| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিজয়ের মাসের প্রথম দিনেই নৈপূন্য দেখালো বাংলার দামাল ছেলেরা। জিম্বাবুয়েকে আবারও ধোলাই করেছে বাংলাদেশের টাইগাররা। ১ ডিসেম্বর মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচে শেষ সিরিজে বাংলার টাইগাররা বিজয়ের মাসে তাদের জয় ছিনিয়ে আনলো ৫-০ ব্যবধানে। শেষ পর্যন্ত টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও ধবলধোলাই হলো জিম্বাবুয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ধবলধোলাই করার স্মারক হিসেবে দুটো ট্রফি বুঝে নিলেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক আর ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি।
সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩০ ওভারে ১২৮ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। জবাবে ২৪ ওভার ৩ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
তাইজুল ইসলাম, সাকিব আল হাসান আর জুবায়ের হোসেনের ঘূর্ণিতে ছোট লক্ষ্যই পায় স্বাগতিকরা। সিরিজে প্রথমবারের মতো লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্রুত উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত দলকে সহজ জয়ই এনে দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
৫ উইকেটের এই জয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৫-০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ। এর আগে ৩-০ ব্যবধানে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জেতে স্বাগতিকরা।
জিম্বাবুয়ের দুই পেসার টিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও টেন্ডাই চাটারা পরীক্ষায় ফেলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।
মাত্র ২৮ রানে বিদায় নেন স্বাগতিকদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও এনামুল হক। তামিমকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন পানিয়াঙ্গারা। এরপর এনামুলকে বিদায় করেন চাটারা।
অভিষেক ম্যাচে উইকেটে থিতু হয়েও ফিরে যান সৌম্য সরকার। দলীয় ৪৭ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেয়ার আগে ২০ রান করেন তিনি। মাত্র শূন্য রানে সাকিব ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদুল্লাহ। আম্পায়ারের ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তে আউট হয়ে মুশফিক বিদায় নেয়ার সময় জয়ের জন্য স্বাগতিকদের প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান।
সাব্বির রহমানকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সহজেই সারেন মাহমুদুল্লাহ। মাহমুদুল্লাহর ৫৫ বলে অপরাজিত ৫১ রানের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ১৫৩ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির।
জিম্বাবুয়ের চাটারা ৩ উইকেট নেন ৪৪ রানে। পানিয়াঙ্গারা ৪৯ রানে নেন ২ উইকেট।
ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়েরও। দলে ফেরা সিকান্দার রাজাকে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি করে প্রথম আঘাত হানেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
তবে এরপর দ্রুত রান তুলতে থাকেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ভুসি সিবান্দা। এই দুইজন ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।
এক সময়ে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৯৫ রান। অর্ধশতকে পৌঁছানোর পরপরই হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে বোল্ড করে ৭৯ রানের জুটি ভাঙেন জুবায়ের হোসেন।
মাত্র ৩৩ রান যোগ করতে শেষ ৯ উইকেট হারানোয় দেড়শ’ পর্যন্তও যায়নি অতিথিদের সংগ্রহ।
প্রথম ৩ ওভারে ২৩ রান দেয়া সাকিব দ্রুত ব্রেন্ডন টেইলর ও সিবান্দাকে বিদায় করে অতিথিদের চাপে ফেলেন।
অতিথিদের জন্য দুর্বোধ্য ছিলেন জুবায়েরও। টিমিসেন মারুমকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন এই লেগস্পিনার।
সিরিজে দুটি অর্ধশতক পাওয়া সলোমন মায়ারকে এলবিডবি¬উর ফাঁদে ফেলে নিজের প্রথম ওয়ানডে উইকেট নেন অভিষিক্ত তাইজুল। সেই ওভারের শেষ বলে টিনাশে পানিয়াঙ্গারা বোল্ড করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে জন নিউম্বুকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তাইজুল। পরের বলে টেন্ডাই চাটারাকে বোল্ড করে গড়েন ইতিহাস। বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখান বাঁহাতি এই স্পিনার।
পরের ওভারেই টাফাজওয়া কামুনগোজিকে বোল্ড করে অতিথিদের ইনিংস গুটিয়ে দেন সাকিব।
মাত্র ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তাইজুলই বাংলাদেশের সেরা বোলার। সাকিব ৩ উইকেট নেন ৩০ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ৩০ ওভারে ১২৮ (মাসাকাদজা ৫২, রাজা ৯, সিবান্দা ৩৭, টেইলর ৯, মায়ার ৯, মারুমা ১, চিগুম্বুরা ৩*, পানিয়াঙ্গারা ০, নিউম্বু ৩, চাটারা ০, কামুনগোজি ২; তাইজুল ৪/১১, সাকিব ৩/৩০, জুবায়ের ২/৪১, মাশরাফি ১/২৩)
বাংলাদেশ: ২৪.৩ ওভারে ১৩০/৫ (তামিম ১০, এনামুল ৮, সৌম্য ২০, মাহমুদুল্লাহ ৫১*, সাকিব ০, মুশফিক ১১, সাব্বির ১৩*; চাটারা ৩/৪৪, পানিয়াঙ্গারা ২/৪৯)।
©somewhere in net ltd.