| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এই ব্লগের সব লেখার সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত। লেখকের অনুমতি ব্যাতিত কোন লেখার সম্পুর্ণ অথবা অংশ বিশেষ পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন অথবা সম্পাদনা করে কোথাও প্রকাশ করা যাবে না।
সত্যিই রাত খুব গভীর হয়েছে, ঘুমন্ত অচিনপুরে কোথাও কোনো দীপশিখা নেই। জোনাকিরা আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে পথে প্রান্তরে। চারিদিকে ঝি ঝি পোকার ডাকে মুখর নিথর নিস্তব্ধ প্রকৃতি। কল্পনা করে যতই রং মাখানো হোক না কেনো তার প্রকাশভঙ্গি কৃত্রিমই থেকে যায়। এই সৌন্দর্য যে হৃদয় স্পর্শ করার মতো, শিহরন জাগানোর মতো। সে আস্তে আস্তে নেমে গেলো মাঠের ভিতর। চিকন আইল ধরে হাঁটছে। জ্যোৎস্নার আলো ততোটা স্পষ্ট নয়, কৃষ্ণ পক্ষের একাদশীর রাত হবে হয়তো। দুধারে ধানের জমির উপর মৃদুমন্দ বাতাসে উচ্ছাসের আমন্ত্রণ। ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলো শুন্য মাঠে। কিসের সন্ধানে সে যেনো ছুটে যাচ্ছে-উদ্ ভ্রান্তের মতো। বিলের রাস্তা সুপরিচিত না হলে গন্তব্য ভুল করা স্বাভাবিক, এ সবই জানে সে কিন্তু একবারও পিছন ফিরে চাইলো না। মেশিনের ভুড ভুড আওয়াজ মিলিয়ে গেলো। হঠাৎ জিন্সের পকেট থেকে মোবাইল বের করলো সে, কোন নেটওয়ার্ক নেই, থাকবার কথাও না। সেটের শেষ চার্জ বিন্দুর যায় যায় অবস্থা, একটু পরে হয়তো তারও যবনিকাপাত হবে। মোবাইলের ঘড়িতে তখন রাত ৩:৩০ বাজে। আচমকা বাতাসের বেগ বেড়ে গেলো, সেটটা বাম হাতে রাখলো পকেটের ভিতর।
এলোমেলো বাতাসে ঠান্ডার আমেজ। সে বাতাসে খুব সুন্দর এক ঘ্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করলো সে। একক কোন ফুল না, গন্ধ বিলানো অনেক ফুলের সম্মিলিত গন্ধ। কোথা হতে আসছে এ ঘ্রাণ। নাককে কাজে লাগিয়ে ছোট ছোট পায়ে হেঁটে চলছে সে। অবশেষে দেখা পেলো তার উৎস। ফুলের বাগান হবে হয়তো। একটু এগিয়ে গেলো সে, এবার অন্ধকারে কিছু ফুলের হাসি। গ্রামে কোন ফুলের বাগান মানে কারো বাড়ীর সীমানায় এসে পড়েছে। হঠাৎ সে চমকে উঠলো, সাদা পোশাকে কে যেনো হাঁটছে বাগানের ভিতর। মাথায় ঘুমটা নেই, ঈষৎ লম্বা খোলা চুল, পিছন থেকে যতটুকু মনে হচ্ছে তরুণী বয়সের হবে হয়তো। পৃথক তার পিছু নিলো, কিন্তু কে সে, এতো রাতে বাগানের ভিতর কোন মেয়ের পিছু নেয়া কি ঠিক। উপন্যাসে পড়া প্রেতাত্মার সাথে সাক্ষাত তো এভাবেই হয়। কিন্তু আমি তো ভূত-প্রেত বিশ্বাস করি না, পুণ্য অর্জনের হিসেব করলে যা হবে তাতে স্বর্গ প্রেরিত কোন পরী প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট নয়। এতো রাতে এমন গৃহবধূর তো স্বামীর বুকে সতীত্ব উজাড় করে দেবার কথা। নাকি আমার চোখের ভুল-চিমটি কাটলো আপন শরীরে-ব্যথা অনুভব হলো। আমাকে এ রহস্য ভেদ করতেই হবে।
কে আপনি, এতো রাতে এখানে কি করেন?
শুভ্র বসন পরিহিত নারী মূর্তিটি এবার ঘুরে দাঁড়ালো। অদ্ভুত রকমের সুন্দর মুখশ্রী, অথৈ সাগরের কোন নির্মল জলে তৃষ্ণার্ত যেভাবে আত্মহুতি দেয়, সেই সুপেয় জলের মতো অনন্ত সম্ভার তার সর্বাঙ্গে।
একই জিজ্ঞাসা তো আমিও করতে পারি. কে আপনি ? কেনো এসেছেন এ গ্রামে।
আমি পৃথক, পৃথক মিত্র, কোন বিশেষ কারণে নয়, এক অজানা ভালোলাগায় ছুটে এসেছি এখানে।
তবে মিথ্যার আশ্রয় নিলেন কেনো ? কেনো বললেন আপনি কারো পরিচিত ?
আসলে আমি বলতে চাইনি । আর আমি তো তাকে চিনিও না। দেখলাম স্রোত আর হাওয়া একইদিকে বইছে পালটা তুলেছিমাত্র। ব্যস পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে।
মহাসাগর, মরুভূমি আর বিলে লক্ষ্য স্থির না রাখলে ভোগান্তির অন্ত থাকে না, হারানোর সম্ভাবনাও থাকে।
যার লক্ষ্যই নেই তার আবার হারাবার ভয় কিসের। নিঃস্বর খোলা ঘরে রাত্রি যাপনের মতো।
পরিবেশ না বুঝে রাত্রি যাপন করলে জীবন হানিরও আশঙ্কা থাকে। সম্পদ না থাক জীবনের মায়াতেও তো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। উদাসীনতার পরিণতি তো অস্তিত্বহীণতা নয়। মাঝে মাঝে নিজের প্রয়োজনেও জীবনকে ভালোবাসতে হয়।
এতোক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার কথাগুলি শুনছিলো সে। অসাধারণ! গেঁয়ো পল্লীর বুকে এমন দার্শনিক পরে আছে। উৎসুক কন্ঠে সে জিজ্ঞেস করলো -আপনার পরিচয় কি ?
কারও মামুনি কারো দিদিমনি- এটুকুই পরিচয়।
দেখবার যে ইচ্ছে ছিলো দেখবার পরে জানবার ইচ্ছে আরও প্রবল হয়ে উঠেছে। কেনো পড়ে আছেন এ অজ পাড়াগাঁয়ে ?
নিজের প্রয়োজনে, বলেছি না মাঝে মাঝে নিজেকে ভালোবাসতে হয়, যতই নিজেকে ভালোবেসেছি ততই অচিনপুর আপন হয়ে উঠেছে। কোথাও যেতে দেয় না।
যদি কিছুদিন থাকতে চাই, অনুমতি পাবো কি ? একটু আশ্রয়ের বিশেষ প্রয়োজন।
আপনি তো থাকতেই এসেছেন, যেখানে উঠেছেন সেখানেই থাকবেন। আনন্দকে বলে দিবো বিছানা, বালিশ পরিবর্তন করার জন্যে। যতোদিন ইচ্ছে থাকবেন, তবে যেহেতু আমার পরিচয়ে এ গাঁয়ে এসেছেন বিদায় অবধি খাবারের সংস্থান আমিই করবো। আপনাকে একাই রান্না করে খেতে হবে। পারবেন তো, আর হ্যাঁ, বাসস্থান কি পছন্দ হয়েছে আপনার।
কেনো নয়, কর্তার কর্তৃত্ব দেখেছি অনুগ্রহ দেখবার সৌভাগ্য হয়নি, আজ শুধু দেখলাম না পাইলামও বটে। ক্লান্ত না হয়ে আমি কখনও ঘুমাই না, জীর্ণ কুটিরে পড়ে থাকবে ক্লান্ত শরীর। আজ থেকে তার নাম দিলাম ”ক্লান্ত নীড়”।
বাহ্ বেশ সুন্দর নাম তো, সাহিত্যের ছোঁয়া আছে।
যদি কিছু মনে না করেন আপনার নাম.. @
অথবা, অথবা ঘোষ।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫
সনজিত বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩
রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।