নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মনটা আমার ইচ্ছেঘুড়ি, যখন যা ইচ্ছে হয় তাই লিখে ফেলি।

আল ইমরান

আমি খুব সাধারন একটা ছেলে। বন্ধুরা স্বপ্নবাজ বলে ডাকে। আমি প্রচণ্ড আড্ডাবাজ এবং স্বাধীনতা খুব বেশী পছন্দ করি। মুসলমান হিসেবে গর্ববোধ করি। বাংলাদেশ এর নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে অহংকার বোধ করি। ভালোবাসি

আল ইমরান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বাস্তবতা

২৫ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:২২

একজন লেখক/কবি/সাহিত্যিক যদি একবার লিখেই সে লেখার জন্য আজীবন তিনি এবং তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রয়্যালটি পেতে পারে, একজন বাড়িওয়ালা যদি একবার বাড়ি তৈরি করেই ওনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রয়্যালটি করে যেতে পারে, বাবার সম্পত্তি বা ব্যবসা বা রাজনীতির সুবাদেই যদি তার সন্তান এবং প্রজন্মের সেই সম্পত্তি, ব্যবসা বা রাজনীতিতে অবাধ বিচরণের সুযোগ থাকে, তবে একজন মুক্তিযোদ্ধার এবং তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কেন এই দেশে অগ্রাধিকার থাকবে না! কেন তাদেরকে পদে পদে অপমান করা হবে! স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে বারবার কেন মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার প্রমান দিতে হবে? ধরে নিলাম, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধা মিলিয়ে টোটাল ২.৫ লাখ রয়েছেন। এই ২.৫ লাখ ব্যক্তি থেকে যাচাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনাক্তকরণ কি এতই কঠিন যে ৪৭ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা করা সম্ভব হয় নি!!

৩০% কোটা থাকার পরেও বাস্তবে তার সঠিক প্রয়োগ নেই। শুধুমাত্র আইওয়াশ করা হয়। কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যদি কোন রকমে চাকুরী পেয়েও যায়, তাকে যেতে হয় নানারকম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে, যার অনেকটাই কেউ জানে না। যাচাই বাছাইয়ের নামে প্রায়শই মুক্তিযোদ্ধাদের হতে হচ্ছে নানারকম হয়রানি।

বয়সের ভারে ন্যুজ, একসময় উদ্দিপ্ত, তেজস্বী, বর্তমানের ঘোলাটে চোখ, অসুস্থ, অবহেলিত, দিকভ্রান্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মন্ত্রণালয়ে ঘোরাঘুরি, এ রুম থেকে ঐ রুম, এ টেবিল থেকে ও টেবিল, কোথাও একটু আশার আলো দেখলেই সেদিকে ছুটে যাওয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কারনে দেখেছি কত কয়দিন। দেশের সূর্য সন্তানদের শেষ বয়সে এই পরিনতি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি মেনে নিতে পারিনি। মাত্র ২.৫ লক্ষ লোকের জন্য একটি আলাদা মন্ত্রণালয় হবার পরেও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধাদের এই পরিনতি মেনে নেয়া যায় না!!

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রতিটি জেলায় One Stop Service booth করা প্রয়োজন ছিল আরো অনেক আগেই। প্রতিজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য থাকা উচিৎ ছিল আলাদা আলাদা ফাইল। মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন করা প্রতিটি ইস্যু সর্বোচ্চ ২১ দিনের মধ্যে সমাধান করার মত শক্তিশালী কর্ম পরিকল্পনা ও দক্ষ, সৎ জনবলের প্রয়োজন। ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপায়নের পথে এই দাবী কি অন্যায্য? মন্ত্রনালয়ে আগত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে মন্ত্রনালয়ের ফ্রন্ট ডেস্ক আরো উন্নত করা উচিৎ। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি পূর্ন সন্মান রেখে এবং তাদের প্রতি নমনীয় ও সহযোগিতা মূলক আচরন করে সেবা দেয়া উচিৎ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিবাচক উপস্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্ত সন্মান দেয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।

দেশের পতাকা, মানচিত্র অত্যাচারী পাকিস্তানি হানাদারদের কাছে থেকে ছিনিয়ে আনা মুক্তির জয়গান গাওয়া এই মানুষগুলো, আমার বাবা, আমার দাদা কি জাতীর কাছে এতটুকু সন্মান, সহানুভূতি পেতে পারে না!! বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক ও দাপ্তরিক জটিলতায় কোন একটি ইস্যু নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আসা আমার বাবাকে কেন বুক ভরা চেপে রাখা কান্না আর একরাশ অভিমান নিয়ে বলতে হয়,
"আমাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন। আমার সব সুযোগ সুবিধা ফেরত নিন। আমি কোন সুবিধা চাইনা, শুধু সন্মানের সাথে বাঁচতে দিন। আমি মুক্তিযোদ্ধা সেটি বারবার প্রমান দিতে দিতে আমি ক্লান্ত। আর পারছি না। আমাকে মুক্তি দিন।"

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:২৮

রাজীব নুর বলেছেন: দেশের প্রতিটা মুক্তিযোদ্ধাকে আমি সম্মান করি।
আর ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ঘৃণা করি।

২৫ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:২৫

আল ইমরান বলেছেন: মুক্তিযোদ্ধা কখনও ভূয়া হয় না। আর ভূয়া কখনো মুক্তিযোদ্ধা হয় না। এই দেশে সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেয়ে মিথ্যা কে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সহজ।

ভালো থাকবেন।

২| ২৫ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:০৬

ইনাম আহমদ বলেছেন: কিছু মনে করবেন না। আপনার তুলনা দেয়াটা সঠিক নয়।
লেখক বা আবিষ্কারক পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ববলে যে রয়েলিটি পান সেটা একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বলবৎ থাকে। সাধারণত ৫০ বছরের মতো। এখন আজকালকার যুগে আপনি ইলেক্ট্রিক বাল্বের ফ্যাক্টরী খুললে আপনি এডিসন সাহেবের নাতিনাতনীদের রয়েলিটি দিবেন না। কিংবা রবীন্দ্রনাথের গল্পসংকলন বের করতে শান্তিনিকেতনে বা ঠাকুর পরিবারকে টাকা দেবেন না।
সবকিছুরই একটা মেয়াদ থাকে। মেয়াদের পরে সেটা বাতিল হতে বাধ্য।

২৫ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:২৩

আল ইমরান বলেছেন: কিছু মনে করার কিছু নাই। তবে বলার ছিল অনেক কিছু। থাক! বলে লাভ নেই। কারন না বোঝার ইচ্ছে থাকলে হাজার বললেও বুঝবেন না।

ভালো থাকবেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৩| ২৫ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:০৮

গরল বলেছেন: সহমত আপনার সাথে, সরকারে কাজকর্মের ব্যার্থতায় মুক্তিযোদ্ধারা আজ অপমানিত, লাঞ্চিত ও নির্যাতিত। কোটা নিয়েই ধরুন একটা যুক্তিসংত ব্যাখ্যা না দিয়ে হুমকি ধামকি, গালাগালি আর মারামারি করে মানুষকে আরও বেশি করে উষ্কে দিচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অসম্মান করতে।

২৫ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:২৯

আল ইমরান বলেছেন: কি আর বলবো ভাই!!

৪| ২৫ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫৩

এক হতভাগা বলেছেন: সম্পর্কে আমার দূরের দাদা হন । শুনেছি ৭১ এ পুরো ৯ মাসে তিনি একদিন কেবল আমাদের পাশের থানার এক মুক্তি যোদ্ধাকে রাইফেল পৌঁছে দিয়েছিলেন আজ তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা । তার মেয়ের তেমন যোগ্যতা না থাকলেও আজ সে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা । মানছি যে এটাই সারা বাংলাদেশের চিত্র নয় । কিন্তু এমন ঘটনাও ত নেহাত কম নয় ।
তারা মাসে ১০,০০০ টাকা ভাতা পাচ্ছেন । চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় পাচ্ছে । নাতীরা নম্বর কম পেয়েও ভালো ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হচ্ছে । শেষে ৩০% কোটায় সরকারী চাকরি !!!!! তবুও আপনাদের হচ্ছে না !! পারেনও ভাই .।.।.।। sorry brother

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:২২

আল ইমরান বলেছেন: আপনার জানা তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয়। আসলে আপনাকেই বা দোষ দিয়ে কি লাভ! যা মার্কেটিং হয়, আপনি তো তা ই জানবেন।

৫| ২৫ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫৫

ইনাম আহমদ বলেছেন: চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় পাচ্ছে । নাতীরা নম্বর কম পেয়েও ভালো ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হচ্ছে । শেষে ৩০% কোটায় সরকারী চাকরি !!!!! তবুও আপনাদের হচ্ছে না !! পারেনও ভাই .।.।.।। sorry brother
কম নাম্বার পেয়ে ভর্তি হওয়ার কথাটা ভুল। ঠিকমতো জেনে নেবেন।

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:২৩

আল ইমরান বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.