নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দূর পথিক

দূর পথিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঢাকা থেকে কক্সবাজার, আমার প্রথমবার ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা।

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ দুপুর ২:৪০

পোলাপান ইদানিং বাইক নিয়া কক্সবাজার যায়, ভ্লগ করে, রিভিউ দেয়। ভাবলাম আমার ঢাকা-কক্সবাজার ড্রাইভিং এক্সপেরিয়েন্সটা নিয়ে একটা ব্লগ লেখা যেতে পারে। জীবনে প্রথম এতো কস্ট করে নিজে ড্রাইভ করে গেলাম, ২/৩ মাস হয়ে গেছে যদিও। যাইহোক, একদিন সকাল ৮টার দিকে রওনা হয়ে গেলাম, আমি এবং আমার বউ। এই ট্রিপের প্রথম ভাগ হলো ঢাকা থেকে কুমিল্লা। এই পার্টটা মোটেই ভালোলাগেনি, মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ কাজ করেছে। মনে হচ্ছিলো এইরকম একটা রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেলাম, কাজটা ঠিক হচ্ছে কিনা, রাস্তায় এই হয় কিনা সেই হয় কিনা ইত্যাদি। কোথাও যাওয়ার চিন্তা করলে আগের রাতে আমার ভালো ঘুম হয়না, আর এই দিনের আগের রাতে আক্ষরিক অর্থেই এক সেকেন্ডের জন্যেও ঘুম হয়নি। এসব টেনশন নিয়ে ভালোভাবে কোন সমস্যা ছাড়াই আমরা কুমিল্লার মায়ামি রেস্টুরেন্টে পৌছালাম। কফি-টফি খেয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক রেস্ট নিয়ে আবার ড্রাইভ করা শুরু করলাম।

পরের স্টেপ হলো কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম, এই পার্টটা ছিলো বেস্ট। ঠা-ঠা রোদের মধ্যে হাইওয়ে টাইপ রাস্তা দেখার মধ্যে একটা অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে, আমার খুবই ভালো লাগে। তাছাড়া ততক্ষণে মনের স্ট্রেস বা ড্রাইভিং এর জড়তা সব একেবারেই কেটে গিয়েছিলো, মনের আনন্দে ড্রাইভ করে চট্টগ্রাম পৌঁছে গেলাম। এতোই আনন্দে পৌছে গেলাম যে চট্টগ্রামে আর ব্রেক নেয়াটা খুব জরুরী বলে মনে হয়নি, যেটা ছিলো একটা বিরাট ভুল। মনে একেবারেই যে হয়নি তা না, হয়েছে, চেস্টাও করেছি, কিন্তু চট্টগ্রামের রাস্তা-ঘাট ভালোভাবে না চেনায় কিছু খুঁজে পাইনি। ভাবলাম অনেকদূর চলেইতো এসেছি, একবারে "ফোর সিজনস্"-এ গিয়ে ব্রেক নেই তাহলেই হবে। তখন বিকাল ছিলো, সন্ধ্যার আগে যতোদূর যাওয়া যায় ততোই ভালো।

ট্রিপের তৃতীয় অংশ হলো চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রোডের "ফোর সিজনস্" রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত। এই রাস্তার সমস্যা হলো প্রতিদিন প্রচুর লবনের ট্রাক চলে, ট্রাক থেকে পড়া লবনের কারনে সন্ধ্যার পরে রাস্তা পিছলা হয়ে যায় শিশিরে ভিজে, ড্রাইভিং এর জন্য এটা খুবই বিপজ্জনক; এটা নিয়ে অনেক গল্প শোনা যায়, কিছু আছে আধ-ভৌতিক টাইপের। এই রাস্তা একটা চিপা টাইপের রাস্তা কিন্তু খুবই বিজি, রাস্তায় প্রচুর থ্রি হইলার চলে বিচিত্র সব চেহারার। ছোট হওয়ায় এরা যে সাইড দিয়ে চলবে বিষয়টা সেরকম না, সাইড দিয়ে চলার তেমন ইচ্ছা তাদের নাই।

পিছলা রাস্তা নিয়ে যেরকম সমস্যা আশা করেছিলাম সেরকম কিছু হয়নি, তবে সন্ধ্যার পরে সমস্যা হয়েছে অন্য জায়গায়... এলইডি লাইট। রাস্তায় বাস-ট্রাক, থ্রি-হুইলার, মটর সাইকেল, বাইসাইকেল যা আছে সব কিছুতে অতি উজ্জ্বল এলইডি লাইট লাগিয়েছে। এ ধরনের আলো চোখে লাগলে রাস্তা ভালো দেখা যায়না। আবার কিছু বাস-ট্রাক বাম্পারের মাঝখানে বিশাল এলইডি লাইট লাগিয়েছে কিন্তু হেড লাইট অন করেনি, বিপরীত দিক থেকে দেখে বোঝা কস্ট ঐটা কিসের লাইট, কোন ভিজ্যুয়াল ক্লু নাই। মোটর বাইকেরও হেডলাইট নাই, শুধু দুইটা এলইডি লাইট। অন্ধকারে দূর থেকে মোটর সাইকেল দেখতে যেরকম, থ্রী-হুইলারও দেখতে ঠিক একইরকম।

যাইহোক, এরকম রাস্তায় রিল্যাক্সভাবে ড্রাইভ করার সুযোগ নেই, ধৈর্য্য ধরে খুবই আস্তে-ধীরে গাড়ি চালাতে হয়, ক্লান্তিকর ব্যাপার। আবার কিছুদূর পরপর জ্যাম। সারারাত না ঘুমিয়ে ঢাকা থেকে এতোদূর ড্রাইভ করার পর ব্যাপারটা মোটেই ভালো লাগার মতো না। চট্টগ্রামে না থামাটা যে কতবড়ো ভুল ছিলো তা তখন বুঝতে পারছিলাম। এই বিরক্তির মধ্যে আরেকটা বিরক্তিকর ব্যাপার ঘটলো যা আশা করিনি, সেটা হলো রাস্তা ভুল করা। পটিয়ার কাছে গুগল ম্যাপস এ দেখলে একটা থ্রিভুজ টাইপের রাস্তা দেখা যাবে, ওখান থেকে ভুল দিকে টার্ন নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে চলে গিয়েছিলাম। বেশ কিছুক্ষন ধরে দেখছিলাম মাইলপোস্টে চট্টগ্রামের দূরত্ব লেখা, যাচ্ছি কক্সবাজারের দিকে সেখানে চট্টগ্রামের দূরত্ব কেন লেখা দরকার হলো বুঝতে পারছিলামনা, গুরুত্ব দেইনি। হঠাৎ মনে হলো তাহলে কি ভুল দিকে যাচ্ছি কিনা, সাথে সাথে রাস্তায় একজনকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হলাম কক্সবাজার উল্টোদিকে! প্রায় ১০/১২ কিলোমিটার উল্টোপথে চলে এসেছি, এরকম রাস্তায় এই দূরত্ব অনেক। খুবই হতাশ হয়ে গেলাম, কারন খাওয়া-দাওয়া, রেস্ট নেয়া যেখানে খুবই দরকার, তার মধ্যে যদি যাই উল্টা দিকে... মনে হচ্ছিলো নিজে ড্রাইভ করে আসাটা মোটেই ভালো আইডিয়া না। বাইক নিয়ে মানুষ কিভাবে আসে সেটাও ভেবে পাচ্ছিলামনা।

এরকম চলতে চলতে ধৈর্য্যের চরমে পৌছে এক সময় গিয়ে পৌছালাম ঐ রেস্টুরেন্টে। ফ্রেশ হয়ে ১ ঘন্টার উপর রেস্ট নিয়ে আবার রওনা হলাম, ট্রিপের সর্বশেষ অংশ হলো এটা। প্রথমে কিছুক্ষন ভালো লাগছিলো, পরে আবার ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলার অবস্থা। একটা সময় থেকে থেকে মনে হচ্ছিলো গাড়ি আমি চালাচ্ছিনা, আমি বসে আছি অন্য কেউ চালাচ্ছে, তবে যেই চালাক রাস্তা আর শেষ হয়না। এক পর্যায়ে গিয়ে অবশেষে পৌছালাম কক্সবাজার, শহরে ঢোকার একটু আগে ফুল ট্যাঙ্ক তেল নিয়ে নিলাম, মাত্র ৩২ লিটার তেল খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত আসতে। ঘোরাঘুরি শেষে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বলতে গেলে কোনই সমস্যা হয়নি, কারন চট্টগ্রামে খালার বাসায় একটা লম্বা সময় ব্রেক নিতে ভুলিনি। তাছাড়া তার আগের রাতে খুব ভালো একটা ঘুম হয়েছিলো। তবে বাসায় ফিরতে বেজে গিয়েছিলো রাত ৩টা এবং বেশ ঘুম লাগছিলো শেষের দিকে। সবমিলিয়ে একটা নতুন এক্সপেরিয়েন্স হলো, ট্রিপ শেষে ভেবেছিলাম আর যাবোনা এভাবে, এখন আবার মনে হয় অবশ্যই আবার যেতে হবে, এটার একটা আলাদা মজা আছে। এবার পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যেতে হবে।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ২:০৬

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: মেরিন ড্রাইভে গাড়ি চালাননি?
তার অভিজ্ঞতাও লিখবেন।আর বেশি করে ছবি দিবেন।

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৪:১৪

দূর পথিক বলেছেন: মেরিন ড্রাইভেও গিয়েছিলাম, চিপা রাস্তা তবে ভালো লাগে। ধন্যবাদ।

২| ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আর পোস্ট নাই?

ছ বিসহ পোস্ট দিবেন আশাকরি

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.