নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাবুই পাখি

Footprint of a village boy!

ফারজুল আরেফিন

আমার ভার্চুয়াল ঘর, যেমন ইচ্ছে তেমন সাঁজাই। অতিথিকে স্বাগতম।

ফারজুল আরেফিন › বিস্তারিত পোস্টঃ

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমি

০১ লা জুন, ২০১২ বিকাল ৫:০০





স্বাধীনতার ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার হবার একটু আগে ২৫শে মার্চ রাত ১২টার পর (অর্থাৎ, ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। ঘোষণাটি চট্টগ্রামে অবস্থিত তত্কালীন ই.পি.আর এর ট্রান্সমিটারে করে প্রচার করার জন্য পাঠানো হয়। ঘোষণাটি নিম্নরুপ:



অনুবাদ: এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।



২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কয়েক'জন কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ.হান্নান প্রথম শেখ মুজিব এর স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটি মাইকিং করে প্রচার করেন। পরে ২৭শে মার্চ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাটি শেখ মুজিবর রহমানে পক্ষে পুণরায় পাঠ করেন। ঘোষণাটি নিম্নরুপ:



অনুবাদ: আমি, মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ মুজিবর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার।



২৬শে মার্চ এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়। আর ১৯৭১ সালে এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নয় মাস ব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটে।







অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠন: ১৯৭১ সালের অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয় ১০ এপ্রিল ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে। ১৭ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার -এর আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয় কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমা (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলার অন্তর্গত ভবেরপাড়া (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামে। শেখ মুজিবুর রহমান এর অনুপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রপতি করে সরকার গঠন করা হয়। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পিত হয় তাজউদ্দীন আহমদ এর উপর। বাংলাদেশের প্রথম সরকার দেশী-বিদেশী সাংবাদিকের সামনে শপথ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করে। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে ২৬ মার্চ হতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়।







১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ ও সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধাঞ্চল ও যুদ্ধকৌশল সম্মন্ধে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেখানে কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিয়োগ করা হয়। লেঃ কর্নেল আবদুর রব সেনা প্রধান ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার উপ প্রধান নিযুক্ত হন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের সমস্ত যুদ্ধাঞ্চলকে ১১টি যুদ্ধক্ষেত্র বা সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন একজন সেক্টর কমান্ডার। ১০ম সেক্টরটি সর্বাধিনায়কের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এই সেক্টরের অধীনে ছিলো নৌ কমান্ডো বাহিনী এবং সর্বাধিনায়কের বিশেষ বাহিনী।







সেক্টরসমূহের তালিকা: সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি করে উপ-সেক্টরে ভাগ করা হয়।







সেক্টর - ১

বিস্তৃতি: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত

কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল - জুন), মেজর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (জুন-ডিসেম্বর)



সেক্টর - ২

বিস্তৃতি: নোয়াখালী জেলা, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ

কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর), মেজর এ.টি.এম. হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)



সেক্টর - ৩

বিস্তৃতি: সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ

কমান্ডার: মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর), মেজর এ.এন.এম. নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)



সেক্টর - ৪

বিস্তৃতি: সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত

কমান্ডার: মেজর সি.আর. দত্ত



সেক্টর - ৫

বিস্তৃতি: সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল

কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী



সেক্টর - ৬

বিস্তৃতি: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা

কমান্ডার: মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার



সেক্টর - ৭

বিস্তৃতি: দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা

কমান্ডার: মেজর নাজমুল হক (এপ্রিল-আগস্ট, দুর্ঘটনায় নিহত), মেজর কাজী নূরুজ্জামান (আগস্ট-ডিসেম্বর)



সেক্টর - ৮

বিস্তৃতি: সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ

কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল- আগস্ট), মেজর এম.এ. মনজুর (আগস্ট-ডিসেম্বর)



সেক্টর - ৯

বিস্তৃতি: দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিণাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা

কমান্ডার: মেজর এম.এ. জলিল (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ), মেজর জয়নুল আবেদীন (ডিসেম্বর এর অবশিষ্ট দিন)



সেক্টর - ১০

বিস্তৃতি: কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত

কমান্ডার:



সেক্টর - ১১

বিস্তৃতি: কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল

কমান্ডার: মেজর আবু তাহের (আগস্ট-নভেম্বর), ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম. হামিদুল্লাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)



এই ১১টি সেক্টর ছাড়া আরো দুইটি বিশেষ সেক্টর হিসেবে গণ্য করা হয় - টাংগাইল ও আকাশপথ।



সেক্টর - টাংগাইল

বিস্তৃতি: সমগ্র টাংগাইল জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার অংশ

কমান্ডার: কাদের সিদ্দিকী



সেক্টর - আকাশপথ

বিস্তৃতি: বাংলাদেশের সমগ্র আকাশসীমা

কমান্ডার: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার





গেরিলা সংগঠনসমূহের তালিকা: কর্নেল ওসমানী তিনটি ব্রিগেড আকারের ফোর্স গঠন করেছিলেন যেগুলোর নামকরণ করা হয় তাদের অধিনায়কদের নামের অদ্যাংশ দিয়ে (এস ফোর্স, কে ফোর্স, জেড ফোর্স)।



'কে' ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ। এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১ ফিল্ড ব্যাটারি (মুজিব ব্যাটারী) আর্টিলারি ও একটি সিগন্যাল কোম্পানী। কে ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল দেউশ মন্দভাগ অভিযান, শালদা নদী অভিযান, পরশুরাম, চিতলিয়া, ফুলগাজী, নিলক্ষ্মীর যুদ্ধ, বিলোনিয়ার যুদ্ধ, চাপিলতার যুদ্ধ, কুমিল্লা শহরের যুদ্ধ, নোয়াখালীর যুদ্ধ, কশবার যুদ্ধ, বারচরগ্রাম যুদ্ধ, মিয়াবাজার যুদ্ধ, গাজীপুর যুদ্ধ, সলিয়াদীঘি যুদ্ধ, ফেনী যুদ্ধ, চট্টগ্রাম বিজয় ও ময়নামতি বিজয়।



'এস' ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ। এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, এস ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল ধর্মগড় আক্রমন, মনোহরদী অবরোধ, কলাছড়া অপারেশন, বামুটিয়া অপারেশন, আশুগঞ্জ অপারেশন, মুকুন্দপুর যুদ্ধ, আখাউড়া যুদ্ধ, ব্রাহ্মণবাড়ীয় যুদ্ধ, ভৈরব ও আশুগঞ্জ যু্দ্ধ, কিশোরগঞ্জ যুদ্ধ, হরশপুর যু্দ্ধ, নরসিংদী যুদ্ধ ও বিলোনিয়ার যুদ্ধ।



'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ২ ফিল্ড ব্যাটারি আর্টিলারি ও একটি সিগন্যাল কোম্পানী। জুলাই ৭১ থেকে সেপ্টেম্বর ৭১ পর্যন্ত জেড ফোর্স ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও রৌমারী এলাকায় যুদ্ধরত থাকে। অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত তারা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এলাকায় যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। জেড ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল কামালপুর যুদ্ধ, বাহাদুরাবাদ ঘাট অপারেশন, দেওয়ানগঞ্জ থানা আক্রমণ, নকসী বিওপি আক্রমন, চিলমারীর যুদ্ধ, হাজীপাড়ার যুদ্ধ, ছোটখাল, গোয়াইনঘাট, টেংরাটিলা, গোবিন্দগঞ্জ, লামাকাজি, সালুটিকর বিমানবন্দর, ধলই, ধামাই চা বাগান, জকিগঞ্জ, আলি ময়দান, সিলেট এমসি কলেজ, ভানুগাছা, কানাইঘাট, ফুলতলা চা বাগান, বড়লেখা, লাতু, সাগরনাল চা বাগান, ছাতক ও রাধানগর।



বি এল এফ (মুজিব বাহিনী): বিশাল এই জনযুদ্ধে ছাত্র ও যুবক শ্রেণী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভুমিতে ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। ৬০ দশকের মাঝামাঝি এই ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পরিকল্পনায় সংগঠিত হয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্রদের সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্ত্ততি সমন্বিত করে। নেতৃস্থানীয় প্রায় ১০,০০০ (দশ হাজার) ছাত্রকে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি রাজনৈতিক যুদ্ধ অঞ্চলে বিভক্ত করে এই সমস্ত ছাত্রদেরকে নিজ নিজ এলাকার ভিত্তিতে অবস্থান নেয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়।



এই ৪টি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকারী নেতৃবৃন্দ ছিলঃ

ক) পূর্ব অঞ্চল: জনাব শেখ ফজলুল হক মনি ও জনাব আ স ম আবদুর রব

খ) উত্তর অঞ্চল: জনাব সিরাজুল আলম খান ও জনাব মনিরুল ইসলাম

গ) পশ্চিম অঞ্চল: জনাব আবদুর রাজ্জাক ও জনাব সৈয়দ আহমদ

ঘ) দক্ষিণ অঞ্চল: জনাব তোফায়েল আহমদ ও জনাব কাজী আরেফ আহমেদ



প্রশিক্ষণ শিবিরে কর্মরত ছিলেনঃ জনাব নূরে আলম জিকু, হাসানুল হক ইনু, শরীফ নূরুল আম্বিয়া, আফম মাহবুবুল হক ও মাসুদ আহমেদ রুমীসহ অনেকে। বাংলাদেশ কমুনিষ্ট পার্টির তত্ত্বাবধানে ছাত্র সংগঠন সংগঠিত হয়। এই সশস্ত্র যুব শ্রেণীকে নেতৃত্ব দেন জনাব হারুনুর রশীদ, নূরুল ইসলাম নাহিদ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ অনেকে।





বীরশ্রেষ্ঠদের তালিকা:







ক্রম - নাম – সেক্টর - পদবী

০১। মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর - বাংলাদেশ সেনা বাহিনী - ক্যাপ্টেন

০২। হামিদুর রহমান - বাংলাদেশ সেনা বাহিনী - সিপাহী

০৩। মোস্তফা কামাল - বাংলাদেশ সেনা বাহিনী - সিপাহী

০৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন - বাংলাদেশ নৌ বাহিনী - ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার

০৫। মতিউর রহমান - বাংলাদেশ বিমান বাহিনী - ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট

০৬। মুন্সি আব্দুর রউফ - বাংলাদেশ রাইফেলস - ল্যান্স নায়েক

০৭। নূর মোহাম্মদ শেখ - বাংলাদেশ রাইফেলস - ল্যান্স নায়েক





শেখ মুজিবুর রহমান:







শেখ মুজিবুর রহমান (মার্চ ১৭, ১৯২০ - আগস্ট ১৫, ১৯৭৫) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা, পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পুরোধা এবং বাংলাদেশের জাতির জনক হিসেবে বিবেচিত। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।







১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যূষে একদল তরুণ সেনা কর্মকর্তা ট্যাঙ্ক দিয়ে রাষ্ট্রপতির ধানমণ্ডিস্থ বাসভবন ঘিরে ফেলে এবং শেখ মুজিব, তাঁর পরিবার এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মচারীদের হত্যা করে। কেবল তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে বেঁচে যান। তাদের বাংলাদেশে ফিরে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মুজিবের মৃত্যু বাংলাদেশকে বহু বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে টেনে নেয়। সেনাঅভ্যুত্থানের নেতারা অল্পদিনের মধ্যেই উচ্ছেদ হয়ে যান এবং অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান আর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে দেশ অচল হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর আরেকটি সেনা অভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা আসীন হওয়ার পর শৃঙ্খলা অনেকাংশে ফিরে আসে। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করার পাশাপাশি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে মুজিবের হত্যার সাথে জড়িতদের বিচার বন্ধ করার নির্দেশ দেন। সেনাঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমানসহ ১৪ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন।











১৫ আগস্ট সেই বিভীষিকাময় রাতে শাহাদাৎকারী বাঁ দিক থেকে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল, সুলতানা কামাল, শেখ রাসেল, শেখ নাসের, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, পারভীন জামাল রোজী, কর্ণেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, শেখ মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, বেগম আরজু মণি, আরিফ সেরনিয়াবাত, সুকান্ত আব্দুল্লাহ, আব্দুল নঈম খান রিন্টু।





জাতীয় চার নেতা - তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মোঃ মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান:







তাজউদ্দীন আহমদ: তাজউদ্দীন আহমদ (জুলাই ২৩, ১৯২৫ - নভেম্বর ৩, ১৯৭৫ ) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসাবে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর হত্যাকারীদের নির্দেশে তাজউদ্দীন আহমদকে গৃহবন্দী করা হয়। ২৩ আগস্ট সামরিক আইনের অধীনে তাজউদ্দীন আহমদ সহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ৩রা নভেম্বরে কারাগারের ভিতরে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মোঃ মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে জেলহত্যা নামে কুখ্যাত হয়ে আছে।



সৈয়দ নজরুল ইসলাম: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (১৯২৫- নভেম্বর ৩, ১৯৭৫) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ - ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ময়মনসিংহ-২৮ আসন থেকে। নির্বাচনের পর পরবর্তী মন্ত্রীসভায় ও তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। জাতীয় সংসদে তিনি উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁকে প্রথমে গৃহবন্দী এবং ২৩শে আগস্ট, ১৯৭৫ তাঁকে গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী করা হয় ৷ কারাগারে বন্দী থাকা অবস্হায় ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় সৈয়দ নজরুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।



মোঃ মনসুর আলী: মোঃ মনসুর আলী (জানুয়ারি ১৬, ১৯১৯ - নভেম্বর ৩, ১৯৭৫) বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গঠিত বাংলাদেশ সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২-এর জানুয়ারি মাসে শেখ মুজিব পাকিস্তানি কারাগার থেকে দেশে ফিরে মন্ত্রী পরিষদ পুনর্গঠন করেন। এবার মনসুর আলী দায়িত্ব নেন প্রথমে যোগাযোগ ও পরে স্বরাষ্ট্র এবং যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ মেরামতে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের নির্বাচনে মনসুর আলী পুনরায় পাবনা-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ বছর তিনি আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি দলের সদস্য নির্বাচিত হন। শেখ মুজিবুর রহমান সকল দলকে একত্রিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি চালু করেন। এ সময় ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর আলী বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার প্রধান মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক গঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) সাধারণ সম্পাদক হন তিনি ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলহত্যার ফলে নিহত চার জাতীয় নেতার মধ্যে তিনিও একজন।



এ এইচ এম কামরুজ্জামান: আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (২৬ জুন, ১৯২৬ - নভেম্বর ৩, ১৯৭৫) বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত অস্থায়ী সরকারের স্বরাষ্ট্র,কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। শেখ মুজিব ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ফিরে এলে সরকার পুনর্গঠিত হয়। সেই পুনর্গঠিত সরকারে তিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কামরুজ্জামান। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি রাজশাহীর দু'টি সদর গোদাগাড়ি ও তানর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ (বাকশাল) গঠন করলে তিনি বাকশালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ভোর সাড়ে চারটায় কারাগারের অভ্যন্তরে তাকে সহ আরো তিন নেতাকে কিছু সেনা সদস্য নির্মমভাবে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। তার মৃতদেহের পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম পাওয়া যায় এবং বিশেষ করে ডান দিকের পাঁজরে এবং ডান হাতের কনুইতে বড় রকমের ক্ষত চিহ্ন পাওয়া যায়।





ক্ষমতা দখলের ঘৃণ্য লড়াই:







খন্দকার মোশতাক আহমেদ:







খন্দকার মোশতাক আহমেদ (১৯১৮ - মার্চ ৫, ১৯৯৬) কিছু সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হবার পর মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। এই পদে তিনি মাত্র ৮৩ দিন ছিলেন। রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব নেবার পর তিনি ইনডেমিনিটি বিল পাশ করেন। তিনি "জয় বাংলা" স্লোগান পরিবর্তন করে এর স্থলে "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" স্লোগান চালু করেন। এই সময় তিনি "বাংলাদেশ বেতার" এই নাম পরিবর্তন করে "রেডিও বাংলাদেশ" করেন। তার শাসনামলে চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মোঃ মনসুর আলী ও আ. এইচ. এম. কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (৩ নভেম্বর) হত্যা করা হয়। মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর সেনাবিদ্রোহের দ্বারা অপসারিত হন। ১৯৭৬ সালে মোশতাক আহমেদ ডেমোক্র্যাটিক লীগ নামক এক নতুন দল প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর সামরিক শাসককে অপসারণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ২ টি দুর্নিতির অভিযোগ আনা হয় এবং আদালত তাকে ৫ বছরের শাস্তি প্রদান করে। জেল থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ৫ মার্চ ১৯৯৬ সালে এই নেতা মৃত্যু বরণ করেন।



খালেদ মোশাররফ:







খালেদ মোশাররফ (১৯৩৮-১৯৭৫) একজন বাঙালি মুক্তিযোদ্ধা ও সামরিক বাহিনীর অফিসার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে খালেদ ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং 'কে-ফোর্স'-এর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বীরত্বের জন্য তাঁকে বীর উত্তম পদক দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর ৩ তারিখে তিনি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। এর মাত্র ৩ দিন পরে ৭ নভেম্বর তারিখে তিনি এক পাল্টা অভ্যুত্থানে নিহত হন।



মোহাম্মদ সায়েম:







আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (১৯১৬ - জুলাই ৮, ১৯৯৭) বাংলাদেশের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি। তিনি ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিচাপতি সায়েমকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ তে দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ও ৬ নভেম্বর এর সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিচাপতি সায়েমকে দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি জিয়াউর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ১৯৭৭ এর ২১ এপ্রিল তিনি দূর্বল স্বাস্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ছেড়ে দেন। বিচারপতি সায়েম ৮ জুলাই ১৯৯৭ মৃত্যু বরণ করেন।



জিয়াউর রহমান: লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি, ১৯৩৬ - ৩০ মে, ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি, একজন সেনাপ্রধান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।







১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের হত্যা হওয়ার পর, খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপরে ঐ বছরের ২৫শে আগষ্ট জিয়াউর রহমান চীফ অফ আর্মী স্টাফ নিযুক্ত হন। ঐ বছরের ৩রা নভেম্বর বীর বিক্রম শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বাধীন ঢাকা ব্রিগেডের সহায়তায় বীর উত্তম মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ এক ব্যার্থ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান। এর ফলে ৬ই নভেম্বর খন্দকার মোশতাক আহমেদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং আবু সাদাত সায়েম বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হন। এর পর জিয়াউর রহমানকে চীফ-অফ-আর্মি স্টাফ হিসেবে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং গৃহবন্দি করে রাখা হয়। বীর উত্তম কর্নেল (অবঃ) আবু তাহের সে সময় চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন। কর্নেল তাহের ছিলেন জিয়াউর রহমানের একজন বিশেষ শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। সৈনিক-অফিসার বৈষম্য তার পছন্দ ছিল না। তার এই নীতির জন্য তাহের সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের মাঝেও দারুন জনপ্রিয় ছিলেন। কর্নেল তাহের বিশ্বাস করতেন জিয়াও তারই আদর্শের লোক। ৩রা নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর তাহের জানতে পারেন জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়েছে। তিনি ঢাকাতে তার অনুগত ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহীদের পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার নির্দেশ দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রওনা হন, এ সময় তার সফর সঙ্গী ছিল শত শত জাসদ কর্মী। কর্নেল তাহেরের এই পাল্টা অভ্যুত্থান সফল হয় ৭ই নভেম্বর। কর্নেল তাহের, জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। ঐ দিনই পাল্টা অভ্যুত্থানে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা জেনারেল খালেদ মোশাররফকে হত্যা করে। এরপর জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় উঠে আসেন। তিনি রহস্যজনক কারণে কর্নেল (অবঃ) আবু তাহেরের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার অভিযোগ আনেন। এতে ১৯৭৬ সালের ২১শে জুলাই কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়। ধারণা করা হয়, ৭ই নভেম্বর কর্নেল তাহেরের জনপ্রিয়তা দেখে জিয়াউর রহমান শঙ্কিত ছিলেন। তাই ক্ষমতা নিষ্কণ্টক রাখার জন্যই তাহেরের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার অভিযোগ আনেন।

১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া এই দলের চেয়ারপারসন। জিয়া তার দলের স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ঘঠিত কলহ থামানোর জন্য ১৯৮১ সালের ২৯শে মে চট্টগ্রামে আসেন এবং সেখানে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে থাকেন। তারপর ৩০শে মে গভীর রাতে সার্কিট হাউসে বীর উত্তম মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের নেতৃত্বে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়া নিহত হন। জিয়াউর রহমানকে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে দাফন করা হয়।



আব্দুস সাত্তার:







আব্দুস সাত্তার (জন্মঃ অক্টোবর ৫, ১৯০৬ - মৃত্যুঃ ১৯৮৫) বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি ছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এসময়ে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। পরে তিনি ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬৬% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার শাসনকালে সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ১৯৮২ সালে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তার জায়গায় সামরিক আইন জারীর মাধ্যমে প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাতে চলে যায়।



হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ:







লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ (ফেব্রুয়ারি ১, ১৯৩০) বাংলাদেশের সাবেক সেনা প্রধান ও রাষ্ট্রপতি, এবং জাতীয় পার্টি নামক রাজনতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বর্তমানে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) উপদলের নেতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় এরশাদ ছুটিতে রংপুর ছিলেন। কিন্তু, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে তিনি পাকিস্তান চলে যান। পাকিস্তান থেকে আটকে পড়া বাঙালিরা যখন ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে আসে তখন তিনিও প্রত্যাবর্তন করেন। ৩০ মে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর, এরশাদের রাজনৈতিক অভিলাষ প্রকাশ হয়ে পড়ে। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সাল নাগাদ তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। ঐ দিন তিনি দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ.এফ.এম আহসানুদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে নিজের অধিকারে নেন। এরশাদ দেশে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই নির্বাচন বয়কট করে। সাধারণ নির্বাচনে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে এই সংসদ বাতিল করেন। ১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচন সকল দল বয়কট করে। এরশাদের স্বৈরাচারের বিরূদ্ধে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সকল বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। ক্ষমতা হারানোর পর এরশাদ গ্রেফতার হন এবং ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না-আসা পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি জেল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন হতে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। মূল দল জাতীয় পার্টি বিভক্ত হয়ে এই দলে পরিণত হয়। এর মূল নেতা এবং প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। বর্তমানে এর মূল দল জাতীয় পার্টি ৩-টি অংশে বিভক্ত। মূল দলের নেতা এরশাদ, তবে অন্য দুইটি অংশের নেতা যথাক্রমে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও নাজিউর রহমান মঞ্জু।





ধর্ম ব্যবসা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যার পূর্বনাম ছিলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি কুখ্যাত রাজনৈতিক দল যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার অভিযোগ আছে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এটি ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮ টি আসন লাভ করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত চার দলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম শরিক হিসেবে সরকার গঠনে ভূমিকা পালন করে। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এটি ৩০০ আসনের মধ্যে ২ টি আসন লাভ করে। এই দলটির ছাত্র শাখার নাম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। দলটির বর্তমান প্রধান কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী। ২০১০ সালের ২৯শে জুন তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। বাংলাদেশ বিরোধী জামায়াতিরাই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী সেটা নানা প্রমাণের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই। তাই জামায়াত আর রাজাকার সমার্থক শব্দ।







শীর্ষ ৫০ যুদ্ধাপরাধীদের প্রাথমিক তালিকাতে ৩য় অবস্থানে আছেন মতিউর রহমান নিজামী যা ২০০৮ সালে প্রকাশ করেছে সেক্টর কমান্ডার ফোরাম।





গণতন্ত্রের নবযাত্রা:



খালেদা জিয়া: বেগম খালেদা জিয়া (জন্ম আগস্ট ১৫, ১৯৪৫) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রধান। তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ সালএবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী।







১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মিদের আহ্ববানে তিনি ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলতঃ বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ৩০ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্য ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জেনারেল জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গনতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি অনেক বার ভাঙ্গনের সমুক্ষিণ হয়। এর প্রতিষ্ঠাদের মধ্যে কয়েকজন জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দল ছেড়ে দেন। এর মধ্যে মওদুদ আহমেদ অন্যতম। ২০০১ সালে নির্বাচনের পর বিএনপি মনোনয়নে দলের প্রথম মহাসচিব অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দেশের রাষ্ট্রপতি হন। কিন্তু কিছু কারনে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে বিএনপি দুরত্ব সৃষ্টি হয়। ফলে প্রায় ছয় মাস রাষ্ট্রপতি থাকার পর বি. চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তিনি বিএনপির একটি অংশ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল বিকল্প ধারা গঠন করেন। ২০০৬ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হবার ঠিক আগের দিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাদের একজন কর্ণেল (অব: ) ড: অলি আহমেদ বীর বিক্রম বিএনপি সরকারের কতিপয় নেতা কর্মী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিএনপি ত্যাগ করেন এবং অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সাথে একীভূত হয়ে নতুন রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সংক্ষেপে এল.ডি.পি. গঠন করেন।





শেখ হাসিনা:







শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (জন্মঃ ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭) বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের ৯ম জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ও তাঁর বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়। বোনদ্বয় সেইসময় পড়াশোনার জন্য পশ্চিম জার্মানীতে অবস্থান করছিলেন। আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতায় আরোহনকে অবৈধ ঘোষণা করলেও তার দল ১৯৮৬ সালে এই সামরিক শাসকের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীকালে তিনি এবং তার দল এরশাদ বিরোধী দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন ও ১৯৯০ সালে অভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। ১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধীদল হিসেবে প্রকাশ পায়। ১৯৯৬ সালে তার দল জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বড় ব্যবধানে হেরে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন কিছু নতুন সমস্যা নিয়ে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করে। বিজয়ী দলের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি জানুয়ারি ৬, ২০০৯-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে ২৬০টি আসন লাভ করে। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি পায় মাত্র ৩২টি আসন।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বিশ্বে পরিচিত।





কাদের সিদ্দিকী:









বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমরনায়ক যিনি সম্পূর্ণ অসামরিক ব্যক্তি হয়েও সাফল্যের সঙ্গে পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনীর বিরূদ্ধে লড়াই করেছেন এবং ভারতীয় বহিনীর সাহায্য ব্যতিরেকেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে ঢাকা আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। তাঁর পূর্ণ নাম আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। অসম সাহসিকতার জন্য তাকে বঙ্গবীর উপাধি দেয়া হয়েছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁকে 'বাঘা কাদের' নামে অভিহিত করা হতো। তাঁর নেতৃদ্বে কাদেরিয়া বাহিনী গঠিত ও পরিচারিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাকেঁ বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৫ সালে যখন তাঁর বয়স মাত্র ২৮, তাঁকে টাঙ্গাইলের জেলা গর্ভণর নিয়োগ করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হলে এর প্রতিবাদে কাদের সিদ্দিকী ভারত গমন করেন এবং সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন। ১৯৯০ সালে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন এবং কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ নামক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তিনি এই দলের সভাপতি।





এ.কে. খন্দকার:







এ.কে. খন্দকার (জন্ম: জানুয়ারি ১, ১৯৩০) বাংলাদেশের একজন সেনাকর্মকর্তা যিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তাঁর পুরো নাম আব্দুল করিম খন্দকার। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন। অবসরগ্রহণকালে তাঁর পদবী ছিল এয়ার ভাইস মার্শাল। তাঁকে সচরাচর এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) এ.কে. খন্দকার হিসাবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৮৬ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তিনি এরশাদের সরকারের সাথে কাজ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে। এর আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জনসচেতনতা ছড়ানো উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে ২ বছর তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ৬ই জানুয়ারী ২০০৯ সালে তিনি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান ও তিনি একজন সংসদ সদস্য। নিজ এলাকার জনগণের কাছে অঙ্গীকার করেছেন যে, নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে তাদের রক্ষা করতে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন ও উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।





বাংলাদেশের বিশেষ মানুষ:



এম. এ. জি. ওসমানী:







মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, যিনি জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী নামে অধিক পরিচিত (সেপ্টেম্বর ১, ১৯১৮ - ফেব্রুয়ারি ১৬, ১৯৮৪), বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৬শে ডিসেম্বর তাঁকে বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সের জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৭২ সালে দায়িত্ব থেকে অবসর নেন, মন্ত্রীসভায় যোগ দেন অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। ১৯৭৩ সালের মার্চে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ ঐ নির্বাচনে ওসমানী তাঁর নিজের এলাকা থেকে অংশ নেন এবং নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেন৷ ১৯৭৩ এর নির্বাচনে ওসমানী ৯৪ শতাংশ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন৷ ডাক, তার, টেলিযোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। ১৯৭৪ সালের মে মাসে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে তিনি সংসদ সদস্যপদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। সেবছর ২৯শে আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পান, তবে ৩রা নভেম্বর জেলহত্যার ঘটনার পর পদত্যাগ করেন। ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওসমানী 'জাতীয় জনতা পার্টি' নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৭৮ ও ১৯৮১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালের ৩রা জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান জয়লাভ করেন। ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালীন ১৯৮৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি এম. এ. জি. ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত করা হয়।







তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে





আগের পোস্ট: বাঙলার স্বাধীনতা আনলো যারা

মন্তব্য ৮২ টি রেটিং +২৭/-০

মন্তব্য (৮২) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা জুন, ২০১২ বিকাল ৫:৫০

অসহায় নাগরিক বলেছেন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সুন্দর ভাবে উপস্থাপনের প্রয়াসের জন্য অনেক ধন্যবাদ!

খুব ভালো লাগলো। +++

০১ লা জুন, ২০১২ বিকাল ৫:৫৯

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। :)

২| ০১ লা জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৯

স্বাধীকার বলেছেন:
ফারজুল ভাই,
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কিংবা একটি জাতির ইতিহাস নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা সত্যিই কঠিন। আপনার দ্বারাও এটি কঠিন হয়ে গেলো কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা এবং কারো প্রতি বিদ্বেষ থাকার কারণে। বহু বিষয়কে আপনি আপনার দলীয় আদর্শদ্বারাই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন, যেমন করতে চেয়েছিলো বটতলার উকিল।
অবশ্য আপনাদের ইতিহাস মানে হতে পারে দলীয় বিচারক দিয়ে নিয়ে নেওয়া রায় অনুযায়ী। কিংবা সাহিত্যও আজ-কাল রচিত হতে হবে আদালত দ্বারা নির্ধারিত-এটা আম্লীগের ইতিহাস রচনার ইতিহাস। সাহিত্যিকের ব্যাখ্যা বা দৃষ্টিভঙ্গিকে ৩য়শ্রেণী পাওয়া বিচারক বিবেচনা করবেন যখন-তখন এমনিতেই জাতির কাছে হাস্যকর হয়ে যায় আদালতের উকিলের যুক্তিতর্ক । পৃথিবীর কোনো আদালত কোনো সাহিত্যিকের সাহিত্যকে আদালতের রায় দিয়ে নির্ধারণ করে দেওয়ার মুর্খতা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব এবং তা কেবল আম্লীগের দ্বারাই সম্ভব। কিন্তু একজন ব্লগার তার দৃষ্টিভঙ্গিকেও আদালতের রায়ের তলে চাপা দিবেন-এটা যেমন অনাকাঙ্খিত, তেমন অস্বস্তিকর।

তবুও ধন্যবাদ দলীয় ইতিহাস হলেও ইতিহাস তো!!

০১ লা জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৫

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: চলুন ইউকিপিডিয়া সংশোধন করি। তথ্য সবকিছুই ইউকি থেকে নেয়া। সঠিক ইতিহাস আপনি এখানেও বলতে পারেন। আমরা জানতে চাই।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৩| ০১ লা জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০০

স্বাধীকার বলেছেন:
ফারজুল ভাই,
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কিংবা একটি জাতির ইতিহাস নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা সত্যিই কঠিন। আপনার দ্বারাও এটি কঠিন হয়ে গেলো কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা এবং কারো প্রতি বিদ্বেষ থাকার কারণে। বহু বিষয়কে আপনি আপনার দলীয় আদর্শদ্বারাই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন, যেমন করতে চেয়েছিলো বটতলার উকিল।
অবশ্য আপনাদের ইতিহাস মানে হতে পারে দলীয় বিচারক দিয়ে নিয়ে নেওয়া রায় অনুযায়ী। কিংবা সাহিত্যও আজ-কাল রচিত হতে হবে আদালত দ্বারা নির্ধারিত-এটা আম্লীগের ইতিহাস রচনার ইতিহাস। সাহিত্যিকের ব্যাখ্যা বা দৃষ্টিভঙ্গিকে ৩য়শ্রেণী পাওয়া বিচারক বিবেচনা করবেন যখন-তখন এমনিতেই জাতির কাছে হাস্যকর হয়ে যায় আদালতের উকিলের যুক্তিতর্ক । পৃথিবীর কোনো আদালত কোনো সাহিত্যিকের সাহিত্যকে আদালতের রায় দিয়ে নির্ধারণ করে দেওয়ার মুর্খতা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব এবং তা কেবল আম্লীগের দ্বারাই সম্ভব। কিন্তু একজন ব্লগার তার দৃষ্টিভঙ্গিকেও আদালতের রায়ের তলে চাপা দিবেন-এটা যেমন অনাকাঙ্খিত, তেমন অস্বস্তিকর।

তবুও ধন্যবাদ দলীয় ইতিহাস হলেও ইতিহাস তো!!

০১ লা জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৭

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: একজন উপন্যাসিক কেন এবং কি কারণে ভুল ইতিহাস লিখেন তা আমার বোধগম্য নয়।

ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে ভাল হতো।

আবারও ধন্যবাদ ভাই।

৪| ০১ লা জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০৪

জলঝিরি বলেছেন: +++++
ইশ ! যদি সবকিছু বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের মত এখনও সুন্দর থাকত , তবে এত দিনে আমরা হয়ত আর তৃতীয় বিশ্বের হয়ে থাকতাম না ।

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ৮:০০

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ক্ষমতা দখলের ইতিহাস বড়ই নিষ্ঠুর। বেঁচে থাকলে অনেকেরই ফাঁসি হতো।

ইনশাআল্লাহ অতি দ্রুত আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবো।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৫| ০১ লা জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৭

বেঈমান আমি বলেছেন: দ্যাটস ইট +++

স্বাধীকার @ভাইজান এখানে কোন ভুল তথ্য থাকলে আপনি বলতে পারেন।আমরা শুনতে চাই

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ৮:০৩

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ধন্যবাদ ব্রো :) ;)

আমিও কোনগুলো ভুল তথ্য তা জানতে চাই। কসম উইকির, ভুল বাইর হইলে উইকিরে উষ্টা মারমু ;) B-)

৬| ০১ লা জুন, ২০১২ রাত ৯:১৮

আহমাদ জাদীদ বলেছেন: অনেক কষ্ট করছেন......অনেক অনেক ধ্ন্যবাদ এই পোস্ট দেয়ার জন্য......

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ৯:৫৮

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই।

আশাকরছি এই পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসটা পরিষ্কার বুঝা যাবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য সহায়ক হবে। ক্ষমতার পালা বদলটা আমার কাছেও ঠিক পরিষ্কার ছিল না এতদিন।

ভাল থাকবেন।

৭| ০১ লা জুন, ২০১২ রাত ৯:৪৭

sumon3d বলেছেন:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় এরশাদ ছুটিতে রংপুর ছিলেন। কিন্তু, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে তিনি পাকিস্তান চলে যান। পাকিস্তান থেকে আটকে পড়া বাঙালিরা যখন ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে আসে তখন তিনিও প্রত্যাবর্তন করেন।

এটা কি কইলেন ফারজুল ভাই? কাগু দেহি সারাজীবন ফাকি-যুকির মধ্য দিয়া পার করছেন। :P

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১০:১২

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: আমি কই নাই, উইকিয়ে কইছে। ;)

কাগু ফাঁকিবাজ হইলেও ক্ষমতা দখল করার পর কিছু কাজ ভাল করছে। বিশেষ করে তার সময়ে পল্লী অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।
নারীর উন্নয়নের কথা কিছু কইলাম না। :P

আপনি একটা বিষয় খেয়াল করুন, বর্তমান প্রায় সব বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বা তাদের পূর্বপুরুষ মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এক এরশাদ কাগু উড়ে এসে জুড়ে বসেছে; আর ম্যাডাম খালেদা তার স্বামী সূত্রে পাইছে। অবশ্য মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনা হিসেবে তার অবদান খাটো করে দেখার কিছু নেই। কিন্তু রাজাকারদের সাথে তার মাখামাখি সে অবদানকে ভুলিয়ে দিয়েছে। :(

৮| ০১ লা জুন, ২০১২ রাত ৯:৫১

মিথী_মারজান বলেছেন: সহজ ও সাবলীল বর্ণনার জন্য পড়ে খুব আরাম পেলাম।
সংক্ষেপে খুব চমৎকার করে তথ্যগুলো উপস্হাপন করেছেন
+++++++++++++++ :)

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১০:২৩

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: সংক্ষেপে মূল বিষয় জানাটা জরুরি। এখন আপনি নিশ্চয়ই ক্ষমতার রাজনৈতিক পালা বদলটা বুঝতে পারছেন। এখন হুট করে সহজেই কেউ আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

আমাদের ক্ষমতা দখলের ইতিহাস খুব বর্বর। :(


ধন্যবাদ আপনাকে। :)

৯| ০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১০:০৬

রাতুল_শাহ বলেছেন: এই পোষ্টে আপনার অনেক কষ্ট হয়েছে বুঝা যাচ্ছে।

খুব মন দিয়ে পড়লাম।

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১০:২৭

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: কপি পেস্ট পোস্ট তো, তেমন কষ্ট হয়নি। তবে তথ্য ও ছবি সংগ্রহে একটু সময় লেগেছে। অন্যদের ছবিও সংগ্রহে আছে, এখানে দেয়া হয়নি।


ধন্যবাদ রাতুল ভাই। :)

১০| ০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১০:৩৯

রাতুল_শাহ বলেছেন: তবে যিনি মূল কপি করেছেন, তাকে ধন্যবাদ। আর আপনাকে দেওয়া ধন্যবাদটাও তাকে দিয়ে দিবেন।

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১০:৪৬

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: কপি পেস্ট মানে উইকি থেকে খুঁজে কপি করে করে সাজানো আর গুগল মামুর কাছ থেকে ছবি চুরি করা। :D

উইকিতে যারা তথ্যগুলো দিয়েছেন তাদেরকে অবশ্যই ধন্যবাদ। দেখা হলে ধন্যবাদ পৌঁছে দেয়া হবে। ;)

১১| ০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১০:৫০

রাতুল_শাহ বলেছেন: ঠিকঠাক মত দিয়েনভাই, আর ধন্যবাদ হজম করে নিলে কিন্তু.........

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১১:০২

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: :D :D

আপাতত উইকির নীতি নির্ধারক ও প্রশাসক ভাইয়াকে ফেবুতে ধন্যবাদ দিয়ে দিমু নে। B-)

ইতিহাস নিয়ে কিছু কইলেন না যে? :!>

সমর নায়ক ওসমানী স্যাররে নিয়াও তো কিছু কইতে পারতেন! 8-|

১২| ০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১১:২৫

sumon3d বলেছেন:
শেখ হাসিনাও কিন্তু তার রাজনৈতিক প্লাটফরমটা বংগবন্ধুর থেকে পাইছে।:(

০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১১:৪৪

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: "বর্তমান প্রায় সব বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বা তাদের পূর্বপুরুষ মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ।"

সোহেল তাজ বলেন আর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই বলেন, সবাই নিজ বা পৈতিক সূত্রে মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই রাজনীতির হাল ধরেছেন। যুদ্ধ শেষ হলে জয়ী নায়কেরাই ক্ষমতায় এসেছেন।

একমাত্র খালেদা জিয়া এসেছেন দেনমোহরের পাওনা বুঝে নিতে। :P :!>

১৩| ০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১১:৫৭

sumon3d বলেছেন:
একমাত্র খালেদা জিয়া এসেছেন দেনমোহরের পাওনা বুঝে নিতে।

আপ্নের রিপ্লাই পইড়া ব্যাফুক হাসি দিলাম।:P

ভালো থাকবেন ফারজুল ভাই। আজ শরীরটা ভালা না। যাই ঘুমাই।
তয় ঘুমানোর আগে হাসানোর জন্য ধইন্যা।

০২ রা জুন, ২০১২ রাত ১২:০৭

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: আমার তো মনে হয় খালেদা জিয়া রাজনীতিতে না আসলে দেশের মঙ্গল হতো। অন্তত যুদ্ধাপরাধীদের পূনর্বাসনের কলঙ্ক গায়ে লাগতো না।


হাসি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, শুভ রাত্রি। :)

১৪| ০২ রা জুন, ২০১২ রাত ১২:২০

উচ্চশিক্ষায় অশিক্ষিত বলেছেন: ভালো পোস্ট ,

জিয়ার মুক্তিযুদ্ধ বাদে বাকি অনেক কিছুই আমার কাছে একটা রহস্য , তাহের হত্যা ,১৪৫০ জন্য বিমান সেনাকে ফাসি দেয়া , বঙ্গবন্ধু হত্যার কিছুদিন আগে জিয়া বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলো "স্যার ,আপনার দেহে একটি গুলি প্রবেশ করার আগে ,সেটা আমার দেহের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে" , আবার বঙ্গবন্ধু মারার যাবার ঠিক পরের দিন বলে "প্রসিডেন্ট মারা গেছে তো কি হইছে , ভাইস প্রেসিডেন্ট তো আছে , সৈন্য তৈরী করো , সংবিধান স্থগিত করো" , আবার ক্ষমতায় এসে কুখ্যাত রাজাকারদের পুরস্কার দেয়া , সবই রহস্য কিছুই পরিস্কার হয়না

০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:২৬

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: বর্তমানে ছাগু ও ছাগবাদী নিয়ে যেমন সমস্যা আছে, তেমনি জিয়ার মুক্তিযুদ্ধ বাদে বাকি অনেক কিছু নিয়েই সমস্যা আছে।
দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেরকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে হত্যা করা জিয়ার ক্ষমতা লোভী চরিত্রকে উন্মোচন করেছে। অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করে শাসন করাও গ্রহণযোগ্য নয়। হাজারো হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন বিএনপির স্রষ্টা।

ধন্যবাদ আপনাকে। :)

১৫| ০২ রা জুন, ২০১২ রাত ২:০৭

এ বি এম হায়াত উল্লাহ বলেছেন: রীতিমত একটা দলিল ।। পোষ্ট প্রিয়তে ।।

০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:২৭

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই। :)

১৬| ০২ রা জুন, ২০১২ রাত ২:১৮

শয়ন কুমার বলেছেন: ছাত্রসংঘের বর্তমান শিবির মামুদের মন্তব্য চাই ।রীতিমত একটা দলিল ।। পোষ্ট প্রিয়তে ।।

০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৩১

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ছাগু মাগুদের ল্যাদানো আমার পোস্টে যদিও সহ্য করিনা, তবু স্বচ্ছতার স্বার্থে ল্যাদানোর জন্য আমন্ত্রণ জানাই।

ধন্যবাদ আপনাকে। :)

১৭| ০২ রা জুন, ২০১২ সকাল ৯:১৫

তীর্থযাত্রী বলেছেন: অনেক তথ্যবহুল পোস্ট সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ পোস্ট পড়া হল না। পুরা পোস্ট পড়ে মন্তব্য করবো

০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৩২

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া। :) :)

সময় করে আপনার মতামত দিয়েন। :)

১৮| ০২ রা জুন, ২০১২ সকাল ৯:১৬

তীর্থযাত্রী বলেছেন: পোস্ট প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম

০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৩৩

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ। :)

১৯| ০২ রা জুন, ২০১২ সকাল ৯:৩৮

তন্ময় ফেরদৌস বলেছেন: বুকমার্ক করে রাখলাম, সময় করে পুরাটা পড়তে হবে।

স্বাধীকার ভাই, কোথাও ভুল থাকলে উল্লেখ করুন, ভুলগুলা জানা প্রয়োজন।

০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৩৫

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ তন্ময়। :)

ভুল থাকলে উল্লেখ করার জন্য বিএনপি ও ছাগু ব্লগারদের পোস্টে আমন্ত্রণ জানাই। ;)

২০| ০২ রা জুন, ২০১২ সকাল ১০:৩৫

রাফা বলেছেন: সার-সংক্ষেপ হিসেবে ভালোই,মোটামুটি একটি ধারণা পাওয়া যায়।

যতটুকু কস্ট করেছেন ততটুকুর জন্য ধন্যবাদ।মুল কৃতিত্তের জন্য উইকি-কে ধন্যবাদ।

@স্বাধীকার ভাইজানের আপত্তিটা কোথায় একটু পরিস্কার করে বললে ভালো হোতো।

০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৪০

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: মূল ধারণা নির্ভুল থাকলে বাকি অনেক বিষয়ই বুঝতে সুবিধা হয়।

সর্বক্ষেত্রে নির্ভুল তথ্য দিয়ে অজ্ঞতা দূর করার জন্য উইকির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাই।

আশাকরি স্বাধীকার ভাই তার আপত্তির বিষয়টা পরিষ্কার করে বলবেন।

২১| ০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:২৫

sumon3d বলেছেন:
[sb/]তন্ময় ফেরদৌস বলেছেন:[sb/]
[sb/]স্বাধীকার ভাই, কোথাও ভুল থাকলে উল্লেখ করুন, ভুলগুলা জানা প্রয়োজন। [sb/]

সহমত।

০২ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৪৩

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ভুলগুলো আসলেই জানা প্রয়োজন। যদিও উইকির তথ্যে ভুল থাকার সম্ভাবনা কম।

কথায় আছে, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। :P

২২| ০২ রা জুন, ২০১২ বিকাল ৪:১৫

রুমি আলম বলেছেন: পোস্টদাতাকে ধন্যবাদ।
১১ই এপ্রিল মুজিবনগরে যে বৈঠকের কথা বলেছেন, এটা সম্ববত ভুল তথ্য। এই বৈঠক অনুস্টিত হয়েছিল মুলত আগরতলায় ১০ই এপ্রিল বিকেল থেকে প্রায় সারারাতব্যাপী ও ১১ই এপ্রিল এই দুদিনই। ১১ই এপ্রিল সন্ধ্যায়ই প্রথম তাজউদ্দিন আহমদের কন্ঠে বেতারে ঘোষনা করা হয়েছিল সরকার গঠনের কথা।

আমার একটি জানতে চাওয়া, সম্ভব হলে জানাবেন।
সেটি হলো, জিয়াউর রহমান বগুড়ায় জন্মগ্রহন করেন। বাবার চাকুরীর সুবাদে কলকাতায় কছুদিন ছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭ এর পরে তার বাবা পশ্চিম পাকিস্থানের করাচী চলে যান একেবারে। সেখানেই পড়ালেখা করেন এবং পাকিস্থান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। উনার জন্মের পরে কলকাতায়, ১৯৪৭ এর পরে করাচী চলে যাওয়ার পরে কখনো বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে কোন তথ্য আমি পাইনি। যদিও তার অনেক আত্মীয়পরিজন বগুড়াতেই ছিল। সেনাবাহিনীতে যোগদানের পরেও পাকিস্থান সেনাবাহিনীর করনেল উসমানির নেত্রিত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠন হলে সম্ভবত '৬৯ বা '৭০ সালে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে পোস্টিং দেয়া হয় এবং এই পোস্টিং এর বরাতেই অনেক বছর পরে বাংলাদেশে আসেন। সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর থেকে ইস্ট বেঙ্গলে পোস্টিং এর আগে কখনো বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিল কিনা কোথাও পাইনি।
উল্লেখ্য জিয়াউর রহমান যেসময়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তখন পাকিস্থানের এই অঞ্চল থেকে সুযোগ পাওয়াছিল চরমতম কঠিন ব্যপার। তারপরও স্বল্প সংখ্যক ব্যক্তি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে যোগদানের সময় পাকিস্থানের কোন অঞ্চলের(পুরব না পশ্চিম) নাগরিক ছিলেন???? পুরব পাকিস্থানের হাতে গোনা যেকয়জন সুযোগ পেতো সে কী তাদের একজন অরথাত পুরব পাকিস্থানের নাগরিক ছিলেন?? নাকি পশ্চিম পাকিস্থানের চাকুরীর অটো কোটায় সুযোগ পেয়েছিলেন???

সোজাকথায় তিনি পুরব না পশ্চিমের অধিবাসী বা নাগরিক ছিলেন????

আমার যেকোন ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রারথী, বরং সংশোধন করে দেওয়ার অনুরোধ রইল।

০২ রা জুন, ২০১২ রাত ৯:২২

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: আমি পোস্টে দিয়েছি - "১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ ও সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধাঞ্চল ও যুদ্ধকৌশল সম্মন্ধে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।"

১১ই এপ্রিল নয়, ১১ জুলাই। :)
~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~

পূর্ণ তথ্য -

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধগুলো ছিল পরিকল্পনাহীন ও অপ্রস্তুত। অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হবার পর ধীরে ধীরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই পরিকল্পিত রূপ পেতে শুরু করে। ১১ জুলাই বাংলাদেশের সামরিক কমান্ড তৈরি করা হয়। কর্ণেল এম এ জি ওসমানীকে কমান্ডার ইন চিফ, লেফট্যানেন্ট কর্ণেল আবদুর রবকে চিফ অফ আর্মি স্টাফ এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকারকে ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ ও চিফ অফ এয়ার ফোর্সের দায়িত্ব দেয়া হয়। বাংলাদেশকে সর্বমোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং পাকিস্তান আর্মি থেকে পালিয়ে আসা অফিসারদের মধ্য থেকে প্রতিটি সেক্টরের জন্যে একজন করে কমান্ডার নির্বাচন করা হয়।

ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বৈঠক শেষে তিনি বাংলাদেশকে সর্বপ্রকার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলে তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের এমএনএ(M.N.A) এবং এমপিএ(M.P.A) দের কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তে অধিবেশন আহ্বান করেন। উক্ত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়। এই মন্ত্রিপরিষদ এবং এমএনএ ও এমপিএ-গণ ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষনা করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী,ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নিয়োগ করা হয়।১১ এপ্রিল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ বেতারে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ঘোষনা দিয়ে ভাষণ প্রদান করেন।
~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~

জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মনসুর রহমান এবং মাতার নাম ছিল জাহানারা খাতুন ওরফে রানী। পাঁচ ভাইদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর পিতা কলকাতা শহরে এক সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর শৈশবের কিছুকাল বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা শহরে অতিবাহিত হয়ভারতবর্ষ বিভাগের পর (১৯৪৭) তাঁর জন্মস্থান পূর্ব পাকিস্তানের অংশে চলে আসে এবং তাঁর পিতা পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি শহরে চলে যান। তখন জিয়া কলকাতার হেয়ার স্কুল ত্যাগ করেন এবং করাচি একাডেমী স্কুলে ভর্তি হন। ঐ স্কুল থেকে তিনি ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং তারপর ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডি.জে. কলেজে ভর্তি হন। একই বছর তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৫৩ সালে তিনি কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি সেখানে দুই বছর চাকুরি করেন, তারপর ১৯৫৭ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন। ঐ সময়ই ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুর শহরের বালিকা, খালেদা খানমের সঙ্গে জিয়াউর রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। যুদ্ধে দুর্ধর্ষ সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যেসব কোম্পানি সর্বাধিক বীরত্বসূচক পুরষ্কার লাভ করে, জিয়াউর রহমানের কোম্পানি ছিল এদের অন্যতম। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে। এছাড়াও জিয়াউর রহমানের ইউনিট এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য দুটি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়টি তামঘা-ই-জুরাত মেডাল লাভ করে। ১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পেশাদার ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন। সে বছরই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়ে জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। উচ্চ প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান। ১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন।

জিয়া জন্মসূত্রে পূর্ব পাকিস্তানের মানে বাংলাদেশের এবং পশ্চিম পাকিস্তানেই বড় হয়েছেন। শৈশবেই মানে স্কুলে পড়ার সময়ই পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান, ওখানেই ক্যাডেট প্রাপ্ত হন। মাঝ বয়সে পোস্টিং এর বরাতেই অনেক বছর পরে বাংলাদেশে আসেন। বিয়েটাও সেরে ফেলেন। সার্বিক দিক বিবেচনা করলে তাকে পশ্চিম পাকিস্তানিই বলা চলে।
~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। :)
ভাল থাকবেন।

২৩| ০২ রা জুন, ২০১২ বিকাল ৪:৩৮

মামুন হতভাগা বলেছেন: পুরা পড়তে হবে,প্রিয়তে থাকল :)

০২ রা জুন, ২০১২ রাত ৯:২৫

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অবশ্যই পড়বেন ভাই।
পরিষ্কার ধারণা থাকাটা দরকার।

ধন্যবাদ আপনাকে। :)

২৪| ০৩ রা জুন, ২০১২ রাত ১২:২৭

রুমি আলম বলেছেন: ধন্যবাদ তথ্যটি দেওয়ার জন্য। আপনার দেওয়া তথ্য ও মুল্যায়ন দেখে আমিও তেমনি মনে করি এবং বোধকরি এজন্যই জিয়া রাস্ট্রপতি হওয়ার আগে বগুড়ার সঙ্গেও কোনো যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়না।

জিয়াউর রহমান যখন শ্চিম পাকিস্থানের স্কুলে ভরতি হন এবং সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তখন তার স্থায়ী ঠিকানা ও বরতমান ঠিকানায় কী লিখেছিল এটা যদি জানা থাকে তবে একটু লিখে জানাবেন। আরেকটি বিষয় হলো জনাব মনসুর রহমান যখন কলকাতা থেকে পশ্চিম পাকিস্থানে চলে যান তখন বগুড়ার সঙ্গে মানে সকল বিষয় সম্পত্তি কী বিক্রি করে চলে গিয়েছিলেন?? সেসময়ের জিয়াউর রহমানের আত্মীয়সজনদের এই ব্যাপারে দেওয়া কোন তথ্য জানা থাকলে দিবেন। তাদের কী পুরব পাকিস্থানে ফিরে আসার কোন ইচ্ছে ছিল? নাকি একেবারেই চলে গিয়েছিলেন?????
সম্ভব হলে তথ্যগুলো দিবেন।

০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ১:০৩

ফারজুল আরেফিন বলেছেন:
দ্বীপ রয় বলেছেন: ম্যাডাম জিয়ার শ্বশুর দেবর ননদ, অথবা জিয়ার ভাতিজা-ভাতিজি,ভাগ্না-ভাগ্নি কিম্বা অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের কেও কি নেই?? আমরা কেনো তাদের কারো কোনো খোঁজ খবর পাই না? জিয়া পরিবার কি শুধু কি তাঁর শ্বশুর কুলকে নিয়ে? যে জিয়ার আদর্শের কথা বলা হয় সে জিয়ার বাবা চাচা ভাই বোনদের কেও কি জীবিত নেই?? বি এন পি'র কোনো নেতার মুখেও কেনো কখনো জিয়া পরিবারের সদস্যদের কথা শুনতে পাওয়া যায় না?? কি রহস্য আছে এর মধ্যে?? জিয়াউর রহমানের জন্ম বার্ষিকি-মৃত্যুবার্ষিকি পালন করা হয়,কিন্তু কেনো তাঁর পিতৃভিটায় একটা মিলাদ ও দেয়া হয় না?? ম্যাডাম জিয়া সরকারে থেকে হোক আর না থেকে হোক,বহুবার বগুড়া সফরে গিয়ে থাকেন-তাঁকে কেনো একবারও স্বামীর ভিটায় যেতা দেখা যায় না?তারেক রহমান অনেকবার বগুড়াতে গেছেন,তাঁর রাজনীতিও বগুড়া কেন্দ্রিক,সেই তারেক রহমানও কেনো একটিবারের জন্যও বাবা-দাদার জন্মভিটায় যাননা??এ রকম হাজারো অবহেলা দেখা যায় জিয়াউর রহমানের নিজ পরিবারের ক্ষেত্রে। অথচ ভিন্নরুপ ম্যাডাম জিয়ার পিতৃকুল-মাতৃকুল দুকুলে।

View this link

জিয়াউর রহমান ওরফে কমলরা পাচঁ ভাই। কোন বোন নেই।

পুত্রদের উচ্চশিক্ষিত করে তোলার ব্যাপারে বাবা মনসুর রহমান ও মা জাহানারা খাতুনের আগ্রহ ছিল অপরিসীম। এদের সযত্ন লালন ও পরিচর্যায় পাঁচ পুত্রই উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। জিয়াউর রহমানের বড় ভাই রেজাউর রহমান আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নৌবাহিনীতে ক্যাডেট অফিসার পদে যোগদান করেন। কয়েক বছর নৌবাহিনীতে থাকার পর ইস্তফা দিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েট ডিগ্রি লাভের পর ইংল্যান্ডে উচ্চপদে নিযুক্ত হন। এরপর তিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থায় ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় উচ্চতর পদে যোগদান করেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সার্ভিসে কর্মকাল শেষে অবসর নিয়ে তিনি বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন।

মনসুর রহমানের তৃতীয় পুত্র ও জিয়াউর রহমানের পিঠাপিঠি কনিষ্ঠ ভাই মিজানুর রহমান অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের পর ব্যাংকিং সার্ভিসে যোগদান করেন। আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের লন্ডন শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৯৮ সালে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। জিয়াউর রহমানের পরবর্তী কনিষ্ঠ ভ্রাতা খলিলুর রহমান ফার্মেসিতে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী লাভের পর আফ্রিকার জাম্বিয়া সরকারের অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে সপরিবারে বসবাস করছেন। জিয়াউর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা আহমদ কামালও একজন গ্রাজুয়েট। তিনি পর্যটন করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার।

১৯৪৭ সালে বৃটিশের পরাধীনতার শৃংখলকে পদদলিত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে উপমহাদেশে দু‘টি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়। কমলের বাবা মনসুর রহমান পাকিস্তানের পক্ষে অপসন দিয়ে করাচীতে চলে আসেন। হেয়ার স্কুলের সার্টিফিকেট তুলে বাবার সংগে কমল ট্রেনে করে এবং পরে জাহাজে করে করাচী যান। করাচীতে এক মাসের মতো ভাড়া বাসায় থাকার পর জেকব লাইনে তারা বসবাস শুরু করেন। ১৯৪৮ সালের ১ জুলাই কমল ‘করাচী একাডেমী স্কুলে’ সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে এই স্কুল থেকেই তিনি ২য় বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর ভর্তি হন ডি.জে কলেজে।



আন্ডার লাইন করা অংশে প্রশ্ন দুইটির উত্তর রয়েছে; ধন্যবাদ।

২৫| ০৩ রা জুন, ২০১২ রাত ১:০৩

তীর্থযাত্রী বলেছেন: এই পোস্ট পড়ে নতুন যে জিনিস জানলাম টা হল জিয়াউর রহমান সম্পর্কে। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। জিয়াউর রহমান তাহলে একজন পশ্চিম পাকিস্তানি হিসেবেই আর্মি তে যোগদান করেছিলেন। পোস্টিং এর কারনে পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন।



ধন্যবাদ ফারজুল আরেফিন, ধন্যবাদ রুমি আলম।

০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ১:০৬

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।

ছাগবাদীরা ইতিহাস বিকৃত করে আসর বসিয়ে জিয়ার জয়গান গাইতেই পারে; কিন্তু সত্য চিরকালই সত্য।

২৬| ০৩ রা জুন, ২০১২ রাত ২:০২

রুদ্রাক্ষী বলেছেন: খুব ভালো লাগলো নির্দলীয় বাংলাদেশের ইতিহাস পরে।পোস্ট পড়েই আপনার পরিশ্রম টের পাওয়া যায়।বরাবরের মতোই পোস্টে প্লাস।

০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ১:০৯

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া :D :D

সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে অসত্যের জয়গান বন্ধ হোক।

২৭| ০৩ রা জুন, ২০১২ রাত ৩:০৭

রাফা বলেছেন: মন্তব্য এবং এর জবাবে মোটামুটি জিয়াউর রহমানের সম্পর্কে একটা ধারনা পাওয়া গেলো যে: তিনি মুলত পশ্চিম পাকিস্তানিদের প্রতিনিধি হিসেবেই বাংলাদেশে, মানে ততকালীন পুর্ব পাকিস্তানে পোস্টিং পেয়েছিলেন।

এই জন্য বোধহয় পাকিস্তানিরা তাকে সোয়াত থেকে অস্র খালাসের জন্য নিয়োজিত করেছিলো।এবং শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি তার দ্বায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করেছেন।

লেখক অনুগ্রহ করে কি আরো কিছু তথ্য দিতে পারেন,জিয়াউর রহমানের ভাইয়েরা কে কোথায় আছেন?কিংবা তার পরিবারের অথবা আত্মিয়-স্বজন মুলত চাচা বা ফুফু যদি জানা থাকে।

ধন্যবাদ

০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ১:১৭

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: আপনার প্রশ্নের উত্তর রুমি আলম সাহেব দিয়ে দিয়েছেন নিচে। ৪৭ নম্বরের প্রতি উত্তর দেখুন। কিছু তথ্য -

জিয়ার চাচী শরীফুন্নেসা আজগুরী খানম (বেগম মমতাজুর রহমান)। তার বাচ্চু মামা হচ্ছেন মেজর ডা. মঈনুল ইসলাম; তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হন। যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরত আসেন চাচা ডা. ক্যাপ্টেন মমতাজুর রহমান।

২৮| ০৩ রা জুন, ২০১২ ভোর ৪:৫৬

রুমি আলম বলেছেন: ধন্যবাদ তীরথযাত্রী।

রাফা@ পাকিস্তানিরা তাকে সোয়াত থেকে অস্র খালাসের জন্য নিয়োজিত করেছিলো কিন্তু শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি তার দ্বায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে পারেননি। কেননা বন্দরে শ্রমিকদের প্রচন্ড বাধা ছিল। এবং আরেকটি গুরুত্বপুরন কারন ছিল জিয়ার পাকিস্থান সেনাবাহিনীতে শেষ কম্মদিবসের শেষবেলায় ২৫ মারচ রাত ১১ টার পরে যখন সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাসের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই ক্যাপ্টেন রফিকের পাঠানো সংবাদের ভিত্তিতে জিয়া ফিরে আসেন তার অফিসে। এবং এভাবেই জিয়া তার আগের মত বদলিয়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলম্বন করেন।
সেজন্যই বলছি শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি তার দ্বায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে পারেননি অথবা তার মত বদলানোর অন্য কোন কারন থাকতে পারে অথবা তাকে পরবরতী কোন দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যা তিনি পালন করেছেন হয়ত সঠিকভাবেই। হয়ত আরো অনেক পরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরো অনেক গবেষনা হলে এসব অজানা ঘটনার কারন উদ্ঘাটিত হবে। ততদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে অথবা আমাদের অবরতমানে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতে পারবে সত্যাসত্য। ধন্যবাদ।

০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ১:১৮

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। :)

২৯| ০৩ রা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:০০

এস এম ফারুক হোসেন বলেছেন: ইতিহাস বিকৃতির যুগে সত্য ও সঠিক ইতিহাসটা তুলে ধরার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ভাল থাকুন।

০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ১:২৪

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া। :)

ইতিহাস বিকৃতকারিকে ব্লগে ছাগবাদীরা পূজা করে। আবার এরাই নাকি ব্লগ লিখে দেশের মানুষকে সচেতন করে। হাস্যকর কান্ডকারখানা। ফেবুর স্ট্যাটাস দেখলে মনে হয়, স্ট্যাটাস পড়ে জীবন ধন্য আমার। =p~ =p~

৩০| ০৪ ঠা জুন, ২০১২ সকাল ১০:২৪

এস এম ফারুক হোসেন বলেছেন: সত্য বলা ও স্বীকার করার মানসিকতা যাদের নেই তারা তো নিজেরাই অসচেতন, তারা আবার মানুকে কি সচেতন করবে ! ওরা যখন ক্ষমতায় যায়,তখন এদের দেশপ্রেম জেগে উঠে।

ধর্ষন লুটপাট করতে পারলেই তারা ঠান্ডা,এখন তো তা পারছে না, তাই আর কি।

০৪ ঠা জুন, ২০১২ দুপুর ২:১৬

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

অবৈধ ক্ষমতা দখল করার পরে যে দলের জন্ম দেয়া হয়েছে তার সাপোর্টারদের কাছে ভাল কিছু আশা করা যায় না।

অনেক ধন্যবাদ। :)

৩১| ০৫ ই জুন, ২০১২ রাত ২:৫৩

রুদ্রাক্ষী বলেছেন: আপনার কোন সাড়াশব্দ পাই না খবর কি? রাগ করেছেন নাকি?

০৫ ই জুন, ২০১২ দুপুর ১:৪৯

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: :D

রাগ করবো কেন!
আমার পরীক্ষা, পুরো জুন মাস জুড়ে। :(

ভাল থাকবেন, দোয়া কইরেন। :) :)

৩২| ০৫ ই জুন, ২০১২ দুপুর ২:০৪

সাজিদ ঢাকা বলেছেন: পিডিএফ বানাইয়া রাখলাম , , যদিও এগুলান সব আত্মস্থ মাঝে মাঝে গুলাইয়া ফেলি , , ,

আর মানুষের সাথে বকর বকর করা লাগবে না , , লিঙ্কু দিয়া দিমু

পোষ্টে ++++++++++++ ( কিছু মানুষের লুঙ্গি টান দেওয়ার জন্য =p~ =p~ =p~ )

০৫ ই জুন, ২০১২ দুপুর ২:৫৪

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: B-) B-) ;)

এইটাও রাইখো - খুবই সুন্দর পোস্ট View this link

পাকি প্রেমে লুঙ্গি বিসর্জন দিতে তাদের আপত্তি নাই। =p~ =p~ =p~

ধন্যবাদ ভাই, ভাল থাইকো। :)

৩৩| ০৬ ই জুন, ২০১২ রাত ৯:১৬

তন্ময় ফেরদৌস বলেছেন: শুভ জন্মদিন।

০৬ ই জুন, ২০১২ রাত ৯:৪৮

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই :) :)

৩৪| ০২ রা জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:১৬

একজন ঘূণপোকা বলেছেন: ++++++++++++++

০২ রা জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৩০

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। :)

৩৫| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১১:৩৬

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: সর্ববিচারে অনন্যসাধারণ।

আপনার ধৈর্য্য যত দেখি তত অবাক হচ্ছি।

এমন মেগাপোস্ট, বেশ কয়েকদিন ধরে কাজ করতে করতে তারপর প্রকাশ করা- মেগালিথিক কাজগুলোতে খুব শাইন করবেন।

বিনাদ্বিধায় প্লাসসহ প্রিয়তে।

চোখ বুলালাম। আরাম করে পড়ব।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৪২

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।

একটা থিমকে কেন্দ্র করে ঘাটাঘাটি, অতঃপর একটা সিদ্ধান্তে আসা, সবশেষে মূল বিষয়গুলোকে সাঁজানো - ভাললাগে। অজানাকে নিজে জানছি, আবার অন্যদের সামনে নতুনরূপে তুলে ধরছি - এ আনন্দই ধৈর্য্য হিসেবে ধরা দেয়। :)

শাইন শব্দটা অনেক দূরের, যেখানে তেলহীন-চ্যানেলহীন ব্যক্তি আমিকে উপযুক্ত যে কোন কাজের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় বছরের পর বছর!
আজ যে চামার অনায়াসে সে মন্ত্রী হতে পারতো, আজ যে মন্ত্রী অনায়াসে সে চামার হতে পারতো! :P ;)

শুভ কামনা। :)

৩৬| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১১:৪৪

পাকাচুল বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৪৩

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: আশাকরছি ভাল লাগবে আপনার।

অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভাল থাকবেন। :)

৩৭| ০৩ রা নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৫

সংবাদ বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ কঠিন কাজটা করার জন্য সত্য চিরদিনই সত্য তাকে চাপানো যায় ক্ষনিকের জন্য তার পর সে যখন তার মূতর্িতে আসে সব মিথ্যাকে তছনস করে যায়

০৩ রা নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪৪

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: ঠিক বলেছেন ভাই।

আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ। :)

৩৮| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৮

নিশাত শাহরিয়ার বলেছেন: অসহায় নাগরিক বলেছেন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সুন্দর ভাবে উপস্থাপনের প্রয়াসের জন্য অনেক ধন্যবাদ!

খুব ভালো লাগলো। +++

জিয়ার সম্পর্কে জেনে ভাল লাগলো , কমেন্ট গুলা আলাদা করে একটা পোস্ট দেন , অনেক ছাগুর মুখ বন্ধ হবে ।

আর ভুলেও কখনো পোস্ট সমূহ ড্রাফট করবেন না। তাইলে কিন্তু আমি আপনারে খুঁজে বের করে পিঠামু :P

আমার মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে রিসার্চের জন্য লাগব , বুঝছেন ।

বাই দা ওয়ে আপনে পুরাই একটা .______________

আই মিন জিনিয়াস!!! :)

০৯ ই নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪৭

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। :)

বিএনপির কঠিন সমর্থক কিছু মানুষ ছাগুদের চেয়ে বেশী ইতিহাস বিকৃত করে, যদিও ওদের ভেতর থেকেই কিছু ছাগুর ল্যান্জা বের হয়ে আসে। এখানে ছাগুরা অল টাইম লাথির উপরেই তো থাকে। B-)

কিছু পোস্ট তেমন গুরুত্ব বহন করে না, শুধু সেগুলোকেই ড্রাফট করা হয়।

আমার রিসার্চে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস উপস্থাপিত হয়েছে, আশাকরি আপনার রিসার্চে অনেক ভালো কিছু উঠে আসবে। শুভকামনা রইলো অনেক। :)

আমি খুবই সাধারণ মানুষ। ধন্যবাদ আবারো।

৩৯| ২৬ শে নভেম্বর, ২০১২ সকাল ১০:৩৯

কালা মনের ধলা মানুষ বলেছেন: চমতকার পোস্ট। সরাসরি প্রিয়তে। নির্মোহ ভাবে ইতিহাস বর্ননা করা কঠিন। কষ্টসাধ্য এই পোস্টে অনেক ভাল লাগা।

২৬ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:২৫

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।

ভালো থাকবেন.....। :)

৪০| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২৭

জেনারেশন সুপারস্টার বলেছেন: দারুণ........

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:১৮

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই। :)

৪১| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১২:৫৫

ফাহীম দেওয়ান বলেছেন: অনেক অনেক ভালো হইছে উপস্থাপনা।

স্বাধীকার ভাই দেখলাম আর এই মুখো হইলোনা। যদি কোন ভুল থাকে সেটা প্রকাশে বাধা কই।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১:৩১

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: :) :)

ধন্যবাদ অশেষ ভাই।

আফসুস এখানেই - অনেকে বলে ভুল আছে, কিন্তু কি ভুল আছে তা কেউ বলে না বা বলতে পারে না। :( :(

ভালো থাকবেন..... :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.