| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোঃ ফরিদুল ইসলাম
জন্ম- ১৯৮৭ খ্রিঃ চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের লোধপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতার নাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মাতার নাম ফাতেমা বেগম।
আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা ‘মেধা’ শব্দটিকে জিপিএ-৫, গোল্ডেন মেডেল কিংবা পরীক্ষার খাতার নম্বরের ফ্রেমে বন্দি করে ফেলেছি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোচিং, প্রাইভেট আর মুখস্থ বিদ্যার যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া একদল ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত কিশোর-কিশোরীকে আমরা ‘সেরা’র তকমা দিচ্ছি। কিন্তু মনোবিজ্ঞান এবং আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মনের আনন্দ আর মানসিক সুস্থতা বাদ দিয়ে প্রকৃত মেধার বিকাশ অসম্ভব। সত্যি বলতে—সুখী শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে ভালো শিক্ষার্থী, ওরাই সত্যিকারের মেধাবী।
কেন সুখী শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকে?
একটি শিশুর মস্তিষ্ক তখনই সবচেয়ে কার্যকর হয়, যখন সে মানসিকভাবে শান্ত ও আনন্দিত থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, মন ভালো থাকলে মস্তিষ্কে ডোপামিন এবং সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা মানুষের শেখার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি এবং সৃজনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সুখী শিক্ষার্থীদের তিনটি প্রধান শক্তি থাকে:
উচ্চ মনোযোগ ক্ষমতা: মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা না থাকায় এরা ক্লাসে সহজে মনোযোগ দিতে পারে।
সহনশীলতা (Resilience): এরা ব্যর্থতায় ভেঙে পড়ে না, বরং ভুল থেকে শিখে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিক শক্তি রাখে।
সৃজনশীলতা: ভয়হীন পরিবেশে নতুন কিছু ভাবার এবং আউট-অফ-দ্য-বক্স চিন্তা করার সাহস ওরাই পায়।
নম্বরের প্রতিযোগিতা বনাম প্রকৃত মেধা
আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, ভালো রেজাল্ট আর ভালো শিক্ষার্থী হওয়া এক জিনিস নয়। ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বড় হওয়া একজন শিক্ষার্থী হয়তো পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাচ্ছে, কিন্তু সে কি আসলেই বিষয়টিকে ভালোবাসতে পারছে?
"যে শিক্ষা আনন্দ দেয় না, তা কেবল কিছু তথ্যের স্তূপ তৈরি করে, কোনো প্রজ্ঞার জন্ম দেয় না।"
অন্যদিকে, যে শিক্ষার্থী আনন্দের সাথে পড়ছে, যার ওপর পারিবারিক বা সামাজিক প্রত্যাশার পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়টিকে অনুধাবন করে। তার এই বোধশক্তি কেবল পরীক্ষার খাতার জন্য নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের জন্যও কার্যকরী হয়। আর এটাই তো প্রকৃত মেধার পরিচয়।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও আমাদের অবস্থান
বিশ্বের সবচেয়ে সফল শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর অন্যতম ফিনল্যান্ড। সেখানে শিক্ষার্থীদের কোনো বাড়তি চাপ দেওয়া হয় না, হোমওয়ার্কের বোঝা থাকে ন্যূনতম এবং পরীক্ষার বৈতরণী পার হওয়ার কোনো ইঁদুর দৌড় নেই। ফিনল্যান্ডের মূল মন্ত্রই হলো—শিশুকে প্রথমে সুখী হতে দাও, শিক্ষা এমনিতেই আসবে। ফলাফল? আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ফিনল্যান্ডের শিক্ষার্থীরাই বিশ্বের অন্যতম সেরা।
আমাদের দেশেও এখন সময় এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর। জিপিএ-৫ না পেলে সন্তানের মুখ কালো করা, কিংবা বন্ধুদের সাথে তুলনা করে তাকে হীনম্মন্যতায় ভোগানোর এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার।
একটি সুখী ও মেধাবী প্রজন্ম গড়তে আমাদের করণীয়
শ্রেণীকক্ষ এবং পরিবারকে যদি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় করে তোলা না যায়, তবে আমরা কেবল মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শী রোবট তৈরি করব, কোনো দূরদর্শী নেতা বা বিজ্ঞানী নয়। এজন্য প্রয়োজন:
পড়াশোনাকে ভীতিহীন করা: পরীক্ষাকে মূল্যায়নের মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত, শাস্তির হাতিয়ার হিসেবে নয়।
সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব: খেলাধুলা, গান, আঁকাআঁকি ও বই পড়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন: শিক্ষার্থীদের অবসাদ, বিষণ্ণতা বা চাপকে অবহেলা না করে তা সহানুভূতির সাথে সামলানো।
শেষ কথা
মেধার পরিমাপ কখনো নম্বরের স্কেলে হতে পারে না। যে শিক্ষার্থী হাসতে হাসতে ক্লাসে যায়, কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করে এবং শেখার প্রক্রিয়াটিকে উপভোগ করে—সেই আসল বিজয়ী। তাই আসুন, আমাদের সন্তানদের ওপর সফলতার কৃত্রিম চাপ না চাপিয়ে, তাদের একটি সুখী শৈশব ও কৈশোর উপহার দিই। কারণ দিনশেষে, একটি সুখী মনই পারে পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল সমীকরণগুলোর সহজ সমাধান খুঁজে বের করতে।
লেখক: ফরিদুল ইসলাম, চিন্তক, সমাজ ও মানবাধিকাকর্মী এবং গবেষক। 
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: শিক্ষার মানে আমরা পৃথিবীতে তলানীর কত নম্বরে আছি
বলতে পারবেন ?