| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফড়িং তিড়িং বিড়িং
"আমি নিজের কাছে অপরিচিত এবং এটা আমাকে দুঃখ দেয়" -এটা কবে লিখেছিলাম জানিনা। তবে আর আমার নিজেকে জানার কিছু নেই, একজন ভীতু, মূর্খকে চেনার মধ্যে কোন সফলতা নেই।
আমি ভয়াবহ রকমের ফাঁকিবাজ। যেকোন পরীক্ষার দশ/পনেরদিন আগ থেকে বই নিয়ে বসে নাওয়া খাওয়া, ঘুম বাদ দিয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকাটাই আমার কাজ (বর্তমানে আর অবশ্য সেটাও করা হয়না)। তারপর আবার তিনচারমাস হইহই টইটই করে ঘোরাঘুরি। আমার এই বাউন্ডুলে অভ্যাসে আমার আম্মু অনেক চিল্লাচিল্লি করলেও বাবা কোনদিন কিছু বলেনি এমনকি যেদিন খাতার ভিতরে তিনগোয়েন্দা পড়তে গিয়ে ধরা পড়ি সেদিনও আম্মু তুলাধুনা করলে বাবা উদ্ধারকর্তা হিসেবে হাজির হন।
ঘটনাটা ক্লাশ টু'র দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার, কেজি থেকে টুর 1st term পর্যন্ত আমি আশ্চর্যজনকভাবে বারবার 3rd হতাম, প্রত্যেকবারই! কিন্তু দ্বিতীয় সাময়িকে কি হল জানিনা একলাফে সপ্তম হয়ে গেলাম। রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় এত ভয়ে ছিলাম কিন্তু তাজ্জবের কথা বাবা কিছুই বলল না। আম্মা তো বকতে বকতে জান বের দিল কিন্তুক Problem হল আম্মার বকা গায়েই লাগে না।
এরপর বেশকিছুদিন পার হয়ে গেছে। একদিন ক্লাশে বসে আছি, আয়াদিদিমণি এসে খবর দিল আমাকে হেডসিস্টারের রুমে যেতে হবে। কলিজা তো শুকায় শেষ তার ওপর যখন গিয়ে দেখি আমার বাবা সিস্টারের সামনে বসা। এরপর আমাকে বসিয়ে আমার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার খাতাগুলোতে টোকা দিয়ে জানানো হল আমি কতকিছু ভুল লিখেছি। Actually আমার বাবা আমার খাতা চেক করতে গিয়েছিল, তিনি ভেবেছিলেন হয়ত দিদিরাই ভুল করে নম্বর দিয়েছে, আমাকে অপদস্থ করতে নয়। আমি সেদিন শুধু বলেছিলাম, "বার্ষিকে আমি 1st হব।" আমি কোনকিছু ভেবে তখন কথাটা বলিনি, Just ওই মুহূর্ত থেকে নিজেকে উদ্ধারের জন্য বলেছিলাম।
আমাদের স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার নিয়ম ছিল সব ক্লাশের সব Studentরা মাঠে দাঁড়াবে আর হেডসিস্টার ক্লাশ অনুযায়ী 1st, 2nd, 3rd এর রেজাল্ট ঘোষনা করে পুরস্কার দিবেন। সেদিনের আর কিছু মনে পড়েনা শুধু মনে পড়ে, খোঁড়াদিদিমণি আমার হাত ধরে Stage এ নিয়ে যাচ্ছে আর মাইকে বেজে যাচ্ছে, "দ্বিতীয় শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে এজাজুন নাহার।"
তার কিছুক্ষণ পর আমি নিজেকে আবিষ্কার করি আমার বাবার কোলে অজস্র চুমুতে সিক্ত অবস্থায় ।
না আমার বাবা কখনো মনে করিয়ে দেয়নি, "তুমি কিন্তু 1st হবার কথা দিয়েছ", আমাকে আমার মতই থাকতে দিয়েছে। বাবা আজ পর্যন্ত কখনো আমার ব্যর্থতার জন্য আমাকে বকেনি, কখনো বলেনি পড়তে বসার কথা, যা চেয়েছি তাই দিয়েছে, আজপর্যন্ত যতটুকু কবিতা লিখেছি সবটাই বাবার অনুপ্রেরণা। আমার প্রতিটা কথার গুরুত্ব বাবা এমনভাবে দেয় যেন আমি অনেককিছু জানি। সেই পিচ্চি কাল থেকেই সে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে আমাকেই গুরুত্বপূর্ণ করেছে। যখন ক্লাশ ফাইভে বৃত্তি দেবার লিস্টে চান্সই পাইনি, বাবার বুকে মুখ রেখে কেঁদেছিলাম আর তারপর ক্লাশ এইটে District থেকে নবম হয়ে বৃত্তি এসেছে আমার, বাবার অনুপ্রেরণায়।
আমার বাবা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ বাবা, নিঃসন্দেহে।
২|
২৫ শে আগস্ট, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৪
নীল-দর্পণ বলেছেন: আমার আব্বাও কখনোই পড়ার জন্যে চাপ দেননি বরং আম্মা বকতেন। আম্মা বকলে আব্বা বলতেন থাক এত চাপ দিও না
সব বাবারাই ভাল থাকুক ![]()
৩|
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:১৪
ফড়িং তিড়িং বিড়িং বলেছেন: :-D hmm...
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:২৪
কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: আপনার লেখার ধরন ভালো। অনেকটা দিনলিপির মত বা ব্যক্তিগত ভার্চুয়াল ডায়রী হিসেবে লেখা গুলো লিখছেন। ভালো লাগছে।

তবে অনুরোধ রইল এক দিনে বেশি বেশি পোষ্ট দিবেন না। দুই দিন বা তিন দিন পর লেখা দিবেন। এক দিনে বেশি বেশি লেখা দিলে সেটা অনেক সময় অন্যদের বিরক্তির কারন হয়ে যেমন দাড়ায় আবার আগের লেখাটার সঠিক মূল্যায়ন হয় না।
তবে আপনি একদমই নতুন ব্লগার। আপনার লেখার আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। আপনাকে ব্লগে স্বাগতম।