| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঠাকুরমাহমুদ
sometimes blue sometimes white sometimes black even red, even golden ! yes dear - its me - i am sky ! color your life, than your life will be colorful
জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায় মাটির রঙ হয়ে গিয়েছে। সেন্ডেল ছিড়ে গিয়েছে তাই এই জঞ্জাল বহন করার মতো আর কারণ নেই। গ্রামের মাটির রাস্তা ধরে লেংড়াতে লেংড়াতে খালি পায়ে হাটছেন আগন্তুক! বাম পায়ের পাতায় বেল গাছের কাঁটা বিঁধেছে, এখন পায়ের ব্যথায় মাথা ব্যথাও শুরু হয়েছে! মনে হচ্ছে আর বেশি দূর হাটা সম্ভব না। অথচ সন্ধ্যার মধ্যে গোসাইপুর পৌছানো দরকার। তিনি ক্লান্ত দেহে সড়কের পাশে মলিন ঘাসের উপর বসে পড়েন। বৃষ্টির জন্য বুক হাহাকার করছে, কিন্তু আকাশে কোথাও বৃষ্টির বালাই নেই। পায়ের ব্যথা আর মাথা ব্যথা নিয়ে ক্লান্ত আগন্তুক-ক্লান্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন। আকাশ দেখে মনে হচ্ছে, দেশের সাথে আকাশও অন্ধকার হয়ে গিয়েছে। সময়-জুন, ১৯৭১।
কাছাকাছি কোথাও কোনো মসজিদে এক বৃদ্ধ ইমাম আজান দিচ্ছেন, মাগরিবের আজান। আগন্তুক চেষ্টা করেও উঠে দাড়াতে পারেন না। নিজেই নিজেকে বলেন-হায়রে জীবন! জীবন এতো সস্তা! অন্ধকারে পাশে থেকেই কেউ বলে উঠে “জ্বী দাদা, জীবন আসলেই সস্তা! কুত্তার জীবন আর মানুষের জীবনের মাঝে তেমন কোনো পার্থক্য নাই”। অন্য যে কোনো সময় হলে তিনি হয়তো চমকে উঠতেন, কিন্তু গত তিন মাসে তাঁর উপর দিয়ে যেই ঝড় তুফান বয়ে গিয়েছে-এখন সাত আসমান ভেঙ্গে মাথায় পড়লেও চমকে উঠবেন বলে মনে হয় না।
- আগন্তুক বিরক্ত হয়ে বলেন-ঐ মিয়া তুমি কেডা?
- সন্ধ্যার অন্ধকারে মলিন বস্ত্র গায়ে এক যুবক উত্তর দেন, জ্বী দাদা আমি রূপক।
- আগন্তুকের পায়ে আর মাথায় প্রচন্ড ব্যথা নিয়েও হেসে জানতে চান “এই তিন সন্ধ্যায় এমন কাব্যিক নাম নিয়া আমার পিছে পিছে আসতেছো কেনো ? আমার কাছে পোলাও গোস্ত আছে, তুমি-তুমি হিন্দু নাকি?
- রূপক উত্তর দেয়, জ্বী দাদা আমি হিন্দু। আগন্তুক রাতের অন্ধকারে ভারী গলায় হাসতে থাকেন! মনে হচ্ছে তার মাথা ব্যথা চলে গিয়েছে পায়ের ব্যথাও অনেকটা কমেছে।
- রূপক মিয়া নাম বদলাও, নামাজ পড়ো, দাড়ি রাখো, পাঁচ কলেমা জানো তো? সব জাইন্যাও লাভ নাই! যেইদিন পাকিস্তানির সামনে পড়বা কাপড় খুইল্যা দেখবো, তারপর গুলি কইরা খালপাড়ে লাশ ফালাইয়া যাইবো, বুঝলা! এখন বলো, তুমি আমার পিছে পিছে আসতেছো কেনো ?
- রূপক উত্তর দেয়, জ্বী আমি বটগাছ তলায় লুকিয়ে ছিলাম, তিন রাস্তার মোড় থেকে আপনাকে দেখতেছি, মনে হয় আপনার পায়ে কাঁটা বিঁধছে। আমার বাবা কবিরাজ ছিলেন। আমিও কবিরাজ।
রূপক দেখতে দেখতে সড়কের আশেপাশে হতে শুকনো কিছু খড় জোগাড় যন্ত্র করে আগুন ধরায়। আগন্তুক আগুনের আঁচে পা ধরে বসে আছেন, আগুনের আলোতে নীরব-নিস্তব্ধ এলাকায় দুইজনের ছায়া অনেক দূর পর্যন্ত ভেসে উঠে। রূপক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রায় পোয়া ইঞ্চি কাঁটা বের করার পর, আগন্তুকের মনে হয়-জীবন চলার পথ এখানেই শেষ না। তাঁর আগুনের আঁচে পা ধরে বসে থাকতে ভালোই লাগছে।
- রূপক, তোমার বাবা খুবই ভালো কবিরাজ, তুমিও ভালো কবিরাজ। তোমার বাবা এখন কি করেন?
- রূপক আগুনের দিকে তাকিয়ে থেকে উত্তর দেয়-বাবাকে পাকিস্তানিরা মেরে গাঙ্গে ফেলে দিছে।
- আগন্তুক চোয়াল শক্ত করে আগুনের দিকে তাকিয়ে থাকেন, আর তোমার ভাইবোন, মা এরা?
- ভাইবোন নাই, আমি একাই, মা’কে আগরতলা দিয়া আসছি।
- তুমি আগরতলা থেকে ফেরত আসলা কেনো?
- রূপক মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বলে-আমি যুদ্ধে যাবো।
- তাহলে যুদ্ধে যাচ্ছো না কেনো?
- রুপক এইবার আগন্তুকের দিকে চোখে চোখ রেখে বলে “দাদা আমার সাহস কম, আমার সাহস নাই”।
আগন্তুকের পেটে সারা দিন কিছুই পড়েনি, লালপুর বাজারে মানুষ থাকবে দূরে থাক পশু পাখিও নেই। একমাত্র চাপকলের পানি ছাড়া খাওয়ার মতো কিছু নেই। পেটের খুদায় আগন্তুক হাতের কাছে কয়েকটা ঘাস ছিড়ে মুখে দেয়।
- রূপক তুমি আমার সাথে চলো, এখন যুদ্ধের সময়। এখন বসে থাকার সময় না। আগন্তুক উঠে হাটতে থাকেন, শরীর বেশ হাল্কা অনুভব হচ্ছে। পেছন পেছন রূপকও আসে।
- রূপক ছোট করে বলে, দাদা আমার কাছে এক কলসি মুড়ি আর গুড় আছে।
- হাসতে হাসতে আগন্তুকের চোখে কেনো জানি পানি চলে আসে। রূপক, তুমি তো মিয়া খুবই কাজের মানুষ! মুড়ি আর গুড় হচ্ছে স্বর্গের খাবার। তুমি স্বর্গের খাবার সাথে নিয়া ঘুরতেছো?
অন্ধকার চিরে দুইজনই হেসে উঠে, মনে হয় কতোদিনের পরিচিত মানুষ, কতোদিন পর দেখা!
- দাদা, আপনার নাম জানি না।
- আমার নাম? আমার নাম, হাসান মাহবুব।
- গল্প লিখে যে হাসান মাহবুব, সেই হাসান মাহবুব?
- আমিই হাসান মাহবুব, তুমি আমাকে চেনো?
- জ্বী পত্রিকায় আপনার গল্প পড়েছি?
- গল্প পড়ে কি বুঝলা?
- জ্বী কিছুই বুঝি নাই!
দুইজনই উচ্চ গলায় হেসে উঠেন। গত তিন মাস কারও মুখে হাসি নেই। আজ দুইজন মনের সুখে হাসছেন নাকি মনের দুঃখে, জানার উপায় নেই। হাসান মাহবুব আর রূপক অন্ধকারে দ্রুত হাটছেন, গোসাইপুর বেশি দূরে না। পনেরো জন মুক্তিযোদ্ধা গোসাইপুর অস্ত্রহাতে অপেক্ষা করছেন, মধ্যরাতে তিতাস নদীতে পাকিস্তানিদের গানবোট আক্রমণ হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা গল্প। গল্পের প্রয়োজনে দুইজন চরিত্রের নাম হাসান মাহবুব আর রূপক।
২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:০৪
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
দুঃখ, ভালো মানুষ খুবই কম। তাই খারাপ মানুষ মব করে বেড়াচ্ছে। নয়তো পাকিস্তান ত্যাজ্য হওয়ার সাথে সাথে দেশের মব ত্যাজ্য হতো।
২|
২৬ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: পুরো গল্পটাই অতি চমৎকার এগিয়েছে, ঠিক মুক্তিযুদ্ধের গল্পের মতই গল্পটা হয়ে উঠেছিল প্রায়। তবে একটু তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, তাও আবার মুক্তিযুদ্ধ থেকে ব্লগের বর্তমান সময়ে এসে!
২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের গল্পই। গল্পের চরিত্রের দুইজনের নাম ব্লগের দুইজনের নিক ধার নিয়েছি। রূপক সাহেব কে কথা দিয়েছিলাম তাঁর নাম উল্লেখ করে গল্প লিখবো।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
৩|
২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪০
মাথা পাগলা বলেছেন: "দাদা আমার সাহস কম, আমার সাহস নাই" - গল্পটা শুধু মুক্তিযুদ্ধের নয়, মানুষ হয়ে ওঠারও গল্প।
২৬ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৪
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
১৯৭১ এ সমগ্র দেশের মানুষ একযোগে মানুষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কেনো যে মানুষ হতে পারেনি - - - - তারপরও দেশে মানুষ আছে, কিছু মানুষ আছে যাদের প্রতি অন্তর থেকে ভালোবাসা থাকবে অনন্তকাল।
৪|
২৬ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬
রাজীব নুর বলেছেন: চাঁদগাজীর সাথে আপনার বয়সের প্রার্থক্য কত?
২৬ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
চাঁদগাজী সাহেব, আহমেদ জী এস সাহেব, ড: এম এ আলী সাহেব আমরা প্রায় একই সময়ের মানুষ।
৫|
২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৫
কাছের-মানুষ বলেছেন: গল্পটা ভালই এগোচ্ছে! এটা-কি চলবে নাকি এখানেই শেষ?
২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪১
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
মুক্তিযুদ্ধের প্রায় সব গল্পই অসমাপ্ত। গল্প অসমাপ্ত হলেও এইখানেই শেষ। আপনাকে অশেষ অশেষ ধন্যবাদ।
৬|
২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৩
ক্লোন রাফা বলেছেন: আসলেই মুক্তিযুদ্ধের অধিকাংশ গল্পের শেষ নেই। আমার জানা কিছু ঘটনা যদি লিখি সেটা রুপকল্প মনে করবে আজকের জেএনজি জেনারেশন! ১৯৭১ না দেখা জেনারেশন ছাপার অক্ষরে লেখা বিশ্বাস করেনা! তারা বিশ্বাস করে এআই দিয়ে ত্রিশ সেকেন্ডের রিল। অথচ তারা নিজেরাই জানে সব টেকনোলজি দিয়ে তৈরি করা! ভাষা, রুচিবোধ ইতিহাস বিকৃত করা তাদের একটি অভ্যাস হয়ে গেছে।২০০১ থেকে ২০০৬ দেখেনি তাই তাদের কাছে সে সময়ের নিষ্পাপ! একটি অন্ধ , অশিক্ষিত বধির প্রজন্মের হাতে এখন বাংলাদেশ। তারা নিজেরাই নিজেদেরকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে মনে করছে ‼️
২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৩
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
বাংলাদেশের শ্রেষ্ট সন্তান যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।
৭|
২৭ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: শ্রাবণধারা বলেছেন: পুরো গল্পটাই অতি চমৎকার এগিয়েছে, ঠিক মুক্তিযুদ্ধের গল্পের মতই গল্পটা হয়ে উঠেছিল প্রায়। তবে একটু তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, তাও আবার মুক্তিযুদ্ধ থেকে ব্লগের বর্তমান সময়ে এসে! মনে হচ্ছে আমার মন্তব্যটা উনি করেছেন। তবে শেষ হওয়াটা সঙ্গতই। একটা শব্দও অহেতুক না। মেদহীন ঝরঝরা ছোট গল্প।
এমন পটভূমিতে আমাকে উপস্থাপন করায় গর্ববোধ করছি। এই সময়ে এসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প লেখায় ধন্যবাদ আপনাকে।
২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৬
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
এটি শুধু একটি গল্প না, এই গল্প বাংলাদেশের ইতিহাস। বাংলাদেশের জন্মের সাথে জড়িত এই গল্প। আপনাকে কথা দিয়েছিলাম, আপনার নাম উল্লেখ করে গল্প লিখবো। আপনার গল্প ভালো লেগেছে জেনে আমার পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে।
৮|
২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:১৫
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৬
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
খুব ভালো কাজ করেছেন। ধন্যবাদ।
৯|
২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:২৪
রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: চাঁদগাজী সাহেব, আহমেদ জী এস সাহেব, ড: এম এ আলী সাহেব আমরা প্রায় একই সময়ের মানুষ।
আমাকে দূরের সময় বলে ভাববেন না। আমার বয়স আপনাদের চেয়ে খুব কম নয়। অনেক বয়স আমার। প্রায় আপনাদের কাছাকাছি।
২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৭
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
আপনি আমাদের সাথের মানুষ। আপনি সব সময় আমাদের সাথেই থাকবেন।
১০|
২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪
হাসান মাহবুব বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের এই গল্পটিতে আমাকে স্মরণ করার জন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২২
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
গল্পে আপনাকে স্মরণ করে, সত্যি সত্যি আমার কষ্ট করে লেখা স্বার্থক হয়েছে। আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: গল্প পড়ে কি বুঝলা?
- জ্বী কিছুই বুঝি নাই!
....................................................
এখন জে জি দের দুনিয়া
তাদের কাছে এর কোন মূল্য নাই,
কোন ভালো কিছু ধারন করতে না পারলে এর মর্যাদা হারায় ।