নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর

আমার ছোটবেলাটা বিশাল দুরন্তপনায় কেটেছে। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করাই ছিল আমাদের বন্ধুবান্ধবদের চাকরি। কি করিনি আমি! ধান কেটে ফেলার পর জমিতে মাছ ধরা, সাপের গর্তে লাঠি দিয়ে গুঁতাগুঁতি করা, গাছে উঠে পাখি খুঁজা, ডাংগুলি, সাতচারা, গোল্লাছুট খেলা, পুকুরে ঝাঁপাঝাঁপ

ফড়িং তিড়িং বিড়িং

"আমি নিজের কাছে অপরিচিত এবং এটা আমাকে দুঃখ দেয়" -এটা কবে লিখেছিলাম জানিনা। তবে আর আমার নিজেকে জানার কিছু নেই, একজন ভীতু, মূর্খকে চেনার মধ্যে কোন সফলতা নেই।

ফড়িং তিড়িং বিড়িং › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার খণ্ড শৈশব

২২ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:২৭





আমার ছোটবেলাটা বিশাল দুরন্তপনায় কেটেছে। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করাই ছিল আমাদের বন্ধুবান্ধবদের চাকরি। কি করিনি আমি! ধান কেটে ফেলার পর জমিতে মাছ ধরা, সাপের গর্তে লাঠি দিয়ে গুঁতাগুঁতি করা, গাছে উঠে পাখি খুঁজা, ডাংগুলি, সাতচারা, গোল্লাছুট খেলা, পুকুরে ঝাঁপাঝাঁপি করা যদিও সাঁতারটা আয়ত্তে আনতে পারিনি কোনদিন পুরানো একটা জমিদারবাড়ি ছিল আমাদের ওখানে, সেখানে গিয়ে নিজেকে শার্লক হোমস ভাবা, রেললাইনের সমান্তরাল পথ ধরে হেঁটে গেছি মাইলের পর মাইল, ট্রেনের চাকায় পাঁচপয়সা চেপ্টা করে আমাদের মুখে সে কি বিজয়ের হাসি! আমি খুব সুন্দর লাটিম ঘুরাতে পারি, দিয়াশলাইয়ের কাগজ দিয়ে তাস খেলা যে কি আনন্দের তা আমার বিচ্ছু ছেলেপেলেগুলাকে অবশ্যই শিখাব!



বাবনদার বাচ্চা একটা সাইকেলের প্রতি আমার অপরিসীম লোভ ছিল। কামুকেরা যেভাবে একটা মেয়ে দেখে আমি বোধহয় তারচেয়ে বেশি লালসা নিয়ে সাইকেলটা দেখতাম। সারাদিন প্যানপ্যান করে, বাবনদার বিভিন্ন কাজ করে দিলে তারপর পাঁচমিনিটের জন্য সেটাকে একান্ত আমার করে পেতাম। আর বাসায় এসে প্রতিদিন একটা নিজস্ব সাইকেলের জন্য বাপের কাছে কানতাম। অবশেষে ক্লাশ সিক্সের February তে একটা সাইকেল আমার হল। সারাদিন সাইকেল নিয়ে আমি কই কই যে ঘুরতাম!সাইকেলটাকে যেভাবে প্রতিদিন গোসল করাতাম সেভাবে যদি আমি নিজের যত্ন নিতাম তাহলে এতদিনে ফর্সা হিসেবে সুনাম কামাতে পারতাম! সাইকেলটার চাকা যেদিন লিক হত মনে হত আমার হাতের কোথাও ছিঁড়ে গেছে! ছোট মানুষ ছিলাম ইমোশন বেশি ছিল। আম্মার ফাইফরমাশ খাটতে এত ভালো লাগত তখন, কারণ সাইকেল নিয়ে ইচ্ছেমত উড়ে যাওয়া যেত! অনেকবার এক্সিডেন্ট করেছি, পড়ে গেছি সাইকেল থেকে, হাত পা কেটে গেছে, সব গোপন ছিল কিন্তু একটা বদ, ফাজিল মোটরসাইকেলের সাথে এক্সিডেন্ট করার পর আমার জানটাকে আর আমাকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবুও সেটা অন্তত বাসায় ছিল বলে একটু শান্তি পেতাম। কিন্তু একদিন নিষেধ ভেঙ্গে সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার কারণে আমার পঙ্ক্ষীরাজটাকে একটা রাক্ষসের কাছে বেচে দেয়া হয়। কী কষ্ট! মনে হচ্ছিল কেউ কুচিকুচি আমার সমস্তটা কাটছে। :-(



ছোটবেলার ইমোশন যত দ্রুত আসে তার চেয়েও দ্রুত যায়।মানসম্মানবোধটাও কম থাকে বিধায় সব শোক জলাঞ্জলি দিয়ে আবার বাবনদার সাইকেলটার পিছনে ঘ্যানঘ্যান করতে থাকি!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.