নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

* বিভিন্ন পথ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করায় আল্লাহর সিরাতিম মুসতাকিম হলো তাঁর অভিন্ন পথ। এটা আল্লাহর সুন্নাত। আল্লাহর এ সুন্নাত ছেড়ে গেলে বিভিন্ন পথে জাহান্নামে চেলে যেতে হয়। রাসূল (সা.) অভিন্ন ফিকাহের মাধ্যমে তাঁর এ দায়িত্ব পালন করেছেন। রাসূলের (সা.) পর এ দায়িত্ব ছিল মাওলা আলির (রা.)। তিনি অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করে আমির কর্তৃক অনুমোদন করিয়ে বিশ্বের সকল মসজিদের ইমামের কাছে পাঠিয়ে দিলে এবং তাঁরা সেই অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষার ব্যবস্থা করলে মুসলমানের ইবাদতের নিয়ম বিভিন্ন রকম হত না।এখন আল্লাহর পছন্দের নামাজে কেউ বুকে হাত বাঁধে, কেউ নাভির নীচে হাত বাঁধে এবং কেউ নামাজে হাত বাঁধে না।বিভিন্ন পথ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা আল্লাহ বললেও মুসলমান আল্লাহর পছন্দের নামাজই বিভিন্ন করে ফেলেছে।মতভেদে আল্লাহ মহাশাস্তির কথা বললেও মুছল্লিদের সেদিকে কোন খেয়াল নাই।এমতাবস্থায় আল্লাহ মুসলমানদেরকে মানুষ থেকে রক্ষা করছেন না। রাসূল (সা.) ইন্তেকালের সময় ফিতনা দেখেছেন। প্রথম খলিফা ফিতনার সাথে যুদ্ধ করে জীবন পার করেছেন। অন্য তিন খলিফা ও দুই ইমাম নিহত হয়েছেন। মোয়াল্লাফাতে কুলুব এর কোটায় হযরত মোয়াবিয়া (রা.) রেহাই পেয়েছেন। মক্কার খলিফা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে (রা.) হত্যা করে মক্কার রাজপথে তাঁর লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। একালে গাজা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এরপর ইরানের উপর হামলা চলছে। হযরত আলীর (রা.) বংশের ইমামগণ বেশী সংখ্যায় নিগত হয়েছেন। সর্বশেষ আলী থামেনি নিহত হয়েছেন।মতভেদের মধ্যে যারা সঠিক তারাও শাস্তির আওতায় আসছে মতভেদ নিরসনে কাজ না করার কারণে। হযরত আলী (রা.) থেকে যে পীর তন্ত্র চলমাণ তারাও অভিন্ন পথে নাই। পীরগণ বিভিন্ন দলে নির্বাচনে অংশগ্রহল করে সসম্মানে ফেল করেছেন। মাওলা কোন এটা দিকও যদি অভিন্ন রাখতে না পারেন তাহলে তাঁর আর মাওলার দায়িত্ব পালন করা হলো কই? সুতরাং মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না। অন্য খলিফাগণের মতই তিনি একজন খলিফা। মাওলা হিসাবে তাঁকে অন্য খলিফাগণের উপরে স্থান দেওয়া সঠিক না। তিন দল সাহাবা তাঁকে অন্য খলিফাগণের উপর স্থান না দিলেও আমরা তাঁদের থেকে এক কদম অগ্রসর হয়ে হযরত আলীকে (রা.) কেন অন্য খলিফাগণের উপর স্থান দেব? মহানবির (সা.) চার খলিফার সবাইকে আমরা সম্মানের আসনে রাখব- ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩

আব্দুল হাদী আল নাফী খান বলেছেন: আপনি খুব বিপজ্জনক খেলায় নেমেছেন- সাহাবীদের সমালোচনা করার মাধ্যমে। আলী(রা) এর প্রজ্ঞা আমার মনে হয়না এ যুগের মানুষের চাইতে কম ছিল। অনুসারীদের ভ্রান্তির দায় ওনার উপর চাপানো ধৃষ্টতা মনে হয় আমার কাছে। মানুষের অতিরিক্ত জ্ঞান আর বিভ্রান্তি- আলাদা করা অনেক সময় কঠিন। আমি ব্যক্তি আক্রমণ করতে চাইনা, কিন্তু আমাদের সতর্ক থাক উচিৎ। আপনি তো অনেক আলেমের সাথে পরিচিত, তাদের সাথে কথা বলতে পারেন আপনার ধারণার বিষয়ে।

একই আমল করার ক্ষেত্রে হালকা ভিন্নতা যার প্রমাণ ও দলিল মজুত রয়েছে, তা ইসলামের সৌন্দর্য বাড়ায়, কিন্তু মানুষ বুঝতে ভুল করে। কেউ যদি সুন্নাহর মধ্য থেকেই আমার থেকে ভিন্নভাবে আমল করে তাকে সম্মান করতে বাঁধা কোথায়- আমি জানিনা। ইউরোপে বিতর নামাজ একেক মসজিদে একেকভাবে পড়ে এবং হাদীসে তা প্রমাণিত- আমার কী দরকার পড়লো অন্যকে ভুল বলার? নিজে একা আমল করতে গেলে আপনার যা উত্তম মনে হয় তা নিয়ে থাকুন আর আপনার আওতায় যারা জানেনা তাদের বুঝাতে পারেন।

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১৪

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আমি হযরত আলীকে (রা) এ যুগের মানুষের সাথে তুলনা করিনি। এযুগের মানুষের সাথে তাঁর অনুসারীদের তুলনা করেছি। এসলাম এমন যে এখানে কোন ভিন্নতা দরকারী নয়। প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার অভাবে মুসলিমদের মাঝে অনেক বেশী ভিন্নতা। আপনি এ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে কি করবেন, আল্লাহ তো ছাড় দিচ্ছেন না। মুসলিমদের এত্ত বিপদ। আর কত বিপদ হলে তারা মতভেদ নিরসনে কাজ করবে? যেহেতু মতভেদ নিরসন করা সম্ভব সেহেতু মতভেদ নিরসন না করে ফেলে রাখার কারণ কি?

২| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৫

আব্দুল হাদী আল নাফী খান বলেছেন: আলী (রা) মাওলা বলার দরকার মুসলিমদের রয়েছে বলে আমি জানিনা। শিয়া যারা- তারা অনেক কিছুই বলে, অনেক কিছুই তাদের অতিরঞ্জিত, অনেকে শিরকও করে। তাদের বিভ্রান্তি দূর করতে চাইলে অনেক মেহনত দরকার।

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৮

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: শিয়ারা আযানে হযরত আলীর (রা) নাম ইউজ করে অন্য মুসলিমদের সাথে বিভেদ তৈরী করে। এ বিষয়টির সুরাহা হওয়া দরকার। আর এ পোষ্ট আমি বিশটি বড় গ্রুপে দিয়েছি, কোন প্রতিবাদ পাইনি। এতে বুঝাগেল পাঠকগণ আমার কথা বুঝতে পেরেছেন।

৩| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২৫

প্রজ্জলিত মেশকাত বলেছেন: আগে আমাদের মাওলা শব্দের অর্থ জানতে হবে। তারপর মন্তব্য করা বা লেখা উচিত বলে আমি মনে করি।

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১২

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: পোষ্টটি দিতে আমাকে যথেষ্ট পড়াশুনা করতে হয়েছে।

৪| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে হাবুডুবু খাই ।

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:০০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:


হযরত আলী (রা.) হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) প্রতিপক্ষ বানিয়ে দেখলেন তাঁর কেমন ক্ষতি হয়?

সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মুয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট করার লোক),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ সুবিজ্ঞ।

সূরাঃ ১১০ নাসর, ১ ও ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে।
২। আর তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবে।

সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে নাও। তুমি যাকে ইচ্ছা ইজ্জত দান কর, আর যাকে ইচ্ছা বেইজ্জতি কর।তোমার হাতেই মঙ্গল।নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

সূরাঃ ৬ আনআম, আয়াত নং ১৫৯ এর অনুবাদ-
১৫৯। যারা দ্বীন সম্বন্ধে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন শিয়ায় (দল) বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়। তাদের ব্যবস্থ্যা করার দায়িত্ব আল্লাহর।আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজ সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১।প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর, যিনি বার্তাবাহক করেন মালাইকাকে (ফেরেশতা) যারা দুই-দুই, তিন-তিন অথবা চার-চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ৪০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪০। যদি তোমরা তাঁকে সাহায্য না কর, তবে আল্লাহতো তাঁকে সাহায্য করেছিলেন যখন কাফিরগণ তাঁকে ধাওয়া করেছিল (হত্যা করার জন্য), আর তিনি ছিলেন দু’জনের মধ্যে দ্বিতীয় জন। যখন তাঁরা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, তিনি তখন তাঁর সঙ্গিকে বলেছিলেন, তুমি বিষণ্ন হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।অতঃপর তাঁর উপর আল্লাহ তাঁর প্রশান্তি নাজিল করেন এবং তাঁকে শক্তিশালী করেন এমন সৈন্যবাহিনী দ্বারা যা তোমরা দেখনি।আর তিনি কাফেরদের কথা তুচ্ছ করে দেন।আর আল্লাহর কথাই সুউচ্চ। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী সুবিজ্ঞ।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।

* মুয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট করার লোক) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দলে থাকলে মহাউপকার এবং দলের বিপক্ষে গেলে মহাক্ষতি। মক্কার রাজপুত্র হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ছিলেন মোয়াল্লেফাতে কুলুবের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তাঁর একটি গ্রুপ ছিল এবং এ গ্রুপটি ইসলাম গ্রহণ করার পর মক্কা বিজয় হয়েছিল। কারণ রাজপুত্র দল ত্যাগ করায় রাজা আর রাজপুত্রের দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।জনগণ রাজপুত্রের দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকরে পরাজিত হয় এবং তারা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করে। রাসূল (সা.) রাজা ও রাজপুত্রের উপর মহাখুশি হন। হোনায়েনের গণিমতের মাল থেকে রাসূল (সা.) তাঁদেরকে একশতটি করে উট প্রদান করেন। সেই রাজার রাজকন্যা উম্মুল মুমিনিন উম্মে হাবিবা ছিলেন রাসূলের (সা.) প্রিয়তমা স্ত্রী।

হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) প্রিয় বন্ধু হযরত খালেদ বিন ওয়ালিদ ছিলেন ইসলামের মহান প্রধান সেনাপতি। রাসূল (সা.) তাঁকে সাইফুল্লাহ খেতাব দিয়েছেন। হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) মেধাবী বন্ধু হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) ছিলেন ইসলামের মহান সেনাপতি। হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) মেধাবী বন্ধু হযরত মুগিরা বিন শোবা (রা.) ছিলেন ইসলামের মহান শাসক। হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) বন্ধু হযরত ওসমান বিন তালহা ছিলেন কাবার মোতয়াল্লী। তাঁর বংশে সেই দায়িত্ব এখনো বিদ্যমাণ আছে।হযরত মুয়াবিয়া (রা.) নিজে ছিলেন ইসলামের মহান বিজেতা। রাসূল (সা.) তাঁকে ওহী লেখক পদে নিয়োগ দান করেন। হযরত ওমর (রা.) তাঁকে দামেস্কের আমির নিযুক্ত করেন। সেই থেকে তিনি আমির মুয়াবিয়া (রা.)। হযরত ওসমান (রা.) তাঁকে সিরিয়ার শাসনকর্তা নিয়োগ দান করেন। বাইশ বছর শাসন কর্তার দায়িত্ব পালনের পর হযরত আলী (রা.) তাঁকে বরখাস্ত করলে তিনি হযরত আলীর (রা.) প্রতিপক্ষ হন। সিফফিন যুদ্ধে হযরত আলী (রা.) তাঁকে পরাজিত করতে পারেননি। তিনি বাধ্য হয়ে হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) খেলাফতের একাংশ ছেড়ে দেন। তারপর উভয় পক্ষ পরস্পর লানত প্রদান করে। উভয় পক্ষ খারেজী হামলার শিকার হন। উক্ত হামলায় হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) আল্লাহ রক্ষা করলেও হযরত আলীকে (রা.) আল্লাহ রক্ষা করেননি। তিনি খারেজী আক্রমণে শহীদ হলেন। তারপর খেলাফতের অপরাংশ হযরত ইমাম হাসান (রা.) থেকে হযরত মুয়াবিয়া (রা.) কেড়ে নেন।তারপর হযরত মুয়াবিয়া (রা.) মুসলিম সম্রাজ্যের শাসক ছিলেন বিশ বছর।মোট বেয়াল্লিশ বছর আল্লাহ তাঁকে রাজত্ব দিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষ হযরত ইমাম হাসান (রা.) স্ত্রী জায়েদার হাতে শহীদ হলেন। তাঁর পুত্রের প্রতিপক্ষ হযরত ইমাম হোসেন (রা.) কারবালায় শহীদ হলেন। এরপর শিয়ায়ে আলী (রা.) প্রবল আকার ধারণ করে। তারা বহু শিয়ায় বিভক্ত হয়। তারা হযরত মোয়াবিয়ার (রা.) বিরুদ্ধে গালির বস্তা নিয়ে নামে। এবিষয়টি যারা অপছন্দ করে তারা সুন্নী। কিন্তু শিয়া হযরত মুয়াবিয়াকে গালি দেওয়া বন্ধ করতে রাজি নয়।তারা মুসলিমদের মধ্যে চিরস্থায়ী বিভেদ তৈরী করে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে। সেই মহাশাস্তি হলো জাহান্নাম। ইহুদী তাদের বন্ধু হামাসের গাজা ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। এখন ইহুদী-আমেরিকা তাদের মূল আস্তানা ইরানে হামলা চালাচ্ছে। তাদের পক্ষে ফেরেশতা যুদ্ধ করেনি। মুসলমানের যে সামরিক অবস্থা তাতে তাদের পক্ষে ফেরেশতা যুদ্ধ না করলে অমুসলিম থেকে তাদের আত্মরক্ষা কঠিন। ভারতে তাদের মসজিদ হিন্দুরা মন্দির বানিয়েছে। তথাপি তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে গুতাগুতিতে লিপ্ত থাকবে- আসতাগফিরুল্লাহ। সাহাবায়ে কেরাম (রা.)পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে নিহত হয়েছেন। এসব যুদ্ধের দায় একা হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) নয়। হযরত আলীও (রা.) তাঁর সাথে মোয়াল্লেফাতে কুলুবের বিধি ভঙ্গ করেছেন। তারপর থেকে শিয়া ইমামগণ নিহত হতেই চলছেন। সর্বশেষ ইমাম আলী খামেনী নিহত হলেন। মুসলিম ঐক্যের স্বার্থে শিয়াদেরকে অবশ্যই হযরত মুয়াবিয়াকে গালি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। কারণ হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) গালি দেওয়া সুন্নীরা পছন্দ করে না। শিয়াদের কারণেই মুসলিম অনৈক্যে আল্লাহ মুসলিম জাতির প্রতি বিরক্ত। তাদের বিপদে আল্লাহ তাদের সাথে থাকেন না। এদিকে অমুসলিমরা তাদেরকে পুড়ে-ভেজে খায়। আল্লাহর নির্দেশে তারা ঐক্যবদ্ধ হলে হয়ত আল্লাহ তাদের সাথে থাকবেন। এবার কিছুতেই জামায়াত-চরমোনাই ঐক্য ধরে রাখতে পারেনি। অবশেষে তাদের কোন পক্ষ জয়ী হয়নি। তারা তাদের কোন পক্ষের দোষ সেই হিসাব নিয়ে ব্যস্ত। এদিকে তাদের প্রতিপক্ষ তাদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খায়- আসতাগফিরুল্লাহ। এসব বেকুব আবার নিজেদেরকে আবার মহাজ্ঞানী মনে করে। তোদের ঐক্যের জ্ঞান না থাকলে তবে তোদের জ্ঞান অনেক হয় কেমন করে? এমন অজ্ঞান লোকদেরকে আল্লাহ ক্ষমতা দেন না। সেটা আমরা বরাবর দেখে আসছি।

৫| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




মাওলার দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলী (রা.)-কে মাওলা বলা ঠিক না ; ঐতিহাসিক, আকীদাগত এবং কুরআন
-হাদিসসম্মত দৃষ্টিতে দুর্বল ও বিভ্রান্তিকর। বিষয়টি আবেগ নয়, বরং দলিলের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরবি মাওলা শব্দটি বহুমাত্রিক এর অর্থ হতে পারে অভিভাবক, বন্ধু, সাহায্যকারী, প্রিয়জন, ঘনিষ্ঠজন ইত্যাদি।
কুরআনেই বিভিন্ন স্থানে “মাওলা” শব্দটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:
“আল্লাহু মাওলানা…”
(সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)
এখানে মাওলা অর্থ সাহায্যকারী ও অভিভাবক।
অতএব, মাওলা মানেই রাজনৈতিক শাসক বা খলিফা এমন সংকীর্ণ অর্থ আরোপ করা ভাষাগতভাবেও সঠিক নয়।

রাসূলুল্লাহ (সা,) গাদীরে খুমে ঘোষণা করেন:যার মাওলা আমি, আলীও তার মাওলা।
(তিরমিযি, আহমদ)
এই হাদিসটি সহিহ সূত্রে বর্ণিত এবং এর মাধ্যমে রাসুল (সা.) হযরত আলী (রা.)এর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও
আনুগত্যের বিষয়টি জোরদার করেছেন। এখানে মাওলা শব্দটি কোনো শর্তসাপেক্ষ পদ নয় যে দায়িত্ব পালন
করলে তবেই মাওলা বলা যাবে বরং এটি একটি ঘোষিত মর্যাদা।

কুরআনে সাহাবাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন:
আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট।
(সূরা আত-তাওবা ৯:১০০)
হযরত আলী (রা.) সেই শ্রেষ্ঠ সাহাবাদের অন্যতম। তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক বা অবমূল্যায়নমূলক মন্তব্য করা
কুরআনের এই সামগ্রিক প্রশংসার বিরোধী।

ইতিহাসে রাজনৈতিক ঘটনাবলি (খিলাফত, মতভেদ ইত্যাদি) ছিল জটিল এবং প্রেক্ষাপটনির্ভর। কিন্তু কোনো
সাহাবীর মর্যাদা নির্ধারণ করা হয় না এই ভিত্তিতে যে তিনি কোনো ধারণাকৃত দায়িত্ব পালন করেছেন কি না।
রাসূল ﷺ কখনো বলেননি: আলী দায়িত্ব পালন করলে তবেই সে মাওলা এমন কোনো শর্ত নেই।
বরং তিনি নিঃশর্তভাবে বলেছেন: আলী আমার থেকে এবং আমি আলীর থেকে।
(তিরমিযি)

আহলে সুন্নাহর আকীদা হলো: সকল খোলাফায়ে রাশেদীন (আবু বকর, উমর, উসমান, আলী রা.) সম্মানিত ।
হযরত আলী (রা.) উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সাহাবী ও চতুর্থ খলিফা ।তাঁদের মধ্যে মতভেদ ছিল, কিন্তু তা ইজতিহাদি
অপমান বা অস্বীকারের বিষয় নয় ।

মাওলা শব্দকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে হযরত আলী (রা.) এর মর্যাদা অস্বীকার করা কুরআন, সহিহ হাদিস এবং
সাহাবাদের প্রতি সম্মানবোধ তিনটিরই পরিপন্থী।

এ ধরনের বক্তব্য শুধু ঐতিহাসিক সত্য বিকৃত করে না, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঠিক
পথ হলো সকল সাহাবীর প্রতি সম্মান রাখা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)এর ঘোষণাকে তার প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা।

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: হযরত আলীর (রা) মর্যাদা অস্বীকার করিনি। তাঁর সিনিয়ারদের থেকে তাঁর বাড়তি মর্যাদা অস্বীকার করেছি।

৬| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:২১

জিকোব্লগ বলেছেন:



আপনার কথাবার্তা এবং আচরণ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে আপনার মাথায় সিরিয়াস সমস্যা
চলছে, বুঝতে পারছেন না নাকি? এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তাই দেরি না করে দ্রুত একজন ভালো ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। আশা
করি আপনার জামাই অন্তত একটু বুদ্ধি করে আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে!

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আপনার হালকা থেরাপি দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমার টাইম নাই।

৭| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: চাচাজ্বী আপনি পিছিয়ে আছেন।
এটা ৫৭০ সাল না। বিশ্ব কোথায় গিয়েছে, সে ব্যাপারে আপনার কোনো ধারনা নেই।

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৮

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: এটা আপনার সাবজেক্ট নয়।

৮| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: "লেখক বলেছেন: সর্বশেষে আলী থামেনি নিহত হয়েছেন। মতভেদের মধ্যে যারা সঠিক তারাও শাস্তির আওতায় আসছে মতভেদ নিরসনে কাজ না করার কারনে"। হা হা :) :)

আপনার ধারনা ইসরাইল-আমেরিকার বোমা হামলায় মানুষের মৃতুর কারন মতভেদ নিরসনে তাদের কাজ না করা? ইরানের স্কুলে যে ১৬৫ এর অধিক শিশু হত্যা করা হলো, এটার কারণ মতভেদ নিরসনে শিশুদের কাজ না করা?

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৯

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আল্লাহ জাতিগত শাস্তি দিয়ে থাকেন। তার থেকে কেউ রেহাই পায় না।

৯| ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৪১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.