| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহাজাগতিক চিন্তা
একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
২। ঐ কিতাব; যাতে কোন সন্দেহ নেই, যা হেদায়াত মোত্তাকীদের জন্য।
সূরাঃ ২ বাকারা, ৩০নং আয়াতের অনুবাদ-
৩০। আর যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাগণকে বললেন, নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে খলিফা সৃষ্টি করব। তারা বলল, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে, তারা তাতে বিবাদে লিপ্ত হবে এবং রক্তপাত করবে।আর আমরাই তো আপনার তাসবিহ পাঠ করছি এবং আপনারই হামদ বা প্রশংসা করছি। আর আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি।তিনি বললেন-তোমরা যা জান না নিশ্চয়ই আমি তা’ ভালো করে জানি।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৬। দ্বীনের মধ্যে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই ভ্রন্তি খেকে সঠিক পথ প্রকাশ হয়েছে। অতএব যে লোক তাগুতের বিরোধিতা করবে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে সে দৃঢ়তর রজ্জুকে শক্ত করে ধরলো যা কখনো ছিঁড়ে যাবে না এবং আল্লাহ হলেন সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৭। আল্লাহ হলেন মুমিনদের ওলী। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। আর যারা কুফুরী করেছে তাদের আউলিয়া হলো তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের পথে নিয়ে যায়। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। ওর মধ্যে তারা চিরকাল থাকবে।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত দান করেন। আর যাকে হিকমাত দান করা হয় এর ফলে সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে।মূলত জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছাড়া কেউই বুঝতে পারে না।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২০৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২০৮। হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরন করবে না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
* মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো মোত্তাকী হওয়া। আল্লাহর কিতাব মোত্তাকীগণের হেদায়াতের জন্য। মোত্তাকীদের হিদায়াত হলো বিবাদে লিপ্ত না হয়ে আল্লাহর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করা। বিবাদের একটি কারণ জবরদস্তি।একদল লোক খলিফা হযরত ওসমানের (রা.) উপর জবরদস্তি করে তাঁকে হত্যা করে কাফের হয়ে যায়। পরবর্তী খলিফা সেইসব কাফেরদেরকে খেলাফতের সেনাবাহিনীতে চাকুরী প্রদান করেন। এ ঘটনার পর পরবর্তী খলিফার সাথে সাহাবায়ে কেরামের (রা.) দু’টি দল যুদ্ধ করে। সেই সব যুদ্ধে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। এ কুফরী বাড়তে থাকায় কারবালায় সাহাবায়ে কেরামের (রা.) শেষ ইমাম হযরত ইমাম হোসেন (রা.) তাঁর প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তারা তাদের ইমামের মাথাকেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়। সাহাবায়ে কেরামের (রা.) শেষ ইমাম নিহত হওয়ার পর মুমিনগণ গভীর অন্ধকারে পতিত হয়। তখন মুমিনগণের ওলী আল্লাহ রাসূলের (সা.) মত ব্যবসায় হিকমত প্রাপ্ত ইমাম আবু হানিফার (রা.) মাধ্যমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন।ইমাম আবু হানিফা (রা.) কোরআনের বিদ্যমাণ অংশ থেকে এর মানসুখ অংশ পৃথক করে পরিপূর্ণ অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করেন। একাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য আল্লাহ ইমাম আবু হানিফাকে (র.) একশত বার দিদার প্রদান করেন। বিষয়টি বুঝার জন্য আল্লাহ আমাকেও চারবার দিদার প্রদান করেন।
সূরাঃ ২ বাকারা, ১৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ
১৪৩। এইভাবে আমি তোমাদিগকে এক মধ্যমপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি।যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হতে পারেন।তুমি এ যাবত যে কিবলা অনুসরন করতেছিলে উহা আমরা এ এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করে ছিলাম যাতে আমরা জানতে পারি কে রাসূলের অনুসরন করে আর কে ফিরে যায়? আল্লাহ যাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন তারা ছাড়া অন্যদের নিকট এটা (সৎপথ)কঠিন।তোমাদের ঈমানকে ব্যর্থ করে দিবেন আল্লাহ এমন নন।আল্লাহ মানুষদের প্রতি স্নেহশীল-দয়াদ্র।
* মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ হতে গেলে মানব জাতি যেথায় থাকে সেথায় থাকা বাধ্যতা মূলক। মানবজাতি সারা বিশ্বে আছে সুতরাং মধ্যমপন্থী জাতি হানাফী কারণ তারা সারাবিশ্বে আছে। রাসূল (সা.) তাঁর কোন উম্মাতের থেকে সারা বিশ্ব থেকে দরূদ পেয়ে থাকেন? উত্তর হলো হানাফী। সুতরাং মধ্যমপন্থী জাতি হিসাবে রাসূল (সা.) হানাফীদের পক্ষে সাক্ষি দিবেন। মুসলিম তিহাত্তর দলের ৭২ দল সারা বিশ্বে থাকে না। সুতরাং সূরাঃ ২ বাকারা, ১৪৩ নং আয়াত তাদেরকে সঠিক প্রমাণ করে না। মুসলিমদের মধ্যে শুধুমাত্র হানাফীদেরকে সূরাঃ ২ বাকারা, ১৪৩ নং আয়াত সঠিক প্রমাণ করায় এবং মুসলিমদেরকে শুধুমাত্র একটি দল সঠিক হওয়ায় তারাই মুসলিমদের মধ্যে সঠিক দল।
সূরাঃ ২ বাকারা, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
* আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে সারা বিশ্বে থাকার জন্য ধৈর্যশীলদের সারাবিশ্বে রাখেন। মুসলিমদের মধ্যে সারাবিশ্বে হানাফী থাকায় এবং মুসলিমদের অন্য কোন দল সারা বিশ্বে না থাকায় হানাফী ছাড়া মুসলিমদের অন্য কোন দলকে সঠিক মনে করার সংগত কোন কারণ নাই।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮৬। আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্ট দায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত।সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। হে আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা ভুলে যাই অথবা আমাদের ত্রুটি হয় তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করবেন না।হে আমাদের প্রতিপালক এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।আমাদের পাপ মোছন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে জয়যুক্ত করুন।
* আল্লাহর বিধানে জীবন যাপনের সহজসাধ্য উপায় অভিন্ন ফিকাহ। অভিন্ন ফিকাহ হলো কোরআনের অভিন্ন বুঝ। রাসূলের (সা.) সময় এটি অলিখিত ছিল।সাহাবা (রা.) সহজেই রাসূল (সা.) থেকে অভিন্ন ফিকাহ সংগ্রহ করতেন। কিন্তু রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের পর সাহাবা থেকে অভিন্ন ফিকাহ সংগ্রহ কঠিন ছিল। আবার সাহাবা পরিচয়ে কিছু লোক মোনাফেক থাকায় অভিন্ন ফিকাহ সংগ্রহে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এমতাবস্থায় অসাহাবা পাইকারী কাফের হতে থাকে। যার প্রমাণ কারবালা। সাহাবার (রা.) শেষ ইমাম হযরত ইমাম হোসেন (রা.) কারবালায় তাঁর প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তারা ইমামের মাথা কেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়।এমতাবস্থায় আল্লাহ কারো উপর কোন কষ্ট দায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না বিধায় ইমাম আবু হানিফার (র.) মাধ্যমে তিনি অভিন্ন ফিকাহ সংকলনের ব্যবস্থা করেন। পরে আমির হারুনুর রশিদ এটি পরিশোধান করে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। এখনো এ ধারা বিদ্যমাণ আছে। কিছু সংখ্যক লোক অভিন্ন ফিকাহ না মেনে কোরআন-হাদিস মানতে বলে। কিন্তু যারা আরবী জানে না তাদের পক্ষে কোরআন-হাদিসের মানসুখ জেনে কোরআন-হাদিস মানা সম্ভব নয়। এরা মানুষকে অসম্ভবের দিকে পথ দেখায়। সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াত অনুযায়ী তাদের পথ ইসলামের পথ নয়। অন্য যারা ফিকাহ সংকলন করেছে তাদের ফিকাহ আমির অনুমোদীত নয়। তাদের অননুমোদীত ফিকাহ বিভিন্ন পথ দেখায় বিধায় তাদের ফিকাহও ইসলাম নয়। সুতরাং একমাত্র ইসলাম হলো হানাফী অভিন্ন ফিকাহ। কারণ এটি আমির অনুমোদীত অভিন্ন ফিকাহ। যা পালন সম্ভব এবং সহজসাধ্য। সুতরাং এটাই একমাত্র আল্লাহর বিধান।
২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০০
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: চলমাণ পোষ্ট প্রথম পাতায় থাকায় পরের পোষ্ট মন্তব্য আকারে উপস্থাপন করলাম।
২|
২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
আলামিন১০৪ বলেছেন: থামলে ভালো লাগেে..
আপনার গুরু হানিফাও আপনার মতো অন্ধ না...রাসুল (সঃ) এর সময়েও লোকজনের মতভেদ ছিল
পড়াশুনা করে এরপর লিখেন, অহেতুক মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না
হানিফা সঠিক না মালিকী বা শাফেয়ী সঠিক, তা কোনদিন জানা যাবে না, কারণ প্রত্যেকের দলিল আছে।
গুরুত্বপূর্ণ, হলো মুসলিমদের মতভেদ যেন এরকমটা না হয়ে যায় যে একদল অন্য দলকে দোযখী আখ্যা দেয় আর কাফিররা কোন দলকে আক্রমণ করলে অন্যদল নিশ্চুপ বসে থাকে শুধু এই অযুহাতে যে তারা আমাদের দেশের বা আমাদের মতের কেউ না- আল্লাহ এরকম মতভেদকে শাস্তিযোগ্য বলেছেন। আপনার লিখার কারণে আপনাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহী করতে হবে-সাবধান। আল্লাহকে ভয় করুন।
আল্লাহর রশি ফ্লেক্সিবল। উহাকে লাঠি ভাববেন না, আবু হানিফাকে ধরতে গিয়ে রশি যেন হাত ফশকে ছুটে না যায়।
বানান বিভ্রাট হেতু আমার উপরের মন্তব্যটি মুছে দেয়ার অনুরোধ থাকল।
২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।
* সাহাবা (রা) ক্ষমাপ্রাপ্ত বিধায় তাঁদের মতভেদের দায়মুক্তি আছে। অন্যদের মতভেদের দায়মুক্তি না থাকায় মতভেদের কারণে তারা জাহান্নামী হবে।
৩|
২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৪০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কুরআনের অনেক আয়াতই মুতাশাবিহাত বা এমন প্রকৃতির যার একাধিক ব্যাখ্যা সম্ভব। এই ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণেই বিভিন্ন মাযহাবের সৃষ্টি হয়েছে। তাই কোনো একটি মাযহাবই কেবল কুরআনের ১১৪টি সূরার একমাত্র ধারক, এমন দাবি অন্য মাযহাবের ইমামদের অবদান ও গবেষণাকে ছোট করে দেখার শামিল হতে পারে।
।
২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৪৬
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: কারো অবদানের জন্য মুসলমান বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে থাকা ঠিক না।
৪|
২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩৮
রাজীব নুর বলেছেন: ওকে।
২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫৪
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৪)
সূরাঃ ৪ নিসার ১৭৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭৪। হে মানব জাতি। তোমাদের প্রতি পালকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে প্রত্যক্ষ প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি উজ্জ্বল নুর নাজিল করেছি।
সূরাঃ ৪ নিসার ৮২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৮২। তবে কি তারা কোরআন সম্বন্ধে অনুধাবন করে না? ইহা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো নিকট হতে আসত তবে তারা তাতে অনেক ইখতিলাফ (অসংগতি) পেত।
সূরাঃ ৪ নিসার ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আর আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট।ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।
সূরাঃ ৪ নিসার ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৯। আর যে কেহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত হয়, তাবে তারা ঐ ব্যক্তিদের সাথী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, নবিগণ, সিদ্দিকগণ, শহিদগণ ও সালেহগণের মধ্য হতে। আর ঐসমস্ত লোক কত উত্তম সঙ্গী।
সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১২৫ এর অনুবাদ-
১২৫। তার অপেক্ষা দ্বীনে কে উত্তম যে মহসীন বা সৎকর্ম পরায়ন হয়ে ইসলাম মেনে আল্লাহ মুখী হয় এবং মিল্লাতা ইব্রাহীমা হানিফা বা ইব্রাহীমের হানাফী মিল্লাত বা একনিষ্ঠ জাতির অনুসরন করে? আর আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করেছেন।
সূরাঃ ৪ নিসার ৮০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৮০। যে রাসূলের আনুগত্য করে নিশ্চয়ই সে আল্লাহর আনুগত্য করে। আর যে ফিরে যায় আমি তার জন্য তোমাকে রক্ষকরূপে প্রেরণ করিনি।
সূরাঃ ৪ নিসার ৭৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৬। যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে। যারা কুফুরী করেছে তারা তাগুতের রাস্তায় যুদ্ধ করে। সুতরাং তোমরা তাগুতের আউলিয়াদের সাথে যুদ্ধ কর। নিশ্চয়ই শয়তানের কায়দা খুব দূর্বল।
* প্রত্যক্ষ প্রমাণ উজ্জ্বল নুর কোরআনে ইখতিলাফ বা মতভেদ নেই। সেজন্য মুমিনগণ আল্লাহর আনুগত্য, রাসূলের (সা.) আনুগত্য ও আমিরের অনুসর এবং নবিগণ, সিদ্দিকগণ, শহিদগণ ও সালেহগণের সঙ্গী হতে ইখতিলাফ বা মতভেদ পরিহার করে ইব্রাহীমের (আ.) হানাফী মিল্লাত হয়। সাহাবায়ে কেরামের শেষ ইমাম হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ইয়াজিদের মধ্যে রাসূলের (সা.) আনুগত্যে ইখতিলাফ দেখায় তিনি ইয়াজিদের আনুগত্য না করে ইয়াজিদের লোকদের হাতে শহীদ হয়েছেন।তারমানে যে আমির আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) সাথে ইখতিলাফ করে তার আনুগত্য ইসলাম নয়। আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) সাথে উমাইয়াদের ইখতিলাফ দেখে মুসলিম জনতা তাদের প্রতি প্রচন্ড নাখোশ ছিল। অবশেষে আব্বসীয় আহলে বাইত আবুল আব্বাস আশ শাফফা উমাইয়াদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ করেন। তিনি তাদেরকে পাইকারী হত্যা করেন বলে আশ শাফফা বা রক্ত পিপাসু খেতাব লাভ করেন। তিনি আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) সাথে ইখতিলাফ করা উমাইয়া শাসনের অবসান ঘটান। এদিকে ইবাদতের নিয়মে ইখতিলাফ দূর করতে ইমাম আবু হানিফা (র.) কলমের যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করে ইবাদতের নিয়মের ইখতিলাফ দূরিকরণে বিরাট অবদান রাখেন। পঞ্চম আব্বাসীয় খলিফা আমির হারুনুর রশিদ ইমাম আবু হানিফার (র.) অভিন্ন ফিকাহ পরিশোধন করে হানাফী মাযহাব নামে এটি অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এটির অনুসারি হয়। এখনো দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম হানাফী মাযহাবের অনুসারী আছে।
সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।
সূরাঃ ৪ নিসার ৪১ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪১। এরপর তখন কি দশা হবে যখন আমি প্রত্যেক ধর্ম সম্প্রদায় থেকে সাক্ষী আনব এবং তোমাকে তাদের প্রতি সাক্ষী করব?
* হাসরে কারা মুমিনদের পথে ছিল সে বিষয়ে সাক্ষী দিতে আল্লাহ রাসূলকে (সা.)হাজির করবেন। রাসূল (সা.) ইখতিলাফ বিহীন কোরআনের যে অভিন্ন ফিকাহের অনুসারী ছিলেন যারা সে রকম ইখতিলাফ বিহীন কোরআনের অভিন্ন ফিকাহের অনুসারী তাদের সঠিকতার পক্ষে সাক্ষী দিবেন। যারা ইখতিলাফ সহকারে তাফসির ও হাদিস প্রচার করেছে রাসূল (সা.) তাদের বিপক্ষে সাক্ষী দিবেন। ইখতিলাফ বিহীন কোন হাদিস ও তাফসিরের কিতাব নাই। হাদিস ও তাফসিরের কিতাব বিভিন্ন পথ দেখায় বিধায় ইখতিলাফ বিহীন হানাফীদের বিপরীতে হাদিস ও তাফসির সমূহের ইখতিলাফ বাতিল হবে। রদ্দে হানাফী এর উদ্দেশ্যে যারা অপর সকল ফিকাহের অনুসারী তাদের কোন ফিকাহ আমির অনুমোদীত নয়। অথচ রাসূলের (সা.) পর আমিরের অনুসরন বিষয়ে আল্লাহর স্পষ্ট আদেশ আছে। সুতরাং আমিরের অনুমোদন বিহীন সকল ফিকাহ বাতিল। সুতরাং রাসূল (সা.) আমির অনুমোদীত ইখতিলাফ বিহীন হানাফী ফিকাহের অনুসারীদের পক্ষে সাক্ষী দিবেন। সংগত কারনে হানাফীদের সাথে মতভেদ কারী সকল পক্ষকে আল্লাহ জাহান্নামে দগ্ধ করবেন। মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির দায়ে তাদের জাহান্নাম মুক্তি ঘটবে না।
সূরাঃ ৪ নিসার ৭৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৫। তোমাদের কি হলো, তোমারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছো না? অথচ নারী-পুরুষের এবং শিশুদের মধ্যে যারা দূর্বল তারা বলে, হে আমাদের রব আমাদেরকে অত্যাচারী অধিবাসীদের এ নগর থেকে বের করে দিন। আর আপনার কাছ থেকে আমাদের জন্য ওলী (অভিভাবক) এবং আপনার কাছ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠান।
* উমাইয়া অত্যাচার যারা রোধ করেছে সেই আব্বাসীয় আহলে বাইত আল্লাহর ওলীগণ ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুমোদক ও অনুসারী। মঙ্গল অত্যাচার রুখে দেওয়া তুর্কীরাও ছিল হানাফী। হিন্দুদের অত্যাচার রুখে দেওয়া তুর্কী, আফগান ও মোগলগণও ছিলেন হানাফী। মধ্য এশিয় অত্যাচার রুখে দেওয়া জাতি সমূহও হানাফী। সারা বিশ্বে ইসলাম প্রচার করা তাবলীগ জামায়াতও হানাফী।মুসলিমদের শুধূমাত্র একটি দল সারা বিশ্বে আছে তারা হানাফী। এগারশ বছর হানাফীরা বিশ্ব মোড়ল ছিল। তারা ইসলামকে বিশ্ব ধর্মে পরিণত করেছে। এগারশ বছর বিশ্ব মোড়ল কোন অমুসলিম জাতিও ছিল না। মুসলিমদের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান হানাফী। অনেকে মনে করেন তাদের পতন হলে দক্ষিন এশিয়ায় মুসলিম গণহত্যা চলবে এবং মুসলিম গণহত্যার মাধ্যমে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপাল নিয়ে এ অঞ্চলে একটি হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু রাসূল (সা.) বলেছেন মুসলিম গণহত্যার এ ব্যাপক কার্যক্রমে জয়ী হবে মুসলিম। তখন গণহত্যা উল্টা হবে। মুসলিমদের এ জয়ী দলটি হানাফী হবে। কারণ এ অঞ্চলে মুসলিম গণহত্যা প্রতিরোধে হানাফী ছাড়া অন্য কারো যথেষ্ট জনবল নেই। কারবালায় যথেষ্ট জনবলের অভাবে ইমাম হোসেনও (রা.) জয়ী হতে পারেননি। সেহিসাবে এখানে হানাফীদের যে জনবল আছে তাতে এটা নিশ্চিত যে তারাই মুসলিম গণহত্যা রুখে দিতে পারবে -ইশাআল্লাহ। ইদানিং পাকিস্তান ভারতের সাথে যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। যারা হানাফী মুসলিম। মুসলিম গণহত্যার যুদ্ধে যারা জয়ী হবে রাসূল (সা.) তাদেরকে নাজাত প্রাপ্ত বলেছেন। সুতরাং হানাফী নাজাত প্রাপ্ত এবং তাদের সাথে মতভেদকারীরা নাজাত প্রাপ্ত নয়। কোরআনে ইখতিলাফ না থাকায় নাজাতপ্রাপ্ত দলের সাথে ইখতিলাফকারীদের জন্য সুনিশ্চিত জাহান্নাম বরাদ্ধ থাকবে। তাদের কোন লোককে আল্লাহ জান্নাত দিকে চাইলে তাদেরকে মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব করবেন।নতুবা মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির দায়ে সুনিশ্চিতভাবে তাদের গন্তব্য জাহান্নাম হবে।
৫|
২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৫)
সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
সূরাঃ ৫ মায়িদা, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। হে মুমিনগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই উপর। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহর দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন; অতঃপর তোমরা যা করতে তিনি সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবগত করবেন।
* রাসূলের (সা.) দায়িত্ব রেসালাত। মুমিনের দায়িত্ব কি? মুমিনের দায়িত্ব বেলায়াত, খেলাফাত, ইমামাত।কিছু সংখ্যক লোক বলল বেলায়াতের দায়িত্ব প্রাপ্ত হযরত আলীর (রা.) খেলাফতের দায়িত্ব। কিন্তু রাসূল (সা.) রেসালাতের দায়িত্ব চল্লিশ বছরে পেয়ে থাকলে হযরত আলী (রা.) খেলাফতের দায়িত্ব তেত্রিশ বছরে পাবেন কেন? তাহলে তাঁর বেলায়াতের দায়িত্ব কি? রেসালাত পরিচালিত হয়েছে অভিন্ন ফিকায়, বেলায়াতের দায়িত্বে তিনি অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন। অভিন্ন ফিকাহ হলো কোরআনের অভিন্ন বুঝ। কোরআন একেক জন একেক রকম বুঝে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হবে এটা আল্লাহর কাম্য নয়। রেসালাতে অভিন্ন ফিকাহ অলিখিত ছিল।বেলায়াতের দায়িত্ব ছিল অভিন্ন ফিকাহের অলিখিত রূপের লিখিত রূপ প্রদান করা। হযরত আলী (রা.) বেলায়াতের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে অভিন্ন ফিকাহের লিখিত রূপ প্রস্তত করে খেলাফাত দ্বারা অনুমোদন করিয়ে ইমামাতের মাধ্যমে সারা বিশ্বে প্রচারের ব্যবস্থা করলে মুসলমানের ইবাদতের নিয়ম বিভিন্ন রকম হয়ে যেত না। তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন না করার সুযোগ নিয়েছে মোনাফেক। তারা রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) নামে মিথ্যা হাদিস প্রচার করে রাসূলের (সা.) অভিন্ন ফিকাহকে বিভিন্ন রকম করে ফেলে। খেলাফাত হযরত আলীকে (রা.) দিয়ে তাঁর কাজ করিয়ে নেয়নি। ইমামতও এ কাজে প্রয়জিনীয় দায়িত্ব পালন করেনি।বেলায়াত, খেলাফাত ও ইমামতের ছয় জনের কেউ মানুষ হতে রক্ষা পাননি। খেলাফাতের প্রথম জন ফিতনার সাথে যুদ্ধ করে খেলাফাতের সময় পার করেছেন।বেলায়াত, খেলাফাত ও ইমামতের অপর পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের সময় পার হয়েছে মহাফিতনায়। এসব ফিতনায় কুফুরী বাড়তে থাকে এবং সাবায়ে কেরামের (রা.) ইমামাতের শেষ ইমাম হযরত ইমাম হোসেন (রা.) কারবালায় তাঁর প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তারা তাদের ইমামের মাথা কেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়।
সূরাঃ ৫ মায়িদা, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। হে মুমিনগণ তোমরা অঙ্গিকার পূর্ণ করবে। যা তোমাদের নিকট বর্ণিত হচ্ছে তা’ ব্যতীত চতুস্পদ পশু তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।তবে ইহরাম অবস্থায় শিকার করাকে বৈধ মনে করবে না।নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছা আদেশ করেন।
সূরাঃ ৫ মায়িদাহ, ১৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৩। বস্তুত শুধু তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে আমি তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ থেকে দূর করে দিলাম। তারা কালামকে ওর স্থানসমূহ থেকে বিকৃত করে দেয়। আর তাদেরকে যা কিছু উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা তার মধ্য থেকে এক বড় অংশ ভুলে যায়। আর ভবিষ্যতেও তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া তাদের কোন না কোন খেয়ানতের খবর তোমার কাছে আসতে থাকবে।অতএব তুমি তাদেরকে মাফ করতে থাক এবং তাদেরকে উপেক্ষা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সদাচারী লোকদেরকে ভালো বাসেন।
* খেলাফাত যদি বেলায়াতের দায়িত্ব পালনে বাধা হয় তবে হযরত আলীকে (রা.) আল্লাহ খেলাফাতের দায়িত্বও প্রদান করেছেন। তখন তিনি অভিন্ন ফিকাহের লিখিত রূপ প্রস্তুত করে ইমামাতের দায়িত্বে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারতেন যাতে ইবাদতের নিয়মে মতভেদ সৃষ্টি হওয়া থেকে মুসলিম জাতি রক্ষা পেত। অভিন্ন ফিকাহের লিখিত রূপ তথাপি প্রস্তুত না হওয়ায় আল্লাহ ইমামাতকে আর খেলাফাত প্রদান করেননি।এরপর থেকে ইমারাতের দায়িত্বে খেলাফাত পরিচালিত হতে থাকে। আগে ছিল আগে খেলাফাত পরে ইমারাত, পরে হয়েছে আগে ইমারাত পরে খেলাফাত। সিস্টেম উল্টে যিনি আমির হলেন সেই হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) হযরত ইমাম হাসানের সাথে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে এবং তাঁর ইমারাত মুসলিম জাতি মেনে নেওয়ায় মুসলিম জাতিকে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে দূর করে দিলেন।
সূরাঃ ৫ মায়িদাহ, ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত, রক্ত, শূকরমাংস, আল্লাহ ব্যতীত অপরের নামে যবেহকৃত পশু, আর শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, প্রহারে মৃত জন্তু, শৃংগাঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু, তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা’ ব্যতীত, আর যা মূর্তি পুজার বেদির উপর বলি দেওয়া হয় তা এবং জুয়ার তীরদ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা, এ সব পাপ কাজ। আজ কাফেরগণ তোমাদের দীনের বিরুদ্ধাচরণে হতাশ হয়েছে; সুতরাং তাদেরকে ভয় করবে না, শুধু আমাকে ভয় কর। আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন মনোনীত করলাম। তবে কেহ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তখন আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
* উমাইয়াগণ তাদের মুমিনী দায়িত্ব পালন করেনি। তারা অভিন্ন ফিকাহের লিখিত রূপ প্রদান করেনি। ফলে মোনাফেকের মিথ্যা প্রচার ও প্রপাগান্ডায় অভিন্ন ফিকাহ বিভিন্ন রকম হয়ে তিহাত্তর প্রকার হয়ে পড়ে। এতে একজন যা বলে অন্য জন বলে তার উল্টা কথা। অবশেষে অভিন্ন ফিকাহের লিখিত রূপের ইমাম আবু হানিফা (র.) অভিন্ন ফিকাহের লিখিত পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রস্তত করলে রাসূলের (সা.) আহলে বাইত আব্বাসিয় ইমারাতের পঞ্চম আমির খলিফা হারুনুর রশিদ ইামাম আবু হানিফার (র.) অভিন্ন ফিকাহের লিখিত রূপের পরিশোধন করে হানাফী মাযহাব নামে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। দুষ্টলোকেরা রদ্দে আবু হানিফার (র.) নিমিত্ত আমির অনুমোদীত লিখিত অভিন্ন ফিকাহের পরিবর্তে বহু নতুন ফিকাহ প্রচার করে যার কোনটি আমির অনুমোদীত নয়। ফলে আল্লাহর অনুগ্রহ তাদের দিকে না ফিরে হানাফীদের দিকে ফিরে। এখন মুসলিমদের সবচেয়ে বেশী জনসংখ্যা, ভূমি ও রাষ্ট্র হানাফীদের। মুসলিমদের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান হানাফী। এ অঞ্চলে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপাল নিয়ে হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত মুসলিমদের উপর গণহত্যা চালানো হলে গযওয়ায়ে হিন্দ সংঘটিত হবে। যাতে হিন্দুদের প্রতিপক্ষহবে হানাফী এবং গযওয়ায়ে হিন্দে তারা জয়ী হবে। আর যারা গযওয়ায়ে হিন্দে জয়ী তাদেরকে রাসূল (সা.) নাজাত প্রাপ্ত বলেছেন। তিনি মুসলিমদের তিহাত্তর দলের এক দল নাজাত প্রাপ্ত বলেছেন। সেটি হানাফী বিধায় তারাই মুসলিমদের একমাত্র নাজাতপ্রাপ্ত ও সঠিক দল।আয়াতের পূর্ণাঙ্গ শব্দটি এখানে প্রমাণ। কারণ এর আগে পূর্ণাঙ্গ লিখিত ফিকাহ ছিল না, অথচ এটাই ছিল তখন মুসলিমদের সবচেয়ে দরকারী বিষয়।
সূরাঃ ৫ মায়িদাহ, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হও তখন তোমাদের মুখমন্ডল উত্তমভাবে ধৌত কর এবং হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, আর মাথা মাসেহ কর এবং পাগুলো টাকনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেল। কিন্তু যদি তোমরা অসুস্থ থাকো অথবা সফরে থাক, অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে, কিংবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ কর।অত:পর যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও। তখন তোমরা তা’ দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের উপর কখনই কোন অসুবিধায় ফেলতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে ও তোমাদের উপর স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান। যেন তোমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
* অভিন্ন ফিকাহ পরিচালিত হয় কোরআনের ভিত্তিতে। কুলি করা মুখের ভিতরে ধোয়া, নাক মুখমন্ডলের অংশ। নাকে পানি দেওয়া মুখমন্ডল ধোয়ার অংশ। ঘাড় মাথার সাথে সংযুক্ত।সুতরাং ঘাড় মাসেহ করা, মাথা মাসেহ করার অংশ। সংগত কারণে এসব সংক্রান্ত হাদিস সমূহ সহিহ নয় বলার সুযোগ নাই। তথাপি দুষ্ট লোকেরা ঘাড় মাসেহ করার হাদিস অস্বীকার করে এটিকে বিদয়াত বলে ফিতনা ছড়ায়। দুষ্ট লোকেরা কোরআনের অভিন্ন ফিকাহ লংঘণকারী এমন অনেক কথা বলে। তাদের বরকত ঘটেনি। বরকত ঘটেছে হানাফীদের। তারা এখন বিশ্ববিস্তৃত। দুষ্টলোকদের কোন দল বিশ্ববিস্তৃত নয়। হানাফীদের কারণেই এখন ইসলাম বিশ্ব ধর্ম এবং মহানবি (সা.) বিশ্ব নবি।হাদিস সহিহ সাব্যস্ত হয় কোরআনের মাপকাঠিতে। এখানে ব্যক্তি মাতুব্বরি গৃহিত নয়। ব্যক্তি মাতুব্বরী গ্রহণ করলে আরজ আলী মাতুব্বরের মাতব্বরিতে নাস্তিক হতে হয়। সুতরাং অভিন্ন ফিকাহ দুষ্টলোক প্রচারিত হাদিসে না হয়ে কোরআনের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হাদিসে হবে। এটাই হানাফী (একনিষ্ঠ) ইসলাম এবং সঠিক ইসলাম।
সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৪৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৪। নিশ্চয়ই আমরা তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম; তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো। নবিগণ, যারা আল্লাহর অনুগত ছিল তারা ইয়াহুদীদিগকে তদনুসারে বিধান দিত, আরো বিধান দিত রব্বানীগণ, এবং বিদ্বানগণ। কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল। আর তারা ছিল উহার সাক্ষী।সুতরাং মানুষকে ভয় করবে না। আমাকেই ভয় কর। আর আমার আয়াতসমূহ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করবে না। আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা হুকুম প্রদান করে না তারাই কাফির।
* অভিন্ন ফিকাহ না মেনে কোরআন মেনে খারেজী হযরত আলীকে (রা.) কাফের ফতোয়া দিয়ে হত্য করে ফেলে। আয়াত অনুযায়ী ফিতনা শেষ না হতে যুদ্ধ থামানোর অপরাধে খারেজী হযরত আলীকে (রা.) কাফের ফতোয়া দেয়। অথচ ইসলাহ বা শান্তি স্থাপনের প্রস্তাব পেলে যুদ্ধ থামিয়ে ইসলাহ করাও আল্লাহর আদেশ। কারণ আল্লাহ কল্যাণকামী। আর যুদ্ধে কল্যাণ না থাকায় কল্যাণের প্রস্তাব পেলে আর যুদ্ধ করা সংগত নয়। সেজন্য রাসূল (সা.) হুদায়বিয়ার ইসলাহ করলে আল্লাহ এটাকে সুস্পষ্ট বিজয় বলেন। পরে মক্কা বিজয় হয়েছে। হযরত আলী (রা.) হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) সাথে ইসলাহ করেছেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) কন্সান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) জয় করলে এটি মুসলিম বিশ্বে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে অভিন্ন ফিকাহ হলো ফিতনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করতে হবে, তবে ইসলাহ বেশী লাভ জনক হলে যুদ্ধ থামিয়ে ইসলাহ করতে হবে। খারেজী কোরআন মেনে অভিন্ন ফিকাহ না মেনে কাফের হয়। সুতরাং অভিন্ন ফিকাহের পরিবর্তে কোরআন ও হাদিস মানলেও কুফুরী থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। এখন পৃথিবীতে মুসলিম বিশ্ব আমির অনুমোদীত হানাফী ফিকাহ অভিন্ন ফিকাহ, এটি অস্বীকার করা কুফুরী। এর পরিবর্তে কোরআন ও হাদিস মেনেও আল্লাহর ক্রোধ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। এ অপরাধে আল্লাহ মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানকে রক্ষা না করলে অবাক হওয়ার কিছু নাই।মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম পরাজিত হলেই হিন্দুরা মুসিলিম গণহত্যা শুরু করবে। তখন গযওয়ায়ে হিন্দ হয়ে হানাফী জয়ী হবে। তারা কালোপতাকা উড়িয়ে মাহদীর (আ.) নেতৃত্বে ইহুদী বিনাশ করে ইমামাত প্রতিষ্ঠিত করবে। ইমামমাত অভিন্ন ফিকাহ হানাফী ফিকাহের মাধ্যমে পরিচালিত হবে- ইনশাআল্লাহ।
৬|
২৮ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানতে।
৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৫৫
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩)
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১১০ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১০। তোমরাই মানব জাতির জন্য খাইরা (শ্রেষ্ঠতম) উম্মতরূপে তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে।আর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। আর যদি আহলে কিতাব বিশ্বাস স্থাপন করতো তবে অবশ্যই তাদের জন্য ভালো হতো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তো মোমেন। আর তাদের অধিকাংশ ফাসেক।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১৩৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৩৯। তোমরা হীন বল হবে না এবং দুঃখিত হবে না। তোমরাই বিজয়ী যদি তোমরা মুমিন হও।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে নাও। তুমি যাকে ইচ্ছা ইজ্জত দান কর, আর যাকে ইচ্ছা বেইজ্জতি কর।তোমার হাতেই মঙ্গল।নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৩।নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে, নূহকে ও ইব্রাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতে মনোনীত করেছেন।
সূরাঃ ৩ আলে ইমরান আয়াত নং ৬৭ এর অনুবাদ-
৬৭। ইব্রাহীম ইহুদী ছিলেন না, খ্রিস্টানও ছিলেন না, তিনি ছিলেন ‘হানিফাম মুসলিমা’ বা ‘একনিষ্ঠ মুসলিম’। আর তিনি মুশরিক ছিলেন না।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ৭৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৪। তিনি নিজ রহমতের জন্য যাকে ইচ্ছা খাছ (বিশেষ) করে নেন।আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ৩১ নং ও ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩১। আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরন কর! তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন। আর তোমাদের সব পাপ মাফ করবেন। আর আল্লাহ খুবই ক্ষমাশীল দয়াবান।
৩২। আপনি বলুন তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) অনুগত হও। কিন্তু যদি তারা ফিরে যায়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদেরকে ভালোবাসেন না।
* মানব জাতির খাইরা (শ্রেষ্ঠতম) উম্মত আল্লাহর আদেশে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পরস্পর মতভেদ পরিত্যাগ করে। তারা হীনবল হয় না। তারা প্রবল-পরাক্রান্ত হয়। তারা বিজয়ী হয়। আল্লাহ তাদেরকে রাজত্ব/ক্ষমতা প্রদান করেন।তারা ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় মুসলিম বিশ্বের শাসক।তারা ‘হানিফাম মুসলিমা’ বা ‘একনিষ্ঠ মুসলিম’। আল্লাহ তাদেরকে নিজ রহমতের জন্য খাছ (বিশেষ) করে নিয়েছেন।সেজন্য তারা বিশ্ব বিস্তৃত এবং গঠিত হওয়ার সময় থেকে এখন পর্যন্ত তাদের দলে আছে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম। মুসলিম অঞ্চল ও দেশের অধীকাংশ তারা প্রাপ্ত।একসাথে বেশী মুসলিম বসবাসকারী দক্ষিন এশিয়া তাদের। এখানে থাকা হিন্দুস্থানের গজোয়ায়ে হিন্দ তাদের সাথে হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। মুসলিমদের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তানের অবস্থান হিন্দুস্থান অঞ্চলে। গজোয়ায়ে হিন্দে তাদের জয়ী হওয়ার কথা রয়েছে। ইদানিং তারা একটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। হিন্দুস্থানের যুদ্ধে জয়ী দলকে রাসূল (সা.) নাজাত প্রাপ্ত দল বলেছেন। তিনি নাজাত প্রাপ্ত একটি দলের কথা বলেছেন। সুতরাং গজোয়ায়ে হিন্দ অনুযায়ী সেই একটি দল হানাফী। তারা রাসূলের (সা.) অনুসারী। রাসূল (সা.) অভিন্ন ফিকাহ মানতেন। হানাফীরাও অভিন্ন ফিকাহ মানে। অভিন্ন ফিকাহ হলো কোরআনের অভিন্ন বুঝ। কোরআনের বিভিন্ন বুঝে মতভেদ হয় এবং ঐক্য নষ্ট হয়। সুতরাং কোরআনের অভিন্ন বুঝ হলো ইসলাম এবং কোরআনের বিভিন্ন বুঝ ইসলাম নয়। ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় আব্বাসীয় হানাফী প্রায় সাতশত বছর বিশ্ব শাসন করেছে। মুসলিমদের তিহাত্তর দলের আর কোন দল বিশ্ব শাসক নয়। অমুসলিমদের কোন দলও সাতশত বছর বিশ্ব শাসন করেনি।আমেরিকা বিশ্ব শাসক হতে গিয়ে ভিয়েত নামে হেরেছে, আফগানিস্তানে হেরেছে। সবাই তাদেরকে মানে না। বৃটিশ বিশ্ব শাসন ছিল দুইশত বছর। সুতরাং হানাফীরাই মানব জাতির খাইরা (শ্রেষ্ঠতম) উম্মত। সংগত কারণে মুসলিম তিহাত্তর দলের মধ্যে শুধুমাত্র তারা সঠিক। তাদের সাথে মতভেদকারী কোন দল সঠিক নয়। হানাফীদের সাথে মতভেদকারী দলের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে। আর সে মহাশাস্তি হলো জাহান্নাম।মুসলিমদের সাথে বিভেদ সৃষ্টির দায়ে হানাফীদের সাথে মতভেদকারীদের জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত স্থান।