নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিরোনামহীন

... কি যেন বলতে চাচ্ছিলাম ...

আদনান™

আমার সম্পর্কে কিছু কথা...

আদনান™ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সত্যিকারের পরোপকারী...

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৬



আমাদের তখন হল ভ্যাকান্ট। হলে ঢোকার কোন উপায় নেই। অথচ আমার এটিএম এর পিন কোড ভুলে গেছি এবং হলে আমার লকারে রাখা আছে পিন কোডের কাগজটি। মোটামুটি মনে করার চেষ্টা করলাম নাম্বারটা। আমার স্মরনশক্তি কখনোই ভাল না। ফ্লেক্সিলোড করতে গেলে নিজের মোবাইল নাম্বারই মনে করতে পারি না।



বসুন্ধরা সিটির নিচতলায় ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম মেশিনে কার্ডটা ঢুকিয়ে পিন নম্বর দিলাম । নাহ্ নাম্বারটা ভুল গেজ করেছি। আমি তখন জানতাম না যে ভুল পিন তিনবার দিলে মেশিনের ভিতরে কার্ড আটকে যায়! সুতরাং তার পর কি হল সেটা নিশ্চই খুব সহেজেই ধারনা করতে পারছেন.....



কিন্তু না - তার পর যা ঘটল সেটা আপনারা কেন আমি নিজেও কখনও ভাবিনি আর এখনও মনে হয় ব্যাপারটা স্বপ্ন ছিল। হ্যাঁ, আমার কার্ড আটকে গিয়েছিল এটা সত্য। আমার পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক ইয়ং স্মার্ট ভদ্রলোক। উনি পুরো ব্যাপারটাই দেখেছেন। আমাকে বললেন, "আমারও একবার খুব জরুরী কাজে টাকা তুলতে যেয়ে ভুল পিন দেওয়ায় কার্ড আটকে গিয়েছিল। আমি জানি আপনার এখন কতটা খারাপ লাগছে।" স্বাভাবিকভাবেই আমার প্রথমে মনে হয়েছিল লোকটার মনে কি কোন অন্য মতলব আছে নাকি (?) আসলে চারিদিকে যে অবস্থা তাতে মানুষকে বিশ্বাস করা কঠিন।



আমাকে বললেন কত টাকা তোলা দরকার ছিল? আমি বলতে চাচ্ছিলাম না কিন্তু ঐ সময় টাকাটা খুব দরকার ছিল। তাই একটু সংকোচের সাথেই বললাম, তিন হাজার। ততক্ষনে তার নিজের টাকা উঠানোর কাজ শেষ। আমার জন্য দ্বিতীয়বার আরও তিন হাজার টাকা উঠালেন। তারপর আমার হাতে টাকাটা দিয়ে বললেন যে কোন এক সময় ফেরত দিলেই হবে। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটাই কল্পনা মনে হচ্ছিল! ঢাকা শহরে এরকম মানুষও থাকতে পারে!!!



আমাকে একটা ভিজিটিং কার্ড দিলেন উল্টা পাশে তার ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নং লিখে দিলেন। উনার নাম মোস্তফা শাহরিয়ার তারেক, পেশায় এ্যাডভোকেট। আমার নাম আর কোথায় থাকি তা জানতে চাইলেন। আমি শুধু আমার নাম আর বুয়েটে কোন হলে থাকি তা বললাম।



আমি অবাক হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললাম... তিনি আমার হলের রুম নং, মোবাইল নং কোন কিছুই জানতে চাইলেন না!!!



... ভেবেছিলাম একদিন তার অফিসে যাব, কিন্তু যাওয়া হয়নি। পরে ব্যাংকে তার এ্যাকাউন্টে টাকাটা জমা দিয়ে দিয়েছি। তার ভিজিটিং কার্ডের নাম্বারে ফোন করে কয়েকরা কথাও বলেছি।





জানি না এই লেখা তারেক ভাই কোনদিন পড়বেন কিনা... তবে যারা পড়বেন তাদের মধ্যেই অনেক তারেক ভাই আছেন যাদের জন্য সমাজটা এখনও টিকে আছে, এখনও মানুষ মানুষকে কিছুটা হলেও বিশ্বাস করতে পারে.........



মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +১২/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৫০

রাগিব বলেছেন: এই দুনিয়ায় শত রকমের মানুষের মাঝেও এরকম ভালো মানুষ আছে, তাই তো পৃথিবী টিকে আছে ...

২| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৮

গন্ডার বলেছেন: আষাড়ে গল্প দিলেননি??

৩| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:০৪

মানুষ বলেছেন: ভাল লাগল। ৫

গন্ডার "আষাঢ়" বাবান ভুল

৪| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৩

কণা বলেছেন: ভালো লাগল.... ৫

৫| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৪

গন্ডার বলেছেন: মাণূস যাও ললিপপ খাও গিয়া, একানে কি?

৬| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৮

ছায়ার আলো বলেছেন: "মানুষ মানুষের জন্য"
কথাটা মনে পরে গেল :)

৭| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:২৮

আদনান™ বলেছেন: @গন্ডার এইটা ১০০% সত্যি ঘটনা - আপনি বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন। যদিও আমার নিজেরই বিশ্বাস হয় না যে এরকম একটা ব্যাপার সত্যি সত্যি ঘটতে পারে!

উনার ভিজিটিং কার্ডটা এখনও আমার কাছে আছে। ফোন নাম্বারটা দিব নাকি...

৮| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৩২

মাহবুব রনী বলেছেন: একজন আষাঢ় বানান ভুল ধরাতে গিয়ে বানানকে লিখলেন ‌‌‌‌‌‌‌‍বাবান। তারপরেও তারেককে ভাইকে ধন্যবাদ। তার মতো মানুষ আছে ভাবতে পারছিনা।

৯| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৫

মাহবুব রনী বলেছেন: তারেক ভাইয়ের কথা শুনে অনুপ্রাণিত হলাম।

১০| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৫১

উন্মনা রহমান বলেছেন: ভাল। এডভোকেট ভাল হয় এই প্রথম শুনলাম। একবার হলে একটা নোটিশ লাগানো দেখেছিলাম- একটি স্বর্ণের চেইন পাওয়া গিযেছে, যোগাযোগ করুন...। সেখানে নানারকম মন্তব্য শোভা পাচ্ছে। একজন লিখেছে- বেইচা দে গাধা!

১১| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৮

রাশেদ বলেছেন: ভাল লাগল।

১২| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:১৯

ইসাবেলা বলেছেন: একজন ক্রেতা ২ টাকা দিতে পারছিল না এক দোকানে, ভাইয়াও ঐখানে ছিল। ভাইয়া ২টাকা দিয়ে দিল। ঐ লোক বলে, ভাই, আমার কাছে ১০০ টাকার নোট, আসেন, ভাংগিয়ে দেই। ভাইয়া যতই বলে লাগবে না দেওয়া, ঐ লোক নাছোরবান্দার মত পিছে পিছে আসে। পরে ভাইয়া চট করে এক গলিতে ঢুকে ঐ লোকের হাত থেকে নিস্তার পায়!

১৩| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১:৫৮

রাহেন রঙ্গন বলেছেন: একটি ভালো দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে। তবে উৎসাহিত হবার দরকার নেই। আল্লাহ্-র রাস্তার সদ্গা করার ইচ্ছে থাকলে ভিন্ন কথা। আমার অভিজ্ঞতা বিশেষ ভালো না। চেনা জানা মানুষজন অনেকেই ধার নিয়ে ফেরত দেয়নি এমন নজির অনেক। তবে আমাকে ধার দিয়ে কেউ ঠকেনি।
তারেক ভাইয়ের নাম্বারটা যেন কত?

১৪| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৬

রেজা রহমান বলেছেন: ৫

১৫| ১১ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:২৭

প্রশান্ত বলেছেন: ভাল লাগলো।

১৬| ১১ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:৪৫

কালপুরুষ বলেছেন: বিশ্বাস করলাম। এমন হতেই পারে। আমার পক্ষ থেকে ওনাকে ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.