| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফাহমিদুল হক
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াই। ফিকশন ও নন-ফিকশন দুই ধরনের লেখাই লিখি। গল্প লিখি, প্রবন্ধ লিখি, অনুবাদ করি। 'যোগাযোগ' নামের একটি একাডেমিক পত্রিকা সম্পাদনা করি। আপাতত চলচ্চিত্র-অধ্যয়ন এলাকায় উচ্চতর গবেষণা করছি।
রেপ্রিজেন্টশন
রেপ্রিজেন্টেশন হলো ভাষাকে ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের কাছে দুনিয়াকে অর্থপূর্ণভাবে বলা বা উপস্থাপন করা। এই ভাষা হতে পারে আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র, সাহিত্য, পেইন্টিং ইত্যাদি। রেপ্রিজেন্টেশনের ধারণা সেই ভাষাকে এবং এর অর্থকে সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত করে। অর্থবহনকারী শব্দ, ধ্বনি ও ইমেজকে আমরা চিহ্ন (সাইন) নামক সাধারণ পরিভাষায় বর্ণনা করে থাকি। আমরা আমাদের মাথায় যেসব-ধারণা ও সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ধারণাগত সম্পর্ক নিয়ে ঘুরি-ফিরি, চিহ্ন সেগুলোকে রেপ্রিজেন্ট করে অথবা প্রতিনিধিত্ব করে এবং এগুলো একত্রে আমাদের সংস্কৃতির অর্থ-পদ্ধতি তৈরি করে। ট্রাফিক লাইটের যে লাল রঙ কিংবা হলুদ কিংবা সবুজ, সেই লাল-হলুদ-সবুজের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই: লাল মানে যেমন 'থামো' এবং সবুজ মানে 'যাও'। আমরা আমাদের সংস্কৃতিতে লালের মানে 'থামা' এবং সবুজের মানে 'যাও'-কে সঙ্কেতাবদ্ধ (এনকোড) করে নিয়েছি। যেকোনো রেপ্রিজেন্টেশন তাই সাংস্কৃতিক। একটি বিজ্ঞাপনের চিত্র বা পোস্টারের তাই ওপরের নির্দেশিত অর্থ (ডিনোটেটিভ মিনিং) থাকে, আমরা যদি তার সঙ্গে লেপ্টে থাকা সাংস্কৃতিক সঙ্কেতলিপি বা কোডগুলোক আলাদা করতে পারি সঙ্কেতোদ্ঘাটনের (ডিকোড) মাধ্যমে, তবে সেই চিত্রের গূঢ়ার্থও (কনোটেটিভ মিনিং) বের করা সম্ভব। ফরাসি তাত্ত্বিক রোলাঁ বার্থ (Roland Barthes) প্রবর্তিত পদ্ধতিতে আমরা এই কাজটি করতে পারি।
'প্যারিস ম্যাচ'-এর প্রচ্ছদ
'মিথোলজিস' গ্রন্থের 'মিথ টুডে' প্রবন্ধে রোলাঁ বার্থ একটি উদাহরণ দিয়েছেন, যা সাংস্কৃতিক স্তরে রেপ্রিজেন্টেশন সত্যিকার অর্থে কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে আমাদের সহায়ক হয়। একদিন সেলুনে গিয়ে তিনি ফরাসি ম্যাগাজিন 'প্যারিস ম্যাচ'-এর প্রচ্ছদে দেখতে পান একজন তরুণ নিগ্রো ফরাসি ইউনিফর্ম পরে ওপরের দিকে তাকিয়ে স্যালুট ঠুকছে, সম্ভবত সে তিনরঙা ফরাসি পতাকার দিকে তাকিয়ে ছিল। কোনো অর্থ পেতে চাইলে প্রথম স্তরে আমাদের ইমেজটির প্রতিটি দ্যোতককে (সিগনিফায়ার) যথাযথ ধারণায় সঙ্কেতোদ্ঘাটিত (ডিকোড) করতে হবে। এখানে দ্যোতকগুলো হলো সৈন্য, ইউনিফর্ম, স্যালুট-ঠোকা হাত, ওপরে-তোলা চোখ, ফরাসী পতাকা। এই একপ্রস্থ দ্যোতক এখানে সাধারণ যে-অর্থটি বর্ণনা করছে তা হলো, "একজন কালো সৈনিক ফরাসি পতাকাকে স্যালুট করছে" (নির্দেশিত অর্থ বা ডিনোটেটিভ মিনিং)। কিন্তু বার্থ বলছেন এই ইমেজের একটা বৃহত্তর সাংস্কৃতিক অর্থও রয়েছে। যদি আমরা প্রশ্ন করি, "কালো সৈন্য ফরাসি পতাকাকে স্যালুট করছে, এই ছবির মাধ্যমে 'প্যারিস ম্যাচ' কী বোঝাতে চাচ্ছে?" বার্থ মনে করছেন এর উত্তরে আমরা এই বার্তা পেতে পারি যে: ''ফ্রান্স একটা বৃহৎ সাম্রাজ্য, এবং তার প্রতিটি নাগরিক, বর্ণনির্বিশেষে, তার পতাকার নিচে থেকে, বিশ্বস্ততার সঙ্গে তাকে সেবা করে থাকে (নির্দেশিত অর্থ) এবং ফ্রান্সকে উপনিবেশবাদের দায়ে অভিযুক্ত করে থাকে যে-নিন্দুকেরা তাদের জন্য এর চেয়ে ভালো কোনো উত্তর হয় না, যেখানে একজন নিগ্রো তার তথাকথিত নিপীড়কের প্রতি সম্মান দেখাতে কতোখানি উদ্যমী তা দেখা যাচ্ছে (গূঢ়ার্থ বা কনোটেটিভ মিনিং)।"
বার্থের এই প্রকৃত বার্তা খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আপনি যাই ভাবুন না কেন, যথাযথ সেমিওটিক বিশ্লেষণের জন্য আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন স্তরের সূক্ষ্ম সীমারেখা বের করতে পারতে হবে, যে-পদ্ধতিতে এই বৃহত্তর অর্থ উৎপাদনের বিষয়টি বের হয়ে আসবে। বার্থ বলছেন এখানে রেপ্রিজেন্টেশন ঘটছে দুইটি ভিন্ন কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায়। প্রথমত, দ্যোতক (ইমেজের উপাদান) ও দ্যোতিত (ধারণাসমূহ -- যেমন সৈন্য, পতাকা এবং অন্যান্য) মিলে একটা চিহ্ন গঠন করছে যার একটা নির্দেশিত অর্থ রয়েছে: 'কালো সৈন্য ফরাসী পতাকাকে স্যালুট ঠুকছে'। দ্বিতীয় স্তরে এই সমাপ্ত বার্তা বা চিহ্ন আরেকপ্রস্থ দ্যোতকের সঙ্গে সম্পর্কিত হচ্ছে -- সেটি হলো ফরাসি উপনিবেশবাদ সম্পর্কিত একটা বৃহত্তর, আদর্শগত থিম। প্রথম সমাপ্ত অর্থটি রেপ্রিজেন্টেশন প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় স্তরের দ্যোতক হিসেবে কাজ করছে এবং যখন একজন পাঠক এই দ্যেতককে বৃহত্তর থিমের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ছেন তখন মুহূর্তের মধ্যে অধিক বিস্তৃত ও আদর্শগতভাবে কাঠামোবদ্ধ বার্তা বা অর্থ পাচ্ছেন। বার্থ এই দ্বিতীয় ধারণা বা থিমের একটা নাম দিচ্ছেন -- তিনি একে বলছেন "'ফরাসি উপনিবেশবাদ' ও 'সামরিকায়ন'-এর উদ্দেশ্যমূলক মিশ্রণ।" তিনি বলছেন এই মিশ্রণ ফরাসি উপনিবেশ ও তার বিশ্বাসী নিগ্রো সেনা-জোয়ানের জন্য দেয় বার্তার সঙ্গে আরও কিছু যোগ করে। বার্থ এই দ্বিতীয় স্তরের দ্যোতনায়নকে বলছেন মিথ-এর স্তর। এই প্রসঙ্গে তিনি যোগ করছেন, "মিথটির পিছনে ফরাসি উপনিবেশবাদই তাড়না হিসেবে কাজ করছে। ধারণাটি একসারি কার্যকারণ ও ফলাফল, অভিসন্ধি ও ইচ্ছাকে পুননির্মাণ করে ...। এই ধারণার মাধ্যমে ... একটা সম্পূর্ণ নতুন ইতিহাস ... মিথটির মধ্যে রোপিত হয় ... ফরাসি উপনিবেশবাদের ধারণা ... বিশ্বের সমগ্রতার সঙ্গে আবার জুড়ে দেওয়া হচ্ছে; ফ্রান্সের সাধারণ ইতিহাসকে এর ঔপনিবেশিক অভিযানের সঙ্গে, এর বর্তমান সঙ্কটের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।"
আমরাও পারি
রোলাঁ বার্থ নির্দেশিত পথে আমরা যেকোনো ধরনের রেপ্রিজেন্টেশনের দ্যোতক ও দ্যোতিতের সাহায্য নিয়ে নির্দেশিত অর্থের পাশাপাশি গূঢ়ার্থ বের করতে পারি। একটি বিজ্ঞাপনের চিত্রে পণ্যের সঙ্গে নারী-মডেলের সম্পর্কের যে-মিথ কিংবা পর্যটনের প্রচারপত্র/পোস্টারে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক রেপ্রিজেন্টেশনের যে-মিথ, হংকং-সাংহাই ব্যাংকের বাংলা ভাষার প্রতি দরদের যে-মিথ, এসবকিছুকে বুঝতে এর পেছনের রাজনীতিকে বোঝা প্রয়োজন। বার্থের পদ্ধতি আমাদের সেই উপলব্ধিতে পৌঁছতে সাহায্য করে।
তথ্যসূত্র: স্টুয়ার্ট হলের গ্রন্থ 'রেপ্রিজেন্টশন: কালচারাল রেপ্রিজেন্টশন এন্ড সিগনিফাইং প্র্যাকটিসেস' (লন্ডন: দি ওপেন ইউনিভার্সিটি, ১৯৯৭)।
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৩
ফাহমিদুল হক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য ও মন্তব্যের জন্য।
২|
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৫
বিধান রিবেরু* বলেছেন: মিথোলজিস বইতেই রোলাঁ বার্থ বলছেন মিথ হলো যোগাযোগের একটি প্রক্রিয়া, একটি বার্তা। সেই টোটকা মেনে নিলে দ্বিতীয় স্তরের চিহ্নায়ন কিংবা চমস্কির ভাষায় যে ডিপ স্ট্রাকচার সেটি মিথই বটে। কিন্তু মিথই কি শুধুই একটি বার্তা? পুরাণ তো বার্তার সঙ্গে কল্পনা বটে। যে কল্পনায় বাস্তবতার ওপর চড়ানো হয় রং। তাহলে দ্বিতীয় স্তরের চিহ্নায়ন থেকে যে বোধ সেটিকে কি পুরোপুরি মিথ বলা যায়???
আর হ্যা আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটির জন্য।
২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন: রোলাঁ বার্থের মিথ হলো 'আজকের মিথ' (মিথ টুডে)। এভাবে দেখলে জিনিসটা সহজ হয়ে যায়। বর্ণনির্বেশেষে ফরাসি পতাকার প্রতি প্রদর্শিত সম্মান একটা রেপ্রিজেন্টেশন, একটা মিথ। দ্বিতীয় স্তরে এটা হয়ে যাচ্ছে 'ফরাসি উপনিবেশবাদ' ও 'সামরিকায়ন'-এর উদ্দেশ্যমূলক মিশ্রণ। এখানে কল্পনার অবকাশ কম। এ হলো রাজনৈতিক সত্য।
৩|
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫০
ফারহান দাউদ বলেছেন: পড়লান,ধন্যবাদ।
২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন: আপনাকেও।
৪|
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৭
আকাশনীল বলেছেন: শুরু কোরলেও শেষ করতে পারলাম না
২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৯
ফাহমিদুল হক বলেছেন: জটিল তত্ত্বকথা তো। ঠিকাছে।
৫|
২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০৩
একরামুল হক শামীম বলেছেন: ভালো লাগলো পড়ে। ধন্যবাদ আপনাকে।
২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৬|
২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯
সুমন রহমান বলেছেন: চমৎকার, ফাহমিদুল হক। গুরু রঁলা বার্থ অনুসরণে সেমিওলজি শুরু করুন। আমি ইতোমধ্যে একটা লেখায় তার ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করতে শুরু করেছি।
অফ টপিক: "মিথলজি" বইখানা চমৎকার। কিন্তু বার্থের সেমিওলজির প্রায়েগিক দিকগুলোর আরো ভাল ব্যাখ্যা পাবেন বার্থের "এলিমেন্টস অব সেমিওলজি" বইতে। এখানকার লাইব্রেরিতে পাবেন আশা করি।
Roland Barthes (1967), Elements of Semiology, London: Jonathan Cape
ধন্যবাদ।
২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৯
ফাহমিদুল হক বলেছেন: পোস্টটি আপনার নজর কাড়বে অনুমান করেছিলাম। সেমিওটিক পদ্ধতিতে ছোট ছোট কাজ করার ইচ্ছা আছে আমার। বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রচারিত বিজ্ঞাপন, পোস্টার, প্রপাগান্ডা মেসেজ ইত্যাদি নিয়ে কাজ করতে গেলে দেশে থাকা জরুরি। একটা ডিজিটাল ক্যামেরারও দরকার ছিল, তাও যোগাড় হয়েছে। আপাতত অপেক্ষা করছি।
সেমিওলজি নিয়ে আমার পড়াশুনা স্টুয়ার্ট হলের বরাতে। মূল বইগুলোও ধীরে ধীরে পড়তে হবে। রেফারেন্সটির জন্য ধন্যবাদ।
৭|
২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: "সেমিওলজি" শব্দটা অপরিচিত হলেই ইমেজের ব্যাখার ঢং টা পরিচিত মনে হলো।সিনেমা, উপন্যাসের সমলোচনায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আপাত গুরুত্বপূরহীন(আমজনতা খুঁজে পায়না) ঘটনার অনেক তাৎপর্য অনেকেই লিখেন।
অবশ্য তাদের আগেই রঁলা বার্থ পাঠ হয়েছে কিনা কে জানে!
২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৬
ফাহমিদুল হক বলেছেন: সেমিওলজি হলো একটি বৈজ্ঞানিক ও কাঠামোবাদী পদ্ধতি যা এমনকি বিমূর্ত বিষয়কেও পদ্ধতিগতভাবে বিশ্লেষণে সহায়তা করে।
ফার্দিনান্দ দি সস্যুর ও রোলাঁ বার্থের মাধ্যমে এর বিকাশ ঘটেছে। সস্যুরের সেমিওলজি বার্থের কাছে এসে সেমিওটিকস নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
সুমন ভাইও কিছুটা বলেছেন নিচে।
৮|
২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৯
সুমন রহমান বলেছেন: @আহসান হাবিব শিমুল, সেমিওলজিক্যাল ব্যাখ্যা অনেকেই নিজ নিজ স্টাইলে করেন। ব্যাখ্যায় সেমিওলজিক্যাল এলিমেন্ট থাকা আর সেমিওলজিক্যাল কাঠামোর ভেতর কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করা ভিন্ন জিনিস। সস্যুর, দেরিদা কিংবা রলা বার্থ সেমিওলজিক্যাল ব্যাখ্যার একটা সম্পন্ন কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু যে কোনো লেখক, এমন কি যে কোনো পর্যবেক্ষকই কোনো বিষয়/টেক্সটকে সেমিওলজির জায়গা থেকে না-দেখে পারেন না। এটাই সেমিওলজির শক্তির জায়গা।
ফাহমিদুল হক, স্টুয়ার্ট হল আমারো প্রাতঃস্মরণীয় লেখক। নানান জিনিস পড়েছি তার, "আর্টিকুলেশন" জিনিসটা আমি আমার গবেষণার ফ্রেমওয়ার্কে কাজেও লাগিয়েছি। "এনকোডিং/ডিকোডিং" নিবন্ধটি পড়েছিলাম, এই পোস্টে ঐ লেখার ফ্লেভার যুক্ত হওয়ায় আপনার আলোচনা নিঃসন্দেহে ঋদ্ধ হয়েছে।
ঢাকার কথা যখন ভাবি, একটা ভিজুয়াল সিটি, পথে পথে ছড়ানো টেক্সট, সেমিওলজি এখানে নগর গবেষকের সাদা ছড়ি হওয়া ছাড়া উপায় তো দেখি না।
২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২০
ফাহমিদুল হক বলেছেন: এবং ঢাকার ভিজুয়ালগুলো বিশ্লেষণ করা খানিকটা সহজ, কারণ তা অপেক্ষাকৃত কাঁচা অবস্থায় পরিবেশিত, চাতুরি কম এবং বেশ এগ্রেসিভও। মিথগুলো বেশ স্পষ্ট।
৯|
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৭
আ-আল মামুন বলেছেন: ফাহিমদ ভাই ধন্যবাদ এই লেখাটার জন্য। তবে একটু সতর্ক হতে অনুরোধ করি। যারা সেমিওলজি-রেপ্রিজেন্টেশন-স্ট্রাকচারালিজম-পোস্ট স্ট্রাকচারারলজম এবং সর্বোপরি ডিসকোর্স এর তত্ত্ব ও প্রয়োগ সম্পর্কে জানেন না বা পড়ালেখা করেন নাই তাদের জন্য আপনার এধরনের লেখা ক্ষতিকর হবে। কারণ, আমি মনে করি অল্প-বিদ্যা অবিদ্যার চেয়েও ক্ষতিকর।
বাংলাদেশের ছোট কাগজগুলোর এরকম আধাখ্যাঁচরাভাবে তত্ত্ব কচলানোর খাচলত আছে- আপনার কাছে সেটা আশা করি না।
বন্ধু অমির কাউন্টার ফটো পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় নৃতাত্ত্বিক রেহনুমার 'রেপ্রিজেন্টেশন' লেখাটিতে এ-বিষয়ে বিস্তারিত অনুবাদ ও আলাপ আছে- আপনি জানেন সেটা। স্টুয়াট হলের রেপ্রিজেন্টশন এন্ড সিগনিফাইয়িং প্রাকটিসেস বইটি থেকেও যদি সম্পূর্ণ অনুবাদ করে দিতেন এই আলোচনাটুকু- আমার ধারণা সেটা ভালো হতো।
আপাতত এবিষয়ে আর কিছু বলতে চায় না।
কবি সুমন রহমানকে ধন্যবাদ এলিমেন্টস অব সেমিওলজি বইয়ের রেফারেন্স জানানোর জন্য- বইটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে আছে- আমি অনেকদিন আগে ফটোকপি করে নিয়েছিলাম।
দুঃখ প্রকাশ করছি এসব কথা বলার জন্য।
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৯
ফাহমিদুল হক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ মামুন।
তবে আমার দ্বিমত আছে।
আমি অল্প কথায় যতটা সম্ভব পরিস্কার করে একটা জিনিস তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ক্রিটিকাল থিওরি না-পড়া লোকের জন্য এটা বিভ্রান্তিকর বা ক্ষতিকর হবে বলে আমি মনে করিনা।
যোগাযোগ পত্রিকায় হলের লেখার যে অনুবাদ আমি করেছি সেটা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরাটা বরং বেশি ক্ষতিকর হতো, থিওরি-না পড়া ব্লগারদের স্থায়ী বিকর্ষণ বা বিতৃষ্ণার জন্ম দিতো। বরং এখানে একটি মাত্র কেস দিয়ে প্রাসঙ্গিত অল্পকিছু তত্ত্বকথা দিয়ে একটা বিশ্লেষণ হাজির করা হয়েছে।
বার্থ যেমন প্যারিস ম্যাচের প্রচ্ছদ বিশ্লেষণ করেছেন, আমারও সুপ্ত বাসনা আছে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন, প্রপাগান্ডা মেসেজ, পোস্টার, বিলবোর্ডের বিশ্লেষণ করার এবং বার্থীয় কায়দায়। সেগুলো প্রকাশের জন্য ব্লগ খারাপ জায়গা না। আবার আমাদের পত্রিকাতেও সেটা যুতসই হয়।
হয়তো আমার পোস্টটা আধা-খ্যাচরাই হয়েছে শেষপর্যন্ত, কিন্তু বার্থের বিশ্লেষণের ইন্টারেস্টিং দিকটা তুলে ধরাটাই লক্ষ্য ছিল, তত্ত্ব কপচানো নয়, শিরোনামে 'তত্ত্বকথা' শব্দটা থাকার পরও।
১০|
২৫ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৭
টিউলিপফুল বলেছেন: স্যার বিদেশ থেইক্কা আইবেন কহন। আপনার টেবিলে ধলোবালি পড়ে আছে।
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭
ফাহমিদুল হক বলেছেন: এইতো ২০০৯-এর মে মাসে, সম্ভবত।
কিন্তু টিউলিপফুলের পেছনে ব্যক্তিটা কে?
১১|
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ঈদ মোবারক
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৬
ফাহমিদুল হক বলেছেন: আপনাকেও ঈদের শুভেচ্ছ।
১২|
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:২৯
রাশেদ বলেছেন: ঈদ মোবারক!
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৪
ফাহমিদুল হক বলেছেন: ঈদ মোবারক আপনাকেও।
১৩|
১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৩
মেঘবাজি বলেছেন: বইমেলায় আপনার কোন বই কি বেরুচ্ছে ফাহমিদ ভাই?
Click This Link
১৪|
১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৫
মকসুদ আলম বলেছেন: Click This Link
১৫|
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:০৫
ফেরারী পাখি বলেছেন: এ বিষয় গুলোর সাথে সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে অতটা সুখপাঠ না হলেও, অল্প কথায় যা বোঝাতে চেয়েছেন, তা বুঝতে পেরেছি।
এই লেখাটা পড়ে কিছু প্রশ্ন মাথায় এসেছে, পরে এক সময় জানতে চাইবো।
ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটা লেখা দেবার জন্য।
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৭
ফাহমিদুল হক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ, কষ্ট করে শুকনো থিয়োরি পড়ার জন্য।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ। এমন একটা লেখাই খুঁজছিলাম। পড়তে পড়তে বড় ভালো লাগল।