নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইচ্ছে করে অথবা স্টাইল করে বাংলা লিখতে লিখতে বাংলা আসল বানানই ভুলে যান অনেকে। অনেকে একাডেমিক শিক্ষা শেষ করে ভাবেন বাংলা বানান নিয়ে চিন্তা করে আর কী হবে! কিন্তু আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি বাচাঁতে হবে। তাছাড়া বাংলায় বিভিন্ন বিষয়ক টিউটোরিয়ালও পাবেন এ ব্লগে।

ইসতিয়াক আহমেদ অভি

আমি একজন ছাত্র। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে এস. এস. সি উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হয়েছি নটর ডেম কলেজে। বানান নিয়ে আগ্রহ জাগে এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগে অংশ নিতে গিয়ে, পরবর্তীতে ২০১৬ সালের বানান বীর প্রতিয়োগিতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৌভাগ্যক্রমে প্রথম হই। এর পূর্বে চন্দ্রবিন্দু নামক স্থানীয় শিশু-কিশোর পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশিত হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ অভি › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইদ(ঈদ)...

২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:২১

###ইদ
ইদ কাটিল। বানান বিশেষজ্ঞগণও প্রস্থান করিলেন।
ইদ উপলক্ষে ফেসবুকে বানান বিশেষজ্ঞদের আবির্ভাব ঘটিয়াছিল। তাহারা সহসা বাংলা একাডেমির বাংলা বানানের নিয়মের বিরোধী হইয়া উঠিল।
দুঃখের বিষয় তাহারা জানিলও না যে 'ইদ' বানানটি বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের পরিমার্জিত সংস্করণ(২০০০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত) এ ছিল।[এর চেয়ে পুরাতন সংস্করণ আমার কাছে নেই। কাজেই তা নিয়ে আমি মন্তব্য করব না।]
কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের স্বরবর্ণ অংশের ভূমিকার(যা লিখেছিলেন মুহম্মদ এনামুল হক, লেখা হয়েছিল ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে) একটি অংশে বলা হইয়াছে, "... আর একটি প্রধান সংস্কার হইল- তদ্ভব, দেশী(দেশি), বিদেশী(বিদেশি) শব্দের বেলায় মনুষ্যেতর জীব, বস্তু, গুণ, ভাব ও কর্ম-বাচক শব্দের এবং দ্বিরাবৃত্ত শব্দের শেষে কেবল 'ই' হবে-'ঈ' হবে না, যেমন কাঠবিড়ালি... অথচ এখনও আমরা বাড়ী, গাড়ী,... প্রভৃতির শেষে 'ঈ'-কার দেদার ব্যবহার করিয়া চলিয়াছি।"
... কাজেই বলা চলে 'ইদ' শব্দটি বাংলা একাডেমির অভিধানে অনেক আগেই ছিল। আমরা যদি জীবনে একবারও বাংলা একাডেমির অভিধান না খুলি, তবে অহেতুক পাণ্ডিত্য দেখাই কেন?
আর যাহারা সহসা আরবি বিশেষজ্ঞ হইয়াছিলেন, তাহাদিগকে বলি- আরবিতে এক আলিফ, তিন আলিফ এবং চার আলিফ টান রহিয়াছে। আমার জানামতে বাংলায় এমন কোনো প্রতীক(বর্ণ) নেই যা তিন আলিফ এবং চার আলিফ টান বর্ণনা করে। এমনকি আমার বিশ্বাস খোদ IPA(International Phonetic Alphabet) তেও তিন আলিফ এবং চার আলিফ টান নেই।
আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তারিক মনজুর স্যার 'ই'-এর IPA সমতুল লিখেন 'i' এবং প্রশ্ন করেন 'ঈ' এর IPA সমতুল কী হবে? আমি তখন উত্তর দিয়েছিলাম 'i:' হবে। যারা IPA সম্পর্কে অবগত, তারা অবশ্যই জানেন ':' এর ন্যায় প্রতীকটি কী বোঝায়। এটি মূলত পূর্বের ধ্বনিটিকে দীর্ঘায়িত করে। তখন তারিক মনজুর স্যার বলেছিলেন 'ঈ' এর IPA 'i'-ই হবে। কেননা বাংলায় আমরা দীর্ঘ উচ্চারণ করি না।
কেউ কেউ বাংলা একাডেমিকে ব্যঙ্গ করে 'বাংলা আকাদেমি' লিখেছেন। তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া উত্তম- 'বাংলা আকাদেমি' পশ্চিমবঙ্গের।[বি. দ্র. : বাংলা একাডেমি এবং বাংলা আকাদেমি যে দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান যারা বাংলা বানানের নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন, তা উত্তর দিয়ে একদা এই অধম 'বানান বীর' হয়েছিল।]
আর যারা 'ইদ' বানানে বিধর্মীদের ষড়যন্ত্র খুঁজে পান, তাদেরকে বলি ফেসবুকে যে ধর্ম নিয়ে লিখছেন, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা কিন্তু বিধর্মী(ইহুদি)। www এর আবিষ্কারক ছিলেন টিম বার্নার্স লি ও সার্ন(CERN)। CERN যা নিয়ে গবেষণা করে তা অনেকক্ষেত্রেই ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। সেক্ষেত্রে আমরা আমাদের ধর্মীয় বিষয় লিখছি এমন এক জায়গায় যার আবিষ্কারকেরা ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কাজে ব্যস্ত!!!
ফেসবুক লিংক

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:১৯

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: ধ্রুব বলেও মানতে পারছি না।। যেখানে বাংলা একাডেমি বহুল আলোচিত তরল পদার্থকে খাওয়া হিসাবে "হালাল" করেছিলো!! ঈদকে তেমন না কেন??

২৮ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:২৮

ইসতিয়াক আহমেদ অভি বলেছেন: তরল পদার্থটির নাম বললে ভাল হয়... আপু

২৮ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:৩৫

ইসতিয়াক আহমেদ অভি বলেছেন: ... আর একটি প্রধান সংস্কার হইল- তদ্ভব, দেশী(দেশি), বিদেশী(বিদেশি) শব্দের বেলায় মনুষ্যেতর জীব, বস্তু, গুণ, ভাব ও কর্ম-বাচক শব্দের এবং দ্বিরাবৃত্ত শব্দের শেষে কেবল 'ই' হবে-'ঈ' হবে না ।

২| ২৮ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:৩২

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: দুধ,পানি, চাা ইত্য্যাদি!!!!

৩| ২৮ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:৩৪

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ঈদ<ইদ<ইদুর

ইদুর<ঈদুর

ঈদ<ইদ

২৮ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:৪৫

ইসতিয়াক আহমেদ অভি বলেছেন: :-0 :> !:#P

৪| ২৮ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৪১

লর্ড অফ দ্য ফ্লাইস বলেছেন: আমি মনে করি বর্ণমালা থেকে ঈ ঊ ণ ড় ঢ় ষ বাদ দেয়া উচিৎ। কারণ এগুলি এখন আর কেউ আলাদাভাবে উচ্চারণ করেন না। বানান নিয়ে কনফিউশন তৈরি করা ছাড়া এগুলির কোন কাজ নেই।

২৯ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:০৫

ইসতিয়াক আহমেদ অভি বলেছেন: কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যাকরণসমৃদ্ধ সংস্কৃত থেকে আসা মূলগুলোকে উপেক্ষা করা এত সহজ নয়। পাণিনি ও তার পরবর্তীরা যে ব্যাকরণ নির্মাণ করেন, তা এই যুগেও পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষার পণ্ডিতেরা করে দেখাতে পারেননি। এমনকি ব্লুমফিল্ড(Leonard Bloomfield ) নিজেও পাণিনির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।(দ্র. বাক্যতত্ত্ব: হুমায়ুন আজাদ)

৫| ২৮ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৭

ইসতিয়াক আহমেদ অভি বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৬| ২৮ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৫১

মক্ষীরাজা বলেছেন: ভাইয়ুমণিতা!!!!!!!!!

বাহ!!!!!!!!

মুগ্ধ মুগ্ধ মুগ্ধ!!!!!!!!

ঠিক পরীর দেশের রাজণ্যদের লেখা !!!!!!!!

উলে জাদুরে। উম্মা :>

৭| ২৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:৩২

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: ভাইডি, বয়স কম, তাই কথ্য বা প্রচলিত ভাষাকে বাদ দিয়ে কোন ভষাই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।। বাহুল্যে উল্লেখ্য আমিও নটর ডেমিয়ান।। '৭৭য়র।।
এজন্যই এত কথা বলা।। তবে এখন সত্যিই স্যরি।। আন্তরিকভাবেই।।

২৯ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:১৫

ইসতিয়াক আহমেদ অভি বলেছেন: একবারও লিখিনি 'ঈদ' ভুল বানান, শুধু ইদের পক্ষে কিছু যুক্তি দেখিয়েছি।... ধন্যবাদ, ভাইয়া।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.