নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মশকের হুল....

মশক

মশক › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিঃ আমার অভিজ্ঞতা । পর্ব ৩ ।

১৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৯

(২য় পর্ব পড়ুন এখানে )



আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, ভর্তির আবেদনের প্রথম শর্ত, স্নাতক/স্নাতকোত্তর এ সিজিপিএ সর্বনিম্ন ৩.০। তবে একটি কথা জানিয়ে রাখা ভালো, পিছনের দিকের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ২.৫ সিজিপিএধারীদেরকেও আবেদন এর সুযোগ দিয়ে থাকে। তাই যারা এখনো স্নাতক শ্রেনীর শেষ দিকে আছেন, তাদেরকে বলবো চেষ্টা করুন সর্বনিম্ন সিজিপিএ ৩.০ রাখতে, তাহলে মাঝারী থেকে ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ পাবেন।



প্রথম পর্বে আমি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ভর্তি প্রক্রিয়ায় ৫ টি ধাপের উল্লেখ করেছিলাম, যার প্রথমটি হচ্ছে Graduate Records Examination (GRE) এবং TOEFL/IELTS পরীক্ষা দিয়ে নেয়া। এবার আসুন GRE এবং TOEFL/IELTS সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।



প্রথমেই জেনে নেই Graduate Records Examination বা GRE সম্পর্কে। GRE হলো একটি প্রমিত পরীক্ষা যা বেশীরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের একটি আবশ্যিক শর্ত। এই পরীক্ষার মাধ্যমে একজন ভর্তিচ্ছু ছাত্র/ছাত্রীর শাব্দিক যুক্তি প্রদান (verbal reasoning), মাত্রিক যুক্তি প্রদান (Quantitative reasoning) এবং বিশ্লেষণাত্মক লেখার (Analytical writing) দক্ষতা যাচাই করা হয়। এই পরীক্ষাটি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে জড়িত নয়, বরং একদমই মৌলিক বিষয় তথা ইংরেজী এবং গণিত নির্ভর। যেহেতু আমাদের দেশের মতো আমেরিকায় কোনো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় নাহ, তাই GRE পরীক্ষার নম্বর দিয়েই কিছু ছাত্র/ছাত্রীদেরকে আলাদা করে নেয়া হয়।



বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে GRE এর গুরুত্ব বিভিন্নরকম। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে তা শুধুই আনুষ্ঠানিকতা আর কোথাও তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টাই সত্যি! একটা কথা জেনে রাখা ভালো বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই একটা সর্বনিম্ন GRE নম্বর দেখে ছাত্র/ছাত্রী প্রাথমিক নির্বাচন করলেও তারা তাদের ওয়েবসাইট এ কখনোই তা উল্লেখ করেনা। আর কিছু বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে দিলেও, তার সাথে একটা কথা উল্লেখ করে দেয় যে, "উল্লিখিত নম্বরই মানদন্ড নয়"।



GRE নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই একটি এবং শুধুমাত্র একটিই ভয় কাজ করে, আমি পারবো তো?! আমার মনেও ছিলো। কিন্তু এই ভয়কে যদি জয় না করতে পারেন তাহলে মাঝারী থেকে ভালো মানের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন বা ইচ্ছা যাই থাকুক না কেনো, বাদ দিয়ে দিতে হবে। আর যদি ভয়কে জয় করতে পারেন তাহলে সময় নষ্ট না করে শুরু করে দিন প্রস্তুতি।



প্রস্তুতিতে নিজেকে যথেষ্ঠ সময় দিন, কমপক্ষে ৬ মাস। শুরুতেই পরীক্ষার ধরন ভালো করে বুঝে নিন। এক্ষেত্রে আগে পরীক্ষা দিয়েছেন এমন কারো কাছ থেকে সহায়তা নিন, বুঝতে সহজ হবে। অনেকেই আপনাকে বুদ্ধি দিবে, এই বই কিনুন, ওই বই কিনুন। আমি বলি নাহ। শুরুতেই বই কিনে পড়া শুরু করে না দিয়ে পরীক্ষার ধরন আগে বুঝে নিন, এরপর নিজের অবস্থা বুঝুন, বুঝুন আপনার প্রস্তুতি নিতে কত সময় লাগবে। ঠিক করুন আপনি কবে নাগাদ পরীক্ষা দিতে চান। সেই মোতাবেক পরিকল্পনা করুন। বই কিনুন, অনুশীলন করুন। অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। GRE এর প্রস্তুতিতে প্রয়োজনে কোনো কোচিং সেন্টার এর সাহায্য নিন।



আমি কাউকে কোনো বই বা ওয়েবসাইট এর ব্যাপারে সুপারিশ করবোনা। আমি নিজে Magoosh TCY online এর উপর ভিত্তি করেই প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে এইসব অনলাইন-ভিত্তিক অনুশীলন অনেক ব্যয়সাপেক্ষ, কারন আপনি যখন নীলক্ষেত থেকে কম দামে অনেক বই পাচ্ছেন কেনই বা আপনি ডলার খরচ করবেন! আমি তো আমেরিকাতে থেকেই GRE এর প্রস্তুতি নিয়েছি তাই আমি নীলক্ষেত এর পূর্ণ সদব্যবহার করতে পারিনি! :(



প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন সেটা আপনি নিজেই ঠিক করে নিন। পরীক্ষার আগে আগে চেষ্টা করুন কিছু Mock Test দিতে। আপনার আত্নবিশ্বাস শেষ মূহুর্তে আরেকবার ঝালাই করে নিন। পরীক্ষা দিয়ে ফেলুন! ব্যস ঝামেলা শেষ!!



এবার আসুন TOEFL অথবা IELTS এ। এই পরীক্ষাটি আমাদের মতো যেসব দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের মাতৃভাষা ইংরেজী নয়, তাদের অবশ্যই দিতে হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার ইংরেজীতে কথা বলা, পড়া, শোনা এবং লিখার দক্ষতা যাচাই করা হয়ে থাকে।TOEFL সকল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহন করে কিন্তু IELTS এখনো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত হয় না, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত হয় না তার বেশিরভাগই হলো মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে TOEFL এবং IELTS এর সর্বনিম্ন নম্বর বিভিন্ন রকম। তবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় TOEFL এর ক্ষেত্রে ৯০ বা তার বেশি (১২০ এর মধ্যে) এবং IELTS এর ক্ষেত্র ৬.৫ বা তার বেশী (৯ এর মধ্যে) গ্রহন করে। পিছনের দিককার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য এর চেয়েও কম নম্বরধারীদের আবেদন গ্রহন করে থাকে।



আপনার সুবিধা মতো যেকোনো একটা পরীক্ষা দিন ( কেও আবার দুটোই দিয়েন নাহ! :P তাহলে সময় এবং টাকা দুটোই বাঁচবে)। এই পরীক্ষাটি GRE এর তুলনায় কিছুটা সহজ। প্রস্তুতি একটু কমসময়েই সম্ভব। আমার মতে আপনি যদি GRE আগে দিয়ে নেন, তাহলে এই পরীক্ষা গুলো আপনার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।



সহজ হয়ে যাওয়ার কারণ দুইটা, এক. আপনার ইংরেজীর শব্দ ভান্ডার এর পরিধি বেড়ে যাওয়া, এবং দুই. আরেহ! GRE দিয়া ফেললাম! আর কিসের কি TOEFL/IELTS! প্রথম কারণটাকেই মাথায় রাখুন, দ্বিতীয়টা ভুলেও মাথায় আনবেন নাহ। তাহলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।



প্রস্তুতি? একই পন্থা অবলম্বন করুন, যা আপনি করেছেন GRE প্রস্তুতির জন্য। কিন্তু এইসময় আপনার সময় অন্তত GRE প্রস্তুতির চেয়ে অর্ধেক লাগবে।



আমার মতে GRE এবং TOEFL/IELTS এর জন্যে সর্বনিম্ন ৯ মাস সময় রাখুন হাতে। এই সময়টা যথেষ্ঠ মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করুন। যত বেশী সম্ভব অনুশীলন করুন। একমাত্র অনুশীলনই পারবে আপনার কাঙ্খিত সাফল্য এনে দিতে।



চেষ্টা করুন, যে সেমিস্টার এর জন্য আবেদন করবেন তার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগের মাসেই এই পরীক্ষা গুলো দিয়ে ফেলতে, অর্থাৎ যদি আপনি ২০১৫ এর Fall সেমিস্টার এ আবেদন করতে চান তাহলে আগস্ট মাসের মধ্যেই এই দুটি পরীক্ষা দিয়ে ফেলুন। যত তাড়াতাড়ি পারা যায় এই দুটি পরীক্ষা দিয়ে টেনশনমুক্ত থাকাই শ্রেয়।



সময় নষ্ট না করে পড়াশুনা শুরু কয়রে দিন!



আগামী পর্বে আমি দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।



(চলবে...।)



[একইসাথে ফেসবুকে পড়ুন এখানে]

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:৪৩

সীমানা ছাড়িয়ে বলেছেন: খুব ভাল সিরিজ। GRE এর ব্যাপারটা খুব অদ্ভূত। আমার মনে হয় ইউনিভার্সিটিগুলো প্রথম প্রায়োরিটি দেয় SOP কে। তারপর আন্ডারগ্র্যাড জিপিএ এবং আন্ডারগ্র্যাড কলেজের মান ও পরিচিতি। তারপর GRE অথবা Recommendation letter. আমি অনেক কম GRE স্কোর নিয়ে ভাল এডমিশন পেতে দেখেছি। আবার ভাল GRE স্কোর নিয়েও ভাল এডমিশন পায় নি এমনো দেখেছি। আমার পরিচিত দুইজন ১১০০ এর নিচে স্কোর নিয়ে Ohio State এবং UC Irvine এর মত স্কুলে চান্স পেয়েছে। আবার আমার পরিচিত আরেকজন ১৪৮০ স্কোর নিয়ে আমেরিকার একটা ইউনিভার্সিটিতেও চান্স পায় নি। আমার ইউনিভার্সিটির এডমিশন প্র্যাক্টিসে দেখেছি SOP কে বেশি প্রাধান্য দেয়। আর GRE এবং GPA এর মধ্যে ব্যালেন্স করে। অর্থাৎ একটা খারাপ থাকলে আরেকটা দিয়ে ওভারকাম সম্ভব। কিন্তু দুইটাই খারাপ থাকলে বাদ।

১৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:৫৬

মশক বলেছেন: আপনার পর্যবেক্ষন সঠিক। আমার ক্ষেত্রেও ঘটনাটি ঘটেছে। সামনের কোনো এক কিস্তিতে কোনটার গুরুত্ব কতটুকু তা লিখার পরিকল্পনা আছে। আগে সবগুলো ধাপ বর্ণনা করে নিতে চাই। অন্যথায় আগেই গুরুত্ব বলে দিলে অনেকে একটা ছেড়ে আরেকটায় বেশি গুরুত্ব দেয়।

২| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১০:৩২

বোকামানুষ বলেছেন: সবগুলো পর্ব পড়লাম ভাল লাগলো

সিরিজটা চালিয়ে যাবেন আশা করি অনেক কিছু জানতে পারবো তাহলে আমরা যারা এইসব বিষয়ে আগ্রহী

আমার একটা প্রশ্ন ছিল আমেরিকান অথবা বাইরের অন্য দেশ গুলো তে ইয়ার লস থাকলে কি ভর্তির ব্যাপারে কোন সমস্যা হয় মানে এইচ.এস.সি পাশ করার পর ২-৩বছর পর যদি কোন ছাত্র ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হয়ে স্নাতক শেষ করে তাহলে কোন সমস্যা হয় কি? জানা থাকলে কষ্ট করে জানাবেন প্লিজ

২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:২৩

মশক বলেছেন: বোকামানুষ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় নিয়ে সবগুলো লিখা পড়ার জন্য। আশাকরি সামনের কিস্তিগুলোতেও আপনাকে সাথে পাবো।

আপনার প্রশ্ন এর উত্তর আশাকরি সামনের ২-৩ কিস্তির মধ্যে বিস্তারিত দিতে পারবো। আশাকরি আপনি আমাকে ততটুকু অপেক্ষা করানোর সুযোগ দিবেন :P

৩| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৮

মোজাহিদ টিটু বলেছেন: ২০১৩ সালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছি। সিজিপিএ ৩.০৯। এসএসসিতে ৪.০০(সায়েন্স) এইচএসসিতে ৪.৮০ (মানবিক)। এখন মাস্টার্স চলছে, এবছর লাগবে। পাশাপাশি ডেইলী দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় ইউনিভার্সিটি রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছি। আমেরিকায় ফুলব্রাইট স্কলারশীপ নিয়ে আসার খুব ইচ্ছে। প্রাইমারী স্টেজে কী করতে পারি আমি?

২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:২৫

মশক বলেছেন: টিটু ভাই, এই লিঙ্ক (Click This Link) এ গেলে আশাকরি আপনার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পাবেন।

৪| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৫

সোহানী বলেছেন: প্রয়োজনীয় পোস্ট.........................

২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:১০

মশক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৫| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৩১

িবনায়ক বলেছেন: অনেক উপকৃত হলাম।

২১ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:৫০

মশক বলেছেন: আপনার উপকার করতে পারলাম জেনে ভালো লাগলো। আশাকরি সামনের কিস্তিগুলোতে আরো উপকৃত হবেন। শুভকামনা।

৬| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৮:৫৯

অবাকবিস্ময়২০০০ বলেছেন: ধন্যবাদ রুবায়েত ভাই ।। ভালো লাগলো
ভালো থাকবেন

৭| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৮:৫৯

অবাকবিস্ময়২০০০ বলেছেন: ধন্যবাদ রুবায়েত ভাই ।। ভালো লাগলো
ভালো থাকবেন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.