| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইমোশনাল খলিল
দিনের শেষে আমি এক ব্যর্থ প্রেমিক, যে অনেকদিন আগে দেখা এক কিশোরীর লাজুক মুখ মনে করে বিষণ্ণ মনে ঘুমোতে যায়
আমার দাদাজান ছিলেন বিরাট বীরপুরুষ। তিনি একবার আছাড় দিয়ে বিশাল এক অজগর মেরেছিলেন। আজ সেই গল্পটা বলি। বাঙালীর সাহসের গল্পের বড় অভাব। সাহসের গল্প শোনার দরকার আছে।
সাবেক জমিদার এর জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন দাদাজান। লাঠি খেলার নেশা ছিলো। অত্র অঞ্চলে দাদাজানের লগে কেউ পাঙ্গা নিতে আসলে তার জীবন স্রেফ দুঃস্বপ্ন হয়ে যেতো! আর ছিলো ইলিশ মাছ ধরার শখ। কেবল ইলিশ ধরার জন্যই কলকাতা থেকে বিরাট এক বজরা বানিয়ে এনেছিলেন!
তো একবার বর্ষা মৌসুমে দাদাজান তার বন্ধু-বান্ধব নিয়া আরিচা গেছেন ইলিশ শিকারে। সেবার কপাল এমন খারাপ যে, দুইদিন যায়, তিনদিন যায় , সপ্তাহ পার হয়ে যায়, দুই চাইরটা জাটকা ছাড়া আর কিছুই পরেনা জালে।
দাদাজানের তো গেলো জিদ উইঠা। শ'দুয়েক বাঘা ইলিশ না ধরে আর বাড়ি ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে দিলেন।
খোদার কী লীলা, সেই রাতেই জালে পড়লো ইলিশের বিরাট এক ঝাঁক। এমন ওজন যে আট-দশজনে টেনে তুলতে পারেন না। সারারাত সবাই মিলে প্রাণপাত পরিশ্রম করে ফজরের একটু আগে আগে কোনমতে জাল নৌকায় তুলেই হাত পা ছড়িয়ে দিলেন ঘুম।
সকালে দাদাজানের ঘুম ভাঙলো তুফান চিল্লাচিল্লিতে! উঠে দেখলেন নৌকায় কেউ নাই, সবাই পানিতে হাত পা ছোঁড়াছুঁড়ি করতেছে!
সাথে বাবারে মারে বলে চিৎকার!
কাহিনী কি? দাদাজান তো আসমান থেকে পরলেন!
আচানক পাটাতনে নজর যাওয়ায় দেখেন যে জালের ভিতরে বিশাল এক অজগর! ভরপেট ইলিশ খেয়ে নাক ডেকে ঘুম দিতাছে!
দাদাজানের মেজাজ তো পুরা বিলা। এতো সাধের ইলিশ জানোয়ারে এমনে খাইলো! ক্ষোভে-দুঃখে দাদাজান অজগর টার ঘাড়ে ধরে গায়ের জোড়ে দিলেন এক আছাড়।
আর এক আছাড়েই অজগরের কেল্লা ফতে! সটান মরে পড়ে থাকলো পদ্মার পাড়ে!
মাথা একটু ঠাণ্ডা হলে দাদাজান বেশ অনুশোচনায় ভুগতে লাগলেন। খুব বলশালী হলেও দাদাজানের শরীরটা ছিলো দয়ার। তার খুব খারাপ লাগতে লাগলো এতবড় প্রাণী টা মেরে ফেলে। নাহয় কটা ইলিশই খেয়েছিলো!
তিনি মৃত অজগরটাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দাফন করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
সে এক মহাযজ্ঞ! কয়েক হাজার মানুষ সপ্তাহ ব্যাপী কবর খুঁড়লো অজগরের জন্য।
কবরের দৈর্ঘ্যও কম হলোনা, আরিচা থেকে গাবতলি পর্যন্ত!
জনশ্রুতি আছে অজগরের দাফনে অংশ নিতে সুদূর চীন থেকে লোক এসেছিলো।
পরবর্তীতে দাদাজানের হাতে বেঘোরে প্রাণ হারানো সেই অজগরের দীর্ঘ কবরের উপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ চালু হয়। যা এখন আরিচা মহাসড়ক নামে পরিচিত।
আরিচা ঘাটের পত্তনও হয় দাদাজানের হাতে।
সেবার আর দাদাজানের ইলিশ ধরা হয়নি। পরের বার মনের দুঃখ মেটাতে ইলিশ শিকারে গিয়েছিলেন বঙ্গোপসাগর।
সে গল্প আরেকদিন করা যাবে।
![]()
![]()
![]()
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১১:২৩
ইমোশনাল খলিল বলেছেন:
২|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১১:৪৪
আখিলিস বলেছেন: জটিল লেখছেন কিন্তু আপনার দাদাজান আর আমার দাদাজান যে দোস্ত ছিল তা তো লেখলেন না ! আর অজগরটারেও যে দুজন মিল্ল্যা আছাড় দিছিল (আপনার দাদা ধরছিল মাথার দিক আর আমার দাদা লেজের দিক) তাও তো কইলেন না । গোস্সা হইলাম !!!
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:০৩
ইমোশনাল খলিল বলেছেন: গোস্বা করলে হপে?? আমরা আমরাই তো!!!
৩|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১১:৫৩
এহসান সাবির বলেছেন:
বেশ.....!!
বঙ্গোপসাগর গল্প আরেকদিন পড়া যাবে...........!!
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:০৪
ইমোশনাল খলিল বলেছেন: সেও এক বিরাট ইতিহাস!!!
৪|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:১২
স্বরে অ বলেছেন: "বাঙালীর সাহসের গল্পের বড় অভাব।" এই লাইনটা বাদ দিলে ভালো হত।সাহস আছে বলেই আপনি এমন গল্প লিখতে পারলেন।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:২২
ইমোশনাল খলিল বলেছেন: এইডাতো রম্য! সোয়াই সো সিরিয়াস ভ্রাতা??
৫|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:২৩
নতুন বলেছেন:
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:২৯
ইমোশনাল খলিল বলেছেন:
৬|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:৪১
শান্তির দেবদূত বলেছেন: হা হা হা, বেপক হাসলাম গল্পটা পড়ে, কমেন্ট লেখার সময়ও মুখের কোনে মুচকি একটা হাসি হাসি ভাব ধরা ছিল! আসলেই মজার হয়েছে। পরের গল্পের অপেক্ষায় রইলাম। শুভেচ্ছা রইল।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:০৫
ইমোশনাল খলিল বলেছেন: আপনার স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্য পেয়ে এত আনন্দ লাগছে!!!
অনেক অনেক ভালো থাকুন! ধন্যবাদ।
৭|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:০৯
বেলা শেষে বলেছেন: আপনার কিছু কিছু লেখা আমি পড়েছি, এখনো সবগুলো পড়ে শেষ করতে পারিন। কবিতা সমূহ চমৎকার।
অনেক অনেক ভালো থাকবেন।
অশেষ ধন্যবাদ।
Up to next time.
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ২:৪৮
ইমোশনাল খলিল বলেছেন: কেউ কবিতার প্রশংসা করলে এত্তগুলা ভালো লাগে!!! আপনার জীবন আনন্দময় হোক এই শুভকামনা। ধন্যবাদ।
৮|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ২:৩১
শরৎ চৌধুরী বলেছেন: বাহ! দারুন! মিথিক্যাল ইতিহাস।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ২:৫৩
ইমোশনাল খলিল বলেছেন: দাদাজানের অছিলায় শরৎ দা'র মতো প্রিয় লেখক কে আমার ব্লগে পাইলাম!!
নাম্বার ওয়ান দাদাজান!!
৯|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ২:৫৫
বশর সিদ্দিকী বলেছেন: আসলেই এই ধরনের গল্পের বরই অভাব। ভালই লেগেছে।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৩:০২
ইমোশনাল খলিল বলেছেন: নাম্বার ওয়ান দাদাজান!!
ভালো লেগেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
১০|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৩:৩৮
আমি নিন্দুক বলেছেন: উরিবাবা!! বজরা টা কত বড় ছিল....!!!
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:৩০
ইমোশনাল খলিল বলেছেন: তাইতো!!! বজরাটা কত বড় ছিলো!!!!! চিন্তার বিষয়!!!
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১১:২০
হাসিব০৭ বলেছেন: