নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পৃথিবী

সাগর চৌধুরী নিলয়

স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পছন্দ করি।

সাগর চৌধুরী নিলয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটে চোরাই মালের রমরমা বাণিজ্য

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৩৯

মো: রাসেল বয়স-২০ গুলিস্তান ভাসানি হকি স্টেডিয়াম মার্কেটের এক দোকানির কাছে মোবাইল বিক্রি করছে। দোকানদার ৩ হাজার পাঁশত টাকার নোকেয়া মোবাইলটি কিনে নিল মাত্র ২ শত ৫০ টাকায়। মোবাইলটি এত কম দামে বিক্রি কেন করলে ছেলেটির কাছে জানতে চাইলে সে বলে মোবাইলটি আমি রাস্তায় পেয়েছি তাই। আসল গটনা হলো ছেলেটি কারো পকেট থেকে মোবাইলটি চুরি করেছে। পরে দোকানদারের কাছে জানতে চাইলে সে বলে এ মার্কেট ঘিরে এরকম অনেক ছেলে আছে যারা চিনতাই করে মোবাইল নিয়ে এসে এখানে বিক্রি করে। শুধু তাই নয় চল্লিশ হাজার টাকার আইপ্যাড মোবাইল পাওয়া যায় মাত্র দশ হাজার টাকায়। এর চেয়েও সস্তা পাওয়া যায় কম্পিউটার, প্রিন্টার, বিদেশী ঘড়ি, টিভি, ভিসিডি, লাইটার, টেলিফোন সেট, সব ধরনের ব্যাটারীসহ নামীদামী সব পণ্য। দাম কম হলেও গুণগত মান কিন্তু খারাপ নয়। সেরা সব ব্র্যান্ডের মাল পাওয়া যায় অবিশ্বাস্য দামে। কারণ একটাইÑ এসব চোরাই পণ্য। লুট, ছিনতাই ও চুরির এসব মাল রাজধানীর কয়েকটা সুনির্দিষ্ট মার্কেটে বিক্রি করা হয়। যার মধ্যে মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেট উন্নতম।

এ স্টেডিয়ামে রয়েছে চোরাই মোবাইল ফোন ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর দোকান। এটি ঢাকার চোরাই মার্কেটের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইলেক্ট্রনিক মার্কেট। এমন কোন জিনিস নেই, যা এখানে পাওয়া যায় না। দোকানগুলো সারাদিন খোলা থাকলেও দিনের আলো নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠতে শুরু করে। চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। এ সময় লোকের ভিড় জমে প্রচুর। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টিভি ভিসিডি, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, দেশী-বিদেশী লাইটার, সবই মেলে এখানে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এছাড়াও গুলিস্তান পাতাল মার্কেট, বঙ্গবাজার, সদরঘাট, মিরপুর শাহআলি মাজার সংলগ্ন ফুটপাথ, গাবতলী, উত্তরা, টঙ্গি, ওয়াইজঘাট ও চকবাজারের বেগমবাজারে গড়ে উঠেছে এ ধরনের চোরাই মার্কেট।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় সব সময় অন্য সব মার্কেটের মতোই জমে উঠে এসব মার্কেট। মানুষ জানে এসব চোরাই মাল। তারপরও সমাজের বিত্তবান ও ভদ্রলোকদের এসব মার্কেটের খরিদ্দার হিসেবে দেখা যায়। দোকানগুলোর পরিসর খুব একটা বড় নয়। ছোট ছোট কাঠের চৌকি কিংবা মেঝেতে প্লাস্টিকের ছালা-চট বিছিয়ে সাজানো হয় এসব পন্য। নগরীর বিভিন্ন্ এলাকায় চুরি-ছিনতাই হওয়া মালামাল রাতের আধারে জমা হয় এসব বাজারে। কি নেই এসব বাজারে? ব্যবহার্য দ্রব্য ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা, মোবাইল ঘড়ি, ইলেকট্রনিকসামগ্রী, জুতা, কাপড়, কেমিক্যাল সামগ্রী সবই আছে। এ মার্কেটের প্রধান বৈশিষ্ট্য রাতের আধারেই জমে, আবার রাতেই শেষ হয়ে যায়। শুধু ক্রেতা বেশে নয়, খোয়া মালের সন্ধানেও আসেন অনেকে। তবে কম দামে বেশি দামের জিনিস পেলেও রয়েছে ঝুঁকি। বিক্রেতা মাল বিক্রি করে ক্রেতার কাছ থেকে আবার কেড়ে নিতে পারেন অনায়াসেই। আশপাশে উৎপেতে থাকে সংঘবদ্ধ চোরের দল।

গুলিস্তান পাতাল পাতাল মার্কেটে শুধুই ইলেকট্রনিক মাল। এখানে শতাদিক মোবাইল ফোন মেরামতের দোকান রয়েছে। এমার্কেটে মূলত বিক্রি হয় পুরনো ফোন। মেরামতের আড়ালে চলে বেচাকেনা। এক রকম পানির দরেই মেলে এখানে। তবে এ মার্কেটে মোবাইল ফোন কিনে বেশি ঠকেন ক্রেতারা। ভাল মোবাইল ফোনের সফটওয়্যার বদলে কম দামী সফটওয়্যার দিয়ে বিক্রি করা হয়। তবে হকি স্টেডিয়ামের সঙ্গে এ মার্কেটের দোকানিরা সমন্বয় করে মাল বেচাকেনা করেন। পছন্দের জিনিস দোকানে না থাকলেও আপনাকে দাঁড় করিয়ে রেখেই পাশের হকি স্টেডিয়াম থেকে পাঁচ মিনিটেই এনে দেন মাল। এদের রয়েছে রাজধানীজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। সিন্ডিকেট সদস্যরা এখানে এনে বিক্রি করে। ছিনতাই কিংবা চুরির যেটাই হোক এখানে এনে দিতে পারলেই হলো, বিনা প্রশ্নেই তারা সেটা কিনে রাখেন। পরে সেটা দামদর করে লাভ নিয়ে কাস্টমারের কাছে ছেড়ে দেয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের কথা ঃ মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় ব্যতিক্রম চিত্র। জাহিদুল ইসলাম নামে এক বদ্রলোক আসে তার চিনতাই হওয়া থ্রিজি শ্যামশাং মোবাইল সেটের খোজে। তিনি জানান গতকাল সন্ধ্যায় মগবাজার ওর্য়ালেচ রেলগেট থেকে দুইজন চিনতাই কারী চুরি দরে ভয় দেখিয়ে আমার কাজ থেকে মোবাইল ও টাকা নিয়ে যায়। মোবাইলটি আমার শকের ছিল বিদায় এখানে খুজতে এসেছি। তবে তা পেলাম না। তবে আমার বিশ্বাস, এ মাকের্টেই তা পাওয়া যাবে। কারণ এর আগে তার এক বন্ধু একই মার্কেট থেকে নিয়ে গেছে হারানো ল্যাপটপ।

সেখানেই দেখা মেলে একটি কলেজ পড়–য়া এক ছাত্রের। তার হাতে একটি ল্যাপটপ। জানতে চাই কত দিয়ে কিনেছেন। উত্তর দিতে ইতস্তত করলেন। বললেন বিক্রেতার মানা, প্রকৃত মূূল্য ফাঁস করা যাবে না।

তার মতোই আরেকজনকে দেখা গেল, ত্রিশ হাজার টাকা দামের একটি লেজার প্রিন্টার কিনে নিয়েছেন মাত্র ৬ হাজার টাকায়। এটা কি করে সম্ভব জানতে চাইলে দোকান মালিক সরাসরি অস্বীকার করে উত্তর দেনÑ এ লেজার প্রিন্টারটা তার দোকান থেকে কেনা নয়। এটা হয়ত সে বারান্দা থেকে কিনেছে। বারান্দায় প্রতিদিনই বাসাবাড়ির লোকজন তাদের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নিয়ে আসে। সেগুলোর দাম বেশ কম।

মারজিয়য়া ইলেক্ট্রনিক্সের সামনে দুইজন লোক একটি আইপ্যাড মোবাইল কিনতে দোকানদারের সাথে দামাদামি করছে মাত্র দশ হাজার টাকায়। আইপ্যাডটির ব্যাগ আছে কিনা জানাতে চাইলে দোকানদার তাদের বলে ব্যাগ নেই তবে ব্যবস্থা করে দেয়া যাবে।
মালের উৎস কোথায় ঃ এসব মালের উৎস সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, চোরাই মার্কেট হিসেবে পরিচিত এসব মার্কেটের সব পণ্যই চুরির নয়। প্রতিদিন ঢাকা শহরে ছিনতাই ও ডাকাতি হওয়া মালও এখানে আনা হয়। এছাড়া মহল্লার ভাসমান হকাররাও বাসাবাড়ি থেকে সস্তা দামে ভাল ব্র্যান্ডের জিনিস কিনে এসব মার্কেটে বিক্রি করে । এগুলো তো আর অবৈধ নয় বলে দাবি করলেন হকি স্টেডিয়ামের একজন ইলেকট্রনিক্স মাল ব্যবসায়ী। অনেকে অভাবে পড়ে ভাল জিনিসও কম দামে বিক্রি করে দেয়।
পুলিশেরও জানা এসব মার্কেট সম্পর্কে। পুলিশের টহল টিম মার্কেটের সামনে ডিউটি করে। বাইরে পুলিশ, ভেতরে চোরাই পণ্যের হাট।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.