| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আহ !
একটা হাত থাকলে কষে চড় বসাতাম পাখিটারে। ফ্রীতে থাকবি থাক,রাত নাই দুপুর নাই কাচুমাচু করে চিল্লে অামার ঘুমের বারোটা বাজাবি তাও মানলাম,তাই বলে অামার গায়েই বাথরুম সারবি? অাল্লাহ্ তোরে পাখা দিছে দুইটা দুই ঝাপটা মেরে একটু দূরে গিয়ে কাম সারলে ক্ষতি কি হত?
তবু অাগে শান্তিতে ছিলাম। কিছুদিন অাগে অাসছে এক জোড়া কাঠ-ঠোকরা। এসেই অারো দুটা জন্ম দিছে। সমস্যা সেটাতে না,তোরা জন্মনিয়ন্ত্রণ করবিনা না কর,কিন্তু সেই বাচ্চা দুটারে কাঠ কিভাবে ঠোকরাতে হয় সেটার প্র্যাকটিস করাচ্ছে দিন-রাত!
এদিকে অামার চামড়া ছিলে রস বের হয় অার বাচ্চার বাবা মা উৎসাহ দেয়! বাহ্ বাহ্ দারুণ চালিয়ে দাও বাবুরা!
অার অামার ইচ্ছে করে বাচ্চা দুটারে এতিম করে দেই,কিন্তু বাতাস ছাড়া যে নড়তেও পারিনা!
অাউউচ!
হঠাৎ পায়ের উপর ভারী অনুভব করলাম। নিচে তাকিয়ে দেখি অামার মোটা একটা শিকড়ের উপর তার চেয়ে মোটা একটা দানব বসে অাছে।
দানব বলছি কারণ মানবের এত মোটা হওয়ার কথা না!
অারমছে বসে অামার শরীরে হেলান দিয়ে সিগারেট টানছেন ভদ্রলোক।
গাছের যে জীবন অাছে মূর্খটা কি জানে না?
বুকে দম অাটকে যাচ্ছে,অামি বিষাক্ত কার্বনডাইঅক্সাইড মুখে নিয়ে মূর্খদের দিচ্ছি বিশুদ্ধ অক্সিজেন,প্রতিদানে মূর্খরা অামাকে দিচ্ছে নিকোটিন।
খুক খুক। কাশির শব্দ যদি পেতো লোকটা হয়ত সিগারেট টা ফেলে দিতো!
রাগে, দুঃখে অামার একটা ফল ফেলে দিলাম ডাল ঝারা দিয়ে। টুক করে লোকটার কপালে পড়ল। বিরক্ত নিয়ে উপরে তাকিয়ে বিড়বিড় করতে করতে লোকটা কপালের অাঠা মুছে অাবার সিগারেটে টান দিলো।
খুব রাগ হচ্ছিলো! এত বড় শরীর অামার,যদি ডাব/নাড়িকেলের মত ফল দিত অাল্লাহ্, বেটার মাথা ফাটাতাম এতক্ষণ!
বাতাস উঠলো প্রচন্ড। মনটা খুশিতে নেচে উঠলো! অাহা কি অানন্দ পাতাতে ডালেতে। মানুষ এরকম একটা গান গায় শুনেছিলাম।
মানুষ ভাবে অামরা কিছুই পারিনা। অামরা যে কত শৈল্পিক দক্ষতা নিয়ে নাচতে পারি তা তো মূর্খরা জানে না। মানুষেরা নাচে গান না কি সব ঢক ঢক শব্দে বাজে ঐটার তালে তালে, অার অামরা বাতাসের তালে তালে যে কত কৌশল করে ডালপালা নাচাই তা মূর্খদের চোখেই পড়ে না।
.
উহ্ বিশ্রাম যে করব তারও একটু উপায় নাই!
দেখে ভদ্রলোকই মনে হলো,ভদ্রছেলেটা গাছের নিচে এসে কষে ব্রেক চেপে বাইকটা এমনভাবে থামালেন যেনো দুনিয়াটাই থেমে দিবেন এক ব্রেকে। এ রকম অনেক দু'চাকাওয়ালা যন্ত্র অামার নিচে দিয়ে যায় প্রতিদিন তাই নামটা জেনেছি। পকেট থেকে চারকোণা ইয়া বড় কি একটা বের করে কানে ধরলেন ভদ্র-ছেলেটা। এটা অাবার কি জিনিস বাপু?
কান খাড়া করে শুনলাম ভদ্রলোক কি বলছেন।
কাকে যেনো বলছেন 'জান সরি অাসলে মোবাইল পকেটে ছিলো তো তাই তোমার কল দেখতে পাইনি'
ওহ্ এটার নাম তাহলে মোবাইল! অাবার কান খাড়া করলাম। 'অামি? অামি তো কলেজে অাছি বাবু,স্যার অাসবেন একটু পরে,অামি কলেজ থেকে বের হয়ে তোমাকে কল দিব কেমন?'
ছেলেটা এসব বলে মোবাইল না কি চারকোণা যন্ত্রটা পকেটে ঢুকিয়ে এক ঝাঁক ধূলা অামার গায়ে উড়িয়ে দিয়ে বাইক নিয়ে চলে গেলেন।।তাজ্জব বনে গেলাম! অাশেপাশে অাবার তাকালাম কই কোন কলেজ তো দেখি না! ভদ্র ছেলেটা কি তাহলে অভদ্রের মত মিথ্যা বলল বাবুকে?
কিন্তু মোবাইলের ওপাশে যদি বাবু থাকে তাহলে এপাশ থেকে ছেলেটা অাবার জান বলল কেন? এ কেমন বাবু ভাবতে পারছিনা! ধুর চুলোয় যাক,একটু জিরিয়ে নেওয়া যাক।
.
রাস্তার পাশে থাকা যেমন কষ্টের তেমন সুবিধাও অাছে। যেমন অামি প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে যাওয়া মানুষদের দেখে-শুনে অনেক কিছু শিখেছি। অামাকে শিক্ষিত বটগাছও বলা যেতে পারে।
এজন্য অবশ্য পাশের দেবদারু গাছটা হিংসা করে। বলদটা তো সেদিন বলেই দিলো অামি নাকি বোকা তাই অারামে পাখি,মানুষ অারাম করতে পারে অামাকে ব্যবহার করে।
বিকেল না হতেই অাবার ধূলার মেঘ এগিয়ে অাসতে দেখে সজাগ হলাম। কাছে অাসতেই বুঝলাম বজ্জাতের দল! পাশের গ্রামের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন বিকেলে এসে অামাকে জ্বালায়,এটা রুটিন হয়ে গেছে তাই অার বিরক্ত হইনা।
এসেই প্রতিদিনের মত অামার সবচেয়ে কাছের ডালটাতে দঁড়ি বেঁধে দোলনা বানিয়ে নিজেদের মাঝে ঝগড়া শুরু করল। অাগে অামি ওঠবো,না অামি অাগে ওঠবো,ঐ তোরা দুজন থাম,অামি ওঠবো অাগে কারণ দঁড়িটা অামার। দঁড়িটা তোর তাতে কি? অামাকে অাগে উঠতে দিবিনা? অাজ স্কুলে তোকে চকলেট দিছি না বল? অাগে উঠতে দিবিনা? অন্যজন তখন নরম হয়ে বলল যা ওঠ তাহলে। অারেকজন তীব্র প্রতিবাদ করে বলল অামি তোর জন্য ফার্স্ট বেঞ্চে প্রতিদিন জায়গা রাখিনা? অামাকে উঠতে দিবিনা অাগে বল?
যার দঁড়ি সেই বিচারকের ভূমিকায় থেকে বিপদে পড়ে গেলো!
খুব হাসি পাচ্ছিলো ওদের ছেলেমানুষি দেখে।
হুট করে একটা গাড়ি এসে থামলো অামার বড় ডালটার নিচে।
ভদ্রমত দুজন নেমে ছোট ছেলেমেয়েদের ঝাড়ি দিয়ে তাড়িয়ে দিলো।
বেশ খুশি হলাম লোকগুলোর উপর। কিছুক্ষণ নিজেদের মাঝে কি সব অালাপ করলো বুঝলাম না।
একটু পর যন্ত্রনায় ককিয়ে উঠলাম। একটা কুড়াল দিয়ে উনাদের মধ্যে একজন অামার গায়ের চামড়া ছড়াতে লাগলো।
একটু খানি চামড়া ছড়িয়ে সেখানে রং দিয়ে কি সব লেখে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো লোকগুলো।
জীবিত অবস্থায় চামড়া ছড়ালে কত কষ্ট হয় মূর্খরা যদি বুঝত!
মাঝরাতে হঠাৎ ফিসফিস শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে গেলো। কারা জানি কথা বলছে অামার নিচে বসে। 'অারে বাহির থেকে কেমনে বুঝবি বাড়ির ভেতর কি অাছে? অার চেয়ারম্যানের পাকা বাড়ি,ভেতরে ঢুকতে কষ্ট হবে বলে দিলাম'
কষ্ট করবিনা তো চোর হইছিস কি জন্য? তোর জন্য কি বাড়ির গিন্নি মাঝরাতে ফুলের ডালা নিয়ে সদর দরজা খুলে অপেক্ষা করবে?
অারেকজন বলল ' এই সরিষার তৈলের বোতলটা এদিকে একটু দে তো'
উনাদের অালাপ শুনে বুঝলাম চুরি করতে যাচ্ছে চেয়ারম্যানের বাড়িতে! ইসস যদি মানুষের মত কথা বলতে পারতাম,দৌড়ে চেয়ারম্যান বাড়িতে গিয়ে সজাগ করে দিতাম।
পরেরদিন দুপুরের অাগে বড় একটা গাড়ি এসে থামলো অামার নিচে।
কিছু বুঝে উঠার অাগেই মানুষগুলো অামার হাত-পা মানে ডাল-পালা বেঁধে ফেলতে লাগল!
বাতাসের সাহায্য নিয়েও ছুটাতে পারলামনা শক্ত বাঁধন,ছটফট করছিলাম যখন ধারালো কুড়াল দিয়ে অামার ডালগুলো একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে লাগলো। চিৎকার করে অনেক মিনতি করলাম,কিন্তু অামার চিৎকার যে কারো কানে পৌঁছাচ্ছে না। অামি বোবা উদ্ভিদ তাই জীবনের মূল্য এত কম? অামার শরীর ক্ষতবিক্ষত করেই চলছে পাষান্ডগুলো। গাঁ বয়ে অাঠার স্রোত বইছে,ওরা বুঝলোনা ওগুলো অামার রক্ত! একে একে অামার সব ডালপালা কেটে ফেলা হলো। একটু দূরে চোখ যেতেই দেখলাম নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অাছে গ্রামের ছেলেগুলো। তারা হয়ত অাপসোস করছে অামার সবচেয়ে কাছের ডালটার জন্য। অার অামার অার্তনাদ অামার জীবনের জন্য!
অামি অাঘাতে মুমূর্ষু!
অার কয়েকটা অাঘাত মাত্র! ডাল-পালা হীন প্রতিবন্ধী বানিয়েছে ওরা অামাকে।অার কয়েকটা অাঘাত শুধু, তাহলেই লুটিয়ে পড়ব মাটিতে।
বিষাক্ত কার্বনড্রাইঅক্সাইড ওজন বাড়াবে ওজন গ্যাসের,কমবে অক্সিজেন,শুদ্ধ সংবিধানে গোটা অক্ষরে লেখা হবে 'বৃক্ষনিধন বন্ধ করুন,সুস্থ্য-সুন্দর জীবন গড়ুন'
অথচ অাজ অামাকে খুন করলে তোমরা মানুষ,তোমার বড্ড বেশিই চিন্তাশীল তাই কয়েকশো বছর পরের পৃথিবী অামরা ছাড়া কল্পনা করতে পারো! মৃত্যুর অাগে কি এরকম ভারী ভারী চিন্তা মাথায় অাসে? কি জানি অাগে তো মরিনি কি করে জানবো! চোখের সামনে ভাসছে সবকিছু। ঝাপশা হয়ে অাসছে ধূলিময় রাস্তাটা। অস্পষ্ট ভাবে দেখলাম চেয়ারম্যান সাহেব অাসছে এদিকে। কেউ একজন জানতে চাইলো কই যাচ্ছেন? জবাবে তিনি বললেন 'থানায় যাবো গতরাতে অামার বাড়ি চুরি হয়েছে কেস করতে'
অাফসোস হলো বড্ড! ইসসস বেচারির বাড়ি চুরি হবে অামি গতরাতেই জেনেছিলাম কিন্তু বলার শক্তি ছিলো না।
চেয়ারম্যান সাহেব যারা অামাকে কাটছে তাদের প্রশ্ন করলেন 'গাছটা তোমরাই কিনছো নাকি?
কেটে ভালোই করছো বুড়ো হইছে রেখে অার কি লাভ,বরং কাঠ বানিয়ে কাজে লাগাও'
.
অামার অাবারও অাফসোস হচ্ছিলো চেয়ারম্যানের কথা শুনে।
নাহ্ এবার উনার বাড়ি চুরির জন্য নয়,এতদিন বেশি বেঁচেছিলাম কি জন্য সেই জন্য,বড্ড অাফসোস হচ্ছে অারো অাগে কেনো খুন করলে না তোমরা,অকৃতজ্ঞদের অবদান কেনো অারো অাগে দিলে না মূর্খ মানুষ,মরেও বেঁচে গেলাম তোমাদের মাঝে না থেকে।
.
_সমাপ্ত_

২|
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:২৪
ফারাবি রাকিব বলেছেন: ওকে
৩|
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:২৯
রাজীব নুর বলেছেন: আর একটূ গুছিয়ে লিখেবন।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৫৪
রাজীব নুর বলেছেন: খুব অগোছালো।