| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অরণ্যে রোদন...
লেখক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে (লিখিত) এই ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিক অন্যত্র ব্যাবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফেসবুকঃ https://www.facebook.com/dr.saiful.bd
‘মাই নেম ইজ সুলতান’ ‘ঢাকার কিং’ ‘বস্তির বাদশাহ’ আমাদের সিনেমা জগতে এমন আরও অসংখ্য চকচকে নাম খুঁজলে পাওয়া যাবে। প্রশ্ন হল এইজাতীয় বাহারি নামের সিনেমাগুলো আমাদের সমাজকে প্রতিনিয়ত কি উপহার দিচ্ছে?
একথা অনস্বীকার্য যে গুটিকতক সিনেমা বাদে বাকি প্রায় সবগুলোরই দর্শক নিম্নবিত্তের মানুষেরা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে পোশাক স্রমিক, রিকশাওয়ালা, দিনমজুর এরাই মূলত আমাদের চলচ্চিত্রের প্রযোজকদের মূল ভরসা। এদের মাঝেও মূলত তরুণ এবং যুবা শ্রেণীর লোকদের আনাগোনাই সিনামা হলগুলোতে বেশি। এখানে উল্লেখ্য যে কোনভাবেই এই পেশাগোষ্ঠীর মানুষকে ব্যঙ্গ করার অভিলাষ নিয়ে আমি লিখতে বসিনি। আগের কথায় ফিরে আসি, উপরে উল্লেখিত সিনেমাগুলো দেখলে এ প্রজন্মের বাংলা সিনেমার রাজপুত্তুর শাকিব খানকে আপনি পাবেন বিভিন্ন রুপে। সারা শরীরে উল্কি আঁকা স্টিকার লাগানো, কানে দুল, হাতে গোটা কয়েক ব্রেসলেট, কপালের ওপর আমেরিকার পতাকা বা অন্য কোন স্কার্ফ ফোল্ড করে পট্টির মত করে বাঁধা। তাকে বা অন্য কোন নায়ক, সহনায়কদেরকে আপনি আবিষ্কার করবেন মেয়েদের সাথে রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজের সামনে ফ্লার্ট ( অন্য নামে বললে ইভ টিজিং) করতে। প্রায় সব সিনেমায় ভিলেনদের উদ্দেশ্যে চটকদার শ্রুতিকটু ডায়লগ দিতে, বাহারি স্টাইলে সিগারেট ফুঁকতে, মোটরবাইক চালাতে দেখা যায় আমাদের সিনেমা আইকনদের।
নিম্নবিত্তের প্রতিনিধি আঠারো উনিশ বছর বয়সের একজন মানুষ যখন এইসব কাণ্ড কীর্তি দেখে সিনেমাহল থেকে বের হয় তখন তার মনোজগতে একটা ঋণাত্মক পরিবর্তন অবশম্ভাবি। দু’দিন পর তাকে দেখা যাবে গলায় মোটা চেইন, হাতে কয়েকটা ব্রেসলেট, কানে দুল পরিহিত অবস্থায় পাড়ার চায়ের দোকানে বসে নায়কোচিত ভঙ্গিতে সিগারেট ফুঁকতে। পাশ দিয়ে কোন নারী হেঁটে গেলে সে হেঁড়ে গলায় গান ধরবে ‘চুমকি চলেছে একা পথে...’ । কিছুদিন পর যখন তার রোজগার কুলিয়ে উঠতে পারবে না লাইফ স্টাইলের সাথে তখন আসবে তার মাঝে আরেক পরিবর্তন। ছুরি চাকু বা কোন আগ্নেয়াস্ত্র যোগাড় করে সে শুরু করবে ছিনতাই। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকলে তার উপর নজর পড়বে অনেক নেক নজরওয়ালার। নানা মিছিল মিটিঙে ডাক পড়বে তার, আরও লোক সংগ্রহ করার দায়িত্ব পড়বে তার উপর। পাতি নেতাদের সাথে ঘুরে ঘুরে সেই ছেলে ধীরে ধীরে তার ভিতরে তৈরি হতে থাকা ডিলিউশনটাকে কেবল আরও পরিপক্ক রূপ দিবে। তার ডিলিউশন ভুবনে নিজেকে সে আবিষ্কার করবে ‘বস্তির শাহানশাহ’ কিংবা ‘ঢাকার কিং’ হিসেবে।
এখানে আমি একটা ধারাবাহিক পটভূমি তৈরি করে লেখাটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। বাস্তবে হয়তো আমার লেখার প্রতি লাইন ধরে ঘটনা এগিয়ে যায় না কিন্তু যে ‘সামাজিক বিষক্রিয়া’র কথা আমি বলতে চেয়েছি বাস্তবে তা প্রতিদিন ঘটে চলেছে। আমার মফস্বলে একটা চায়ের দোকানে চা নিয়ে বসলে অথবা সেলুনে চুল কাটাতে গেলে আমি যে তরুণ প্রজন্ম দেখতে পাই তার একটি বড় অংশের কারিগর আমাদের নিম্নমানের, নিম্নরুচির চলচ্চিত্র। অথচ একসময় এই বাংলাদেশে অসাধারণ ছায়াছবি তৈরি হয়েছে, আমাদের দেখে কলকাতার দাদারা কত সিনেমা নকল করেছে অথচ সেই তারাই এখন অটোগ্রাফ, ২২শে শ্রাবণ এসবের মত মানসম্মত সিনেমা উপহার দিচ্ছে। আর আমরা? দিনের পর দিন কেবল পিছিয়েই চলেছি। হলিউড যদি একজন 'আল পাচিনো' উপহার দিয়ে থাকে তবে আমরাও একজন 'হুমায়ূন ফরিদী' পেয়েছিলাম, তারা যদি একজন 'রবার্ট ডি নিরো' কিংবা 'জ্যাক নিকলসন' পেয়ে থাকে তবে আমাদেরও একজন 'রাইসুল ইসলাম আসাদ' আছেন।
জানিনা কবে আমাদের কর্তাব্যক্তিদের বোধোদয় হবে, কবে তারা একটু মনোযোগ দিবে আমাদের চলচ্চিত্রের দিকে! আমি আবার সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে চাই। শুধুমাত্র সিনেপ্লেক্সের মুরগীর খাঁচা টাইপের থিয়েটার না বিশাল বড় বড় আন্তর্জাতিক মানের হলে বসে, ১০০% ছারপোকা মুক্ত পরিবেশে প্রথম শ্রেণীর স্বদেশী সিনেমা দেখতে চাই। জানি নিশ্চয়ই আবার ফিরে আসবে আমাদের রুপালী পর্দার সোনালী দিনগুলো ! সেই ক্ষণের অপেক্ষায় আছি।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪৭
অরণ্যে রোদন... বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
২|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৫
রাশান শাহরিয়ান নিপুন বলেছেন: ভাই আপনার মূল বিসয়বস্তুর সাথে একমত। তবে সেই দিনের অপেক্ষায় কেন? চলেন না। আপ্নি-আমি সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখি! এই সব নিম্ন শ্রেণীর মানুষ হলে গিয়ে সিনেমা দেখে বিধায় প্রযোজক রাও তাদের জন্যই সব সিনেমা তৈরি করে। বাজে হোক কিন্তু আপনি আপনি ভিতরে গিয়ে সিনেমা দেখে বাইরে এসে সমালোচনা করলে প্রযোজকরা ঠিকই বুঝবে এক সময়। তখনই তারা আপনার আমার জন্য সিনেমা বানানো শুরু করবে। কিন্তু সিনেমা হলে না গিয়ে বাইরে বসে আমরা যতই কান্নাকাটি করি না ক্যান, তাতে বাবসার জন্য প্রযোজকরা কখনই ক্যান লাগাবে না।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩৮
অরণ্যে রোদন... বলেছেন: সিনেমা হলে যেয়ে সিনেমা দেখতে আমার মোটেও আপত্তি নেই। কিন্তু সমস্যা হল হলে গিয়ে যে বসব তার ভিতরে তেমন অবস্থা নাই। মধুমিতা, বলাকাতে একটা সময় প্রচুর সিনেমা দেখেছি। মধুমিতার আগের অবস্থা নাই আর বলাকা, সিনেপ্লেক্সে এখনো দেশি
সিনেমা আসলেই দেখতে চলে যাই। মেডিক্যালে পড়ার সময় ছারপোকার কামড় আর ভয়ংকর গন্ধময় হলে বসেও বন্ধুরা মিলে সিনেমা দেখেছি কিন্তু এখন সেটা আর সম্ভব নয়। এখন বউ আছে, দেখতে হলে তাকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সাহস পাইনা। আমাদের এখানে যে সিনেমা হলগুলো আছে তার প্রায় প্রতিটাতে কয়েক হালি করে বারবনিতাদের আনাগোনা! বল কিভাবে যাব?
৩|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪০
আবু সায়েম বলেছেন: প্লাস না দিয়ে পারলাম না
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩৮
অরণ্যে রোদন... বলেছেন: আমিও ধন্যবাদ না দিয়ে পারলাম না
৪|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪২
লিন্কিন পার্ক বলেছেন:
বাংলা সিনেমা নিয়ে আমি পুরোপুরি হতাশ !
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩৯
অরণ্যে রোদন... বলেছেন: সুদিনের অপেক্ষায় আছি। আপনার কমেন্টের জন্য ধইন্যা
৫|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫০
ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন বলেছেন: আমি নিজেও সেই সময়ের অপেক্ষায়। তবে হল ব্যাবসা টিকিয়ে রাখতে এখন এই সিনেমাগুলোর প্রয়োজন আছে +++++
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪০
অরণ্যে রোদন... বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইজান
৬|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৭
মেটাল বলেছেন: সমস্যা আছে -- The Problem Has
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪১
অরণ্যে রোদন... বলেছেন: দ্যা সলিউশন উইল কাম পোম গানা !
৭|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০০
দুর্জয় বলেছেন: নিম্নবিত্তের প্রতিনিধি আঠারো উনিশ বছর বয়সের একজন মানুষ যখন এইসব কাণ্ড কীর্তি দেখে সিনেমাহল থেকে বের হয় তখন তার মনোজগতে একটা ঋণাত্মক পরিবর্তন অবশম্ভাবি। দু’দিন পর তাকে দেখা যাবে গলায় মোটা চেইন, হাতে কয়েকটা ব্রেসলেট, কানে দুল পরিহিত অবস্থায় পাড়ার চায়ের দোকানে বসে নায়কোচিত ভঙ্গিতে সিগারেট ফুঁকতে। পাশ দিয়ে কোন নারী হেঁটে গেলে সে হেঁড়ে গলায় গান ধরবে ‘চুমকি চলেছে একা পথে...’ । কিছুদিন পর যখন তার রোজগার কুলিয়ে উঠতে পারবে না লাইফ স্টাইলের সাথে তখন আসবে তার মাঝে আরেক পরিবর্তন। ছুরি চাকু বা কোন আগ্নেয়াস্ত্র যোগাড় করে সে শুরু করবে ছিনতাই। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকলে তার উপর নজর পড়বে অনেক নেক নজরওয়ালার। নানা মিছিল মিটিঙে ডাক পড়বে তার, আরও লোক সংগ্রহ করার দায়িত্ব পড়বে তার উপর। পাতি নেতাদের সাথে ঘুরে ঘুরে সেই ছেলে ধীরে ধীরে তার ভিতরে তৈরি হতে থাকা ডিলিউশনটাকে কেবল আরও পরিপক্ক রূপ দিবে। তার ডিলিউশন ভুবনে নিজেকে সে আবিষ্কার করবে ‘বস্তির শাহানশাহ’ কিংবা ‘ঢাকার কিং’ হিসেবে।[/si
অসাধারন বিশ্লেষন। কিন্তু আফসোসের ব্যাপার কি জানেন? এইসব সিনেমাকে মুল্ধারার চলচিত্রের সম্মান জানিয়ে কেউ কেউ বাংলা সিনেমা দেখার জন্য আমন্ত্রন জানাচ্ছেন। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য এইসব সিনেমার দরকার আছে বলে বলে ভালো সিনেমা বানানোর জন্য পরিচালক ও প্রযোজকদের যে পরোক্ষভাবে চাপ দিবে, সেরকম কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা। এই ধরনের ফিল্ম বানিয়ে যদি আমি ব্যবসা করতে পারি, তাহলে ভালো ফিল্ম বানাবো কেনো?
++++
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪৩
অরণ্যে রোদন... বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই। এক লাফে বিশাল পরিবর্তন হয়তো হবে না তবু আশা রাখি ধীরে ধীরে পরিবর্তন কিছু নিশ্চয়ই হবে। হলগুলোর পরিবেশ যদি কিছুটাও বদলায় তবে মানুষ আরও অনেকটা উৎসাহী হবে বলে আমার বিশ্বাস।
শুধুমাত্র পয়সাওয়ালারা চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করলে হবে না। রুচিবান ধনীদের এগিয়ে আসতে হবে।
৮|
০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২১
রেজা এম বলেছেন: বাংলা মুভি ফ্যামিলিতে একসাথে দেখা যায় না । । । অশ্লীল্ । । ।
৯|
০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:০৮
ল্যাটিচুড বলেছেন: অসাধারন বিশ্লেষন। ভালো থাকুন।
১০|
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৮
অসাধু বালক বলেছেন: ঘরের ছাড়পোকা থেকেই মুক্তি নাই আর বাংলার ছি:নেমা হলে ছাড়পোকা।
১১|
০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:৫০
আরজু পনি বলেছেন:
গতরাতে মন্তব্য করে প্রকাশ করতে যেয়েই ইলেকট্রিসিটি চলে গিয়েছিল। তাই আগের কথা গুলো হারিয়ে গেছে!
বাংলা সিনেমা নিয়ে অনেক ভালো বিশ্লেষণ করেছেন।
আমি মনে করি তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে এবং আমি আশাবাদী।
০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:৫৯
অরণ্যে রোদন... বলেছেন: মনে করে আবারো যে কমেন্ট করতে এসেছেন এই লেখায় তার জন্য ধন্যবাদ। আমিও আশাবাদী, পরিবর্তনের কয়েকটি বিন্দু হলেও কিন্তু দেখা যাচ্ছে আজকাল। বিন্দুতেই একদিন দীর্ঘকায় রেখার সৃষ্টি হবে নিশ্চয়ই।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৫৭
নিউক্লিয়ার সাবমেরিন বলেছেন: আমিও সেদিনের অপেক্ষায়