ত...
শুধু পাড়ি দিতে জানে কবিতা ও অন্ধপাখি
কবিতা ও অন্ধপাখি।
সারারাত্রিময়
পানপাত্র গলিয়ে দেখি কাচের নরম
ওহে পরী, পাথরের পরী
আমি তো তুচ্ছ এক তৃষ্ণার্ত মেঘদূত
ভালবেসে বদলেছি শুধু যমুনার স্রোত।
এখন চিত্রল শাবক মিলিয়ে যাচ্ছে পুরাতন বনভূমে
গাছের গুঁড়িতে ঝরে পড়ছে মৃত বাঘ, শুকনো পাতা।
এ দেহ তুচ্ছ তাই
চামড়া হতে তুলে আনি চক্ষুদ্বয়
এখন দৃশ্যমান- বিবিধ উচ্চতায় পাখির উড়াল
রঙের ঘনত্বে-ভাসা আকাশের উজ্জ্বল বলিরেখা
আকাশের উজ্জ্বল বলিরেখা...
হাত তো বাড়াতে জানি না বাহুর বন্ধন রেখে
হাত বাড়ালে মানুষ নক্ষত্র ছুঁয়ে যায়।
জলে ভাসছে মূর্তিমান ছায়া...
মৃত্যু ব্যতিরেকে আমার আর কোনো নাম নেই
রক্ত মাংসের অক্ষরে একদিন আমি যেন কবিতা লিখি
আমি যেন কবিতা লিখি মৃত্যুর পরে।
সেই প্রাচীন মহিষের মাথায়
দুলে উঠছে পরিচিত পৃথিবী আমাদের
বদলে গেছে বাতাস
হাতের তালুতে চিরে-রাখা বিষুব রেখা।
ঐ যে পাহাড়, পুঞ্জরাশিতে ভাসে
কলি ও কবর- আনারকলি আনারকলি...
আজ প্রতিঅঙ্গে আমার
প্রাণহীন পড়ে রয় পাপড়ির বাহার
শব্দের অধিক দ্রুতমত
আমি যাই স্তব্দ তারায়
আমি যাই স্তব্দ তারায়...
কবিতা ও জলের হরফ
উদ্যত ছুরির নীচে শির ও সাঁসি হেসে ওঠে...
উদগ্র উন্মাদ হেঁটে যাই
কোনো এক নিজাম-নগরে একা।
বহুদিন বাকরুদ্ধ আছি
জল হতে জিহ্বা কাটিয়াছি নদীমূলে
এমন নৈঃশব্দকালে
ফের কেন কথা বল মিজিনি বৃক্ষ
লিলিয়ান আমার লিলিয়ান।
পিতা দাঁড়িয়েছি বিরাণ ভূমিতে
অমৃত পুত্রী হে
আমায় ক্ষমা কর পুত্র
আমৃত্যু নিরক্ষর আমি
বায়ুবক্ষে কি করে লিখি
কবিতা ও জলের হরফ!
রন্ধ্রপথে
পুরাতন গোরস্থানে
আমার মৃতদেহ বয়ে নিচ্ছে একপাল শীতার্ত ঘোড়া
যানাজায় দাঁড়িয়েছে ভষ্মবৎ প্রজাপতিরা
একদিন যারা শেয়াল অথবা কচ্ছপ ছিল।
কামার্ত কীট কিলবিল করছে রন্ধ্রপথে
স্মৃতিহীন মাংসের রুয়া আজ ভিন্নরূপে রিপুর কাঙাল।
একদা দিকচক্রব্যাপী ছিল পাতার কেশর
ঐ বনভূমে কাঠের কম্পন শুনা যায়
কেঁপে ওঠে সবুজ ক্রিমি মৃত, অমৃত...
মানুষ
কবি মাশুক ইবনে আনিস প্রিয়ভাজনেষু
সূর্য প্রদক্ষিণ করে কচ্ছপের পাঁজর
অথচ দীর্ঘ দিবস আমার কোনো ছায়া নেই
উদভ্রান্ত ছায়া পান করে গেছে একপাল মাছি।
গুলবাগে
রতিক্লান্ত পুস্পের পাপড় ঝরে পড়ে
বীজরূপে আরো একবার তারা বৃক্ষ, বনস্পদ হয়ে ওঠে
ছায়াপুত্র এক
আমি কি মানুষ ছিলাম কোনোদিন
জলের জঙ্গলে কেবলই হারাই বিরল প্রজাতি।
অজস্র উড়াল
আমার স্নায়ূবল্লরী ভেদ করে খসে পড়ছে বনের পালক
এ ভোর স্বপ্নে ভেজা
শক্ত বাতাসে স্থির হয়ে আছে সাদা সাদা পায়রার রেখা
শক্ত বাতাসে স্থির হয়ে আছে মানুষের উড়াল।
জলের ঐপারে শঙ্খের আওয়াজ শুনা যায়
জন্মক্লান্ত আলো-ইরাবান
ঐ শূন্যস্থানে আমার জন্মদন্ড ঝুলে আছে।
মৃত্যুর পরে, মানুষ তো ভবঘুরে...
এ পোকা রত্নপোকা
কোনোদিন তার গৃহবাসী নয়!
স্ফটিক
আধো আলো, অন্ধকারে
আউশের ক্ষেতে ওড়ে সবুজ শাড়ি
ইন্দ্রের অতীত প্রেমিকা তারা
তাহাদের পিয়াইন বৃক্ষের মাথায়
সাঁওতালী চাঁদ ঝুলে থাকে
গজারের বনে হৃদকম্প শুনা যায় ঘু ঘু পাখিটির।
ভেঙ্গে-যাওয়া-কাচে গোপন ধার-বিঁধে আছে
পূর্ণিমা কিংবা রূপসীর স্ফটিক অশ্র“ নামে জন্মান্ধ পৃথিবীতে।
তাম্রবীজ
সবুজাভ অগ্নিগিরি হতে
মানুষের লিকলিকে জীভ ধেয়ে আসে উপত্যকার দিকে।
কদম্ব বৃক্ষ হে
লোহাটে মাংসের স্বরাজ!
২.
ভূ-বিদ্যাবনে
ভুলে যাই বিতাড়ন স্মৃতি...
প্রেম আর কামের বশে
সাদা দুধ জমে আছে
বুকের আরশে।
রাতের জিরাফ
বায়ুভষ্ম রাতের জিরাফ- হে অন্ধকার, অনঙ্গ আমার
জননী অহ
গর্ভধারিণী তুমি
সাপ ও সন্তের।
রক্তের তোড়ে
ধমনী ও পুস্পরাজি হলুদ হল না দমে দমে
এ দিবস আংরা হয়ো চোখের নিয়মে।
কোন সে মহাগ্রন্থে লেখা
কার উষাসে
মহাকাশে নির্মান হচ্ছে রেখা!
পাথর
গহন গর্তে ফুটে আছে পারদের রেণু আর
আয়তক্ষেত্রে গগনের ঘুড়ি...
আমাদের হস্তরেখা বদলে যাচ্ছে দ্রুত।
এখন কি তবে মহাযুদ্ধকাল?
কবি ও নর্তকী স্নানরত পরস্পর, রক্তাক্ত নদে
তারা ভীড় করে দুগ্ধপচা পুঁজ ও মিস্টান্ন ভান্ডারে।
কম্পমান, অপসৃয়মান ছায়া ও আত্মা শ্মশানের ঘাটে...
মুখাগ্নি হল না পিতার
পুত্রসব বাণিজ্যে গেছে।
পৃষ্ঠাবলী বয়ুর বিভ্রমে
সিঁড়ি হতে পিছলে পড়ে অক্ষরমালা
হে বাতাস
তীরবিদ্ধ জলবায়ু!
উৎসের দিকে...
প্রতিদিন আমার দু’চোখে ময়লা হচ্ছে জল
জন্মান্ধ চিরকাল
আমি কি অন্ধ হচ্ছি পুনরায়?
লেপ্টে-যাওয়া গিরি ও গোহায় তীব্র রশ্মি ক্ষয় হচ্ছে ক্রমে
অন্ধ প্রকোপে গোপন প্রেমিকারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
আমার পৃথিবী কি ফিরে যাচ্ছে আজ উৎসের দিকে!
থেতলে-যাওয়া আর্তনাদ শুনা যায়, পঞ্চ শিরায়
বরশিতে বিঁধে-থাকা চোখ
কতই না লাফিয়েছে জ্যোতির জলে
তুমি কি বলবে না এবার-
কে যাও বায়ুপন্থে প্রপঞ্চ পথিক
গোপন ভূমিতে কে তুমি রুয়ে যাও অচিন পাথর!
পাপ
সমুদ্রে-পোড়া-মাছ ভেসে উঠছে শিশিরের নদে।
নিঃস্পন্দ
আমি আর কয়েকটা মাছি বসে আছি মরফিন অন্ধকারে।
আমাদের সাকুল্য স্মৃতি শুধু ক্ষয় হয়
কাটা জামিরের রুয়া হতে উঠে আসে দ্রাবিড় সময়।
এ আসমান বজ্রমন্ডিত তবু
সাপের কোমরে নাচে তৃণভূম
তারা কম্পমান হায়!
হরিণ জননীরা জল হতে উঠে আসে ডাঙায়।
বিষের আক্রোশে সাপগুলো তীব্র দংশন ভেতরে পোষে
সাপগুলো তীব্র দংশন ভেতরে পোষে...
কোন সে সুদূরে দেহাতীত অমৃত পাপ!
তবু
ভষ্মবৎ জমিনে ভাসে পৌঢ় প্রার্থনাগার
পার হব ত্রিবেণীর স্রোত
প্রাপ্ত যদি হই আত্মহত্যার অধিকার।
উজ্জ্বল খুন
আমাদের বৃষ্টি বড় লাল...
মেঘরন্ধ্রে মিলিয়েছে বাজপাখি
উজ্জ্বল খুন।
জড় ও জীবগুচ্ছ ফালি ফালি আলোর ঘর্ষণে
ভ্র“ণের বিদ্রোহে তৈরী হচ্ছে হাড়, কচ্ছপ-শরীর।
স্বপ্নের অতীত
সংগোপনে কঙ্কাল রাখি
এ নদী বিধ্বংসী ফণা গুটিয়েছে ধূ ধূ মরুচরে
মানুষ তো তুচ্ছ রয়ে যায়
তুচ্ছাতিতুচ্ছ এই প্রেম, রঙের বিভ্রম।
তৃষ্ণাজীবী
এ আমার দশলক্ষ বাঘের থাবা...
মৃত্যুর পরে
ঐ বনভূমে বুনে দিয়ো দশটি নখর।
খরতাপে, জৈষ্ঠ মাসে
প্রজাপতি ওড়ে পৌরাণিক রোদের জঠরে
বংশ-বৃক্ষ, হে কাঠুরিয়া
জলের ওপরে ঘর্মাক্ত ছায়া পড়ে আছে
কবি, হে তৃষ্ণাজীবী
কোন শূন্যে ভিড়িবে বলো স্নায়ূর সাম্পান!
চিতা
আমার মৃত্যুর পরে বাতাসে রৌদ্র পোহায় অর্থবহ ফড়িং
রক্তাভ তাহাদের মাংস-ডানা লওহে মাহফুজে
দীর্ঘ তো জাগ্রত ছিলাম রাত্রিবাহী জলের কিনারে
আমার মেরুদন্ড হতে কতো না অচিন জন্তু
প্রবাল ভূমিতে মিশে গেছে
প্রার্থনা ছিল ঋতুবতী বৃক্ষের কাছে
ঐ ডালে আবার যেন বসি মেহমান পাখি।
এ জন্মে বারেবারে
তাহারেই যেন পাই
এ-তো এক অশ্লিল আত্মার দোহাই...
মন্দ্ররাতে
দেবকন্যা নিয়ে আসে ক্রোধের আগুন
স্বর্গ ও নরক ছানবিন করে
ভষ্মবৎ পড়ে থাকে শ্যামল জমিন
নখরে, নভোমন্ডলে।
ঐ উপত্যকা, ঘন-হ্রদ ফিকে হয়ে আছে
শুকিয়েছে ছেঁড়া চাঁদ প্রাচীন পশুদের খুলিতে খুলিতে
তবু
এ হন্ঠন ভুলি না কস্মিন
আত্মহত্যাকালে হয়ে ওঠি বীর
আমি তার স্তন হতে প্রত্যাখ্যান করি কঠিন শিশির।
অমৃতপ্রাণ
প্রেয়সীর মতো অন্ধকার আসে রঙের সরোবরে
আমার মৃত্যু যেন হয় স্বরবর্ণ চিতার ওপরে।
কবি
উৎসর্গ-
সফি সরকার, কাজল কানন, নিতু পর্ণা,
ত্রিধর্মী বন্ধু / তিনখন্ড ছায়া
চিরে দিচ্ছি পাখি।
ঠোঁট ও ঠুকরহীন
পাখিদের দেহ হতে মধ্যাকর্ষণ চিরে দিচ্ছি।
গগন বিদীর্ণ করে তারা শুধু উঁচুতে যাবে
চিতাগ্নিতে তাহাদের ডানা আর পুড়বে না
আর গৃহে ফিরবে না তারা।
ত্রিধর্মী বন্ধু হেঁটে যায় পাখিদের তিনখন্ড ছায়ায়
ঘনবন্ধ তাদের ভাল করে বুঝা যায় না
অর্ধেক মানুষ না অর্ধেক কবি!
মঙ্গলম
জলমঙ্গলম
সখি
জন্মভর জেগে রই তোমার সিথানে
চক্ষুদ্বয়ে ঘুমিয়েছো বায়ু মঙ্গলম আমার
প্রাণ মঙ্গলম আমার
প্রাণবন্ধু মঙ্গলম।
জ্বর আর যৌবন ভাসিয়েছি লেবুর বাগানে
বংশ-নদীতীরে
সখি হে, কোথায় দাঁড়াব বল!
দাঁড়িয়েছি তোমার চরণে
দেহক্লান্ত গাছের ছায়া।
মরুস্থলী
অসীম রজনীতে
টুকরা টুকরা মানুষের শব্দ শুনা যায়।
শরবিদ্ধ মরুস্থলী হায়
আমি তো সারারাত জলের চামড়া কাটিয়াছি।
ধনুস্পতি
বিগত চন্দ্রের নামে ঘুমোতে পারি না আর
চুম্বক পাহাড় কেটে আহরন করি খঞ্জরের ধার
সারারাত বনি-আদমের রক্ত কাটিয়াছি।
নিঃশ্বাসমালা
১.
ছায়াপথ পরিভ্রমণে
মহাকাশ কোথাও তো নেই
জ্যোতির্ময় জলে
মৎস্যপ্রাণ লাফিয়েছে চিতার শরীর।
২.
বিশুদ্ধ আঙুর
পেড়ে আনি বিষদাঁতে
খাতিমুন কবি- কালেশ্বরী হে
মরণ এলো না আমার
তোমাকে ঘিরে।
৩.
বারবার বিদ্ধ হতে চাই কাঁটার লাবণ্যে
ভোরগুচ্ছ হায়!
উন্মোচিত হও তাপিত প্রাণে।
৪.
পবনসন্ন্যাসী আমি
নিরন্তর তপোবনে
যে রন্ধ্রে উড়ে যায় বালির ভূবন।
৫.
তীর, তরবারী ছেড়ে
ছুঁতে চাই শীতের চূড়া।
তারা পিতা, প্র-পিতামহ
অসীম উঁচুতে চলে যায় যারা
তারা মৃত্যুবনমালী
তারা ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র আমার।
হৃৎপিন্ডের গরম
নদীর নরোমে ঘর্মাক্ত জল আমি
ভালবাসো পাহাড় হে ঘাসফুল
হৃৎপিন্ডের গরম।
প্রার্থনা-রাতে গীর্জার চূড়া ভিজে আমার শীতে
আমি তো অগ্নিমানুষ
সূর্যের শরীরে জ্বলি, কথা বলি...
পালক বিভ্রম
এতো এতো উদয়...
সূর্যাস্তের পরে এ পরাণ উথলিয়া ওঠে
ঠান্ডা বাতাসে তার ছায়া দেখা যায়।
চন্দ্রসহচরে
নিদ্রা হল না আর
পোড়া প্রদীপের নীচে বিবস্ত্র অন্ধকার থাকি
শীত ও শ্মশান।
সখি হে
কাল আমার অমৃত দিবস ছিল
কাল সারারাত আকাশে অনেক
প্রাণহীন পায়রা উড়েছিল!
গৃহী
এতো জল
সমুদ্র শাসন করে রক্ত-চক্ষু-চাঁদ।
সারারাত
পিথবর্ণ ছায়া মাড়িয়েছি
ফিরে যেতে চাই কোনো এক পক্ষী-ভূমে
ভানুগাছ গ্রাম হায়!
গৃহপথে বত্রিশ দাঁতের কাঁটা পড়ে আছে।
বংশ-মাঝি
চৌচির জলে দীর্ঘ হাঁটিয়াছি
প্রতিদমে পান করি অমোঘ অনল।
আজ
মেঘ ডাকিয়াছে।
আমায় ডাকিয়ো পাখি
অর্ধেক জল আর অর্ধেক স্থলে।
কুটিল সংসার জাগে, অন্ধকারে
প্রাচীন সেই পাপ ও পূণ্যরাশি।
পাখি
আমি তো বংশ-মাঝি
নর্দমায় ফুটিয়েছি চূড়ান্ত গোলাপ।
দৃশ্য
জলের জানালা বেয়ে মাছ ও মানুষ লাফিয়েছে
ঐ অ্যাংলো বনভূমে
পাহাড় বেয়ে আত্মহনন করে কিছু কিছু গুটিপোকা
আমি তো পঙ্খিরাজ পুরাতন
বায়ুপন্থে শুধু পালক হারিয়েছি।
কোন গ্রামে ভেসে ওঠো রক্তমাখা রোমান রজনী হায়!
চক্ষুদ্বয়ে ঘনঘাস, সবুজ ফেটে যায়!
বায়ুভ্রমণ
১.
ভাঙ্গা বাতাসে ওড়ে চৈত্রের পাতা
সৌরালোকে
তোমায় তো ডাকি প্রেম
বীজে, অন্ধকারে।
আমার তো স্মৃতি নেই বায়ুভ্রমণের
জন্মগ্রহণ করো হে প্রেম, শরমিন্দা গোলাপ।
২.
জীবাশ্ম বেলা
নিষ্করুণ দেহপূজারী আমি
তোমায় দিয়ে যাই অতিন্দ্রীয় বেদনারাশি, চুম্বন।
তুমিও হরণ করো ছায়ার মর্মর
আজ জল চিবিয়েছি।
গুমান
আলেয়া-নদীর ডাকে
যে তুমি কাফিরুন আমার, এ নামে
গেরুয়া গগন হতে চাঁদ গলেছিল।
নামের মহিমা নিয়ে
দাঁড়িয়েছে কাদা-মাটি হিমালয় গ্রামে।
ধুলায় ধুলায় সেই থেকে দক্ষিণে যাত্রা করে উত্তর-বণিক।
কাফের-কন্যা তুমি, তোমাদের দেশে
একদা ছিলাম পাখিদের রাজা
পালক ঝরিয়ে হায়
নামের গুমানে আমিও কি তবে মানুষ হয়েছি !
ছায়াংশ
১.
আমি তো প্রেমিক
প্রীত নই মনুষ্য জন্মে...
তাই কভু ভালবাসতে শিখিনি।
জানি
বাজারে বাজারে পিতলের পানদান উঠেছিল
পাখি সব উড়াল দিল মৃত্যুর পরে।
২.
গণ-গোরস্থানে একা হেঁটে যাবো
গলিত ফুলের শোভা
পিতা আমি, অদৃশ্য ঈশ্বর হতে।
মাছ-রাঙা বাড়ি
নৈঃশব্দে ভেসে ভেসে ওঠে
জানিয়ো পর্বত, দক্ষিণাত্যে
মানুষে মানুষে দেখি
ঘাসের প্রকাশ।
অন্যমানুষ
সূর্য, প্রপিতামহের নামে
ভাসমান গৃহস্থ পশুর সংসার
গলে-পড়া ঘাম নিরন্তর হরিৎ-অন্বেষী।
সকল পুষ্পে গন্ধ ধরে না
এমন পিঙ্গল ভূমে ফুলের পিঞ্জর কাঁপে
নখদন্ত লাবণ্য সহচরে।
মাতৃক্রোড়ে আত্মার বিবাদ দীর্ঘ দীর্ঘ...
নিমক্ষিক উপকূলে
গাংচিল দাঁড়িয়েছে- তারা যুদ্ধাহত
দিকচিহ্নহীন অন্য যারা
তারা তো ফ্যাকাশে মানুষ!
গৌহাটি গ্রামে
নিযুথ রজনী তখন। পাতার পূর্ণিমায় একজোড়া ঠোঁট গেঁথে আছে।... আর আমার বাজুবন্ধে লাফিয়েছে দূর বনভূমি আর পর্বতের চূড়া হতে ভেসে-ওঠা হ্রেসাধ্বনি অথবা ক্রন্দন।
মর্ত্য মানবীরা, হয়তো জেগে উঠেছে তারা আমাদের গৌহাটী গ্রামে। তারা ভুবন বিলাসিনী; মধুভৃঙ্গারে তছনছ করে রক্তাক্ত ফুলের বর্ণনা। হায়! লাল লাল রক্তের জামা আমার বড় প্রিয়- বিন্দু ঘাম, লবন ও লালসা। কেন সরালে না সোনা ও রূপার কাঠি সিথান হতে পৈথানে। সুলতানপুরে চাঁদ উঠিয়াছে... ঐ দানবের দেশে তুমি তো ভূমি-কণ্যা প্রাচীন, মৃত পড়ে থাক জন্মের সমান।
মানুষ ও মহিষ
জঠর জিজ্ঞাসা অন্তর্ভেদী
হাজার রজনী
আজও অপাঠ্য, আদিম চক্ষুদ্বয়ে
শব্দাহত শকুন নেমে এল
অঙ্গে অঙ্গে রুমার সন্ত্রাস
... সেই স্বপ্নদোষে
ভাগ্যাহত মানুষ
মলমূত্র পোষে।
জন্মসুরে
জন্মসুরে
বাহিরে বাতাস সই সই করে
সেই সব রজনীর তীরে উড়াল দিয়েছে আজ
কবিতা ও অক্ষরের নদী
তারা পর্বতে যায়, তারা পর্বতে যায়...
বৃক্ষ হে
পাতার আগুনে পঙ্খিরাজ উড়িয়াছে
ডুমুর মানবী ঐ দেখা যায় বৃশ্চিক রেখায়
যেতে চাই সেই সব নিহত জন্মে
আমার জন্ম হয়েছিল পাখি আর পাহাড়ের পেটে।
বৃক্ষবতী
মানুষ অথবা পক্ষীরাজ তাই
তছনছ করি জলবায়ু।
সিনাই পাহাড়ে ফর্সা বাতাস উড়িয়েছি
নাভী ও ঘাম
নর ও নারী।
বলে দাও তুমি
মুসার নয়নে কী জ্বলেছিল তবে
ঈশ্বর না আগুন!
নমরুদের নগর
তৃণনদে
হেসে ওঠো মেঘ-বিন্দু হরিৎ স্বভাবে
হে বালক- সুমন্দ্র তুমি
অন্ধের দেশে কে তুমি বারংবার আয়না নিয়ে আসো।
তৃণনদে
নমরুদের নগরে দেখি তোমার ছায়া
কাটা-খঞ্জরে তুমিওতো একদিন তুফান কাটিয়াছ!
অরণ্যের উদর হতে
নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি...
জলরন্ধ্রে ধনুক বেঁকে যাচ্ছে...
তরুণ কবিদের ধনুক ও মেরুদণ্ড বেঁকে যাচ্ছে জলে...
নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি...
বেহুলা চন্দনীর ঘাটে
আমার শৈশব কতই না মাড়িয়েছে ফাঁস-লাগা নিমের ছায়া
নিদ্রা ভেঙ্গে দেখি আর আমি একখণ্ড মানুষ নই
হয়ে গেছি স্বপ্ন-রাঙা সবুজ ফড়িং
বাতাসে সাঁতার কাটি
দাউ দাউ রক্ত কণিকা নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে
শীতল ক্ষুরের দিকে।
এত মৃত্যু
এত এত চন্দ্রভোর চারিদিকে
পবনপুত্রীরা ঘন-শ্যাম চামড়ার শাল পরে আছে
আপনার ছায়া ঢেকে দিচ্ছি ধীরে
ঈশ্বরের আরশ ঢেকে দিচ্ছি ধীরে...
২.
মূর্তিমান মানুষ তৈরি করছি
মানুষ কোথাও তো নেই
মানুষ তৈরি করছি নদীতীরে।
রজনীর দীর্ঘ দর্শক আমি, পরস্পর হত্যাদৃশ্যে
ঘাড়ের নিচ হতে কত না উজ্জ্বল কবুতর উড়িয়েছি
বহু জন্ম কীট হয়ে আছি
গলে-পড়া শবের দেশে।
একপাল পূর্ণিমার ভেড়া বাতাস ভ্রমণে বেরিয়েছে
তুমি কি জন্মান্তর বরণ করছ অতলান্ত প্রেমে
নিশিথ বীজের ভেতর নিশিথ অন্ধকারে!
তুমি কেটে দাও গর্ভবতী মেঘের জঠর
স্মৃতিতে অনেক কান্না জমে আছে
এতো এতো কান্না জমে আছে।
আমার পোষে রাখ তুমি...
সেই অরণ্যতাড়িত সাপ
আমায় পোষে রাখ দুধের নহরে
দহনে ও ঘৃণায়।
ঐ উপত্যকা হতে জমে-থাকা বিষ ও দংশন নিয়ে এসেছি আমি
ফেরাবে কী করে
আর কোনো মানুষ নয়, সজ্ঞানে সৃষ্টি করি সাপ
সাপিনী, সাপিনী...
৩.
আমি পাড়ি দিচ্ছি তোমায়...
আমার রক্তের রুয়ায় নূপুর বাজে
নখের নূপুর বাজে, নূপুর...
সাঁকোর ওপর দিয়ে বন পিঁপড়াটি হেঁটে যাচ্ছে একা
ভূ-মণ্ডলের ঐ প্রাণীটিকে সাক্ষী রেখে বলি
ঐ হেমন্তে, ঐ হেমন্ত রজনীতে
কোমর হতে খুলে ফেলেছি ফেরাউনের হাড়
এ কদাকার জন্তু-জানোয়ার তোমারই তো ছিলাম
এখনও চলাচল করি
চলাচল করি জিহ্বার ভরে; জিহ্বার মাথায় চরণ গজিয়েছে...
কোথাও যাইনি পালিয়ে
কুয়াশার পেট খণ্ড খণ্ড করে
মশাল জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে জাহাজ এসেছে আমায় নিয়ে যেতে
যাইনি কোথাও।
কন্যা ধনবতী, মা আমার
চুলের বেণীতে পরে আছে লাল লাল ফাঁসির ফিতা
কোথাও যেতে পারি না তো আমি!
প্রার্থনাগার ভাসিয়েছি জলে
মাছেরা প্রার্থনা পড়ে
আমি পাড়ি দিচ্ছি তোমায়...
আমি পাড়ি দিচ্ছি তোমায়...
৪.
তাকে বরণ করি
চৌদ্দ পুরুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে চুম্বন করি ঠোঁট ও ফলের মাংসে
মাঠে মাঠে কোহিনূর কুড়াতে যাই
ফেটে-পড়া বীজের ভেতর
ভোরের বিউগল ভেসে ওঠে, শুধু ভেসে ওঠে...
অরণ্যপ্লাবী
আবার বেঁচে উঠতে চাই
ফেরাউন ও কচ্ছপের আয়ু একত্র করে
একদিনের জন্য বেঁচে উঠতে চাই মহামৃত্যুর ডাকে
কে ফেরাবে আমায়
হলুদ ধমনীতে ফুটে আছে ঝিঙেফুল, লালবর্ণ গরম শিশির
লালবর্ণ গরম শিশির...
অতঃপর মৃতদের মিছিলে যাব
মাঠে মাঠে আমিও চরাবো মনস্তত্ত্বের মহিষ
কে ফেরাবে আমায়
আমি তো চাদর পরে আছি
চামড়ার চাদর পরে আছি!
গাছের গির্জা
স্মৃতিহীন আলোকবর্ষে
আমি মিশে যাচ্ছি দেখো
স্মৃতিহীন আলোকবর্ষে
আমি মিশে যাচ্ছি দেখো...
ভরা পূর্ণিমার স্খলিত মাংসে একপাল কীট উড়ছে
একপাল কীট উড়ছে
আমি ভুলে যাচ্ছি তোমায়...
গাছের গির্জা হতে পাতাগুলি লাফিয়ে পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁক
ঝাঁকে ঝাঁক, চিরতরে...
আর কোনো পুষ্পরেণু নয়
বাগানে নিরন্তর ওড়ে
তাম্রলীন কাচ ও কুয়াশার গুঁড়া...
পেরিয়ে যাচ্ছি বায়ুবিদ্যুৎ
রাত-জাগা ভোরের পাখি, রাত-জাগা অন্ধপাখি।
দুই হাত পরাভূত দীর্ঘ দীর্ঘ দিন
কলিজা ও খাগড়ার কলম ছুঁড়ে ফেলেছি
চিতার আগুনে
ছুরি দিয়ে কত আর লিখে যাব রক্তের বানান
অক্ষরের মহিমা জানি না তো
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!
-------------------------------------------------------------------------------
লেখকের অন্যান্য গ্রন্থ
কবিতা
ইস্পাতের গোলাপ
ঈসাপাখি বেদনা ফোটে মরিয়মবনে
মৌলিক ময়ূর
নীল কাব্যের বয়াত
বিপুলা বীজগণিত
বিদ্যুতের বাগান
হে রৌদ্র, হে উজ্জ্বল অট্টহাসি
উপন্যাস:
কাফের
জ্যোৎস্নার বেড়াল
রচনা
হিরামন পুরুষ, তুলসিপত্র, মানুষ ডায়রি লিখতে
জানে রাজহাঁস জানে না, চন্দ্রের চাবুক, মখরমপুরে...
১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৩১
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: সূর্য প্রদক্ষিণ করে কচ্ছপের পাঁজর
অথচ দীর্ঘ দিবস আমার কোনো ছায়া নেই
উদভ্রান্ত ছায়া পান করে গেছে একপাল মাছি...
২|
১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৫০
তনুশ্রীপাল বলেছেন: এ-বড় সহজ কথা নয়
পুড়ে যাওয়া চাঁদোয়ার নিচে
অবিরল নক্সী কাঁথা বোনা
ভাঙা-ভাঙা ফাটলের রাতে
মোমদানে আলো জ্বেলে রাখা--
এ-বড় সহজ কথা নয়--
বিঞ্জাপনী জিংগাল ঝড়ে
তোমাকেই শুদ্ধ চিনে নেওয়া
এ-বড় সহজ কথা নয়--
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:২৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: হে সূর্য, অসীম অক্ষর ঢেলে দাও বাতাসে জালে...
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৫০
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
৩|
১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৩৬
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: আপনি মাঙ্গলিক থাকুন কবি
.............................................
১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:০৭
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: সর্ব সন্তু সুখী ন
সর্বভবন্তু নিরাময়।
সর্বমঙ্গলা থাকুন।
৪|
১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০২
সৈয়দ নাসের বলেছেন: সু-স্বাগতম কবি - প্রকাশিত থাকুন
১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৩৯
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: আর মানুষ কতটুক-ই বা প্রকাশিত হতে পারে ...
-----------------------------------------------------------------------------
আমার শবদেহ কি দীর্ঘ মনে হচ্ছে তোমাদের কফিনের মাপে!
৫|
১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:১৬
নম্রতা বলেছেন: অসাধারণ !
কবি... প্রণাম !
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:২২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনি তো কবি। কবির অন্যনাম কালেশ্বর বলে জানি।
মঙ্গলার্থে...
৬|
১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:২৮
সৈয়দ নাসির আহমেদ বলেছেন: কবি আপনার এই বইটা আমার পড়া,এখানে দেখে ভাল লাগলো,
আচ্ছা কবি দেলোয়ার হোসেন মন্জুর কাছে কি গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি কবিতা আশা করতে পারি?
কুশলে থাকুন সব সময়,
১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:১৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: যে-পিতা পেলেষ্টাইনের রজপথে মৃতসন্তান কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আমি তাঁর দিকে নিস্পন্ধ তাকিয়ে আছি; আর ভাবছি, পিতার পাঁজরে সন্তানের লাশ কতটা উষ্ন অথবা শীতল ...
আমি কী-করে কবিতা লিখব...
৭|
১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৩৫
নম্রতা বলেছেন: কবি নই , সাধারন একজন পাঠক মাত্র ! আপনার লেখা পড়তে আসবো মাঝে মাঝে !
ভাল থাকুন !
১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:০৪
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ...আমি যে ভাল পাঠক হতে পারি না, প্রকৃতিপাঠ আজন্ম আমার আয়ত্তাতীত।
সর্বমঙ্গলা থাকুন।
৮|
১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:৪৯
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: বাজিমাত !!!
এক সাথে পুরো বই !
আমি পড়েছিলাম পান্ডুলিপি......
আবার পড়া হয়ে গেলো
খোদ কবির নিবন্ধনে ,
যেভাবে কবি ও কবিতা বাঁচে
মহাকালের জোসনাভোর যাপি !
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৩২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: লেখক বলেছেন: গ্রন্হ-আকারে প্রকাশের আগে শালুক-এ প্রকাশিত পান্ডুলিপিতে আরো কিছু লেখা সংযোজন করেছি।
---------------------------------------------------------------------------
মহাকালের জোসনাভোর যাপি !
---------------------------------------------------------------------------...আর ভাবছি মহাকালে কী রেখে যাব --------------সংক্ষিপ্ত মৃতনদ
না-কি নদীর কাছে জলের কঙ্কাল...
কিছুই তো পারি না কবি।
৯|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৭
তনুশ্রীপাল বলেছেন: সপ্তপদী
পুতুলঘরের চালা ওড়ে
ভেসে যায় কোজাগরী রাত
লক্ষীর পা-ছাপগুলি
খসে পড়ে সোনার বাকল লাল টিপ
অমাবস্যার নদী হেসে ওঠে
পৃথিবীর সপ্তপদী থামে না কখনো
চাঁদরাতে
স্রোত কাছে আসে
নাচের ঘাঘরা ফুলে ওঠে
সোনালি ডানার মথ
তাপের চাদর গায়ে মাখি----
ডিমের ভিতর থেকে উঁকি দেয়
ফসল উঠোন --- আর
স্কুল-বালিকার মত মেঘ।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৫৪
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: জলের জানালা বেয়ে মাছ ও মানুষ লাফিয়েছে
ঐ অ্যাংলো বনভূমে
পাহাড় বেয়ে আত্মহনন করে কিছু কিছু গুটিপোকা
আমি তো পঙ্খিরাজ পুরাতন
বায়ুপন্থে শুধু পালক হারিয়েছি।
কোন গ্রামে ভেসে ওঠো রক্তমাখা রোমান রজনী হায়!
চক্ষুদ্বয়ে ঘনঘাস, সবুজ ফেটে যায়!
-----------------------------------------সর্বমঙ্গলা থাকুন।
১০|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৭
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
আমার শবদেহ কি দীর্ঘ মনে হচ্ছে তোমাদের কফিনের মাপে!
আমার শবদেহ কি দীর্ঘ মনে হচ্ছে তোমাদের কফিনের মাপে!
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৫২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: মানুষ ও পুষ্পরাজ কতদিন বাঁচে
ষড়ঋতুবনে মানুষের লাশ ফুটে আছে।
-----------------------------------------------------------------------------
ভাল থাকুন।
১১|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩১
পথিক!!!!!!! বলেছেন: পুরো বই একেবারে তাই বলে কবি বর
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৫৭
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: যেহেতু ব্লগে নিয়মিত লেখা প্রকাশের ইচ্ছা রাখি না, যেহেতু আমার নামের সঙ্গে প্রায়-মিল রেখে একজন (ব্লগার) সামহোয়ারে যোগ দেয়ায় বিভ্রান্তির আশংকা তৈরী হয়েছে, যেহেতু অনেকটা আত্নরক্ষার প্রবণতা থেকেই ব্লগে যোগ দিয়েছি, সেহেতু শনাক্তকরণের জন্য আমার একটি কাব্যগ্রন্হ একসঙ্গে সংযোজন অমূলক মনে হয়নি। আশা করি অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কিছুটা হলেও ব্যাখ্যাত হয়েছে।
----------------------------------ভাল থাকুন।
১২|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৪২
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: চমৎকার লাগলো আপনার কবিতা। আপনাকে শুভেচ্ছা।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাল থাকুন।
১৩|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৮
অদৃশ্য বলেছেন: ''আমি কি মানুষ ছিলাম কোনোদিন
জলের জঙ্গলে কেবলই হারাই বিরল প্রজাতি''..................................................প্রিয় কবি.....যেদিন এই লিখাটি আমি প্রথম পড়েছিলাম......সেদিনই আমি মুগ্ধ হয়েছি.................আর তা তখন থেকে এখন অবধি আমাকে ঘিরে বসবাস করছে............আর আমিও তাদের হাতছাড়া করতে চাইনা।
আমি এখানেই থেমেছি..............পরের গুলোয় নজর বুলালাম মাত্র।
অনেক অনেক শুভকামনা আপনার জন্য..............এই অধমের ঘর পর্যন্ত পৌছে দেবার জন্য কৃতজ্ঞ থাকলাম।
সবসময় ভালো থাকুন।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৩৫
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: অদৃশ্য, আপনার সবকথা নিখাদ ভালবাসা থেকে। জগতে ভালবাসার মর্যাদা দেয়া সবচেয়ে কঠিন কাজ।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫০
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: মঙ্গলার্থে ...
১৪|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০৪
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয় কবি.....................একটি কথা লিখতে ভুলে গেছি.............
''প্রচলিত কফিনে আপনার শবদেহ
কোনকালেও ভরানো সম্ভব নয়,
সে কি অকৃতজ্ঞ, দুঃসাহসী!
যেখানে ধরনী বুক চিঁড়ে
কফিন হয়ে আছে,
একটি শবদেহের প্রার্থনায়।''
.................................................................................................
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:০২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: মৃত্যুর পরে
আমায় ভাসিয়ো জলে
স্হলের সৌরভ...
---------------------------------------------------------------------------
আপনাকে লিখতে বসে আমার মৃতবন্ধু কবি কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ারের কথা মনে পড়ছে। কিশওয়ার তার কাব্যগ্রন্হটি উপহার দেয়ার সময় লিখে দিয়েছিলেন-----------------------------------মরে গেলে ঝরে গেলে
এ-নাম স্মরণ করে
পাথরের ফুল ছুঁড়ে দিয়ো...
----------------------------------------------------------------------------
প্রতিউত্তরে উপরোক্ত ক'টি লাইন লিখেছিলাম।
ভাল থাকুন অদৃশ্য। কবিতায় থাকুন।
১৫|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৩
অশোক দেব বলেছেন: সবটা পড়া হয়নি। যতটা পড়লাম, ভালো লাগল। পরে পড়ব।দেখা হবে
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:০৪
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মঙ্গলার্থে ...
১৬|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৩৮
মুজিব মেহদী বলেছেন: আপনার কবিতা মুদ্রণ মাধ্যমে আগেও পড়েছি। কৌতূহল জন্মেছিল তখনই। আজ ব্লগে আবিষ্কার করে প্রীত বোধ করছি।
মুগ্ধ হবার মতো কবিতা লিখতে সবাই পারে না, আপনি পারেন।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: মুগ্ধ হবার মতো কবিতা লিখতে সবাই পারে না, আপনি পারেন।
------------------------------------------------------------------------------
এ-কথা শুনার পর বেশ বিব্রতবোধ করছি। আপনি নিজে আলোকিত, বোধ করি এ-জন্যেই সবকিছু স্নিগ্ধ করে দেখেন।
মাঙ্গলিক থাকুন।
১৭|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৪
ফারুক আহেমদ রনি বলেছেন: ফাঁকি দিতে পারলেনা কবি।
দিগন্তের উচ্ছ্বাস নিয়ে পড়লাম। নিয়ত যেমন দেখেছি, বিস্ময়ে প্রসারিত চোখ!
জয়তু কবি। স্বনামে ধন্য হও..
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: হাত তো বাড়াতে জানি না
হাত বাড়ালে মানুষ নক্ষত্র ছুঁয়ে যায়...
১৮|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৩৪
মিলটনরহমান বলেছেন: -------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
শ্মশান? পড়েছে তাও-
চিতায় চাদর ঢেকে শুয়েছিলো যারা
তারা কাজে বেরিয়েছে প্রান্তরে, কামান গাড়ি ঠেলে
হঠাৎ কোথায় হাওয়া? চাপাচুপি খড়ের নিঃশ্বাস?
কবরে, বোমার গর্তে ঝুঁকি ঝুঁকে দেখি
মা, আর মায়ের হাতে মুখ চাপা অনাথ।
একটি সাপের সাথে মিশে যাচ্ছে কতিপয় লোবানেরা
একটি সাপের সাথে মিশে যাচ্ছে নিয়ত শর শয্যা
একটি সাপের সাথে মিশে যাচ্ছে আমার প্রেমের কোমল কামালতা
একটি সাপ গিলে খাচ্ছে আমার পতঙ্গের স্বাদ
একটি --------------------------------------------------------------------------------
কবি মঙ্গল আপনার নয়। অতি মঙ্গল চাহিবা মাত্র আপনাকে দিতে বাধ্য থাকিবো।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:০০
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: শুনেছি, মিল্টনের স্বর্গের পাখিদের কোনো পা নেই। কারন তারা ধুলার পৃথিবী স্পর্শ করে না।
মিলটনরহমান--এই নামটি অনেক প্রিয় আমার।
-----------------------------------------------------------------------------
কম্পমান তারা
জ্যোতির্ময় রাগিণীরা কুকিল রজনীতে...
ভয়াল বন্দরে একদিন ভিড়ে যাব
শবযাত্রী নিয়ে সন্তান মাঝি।
... অতৃপ্য আত্মার সাধ
তোমার আকাশে ভাসে যেন এক ঘু ঘু-ডাকা চাঁদ।
১৯|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আপনার কবিতা পড়েছিলাম কয়েকদিন আগে আব্বাস ভাই'র পাতায়। ভাল লেগেছিল অনেক। এখন দিব্যি আপনাকে পেয়ে গেলাম (সেটাও আব্বাস ভাই'র নিমিত্তে)।
স্বাগতম। আরো পড়ার অপেক্ষায় আছি।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৩৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সুন্দর থাকুন।
মঙ্গলার্থে ...
২০|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৯
ব্রজ বলেছেন: দেলোয়ার এর কবিতা আমার ভাল লাগে।ওর কবিতায় আমি নতুন
কাব্যভাষা দেখতে পাই। তাকে আমার ভালবাসা জানাই।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৩৩
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: এমন সরল স্বীকৃতি বন্ধুর মুখেই শোনা যায়।
ধন্যবাদ ব্রজ
( কবি ব্রজকুমার সরকার, দুর্গাপুর, পশ্চিমবঙ্গ )
২১|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৭
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: মরু জ্যোৎস্নায় সে তো এক মেঘের জিরাফ
কেউ আমায় নিতে আসে না
কেউ আমায় নিতে আসে না...
.................................................................................................
ami to bar bar asi kabol nibisto hota
..................................................................................................
valo thakun proti nioto..........
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৪৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: গাছের গির্জা হতে পাতাগুলি লাফিয়ে পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁক
ঝাঁকে ঝাঁক, চিরতরে...
আর কোনো পুষ্পরেণু নয়
বাগানে নিরন্তর ওড়ে
তাম্রলীন কাচ ও কুয়াশার গুঁড়া...
পেরিয়ে যাচ্ছি বায়ুবিদ্যুৎ
রাত-জাগা ভোরের পাখি, রাত-জাগা অন্ধপাখি।
-----------------------------------------------------------------------------
সর্বমঙ্গলা থাকুন।
২২|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৬
অদৃশ্য বলেছেন: ''তৃণনদে
হেসে ওঠো মেঘ-বিন্দু হরিৎ স্বভাবে
হে বালক- সুমন্দ্র তুমি
অন্ধের দেশে কে তুমি বারংবার আয়না নিয়ে আসো।''
.......................
চমৎকার........প্রিয় কবি...........চমৎকার।
সবসময় ভালো থাকুন।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৩
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ভাল থাকুন অদৃশ্য, দৃশ্যান্তরে থাকুন।
অনেক স্নেহ, অনেক ভালবাসা...
২৩|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৯
সুমন সালেহী বলেছেন: আমি + দিলাম পুরো না পড়েই... নিজের জ্ঞান কম হওয়ায় নিজেরই লজ্জা লাগছে...বেশিরভাগ আমার মাথার উপর দিয়ে গেছে...যে কয়টা পড়েছি...ধরতে পেরেছি এমন একটা...
কোথায় খুইয়ে এসেছ দন্তের বিষ
হায় সাপ! কুচবর্ণ সাপ
মাথার ওপরে তোমার ফুটে আছে শুভ্র গোলাপ।
... উপমাবহুল কবিতার চেয়ে আমার এগুলো বেশি ভাল লাগে...
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৫
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: কোথায় খুইয়ে এসেছ দন্তের বিষ
হায় সাপ! কুচবর্ণ সাপ
মাথার ওপরে তোমার ফুটে আছে শুভ্র গোলাপ।
-----------------------------------------------------------------------------
গ্রন্হ প্রকাশের আগে এ-রকম ভালাগার কথা জানলে শব্দগুলো আপনাকেই উৎসর্গ করতাম।
ভাল থাকুন।
২৪|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৭
কালপুরুষ বলেছেন: খুব ভাল লাগলো আপনার লেখা। প্রিয়তে রেখে দিলাম। সময় করে মাঝে মাঝে পড়তে ভালই লাগবে।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৩৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মঙ্গলার্থে ...
২৫|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩
আন্দালীব বলেছেন: আপনার 'সাপ ও সূর্যমুখী' আমি গতবছর মেলার লিটলম্যাগ প্রাঙ্গন থেকে কিনেছিলাম। আপনার লেখালিখি সম্পর্কে একটা আগ্রহ তার আগেই কিছুটা তৈরী হয়েছিলো। একটা লিটলে বোধহয় এটার পান্ডুলিপি আমি পড়েছিলাম...তাছাড়া বিভিন্নসময়ে বিচ্ছিন্নভাবে আপনার কিছু লেখালিখি গোচরে এসেছিলো।
আপনার কিছু কিছু প্রয়োগ আমার অনন্য লেগেছে। মন্জুভাই, আপনাকে এখানে দেখে প্রীত হলাম।
শুভেচ্ছা রইলো।
২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: আপনাদেরকে দেখেও প্রীতবোধ করছি। নিয়মিত না হলেও মাঝেমধ্যে দেখা হয়ে যাবে আপনার সঙ্গে।
লেখালেখির মধ্যে প্রতিদিন যেন দেখা হয়।
ভাল থাকুন। কবিতায় থাকুন।
২৬|
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:১৮
আসমা বানু বলেছেন: উৎসর্গ
তোমাকে, তোমাদেরকে
আমার শবদেহ কি দীর্ঘ মনে হচ্ছে তোমাদের কফিনের মাপে!
-----------------------------------------------------------------------------
প্রস্তুতি
মৃত্যুন্মুখ
আমি তো শ্রাবণ
শিশুপুত্র তোমার
চুম্বন করো, আমি তো উদগ্র ঈশ্বর তোমার!
অনেক কনেক ভাললাগা কবি
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মঙ্গলার্থে ...
২৭|
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:২২
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: এই কাব্যগ্রন্থের একটা আলোচনা ছাপা হয়েছে দৈনিক সংবাদ /সাহিত্য
সাময়িকী / ঢাকা । তে - ২৩ জানুয়ারি ২০০৯ , শুক্রবার ।
এখানে তা যুক্ত করে রাখলাম।
**********************************************************
সাপ ও সূর্যমুখী : স্বপ্নে ভেজা সাদা সাদা পায়রার রেখা
মারুফ ওয়েসিস
-------------------------------------------------------
সাপ ও সূর্যমুখী । দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু। প্রকাশক :বৃক্ষ।
প্রকাশকাল : একুশে বইমেলা ২০০৮। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ।পৃষ্ঠা : ৫৬ । দাম : ৩৫ টাকা।
--------------------------------------------------------
এক চোরা পথের নাম কবিতা। কিংবা কবিতা এক জাদুকর সৃষ্ট এমন এক পথ যে পথে পথিক হারিয়ে যায় ক্ষণিকের তরে, তবে ফিরে এসে তার ভেতর সেই অদ্ভুত পথের কিছু স্মৃতি থেকেই যায়; যদিও শেষ পর্যন্ত সেই পথ পৃথিবীর কোনোখানেই নেই। কবিতা উপলব্ধি প্রত্যাশা ছাড়া আর কিছু নয়। এই পথে যা কিছু এসে গোপনে প্রবেশ করে কবিতার মধ্যে তাকে খুঁজে পেতে হলে পাঠকের বেশ ঋদ্ধ অনুসানের প্রয়োজন। কেননা কবিতা একই সঙ্গে ধারণ করে সমাজ, দর্শন, ভগোল, প্রেম-অপ্রেমের উষäতা, মানবমগজের অকার, প্রগতির উচ্ছ্বাস, সজ্জা, সামঞ্জস্যতা, অনুপাত, হারমোনি বা এর ঠিক উল্টোটাও সে বহন করে আপন রক্তের লসিকায়। ফলে কবিতাকে দেখতে হয় সামগ্রিকতা দিয়ে। পুরো বিশ্বের সমান দুটো চোখে আর ব্রহ্মাণ্ডের মতো একটা মগজ দিয়ে তার দিকে এগিয়ে যেতে হয় পাঠককে। কবিতার বিচার আচার পাঠক জ্ঞানের ওপর সীমাবদ্ধ এবং একইভাবে কবিতার উপস্খাপন কবি দক্ষতার ওপর সমানুপাতিকভাবে নির্ভরশীল। এ কারণে কবি এবং পাঠকের আদান-প্রদান বেশ কঠিন এক মস্তিষ্ক রসায়ন, কোনো কোনো অর্থে ব্যর্থও বটে। কবিতার বর্ণিল উপাদান, এর রঙ-ঢঙ, সজীবতা যেমন দারুণ করতে হয় কবিতার পাঠককে তেমনি এই রঙ-তামাশার আলকেমি কবিকেও বেশ আয়ত্তে নিয়ে আসতে হয়। আজকের কবিতা দ্বিমুখী এক সীমান্তে দাঁড়ানো। কবি দক্ষতার সঙ্গে পাঠকের উপলব্ধি জ্ঞান এখানে সরাসরি জড়িত। কবি পাঠক আরো বেশি অন্ত:সম্পর্ক যুক্ত আমাদের এই সময়ের কবিতায়। ফলে এখন পুরো লেখাই যে কোনো বাণী আর কবিতা হয়ে উঠতে পারে না পাঠকের গুনে, পাঠকের উন্নাসিকতায়। এই বৈরী হাওয়ায় বসে কবি যখন লিখতে বসেন তখন তাকে মাথায় পুরো কবিতার পথরেখার একটা ম্যাপ নিয়ে কলম ছোঁয়াতে হয় কাগজে। কারণ তাকে এমন এক ভগোলের উন্মোচন করতে হয় যা কিনা অপরিচিত, অযাচিত তবে সহজ উপলব্ধি, কষ্ট-কল্পনাহীন। এই বিকল্প পথই কবিকে বাঁচিয়ে দেয়। ভালো বা মন্দ কবিতার পুরো দায় কবিকে নিতে হয়। আর কবিতাকে খারিজ করার দু:সাহস পাঠককে নিতে হয়। দু:সাহস। কেননা পাঠককে উত্তর তৈরি করতে হয় কেন তিনি কবিতাটি বর্জন করছেন। ভালোলাগার যুক্তি বরং সহজ, ভালো না লাগার যুক্তি বড় কঠিন এবং প্রশ্নসাপেক্ষ। ফলে এই দায় বোধহীন পাঠকের জন্য কবিতা আর নয় আজ, অন্তত আজকের কবিতা।
কবিতা যদি হয় মিশ্রকলা, তা যদি হয় নানা উপাদান ধারণে সক্ষম কোনো মাধ্যম এবং এই কবিতার কেলাস যদি জারিত হয় নানা বর্ণের তরল থেকে তবে দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর কবিতার ক্ষেত্রে বলা যায় কবিতার মৌলিক পদার্থ সৃষ্ট উজ্জ্বল এক সঙ্কর ধাতুর নাম ‘সাপ ও সর্যমুখী’। এখানে বহুদিনের চর্চিত কাব্য অভ্যাসের প্রকৃতি, পদ্ধতি আর উপায়ের দেখা মিলবে। এছাড়া এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নব্বই দশকের অন্যতম মেধাবী কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর আপন নিরীক্ষা। ছন্দ বাঁধনে এক লাগাম তিনি রেখেছেন নিজ হাতে, ফলে শব্দকে তিনি বেশ শাসন করেছেন নিজস্ব ক্ষমতায়। বিচিত্র সব বিষয় আশায়ের উপস্খাপন নিয়ে প্রকাশিত তার কবিতা। কবিতার নানা ফর্ম নিয়ে তিনি কাজ করেছেন তার ‘সাপ ও সর্যমুখীতে।
এই সময়ের অনেক কবিতাই নিরীক্ষাধর্মী। মলত নব্বইয়ের দশকে এসে কবিতা দারুণ নিরীক্ষার ভেতর ডুব দিয়েছে। ওই সময় কবিতাকে নিয়ে দারুণ নিরীক্ষা হয়েছে। আর এতে করে পাঠক অনেকই মুখ তুলে নিয়েছে কবিতার কাছ থেকে। পরবর্তী এই সময়ে এই শতকের শুরুতে আমাদের কাছে এলো প্রচুর নিরীক্ষাধর্মী কবিতা। এতে করে একদিকে যেমন ধনাত্মক চিন্তা ঢুকে পড়েছে তেমনি অন্যদিকে এসেছে প্রচুর ঋণাত্মকতা। কবিতায় যুগযন্ত্রণা এতো বেশি হলেও অনেকক্ষেত্রেই সেগুলো হয়ে পড়েছে মারাত্মক খণ্ডিত। চিন্তার সম্প্রসারণই চিন্তাকে খণ্ড খণ্ড করে ফেলেছে। প্রচুর চিন্তা যখন একসাথে ঢুকে পড়ে একই বাক্যে তখন বাক্যটির সুনিশ্চিত মতামত হারাতে বাধ্য, সেক্ষেত্রে একটি কবিতার ভেতরে অসংখ্য ব্যঞ্জনা ধরা দিচ্ছে। তাই অসম্ভব খণ্ডিত চিত্রকল্পের সমাহারে লেখা হচ্ছে কবিতা। যা একটি ঋণাত্মক দিক।
আবার কিছু কিছু কবিতা এসব ভাবনা এসব খণ্ডিত চিত্রকল্প সবকিছু ফেলে নিজের মতো পরিচয় দিতে সমর্থ হয়েছে। আবার কিছু ভালো কবিতাও পেয়েছি এ সময়। যেগুলি আমাদের সময়কে চেনাতে সাহায্য করে। যেগুলি আমাদের নিজের কথা বলে। সেই কবিতাগুলি অবশ্য আপন কিংবা নিজের কথা বলে না। সেই কবিতাগুলি আমাদের জাতির আমাদের ভাবনার সমগ্রের কথা বলে। মলত সেগুলিই কবিতা, যে কবিতা নিজেকেই নয়, নিজেদের চিনতে জানতে, সময়কে জানতে এবং সময়কে চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এ রকম ভালো কবিতা আমাদের খুবই কম, তবু কমও সুন্দর, যদি প্রকৃতই সুন্দর হয়। আমরা দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর ‘ফিতা’ কবিতাটির কয়েকটি লাইন লক্ষ্য করি ‘আমার প্রেয়সী হায়!/ মরু জ্যোৎস্নায় সে তো এক মেঘের জিরাফ। কেউ আমায় নিতে আসে না/ কেউ আমায় নিতে আসে না.../ মর্গে একা শুয়ে থাকি/ জল ও অগ্নি বহুটা আংরা হলে ঘুম আসে, ঘুম আসে .../দর গাঁয়ে তোমার লণ্ঠনের আলো নিভে যাচ্ছে মা/দর গাঁয়ে তোমার লণ্ঠনের আলো নিভে যাচ্ছে মা ... পৃ.১১)।
দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রকরণ সচেতন শিল্পী। তার পরিমিতিবোধ প্রশংসাযোগ্য। সুনির্বাচিত শব্দ তার অভিজ্ঞাবহ হলেও শব্দকে দিয়ে তিনি এমন কিছু করান না, যা পাঠককে বিব্রত করতে পারে। তিনি উপমার সাহায্যে অভিপ্রায়কে স্পষ্ট করে তোলেন। ক্রমাগত উপমা ব্যবহার করে কখনো বা রচনা করেন ব্যক্তিগত বিবেচনার বর্ণিল সেতু যা পাঠকের সঙ্গে কবির বনকে সুদৃঢ় করে। ব্যবহৃত উপমায় কবির বিশ্লেষণ প্রবণতার পরিচয় ধরা পড়ে। একটি ভাব ও বিষয়কে নানাভাবে দেখেও যখন কবির তৃপ্তি নেই, তখন বুঝতে পারি এই শৈল্পিক অতৃপ্তিজনিত অভিনবত্বের মধ্যেই কবির সৌন্দর্যচেতনা মর্ত হতে চেয়েছে। তার ‘বিন্দুবতী’ কবিতাটির পুরোটাই উদ্ধৃত করছি ‘বৃষ্টিভেজা নদী আর/ঐ দেখা যায় কাদাবিদ্ধ হলুদ সারস/ঘর্ণাবর্তে/চোখ ও কান্না গলে পড়ে/ আমি তো ঘুমিয়েছিলাম কোনো এক/ মাতমুহরী নদীর বাঁকে।/ জওয়ান জীবনী তোমার/ওহে সিুচারী/সয়াল সায়রে কে তুমি রান্না করে জল! (পৃ.৪৬)।
সবশেষে বলা যায় দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর কবিতার নির্যাস যেমন দরগামী তেমনি এক ধরনের দার্শনিক প্রজ্ঞাও কবিতার ভিত্তিভমে উলম্ব রেখার মতো মর্তমান। তা বোঝার জন্য তাঁর কবিতার আন্তরিক পাঠ দাবি রাখে।
########### ############## #################
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কবি।
২৮|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬
মজনু শাহ বলেছেন: mogdho hoye barbar porar moto onek kobita ekhane...
aro dur likhe jai shosshorekha, amar moron...
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:১৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
কবিতায় থাকুন।
২৯|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০
তনুশ্রীপাল বলেছেন: কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর তুলসিপত্রে সমুদ্রশঙ্খ জাগে...
চন্দ্রিমা দত্ত
ধীস্বর-এর অক্ষর-সমুদ্রে সোনালি অনুভব মীন আকারে ঘুরে বেড়ায়। তার দীপ্তাভ শরীরে অতলমেধার স্ফুরণ ও নীল স্রোত ছলাৎছল। ডুবুরিরা জানে। তাই ডুবুরি পাঠকের নির্জন ডুবসাঁতার সেই অতল উৎসে ধেয়ে যায়।
প্রবন্ধ, কবিতায় পরিক্রমণ সেরে যখন তুলসিপত্র-এর মুখোমুখি হলাম আমি যেন দেখতে পেলাম শুদ্ধবোধের অমল কথা নিয়ে গাঢ় তুলসিপত্র ভাসছে সমুদ্র-বুকে, মানে, অক্ষর-সমুদ্রের বুকে; তাহলে আমিও কি সমুদ্রের বুকে? হ্যাঁ, ধীস্বর প্রবল আকর্ষণেই ডুবুরি করে পাঠক মনটিকে।
কবি ও গদ্যকার দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর অণুগল্প বা মুক্তগদ্যগুচ্ছ তুলসিপত্র-পল্লবে জেগে আছে কুড়িটি অণুগল্প, চেতনার অনির্বাণ দীপবিন্দু। অন্ধকারে মৃত্যুঞ্জয় আলো ও আনন্দের অন্বেষক কবি ও গদ্যকারকে যন্ত্রণার কাঁটার ক্ষত সইতে হয়, আর লেখক যেহেতু নির্মাণশিল্পী তার ক্ষত থেকে উৎসারিত দহনধারাই যুগে যুগে নিটোল চেতনার ফুল জন্ম দিয়েছে, আর সেই ফুলগুলোর সৌরভের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা জানলাম ভিন্ন ভিন্ন নামে এই ফুলগুলোই আসলে কবিতা বা গল্প, জীবনের গূঢ়-নির্যাস। মরণশীলতাকে তুচ্ছ করে যে প্রাচীন নক্ষত্রে লিখেছে আপন নাম। যতদিন পৃথিবী ও মানুষের আয়ু, ততদিন এই অনিবার্য ধারা বহমানÑ লেখক ও কবি মানুষ-মানুষীর জীবনের আনন্দ ও বেদনার মন্থন-অমৃত তুলে এনে বইয়ে দিচ্ছেন সেই ধারা...
সুগভীর ভাবনার সত্যকে সুসংযত-সুুশৃঙ্খল বিন্যাসে মননশীল পাঠকের অনুসন্ধিৎসার কাছে অণুকারে গল্প বলা এবং যার সাবলীলতা অনুবন্ধনেও আসলে মুক্ত থাকার সাধনাসিদ্ধ হওয়ায় ব্যাপারটি আয়ত্ত করে নেন তিনিই মুক্ত গদ্যকারও বটে, তখন আকার কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে না।
যদিও এখনও গল্পের, মুক্তচিন্তার এই অণুকার এক বিশাল গ্রহণযোগ্যতা পায়নি, তবু তার বিস্তারও অনস্বীকার্য। বাহুল্যে কিছুটা লাবণ্য ও মুগ্ধতা থাকলেও আজকের প্রবল গতিময়তা সকল বাহুল্যকেই ব্রাসআপ করে নিচ্ছে, আমরাও দেখতে পাচ্ছি আসলে ‘বিন্দুতেই সিন্ধু’ অনন্ত সিন্ধুর সুগভীরে লাবণ্য কিছুমাত্র ম্লান হয় না। কারণ লেখকের সুযুক্তি, সুদূর প্রসারিত চিন্তার শতধা বিচ্ছুরণের ক্ষণপ্রভার ঔজ্জ্বল্যেও ধরা হয়ে যায়।
অণুগল্পের যে দর্শন তার ব্যঞ্জনা আমাদের টেনে নিলে আমরাও ব্যক্তিকতা থেকে উঠে এসে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়াই
তুলসিপত্রের শেষ অণুগল্পটি ‘দহন’ থেকেই আমার পড়া শুরু করেছিলাম অপূর্ব একটি অনুভবের নিটোল প্রকাশ ‘দহন’। মনে হচ্ছিল আমাদের অগ্রজরা যথার্থই বলেছিলেন, অর্ধনারীশ্বরের কথা না হলে একজন লেখক যে পুরুষ তার সম্পূর্ণ পৌরুষ অনুভূতি নিয়ে নারীর এ দহনের অনুপুঙ্খ কীভাবে বোঝেন? গল্প শুনে, চোখে দেখেও এ অনুভব ব্যক্ত করা যায় না, যদি না এই দহনকালটুকুর মধ্য দিয়ে জীবন বাহিত হয়।
ফুলতেরার বুক ভর্তি বিষের দরিয়া লেখকের বুকের ভেতরও ছোবল দিয়েছে, তাই চুইয়ে পড়েছে ক্ষরণ গ্রামবাংলার দুঃখী, নিয়তি তাড়িত নারীর দহন চিত্র কী সুন্দর ফুটে উঠেছে, যা হৃদয়স্পর্শী করে বলে ফুলতেরার মাতৃদুগ্ধে ভরা অমৃত ভাণ্ডার, যা সন্তান মৃত বলে ঝরাতে পারে না, সেই অমৃতই বিষ হয়ে উঠলে আমরা তার বেদনাবিন্দুগুলোর কষ্টতে মিশিয়ে দিই মাতৃঅনুভব। অনুরণিত হয়ে ওঠে পাষাণী, তুই পাষাণী ফুলতেরা। পাতিহাড় ফাইড়া বুকে এত দুধ জমা হইছেÑ তুই কালেখাউরী ফুলতেরাÑ তুই মরা ছাওয়ালের কাছে যা... পারিপার্শ্বিক কণ্ঠগুলো ফুলতেরার দুঃখ শুষে নেয় না, সে যার সুখ-দুঃখের ঘরণী, সেও তার বিষহরণ করে না, ঠেলে দ্যায় অন্ধকারে দুঃখের কাছে, ভালোবাসাও থাকে না, সে বলতে থাকে... ‘তুই ত পইচ্যা গেছস... তর মাঝে কিচ্ছু নাই...’
পুকুরের মাছ সেও মালুদের বাপের মতো সুখ আহরণ করি, অমৃত চায়। ফুলতেরার আকুল ক্রন্দন তার অমৃতভাণ্ডার যখন পাথর, তাকে মুক্ত করুক কেউ মুক্ত করুক।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থানগত চিত্র অনায়াসে ধরা দেয় এই গল্পের ফুলতেরাব চরিত্রে ও ক্রন্দনে তার পীড়িত অসার্থক মাতৃত্বে। করুণরস ঘনত্ব পায় অভাগী মা’র অমৃত বিষ যখন বাছুরের মুখে ওঠে ফুলতেরার ঘুম পায়।
লেখক দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু সমাজকে, সামাজিক বৈষম্য ও তার বেদনাকে গহীন থেকে নিরীক্ষণ করেছেন বলে গ্রামীণ ভাষায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে এক গ্রামীণ নারীর অবস্থানগত চিত্রপট। আর এখানেই লেখককে শিল্পীর মার্যাদায় স্বীকার করে নিতে হয় আমাদের। কারণ জীবনের জন্যই যে শিল্প।
‘আয়না’ পড়তে গিয়ে মনে হলো কোথায় যেন বেশি ছেঁটে ফেলা হয়েছে তার ডালপালা। শরিফার পুকুরঘাটের øান, পলকে বুকের কাপড় সরিয়ে জুনেদকে দেখানো, জুনেদের তরপে ওঠা ইত্যাদি সমস্ত কিছুর মধ্যেই এক সুগভীর মনস্তত্ত্বের বিকাশ সম্ভাবনার বীজ লুকিয়ে রইল তার কিছুটা যদি বিস্তার পেতো তবে শরিফাকে বুঝতে আর একটু সহজ যেতো। জানা যেতো এ কোন আদি তৃষ্ণা, জিপসী অভিলাষ যা অন্ধকার অতৃপ্ততা থেকে ক্রম জন্মলাভের প্রক্রিয়ায় থাকে? কে দেয় এ অন্ধকার? কোন বিষাদ বহমানতার বীর্য এমন ছিন্নমূল ইচ্ছের জনক?
অতি সামান্য কারণে শরিফার আঁততায়ী হয়ে ওঠা, পরবর্তী ভয়ার্ত প্রক্রিয়ায় লাশ নিখোঁজ করাÑ এই যে শরিফার ডুবন্ত বিষাদ, অনাকাক্সিক্ষত হননকারী হওয়ার অসহায়তাÑ আমার বার বার মনে হচ্ছিল সামান্য একটি সাবান কীভাবে একজন মানুষীর কাছে মূল্যবান হতে পারে মানুষের জীবন থেকে? আসলে খুব সামান্যতম জিনিসপত্র আঁকড়ে বাঁচতে শেখানোর প্রক্রিয়ায় হাজার শরিফাদের আর কখনো চেতনার ঘুম ভাঙে না। তারা চিরকাল ক্ষয়িত জিনিসকেই অমূল্য জেনে এক আত্মধ্বংসাত্মক জীবন অতিবাহিত করে গেলো নগরজীবন থেকে দূর গ্রাম্যসীমানার সংসারে। তাই কি বেদনার্ত লেখকের কলম লিখেÑ
‘...জল দীর্ঘতর হতে থাকলে ঝাওয়া পাথরের ঘাটখানি দূরতম হয়ে যায়। একটা মহাসমুদ্রে পাড়ি দিয়ে শরিফা যখন ঘাটে ভিড়ে তখন শূন্য সাবানদানীকে পাহারা দেয় অজস্র ফড়িং।’ শরিফা অন্তর্মননের আয়নায় নিজেকে দেখে, সাধারণ মানসিকতায়, একটি এ্যাকসিডেন্ট যা তার মাধ্যমে অনাকাক্সিক্ষতভাবে ঘটে গেছে সেই পাপার্ত বোধে সে তার পোয়াতী নারী সত্তাটি রক্ষার হেতু যতœ করে। যতœ সব ভাবী-মায়েরাই করে তবু সেই পাপের বেদনাবোধ থেকে করা একটু অন্যরকম। এমন ব্যাপারটিই কি লেখকের কলমে ইঙ্গিতময়তায় লেখা হলোÑ
২.
অজ্রস দিবস অতিবাহনের পর আব-ওঠা আয়নায় শরিফার পেটের ছায়া পড়েছে। শরিফা তেল-মালিশ করে; পর্দা ফুঁড়ে টকটকা রোদ গুঁড়া হয়ে যায় এবং যতই সে মালিশ করে, হাতের তলায় রোদের দানাগুলো নাভীর নিচ হতে পাতি হাড় অবধি ঘুরপাক খেতে থাকে।
গতকাল তার সনোগ্রাফি হয়েছিল। শরিফা হোসেনের পেট ফুঁড়ে ভেসে ওঠা শিরিশপাতার দীঘিতে সাঁতার কাটছিল জুনেদের লাশ। শরিফা হোসেন তেল মাঞ্জন করে। সাত মাসের পোয়াতি পেটে শরিফা হোসেন তেল অথবা সাবান মাঞ্জন করে।
এই গল্পে সংলাপ অতি সামান্যই। খুব তাড়াতাড়িই গতিময়তার মধ্য দিয়ে সংকেতে সমাপ্তি। অণুগল্পে ব্রেবিটি বা বক্তব্যের স্বল্পতা এবং কনডেনসিটি যদিও একটি স্তম্ভ তথাপি প্রাণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই গল্পটিতে মনে হয়েছিল আর একটু সংলাপের লাবণ্য বা বিষাদের প্রয়োজন হয়তো রয়ে গেছে। তবু অবশ্যই উচ্চার্য এর পাঠকৃতির রেশ আমাদের অবশ্যই শরিফার অনাগত সন্তানটির ধুঁকপুকের মধ্যে জুনেদকে ফিরে পেতে চায় শরিফার পাপবোধের মুক্তি কামনায়।
‘কুহক’ কুয়াশার জঠরে যেন জেগে থাকা এক নাদান যৌবনের সবুজ আভাময় এক খণ্ডকাব্য। মুক্তগদ্য ভাবনা এখানে অবচেতনে যেন মনোবীজ ফাটিয়ে কবিতার ফুল্ল প্রকাশ। গদ্যের কাব্যময় আবহে জেগে ওঠে ‘থোকা থোকা ঢেউ’ কেঁপে ওঠে বেদকন্যা আর নাদান বালকের প্রাতিস্বিক নিয়তি। সংকেতধর্মিতা এই অণুগল্পের কাব্যময়তায় চুমকিখচিত এক চাদর, যেন ইশারায় ডেকে নেয় তার ঘনত্বে।
স্ফুট যৌবনের কামউদ্ভাস বাক্সময় হয় সুচতুর বাক্য নিব্যাসে। লেখক কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর লেখায় আছে নন্দনের অভিজ্ঞানÑ এ কথা পাঠক হিসেবে মেনে নিয়ে চিহ্নায়িত করতেই হয় সাহিত্যস্রোতের এই চিন্তক মাঝিকে। তেমনই কিছু পঙ্ক্তি বিন্যাস তুলে ধরা যাকÑ
* নদীতে থোকা থোকা ঢেউ ওঠে, নাওয়ের বাতা যতবার দুল খায়, বেদকন্যার কেঁপে ওঠা বক্ষদেশ আর নদীর ঐ পারের টিলাভূম দেখে বালক আউলা ঝাউলা হয়। গহন রক্তে ঘাই মারে চিকন শিং মাছ। ঐ সুতানলী সাপ টগর ফুলটিকে শুধু গিট্টু দিতে থাকে।
* কইন্যার নীল নাভীতে শুধু নোঙর দেখা যায় বালকের উরু বেয়ে বিন্দু বিন্দু বিষ গড়িয়ে পড়ে, বালক থর থর করে। কলার থুর ফাটিয়ে দিয়ে বাহিরে আসতে চায় সমূহ বিষের মুকুর।
* কইন্যা যেই তার চক্ষু বাঁকিয়েছে, তীব্র ধারে কবুতরের গলা কেটে যায়। আহারে। কৈশরের বাকল খসিয়ে আসা প্রথম আলোর টিয়া রঙ যৌবন শিষ প্রবণতায় মথিত হয়, ধাবমান হয় বেগবান হয় রক্তে অশ্ব... মৌসুমী ফুলের সুবাসও ততোধিক গতি নিয়ে নেশা শেখায় আর সময়ের বাঁকে সব এক সময় আড়াল হয়ে গেলে গাঙ-পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে প্রতীক্ষা আর আর... অনবদ্য প্রতিভাসিক চিত্রে আমাদের স্মৃতির ভুবন দুলে ওঠেÑ
* ... তার এই এতোটুকু পরাণ ঠোঁটে করে পশ্চিম আকাশে উড়ে যায় হলুদ ঈগল।
‘হাবসি’ পড়ে বেদনায় ভেসে উঠি খুলে যায় আদি ইতিহাসের হারেমের দ্বার আর রানী ও হাবসি বা খোঁজা প্রহরীর জ্যোৎøায় যেন ঘুরে বেড়াই আমি।
‘হাবসি’র শরীর দখল করেছে এক পরাবাস্তব মখমল চাদর, পরবর্তীতে সে চাদর সরিয়ে সুস্পষ্ট আঙ্গিক দেখে তার গোত্র চিহ্নিত করা যায়।
ছায়াবতী রমণী ডেইজি ইসলাম আর বদরুলের অমোঘ তাড়না, আর বিত্তের উপভোক্তা রমণী আর বিত্তের মুখাপেক্ষি ও নির্ভরতা মেনে নেয়া মুমিন বান্দার প্রেম ও যৌনতার গল্প হয়তো নতুন কিছু নয়, তবু এই গদ্যকে যা গতিশীলতা দিয়েছে তা হলো বিকৃতাচারের উৎসমুখের দহনের সূক্ষ্ম ইঙ্গিতময়তা। আর অনুগত জলের মতো বদরুলের মনোজমির ভাবাবেগের বর্ণনা। কর্ষণভূমিতে ডোবা লাঙ্গলের ফলা যেন জ্যোৎøার গানগুলো শুনে প্রথিত হয় এমনই এক চিত্রময়তা।
‘হাবসি’তে যে পরকীয়ার স্রোত, পাঠ প্রতিক্রিয়ায় বিপরীতে মুখ ফেরালেও খুব সূক্ষ্ম শরীরে উঠে আসে বেদনায় শরীর যৌনতার ষোলকলা ছাপিয়ে ওঠে তার বিষাদ বিচ্ছুরণ। আমরা মনে মনে গাঢ় অনুভব করি সকল প্রভুতন্ত্রের ভিন্ন নামান্তরের কারাগৃহে প্রভুরাই ফুটো করে রাখে আদিনাগ ঢুকবে বলে। অতৃপ্ত ডেইজি ইসলাম তাই জানেÑ
‘বিছনার নিচে অনেক অনেক টাকা আছে। সেই টাকার ঠোঁট আছে, নাভী আছে, নাভীর নিচের লোমও আছে কমিশনার সাব এগুলো নিয়ে ঘুমায়।’
ডেইজি বদরুলকে বলে ‘আমি ঘুমাই তোমারে নিয়া।’
লীলায়িত প্রহর এগিয়ে যায় ডেইজি স্থিরজল হবেন, বদরুলকে পাঁচশ টাকার নোট ধরিয়ে কমলালেবু আনতে বললে বদরুল তার পকেটে থাকা একশত টাকা দিয়ে ডেইজির জন্য তিন হালি হলুদ সড়ক নিয়ে আসতে চায়
এই বোধ শুধু পরকীয়া-যৌনতা। পরিতৃপ্তবোধ দিতে পারে না। এ কানের লতিতে প্রেমিক দংশনে বলতে চাওয়া ‘তুমি আমার কুটুমুটু, আমার কুটুকুটু সোনা’র গহন স্বরের প্রেমিকের স্বর শোনা যায় সেই হাবসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা গোপন প্রেমিকেরই বোধ।
কিন্তু তার সে বোধের হত্যাকারী লাস্যময়ী ডেইজি যখন
‘আবারো বেয়াদবি করলা! ডন্ট ডু ইট এগেন। করলে সব শেষ।’
‘বেড়ালের মতো নরম বেনিটি ব্যাগ হতে খামে মোড়া টাকাগুলো টেবিলের উপর ছুড়ে মারেন...’ তখন অদৃশ্য ‘হাবসি’ গল্প বলা তৃপ্ত জন আপাতত যাকে লেখক হিসেবে চিহ্নিত করছি, আমার তার উপর একটু ক্রোধ জন্মায়। সবার হয়তো নয় আমার মতো যারা পাঠন করেছেন শুধু তারাই।’
নিচে নামতে থাকা বদরুলের সহযাত্রী লক্ষাধিক হাবসি গোলাম ও বিধ্বস্ত বেড়াল তো সজীব থাকতে পারতো, হাবসি জোলাও হওয়া তার নিয়তি হলেও যে বিষাদ জঠরেই প্রেমিক সেজাই বা প্রহরী হতে পারতো আর ডেইজির অহংকারের উৎস বেদনা ক্ষরিত হয়ে যদি বদরুলের তিন হালি হলুদ সড়ক আনা ইচ্ছের মধ্যে ডুবে দ্যুতিময় হতো আমরা হয়তো বিষাদ øানে শেষে ধ্র“পদরৌদ্রে গা শুকাতাম।
‘দ্বৈরথ’ যেন শেওলার খাপ থেকে উঠে আসে খঞ্জরÑ রোদ খায়, রোদ্দুর ঠিকরায় আগুনের গুনগুন ওঠে আকাশ-বাতাস আজ তো বাদ ও বাদীর তন্ত্রমন্ত্র নিয়ে পতাকা ওড়ায়, পতাকা থেকে উড়ে রেণু, ঝরে রেণু, রেণু পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এগোলে জন্ম কথায় বিষাদ স্থবির যেন বা মহাকাল!!! কে ওখান থেকে বলে
‘মাঝরাতে হঠাৎ মনে হয় তার মানুষ বড় একা। আকাশে অনেক বিছানা বালিশ উড়ছে। মনে হয়, এ রাত অযুত বর্ষ ধরে স্থির হয়ে আছে।’
নিখিল ভ্রমণকারী কলমচাষী দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর কালির আখরে জেগে থাকে এক অনন্ত হীরক খনি, পাহারাদার সাপেরা ঘোষণা করে প্রবেশ নিষেধ। তবু বের হয়ে আসে মানুষ-মানুষীর ছন্দবেশে বিভা বা দ্যুতি।
ক্রম আকর্ষণে বোধ, দৃষ্টি ও অন্তর্মননে হেঁটে যাই ‘বৃষ্টির বিচি’, ‘গুমান’, ‘দাগ’, ‘নরপল্লী’, ‘নারী পল্লী’, ‘নিরাকার’... এবং আরো আরো মুক্ত কথামালার মধ্য দিয়ে দহন ও বিষাদ এবং শেষ সত্যের দিকে।
‘মখমলের ভিটা’, ‘কেহ নাহি আপনার...’ ‘...নিস্প্রভ ছায়ার মাঝি’, ‘নিবেদন’, ‘জলজ’, ‘কাচের ডালপালা এবং বাকরুদ্ধ সোনার কইতর’, ‘গহনা-ভূমি’ এইসব নামের ময়ূর রঙে ডুবে রয়েছে কবিতার দীর্ঘ যাত্রাধ্বনি, তার পায়ে পায়ে ধ্বনিত হয় যে বোল তাতে নেচে ওঠে এই বাংলার আত্মভোলা নদীজল, ভেসে আসে শাপলা ও শালুকের নিশ্বাস। আমরা পাঠকরা নিবিষ্ট হয়ে পাঠকর্মে নিবিড় হই, ডানা ঝাটপানো পাখিটি যেন স্থির হয়ে ওঠে, তার দানা-পানি খায়Ñ ‘কলিজা খোলা কীর্তনখোলায় তখন আর কাউকেই মাছি তাড়াতে আসতে হয় না। কারণ শুদ্ধতার কুণ্ডে ‘ধী’ মাছিরা এখানে অধিকারহীন।
না লিখে পারি না তুলসিপত্রের জলে বিধৌত মুক্তগদ্য বা অণুগল্প নামে কবিতা হিয়ার আংশিক
‘সেই লাবণ্য পুরাণ
আমি জানি আদমের বাহু প্রস্থ আদিম তুমি। চরণ স্পর্শ করে যায় মেঘ আর কালিদাস। নখরে বাতাস কাটলে অতঃপর তুমি হাত ভিজালে পোয়াতি জলে। হলুদিয়া জিঙেফুলেরা দেখল, তোমার দুই হাতে হলহল করছে জয়তুনের বাগান আর গন্ধমের গরম।
ঐ উঠোনে তুমি দীর্ঘ দাঁড়িয়েছিলে।
বুনিয়াদি ভিটার সৌরভ
ঐ উঠোনে তুমি দীর্ঘ দাঁড়িয়েছিলে। তোমায় ভালোবেসে ঐ মেঘমালা কোনো এক ধর্মদা গ্রামে নেমে এসেছিল আর নিরন্তর ভিজিয়েছিল তুলসিপত্র ও প্রার্থনার পিঁড়ি।
এক জন্মে আমাদের রাত্রিবাস আর দীর্ঘ হয় না। বুকে দুখ্ লাগে, শূন্যস্থানে হো হো করে রাতের পালক...।’
‘আমার সিনায় বসে আমাদের নিয়ে হাস্য করে আখেরি আদম। এ জীবন দীর্ঘ হে...।’
ফিরে যাই করতলে তুলসিপত্র শিশির জল টলমল সেখানে সূর্যপৃথিবী সাত রঙের অনবদ্য বিচ্ছুরণ পাঠক হিয়ার শীত কেটে যায় বলি সাধু! সাধু! সাধু!
সচল ও দীর্ঘ লেখক জীবন কামনা রইল দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু আপনার জন্য চন্দ্রিমার পক্ষ থেকে।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:১৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪৫
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ভাল থাকুন।
৩০|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫
তনুশ্রীপাল বলেছেন: অনন্ত আলোর দিকে...
অক্ষর-অরণ্যে সাপ ও সূর্যমুখী
চন্দ্রিমা দত্ত
জীবন-দর্শনের এ কোন ঘনবদ্ধ জল-ফেটে নিভৃতে ঝরে কবিতা-শ্রাবণ? নিরন্তর ঝরে কাগজের আপাত সাদা বহুভাষিক উদ্ভাসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে...আর তাই এগিয়ে যাই এক উজ্জ্বল বিভার দিকে যেখানে আমাদের প্রাচীনতা, যেখানে ঘাস-মাটি-কবর ও মৃতদের আত্মা নিয়ে কেউ একজন এ-গ্রহের কোনো নিভৃত কোণে জেগে থাকে। সে কি কোনো প্রৌঢ় পন্ডিত, অজপা-কন্যা, দার্শনিক? সে কি এমন এক ধনবান জ্ঞানী ধনঞ্জয় যার আহরিত শস্যময় শুধু অক্ষরের মহাআভা?
‘মৃত্যু ব্যতিরেকে আমার আর কোনো নাম নেই
রক্ত-মাংসের অক্ষরে একদিন আমি যেন কবিতা লিখি
আমি যেন কবিতা লিখি মৃত্যুর পরে’
(কবিতা ও অন্ধপাখি)
দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু আমার প্রিয় কবিদের একজন, যার কবিতা আমাদের চৈতন্যে জ্বালাতে পারে এক অনন্ত মোমবাতি, যে বাতি অনিঃশেষ। প্রত্যহের জীবন যাপনে যখন আত্মখননে আত্মক্ষয়ী, তখন তাঁর কবিতা যেন শেকড় থেকে আহরিত প্রাচীনমৃত্তিকা-মধু।
‘মর্গে একা শুয়ে থাকি
জল ও অগ্নি বহুটা আংরা হলে ঘুম আসে...
দূর গাঁয়ে তোমার লন্টনের আলো নিভে যাচ্ছে মা
দূর গাঁয়ে তোমার লন্টনের আলো নিভে যাচ্ছে মা...
(ফিতা)
মনে পড়ছে সেই দিন, সেই ক্ষণটির কথা একুশের বইমেরা ২০০৮, ১৪১৫ বঙ্গাব্দে আমরা ক’জন ভারত থেকে গিয়েছি ঢাকায়; বইমেলায় মিষ্টি শীত আর ভেজা-পুস্তকের গন্ধ মঁ মঁ করছে। লিটলম্যাগ চত্তরে পেয়ে যাই ‘সাপ ও সূর্যমুখী।’ হাতে নিয়েই বারবার শব্দহীন উচ্চারণে বলেছিলাম কিছু?
আমি পাঠ করি। মায়াবী শব্দবন্ধে নিবিড় হয় এই সামান্য অক্ষরচাষি আমার মন।
... উদ্ভিদ কেশর ছিঁড়িয়াছি
ঐ ওড়ে রক্তের হলুদ আর
যন্ত্রণার বীজ।
ভাসে
পাপ ও পূন্য সরোবরে
ডুবে যাওয়া সূর্যের স্মৃতি
জন্মদুখী বন্ধুরা আমার পঙ্গু ও বীর।
দূরে
আরো দূর লিখে যাই শস্যরেখা, আমার মরণ।
(জন্মান্ধ গোলাপগুচ্ছ)
সেই প্রাচীন মহিষের মাথায়
দুলে উঠছে পরিচিত পৃথিবী আমাদের
হাতের তালুতে চিরে-রাখা বিষুব-রেখা...
(কবিতা ও অন্ধপাখি)
দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু’র কবিতায় সত্য যেন স্থানুবৎ দাঁড়িয়ে পড়ে ‘জল ও অগ্নি বহুটা আংরা হলে ঘুম আসে’, ‘ক্ষুরধার ক্ষুধা/ ক্রোধান্ধ জানি/ বারংবার আসে লিঙ্গ পরিচয়ে... গায়ত্রী কাম বীজ প্রেমে গঠিত.../ অস্তিত্বের অধিক/ এই দেহ সত্য জানি/ কামের দেবতা তাই ঈশ্বর অথবা মদনকুমার... (দোযখ সুন্দরী)
পাঠের একপর্যায়ে মগ্নতা কাটিয়ে যখন অন্য ট্র্যাকে চলে যাচ্ছি, বুঝতে পারি কোথাও যেন মিশে যাচ্ছে পাশ্চাত্যের প্রবাহ, দর্শনের বহুমাত্রিকতা; সেখানে জেগে ওঠে শেকড় ছেঁড়ার যন্ত্রণা আর যন্ত্রণা-লাঘবে কি মাঝে মাঝেই কবির বাচনে এসে যায় ভার ও পরাবাস্তবতার ছোঁয়া? কবির সুগভীর রাত্রিজুড়ে রচিত হয় যে পঙক্তি সেখানে জেগে থাকে রাগ মালকোসের সাথে বিদ্রোহ আর ভালবাসা। একটি রেখা বা সীমার কাছে কবি দায়বদ্ধ নন। কবির বেদনার ভাষা বয়ে নিয়ে যায় নদ আর নদীর মহানুভবতা আর কবি সৃষ্ট নির্জনতম গ্রামে জেগে ওঠে বৃক্ষের সারি; দূর বৃক্ষের গির্জা বেয়ে নেমে আসে সাদা সাদা তুষার। কবি উচ্চারণ করেন
নদীর নরোমে ঘর্মাক্ত জল আমি
ভালবাসো পাহাড় হে ঘাসফুল
হৃৎপিন্ডের গরম।
প্রার্থনা-রাতে গীর্জার চূড়া ভিজে আমার শীতে
আমি তো অগ্নিমানুষ
সূর্যের শরীরে জ্বলি, কথা বলি...
(হৃৎপিন্ডের গরম)
‘এতো এতো উদয়
সূর্যাস্তের পরে এ পরাণ উথলিয়া ওঠে
ঠান্ডা বাতাসে তার ছায়া দেখা যায়।
চন্দ্র সহচরে
নিদ্রা হল না আর
পোড়া প্রদীপের নিচে বিবস্ত্র অন্ধকার থাকি
শীত ও শ্মশান।
সখি হে
কাল আমার অমৃত দিবস ছিল
কাল সারারাত আকাশে অনেক
প্রাণহীন পায়রা উড়েছিল।'
(পালক বিভ্রম)
যেনো এ-কবি জন্ম-রোমান্টিক, যার জন্য কবির মুক্তি হয়েছে বৃত্ত থেকে। তাই ফ্যাশন দুরস্ত যাপন বা মুগ্ধ আধুনিকতা থেকে, ভোগবাদ অতিক্রম করে কবি হয়ে ওঠেন প্রত্ন-প্রাচীন শিলা, প্রবাদময় আত্মার যেথা বাসস্থান। আর সেই শিলার গায়ে সময়ের আচড় আসলেই কবির চক্ষু দূর-দিগন্তে বিস্তৃত; সে-চক্ষু সমুদ্র গর্ভের কারাগার হতে ঝিনুকের মুক্তি দিয়ে, শুশ্রূষা করে তার শেষ সম্বল মুক্তো সংগ্রহ করে। এমন কবিই লিখতে পারেন ‘চুম্বক পাহাড় কেটে আহরন করি খঞ্জরের ধার’ (মরুস্থলী)
রক্তে ও ফুলে এমন কবিরই অবাধ বিচরণ সম্ভব; কারণ একজন নিষাদের হলুদ রক্তেজন্ম হয় বাল্মীকির, তার ধ্যানের কাছে মুগ্ধ হয়ে বসে থাকে মৃত্তিকা-প্রতিভা। হয়তো কবিই একমাত্র সেই পাখি, আগুন আর জলে হেঁটে যেতে পারেন ডানার রূপকথা নিয়ে। আর তাই আমরা পেয়ে যাই অসাধারণ একটি কবিতা ‘চিতা’'। জীবন-বেদ এখানে নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা নিয়ে পূর্ণকথা বলে:
...থেতলে-যাওয়া আর্তনাদ শোনা যায়, পঞ্চশিরায়
বড়শিতে বিঁধে-থাকা চোখ
কতই না লাফিয়েছে জ্যোতির জলে
তুমি কি বলবে না এবার
কে যাও বায়ুপন্থে প্রপঞ্চ পথিক
গোপন ভূমিতে কে তুমি রুয়ে যাও অচিন পাথর!
(উৎসের দিকে)
আরও কিছু পঙক্তি যা পাঠ করে কবি ও কবিতার অর্ন্তমোচন করতে গিয়ে চিন্তনের যে দীপ, তার সলতেকে উস্কে দিয়ে ভাবিত হই অসম্ভব সংবেদনশীল কিছু পঙক্তি জুড়ে কি ছায়া-পৃথিবীর কোনও প্রাচীন কবি-আত্মার কণ্ঠস্বর শোনা গেল? কারো নিঝুম পদশব্দ কি ধাবমান কবিতার বন-বনান্তে? রিলকে, বোদলেয়ার, পল রোবসন, র্যনে শার, বেঞ্জামিন মোলায়েসি এই সব মহৎ কবিদের? পরবর্তী অক্ষরচাষী অর্থাৎ আমাদের ভাবনার আকাশ কি ভ্রমণ করে না পূর্বতন মহৎ কবিদের মেঘগুচ্ছ? অবশ্যই করে, অবচেতনের অনেকাংশ জুড়ে। হয়তো বা অনুগামী জলের মুগ্ধতা নিয়েই আমরা সমুদ্রের ডাক শুনি, ঝাপ দেই। ভ্রমণমুখী মেধা ও মননের জায়গায় পাঠের মুগ্ধতা হ্যাঙ্গওভার হয়ে থাকে আর তা কাটিয়ে উঠে নিজস্ব স্রোতে প্রবাহমান থাকাই কবির ধর্ম; সেই হেঙ্গওভারের স্মৃতি ধরে কবি সময়ের কথা লিখে যান অবিনাশী অক্ষরে। তাই আমাদের জানা হয়ে যায় তাঁর কাব্যভ্রমণের ছায়াগমন কথা। কিন্তু সেসব পেরিয়ে প্রভাবমুক্ত শুদ্ধতার কথা, যে-কবি লিখে যান স্ব-বয়নে, তার সৃষ্টিকর্মই সংরক্ষিত থাকে মহাকালের জন্য; আর আমরা শুনি ধীস্বর; দ্বিরালাপে অক্ষরের মহাত্ম্য ছড়ায় বাতাসে বাতাসে। আমার ভালবাসার কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু’র একটি/দু’টি কবিতা হতে মননে তুলে রাখি কয়েকটি পঙক্তির রূপলি, সোনালি তাম্রাভা।
চৌচির জলে দীর্ঘ হাঁটিয়াছি
প্রতিদমে পান করি অমোঘ অনল।
আজ
মেঘ ডাকিয়াছে।
আমায় ডাকিয়ো পাখি
অর্ধেক জল আর অর্ধেক স্থলে।
কুটিল সংসার জাগে, অন্ধকারে
প্রাচীন সেই পাপ ও পূণ্যরাশি।
পাখি
আমি তো বংশ-মাঝি
নর্দমায় ফুটিয়েছি চূড়ান্ত গোলাপ।
(বংশ মাঝি)
বিচ্ছিন্ন কিছু চরণ
আমি তো পঙ্খিরাজ পুরাতন
বায়ুপন্থে শুধু পালক হারিয়েছি।
(দৃশ্য)
ভাঙ্গা বাতাসে ওড়ে চৈত্রের পাতা
সৌরালোকে
তোমায় তো ডাকি প্রেম
বীজে, অন্ধকারে।
(বায়ুভ্রমণ)
আমি তো প্রেমিক
প্রীত নই মনুষ্য জন্মে...
তাই কভু ভালবাসতে শিখিনি।
(ছায়াংশ)
আমি কি মানুষ ছিলাম কোনোদিন
জলের জঙ্গলে কেবলই হারাই বিরল প্রজাতি।
(মানুষ)
স্বাগত সত্ত্বা, হে সন্তান আমার ঘুড়ি দিয়ে ছিঁড়ে আনে মেঘ, থৈ থৈ নদীর বানান লিখে রাখে মাটির শেলেটে। ঘর্মাক্ত তারা বৈকাল শেষে ফিরে যেতে চায় উৎসের দিকে। রুয়ে যায় ঘন ঘন্বুজ, গোলাপ; পরিভ্রমণের পথে শবখানায় রুয়ে আসে মানুষের বীজ।
অতঃপর
সে এক ঘুম-সুন্দরী নৌকার স্মৃতি হল হল করে। জলে কিছুদূর ভেসে যায় হলদেটে হাঁসের ছানা। এ-তো জানি পৃথক পরিন্দা জনমÑ শামুকের ডিমে মঁ মঁ ধানের গন্ধ লেগে থাকে আর শষ্যের সৌধ রচিয়া যায় গেরুয়া কৃষক।
এমন মনুষ্যদিনে
একি তবে জনম জনমের ঘোর
জন্মান্ধ পাখির ডাকে ঝরে পড়ে মানুষের মুকুর!
(কেঁচো ও কুকিল)
ঘাটের ঐ পারে হাওয়া...
বেদনার্ত ভূমে
চিরদিন নিঃস্পত্র থাকি বনের পুরুষ।
শূন্য সে
নৌকাখানি ঝরেছিল কার্তিকের হাওয়ায়...
বর্ণহীন নদীর উজানে
আর কত হেঁটে যাব চিলের ছায়া!
চোরা-শীত
লাখের যৌবন ভাসিয়েছি জলে...
পাতার সংসার হায়!
এমন ভাঙ্গা-বৃক্ষ-বেলা
আমারেও ভালবাসো ক্রন্দন-ভূমি, জলের কবর।
(জয়দা জামালপুরে...)
স্মৃতিহীন আলোকবর্ষে
আমি মিশে যাচ্ছি দেখো
স্মৃতিহীন আলোকবর্ষে
আমি মিশে যাচ্ছি দেখো...
ভরা পূর্ণিমার স্খলিত মাংসে একপাল কীট উড়ছে
একপাল কীট উড়ছে
আমি ভুলে যাচ্ছি তোমায়...
গাছের গীর্জা হতে পাতাগুলি লাফিয়ে পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁক
ঝাঁকে ঝাঁক, চিরতরে...
(গাছের গীর্জা)
উল্লেখিত ‘গাছের গীর্জা’ ও ‘জয়দা জামালপুরে...’ এর গূঢ় কাব্যলোকে যেন আমারও বসবাস! মনে হয়, কবি যেন দেহ হতে বয়স মুছে ফেলে সকল ঐতিহ্যে ভ্রমণ করে শেকড়ে যত্নশীল; ভ্রমণান্তে নদীর মাহাত্ম্যে নাওয়ের ছইয়ে, কাঠ-বিছানায় শুয়ে শুয়ে মহাকাশ অনেক নিকটে ডেকে আনেন, ঠিক হৃৎপিন্ডের কাছাকাছি। এ-যাত্রা নিশ্চয়ই একজন শুদ্ধ ও সত্য কবির যাত্রা। এখানেইতো মিশে যায় রোমান্টিসিজম ও ধ্র“পদ; আত্মবিধ্বংসী কবি এমন নদীবক্ষে স্নানান্তে ফিরে আসেন আত্মহনন প্রবণতা থেকে, আর পরক্ষণে আঁখরের মোহর মুদ্রিত করেন সৃজন সত্তার কপালে। তাই তো মহাগ্রন্থ বেদ বলে আত্মানাংবিদ্ধি...। আত্মদর্শন ও আত্মপরীক্ষাই কবিকৃত্য।
বারবার কাঁটার লাবণ্যে বিদ্ধ হতে চাওয়া কবি ভোরগুচ্ছকে আহ্বান করেন ‘উন্মোচিত হও তাপিত প্রাণে’।' আত্মহননই কবিতার আত্মাকে পুষ্ট করে এ-ইঙ্গিতই দিয়ে আসছে সময় ও শতাব্দী, এ-ইঙ্গিতই বহন করছে সাপ ও সূর্যমুখী।
সাপ ও সূর্যমুখী: দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, প্রকাশক: বৃক্ষ, একুশের বইমেলা ২০০৮, প্রচ্ছদ: ধ্র“ব এষ।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:২১
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ কবি।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪৫
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ভাল থাকুন।
৩১|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৭
তনুশ্রীপাল বলেছেন:
সাপ ও সূর্যমুখী: উত্তাল অনুভবের বিক্ষুব্ধ বিস্ফোরণ
লায়লা ফেরদৌস ইতু
প্রতিটা মানুষই তাঁর নিজস্ব অনুভবের জগতে ঈশ্বরের মত মহাপরাক্রমশালী, অসম্ভব স্বৈরাচারী অথচ ভয়ানক রকম নিঃসঙ্গ। এবং এই অপ্রতিরোধ্য নিঃসঙ্গতার বোধটিই রচনা করে প্রতিটি সৃষ্টিমুখী মানুষের মননের একান্ত নিজস্ব যাত্রাপথটি। এই যাত্রাপথটি পার্থিব সকল রীতি-নীতির উর্ধ্বে, সমস্ত লৌকিকতার বিপরীতে এর অবস্থান। এবং আমরা এই বিপরীতমুখী এবং অমসৃণ যাত্রাপথটিকে চিহ্নিত করি কবিতার পথরূপে। কারণ সবরকম লৌকিক হিসেব-নিকেশ যেখানে সমাপ্ত হয়, সেখান থেকে কবিতার সূচনা ঘটে। সুতরাং কবিতার মানে দাঁড়ায় নৈঃসঙ্গের উত্তরায়ণ। কিন্তু একজন সংবেদনশীল কাব্য স্রষ্টা কবিতাকে শুধু নৈঃসঙ্গের উত্তরায়ণ রূপে চিহ্নিত করেই পরিতৃপ্ত থাকেন না, বরং তাঁর লক্ষ্য হল তিনি কবিতাকে এমন এক অবস্থানে পৌঁছাবেন, যেখানে মনে হবে: ‘Lets poetry like a key/ opening a thousand doors’
সুতরাং কবিতার অর্থ হতে পারে কবির অভিজ্ঞতাসঞ্জাত অনুভূতি প্রকাশের এমন এক অশরীরী মাধ্যম, যা নিজের মধ্যে ধারণ করবে ইন্দ্রিয়াতীত ধারণার ভাষাময় প্রতীক, সযত্নে প্রতিপালিত দার্শনিকতার স্পর্শ এবং বহুমাত্রিক অনন্যতার বোধ।
এ সমস্ত বিষয়গুলোকে চেতনায় ধারণ করেই দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাপ ও সূর্যমুখী’-কে উপস্থিত করা হয়েছে পাঠক ও কাব্যপ্রেমিকের যুক্তিবাদী ভাবের কাঠগড়ায় এবং এক্ষেত্রে তাঁর পথ প্রদর্শক তাঁরই একান্ত গভীরে লালিত দ্বিধা-সংশয়পূর্ণ, উদ্ধত উচ্চারণ:
ঘন এবং অতি শুভ্র বনভূমে আমিও কি রোপন করি
অক্ষরের কবর? আমিও কি তবে
কবিতা লিখি!
(বিগত ভ্রমর: জুঁই ফুল)
কারণ তিনি জানেন:
মাতৃমূলে
নৃ-তত্ত্বের ইলিশ বহে যমুনায়
এ বক্ষে বিঁধে আছে নখ
শব্দ ও বর্ণ বিভায় লোভাতুর বক্র ধনুক’
(রেত)
আর এ কারণে কবিতার কাছে তাঁর প্রত্যাশা এরকম আত্মধ্বংসী ও কাম সাদৃশ্যপূর্ণ:
বারবার বিদ্ধ হতে চাই কাঁটার লাবণ্যে
ভোরগুচ্ছ হায়!
উন্মোচিত হয় তাপিত প্রাণে’।
(নিঃশ্বাসমালা)
কিন্তু শব্দ বা অক্ষরের আওতায় অনুভবের ব্যাপকতা প্রকাশ করা কতোটা সম্ভব, কতোটা সম্ভব কল্পনার সুক্ষ্ন ঝংকারের অনুরণনকে উদ্ভাসিত করা। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নবোধক বা আশ্চর্যবোধক চিহ্নের যেমন অবকাশ থাকে, তেমনি অবকাশ থাকে সার্বজনীন অনুভবকে বিবৃত করার, যেটা মঞ্জু করেছেন এভাবে:
বিগত চন্দ্রের নামে ঘুমোতে পারি না আর
চুম্বক পাহাড় কেটে আহরণ করি খঞ্জরের ধার
(মরুস্থলী)
জলে ভাসছে মূর্তিমান ছায়া
মৃত্যু ব্যতিরেকে আমার আর কোনো নাম নেই
রক্ত মাংসের অক্ষরে একদিন আমি যেন কবিতা লিখি
আমি যেন কবিতা লিখি মৃত্যুর পরে
(কবিতা ও অন্ধপাখি)
কবি র্যাঁবো মাত্র সতের বছর বয়সে নিজের অনুভব প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে বলেছিলেন- ‘ভাষা ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়’। এবং এ আক্ষেপ কিন্তু সব কবিরই আক্ষেপ। আর এ আক্ষেপ ও অতৃপ্তির অনুভব থেকেই কবিরা জন্ম দেন নিত্য নতুন ভাষার, অভিনব ও সার্থক শব্দ সম্ভারের। এ মত নিত্য নতুন ভাষা আবিষ্কারের ক্রমধারায় আমরা আমাদের উত্তর-আধুনিক চর্চায় পেয়েছি ‘স্কিজোফেনিক ভাষা’ নামে এক বিশেষ বর্ণনাধারা। ‘স্কিজোফ্রেনিয়া’ বা ‘সিজোফ্রেনিয়া’ মূলত এক প্রকার মনোবিকার, যার ফলে এতে আক্রান্ত ‘চিহ্নক’ ও ‘চিহ্নিত’ এর মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে পড়ে, কথা, কাজ ও চিন্তা এ তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধনে ব্যর্থ হয়ে পড়ে। এই সংজ্ঞাকে ভিত্তি প্রস্তর রূপে ব্যবহার করে ‘স্কিজোফ্রেনিক ভাষা’ চর্চাকারীগণ দাবী করেন যে তারাও ভাষায় সচল বিভিন্ন ‘চিহ্নক’ ও ‘চিহ্নিত’ এর অন্তঃসম্পর্কের স্বাভাবিক সূত্রকে অবজ্ঞা করেন, যাতে করে চিহ্নক আরো ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে এবং অভিনব ইমেজের জন্ম হয়। দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুও ঐরূপ কোন ভাষা কাঠামোর প্রতি দূর্বল কী না বা সেসব নিয়ে নিরীক্ষা চালাতে চান কী না জানি না। তবে তাঁর অনেক কবিতার ভাষাই ঐ ‘স্কিজোফ্রেনিক’ ভাষার সাথে যথেষ্ট সাদৃশ্যপূর্ণ। যেমন ‘ফিতা’ শিরোনামের কবিতাটিই তেমন ভাষায় গঠিত বলে মনে হয়। দৃষ্টান্ত:
মাদারিপুরের স্তনের দিকে ধাবমান সিদ্ধিরগঞ্জ...
বাতাসে ব্লেড উড়ছে...
বাতাসে ব্লেড উড়ছে...
কেওড়ার ডালে
মৃত ময়ূরীর চুল দেখা যায়...
... এ ছায়া কর্দমাক্ত
ঠিক মানুষ নয়, মানুষের মত অবয়ব
(ফিতা)
এ যজ্ঞে শুয়ে থাকি মর্গের ভেতর
গন্ধ ফেটে পড়ে যোনি ও নেপথেলিনের
ইঁদুরের দেহে দুর্ভিক্ষের মত কাম আসে
ইঁদুরের তিনটি পা উরু বেয়ে উঠে আসে
নাসারন্ধ্রের জমাট রক্তে, অবশিষ্ট ছায়ায়...
ক্রমে কালো হচ্ছে সাদা সাদা শবের বরফ
আমার প্রেয়সী হায়!
মরু জ্যোৎস্নায় সে তো এক মেঘের জিরাফ
(ফিতা)
জল ও অগ্নি বহুটা আংরা হলে ঘুম আসে, ঘুম আসে...
দূর গাঁয়ে তোমার লন্টনের আলো নিভে যাচ্ছে মা
দূর গাঁয়ে তোমার লন্টনের আলো নিভে যাচ্ছে মা...
(ফিতা)
নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি...
জলরন্ধ্রে ধনুক বেঁকে যাচ্ছে...
তরুণ কবিদের ধনুক ও মেরুদন্ড বেঁকে যাচ্ছে জলে...
(অরণ্যের উদর হতে)
যদিও এভাবে তারুণ্যের উদর হতে কবিতা উঠে আসে, কিন্তু নি®প্রাণতা ও সীমাবদ্ধতা এতে কখনো আড়াল হতে পারে না। কারণ শব্দ মূলত প্রাণহীন, এবং কেবল ভাব প্রকাশের মাধ্যম বলে ব্যবহৃত হবার কারণেই আমরা এর কদর করি। কিন্তু যখন হৃদয়ের বন্ধ দুয়ার উন্মুক্ত করে উপলব্ধির গাঢ় রসায়নের চূড়ান্ত উদ্ভাস ঘটে, তখন ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ সঙ্গম তৃষ্ণাকাতর শরীরের মত আমূল কেঁপে ওঠে, বিধ্বংসী প্রেমিকার মত ভাবকে পুরে নেয় সম্পূর্ণ নিজের ভেতর। সেক্ষেত্রে সাধারণ শব্দ ও হয়ে ওঠে অসাধারণ, সীমাহীন কল্পনাকে অঙ্গে ধারণকারী এই সীমাবদ্ধ ক্যানভাসকে আমরা তখন বুকের তোরঙ্গে তুলে রাখি। যেমন:
কৌরব কাটার দহন
ভালবাসি ঘৃণাবীজ, রক্তের দানা
(পাথর হে পন্ডিত)
বিম্বমুখী
এ বড়ো আয়না-রজনী
পিতার উদ্দেশ্যে যাত্রারম্ভ করে
সন্তানের চিতা...
(বিম্বের দিকে)
জঠরে আগুন মাগো
কক্ষপথে উড়ে যায় কালো কালো দিন
(নদীতীরে)
চৌচির জলে দীর্ঘ হাঁটিয়াছি
প্রতি দমে পান করি অমোঘ অনল।
আজ
মেঘ ডাকিয়াছে।
আমায় ডাকিয়ো পাখি
অর্ধেক জল আর অর্ধেক স্থলে।
কুটিল সংসার জাগে, অন্ধকারে
প্রাচীন সেই পাপ ও পূর্ণরাশি
পাখি
আমি তো বংশ মাঝি
নর্দমায় ফুটিয়েছি চূড়ান্ত গোলাপ।
(বংশমাঝি)
কবিতা আসলে এমন এক শিল্পিত শরীর, যেখানে আবেগ-অনাবেগ, অনুভূতি ও বিতৃষ্ণাকে সঠিক মাত্রায় সহাবস্থানে রাখা জরুরী। কারণ কবি যদি অধিকমাত্রায় আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন, তাহলে কবিতা আর কবিতা থাকে না, বরং একরকম বিলাসিতায় পরিণত হয়। এ বিলাসিতা হয়তো চৈতন্যে কোন সাময়িক প্লাবন জাগাতে পারে, কিন্তু কোন গঠনমূলক অথবা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব জাগানো তার পক্ষে অসম্ভব। অন্যদিকে অতিমাত্রায় বাস্তবতানির্ভরতা অর্থাৎ অনুভূতির অনাবেগ পাঠকের অন্তর্গত অবলোকন ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি কখনো নির্বাসিতও করে দেয়। সুতরাং এক্ষেত্রে কবির কাজ হচ্ছে শিল্পকে জীবনের অনুষঙ্গ ভেবে এর মধ্যে পরস্পর বিরোধী আবেগগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা। কারণ জীবনের ভাঁজে ভাঁজে যেসব বোধ, অভিজ্ঞতা, চেতনা ঢুকে পড়ে সেসব প্রায়শই পরস্পর বিরোধী। এ ব্যাপারগুলো অনুধাবনে আগ্রহী হলে আমরা দৃষ্টি দিতে পারি মঞ্জুর রচিত এ সমস্ত পংক্তির দিকে:
প্রতিদিন মৃত্যু হলে, নিদ্রার কাফন ফুঁড়ে উঠে আসি মীন
ভরা পূর্ণিমার রাতে দূরের আকাশে ওড়ে বর্ষার জমিন।
ওহে কাশফুল, তুমিও দেখিয়ো একদিন করাতের কাল
জল-চন্দ্রের খেলায় অগোচরে খুন হয় রোদের বেড়াল।
কুসুমের মৃত্যু হলে মানুষেরা আর কতদিন বাঁচে
আকরের বিভিন্ন গ্রহে আমার প্রাণের টুকরা পড়ে আছে।
(পিরামিডের পাখি)
কোথাও যাইনি পালিয়ে
কুয়াশার পেট খন্ড খন্ড করে
মশাল জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে জাহাজ এসেছে আমায় নিয়ে যেতে
যাইনি কোথাও।
কন্যা ধনবতী, মা আমার
চুলের বেণীতে পরে আছে লাল লাল ফাঁসির ফিতা
কোথাও যেতে পারিনা তো আমি!
(অরণ্যের উদর হতে)
আজ শুনিয়াছি তাহার জবান
এমন গরমের দিনে
কাটা-ঘাসে পড়ে রয় জরায়ুর ঘ্রাণ।
সারাদিনমান
তোমায় নিবেদন করি ঘাসফুল
আমি তো অন্ধকার চিরদিন
রাত্রি হয়ে ঘিরে রাখি তোমারে আমূল।
(ঘ্রান ও ঘাসের জরায়ন)
কিন্তু এমন অনুভবের বিন্যাস হেতু মঞ্জুর কবিতাকে যদি দূর্বোধ্যতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়, তাহলে এর জবাব কি হবে? এর সম্ভাব্য জবাব হতে পারে এই যে এমন আপাত বিভ্রান্তি আসলে কবির স্বাতন্ত্র্য রক্ষার সচেতন প্রয়াস। কেননা প্রতিটি শিল্প স্রষ্টাই তাঁর সৃষ্টি প্রক্রিয়ার ক্রম বিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য মাতৃত্ব প্রত্যাশী রমণীর মতই উদগ্রীব থাকেন। সুতরাং জন্ম দেন এমন সব পংক্তির, যা সবার কথা বলবে কিংবা সবার মত করে বলবে না, অথচ স্পর্শ করবে সবাইকে। দৃষ্টান্ত:
আমিতো প্রেমিক
প্রীত নই মনুষ্য জন্মে
তাই কভু ভালবাসতে শিখিনি
(ছায়াংশ)
কাফের কন্যা তুমি, তোমাদের দেশে
একদা ছিলাম পাখিদের রাজা
পালক ঝরিয়ে হায়
নামের গুমানে আমিও কি তবে মানুষ হয়েছি!
(গুমান)
ভষ্মবৎ জমিনে ভাসে প্রৌঢ় প্রার্থনাগার
পার হব ত্রিবেণীর স্রোত
প্রাপ্ত যদি হই আত্মহত্যার অধিকার
(পাপ)
এমন ব্যক্তিক অনুভূতির কারণ কি তবে এই বোধ ‘মানুষ তো তুচ্ছ রয়ে যায়/ তুচ্ছাতিতুচ্ছ এই প্রেম, রঙের বিভ্রম (উজ্জল খুন)’, কেননা
ক্রুশবিদ্ধ
চিরদিন মানব কুমার আমি
চৌচির মাঠে নিরন্তর কুড়িয়েছি কাঁকড়ার ছায়া
(দোযখ সুন্দরী)
অনুভবের ক্ষেত্রে আবেগের প্রাধান্য যতটা প্রকট, ঠিক ততোটা প্রকট প্রকাশের ক্ষেত্রে নয়। এক্ষেত্রে সচেতন কবি তাঁর মননের প্রসারিত সাগরের তলদেশ থেকে যে দার্শনিকতার বোধ ছেঁকে তোলেন, আপাত দৃষ্টিতে তাকে জীবন বিদ্বেষী বলে মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে এতো জীবনের পক্ষেই এক অসম সাহসী উচ্চারণ। যেমন:
তোমার উরু বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে মানবিক শ্লেষা
তুমি রচনা করবে না এবার ঐতিহ্যের বানান
এখন পাপ ও পরমাঙ্কের নিচে অন্য কোন রেখা নেই
এ কোন দ্রাঘিমায় পৌঁছে গেছে উড়াল বৃক্ষ
এ কোন দাঘিমায় পৌঁছে গেছে লোমশূণ্য মানুষের উড়াল!
(স্তব্ধ প্রজাপতি)
একি তবে জনম জনমের ঘোর
জন্মান্ধ পাখির ডাকে ঝরে পড়ে মানুষের মুকুর
(কেঁচো ও কোকিল)
চর্বন-চোষ্য-পেয়
এই সেই ঘন গন্দম, রক্তাক্ত আপেল নিয়ে আসি
বেহেস্তী জল্লাদ হত্যা করে...
ছিলাম তো শয়তানের পিতা
সঙ্গম পাখির বাতাসে আমিও মানুষ হয়ে যাই
(পবিত্র শয়তান)
কারণ একমাত্র কবিই দাম্ভিকতার সাথে এই ঘোষণা দিতে পারেন:
প্রত্যাখ্যাত
বরণ করি ঈশ্বরের সাজা
মহারাষ্ট্রে তাই আমি শয়তানের রাজা।
(পবিত্র শয়তান)
প্রমিথিউসের মত এইভাবে নিজেকে চিহ্নিত করার পরও তাঁর মনে হয়:
অতৃপ্ত
আত্মার সাধ
সুতরাং তাঁর অবস্থা হয়:
জন্ম ভিখারী
সেই সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়েছি চক্ষুহীন
দুই হাতে পাপ ও পূণ্য তুলে দিয়ো
ফুটা ফুটা ঘাম, জিওল জীবন
(জল ও ছুরিকা)
এবং সবকিছুর পরও আক্ষেপ জাগে এই ভাবে:
দুই হাত পরাভূত দীর্ঘ দীর্ঘ দিন
কলিজা ও খাগড়ার কলম ছুঁড়ে ফেলেছি
চিতার আগুনে
ছুরি দিয়ে কত আর লিখে যাব রক্তের বানান
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!’
(গাছের গীর্জা)
পৃথিবীর অন্য সব কিছুকে কবিতারূপে স্বীকৃতি দেবার ক্ষেত্রে হয়তো দ্বিধা থাকতে পারে, কিন্তু এমন আত্মস্থ আক্ষেপকে কবিতা বলতে দ্বিধা নেই, কারণ এক্ষেত্রে দ্বিধা থাকা উচিতও নয়। পাঠক কি বলেন?
সাপ ও সূর্যমুখী: দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, প্রকাশক: বৃক্ষ, ১২/৪ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০, প্রচ্ছদ: ধ্র“ব এষ।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:২২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন:
ধন্যবাদ কবি।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪০
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
৩২|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৯
আমি ও আমরা বলেছেন: অনেক সময় নিয়ে পড়তে হবে কবি। খুব ভালো লাগলো। প্রীয়তে নিলাম
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৩৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাল থাকুন।
৩৩|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৬
মিলটনরহমান বলেছেন: লিটল ম্যাগ থেকে পাওয়া আলোচনাটি দিয়ে গেলাম।
ভালো লাগবে পাঠকদের।
রহস্য ও রহস্য উন্মোচনের কবিতা
আদনান সাগর
-----------------------------------------------------------------------
সাপ ও সূর্যমুখী ॥ দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু ॥ প্রকাশক : বৃক্ষ, ঢাকা ॥ প্রকাশকাল : একুশে বইমেলা ২০০৮ ॥ প্রচ্ছদ : ধ্র“ব এষ ॥ পৃষ্ঠা : ৫৬ ॥
‘দীর্ঘ নির্বাসন শেষে/ধরায় এসেছি পূর্ণিমা রাতে, পাপিষ্ঠ পর্বত হতে/আমি তো অজ্ঞান, অজ্ঞাত ছিলাম.../জ্ঞাত হই- প্রেম আর কামের কৌশলে’ এই হচ্ছে কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্বর্গ হতে বিচ্যুত হয়ে আরেক স্বর্গে প্রবেশের কৌশল। আর সেখানে প্রবেশ করে দেখেন ‘তোমাদের গ্রামে রেলপথে পড়েছিল কুয়াশার দানা.../শ্মশান নিভে গেলে থেমে-থাকা ধোঁয়া জানি পোকার খাবার/বাঁশবনে হল হল বাতাস শোনা যায়... নাভী আর নাওয়ের ঘুঙুর/এ দিবস শান্তিবারোমাসি/অচিন নক্ষত্র ওঠে শ্রীধর বানিয়ার দেশে।’ মঞ্জুর সম্প্রতি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাপ ও সূর্যমুখী’র কবিতাগুলো সম্পর্কে উপর্যুক্ত ধারণাগুলোকে জ্ঞান করে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে। সৃষ্টির রহস্য অপার। পৃথিবীর অগণ্য প্রাণিকুল আর যা কিছু সুন্দর-কুৎসিত-সৃষ্টির পেছনে থাকে কত না পূর্বাপর। থাকে বাস্তব অতিবাস্তব পরিবেশ পরম্পরা। আছে ধর্ম কাম ক্রোধ প্রেম বিষাদ ঘিরে মানুষের জীবন প্রণালী। আর এ সবকিছুকে ঘিরে মঞ্জু নির্মাণ করেন তার কবিতার চিত্র চিত্রকল্প উপমা উৎপ্রেক্ষা। কবিতায় আলোচ্য কবির ভাবনাগুলো নতুন সত্য সন্ধানী। ‘দোজখ সুন্দরী’ কিংবা ‘পবিত্র শয়তান’দের শনাক্ত করা তার এ জাতীয় ভাবনার ফসল।
মাত্র ৫৬ পৃষ্ঠার ‘সাপ ও সূর্যমুমী’ পাঠ করে অনেক ভার অনেক বেদনা অনেক অনুসন্ধিৎসা বহন করবেন পাঠক, সন্দেহ নেই। একদিকে যেমন প্রচল সত্যকে অস্বীকার করে নয় মঞ্জুর কবিতা, অন্যদিকে যে কোনো শাশ্বত সত্যের নতুন নতুন ব্যখ্যায় উপস্থাপন তার কবিতার সহজাত প্রবণতা। মানুষের সৃষ্টি রহস্যের অনুসন্ধান করে কাম প্রেম নানা মাত্রায় গুরুত্ববহ হয়ে, বিশিষ্টতা পেয়েছে তার ‘সাপ ও সূর্যমুখী’। এ গ্রন্থের কবিতার যৌবন ও তারুণ্যকে পাঠকের অস্বীকার করার জো নেই। তথাকথিত দুর্বোধ্যতা কিংবা অযৌক্তিক নিরীক্ষা প্রবণতায় মঞ্জুর কবিতা পাঠকের সঙ্গে সেতুবন্ধ তৈরিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না।
সমসাময়িক জীবন বাস্তবতা ও মানুষের আধুনিক-উত্তর মনন সংকটকে উপজীব্য করে তার কবিতা পথ চলে স্বতন্ত্র ধারায়। মানুষের ভেতর-সৌন্দর্যকে উন্মোচন করতে এবং সত্যের স্বচ্ছতাকে আড়াল করতে এক শ্রেণীর স্বার্থপরতা যে কুয়াশার প্রলেপ লেপটে দিতে সদা সতর্ক, কবিতায় মঞ্জুর বিদ্রোহ তার বিরুদ্ধে। এবার মঞ্জুর কিছু কবিতার উদ্ধৃতি আবশ্যক মনে করি।
১
দুই হাত পরাভূত দীর্ঘ দীর্ঘ দিন
কলিজা ও খাগড়ার কলম ছুঁড়ে ফেলেছি
চিতার আগুনে
ছুরি দিয়ে কত আর লিখে যাব রক্তের বানান
অক্ষরের মহিমা জানি না তো
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!
[গাছের গির্জা]
২
ঘাটের গিরোয় আবদ্ধ হাওর, সমুদ্রের জল
নক্ষত্রের আলোয় নিরন্তর ওড়ে হাড়ের কলকল।
নাভীর নির্মাণে হরপ্পায় বাড়ে পাখিদের ঘর
মাটির সওয়ারীতে নাইওরী যায় প্রশান্তসাগর।
[পিরামিডের পাখি]
৩
ছুঁয়েছিলে তুমি পঞ্চ পৃথিবীর চাঁদ।
জন্মান্ধ জঠর ছিঁড়ে পিছলে পড়ে পূর্ণিমা...
আমি তো পাহাড়ের পিতা
বিগত বন্ধুর নামে
কুয়াশার নদী ভাসে ভাটির বাঁকে।
[দৃশ্যগীত]
৪
শ্লেষার সমুদ্রে ভাসে নক্ষত্ররাজি। মাগো, আমি তো ছিলাম বৃষ্টির ফোঁটা, কোনো এক আষাঢ়ের রাতে মৃত মানুষের মেদ গলিয়েছি ঘনবদ্ধ গোরস্থানে। যে জন সহোদরা ছিল, জল হতে যদিও ঝিনুক কুড়িয়েছে তারপর মিশে গেছে চৌচির ছায়ায়।... আর সেই সব ভগ্নি ও ভ্রাতা কোনোদিন দেখি নাই যাদের, ফড়িং হয়ে আসবে না যারা পরিচিত ঘাসে তাহাদের নামে সমুদ্রের ঐ পারে ঝরে শূন্যাবর্ত, কুয়াশার জাল।
[ কেঁচো ও কোকিল]
৫
জলের জানালা বেয়ে মাছ ও মানুষ লাফিয়েছে
ঐ অ্যাংলো বনভূমে
পাহাড় বেয়ে আত্মহনন করে কিছু কিছু গুটিপোকা
আমি তো পঙ্খিরাজ পুরাতন
বায়ুপন্থে শুধু পালক হারিয়েছি।
[দৃশ্য]
৬
চিরে দিচ্ছি পাখি।
ঠোঁট ও ঠুকরহীন
পাখিদের দেহ হতে মধ্যাকর্ষণ চিরে দিচ্ছি।
গগন বিদীর্ণ করে তারা শুধু উঁচুতে যাবে
চিতাগ্নিতে তাহাদের ডানা আর পুড়বে না
আর গৃহে ফিরবে না তারা।
ত্রিধর্মী বন্ধু হেঁটে যায় পাখিদের তিনখণ্ড ছায়ায়
ঘনবন্ধ তাদের ভাল করে বুঝা যায় না
অর্ধেক মানুষ না অর্ধেক কবি!
[কবি]
৭
আধো আলো, অন্ধকারে
আউশের ক্ষেতে ওড়ে সবুজ শাড়ি
ইন্দ্রের অতীত প্রেমিকা তারা
তাহাদের পিয়াইন বৃক্ষের মাথায়
সাঁওতালী চাঁদ ঝুলে থাকে
গজারের বনে হৃৎকম্প শোনা যায় ঘুঘু পাখিটির।
[স্ফটিক]
৮
জঠরে আগুন মাগো
কক্ষপথে উড়ে যায় কালো কালো দিন
জন্ম দিলে না তবু
জরায়নে বেঁধে রাখো যমজ হরিণ।
পরিয়াল পাখিদের জানা
মাগো, এ আমার চিতা নয়
সংক্রামক আলোর ঠিকানা।
[নদীতীরে]
আলোচ্য উদ্ধৃতিগুলি থেকে পাঠকের ধারণার সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ করে নিতে পারে এই আলোচক। অথবা পাঠকের ধারণার সঙ্গে তৈরি হতে পারে প্রবল মতদ্বৈধতা। এই হয়তো স্বাভাবিক। কারণ যে কবিতা যত বেশি ভাবে ব্যাখাত হয় সে কবিতা তত বেশি সফল কবিতা। তবে কবি শক্তি চট্টপাধ্যায়ের জন্মবেদনাবোধের সঙ্গে অনেকখানি মিলিয়ে নেয়া যায় কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর কাব্যবোধকে। যখন শক্তি তার মাকে বলেন, ‘আমাকে তুই আনলি কেন ফিরিয়ে নে,/যে মুখ অন্ধকারের মতো শীতল চোখ দুটো রিক্ত হ্রদের মতো কৃপণ করুণ.../তখন তোর জরায় ভর করে এ আমায় কোথায় নিয়ে এলি।’ ঠিক একইভাবে এই পৃথিবীর আলো ও অন্ধকার, নক্ষত্র ও মাটি, আউশের ক্ষেত, এ্যাংলো বনভূমি, সাঁওতালী চাঁদ কবির জীবনপথকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। নদীতীর থেকে বনভূমি সর্বত্র বসবাস কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর। তিনি অরণ্যে যান, সাপের আবাস জেনেও ছুটে যান ফুলের বাগানে। মালি সেজে একদিন তিনি ফুল না তুলতে পেরে তুলে নেন পাথর। যদিও ফুল তোলার বাসনা তার কখনোই নেই। মঞ্জু বলেন
কুসুম শিকারী নই
সেই বনমালি আমি
সতত পাথর কুড়িয়েছি।
[নদীতীরে]
কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর কবিতায় যেভাবে সৃষ্টি রহস্য, ইতিহাস চেতনা, ঐতিহ্য চেতনা কাজ করেছে, ঠিক একই ভাবে অসংখ্য কবিতায় আশ্রয় নিয়েছে কঠিন মৃত্যু চেতনা। কবি মৃত্যুকে সহজে মেনে নেন বটে, তবে তা শর্তসাপেক্ষে অবশ্যই। এই স্থলের মাটি হাওয়া নানা স্বার্থবাজির মাঝেও কবিকে বিমুগ্ধ করে। স্থলের সৌরভে তিনি শুশ্রূষা পান। যেভাবে মরুভূমিতে জল শুশ্রূষা এনে দেয়। মঞ্জু বলেন।
তীরবিদ্ধ বালিহাঁস হায়!
মরু-খণ্ডে চেয়েছিলে জলের শুশ্রূষা।
স্থলের সৌরভ
আর কি আসি রে ফিরে
নদীয়াবাসীরে...
২.
মৃত্যুর পরে
আমায় ভাসিয়ো জলে
স্থলের সৌরভ...
[রে...]
এই ‘সাপ ও সূর্যমুখী’ কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে সামান্য আলোচনার পর আলোচকের কথা বলার তৃষ্ণা অতৃপ্তই থেকে গেল। ইচ্ছা ছিল আরো পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা কথা বলি। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে লাগাম ধরতে হলো। তবে আপাত শেষ কথায় বলতে চাই। এ গ্রন্থের প্রায় সবগুলো কবিতাপাঠের অভিজ্ঞতাই আনন্দদায়ক। ‘নদীতে হেলান দিয়ে বসে’ আগামী দিনের পাঠক যদি ‘সাপ ও সূর্যমুখী’কে সঙ্গী করতে চান, তাহলে একটুও বিচ্যুত হবেন না সত্যিকারের কবিতার আস্বাদ থেকে। আমি এ বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৩৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
কবিতায় থাকুন।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪৯
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: মঙ্গলার্থে ...
৩৪|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০২
যশোর০০৭ বলেছেন: দীর্ঘ কবিতাটি ভালো লাগলো। দীর্ঘ জীবি হোন।
শাফি সমুদ্র
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪০
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সুন্দর থাকুন।
৩৫|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৪৫
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয় কবি.....................আপনার নতুন লিখা দিন। আপনার সমস্থ বইগুলো আমি আমার সংগ্রহে রাখতে চাই।
আমি তা কিভাবে........কোথা হতে পেতে পারি......জানালে অনেক উপকার হতো....................
আর না জানালে...........আমাকে সময়নিয়ে খুঁজে বের করতে হবে।
এবারের বইমেলায় আপনার কোন নতুন লিখা থাকছে কিনা দয়াকরে জানালে খুশি জতাম।
সবসময় ভালো থাকুন।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৫৩
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ভাবছি দেব।
শালুক, শুদ্ধস্বর ষ্টলে পুরনো বইগুলো হয়তো আছে, হয়তো নেই।
না, এ-বছর নতুন কিছু বের হয়নি। আমার অধিকাংশ গ্রন্হই ছোট কাগজে পান্ডুলিপি আকারে বের হয়েছে।
ভাল থাকুন। কবিতায় থাকুন।
৩৬|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০৮
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয় কবি.............................
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
সবসময় ভালো থাকুন।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৩৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: আপনিও ভাল থাকবেন।
৩৭|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৩১
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ বইটে শেয়ার করার জন্য।
সময় নিয়ে পড়তে হবে.............প্রিয়তে নিয়ে গেলাম।
পড়ে বলে যাবো।
শুভেচ্ছা থাকলো।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৪৯
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাল থাকুন।
৩৮|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৪৪
নম্রতা বলেছেন: Blind & the helpless !
I wasn't there !
মুগ্ধতা ..পাপ ও পাথরে ..।
কবি ...কি ভাল ভাল আছেন ?
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:২২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ভাবছি ভাবছি এবং ভাবছি ...
আমি কি আছি!!!
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪১
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ভাল থাকুন।
৩৯|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৩০
নম্রতা বলেছেন: You aren't there either !
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৩৫
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: true ...
but
I am the one without hope, the word without echoes,
he who lost everything and he who had everything.
৪০|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৪০
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: এই কবিতার পান্ডুলিপি কিভাবে চোখকে ফাকি দিয়ে গেলো।![]()
অসম্ভব ভালো লাগার মত কবিতা পেয়েছি। আপনার সাথে আগে পরিচয় ছিলাম না তবে, হতে পেরে ভালো লাগল।
প্রিয়তে নিলাম। সময় করে একেক করে পড়তে হবে।
ভালো থাকুন।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৪২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সুন্দর থাকুন।
৪১|
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩৭
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
কে জানে সমুদ্রসভায় ভাঙে মৌতাত
তাঁতি তার ঘরে ফেরে ধ্বস্তদেয়াল
সুতো নেই বুনোলতা পায়ের আঙুল
আলো নেই রাত্রিবাস দুইগাছিচুল
নাভীমূলে হেরাগুহা জ্বলজ্বলে চোখ
কে চাদর জড়ায় এসে ভ্রূণের অসুখ
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৪৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: কে চাদর জড়ায় এসে ভ্রূণের অসুখ
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪২
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ভাল থাকুন।
৪২|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:১৯
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয় কবি.......................
নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি...
জলরন্ধ্রে ধনুক বেঁকে যাচ্ছে...
তরুণ কবিদের ধনুক ও মেরুদণ্ড বেঁকে যাচ্ছে জলে...
নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি...
........................................................................................
অতঃপর মৃতদের মিছিলে যাব
মাঠে মাঠে আমিও চরাবো মনস্তত্ত্বের মহিষ
কে ফেরাবে আমায়
আমি তো চাদর পরে আছি
চামড়ার চাদর পরে আছি!
.......................................................................................
.......................................................................................
শূন্যতায় হেলান দিয়ে বসে আছি
আমার মেরুদন্ড বেঁকে বেঁকে যায়-
আমার দেহ যায়
আমার মন যায়
আমার আত্বা যায়-
মুগ্ধ আমি
কিছু অপরুপ সৃষ্টির তামাসায়।।
................................................
সবসময় ভালো থাকুন।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪৭
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি...
জলরন্ধ্রে ধনুক বেঁকে যাচ্ছে...
তরুণ কবিদের ধনুক ও মেরুদণ্ড বেঁকে যাচ্ছে জলে...
নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি...
........................................................................................
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪৯
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
৪৩|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২৭
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: উদ্যত ছুরির নীচে শির ও সাঁসি হেসে ওঠে...
উদগ্র উন্মাদ হেঁটে যাই
কোনো এক নিজাম-নগরে একা।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: উদ্যত ছুরির নীচে শির ও সাঁসি হেসে ওঠে...
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪৬
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ভাল থাকুন।
৪৪|
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৫২
তনুশ্রীপাল বলেছেন: ... অতৃপ্য আত্মার সাধ
তোমার আকাশে ভাসে যেন এক ঘু ঘু-ডাকা চাঁদ।
০৯ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:১৭
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ঘু ঘু-ডাকা চাঁদ।
৪৫|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৩৬
শত রুপা বলেছেন: দুই হাত পরাভূত দীর্ঘ দীর্ঘ দিন
কলিজা ও খাগড়ার কলম ছুঁড়ে ফেলেছি
চিতার আগুনে
ছুরি দিয়ে কত আর লিখে যাব রক্তের বানান
অক্ষরের মহিমা জানি না তো
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!
মৃত্যুর অধিক বানান জানি না তো!
০৯ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:১৮
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: ছুরি দিয়ে কত আর লিখে যাব রক্তের বানান
৪৬|
১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৫
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: আজ
মেঘ ডাকিয়াছে।
আমায় ডাকিয়ো পাখি
অর্ধেক জল আর অর্ধেক স্থলে।
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:২৩
দেলোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন: অর্ধেক স্থলে।
৪৭|
১৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:১৭
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: কবি-কে, এই পাণ্ডুলিপির কবিতাগুলোকে বোল্ড করে দেওয়ার অনুরোধ করা হলো।
৪৮|
০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:২৮
আইসিস বলেছেন: বাহ,খুব সুন্দর ।
৪৯|
০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৭
আইসিস বলেছেন: আবার পড়লাম ।
৫০|
২২ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৫১
শ্রাবনের ফুল বলেছেন:
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:২৫
মাশূক আনিস বলেছেন: অধীর ও অপার আছি বৃষ্টি-ভিক্ষা চাই
জল চাই অতল ভিতরে নিশ্চিদ্রের গভীর গোপন ঘরে
প্রার্থীতায় আজন্ম বিমুখ
প্রার্থনা তুচ্ছ করেছি-
কেবল প্রার্থনার মতো করে আরাধনা করি
সাপ ও সূর্যমুখী
----------------
কবি , দীর্ঘজীবি ও দীর্ঘ অক্ষরে অক্ষরে , দীর্ঘ পঠিত হবেন -
এই বাসনাটুকু সুদীর্ঘ ব্লগের বুকে বহুদিন ধরে থাকুক।