নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

ত্রিকাল

৩০ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:২৮


একজন রমণী, কিংবা নারী- বিকেলের নরম রোদ পেছনে ফেলে শান্ত সৌম্য পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। একটা ছোট্ট ছেলে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। তার মা যখন হাঁটতো, ঠিক এমনি করেই হাঁটতো। রমণী হেঁটে যাচ্ছেন। তার শাড়ির আঁচল একপাশে ঝুলে পড়ে বাতাসে উড়ছে। শৈশবে মায়ের হাত ধরে গুঁটি গুঁটি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে আঁচলের ঝাঁপটায় তার মুখ ঢেকে যেত। দু’হাত পাখার মতো দু’দিকে ছড়িয়ে দিয়ে আঁচল ভেদ করে মুখের হাঁ আর নাক দিয়ে শুউশ্‌শ্‌ শব্দে সে বাতাস টানতো। তার খুব ভালো লাগতো। মা মারা গেছে সেই কবে; মায়ের ঘ্রাণও সে ভুলে গেছে। কখনো-বা হঠাৎ হঠাৎ কোথাও থেকে মায়ের একদঙ্গল ঘ্রাণ দমকা হাওয়ার মতো ভেসে এসে যখন ওর মুখ ভিজিয়ে দেয়- মা মা বলে সে করুণ আর্ত স্বরে গুমরে কেঁদে ওঠে; ওর বুক ফেটে যেতে চায়, আর মনে হয় পাঁজরগুলো যেন ভেঙে যাচ্ছে।


সে এক তরুণী। খোঁপায় গুঁজেছে ফুল। কী সুন্দর ঢঙে ছন্দের মতো চরণ ফেলে সে হেঁটে যাচ্ছে। বাতাসে মৌ মৌ করছে ফুলের ঘ্রাণ। বেলি ফুল। হাসনাহেনা। রজনিগন্ধা। আরো নাম জানা বা না-জানা হাজারো ফুলের ঘ্রাণে টগবগে ছেলেটা মাতাল হয়ে যাচ্ছে। বয়সটাই এমন। মেয়েদের খুব ভালো লাগে। খুব সহজেই মেয়েদের চোখে চোখ পড়ে যায়। প্রতিটা চোখেই কত শত কথা লুকানো। কত কথা যেন বলতে চায় চোখগুলো।

তরুণী হেঁটে যাচ্ছে। একটা লতানো কবিতার মতো সে দুলে দুলে হাঁটছে। ধীর লয়ে, ধীর পায়ে। সে ডানে তাকায়, বামে তাকায়। মাঝে মাঝে আকাশে তাকায়। আকাশে মেঘ নেই। কী দেখে সে আকাশে? হায়, একবার যদি পেছন ফিরে তাকাতো! খুব দেখতে ইচ্ছে করছে মেয়েটার মুখ। দেখতে ইচ্ছে করছে অনন্ত মাধুর্যে ভরা সেই মুখে একটুকরো হাসির বিভা। একটু দ্রুত হাঁটে ছেলেটা। আরেকটু পা বাড়ালেই বামে ঘাড় ঘুরিয়ে সে মেয়েটার মুখ দেখতে পাবে। একটা দুরন্ত তৃষ্ণা জেগে ওঠে মেয়েটার মুখ দেখার জন্য।

মেয়েটা হাঁটছে; হাঁটছে মেয়েটা। ধীর পায়ে হাঁটছে; হাঁটছে ধীর লয়ে। একটা স্নিগ্ধ কবিতার মতো গন্ধ ছড়িয়ে হাঁটছে। হাঁটার ঢঙটিতেই এক অপরূপ শিল্প ফুটে উঠছে। ছেলেটা জানে না, বুঝতে পারে না- মেয়েরা কীভাবে এত সুন্দর করে হাঁটে। একপলক মেয়েটার মুখ দেখার জন্য সে অস্থির হয়ে উঠলো।
কিন্তু হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে মেয়েটা হারিয়ে গেল। হায়, দেখা হলো না কবিতার মতো স্নিগ্ধ মুখখানি! আক্ষেপ আর বেদনায় তার মন ভরে উঠলো। যতদূর গেল, যতদিন গেল- অনেক অনেকদিন ধরে তার মনে জেগে থাকলো মধুর ছন্দে হেঁটে যাওয়া একটি অপরূপা কবিতার ছায়া, এবং তারপরও মেয়েটার হেঁটে-যাওয়া ছায়াটি তার মন থেকে কোনোদিন মুছে গেল না।


সন্ধ্যার কিছু আগে। একটা বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে সামনের রাস্তায় গভীর মগ্নভাবে তাকিয়ে আছেন তিনি। গোধূলির অপূর্ব সৌন্দর্যে তার মন আকুল হয়ে উঠছে। এ সময়ে ধীর পায়ে হালকা নীলরঙা শাড়ি পরে যে মেয়েটিকে হেঁটে যেতে দেখলেন, তার মনে হতে থাকলো- এটি কিছুদিন আগে অকালে মরে যাওয়া তার মেয়েটিই যেন।

২৬ মে ২০১৯

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: গল্পটি অসম্পূর্ন মনে হলো।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৪১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমি একটা সম্পূর্ণ গল্পই লিখেছি বটে, যদিও মাঝে মাঝে অসমাপ্ত গল্পও লিখে থাকি। এক অর্থে, সব গল্পই তো অসম্পূর্ণ। তবু গল্পটা পড়েছেন দেখে ভালো লাগছে। ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই।

২| ৩০ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:৫১

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: জীবন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম।

সুন্দর লেখায় ফুলের গন্ধময় ভালোলাগা .....

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৪৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী বয়সের সাথে সাথে বদলায়। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আর্কিওপটেরিক্স।

৩| ৩০ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:৫৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বেশ সুন্দর লিখেছেন বাল্য, যৌবন ও বার্ধক্যে তিনটি ভূমিকায় পুরুষের নারীকে না পাওয়ার আর্তি । অন্য মতে নারীর স্বরূপ বৈকি, ধরা দিলেও যায় না ধরা।

শুভেচ্ছা নিয়েন।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৪৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার কাছে মনে হয়, পুরুষরা বিভিন্ন সময়ে নারীকে বিভিন্ন রূপে দেখে থাকে। শৈশবে যে-কোনো নারীকে দেখেই আমি আমার মায়ের সাথে তুলনা করতাম। আমার মা মারা যাওয়ার পর, দূর থেকে কোনো নারীকে দেখে মনে হতো আমার মা বুঝি হেঁটে যাচ্ছে। তেমনি, তারুণ্যে নারীরা স্ত্রী বা প্রেমিকা রূপে দেখা দেয়। প্রৌঢ়ে পৌঁছুলে মেয়েরা কন্যা কিংবা ভাতিজি-ভাগিনি-পুত্রবধূদের স্থান দখল করে নেয়। আমার এই ভাবনাটিকেই গল্পে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।

সুন্দর বলেছেন প্রিয় পদাতিক ভাই। অনেক ধন্যবাদ হৃদয়গ্রাহী মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

৪| ৩০ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:৫৮

ডার্ক ম্যান বলেছেন: মাথায় কিছু ঢুকল না

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৪৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মাথায় না ঢুকলে কষ্ট করে কিছু ঢোকানোর দরকার নাই। পড়েছেন, তাতেই আমি খুশি। ধন্যবাদ ডার্ক ম্যান।

৫| ৩০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:০২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আমার কাছে খারাপ লাগেনি। শুভকামনা।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৫০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার কাছে খারাপ লাগে নি জেনে আমার ভালো লাগলো সাজ্জাদ ভাই। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৬| ৩১ শে মে, ২০১৯ রাত ১২:১২

বলেছেন: জীবনের বাঁকে বাঁকে

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৫১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: জি, জীবনের বাঁকে বাঁকেই তো। পড়ার জন্য ধন্যবাদ মিস্টার ল।

৭| ৩১ শে মে, ২০১৯ সকাল ১১:৪৯

নীলপরি বলেছেন: ভালো লাগলো ।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৫১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ নীলপরি। শুভেচ্ছা।

৮| ৩১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১২:২৩

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
পড়লাম ... কিন্তু জমলো না।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৫৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। চেষ্টা করবো যাতে পরের গল্পটা জমে :)

৯| ৩১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:২১

মুক্তা নীল বলেছেন:
কোন পুরুষের জীবনের ত্রিকাল কি ? মা , প্রিয়তমা স্ত্রী বা কেউ এবং নিজের মেয়ে। একজন নারী বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ধাপে ও কালে একজন পুরুষের জীবনে আসে। একেকজনের অবদান একেক রকম হয়। ভালো লাগলো আপনার কথাগুলো।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১০:৫৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার মন্তব্যে আমি অভিভূত। হ্যাটস অফ।

১০| ০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১২:০৭

নাসির ইয়ামান বলেছেন: গল্পে ছন্দের দোলা আছে!

"রমণী"ও "কামিনী" বাংলাভাষায় বিদ্ঘুটে দু'টো শব্দ,অন্যদিন তা নিয়ে বলবো।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১১:০৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: রমণী শব্দটার আরেকটা সমার্থক শব্দ হবে আজকের যুগে- রমণ্য - যা রমণযোগ্য, বা যা রমণ করা হয়, নট নেসেসারিলি তা স্ত্রীলিঙ্গ হবে।

যাই হোক, বিদ্‌ঘুটে অর্থ খুঁজলে হয় এটা বিদ্‌ঘুটেই হবে; তবে কামিনী ও রমণী- শ্রুতিমধুর শব্দ।

ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

১১| ০১ লা জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:১১

জাহিদ অনিক বলেছেন:
তিনটি টাইম ডাইমেনশন, তিনটি সময়ে একই ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন মাইন্ড রিফলেকশন; অর্থাৎ ত্রিকাল।
সুন্দর।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১১:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: চমৎকার। আপনিও আমার মনোভাবটা সঠিকভাবেই ধরে ফেলেছেন।

তবে, লেখক যা ভেবে লেখেন, নানা পাঠক তার নানা অর্থ বের করবেন, এটাও মেনে নিতে হবে।

ধন্যবাদ জাহিদ অনিক।

১২| ০১ লা জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: সময়র চিত্র
ভালো লাগা লেখায়।

০১ লা জুন, ২০১৯ রাত ১১:১২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হ্যাঁ আপু, তিনটি ভিন্ন সময়ের চিত্র। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা রইল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.