নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি বাঙালি, বাংলাদেশি

কিছু লেখার নেই

আমি বাঙািল, বাংলােদিশ

কিছুই লিখার নেই

আমি বাঙািল, বাংলােদিশ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয় বিতর্কের অবসান-

২৯ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৮

document View this link View this link

নেপাল থেকে ফিরে ইমরুল কাওসার ইমন : মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয়ের প্রায় চার বছরের মাথায় হঠাৎ করেই এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠলো। বিষয়টি অনেকটাই রহস্যময় মনে হলো। রহস্যের গন্ধ পেলে অনুসন্ধানী সাংবাদিক আর গোয়েন্দারা একটু নড়েচড়েই বসেন। আমিও বিষয়টি নিয়ে দিনরাত ভাবতে শুরু করলাম, বিতর্কের মূলে যেতে। নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশনের ৬০ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত ম্যাগাজিনে এভারেস্ট বিজয়ীদের একটি তালিকা বেরোয়। সেখানে মুসা ইব্রাহীমের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের একটি টিভি প্রথমে এ বিতর্কের অবতারনা করে। এরপর একে একে কিছু অনলাইন পোর্টাল নিউজটি প্রকাশ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে বিস্তর কথা হয় পক্ষে-বিপক্ষে। কেউ কেউ মুসা ইব্রাহীমকে জাতীয় বেঈমান বলেও আক্রমন করেন। অন্য পক্ষ আবার বলতে থাকেন, দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনা একজন ব্যক্তিকে এভাবে আক্রমন করা হিনমন্যতার চরম বহিপ্রকাশ। জাতি হিসেবে এটা আমাদেরকে বিশ্বের কাছে চরমভাবে হেয় করেছে।

বাংলাদেশের সেইসব মিডিয়ায় মুসার এভারেস্ট বিজয়কে প্রশ্ন বিদ্ধ করে বলা হয়, মুসা এভারেস্ট বিজয় করেননি। এ বিতর্ক এখনো কম বেশি আছেই। ঠিক এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিই এর ভেতরের খবরটা বের করে আনা জরুরী। এ বিতর্কের ইতি টানতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। ফলে ভোরের ডাকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ আমাকে এই অনুসন্ধানের জন্য নেপালে পাঠান। যাত্রা পথে বিমানে বসে বার বার ভাবছিলাম এক জন মানুষের কত টুকু দু:সাহস হলে যে পুরো জাতীর সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে। আবার এও ভাবলাম না এত বড় প্রতারণা করা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে যে মূহূর্তে বিমানে বসে এসব কথা ভাবছিলাম সেই মূহুর্তে আমার কাছে মাত্র দু’টি তথ্য ছিল- এক. একটি নাম ‘মুসা ইব্রাহীম’। দুই. কথিত এভারেস্ট জয় করেছিলেন ২০১০ সালের ২৩ মে। এরপর নেপালের কাঠমাণ্ডুতে পৌঁছে থামেলের একটি হোটেলে উঠলাম। সাহায্যকারী নেপালী বন্ধু তারা রতেœ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলাপালোচনা করলাম। এক পর্যায়ে নেপালের মানচিত্র নিয়ে বসলাম।

প্রথম যেতে হবে নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন এনএমএ’তে। সেখানে যোগাযোগ করা হলো। তাদের ওই এসোসিয়েশনের প্রকাশনা ‘নেপাল পর্বত’ এ কেন মুসার নাম এলো না? কেন এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে মুসার নাম নেই সেখানে? না কি সত্যি সত্যি মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট জয় করেননি? নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশনে গিয়ে দেখাই মুসার সার্টিফিকেট এবং কিছু ছবি। যেগুলো মুসা ইব্রাহীমের ফেসবুক এবং ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করেছিলাম। সেখানকার চিফ এডমিন অফিসার জিনেস সিন্দুরাকার বলেন, দেখুন এভাবে ছবি দেখে মন্তব্য করা খুবই দুষ্কর। মুসা তিব্বতের সাইড থেকে সামিট করেছিলেন। তো এটা পুরোপুরি চায়না, তিব্বতের ব্যাপার। এরপরও এ ব্যাপারে আরো তথ্য পাওয়ার জন্য তিনি নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশনের সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার লাকপা শেরপার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী যোগাযোগ করি লাকপা শেরপার সঙ্গে। তিনি জানালেন, দেখুন নেপালের এই ম্যাগাজিনে কারো নাম এলো, না কি এলো না; তা দিয়ে এভারেস্ট বিজয়ের কিছু যায় আসে কি? একটু হেসে তিনি আবার বলেন, এটার সঙ্গে এভারেস্ট বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা নিয়ে অনেক সময় অনেক কিছুই হয়। নাম ভুলে বাদ যেতে পারে। আবার বাদ দেয়ার কৌশলও রয়েছে। মানে এটা কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু মুসা তো তিব্বত চায়নার দিক থেকে এভারেস্ট জয় করেছেন, তাই এই ম্যাগাজিনে তার নাম থাকবে না, এটা একেবারে ঐচ্ছিক একটি বিষয়। তিব্বত কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকাশনা করলে মাঝেমধ্যে নেপালি দিক থেকে সামিট করা অনেকের নাম এভাবে বাদ দিয়ে দেয়। এগুলো নিয়ে অনেক রাজনীতিও হয়। লাকপা শেরপা আরো যোগ করেন, মুসা যদি এভারেস্ট জয় না করতো তাহলে তো তিব্বত তাকে কখনো সার্টিফিকেট দিতো না। এটা আপনি শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারেন। তার কথা শেষ করে বুঝতে পারালাম এই সংগঠনটি আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। কারণ মুসা ইব্রাহীম তাদের পার্ট নয়। মুসার সঙ্গে এনএমএ’র কোনো সম্পর্ক নেই। আবার এও ভাবতে শুরু করলাম আমার অনুসন্ধান আরো জটিল থেকে জটিল তর হয়ে গেল। এখন সত্যতা যাচাই করতে হলে আমাকে যোগাযোগ করতে হবে চায়না তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। এরপর এনএমএ থেকে মুসা ইব্রাহীমের প্রধান শেরপা কৈলাস তামাং এর নম্বর সংগ্রহ করলাম।

এরপর অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়লাম। কিন্তু হাল ছাড়িনি। মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয়ের দলিল অর্থাৎ তার সার্টিফিকেটটি আসল না নকল। তা যাচাই করতে অনেক কষ্টে যোগাযোগ করলাম চায়না তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন (সিটিএমএ) সভাপতির মি. জাং এর সঙ্গে। কিন্তু তিনি ইংরেজি, হিন্দি, নেপালী কোনো ভাষাই কথা বলতে পারেন না। ভাষাগত সমস্যার কারণে তিনি আমাকে কথা বলার পরামর্শ দেন সিটিএমএ-এর সেল্স ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার মিস. সেটবন-এর সঙ্গে। মুসা ইব্রাহীমের সার্টিফিকেট দেখেই তিনি বলেন, এটা যে আসল সার্টিফিকেট এতে কোনো সন্দেহ নেই। চায়না তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন যে এটা প্রদান করেছে তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। ফটোশপ বা অন্য কোনোভাবে অরিজিনাল সনদ তৈরির সুযোগ নেই।

সার্টিফিকেট-এর ছাড়পত্র পাওয়ার পর মুসার এভারেস্ট বিজয় সম্পর্কিত কিছু ছবি তাকে দেখাই। সেগুলো দেখে তিনি বলেন, মুসা যে এভারেস্ট জয় করেছেন এ ছবিগুলোই তার বড় প্রমাণ। তিনি ২০১০ সালের ২৩ মে এভারেস্ট জয় করেছেন এবং এর সব ধরনের তথ্য আমাদের কাছেও আছে। কোনো অভিযাত্রী অসদুপায় অবলম্বন করলে আমাদের কাছে তা ধরা পড়বেই। এক প্রশ্নের জবাবে মিস সেটবন বলেন, ‘দেখুন মূসা ইব্রাহীমের শেরপারা এবং জয়েন্টগ্রুপ হিসেবে যারা কাজ করেছেন তারা ছবিগুলো বেসক্যাম্পে কর্মকর্তাদের তখনই প্রদান করেছেন। এবং বেসক্যাম্প থেকে আমাদের প্রতিনিধি যখন আমাদের নিশ্চিত করেছে তখনই আমরা মুসাকে সার্টিফিকেটটা দিয়েছি। তাকে নিয়ে বাংলাদেশে যে বিতর্ক হচ্ছে তা অর্থহীন। তবে বাংলাদেশে এ নিয়ে যত বিতর্কই হোক আমরা আমাদের সত্য অবস্থান থেকে বিচ্যূত হবো না।’ পরে ভাবতেই খুশি হচ্ছিল যে আমি আমার কাঙ্খিত প্রশ্নের উত্তরগুলো পেয়েগেছি। কিন্তু তখনও আমার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। আরো অর্ধেক বাকি। এবার আরেক চ্যালেঞ্জ। আর তা হলো যে শেরপারা মুসা ইব্রাহীমকে এভারেস্টে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন তাদের খুঁজে বের করা এবং সাক্ষাতকার নেয়া।

এভারেস্ট আরোহণের সময় মুসা ইব্রাহীমের প্রধান শেরপা ছিলেন, কৈলাস তামাং শেরপা, লাকপা নুরু শেরপা এবং জয়েন্ট গ্রুপ হিসেবে এভারেস্ট জয় করতে গিয়েছেন লাল বাহাদুর জিরেল। ওই দুই শেরপা এবং লাল বাহাদুর জিরেলের সাক্ষাৎ আমাকে পেতেই হবে। নইলে অনেক কিছুই আঁধারে থেকে যাবে। মুলত কথা উঠেছিল মুসা ইব্রাহীমের কাছে টাকা নিয়ে শেরপারা তাকে এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এখন ওই শেরপাদের খুঁজে বের করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেকটা সত্য তথ্য উদ্ঘাটিত হবে।

মুসা ইব্রাহীমের প্রধান শেরপা কৈলাস তামাংকে পাওয়া গেল নেপালের সবচেয়ে পবিত্র স্থান এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গম্বুজ আকৃতির মন্দির ভৌদা সার্কেলে (বুদ্ধানাথ-এ)। তিনি কোনোভাবেই সাক্ষাৎকার দিতে চাইছিলেন না। অনেক কষ্টের পর তাকে রাজি করানো গেল। কিন্তু শর্ত জুড়ে দিলেন আধ ঘণ্টার মধ্যে তার সঙ্গে দেখা করতে হবে। সন্ধ্যায় বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া ছিল। আমাদের কোনো উপায়ও ছিল না। কারণ পর দিন তিনি কাঠমান্ডুর বাইরে চলে যাবেন। বহু কষ্টে একটি ট্যাক্সি যোগাড় করে সাহায্যকারী নেপালী বন্ধুদের নিয়ে থামেল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভৌদা সার্কেলে গিয়ে পৌঁছালাম। বেস্ট ভিউ নামে একটি রেস্টুরেন্ট এ বসে আমরা কথপোকথন শুরু করলাম। এক পর্যায়ে প্রধান শেরপা কৈলাস বললেন, ‘বিতর্ক তৈরির ইস্যুটি অনেকটাই হাস্যকর। এভারেস্ট জয়ের এতো বছর পর বিতর্ক! আমি মুসার প্রধান শেরপা ছিলাম। আমি শপথ করে বলতে পারি, মুসা এভারেস্ট জয় করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ মুসার ওই ছবিটি দেখানো হলে তিনি বলেন, ‘দেখুন মুসার সঙ্গে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লাকপা নুরু শেরপা আর এই ছবিটা আমি নিজের হাতে তুলেছি।’ তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এভারেস্ট বিজয় নিয়ে শেরপাদের জড়িয়ে লেখা-লেখি হলে তাদের অনেক ক্ষতি হয়। আমাদের শত শত বছর আগের ইতিহাস ম্লান হবার উপক্রম হয়। আমরা শেরপারা কখনো মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেই না। এটাই আমাদের পূঁজি।’ এক পর্যায়ে তিনি পবিত্র বুদ্ধনাথ মন্দিরের একেবারেই সামনে গিয়ে দু’হাত তুলে কসম কেটে বলেন, ‘এই বুদ্ধনাথকে আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। আমার কাছে বলার মতো আর কিছুই নেই। আমি পবিত্র বুদ্ধনাথের কসম খেয়ে বলছি, মুসা এভারেস্ট বিজয়ী। তাকে রেহাই দিন।’ এ কথা শোনার পর শেরপা কৈলাসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে নিজের বিবেকের কাছেই নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল। বিদায় নিয়ে চলে এলাম তার কাছ থেকে। তবে আসার আগে তার কাছ থেকে সংগ্রহ করলাম বাকী একজন শেপরা লাকপা নুরু শেপরা ও লাল বাহাদুর জিরেলের মোবাইল ফোন নম্বর।



এরপর যোগাযোগ করা হলো লাল বাহাদুর জিরেলের সঙ্গে। মুসা ইব্রাহীমের আন্তর্জাতিক দলের একমাত্র নেপালী পর্বতারোহী ছিলেন তিনি। নেপালে প্রায় ১০৩টি আদি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী রয়েছে। জিরেল তাদের গোত্রের একজন। এই গোষ্ঠির লোকসংখ্যা মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার। লাল বাহাদুর এভারেস্ট অভিযানে অংশ নিতে তার আয়ের সব অর্থ গচ্ছিত রেখে ব্যাংক থেকে অর্থ ঋণ করে ছিলেন। জিরেল তিব্বতের দিক থেকে এভারেস্ট জয় করেন। কিন্তু সমস্যা হলো সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য ডেকেছেন নেপালের দোলখা জেলার জিরিতে। এটা কাঠমাণ্ডু থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার দূরে। আর কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ৬ হাজার ২’শ ৫০ ফিট উচ্চতায় এ শহর অবস্থিত। জিরি শহরটি মাউন্ট এভারেস্টের অনেকটা কাছে। এ পথটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। অসংখ্য আকাশ চুম্বি পাহাড়ের পথ বেয়ে এখানে যেতে হবে। রাতেই দোলখা জেলার মানচিত্র নিয়ে বসে পড়লাম। এ বিষয়ে নেপালী বন্ধু তারা রতেœ আমাকে পুরো দু’ঘণ্টা ব্রিফ করলেন। তার কথা থেকে বুঝলাম-এ পথ সহজ নয় একেবারেই। উচ্চতাজনিত কারণে শ্বাস কষ্ট, শরীরের ওজন হ্রাস পাওয়া, কানের ভেতরে তীব্র ব্যাথা করা, মাথা ব্যাথা করা, খাওয়ার অরুচি বৃদ্ধি পাওয়াসহ আরো অনেক সমস্যা হতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই সেগুলো সম্পর্কে সচেতন হলাম। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টায় থামেল থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে রওনা দিলাম জিরির উদ্দেশ্যে। গন্তব্য হচ্ছে হোটেল জিরেল গাবিলা প্রাইভেট লি.। যাত্রাপথে অনেক প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে ৬ ঘণ্টার পথ শেষ হলো এগারো ঘণ্টায়। বিকেল সাড়ে চারটায় পৌঁছলাম মেঘের শহর জিরিতে। তবে যাত্রা পথে এক পাহাড়ের চূড়ায় গাড়ি নষ্ট হওয়ার পর প্রতিকূল আবহওয়ায় রীতিমতো প্রাণ আতঁকে উঠেছিল। ভেবেছিলাম আর মনে হয় দেশে ফিরতে পারবো না। কিন্তু কখনোই ভাবিনি এই অনুসন্ধ্যানী প্রতিবেদন শেষ না করে দেশে ফিরে চলে যাই। শুধুই ভেবেছি সামনে যেতেই হবে। সাক্ষাৎকারটা নিতেই হবে।

অবশেষে জিরিতে দেখা মিলল লাল বাহাদুর জিরেলের। ভাষাগত সমস্যার কারণে কখনো ইংরেজি আবার কখনো হিন্দিতে কথা বলে যাচ্ছেন তিনি। তিনি বললেন, ‘মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে আমার চূড়ায় দেখা হয়েছিল। আমি ছবিও তুলেছি তার। এরপর আর কিইবা প্রমাণ দেবার আছে?’ টাকার বিনিময়ে শেরপারা মুসাকে এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি রীতিমত আঁৎকে উঠলেন। বললেন, ‘দেখুন আমি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোক। আমি চোখের সামনে যা-ই দেখি তাই বলি। আমার এমন কোনো সংকট নেই যে মুসার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। এই জিরি শহরে আপনি খোঁজ করে দেখুন আমার সুখ্যাতি পাবেন। লোকে বলবে। আমি ও রকম লোক নই। আমি বলছি, মুসা এভারেস্ট বিজয় করেছে, এটা যতবার লোকে জিজ্ঞেস করবে ততোবারই বলব। সতকে সত্যই বলব।’ জিরেলের সাথে কথা বলে সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম।

এবার পালা তৃতীয় ব্যক্তি শেরপা লাকপা নুরুর সাক্ষাৎ পাওয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, একেবারে হিমালয়ের পাদদেশে সোলুখুম্বু জেলার প্রত্যন্ত থামে গ্রামে থাকেন লাকপা। কাঠমান্ডু শহর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ওই শেরপার ওখানে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই। দু’দিন চেষ্টা করে মাত্র একবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি ফোনে যা বললেন তার ভাষ্য দাঁড়ায় এ রকম, ‘এটা একেবারে পানির মতো পরিস্কার যে মুসা এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন। সে সময় আমি তার শেরপা হিসেবে ছিলাম। এ কথাটা আমি হলপ করে বলছি। এ হলপনামার পর আশা করি এ বির্তক আর থাকার কথা নয়। মনে রাখবেন, শেরপারা জীবন দেবে, কিন্তু মিথ্যে বলবে না। আপনারা মুসা ইব্রাহীমকেও রেহাই দিন।’



লেখক : সাংবাদিক

দৈনিক ভোরের ডাক





মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.