নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

াহো

াহো › বিস্তারিত পোস্টঃ

জাফরীন সুপ্তি বলেছেন: এর সাথে জামাত-শিবিরের সম্পর্ক কি?

১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:০০

মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার



রাজাকার শব্দটি মূলত একটি আরবী শব্দ যার অর্থ স্বেচ্ছাসেবক ।(উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেখা যায়, রাজাকার একটি পারসিয়ান অর্থ্যাৎ ফার্সী শব্দ ) ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজাকার হলো সেইসব স্বেচ্ছাসেবক যারা ইসলামিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজাকার অর্থ দেশদ্রোহী বা পাক-বাহিনীর সহযোগী (Collaborators) যারা ১৯৭১ -এ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-বাহিনীকে সহায়তা করেছিল লাখ লাখ বাঙালিকে চিহ্নিতকরণ এবং হত্যাযজ্ঞে । রাজাকারেরা মূলত মুসলিম লীগ, জামাত-ই-ইসলামি এবং ধর্ম ভিত্তিক অন্যান্য কিছু দলের সদস্যবৃন্দরাই ছিল ।



”রাজাকারেরা...মূলত সাহায্য করবে গ্রামাঞ্চলে, যারা চিহ্নিত করতে পারবে মুক্তিযোদ্ধাদের”, একজন পাকিস্তানি আর্মি অফিসারের ভাষ্য; সরকার ইতিমধ্যে পরিকল্পনামাফিক ৩৫,০০০ এর মধ্যে ২২,০০০ রাজাকার নিয়োজিত করেছে । [নিউ ইয়র্ক টাইমস, জুলাই ৩০, ১৯৭১]

২৬ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১০



লেখক বলেছেন: এর সাথে জামাত-শিবিরের সম্পর্ক



----------------------------------------------------------------------------------

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

একাত্তরে তাঁরা কে কোন দলে ছিলেন, কী করেছেন



প্রতীক ইজাজ ও উম্মুল ওয়ারা সুইটি



একাত্তরে নেতৃস্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিরা ছিলেন কয়েকটি ডানপন্থী দলের। দলগুলো হলো_জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) এবং মুসলিম লীগের কয়েকটি অংশ। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সমর্থনে এসব দলের নেতারাই গঠন করেছিলেন শান্তি কমিটি। জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতৃত্বে দেশব্যাপী গঠন করা হয় রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক সরকার অর্ডিন্যান্স জারি করে রাজাকার বাহিনীকে আনসার বাহিনীর স্থলাভিষিক্ত করেছিল। এ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের জন্য মাসিক মাসোহারা নির্ধারিত ছিল এবং তা সরকারি কোষাগার থেকেই দেওয়া হতো। আলবদর ও আলশামস ছিল রাজাকার বাহিনীরই দুটি বিশেষ ব্রিগেড।

বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থ এবং জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামসহ একাত্তরে প্রকাশিত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পত্রিকা থেকে ওই নেতাদের তৎকালীন অবস্থান সম্পর্কে জানা গেছে।



গোলাম আযম : মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির। একাত্তরের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইসলামী ছাত্রসংঘ আয়োজিত এক সভায় পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য নতুন কর্মী বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। (সূত্র : দৈনিক সংগ্রাম, ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)। তাঁর ব্যক্তিগত পরামর্শ ও সক্রিয় সহযোগিতায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে গঠিত হয় রাজাকার বাহিনী। গোলাম আযম একাত্তরের ১৯ জুন রাওয়ালপিন্ডিতে ইয়াহিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাকিস্তানি আদর্শ ও সংহতিতে বিশ্বাসী লোকদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ করার আহ্বান জানান। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতের পর ১০ দিনের মধ্যে নুরুল আমিন, গোলাম আযম, ফরিদ আহমদ, খাজা খায়েরউদ্দীন, হামিদুল হক চৌধুরী প্রমুখ নেতা সামরিক প্রশাসক ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।



মতিউর রহমান নিজামী : একাত্তরে ছিলেন নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই গঠন করা হয় রাজাকার ও আলবদর বাহিনী। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির। আলবদর বাহিনীর গঠন প্রসঙ্গে একাত্তরের ১৪ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রামে এক নিবন্ধে নিজামী বলেন, 'পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এ দেশের ইসলামপ্রিয় তরুণ ছাত্রসমাজ বদর যুদ্ধের স্মৃতিকে সামনে রেখে আলবদর বাহিনী গঠন করেছে। বদর যুদ্ধে যোদ্ধাদের সংখ্যা ছিল ৩১৩। এই স্মৃতিকে অবলম্বন করে তারাও ৩১৩ যুবকের সমন্বয়ে একেকটি ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'

আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ : একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং আলবদর বাহিনীর ঢাকা মহানগরীর প্রধান ছিলেন তিনি। তাঁর অপতৎপরতার ছবিও প্রকাশিত হয় একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর দৈনিক আজাদে। ছবির ক্যাপশন ছিল_'গতকাল গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি প্রদান করিয়া আলবদর আয়োজিত পথসভায় বক্তৃতা করিতেছেন আলবদর প্রধান জনাব মুজাহিদ।' এখন তিনি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল।



মুহাম্মদ কামারুজ্জামান : একাত্তরে তিনি ছিলেন ইসলামী ছাত্রসংঘের ময়মনসিংহ জেলার প্রধান। জামালপুরে প্রথম আলবদর বাহিনী গড়ে ওঠে, যার প্রধান সংগঠক ছিলেন তিনি। এখন তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র থেকে ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত 'একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়' শীর্ষক বইয়ের ১১১-১১২ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে জানা যায়, কামারুজ্জামানের নেতৃত্বেই ময়মনসিংহ জেলার সব ছাত্রসংঘ কর্মীকে আলবদর বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।



এ কে এম ইউসুফ : একাত্তরের মে মাসে তিনিই প্রথম জামায়াতের ৯৬ জন ক্যাডার নিয়ে খুলনায় রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। খুলনার তৎকালীন ভূতেরবাড়ি (বর্তমানে আনসার ক্যাম্পের হেডকোয়ার্টার) ছিল তাঁর বাহিনীর হেড কোয়ার্টার এবং প্রধান নির্যাতন সেল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য গঠিত ডা. মালেক মন্ত্রিসভার রাজস্ব মন্ত্রীও ছিলেন তিনি।



মাওলানা হাবিবুর রহমান : চুয়াডাঙ্গার হাবিবুর রহমান একাত্তরে ছিলেন জেলার জীবননগর উপজেলা শান্তি কমিটির সদস্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দালাল আইনে যাঁদের শাস্তি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। অভিযোগ আছে, তাঁর নেতৃত্বেই কয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাককে হাসাদহ ক্যাম্পে ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়।

রিয়াছাত আলী বিশ্বাস : তিনি ছিলেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা শান্তি কমিটির সেক্রেটারি। এই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বিচারে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচারের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় গণতদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কালীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ইউনুসকে হত্যা করার। তাঁর তত্ত্বাবধানেই একাত্তরের জুলাই মাসে পাকিস্তানি সেনারা গানবোটে চড়ে প্রতাপনগর গ্রামে হানা দিয়েছিল বলে গণআদালতে সাক্ষ্য দেন সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক আহ্বায়ক মহিয়ার রহমান।



মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী : একাত্তরে তিনি ছিলেন ইসলামী ছাত্রসংঘের সিলেট জেলা সভাপতি এবং সিলেট আলবদর বাহিনীর কমান্ডার। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির গবেষণায় দেখা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেটের খাদিমপাড়ার ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের হেডকোয়ার্টারে সভা করে ফরিদ উদ্দিন আলবদর বাহিনী গঠন করেন এবং পাকিমআনি সেনাদের সঙ্গে তিনিও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন ও সম্পদ লুটপাটে অংশ নেন।

অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস : একাত্তরে তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির ২৩ নম্বর সদস্য। ছিলেন রাজাকার বাহিনীর কেন্দ্রীয় সংগঠক ও আলবদর বাহিনীর নেতা। বাগেরহাটের একটি কলেজে শিক্ষকতা করার সময় তিনি রাজাকার বাহিনীর নেতা হিসেবে বাগেরহাটে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।

আবদুল আলীম : জয়পুরহাট মহকুমা (বর্তমান জেলা) শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি। তাঁর বাড়িটি তখন ছিল জয়পুরহাটের রাজাকার রিক্রুটমেন্ট ক্যাম্প। আবদুল আলীমই ওই এলাকায় রাজাকার রিক্রুট করেছিলেন। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির গবেষণা থেকে জানা গেছে, একাত্তরের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানি সেনারা সড়ক থেকে ২৬ নিরীহ গাড়োয়ালকে আবদুল আলীমের বাড়ির চাতালে তিন-চার দিন আটকে রাখার পর খঞ্জনপুর বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আবদুল আলীম ও তাঁর সহযোগীরা জয়পুরহাটের মঙ্গলবাড়ী গ্রাম থেকে ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে দুটি ট্রাকে করে জয়পুরহাটের শহর প্রদক্ষিণ করিয়েছিল। পরে তাঁর নির্দেশে ওখানেই ২৬ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়।



সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গিয়াস কাদের চৌধুরী : মুসলিম লীগের ব্যানারে পাকিস্তানি সেনাদের পক্ষে কাজ করেন এ দুই ভাই। তাঁদের বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী (মৃত) ছিলেন কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্য। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক শামসুল আরেফিনের প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে সালাউদ্দিন কাদেরদের বাসায় (গুডস হিল) পাকিস্তানি বাহিনীর এক প্লাটুন সেনা মোতায়েন থাকত। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল সাকার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা শেখ মুজাফফর ও তাঁর ছেলে শেখ আলমগীরকে সড়ক থেকে ধরে হাটহাজারী ক্যাম্পে নিয়ে মেরে ফেলা হয়। গুডস হিল নামের ওই বাড়িটি ধীরে ধীরে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষকে নির্যাতনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ওই বাড়িতেই একাত্তরের ১৭ জুলাই ছাত্রনেতা ফারুককে সাকা চৌধুরী পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় হত্যা করেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষকে ধরে এ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতো। মেয়েদের তুলে দেওয়া হতো পাকিস্তানি সেনাদের হাতে।



মাওলানা আব্দুস সোবহান : একাত্তরে তিনি পাবনা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ছিলেন। তিনি পাবনা শান্তি কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। তাঁর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাবনায় রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গড়ে ওঠে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রকাশিত গ্রন্থ 'একাত্তরের রাজাকারদের ২০০১ নির্বাচনে বর্জন করুন' থেকে জানা গেছে, ২৫ মার্চের মধ্যরাতে পাবনায় সোবহানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী : ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির গবেষণা থেকে জানা যায়, পিরোজপুরে নিজ এলাকায় আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী গঠনে সার্বিক সহযোগিতা করেন সাঈদী। চার সহযোগী নিয়ে 'পাঁচ তহবিল' নামে একটি সংগঠন গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী বাঙালি হিন্দুদের বাড়িঘর দখল ও সম্পদ লুট করতেন। লুণ্ঠিত এসব সম্পদ 'গণিমতের মাল' আখ্যা দিয়ে সাঈদী নিজে ভোগ এবং পাড়েরহাট বন্দরে এসব বিক্রি করে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি এলাকার পাড়েরহাট বন্দরের বিপদ সাহার বাড়ি দখল করে সেখানেই ঘাঁটি গেড়ে বসেন। এলাকার মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের তালিকা তৈরিসহ মেয়েদের জোর করে ধরে নিয়ে সেনা ক্যাম্পে দিয়ে আসতেন।



আব্দুল কাদের মোল্লা : একাত্তরে ঢাকার মিরপুরে বিহারিদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেন। ওই সময় মিরপুরের বাসিন্দাদের কাছে তিনি 'জল্লাদ' ও 'কসাই' নামে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ আছে, শিয়ালবাড়ী, রূপনগরসহ মিরপুর এলাকায় হাজার হাজার বাঙালি হত্যার প্রধান নায়ক ছিলেন কাদের মোল্লা।



এ বি এম খালেক মজুমদার : একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি আলবদর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ডা. এম এ হাসানের বুদ্ধিজীবী হত্যা সম্পর্কিত গবেষণা থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় খালেক মজুমদারের নেতৃত্বে একদল আলবদর পুরান ঢাকার ২৯ নম্বর কায়েতটুলী থেকে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সারকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি।

মীর কাসেম আলী : আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই তিনি ক্যাম্প গঠন করে আলবদর ও রাজাকার রিক্রুট শুরু করেন। একাত্তরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রকাশিত পুস্তিকা থেকে জানা গেছে, তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে ১০টিরও বেশি গণহত্যা হয়েছিল। বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম সংগ্রহ এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে পাকিস্তানি সেনাদের তথ্য দিতেন। চট্টগ্রামের কুমিরায় এক রাতে মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে ৪৫ জনকে হত্যা করা হয়।



Click This Link





Click This Link

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +১২/-৫

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:০৩

রাজসোহান বলেছেন: ইয়ে , কিছু মনে নিয়েন না , জাফরিন ভাবির মাথায় কিঞ্চিত গোলযোগ আছে :P

১০ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:৩৪

াহো বলেছেন: "ঘাতকের দিনলিপি"


Click This Link

২| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:০৫

মোরশেদুল আজাদ পলাশ বলেছেন: মহিলা ছাগুর কি শুভবুদ্ধির উদয় হইব?
++সহ প্রিয়তে।

৩| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:০৬

জাফরীন সুপ্তি বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম

সকলই বাকশালী অপপ্রচার।

খোদা হাফেজ।

৪| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:০৮

াহো বলেছেন: এপ্রিল ১৯৭১
ঢাকায় নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত – দৈনিক পাকিস্তান- এপ্রিল ১১, ১৯৭১
মিছিলে নেতৃত্ব দেন গোলাম আযম ও নিজামী – দৈনিক সংগ্রাম -এপ্রিল ১৩, ১৯৭১
পাকিস্তান রক্ষার জন্য গোলাম আযমের মোনাজাত – দৈনিক সংগ্রাম -এপ্রিল ১৩, ১৯৭১

নুরুল আমিনের নেতৃত্বে শান্তি কমিটির প্রতিনিধি দল পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর টিক্কা খানের সাথে দেখা করে নাগরিকদের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ও শান্তি প্রতিষ।ঠায় অগ্রগতির কথা অবহিত করেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তাদের সমর্থন পুন:ব্যক্ত করেন। – ঢাকায় নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত – দৈনিক পাকিস্তান- এপ্রিল ১৭, ১৯৭১
ভারত মুসলমানদের হিন্দু বানাতে চাচ্ছে তাই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে – মৌলবী ফরিদ আহমেদ - – দৈনিক সংগ্রাম -এপ্রিল ১৬, ১৯৭১
‘যেখানে তথাকথিত মুক্তিবাহিনী আলবদর সেখানেই’ এই স্লোগান নিয়ে কুখ্যাত বদর বাহিনী গঠিত হয় ২২ এপ্রিল, ১৯৭১ -দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ -এপ্রিল ২২/২৩, ১৯৭১
সশস্ত্র বাহিনীকে সাহায্যে করার আহ্বান – আহ্বায়ক শান্তি কমিটি- দৈনিক পাকিস্তান -এপ্রিল ২৩, ১৯৭১

মে ১৯৭১
নয়া সাম্রাজ্যবাদ নস্যাত করার জন্য শাহ আজিজের আহ্বান- দৈনিক পূর্বদেশ ৫ মে, ১৯৭১
শান্তি কমিটির তৎপরতা, মুন্সিগন্জে পাক সেনাদের বিপুল সম্বর্ধনা – দৈনিক পূর্বদেশ ১২ মে, ১৯৭১
সামরিক সরকার ২৫ মার্চ রাত্রে পাকিস্তানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন; তিনি শ্রী তাজউদ্দিন হয়ে গেছেন – দৈনিক সংগ্রাম ৮ মে, ১৯৭১
আল্লাহু আকবরের জায়গায় জয় বাংলা দখল করে নিয়েছে – দৈনিক সংগ্রাম ১২ মে, ১৯৭১
শান্তি কমিটির আবেদন : দেশের শত্রুদের মোকাবেলা করুন – দৈনিক পূর্বদেশ ১৮ মে, ১৯৭১
শান্তি কমিটির আবেদন -পাকিস্তানের শত্রুদের ধরিয়ে দেয়ার জন্যে সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করুন – দৈনিক আজাদ/পূর্বদেশ মে, ১৯৭১
যে কোন মূল্যে ভারতের চক্রান্ত নস্যাৎ করব -মওলানা আশরাফ আলী – দৈনিক আজাদ, ১৯ মে, ১৯৭১
জামাতে ইসলামী সেক্রেটারী জেনারেল রহমতে এলাহী বলেন- নতুন করে নির্বাচন চাই – দৈনিক পূর্বদেশ, ২৪ মে, ১৯৭১
অতি সম্প্রতি আমাদের দেশের একদল লোক হিন্দুদের সাথে যোগ দিয়েছে – পাকিস্তানের দুশমনদের নিশ্চিন্হ করার আহ্বান – মওলানা সিদ্দিক আহমেদ – দৈনিক আজাদ, ২৪ মে, ১৯৭১
জামাতের নেতা মওলানা ইউসুফ খুলনার শাহজাহান আলী রোডে অবস্থিত আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন জামাত কর্মী নিয়ে প্রথম রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলেন – দৈনিক পাকিস্তান/আজাদ, ২৫-২৭ মে, ১৯৭১

জুন, ১৯৭১
বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো, হাফেজ্জী হুজুর ও মাওলানা মওদুদী বললেন মুজিব বিচ্ছন্নতাবাদী
মওদুদীর বক্তব্য -শেখ মুজিবের দল গুন্ডামী ও মারামারী করে নির্বাচনে জয়ী হয় -পাকিস্তানী বাহিনীর হস্তক্ষেপ যৌক্তিক- দৈনিক পাকিস্তান, জুন ৬, ১৯৭১
মুজিবের বিচ্ছন্নতাবাদী আন্দোলন জনতা সমর্থন করেনি – মাওলনা মওদুদী – দৈনিক সংগ্রাম ৭ জুন, ১৯৭১
মীর জাফর কারা? – সম্পাদকীয় – দৈনিক সংগ্রাম ৮/৯ জুন, ১৯৭১
তাজুদ্দিন ও তোফায়েলসহ অন্যান্যদের ফৌজদারী আদালতে বিচার করা হবে – দৈনিক সংগ্রাম ১০ জুন, ১৯৭১
শান্তি কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য- দুস্কৃতিকারী গেরিলাদের গেরিলা স্টাইলে নির্মুল করা; ভারত ফেরত হিন্দুরা কড়া পাকিস্তান ভক্ত -সম্পাদকীয় – দৈনিক সংগ্রাম ১৩/১৪ জুন, ১৯৭১
সরকারী প্রেসনোটে পহেলা বৈশাখ নববর্ষের ছুটি বাতিল, ২৪০টি রাস্তার নামকরন হিন্দু থেকে মুসলিম করন, ৬৯টি বই নিষিদ্ধ- হিন্দুরা মুসলমানদের অস্তিত্ব বিলোপের কাজ করেছে – এই সংবাদে দৈনিক সংগ্রামের উপসম্পাদকীয় জুন, ১৯৭১
বিভিন্ন স্খানে শান্তি কমিটর সভা – ভারত ও তাবেদারদের বিরুদ্ভে প্রতিরোধের দৃঢ় সংকল্প – দৈনিক পাকিস্তান ১৭ জুন, ১৯৭১
পূর্ব পাকিস্তানীরা সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানী ভাইদের সাথে একত্রে বসবাস করবে – গোলাম আযম দৈনিক সংগ্রাম -২৯শে জুন, ১৯৭১
লাহোরে সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যাপক গোলাম আজম:

“শেখ মুজিব প্রকাশ্যে কখনও স্বাধীনতার জন্যে চিৎকার করেন নি বরং মওলানা ভাষানীই বিচ্ছিন্নতাবাদের দাবী তোলেন। পূর্ব পাকিস্তানের অখন্ডতা বজায় রাখতে সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া উপায় ছিল না।”

- দৈনিক সংগ্রাম -২৯শে জুন, ১৯৭১

জুলাই ১৯৭১
জয় বাংলা স্লোগানে পূর্ব পাকিস্তানের আকাশ বাতাস কলুষিত হয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষদের ধর্ম বিরোধী অত্যাচার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ময়দানে রাজাকারদের ক্ষূদ্র অস্ত্র দিয়ে গুলী চালানোর ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে – দৈনিক সংগ্রাম – ১-৫ জুলাই, ১৯৭১
জামাত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের আহ্বান- গ্রামে গ্রামে রক্ষীদল গঠন করুন – দৈনিক পাকিস্তান ৩রা জুলাই ১৯৭১
জনগণ এখন স্বেচ্ছায় রাজাকার ট্রেনিং নিচ্ছে – জামাত নেতা আব্দুল খালেক – দৈনিক সংগ্রাম ৯ জুলাই, ১৯৭১
৭০ এর নির্বাচন প্রত্যক্ষভাবে ঘর ভাঙার নির্লজ্জ চক্রান্ত – দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয় ১২ জুলাই, ১৯৭১
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীদের জীবনের নিরাপত্তা নেই একথা ভিত্তিহীন – ড: সাজ্জাদ হোসেন – দৈনিক পাকিস্তান ৯ জুলাই, ১৯৭১
বরিশালের শান্তি কমিটির সভায় আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বক্তৃতা – দৈনিক সংগ্রাম ১৮ জুলাই, ১৯৭১
সেনাবাহিনী কুখ্যাত শহীদ মিনারটি ধ্বংস করে মসজিদ গড়েছে – দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয় ১৬ জুলাই, ১৯৭১
ফজলুল কাদের চৌধুরী – পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে - দৈনিক পাকিস্তান ১৮ জুলাই, ১৯৭১
ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রেসিডেন্টের ফর্মূলা বর্তমান সংকটের একমাত্র সমাধান, শেখ মুজিবের বিচার শূরুর আবেদন – জামাত অস্থায়ী আমীর মীর তোফায়েল মোহাম্মদ – দৈনিক পাকিস্তান ২৪ জুলাই, ১৯৭১
আলেমদের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সহযোগিতার আহ্বান – দৈনিক পাকিস্তান ২৬ জুলাই, ১৯৭১
সামরিক আইনে রাজাকারদের যে কোন লোককে গ্রেফতার করার ক্ষমতা প্রদান- রাজাকারদের অত্যাচার বৃদ্ধি

আগস্ট ১৯৭১
পাক সেনারা আমাদের ভাই, তারা জেহাদী চেতনায় উজ্জীবিত – মতিউর রহমান নিজামী – দৈনিক সংগ্রাম ৩রা আগস্ট, ১৯৭১
সেনাবাহিনী আওয়ামী লীগের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেয়- দৈনিক সংগ্রাম ৭ই আগস্ট, ১৯৭১
পাকিস্তান টিকলেই এদেশের মুসলমানরা টিকবে, দুনিয়ার কোন শক্তিই পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। গ্রামে গন্জের প্রতিটি এলাকা থেকে শত্রুর চিন্হ মুছে ফেলার আহ্বান – নিজামী -দৈনিক সংগ্রাম ৫ই আগস্ট, ১৯৭১
পাকিস্তান অখন্ডতা ও সংহতি সংরক্ষণ এ্যাকশন কমিটি গঠন – দৈনিক সংগ্রাম ৯ই আগস্ট, ১৯৭১
তাদের এজেন্ডা:


× উর্দু একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, বাংলা সাইনবোর্ড ইত্যাদি অপসারন, রোমান হরফে বাংলা লেখার আহ্বান।
× কাফের কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা বর্জন।
× পূর্ব পাকিস্তানের রেডিও টিভিতে শতকরা ৫০% অনুষ্ঠান উর্দুতে হবে।
× জাতীয় স্বার্থে উচ্চপদ থেকে বাঙালী অফিসারদের অপসারন করতে হবে।
× রাজাকার বাহিণীর বেতন এবং শান্তি কমিটির ব্যয় নির্বাহের জন্যে হিন্দু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
× তিনমাসের জন্যে বিদেশী সাংবাদিকদের বহিস্কার করতে হবে।
তথাকথিত বাংলাদেশ আন্দোলনের সমর্থকরা ইসলাম, পাকিস্তান ও মুসলমানদের দুশমন – গোলাম আযম – দৈনিক সংগ্রাম ১২ই আগস্ট, ১৯৭১
দুস্কৃতকারীদের এর পরিণাম ফল ভোগ করতে হবে – মতিউর রহমান নিজামী – দৈনিক সংগ্রাম ১২ই আগস্ট, ১৯৭১
পাকিস্তান ভূখন্ডের নাম নয় একটি আদর্শের নাম – মতিউর রহমান নিজামী – দৈনিক সংগ্রাম ১৬ই আগস্ট, ১৯৭১
পাকিস্তানের শত্রুর মোকাবেলার আহ্বান – নুরুল আমীন, গোলাম আযম, শফিকুল ইসলামদৈনিক সংগ্রাম
পাকিস্তান অর্থ পবিত্র স্থান – গোলাম আজম- দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয় ১৬/১৮ই আগস্ট
জামাতের একজন সদস্যও পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাদেশ আন্দোলনে নিজেদের কোন ক্রমেই জড়িত করেনি – মওলানা আব্দুর রহিম – দৈনিক সংগ্রাম ১৮-২১ আগস্ট
আনসার অর্ডিন্যান্স বিলুপ্ত করে রাজাকার অর্ডিন্যান্স জারিদৈনিক ইত্তেফাক, ২২শে আগস্ট, ১৯৭১
ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোন সমাধান গ্রহণযোগ্য নয় – মাহমুদ আলীদৈনিক আজাদ, ২৪শে আগস্ট, ১৯৭১
পাকিস্তানকে যারা বিচ্ছিন্ন করতে চায়- তারা ইসলামকেই উৎখাত করতে চায় – নিজামী
সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান রক্ষা করেছে – গোলাম আজম- দৈনিক সংগ্রাম ২৭ আগস্ট, ১৯৭১
হিন্দু ভারতের নিরপেক্ষ আদর্শের প্রচারক আওয়ামী লীগ – দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয় ৩০ আগস্ট, ১৯৭১
নোয়াখালীর পল্লীতে জনসভা পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার আহ্বান- দৈনিক আজাদ, ২৯শে আগস্ট, ১৯৭১
অধ্যাপক আতিকুজ্জামানের বক্তৃতা: পাকিস্তান কেয়ামত পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকবে -দৈনিক আজাদ, ৩০শে আগস্ট, ১৯৭১
দেশে পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্খা কায়েম না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থহীন – আব্দুর রহিমদেনিক সংগ্রাম, ২৯শে আগস্ট, ১৯৭১
নিজামী ও গোলাম আজম – দৈনিক সংগ্রাম

সেপ্টেম্বর ১৯৭১
বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষনার দাবী – গোলাম আযম দেনিক পাকিস্তান, ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিশ্বাসঘাতক – মিনহাজ শহীদ – দেনিক সংগ্রাম, ১ম সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ভারতীয় এজেন্ট – দেনিক সংগ্রাম

রেজাকার ও বদর বাহিনীর মরনাঘাত
পাক সেনানায়করা রেজাকারদের কৃতিত্ব আনন্দিত ও গর্বিত
অপবাদ মূলত সামরিক সরকারকেই দেয়া হচ্ছে

পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারবে না
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দিবসে গোলাম আজম ও মতিউর রহমান নিজামী
ছাত্রসংঘ কর্মীরা পাকিস্তানের প্রতি ইঞ্চি জায়গা রক্ষা করবে – মতিউর রহমান নিজামী
যশোহরে ছাত্রনেতা মতিউর রহমান নিজামীর মন্তব্য : পাতা ১, পাতা ২ – দৈনিক সংগ্রাম – ১৫ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
আল্লাহ তাদের লাঞ্জিত করেছেন- মতিউর রহমান নিজামী : পাতা ১, পাতা ২
পাকিস্তান হাসিলের লক্ষ্য বাস্তবায়িত না হওয়ায় বর্তমান সংকটের কারণ – আব্বাস আলী খান -দৈনিক সংগ্রাম – ২০শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
যশোহরের রাজাকার সদর দফতরে মতিউর রহামন নিজামী : পাতা ১, পাতা ২
জামাত বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ মেনে নিতে রাজী নয় : গোলাম আজম - দৈনিক পাকিস্তান ২৬শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
বিপদগামী তরুণদের সঠিক পথ দেখান : জেনারেল নিয়াজী -দৈনিক পাকিস্তান ২৮শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

গণতন্ত্র পুণ: প্রতিষ্ঠাই দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পূর্বশর্ত : নূরুল আমীন
সংবর্ধনা সভায় গোলাম আযমের ভাষণ – দৈনিক সংগ্রাম ২৬শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
নিউইয়র্কে এ.টি. সাদী – বাংলাদেশ আন্দোলন ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র -দৈনিক পাকিস্তান ২৭শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
আব্বাস আলী খান, মতিউর রহমান নিজামীর বক্তব্য

অক্টোবর ১৯৭১
শান্তি কমিটি সদস্যরা ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছে
রেজাকার বাহিনীর হাতে ভারী অস্ত্র দেবার আহ্বান

আব্বাস আলী খান, আখতার উদ্দীন আহমদ, ওবায়দুল্লাহ মজুমদার ও গোলাম আজম বলেন
স্বাধীন বাংলা জিগিরের উদ্দেশ্য মুসলমানদের হিন্দু বানানো - দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয়, ১০ অক্টোবর, ১৯৭১
তথাকথিত মুক্তিবাহীনির শতকরা ৯০ জন হিন্দু – দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয়, ১৩ অক্টোবর, ১৯৭১
আব্বাস আলী খান, ইউসুফ বলেন
জামাতে ইসলামী নিরলসভাবে শান্তি কমিটির সাথে কাজ করে যাচ্ছে – গোলাম আজম
দেশটা আল্লাহর ফজলে টিকে গেল
বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে গণজমায়েতে অধ্যাপক গোলাম আজম, ভুট্রো বিচ্ছিন্নতাবাদের পথ প্রশস্ত করছে
ভারতের প্রচারণা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে – শাহ আজিজ- দৈনিক পাকিস্তান ২৫শে অক্টোবর, ১৯৭১
জসীম উদ্দীন আহমেদ, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মওলানা ইউসুফ, ড: মালেক প্রমুখ বলেন
৬ নেতার যুক্ত বিবৃতি- দৈনিক ইত্তেফাক, ২৭শে অক্টোবর, ১৯৭১
দুস্কৃতিকারীদের গুলিত শান্তি কমিটির সদস্য আহত : পাতা ১, পাতা ২, পাতা ৩

নভেম্বর ১৯৭১
রেজাকারদের হাতে ৪ ভারতীয় চর খতম- দৈনিক সংগ্রাম, ৫ নভেম্বর, ১৯৭১
প্রেসিডেন্ট সকাশে নূরুল আমীন : রাজাকারদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও তাদের আরো অস্ত্র দেয়ার সুপারিশ পাতা ১, পাতা ২
হয় শহীদ নয় গাজী
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও আব্দুল খালেক বলেন
প্রদেশব্যাপি বদর দিবস পালিত -দৈনিক সংগ্রাম ১০ নভেম্বর, ১৯৭১
ভারত আক্রমণ করলে কোলকাতা ও দিল্লীতে নামাজ পড়বো – আব্বাস আলী খান- দৈনিক সংগ্রাম ১০ নভেম্বর, ১৯৭১
আল বদর বাহিনীর অভিযান: ৪০ মুক্তিযোদ্ধা গ্রেফতার- দৈনিক সংগ্রাম ১১ নবেম্বর, ১৯৭১
বদর দিবসে বায়তুল মোকাররমে জনসভা: ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ মোকাবেলার আহ্বান
বদর দিবসের ডাক-দৈনিক সংগ্রাম ১২ নভেম্বর, ১৯৭১
রাজস্ব মন্ত্রীর সাতক্ষীরা রেজাকার শিবির পরিদর্শন- দৈনিক সংগ্রাম ১৩ নভেম্বর, ১৯৭১
বিভিন্ন স্খানে বদর দিবস পালিত -দৈনিক সংগ্রাম ১৪ নভেম্বর, ১৯৭১
পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন ধ্বংস করতে হবে – জাামাতে ইসলামী
সেনাবাহিনীর পরেই রাজাকারদের স্থান
৯৩ জন বাঙালী সিএসপি, ৪২ জন ইপিসিএস, এবং ৪ জন অধ্যাপকের ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
কিছু রাষ্ট্রদ্রোহী কলকাতা থেকে বাবুদের ডেকে নিয়ে এসেছে
গোলাম আজম শেখ মুজিবের জায়গা দখল করতে সবই করে যাচ্ছেন
পাক সেনাবাহিনীর সহায়তায় বদর বাহিনী গঠিত হয়েছে – নিজামী
বদরবাহিনী হিন্দুস্তানকে খতম করবে -নিজামী
রাজাকারদের জাতীয় বীর বলা উচিৎ
দুস্কৃতিকারীদের চক্রান্ত বানচাল করার আহ্বান – জামায়াত
প্রধানমন্ত্রীর পদ পূর্ব পাকিস্তানকে দিতে হবে – গোলাম আজম
জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য – গোলাম আজম
পাকিস্তান আল্লাহর ঘর – মতিউর রহমান নিজামী
আওয়ামী লীগের যে পরিণতি হয়েছে ভুট্টোরও সে পরিণতি হবে – গোলাম আজম
আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে – গোলাম আযম – দৈনিক সংগ্রাম, ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১
দেশপ্রেমিক জনগণ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত – গোলাম আযম – দৈনিক সংগ্রাম, ২৮ নভেম্বর, ১৯৭১
নেতৃবৃন্দের বজন্সকঠোর ঘোষণা : পাতা ১, পাতা ২ – দৈনিক সংগ্রাম, ৩০ নভেম্বর, ১৯৭১
আক্রান্ত হলে জেহাদ ফরজ হয়ে যায় – মওদুদী
রবিন্দ্র মার্কা লারেলাপ্পা গান

ডিসেম্বর ১৯৭১
আল বদর আল শামস বাহিনীর সংখ্যা এক লাখেরও বেশী – ইউসুফ

৫| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:০৯

বল্টু মিয়া বলেছেন: রাজাকার কথার মানে এখন চেন্জ হয়ে গেছে।এখন রাজাকার বলতে ৭১ এ পাকিস্তানি দালাল দের ই বুঝায়।সাহায্যকারী মুলমান না।

৬| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:১৩

াহো বলেছেন: ১৯৭২ সালে গোলাম আযম লন্ডনে 'পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি' গঠন করেন এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে আবার এই ভূখন্ডকে পাকিস্তানের অংশে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করেন।


Click This Link

৭| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:১৫

মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: আর কত বলবো। সবাই এসব জানে। তবুও খালি তেনা পেচায়। :(

এদের কবে যে আল্লাহ একটু বুদ্ধি সুদ্ধি দিবে।

৮| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:১৯

মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: জাফরিন সুপ্তি একটা ছাগুশিবির নিক।

গার্লফেন্ডের বা মগবাজারের ২০০ টাকার.............ছবি প্রপিকে দিয়ে রাখসে।

৯| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:২০

জাফরীন সুপ্তি বলেছেন: এদের কবে যে আল্লাহ একটু বুদ্ধি সুদ্ধি দিবে।

আসসালামু আলাইকুম

হিজবুত তাহরীরের মাথায় অনেক বুদ্ধি!

খোদা হাফেজ।

১০| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:২৮

মানজুর মজুমদার বলেছেন: ইতিহাস এখন আর বিশ্বাস হয়না; এদেশের ইতিহাস যে যার যার মত করে সৃষ্টি করেছে, করছে এবং করবে।
এগুলো শুধু বইয়ের পাতায়,ম্যাগাজিনেই মানায়, বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। ১/১১, কিংবা আরও অনেক ঘটনা আছে যেগুলো একেকজন তার মতবাদের আলোকে বিশ্বাস করে।
রাজাকারদের আমি ঘৃণা করি, তার মানে এই না যে তদের মৃত্যুদন্ড দেশকে শান্তি এনে দিবে। আমাদের করণীয় হওয়া উচিত দেশের কল্যাণের জন্য কিছু করা।

১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:৪৯

াহো বলেছেন: দি সানডে টাইমস, ১৩ জুন ১৯৭১

অনুবাদ: ফাহমিদুল হক

পাঁচ মিলিয়ন লোক বাস্তুভিটা ছেড়ে কেন পালিয়ে গেছে সে মর্মান্তিক কাহিনী নিয়ে পাকিস্তান থেকে এসেছেন সানডে টাইমসের রিপোর্টার।

মার্চের শেষ থেকে পাকাসেনারা পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে চলেছে। মার্চের শেষ থেকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সংবাদ-ধামাচাপা-দেয়ার পেছনের মর্মান্তিক কাহিনী হলো এই। কলেরা আর দুর্ভিক্ষ নিয়েও ৫০ লক্ষ লোকের পূর্ব পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতে চলে আসার এই হলো কারণ।

সানডে টাইমসের পাকিস্তান-প্রতিনিধি অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস এই প্রথামবারের মতো নিরবতার পর্দা উন্মোচন করলেন। তিনি সেখানে পাকসেনাদের কীর্তিকলাপ দেখেছেন। তিনি পাকিস্তান ছেড়ে এসেছেন বিশ্ববাসীকে সেসব জানানোর জন্য। সেনাবাহিনী শুধু স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলা বা বাংলাদেশ ধারণার সমর্থকদেরই হত্যা করছে না। স্বেচ্ছাকৃতভাবে খুন করা হচ্ছে হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান সবাইকে। হিন্দুদের গুলি করে বা পিটিয়ে মারা হচ্ছে তারা কেবল হিন্দু বলেই। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাসের রিপোর্টের পেছনেও রয়েছে একটি দারুণ গল্প।

ঁঁঁ
মার্চের শেষের দিকে পূর্ব পাকিস্তানে দুই ডিভিশন পাকসেনা গোপনে পাঠানো হয় বিদ্রোহীদের ‘খুঁজে বের করা’র জন্য। কিন্তু দু-সপ্তাহ পরে পাকিস্তান সরকার আটজন পাকিস্তানী সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানায় পূর্ব পাকিস্তানে উড়ে যাবার জন্য। সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের প্রভাবিত করে পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণকে এই ধারণা দেয়াই এর উদ্দেশ্য ছিল যে, দেশের পূর্বাংশে ‘সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে এসেছে’। সাতজন সাংবাদিক তাদের কথামতো কাজ করেছেন। কিন্তু তা করেননি একজন — তিনি হলেন করাচির মর্নিং নিউজ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও সানডে টাইমসের পাকিস্তান-প্রতিনিধি অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস।

১৮ মে মঙ্গলবার তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে এসে হাজির হন লন্ডস্থ দি সানডে টাইমসের কার্যালয়ে। আমাদের জানালেন, পূর্ব বাংলা ছেড়ে ৫০ লক্ষ লোককে কেন চলে যেতে হয়েছে তার পেছনের কাহিনী। তিনি সোজাসাপ্টভাবে জানালেন এই কাহিনী। এই কাহিনী লেখার পর তার পক্ষে আর করাচি ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না। তিনি জানালেন তিনি পাকিস্তানে আর ফিরে না-যাবার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন; এজন্য তাকে তার বাড়ি, তার সম্পত্তি, এবং পাকিস্তানের সবচেয়ে সম্মানীয় একজন সাংবাদিকের মর্যাদার মায়া ত্যাগ করতে হবে। তার মাত্র একটি শর্ত ছিল: পাকিস্তানে গিয়ে তার স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তানকে নিয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা যেন তার রিপোর্ট প্রকাশ না করি।

সানডে টাইমস রাজি হয় এবং তিনি পাকিস্তানে ফিরে যান। দশ দিন অপেক্ষা করার পর সানডে টাইমসের এক নির্বাহীর ব্যক্তিগত ঠিকানায় একটি বৈদেশিক তারবার্তা আসে। তাতে লেখা ছিল, ‘আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন, সোমবার জাহাজ ছাড়বে।’ দেশত্যাগ করার ব্যাপারে স্ত্রী ও সন্তানদের অনুমতি পেতে ম্যাসকারেনহাস সফল হন। তার দেশত্যাগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে তিনি কোনোরকমে একটা রাস্তা পেয়ে যান। পাকিস্তানের ভেতরে যাত্রার শেষ পর্যায়ে তিনি প্লেনে একজন তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে দেখতে পান যাকে তিনি ভালোমতোই চিনতেন। এয়ারপোর্ট থেকে একটি ফোনকল তাকে গ্রেফতার করার জন্য যথেষ্ট ছিল। তবে কোনো ফোনকল হয়নি এবং তিনি মঙ্গলবার লন্ডনে এসে পৌঁছান।

পূর্ব পাকিস্তানে ম্যাসকারেনহাস বিশেষ কর্তৃত্ব ও নিরপেক্ষতা সহকারে যা দেখেছেন তা লিখেছেন। তিনি গোয়ার একজন ভদ্র খ্রিস্টান, তিনি হিন্দু বা মুসলমান কোনোটাই নন। জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন পাকিস্তানে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের উদ্ভবের পর থেকেই তিনি পাকিস্তানের পাসপোর্টধারী। তখন থেকে তিনি পাকিস্তানের অনেক নেতার আস্থা অর্জন করেছেন এবং এই রিপোর্ট লিখছেন সত্যিকারের ব্যক্তিগত দুঃখবোধ থেকে।

তিনি আমাদের কাছে বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আমাদের জানান সেনাবাহিনী যে বিরাট দেশপ্রেমের কাজ করছে, ব্যাপারটা সেভাবে উপস্থাপন করতে।’ তিনি তার প্রতিবেদনের জন্য যা দেখেছেন এবং রিপোর্ট করেছেন সে-সম্পর্কে কোন সন্দেহই থাকতে পারে না । তাকে একটি রিপোর্ট লেখার অনুমতি দেয়া হয় যা সানডে টাইমসে ২ মে প্রকাশিত হয়। রিপোর্টটিতে কেবল মার্চ ২৫/২৬-এর ঘটনার বিবরণ ছিল, যখন বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ করে এবং অবাঙালিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এমনকি দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ সেন্সর করেছিল। এ-ব্যাপারটিই তার নীতিবোধকে পীড়া দিচ্ছিল। কিছুদিন পরে, তার ভাষায়, তিনি স্থির করলেন যে, “হয় যা দেখেছি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ লিখবো, নয়তো লেখাই বন্ধ করে দেবো; নইলে সততার সঙ্গে আর লেখা যাবে না।” তাই তিনি প্লেনে চেপেছেন এবং লন্ডন চলে এসেছেন।

পূর্ব বাংলা থেকে আসা শরণার্থী ও নিরপেক্ষ কূটনীতিবিদদের মধ্যে যাদের এসব ঘটনা সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা রয়েছে তাদের দ্বারা তার প্রতিবেদন আমরা বিস্তৃতভাবে যাচাই করতে সমর্থ হয়েছি।

শরণার্থীরা কেন পালিয়েছে: সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে যাবার পরের বিভীষিকার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

আবদুল বারী ভাগ্যের ভরসায় দৌড় দিয়েছিল। পূর্ব বাংলার আরো হাজার মানুষের মতো সেও একটা ভুল করে ফেলেছিলো — সাংঘাতিক ভুল –ও দৌড়াচ্ছিলো পাকসেনাদের একটি টহল-সেনাদলের দৃষ্টিসীমার মধ্যে। পাকসেনারা ঘিরে দাঁড়িয়েছে এই চব্বিশ বছরের সামান্য লোককে। নিশ্চিত গুলির মুখে সে থরথরিয়ে কাঁপে। “কেউ যখন দৌড়ে পালায় তাকে আমরা সাধারণত খুন করে ফেলি”, ৯ম ডিভিশনের জি-২ অপারেশনস-এর মেজর রাঠোর আমাকে মজা করে বলেন। কুমিল্লার বিশ মাইল দক্ষিণে মুজাফরগঞ্জ নামে ছোট্ট একটা গ্রামে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। “ওকে আমরা চেক করছি কেবল আপনার খাতিরে। আপনি এখানে নতুন এসেছেন, এছাড়া আপনার পেটের পীড়া রয়েছে।”
“ওকে খুন করতে কেন?” উদ্বেগের সঙ্গে আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম।
“কারণ হয় ও হিন্দু, নয়তো বিদ্রোহী, মনে হয় ছাত্র কিংবা আওয়ামী লীগার । ওদের যে খুজছি তা ওরা ভালমতো জানে এবং দৌড়ের মাধ্যমে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে।”
“কিন্তু তুমি ওদের খুন করছো কেন? হিন্দুদেরই বা খুঁজছ কেন?” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম । রাঠোর তীব্র কন্ঠে বলেন: “আমি তোমাকে অবশ্যই মনে করিয়ে দিতে চাই, তারা পাকিস্তান ধ্বংস করার কী রকম চেষ্টা করেছে। এখন যুদ্ধের সুযোগে ওদের শেষ করে দেয়ার চমৎকার সুযোগ পেয়েছি।”
“অবশ্য,” তিনি তাড়াতাড়ি যোগ করেন, “আমরা শুধু হিন্দুদেরই মারছি। আমরা সৈনিক, বিদ্রোহীদের মতো কাপুরুষ নই। তারা আমাদের রমণী ও শিশুদের খুন করেছে।”

পূর্ব বাংলার শ্যামল ভূমির ওপর ছড়িয়ে দেয়া রক্তের কলঙ্কচিহ্নগুলি আমার চেখে একে একে ধরা পড়ছিল। প্রথমে ব্যাপারটা ছিল বাঙালিদের প্রতি বন্য আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অবাঙালিদের হত্যা। এখন এই গণহত্যা ঘটানো হচ্ছে পাকসেনাদের দ্বারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে। এই সুসংগঠিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হিন্দুরাই শুধু নয়, যারা সাড়ে ৭ কোটি জনসংখ্যার ১০ শতাংশ, বরং হাজার হাজার বাঙালি মুসলমানরাও। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যসহ সবাই এর মধ্যে রয়েছে। এমন কি ১৭৬,০০০ জন বাঙালি সৈনিক ও পুলিশ যারা ২৬শে মার্চে অসময়োপযোগী ও দুর্বল-সূচনার একটা বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন করতে চেয়েছিল, এর ভেতরে তারাও আছে।

এপ্রিলের শেষ দিকে পূর্ব বাংলায় দশদিনে চোখ আর কানে অবিশ্বাস্য যকিছু আমি দেখেছি ও শুনেছি তাতে এটা ভয়াবহভাবে পরিষ্কার যে এই হত্যাকাণ্ড সেনা কর্মকর্তাদের বিচ্ছিন্ন কোনো কার্যকলাপ নয়। পাক সেনাদের দ্বারা বাঙালিদের হত্যাকাণ্ডই অবশ্য একমাত্র সত্য নয়। ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানী সৈন্যরাই একমাত্র হত্যাকারী ছিল না, পূর্ব পাকিস্তানের সৈন্য ও প্যারামিলিটিারির সদস্যদের বন্য আক্রোশের শিকার হয়েছে অবাঙালিরা। কর্তৃপক্ষের সেন্সর আমাকে এই তথ্য জানানোর সুযোগ দিয়েছে। হাজার হাজার অভাগা মুসলিম পরিবার, যাদের অধিকাংশই ১৯৪৭ সনের দেশ বিভাগের সময় বিহার থেকে শরণার্থী হিশেবে পাকিস্তানে এসেছিল, প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। রমণীরা ধর্ষিত হয়েছে, বিশেষ ধরনের ছুরি দিয়ে কেটে নেয়া হয়েছে তাদের স্তন। এই ভয়াবহতা থেকে শিশুরাও রক্ষা পায়নি। ভাগ্যবানরা বাবা-মার সঙ্গেই মারা গেছে; কিন্তু চোখ উপড়ে ফেলা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিষ্ঠুরভাবে ছিঁড়ে নেয়া হাজার হাজার শিশুর সামনে ভবিষ্যত এখন অনিশ্চিত। চট্টগ্রাম, খুলনা ও যশোরের মতো শহরগুলো থেকে ২০,০০০-এরও বেশি অবাঙালির মৃতদেহ পাওয়া গেছে। নিহতদের সত্যিকারের পরিমাণ, পূর্ব বাংলার সর্বত্র আমি শুনেছি ১০০,০০০-এর মতো হতে পারে; কারণ হাজার হাজার মৃতদেহের কোনো চিহ্নই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পাক-সরকার ওই প্রথম ভয়াবহতা সম্পর্কে পৃথিবীকে জানতে দিয়েছে। কিন্তু যা প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি তা হলো, তাদের নিজেদের সেনাবহিনী যে-হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা ছিল দ্বিতীয় এবং ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড। পাক-কর্মকর্তারা উভয় পক্ষ মিলিয়ে নিহতদের সংখ্যা ২৫০,০০০-এর মতো বলে গণনা করেছে — এর মধ্যে দুর্ভিক্ষ এবং মহামারিতে মৃতদের ধরা হয়নি। দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত প্রদেশে সফল ধ্বংসকাণ্ড চালানোর মাধ্যমে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার পূর্ব পাকিস্তান-সমস্যাকে তার নিজস্ব ‘চরম সমাধানের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

“আমরা পূর্ব পাকিস্তানকে একেবারে সংশোধন করতে চাই এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার সব হুমকিকে রদ করার জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এর অর্থ যদি হয় ২০ লক্ষ লোককে হত্যা করা এবং প্রদেশটিকে ৩০ বছর ধরে কলোনি বানিয়ে রাখা, তবুও,” আমাকে বারবার এ-কথা শুনিয়েছেন ঢাকা ও কুমিল্লার ঊধ্বর্তন সামরিক ও সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ। পূর্ব বাংলায় পাকসেনারা ব্যাপকভাবে ও ভয়াবহভাবে ঠিক এই কাজটিই করে চলেছে।

চাঁদপুর ভ্রমণ শেষে অস্তায়মান সূর্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা ছুটে চলেছি (কারণ, বুদ্ধিমান পাক সেনারা পূর্ব বংলায় ভবনের ভেতরে রাত্রি যাপন করে)। টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারের পেছন থেকে হঠাৎ এক জওয়ান চেঁচিয়ে উঠল, “একটা লোক দৌড়িয়ে যাচ্ছে, সাহেব।” মেজর রাঠোর মুহূর্তেই গাড়ি থামিয়ে দিলেন, একই সঙ্গে চীনা এলএমজি তাক করলেন দরজার বিপরীতে। দুশো গজেরও কম দূরে হাঁটু-সমান উঁচু ধানক্ষেতের মধ্যে একটা লোককে ছুটে পালাতে দেখা গেল।

“আল্লাহর দোহাই, ওকে গুলি কর না,” আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, “ও নিরস্ত্র। ও একজন গ্রামবাসী মাত্র।”
আমার দিকে বাজেভাবে তাকিয়ে রাঠোর একটা সতর্কতামূলক গুলি করলেন। সবুজ ধানের গালিচায় লোকটা কুঁকড়ে ঢুকে যেতেই দু’জন জওয়ান এগিয়ে গেল তাকে টেনে-হিঁচড়ে আনতে।
বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাতের পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হল।
“তুমি কে?”
“মাফ করে দিন সাহেব, আমার নাম আব্দুল বারী। ঢাকায় নিউ মার্কেটে দর্জির কাজ করি।”
“মিথ্যে বলবে না। তুমি হিন্দু। না হলে দৌড়াচ্ছিলে কেন?”
“কারফিউয়ের সময় প্রায় হইয়া আসছে, সাহেব, আমি আমার গ্রামে যাইতেছিলাম।”
“সত্য কথা বল। দৌড়াচ্ছিলে কেন?”
প্রশ্নের উত্তর দেবার পূর্বেই তাকে একজন জওয়ান দেহ-তল্লাসী শুরু করল এবং আরেকজন দ্রুত তার লুঙ্গি টেনে খুলল। হাড়জিরজিরে নগ্ন শরীরে সুস্পষ্ট খৎনার চিহ্ন দেখা গেল, যা মুসলমানদের অবশ্যই করতে হয়।

ট্রাকভর্তি মানুষগুলোকে হত্যা করা হয়

অন্তঃতপক্ষে এটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ হল যে বারী হিন্দু নয়। তারপরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল।
“বল তুমি দৌড় দিয়েছিলে কেন?”
এতক্ষণে ওর চোখ বুনো হয়ে উঠল। ওর শরীরও কাঁপছিল প্রচণ্ডভাবে। সে উত্তর দিতে পরছিল না, সে হাঁটু চেপে ধরল।
“স্যার, মনে হচ্ছে ও ফৌজি।” বারী পা খামচে ধরায় এক জওয়ান মন্তব্য করে। (ফৌজি সৈনিকের উর্দু শব্দ, বাঙালি বিপ্লবীদের পাকসেনারা এই নামে চিহ্নিত করে থাকে।)
“হতে পারে।” আমি শুনলাম রাঠোর হিংস্রভাবে বিড়বিড় করল।
রাইফেলের বাট দিয়ে প্রচণ্ডভাবে পিটিয়ে আব্দুল বারীকে ভীষণ জোরে ছুঁড়ে দেয়া হল একটি দেয়ালের দিকে। তার আর্তনাদের পর কাছের কুঁড়েঘরের আড়াল থেকে এক তরুণকে উঁকি দিতে দেখা গেল। বাংলায় কী যেন চেঁচিয়ে বলল বারী। মাথাটি সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্হিত হল। কিছুক্ষণ পরেই খোঁড়াতে খোঁড়াতে কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে এল এক বুড়ো মানুষ। রাঠোর তাকে খামচে টেনে আনলো।
“এই লোকটাকে তুমি চেন?”
“হ্যাঁ সাহেব। ও আব্দুল বারী।”
“সে কি ফৌজি?”
“না সাহেব। হে ঢাকায় দর্জির কাম করে।”
“সত্যি কথা বল।”
“খোদার কসম, সাহেব, হে দর্জি।”
হঠাৎ নিরবতা নেমে এলো। রাঠোর অপ্রস্তুত হয়ে তাকালে আমি বললাম, “আল্লাহর দোহাই, ওকে যেতে দাও। ওর নির্দোষিতার আর কত প্রমাণ চাও?”
জওয়ানরা তবু সন্তুষ্ট হয় না, তারা বারীকে ঘিরে রাখে। আরো একবার বলার পর রাঠোর বারীকে ছেড়ে দেবার আদেশ দিলেন। ইতোমধ্যে সে ভয়ে জড়োসড়ো ও কুঞ্চিত হয়ে গেছে। তার জীবন বেঁচে গেল। অন্য সবার ভাগ্যে এমন সুযোগ আসে না।

৯ম ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমি ছয়দিন কুমিল্লায় ঘুরেছি। আমি কাছ থেকে দেখেছি গ্রামের পর গ্রাম, বাড়ির পর বাড়ি “অস্ত্র অনুসন্ধান”-এর ছলে খৎনা করা হয়নি এমন লোকদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে। কুমিল্লার সার্কিট হাউসে (বেসামরিক প্রশাসনের হেড কোয়ার্টার) মানুষদের মৃত্যুযন্ত্রণার আর্তরব আমি শুনেছি। কারফিউর নামে আমি দেখেছি ট্রাক বোঝাই লোক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খুন করার জন্য। সেনাবহিনীর “হত্যা ও অগ্নিসংযোগ মিশন’-এর পাশবিকতার আমি প্রত্যক্ষদর্শী। দেখেছি বিপ্লবীদের খতম করার পর কীভাবে গ্রাম-শহরে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে।

‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ” নিয়ে কীভাবে পুরো গ্রামকে ধ্বংস¯তূপে পরিণত করা হয়েছে তাও আমি দেখেছি। আর রাত্রিবেলা শুনেছি তাদের সারাদিনব্যাপী চালানো হত্যাকাণ্ডের অবিশ্বাসযোগ্য, বর্বর রোমন্থন। “তুমি কয়টা খতম করেছ?” তাদের উত্তর এখনও আমার স্মৃতিতে জ্বলন্ত।

যেকোনো পশ্চিম পাকিস্তানী অফিসার বলবে এর সবই করা হয়েছে ‘পাকিস্তানের আদর্শ, সংহতি ও অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখা’-র জন্য। কিন্তু অনেক দেরী হয়ে গেছে। ভারতের দ্বারা হাজার মাইল দূরত্বে অবস্থিত দুই অংশকে একত্রে রাখার জন্য এই তথাকথিত সামরিক কার্যক্রমই আদর্শের পতনকে প্রমাণ করেছে। পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত রাখা সম্ভব একমাত্র কঠোর সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে। আর পাকসেনাদল পাঞ্জাবীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যারা ঐতিহাসিকভাবেই বাঙালিদের অপছন্দ করে, ঘৃণা করে।

পরিস্থিতি এমন অবস্থায় এসেছে যে কিছু বাঙালিকেও পশ্চিম পাকিস্তানী দলের সঙ্গে দেখা গেছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে। ঢাকায় এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় এ-রকম আশ্চর্য অদ্ভুত অভিজ্ঞাতার মুখোমুখি হয়েছি আমি। “দুঃখিত”, সে আমাকে বলল, “ছক পাল্টে গেছে। আমি তুমি যে পাকিস্তানকে জানি, তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাকে পেছনেই থাকতে দাও।”

ঘণ্টাখানেক বাদে এক পাঞ্জাবী সেনা-কর্মকর্তা পাকসেনারা পদক্ষেপ নেয়ার আগের অবাঙালিদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডের কথা বলা আরম্ভ করল। সে আমাকে বলল, “১৯৪৭-এর দেশবিভাগের সময়কার শিখদের চাইতে পাশবিক আচরণ করেছে তারা। কীভাবে আমরা তা ভুলতে বা মাফ করতে পারি?” সেনাবাহিনীর এই উম্মত ধ্বংসকার্যের দু’টো গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একটিকে কর্তৃপক্ষ ‘শুদ্ধি অভিযান’ নামে চিহ্নিত করতে পছন্দ করেন যা মূলত ধ্বংসলীলাকেই নরমভাবে উচ্চারণ করা। অপরটি হল ‘পুনর্বাসন-উদ্যোগ”। পূর্ব বাংলাকে পশ্চিম পাকিস্তানের বশীভূত উপনিবেশ বানানোর প্রচেষ্টাকে এভাবে বর্ণনা করা হয়। এই ঢালাও অভিব্যক্তি এবং ‘দুষ্কৃতিকারী’ ও ‘হামলাকারী’ হিসেবে বারংবার উল্লেখ বিশ্বকে সন্তুষ্ট রাখার প্রয়াস। কিন্তু প্রচারণার অন্তরালে হত্যা ও উপনিবেশীকরণই হলো বাস্তবতা।

হিন্দুদের হত্যালীলার যৌক্তিকতা বিষয়ে ১৮ এপ্রিল রেডিও পাকস্তিান থেকে প্রচারিত পূর্ব পাকিস্তানের মিলিটারি গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের বক্তব্য আমি শুনেছি। তিনি বললেন “পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানরা পাকিস্তানের অভ্যুদয়ের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিল, তারা পাকিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতিজ্ঞ। কিন্তু হিংস্র ও আগ্রাসী সংখ্যালঘুরা জীবন ও ধনসম্পদ ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠদের দমন করেছে, আওয়ামী লীগকে বাধ্য করেছে হিংসাত্মক নীতি গ্রহণ করতে।”

অন্যরা যৌক্তিকতা খোঁজার ব্যাপারে আরো বোধ-বুদ্ধিহীন। “টাকার জোরে হিন্দুরা মুসলমান জনগণকে একেবারে খাটো করে দেখেছে,” কুমিল্লার অফিসার্স মেসে ৯ম ডিভিশনের কর্নেল নাঈম আমাকে জানান। “শুষে পুরো শহরকে ওরা রক্তশূন্য করে ফেলেছে। টাকা অর্থ পণ্য সব ভারতে চলে যায় সীমান্ত পার হয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজে অর্ধেকরও বেশি নিজেদের লোক ঢুকিয়ে আপন ছেলেদের পড়াশোনার জন্য পাঠিয়ে দেয় কলকাতায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে এসেছে যে বাঙালি সংস্কৃতি আসলে হিন্দু সংস্কৃতি এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে পরিচালনা করছে কলকাতার মাড়োয়াড়ি ব্যবসায়ীরা। জনগণের কাছে তাদের দেশকে ফিরিয়ে দিতে হলে এবং বিশ্বাসের কাছে জনগণকে ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের তাদের খুঁজে বের করতে হবে।”

অথবা মেজর বশিরের কথাই ধরা যাক। তিনি নিচুপদ পার হয়ে এ পর্যায়ে এসেছেন। কুমিল্লার ৯ম ডিভিশনের এই এসএসও-র নিজস্ব হত্যার খতিয়ান ২৮ বলে দম্ভও আছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে তার আছে একটা নিজস্ব ব্যাখ্যা। “এটা হল শুদ্ধ আর অশুদ্ধর মধ্যে যুদ্ধ”, এক কাপ সবুজ চা খেতে খেতে তিনি আমাকে কথাটা বলেন। “এখানকার লোকদের নাম হয়তো মুসলমানের, পরিচয়ও দেয় হয়তো মুসলমান বলে, কিন্তু মানসিকতায় এরা হিন্দু। আপনার বিশ্বাস হবে না, শুক্রবার এখানকার ক্যান্টনমেন্ট-মসজিদের মৌলবি ফতোয়া দিচ্ছিল যে পশ্চিম পাকিস্তানীদের খুন করলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। ওই জারজটাকে আমরা খুঁজে বের করেছি, বাদবাকিদেরও খুঁজছি। যারা ওতে অংশ নেয়নি তারা হল খাঁটি মুসলমান। আমরা এমন কি ওদের উর্দু শেখাবো।”

আমি প্রত্যেক জায়গার কর্মকর্তাদের দেখেছি তাদের হত্যালীলার পেছনে কল্পনামিশ্রিত যথেষ্ট যুক্তিও বানিয়ে নেন। কৃতকার্যের বৈধতা নিরূপণের জন্য অনেক কিছুই বলা যেতে পারে, নিজেদের মানসিক সন্তুষ্টির জন্যও সেটা প্রয়োজন, কিন্তু এই মর্মান্তিক ‘সমাধান’-এর মূল কারণটা রাজনৈতিক; বাঙালিরা নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঞ্জাবীদের আকাক্সক্ষা এবং স্বার্থ সরকারি নীতি-নির্ধারণে প্রাধান্য স্থাপন করেছে — ক্ষমতা হারানোর ব্যাপারটা তাদের কিছুতেই সহ্য হবে না। আর সামরিক বাহিনী এতে ইন্ধন যুগিয়েছে। কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে এই বলে সাফাই গেয়েছে যে, সামরিক বাহিনী হত্যাকাণ্ড শুরুর পূর্বে অবাঙালিদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার পাল্টা জবাব হিসেবে এখনকার পদক্ষেপগুলো নেয়া হচ্ছে। কিন্তু ঘটনাবলী এমনটা বলে না যে চলমান এই গণহত্যা তাৎক্ষণিক ও বিশৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে। এটা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

ভদ্র ও আত্মবিশ্বাসী অ্যাডমিরাল আহসানের কাছ থেকে পূর্ব বাংলার গভর্নরপদ এবং পণ্ডিতম্মন্য সাহেবজাদা খানের কাছ থেকে সামরিক ক্ষমতা লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান গ্রহণ করার পরই ‘অনুসন্ধান’-এর পরিকল্পনা শুরু হয়, এটা পরিষ্কার। এটা মার্চের শুরুর দিককার কথা, বাঙালিদের বিরাট প্রত্যাশা এসেম্বলি-সভা স্থগিত হবার পর যখন শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ-আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল হয়ে উঠেছে। বলা হয়ে থাকে যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে নিয়োজিত পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যদের দমন-পীড়নের পক্ষের লোক হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালাকে নিয়ন্ত্রণ করে চলছিল ঢাকাস্থ পাঞ্জাবী ইস্টার্ন কমান্ড। [এটা অত্যন্ত বাজে ব্যখ্যা যে খানরা এর সঙ্গে জড়িত নয়; খান পাকিস্তানীদের নামের একটি পদবী]

যখন ২৫ মার্চের রাতে পাকসেনারা ঢাকার পথে নামে, পরের দিন সকালে শহর এমনিতেই জনশূন্য ছিল, তাদের সঙ্গে ছিল যাদের শেষ করে দিতে হবে তাদের নামের তালিকা। এতে ছিল হিন্দু আর প্রচুর সংখ্যক মুসলমানের নাম — ছাত্র, আওয়ামী লীগ সমর্থক, অধ্যাপক, সাংবাদিক এবং মুজিবের সহায়তাকারী। মানুষকে বর্তমানে জানানো হচ্ছে যে সৈন্যদের আক্রমণের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ছাত্রদের আবাসিক ভবন জগন্নাথ হল, রমনা রেসকোর্স মন্দিরের কাছাকাছি অবস্থিত দু’টি হিন্দু কলোনি এবং তৃতীয়ত পুরনো ঢাকার বুকের ওপর শাখারিপট্টিতে। কিন্তু মার্চের ২৬ ও ২৭ তারিখের দিবারাত্রিব্যাপী কারফিউয়ের সময়ে ঢাকা ও নিকটস্থ নারায়নগঞ্জ শিল্প এলাকার হিন্দুদের কেন হত্যা করা হলো তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কারফিউর সময়ে রাস্তায় চলাচলকারী মুসলিমদেরও কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই লোকগুলোকে খতম করা হয়েছে পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে; হিন্দু দমনের বানোয়াট অভিযোগের ফল এলো আরো বিস্তৃতভাবে, অন্যরকমভাবে।

একটি পেন্সিলের খোঁচা, একটি লোকের ‘নিকাশ’

১৫ই এপ্রিল ঢাকায় ঘোরার সময় ইকবাল হলের ছাদে আমি চারটি ছাত্রের গলিত মাথা পড়ে থাকতে দেখেছি। তত্ত্বাবধায়ক জানান যে, তাদের হত্যা করা হয়েছে ২৫শে মার্চের রাত্রে। দুটো সিঁড়ি এবং চারটি ঘরে প্রচুর রক্তপাতের চিহ্নও আমি দেখেছি। ইকবাল হলের পেছনে একটি বিশাল আবাসিক ভবন সেনাবাহিনীর বিশেষ মনোযোগ পেয়েছিল বলে মনে হল। বিশাল দেয়ালগুলো গুলিতে ঝাঁঝরা এবং সিঁড়িতে বাজে গন্ধের রেশ রয়ে গেছে, যদিও এখানে প্রচুর ডিডিটির গুঁড়ো ছড়ানো হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান ২৩ জন নারী ও শিশুর মৃতুদেহ মাত্র ঘন্টাখানেক আগে সরিয়ে নেয়া হয়েছে গাড়িতে করে। ২৫ তারিখ থেকেই ছাদের ওপর লাশগুলো পচছিল। অনেক প্রশ্নের পর জানা গেল হতভাগ্যরা ছিল কাছের হিন্দু-বাড়ির। এই ভবনে তারা আশ্রয় নিয়েছিল।

এই গণহত্যা সাধন করা হয়েছে নিতান্ত নির্বিকারভাবে। ১৯শে এপ্রিল সকালে কুমিল্লার সামরিক আইন প্রশাসক মেজর আগার অফিসে বসে থাকার সময়ে আমি দেখেছি এ-সমস্ত নির্দেশ কী নির্মমতার সঙ্গে দেয়া হয়। এক বিহারী সাব-ইন্সপেক্টর বন্দিদের একটি তালিকা নিয়ে এল। ওটার দিকে তাকিয়ে নির্বিকারভাবে চারটি নামের পাশে পেন্সিলের খোঁচা দিয়ে আগা বললেন, “সন্ধ্যার সময় এই চারজনকে নিকাশের জন্যে নিয়ে এসো।” তালিকার দিকে তাকিয়ে আবার তিনি পেন্সিলের দাগ বসালেন, “এই চোরটাকেও নিয়ে এসো ওদের সঙ্গে।”

মৃত্যুর ঐ আদেশ দেয়া হলো নারকেলের দুধ খেতে খেতে। আমাকে জানানো হল যে বন্দিদের দুজন হিন্দু, তৃতীয়জন ‘ছাত্র’ এবং চতুর্থজন এক আওয়ামী লীগ নেতা। ‘চোরটি,’ জানা গেলো, নিজ বাড়ীতে তার বন্ধুকে থাকতে দিয়েছিল। পরে সন্ধ্যার দিকে দেখলাম একটি দড়ি দিয়ে হাত-পায়ে শিথিলভাবে বেঁধে সার্কিট হাউজগামী রাস্তা দিয়ে ওদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারফিউর কিছু পরে সন্ধ্যা ছয়টার সময় পাখিদের একটি দল কাছে কোথাও কিচিরিমিচির করছিল, হঠাৎ গুলির তীব্র শব্দে তাদের খেলায় ছেদ পড়ল।

বেলুচ রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন আজমতকে নিয়ে প্রায়ই মেসে দুটো ব্যাপার আলোচনা করা হতো। একটি হলো ৯ম ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসার মেজর জেনারেল শওকত রাজার এডিসি হিসেবে ওর চাকরি। অপরটি নিয়ে ওর সহকর্মীরা ওকে পেয়ে বসতো। জানা গেল আজমত দলের একমাত্র অফিসার যে কোনো ‘খুন’ করেনি। মেজর বশির তাকে নির্মমভাবে খোঁচাতো। “এই যে আজমত,” এক রাতে বশির তাকে বললেন, “কাল আমরা তোমাকে মানুষ করতে যাচ্ছি। কাল দেখব তুমি তাদের কেমন ধাওয়া দিতে পারো। ব্যাপারটা খুবই সোজা।” এই অসামর্থ্যরে জন্যে বশির তার সঙ্গে লেগেই থাকতেন। এসএসও-র চাকরি ছাড়াও বশির হেডকোয়ার্টারে ‘শিক্ষা কর্মকর্তা’ ছিলেন। তাকেই একমাত্র পাঞ্জাবী অফিসার দেখেছি, যে অনর্গল বাংলা বলতে পারতো।

শুনলাম বশিরের কাছে এক দাড়িঅলা একদিন সকালে তার ভাইয়ের খোঁজ নিতে এসেছিল। তার ভাই ছিল কুমিল্লার বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা। কিছুদিন আগে পাকসেনারা তাকে বন্দি করেছিলো। বশির তাকে জানালেন, “দৌড় গ্যায়া, পালিয়ে গেছে।” বুড়ো লোকটা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না কীভাবে ভাঙা পা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে। আমিও না। এ-ঘটনা বলে লম্বা হাসি দিয়ে মেজর বশির আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপলেন। পরে জেনেছি ওদের নিজস্ব ভাষায় ‘দৌড় গ্যায়া’ মানে হলো, “পালানোর সময় গুলি করে খুন।”

আমি জানতে পারিনি ক্যাপ্টেন আজমত কাউকে খুন করতে পেরেছিলেন কি না। চট্টগ্রামের সত্তর মাইল উত্তরে ফেনীর কাছে কুমিল্লা সড়কে বাঙালি-বিদ্রোহীরা পরিখা খনন করেছিল, সে-এলাকার সব ব্রিজ ও কালভার্ট ধ্বংস করে ৯ম ডিভিশনের চলাচলকে সীমিত করে রেখেছিল। ঢাকায় ইস্টার্ন কমান্ড থেকে একের পর এক বাজে খবর পেয়ে জেনারেল রাজা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিদ্রোহীদের পালিয়ে যাওয়া রদ করার জন্যে জরুরি হয়ে দাঁড়ায় দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত-অঞ্চল বন্ধ করে দেয়া। অথচ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে এসে পৌঁছানো অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যে বর্তমানে একমাত্র পথ হিশেবে উন্মুক্ত রাখাও দরকার হয়ে পড়ে। তাই জেনারেল রাজা সহজেই উত্তেজিত হয়ে যান। সেখানে তিনি উড়ে যেতেন প্রায় প্রত্যেক দিনই। ফেনীর ভেঙে পড়া ব্রিজ নিয়ে বকবক করতেন দীর্ঘসময় ধরে। ক্যাপ্টেন আজমত সবসময়ের মতো তখনো জেনারেলের ছায়া। আমি তাকে আর দেখতে পাইনি। পরবর্তী তিন সপ্তাহর জন্যে খোঁচা থেকে আজমত মোটামুটি রক্ষা পেয়েছিল। ফেনী ও সংলগ্ন অঞ্চল ৮ই মে ৯ম ডিভিশন আয়ত্তে আনতে পারলো। বাঙালি বিদ্রোহীরা বোমা ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এতোদিন সেখানে অবরোধ দিয়ে রেখেছিলো। শেষমেষ তারা সীমান্ত টপকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলে যায়।

৯ম ডিভিশন হেডকোয়ার্টারের জি-১ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসলাম বেগ ভারি অস্ত্রসহ বাঙালি বিদ্রোহীদের পালিয়ে যাওয়ার খবরে চিন্তিত হয়ে পড়েন। তিনি বললেন, “ভারতীয়রা তাদের ওখানে একদমই থাকতে দেবে না। ব্যাপারটা তাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক হবে। সীমান্ত-অঞ্চলে তারা যত হামলা করবে আমরা তত ভোগান্তির শিকার হব।” পাক-ভারত যুদ্ধের সময় চীন থেকে অস্ত্র সংগ্রহের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল বেগ ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় আর্টিলারি অফিসার। তিনি ছিলেন একজন গর্বিত পরিবারের সদস্য। তিনি ফুলও পছন্দ করতেন। আমাকে গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, কুমিল্লায় এর আগের পোস্টিং-এর সময় চীন থেকে আনিয়ে হেড কোয়ার্টারের উল্টোদিকের পুকুরে তিনি টকটকে লাল রঙের বিশাল জলপদ্ম রোপন করেছিলেন। মেজর বশির তাকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। বশির আমাকে জানালেন, একবার এক বিদ্রোহী কর্মকর্তাকে ধরা হলো। সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ল, তাকে নিয়ে কী করা যায়। অন্যরা যখন নির্দেশ পাবার জন্য টেলিফোনে খোঁজখবর করছেন তিনি সব সমাধান করে ফেললেন, দৌড় গ্যায়া। শুধু ওর পাটুকুই গর্তের বাইরে বের হয়ে ছিল।

পরিব্যাপ্ত শ্যামল সৌন্দর্যের মধ্যে কী পাশবিকতা চলছে, তা কল্পনা করাও অসম্ভব। এপ্রিলের শেষ দিকে আমি যখন সেখানে যাই, তখন কুমিল্লা ধ্বংস¯তূপ। পথের দু’পাশের সবুজ ধানক্ষেত দিগন্তে রক্তিম আভার আকাশে গিয়ে মিশেছে। গুলমোহর, ‘অরণ্যের বহ্নিশিখা’ ফোটার সময় এসে গেছে। গ্রামের আম আর নারকেল গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। এমন কি রাস্তার পাশে ছাগলের দৌড়ঝাঁপও প্রমাণ করছিলো প্রকৃতিক বাংলার পূর্ণতা। “পুরুষ আর স্ত্রীগুলোকে আলাদা করার একমাত্র উপায় হলো,” আমাকে ওরা বললো, “মেয়ে ছাগলগুলো গর্ভবতী।”

হত্যা আর অগ্নিকাণ্ড: তাদের শাস্তির নমুনা

পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল অঞ্চল কুমিল্লার জনসংখ্যার ঘনত্ব হলো প্রতি বর্গমাইল ১,৯০০ জন। অথচ কোথাও কোনো মানুষ দেখা গেলো না। ”বাঙালিরা কোথায়?” কিছুদিন আগে ঢাকার রাস্তাঘাট একেবারে নির্জন দেখে সেনাদলের লোকদের আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। ওদের তৈরী করা উত্তর ছিলো, “সবাই গ্রামে গেছে।” অথচ গ্রামেও কোনো বাঙালি দেখা যাচ্ছিল না। ঢাকার মতো কুমিল্লাও একেবারে জনশূন্য। লাকসাম দিয়ে আসার সময় দশ মাইল পথে হাতে গোনা কয়েকজন কৃষককে দেখলাম। অবশ্য খাকি-পোশাক-পরা পাকসেনারা গম্ভীর মুখে অটোমেটিক রাইফেল হাতে রাস্তায় অবস্থান করছিল। আদেশমাফিক রাইফেল হাতছাড়া করেনি কেউ। ট্রিগার-সুখী কঠিন লোকজন সবসময় রাস্তা পাহারা দিচ্ছে। যেখানে পাকসেনা, সেখানে কোনো বাঙালিকে পাওয়া যাবে না।

রেডিও এবং খবরের কাগজে সামরিক আইন ঘোষণা করা হচ্ছে মুহূর্মুহু — চোরাগোপ্তা হামলার জন্য ধরা পড়লে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। রাস্তা বা ব্রিজ ধ্বংস বা খোঁড়ার চেষ্টা করলে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের একশ গজের ভেতর সমস্ত বাড়িকে এর জন্য দায়ী করা হবে এবং সেগুলোর ধ্বংসসাধন করা হবে। কার্যক্ষেত্রে ঘোষণাগুলোর চাইতে ভয়াবহ সব পদক্ষেপে নেয়া হয়েছে। ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ এমন একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বাঙালিরা বেপরোয়া ও সহিংস হতে বাধ্য হয়েছে।

এর যে কী ভয়াবহ অর্থ তা দেখেছি ১৭ এপ্রিল চাঁদপুর যাওয়ার পথে হাজীগঞ্জে। বিদ্রোহীরা, যারা এখনো এ-অঞ্চলে তৎপর, গত রাতে ১৫ ফুট দীর্ঘ একটা ব্রিজ ভেঙে ফেলেছে। মেজর রাঠোরের (জি-২ অপারেশনস্) মাধ্যমে জানা গেলো, তৎক্ষণাৎ এই এলাকায় একদল সেনাদল পাঠিয়ে দেয়া হলো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। ব্রিজের সিকি মাইলব্যাপী অঞ্চলে পেঁচিয়ে ওঠা ঘন ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল তখনও। সাময়িকভাবে কাঠের তক্তা দিয়ে সারানো ব্রিজটি সাবধানে পার হওয়ার সময় দেখলাম ডানদিকের গ্রাম্য বাড়িগুলোতেও আগুন লকলকিয়ে উঠছে।

গ্রামের পেছন দিকে কিছু জওয়ান আগুন ছড়ানোর চেষ্টা করছিল নারকেলের ছোবড়া দিয়ে। এগুলো কাজও দিচ্ছিল ভালো। কারণ সাধারণত রান্নার কাজে এগুলো ব্যবহার করা হয়। পথের অন্যদিকে ধানক্ষেতের ওপারের গ্রামেও আগুনের চিহ্ন দেখা গেল। বাঁশঝাড় আর কুঁড়েঘরগুলো তখনও পুড়ছিল। শত শত গ্রামবাসী পাকসেনা আসার আগের রাতেই পালিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় মেজর রাঠোর বললেন, ”এই দুর্দশাকে তারা নিজেরাই ডেকে এনেছে।” আমি বললাম, “সামান্য কিছু বিদ্রোহীর জন্য নিরপরাধ লোকদের ওপর এটা বড় বেশি নির্মমতা হয়ে গেছে।” তিনি কোনো উত্তর দিলেন না।

কয়েকঘণ্টা পরেই চাঁদপুর থেকে ফেরার সময় আমরা আবার হাজীগঞ্জ দিয়ে আসছিলাম। ‘হত্যা আর অগ্নিকাণ্ড অভিযান’-এর বর্বরতা আমি স্বচক্ষে দেখলাম তখন। দুপুরবেলা সে-এলাকার ওপর দিয়ে বেশ কড়া ঝড় বয়ে গেছে। এখন শহরের ওপর পড়েছে মসজিদের মিনারের ভৌতিক ছায়া। পেছনের খোলা জিপে ক্যাপ্টেন আজহার আর চারজন জওয়ানের ইউনিফর্ম গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে চুপসানো। বাঁক নিতেই মসজিদের বাইরে আমরা ট্রাকের একটা বহর থেমে থাকতে দেখলাম। গুনে দেখলাম জওয়ান-ভর্তি সাতটা ট্রাক। বহরটির সামনে ছিল একটা জিপ। দু’জন লোক তৃতীয় একজনের নেতৃত্বে পথের পাশে একশোরও বেশি দোকানের বন্ধ দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। দু’টো কুঠার দিয়ে এই ভাঙার চেষ্টা চলছিল, মেজর রাঠোর তার টয়োটা সেখানে থামালেন।

“তোমরা এখানে কী করছ?”
তিনজনের মধ্যে লম্বা লোকটা, যে ভাংচুরের তত্ত্বাবধান করছিল, আমাদের দিকে চেঁচিয়ে উঠল, “মোটু, আমরা কী করছি বলে তোমার মনে হয়?” কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে, মেজর রাঠোর মিষ্টি একটা হাসি দিলেন। আমাকে জানালেন তিনি হলেন তার পুরনো দোস্ত ইফতি — টুয়েলভথ ফ্রন্ট্রিয়ার

১১| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:৩৩

াহো বলেছেন: ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক ভূমিকা

১৯৭১ সালে গোলাম আযম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর দল জামায়াতে ইসলামীও একই মত ও পথ অনুসরণ করে।

২৫ শে মার্চ রাতে সংঘটিত অপারেশন সার্চলাইট এর ছয় দিন পর গোলাম আযম ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে একটি ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি ভারতের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, " ভারত সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণ করে কার্যত পূর্ব পাকিস্তানীদের দেশপ্রেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে।...আমি বিশ্বাস করি যে, এই অনুপ্রবেশকারীরা পূর্ব পাকিস্তানী মুসলমানদের নিকট হেত কোন প্রকার সাহায্য পাবে না। সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম, ৭ এপ্রিল ১৯৭১।

গোলাম আযম মুক্তিযুদ্ধের শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধিতাই করেননি বরং তিনি এবং তাঁর দল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ প্রভৃতি বাহিনী গড়ে তোলেন। এরা পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে কাজ করে।

৩০শে জুন লাহোরে সাংবাদিকদের কাছে গোলাম আযম বলেন, "তাঁর দল পূর্ব পাকিস্তানে দুস্কৃতকারীদের(মুক্তিযোদ্ধা) তৎপরতা দমন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এবং এ কারণেই দুস্কৃতকারীদের হাতে বহু জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্য ঢাকায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। এর সদস্য ছিলেন পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা। গোলাম আযম ও এই কমিটির সদস্য ছিলেন।

১৯৭১ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রাম এ গোলাম আযমের পশ্চিম পাকিস্তান সফরকালের একটি সাক্ষাৎকারের পূর্ণ বিবরণ দুই কিস্তিতে ছাপা হয়। এই সাক্ষাৎকারে তিনি মুক্তিবাহিনীর সাথে তার দলের সদস্যদের সংঘর্ষের বিভিন্ন বিবরণ ও পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থতির ওপর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জামায়াতকে মনে করতো পহেলা নম্বরের দুশমন। তারা তালিকা তৈরী করেছে এবং জামায়াতের লোকদের বেছে বেছে হত্যা করছে, তাদের বাড়িঘর লুট করছে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এতদসত্বেও জামায়াত কর্মীরা রাজাকারে ভর্তি হয়ে দেশের প্রতিরক্ষায় বাধ্য। কেননা তারা জানে 'বাংলা দেশে' ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কোন স্থান হতে পারে না। জামায়াত কর্মীরা শহীদ হতে পারে কিন্তু পরিবর্তিত হতে পারে না। (দৈনিক সংগ্রাম, ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)
[সম্পাদনা]
নাগরিকত্ব বাতিল

১৯৭৩ সালের ১৮ই এপ্রিল সরকারী এক আদেশে আরো ৩৮ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে গোলাম আযমকেও বাংলাদেশের নাগরিক হবার অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়।
[সম্পাদনা]
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন

জিয়াউর রহমানের আনুকূল্যে গোলাম আযম পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে সাময়িক ভাবে বাংলাদেশে আসেন এবং কোন ভিসা ছাড়াই ১৯৭৮-১৯৯৪ পর্যন্ত বাস করেন। তিনি অলিখিত ভাবে বাংলাদেশের ধর্মীয় রাজনৈতিক দল যাদের অধিকাংশই ১৯৭১ সালে দেশ বিরোধী কাজে লিপ্ত ছিল তাদের আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এক মাত্র দল যারা ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রতি এবং ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান না, যদিও বাংলা ভাষা দিবসকে জাতি সংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে।
[সম্পাদনা]
গোলাম আযমের অপকীর্তি সম্পর্কে ১৯৭১ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য

দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় ১১ এপ্রিল, ১৯৭১ (২৮ চৈত্র, ১৩৭৭ বাংলা সন) তারিখে প্রকাশিত "ঢাকায় নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত" শিরোনামের খবরে বলা হয়,

"গত ৯ই এপ্রিল ঢাকায় প্রতিনিধিত্বশীল নাগরিকদের এক সভায় এক শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি খাজা খয়েরউদ্দিনকে আহ্বায়ক মনোনীত করেছে। কমিটিতে মোট ১৪০ জন সদস্য রয়েছেন। এই কমিটির বৃহত্তর ঢাকার ইউনিয়ন ও মহল্লা পর্যায়ে অনুরূপ কমিটি গঠনের ক্ষমতা রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালনায় এগুলো কাজ করবে। নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কমিটি সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কমিটির অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এ. কিউ. এম. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম আজম, মওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাসুম, আবদুল জব্বার খদ্দর, মাহমুদ আলী, এম. এ. কে. রফিকুল হোসেন, ইউসুফ আলী চৌধুরী, আবুল কাসেম, এম. ফরিদ আহমদ, অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার, সৈয়দ আজিজুল হক, এ. এস. এম. সোলায়মান, পীর মোহসেনউদ্দীন, এডভোকেট শফিকুর রহমান, মেজর (অবঃ) আফসার উদ্দিন, সৈয়দ মোহসিন আলী, এডভোকেট ফজলুল হক চৌধুরী, আলহাজ্ব সিরাজউদ্দিন, এডভোকেট এ. টি. সাদী, এডভোকেট আতাউল হক খান, মকবুলুর রহমান, আলহাজ্ব মোহাম্মদ আকিল, অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস, ইয়ং পাকিস্তান সম্পাদক নুরুজ্জামান, মওলানা মিয়া মফিজুল হক, এডভোকেট আবু সালেক, এডভোকেট আবদুল নায়েম ও অন্যান্য। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হিন্দুস্তানের ঘৃণ্য ক্রিয়াকলাপের নিন্দা করে নিম্নলিখিত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এই সভা পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হিন্দুস্তানের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা করছে। এই বিপজ্জনক খেলায়---যা মহাযুদ্ধের পথে এগুতে পারে---লিপ্ত না হওয়ার জন্য এই সভা ভারতীয় নেতাদের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ার করে দিচ্ছে। এই সভা মনে করে যে, পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী পাঠিয়ে হিন্দুস্তান বস্তুতঃপক্ষে পূর্ব পাকিস্তানীদের দেশপ্রেমে চ্যালেঞ্জ করছে। এই সভা আমাদের প্রিয় দেশের সংহতি ও মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে এই চ্যালেঞ্জ সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলার জন্য দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আকুল আহ্বান জানাচ্ছে।"


দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে প্রকাশিতখবরে বলা হয় ১২ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে পরিচালিত শান্তি কমিটির মিছিল শেষে গোলাম আযমের নেতৃত্বে পরিচালিত মোনাজাত সম্পর্কে বলা হয়,

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের মুসলিম সৈনিক হিসেবে দেশরক্ষার যোগ্যতা অর্জনের জন্য আল্লাহর দরগাহে দোয়া করেন। সত্যিকারের মুসলমান ও পাকিস্তানী হিসেবে বেঁচে থাকার ও পাকিস্তানে চিরদিন ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বশক্তিমানের নিকট দোয়া করেন।"

১২| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:৪২

মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: রাজাকারদের আমি ঘৃণা করি, তার মানে এই না যে তদের মৃত্যুদন্ড দেশকে শান্তি এনে দিবে। আমাদের করণীয় হওয়া উচিত দেশের কল্যাণের জন্য কিছু করা।


তাহলে কি আপনি এই অপরাধের বিচার চান না। যেমন ধরুন আপনার ভাইকে ৭১ এ পাকি দোষররা ধর্ষণ করেছে। ৩০ বছর পর হলেও কি আপনি তার বিচার চাবেন না। না কি এ বিচারে কোন লাভ নাই বা দেশের কোন উন্নতি হবে না... এসব বলবেন??

১৩| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:৪৩

মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: @জাফরীন সুপ্তি


থেংস... ;)

১৪| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৫:১০

পঙ্খিরাজ বলেছেন: ছাগুরা যত লাফাবে বুঝবেন আপনার পোষ্ট তত বেশী কার্যকর হয়েছে। প্লাস দিলাম।
জামাতি ছাগুদের আব্বাদের নিয়ে আরও তথ্য ভিত্তিক বিস্তারিত পোষ্ট দিন।
আর যারা ইতিহাসের সত্যকে অস্বীকার করেন তাদেরকে বলছি বলতেই পারেন আমরা বাঙ্গালীরা তথ্য বিকৃতি করছি। কারন অতীতে তাই করে এসেছেন এদেশীয় দোসরেরা ৭৫ থেকে অদ্যাবধি! মানজুর মজুমদার আপনাকে বলছি, বাংলঅদেশের মুক্তিদযুদ্ধ নিয়ে বিদেশী মিডিয়ায় অসংখ্য রিপোর্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন সরকার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের অসংখ্য গোপন নথি অবমুক্ত করেছে। যদি সত্যিকার ইতিহাস জানতে চান এবং আমাদের উপর আপনার ভরসা না থাকে তবে বলছি বিদেশীদের কথাগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখে নিন আমরা মিথ্যা বলছি নাকি জুলুমবাজ মওদুদীওয়ালারা মিথ্যা বলছে। ততক্ষন পর্যন্ত বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতা মুলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি আপনাকে।
রাজাকারদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশে বিদ্যুত উত্পাদন হয়ত এক মেগাওয়াটও বাড়বে না, একজন দরিদ্রের দারিদ্রও হয়তো ঘুচবেনা। কিন্তু জাতি হিসাবে আমরা আত্মসম্মান ফিরে পাব। আর যে জাতির আত্মসম্মান নেই সে জাতি পৃথিবীর বুকে ঠিকে থাকতে পারে না। আমি আমার আত্মসম্মানবোধ ফিরে পেতে চাই। মাথা উচু করে পৃথিবীর বুকে দাড়াতে চাই আর বলতে চাই, দেখো বাঙ্গালি জাতি বেইমান নয়।বিশ্বাসঘাতকদের বিচার হতেই হবে।

১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৫:২২

াহো বলেছেন: যদি সত্যিকার ইতিহাস জানতে চান এবং আমাদের উপর আপনার ভরসা না থাকে তবে বলছি বিদেশীদের কথাগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখে নিন আমরা মিথ্যা বলছি নাকি জুলুমবাজ মওদুদীওয়ালারা মিথ্যা বলছে। ততক্ষন পর্যন্ত বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতা মুলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি আপনাকে।
রাজাকারদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশে বিদ্যুত উত্পাদন হয়ত এক মেগাওয়াটও বাড়বে না, একজন দরিদ্রের দারিদ্রও হয়তো ঘুচবেনা। কিন্তু জাতি হিসাবে আমরা আত্মসম্মান ফিরে পাব।

১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৫:২৭

াহো বলেছেন: বাংলঅদেশের মুক্তিদযুদ্ধ নিয়ে বিদেশী মিডিয়ায় অসংখ্য রিপোর্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন সরকার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের অসংখ্য গোপন নথি অবমুক্ত করেছে। .


New York Times
Time USA
Newsweek USA
Guardian London
Times London



১৫| ১০ ই জুলাই, ২০১০ ভোর ৬:৫৮

ডন অফ কর্লিওন বলেছেন: কিরে পোস্ট প্রতি রেট কত। কাম কাজ নাই? সারাদিন বলগে বইসা বইসা রাজাকার পারোস আর তগো দাদারা সিমান্তে ধল করে। আবাল কোনহানকার

১৬| ১০ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:৩৭

িময়াজী বলেছেন: বৃক্ষ তোমার নাম কি?
ফলে পরিচয়।

১৭| ১০ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:৫৯

াহো বলেছেন: সেই ১৯৫ পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী [পর্ব ১]

সেই ১৯৫ পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী [পর্ব ১]

লিখেছেন সাঈদ আহমেদ (তারিখ: মঙ্গল, ২০১০-০৫-১১ ২০:৫৪)



স্বাধীনতার পর ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীর ছাড়া পাবার বিষয়টি ইদানিং সবত্রই আলোচিত হচ্ছে। একাত্তরের যুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবার পর এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে যে, ভারতের নিকট আটক থাকা ঐ ১৯৫ জন পাকিস্তানীই ছিল প্রকৃত অপরাধী, এবং তখন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে এখন স্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব নয়।

মুলত: কেন এবং কিভাবে সেই ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী ছাড়া পেয়েছিল তা উদ্ঘাটনই এই লেখার উদ্দেশ্য। বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আর্ন্তজাতিক পত্রিকায় ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে এপ্রিল ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবর এবং স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তিপত্র উদ্ধৃত করে মূল ঘটনাপ্রবাহটি তুলে ধরা হয়েছে। লেখাটি তথ্যভিত্তক রাখার জন্য মন্তব্য বা সম্পাদকীয় কলাম যথাসম্ভব পরিহার করে মুলত: খবরাখবরই উদ্ধৃত করা হলো। উল্লিখিত অধিকাংশ খবরই যদিও দেশি-বিদেশি একাধিক পত্রিকাতে ছাপা হয়েছিল, তবু ঘটনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এখানে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর খবরই বেশি উদ্ধৃত করা হয়েছে।

যুদ্ধবন্দী স্থানান্তর
একাত্তরে পাকিস্তানের পরাজয় যখন নিশ্চিত হওয়া শুরু হয়, তখন থেকেই মুক্তিবাহিনী ও গনহত্যার শিকার সাধারন বাঙালীর ক্ষোভ থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানী সৈন্যদের কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে। যুদ্ধে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহন পরাজিত পাকিস্তানীদের জন্য শাপে বর হয়ে দেখা দেয়। ভারত যেহেতু আর্ন্তজাতিক জেনেভা কনভেনশনের সদস্য এবং যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনকারী, সেহেতু পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দী রক্ষা করার ব্যপারে ভারত আর্ন্তজাতিক ভাবে দায়বদ্ধ।
১৯৭১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর লে. জেনারেল এএকে নিয়াজীর যুদ্ধবিরতীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জামসেদজি মানেকশ পরের দিনই নিয়াজীকে আত্নসমর্পণ করার যে চরমপত্র দেন, তাতে পাকিস্তানের সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। [১] এরপর ১৬ই ডিসেম্বর নিয়াজী যৌথবাহিনীর নিকট যে আত্নসমর্পন পত্র স্বাক্ষর করেন, তাতে উল্লেখ করা হয় “আত্নসমর্পনকারী সৈন্যদের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করা হবে এবং আত্নসমর্পনকারী সকল পাকিস্তানী সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে”। [২]

খুলনায় প্রায় আট হাজার পাকিস্তানী সৈন্যের আত্নসমর্পণ তদারককারী ভারতীয় মেজর জেনারেল দিলবর সিং এক সাক্ষাৎকারে জানান যে যুদ্ধ পরবর্তী সপ্তাহগুলিতে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার এবং পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীদের ভারতের বিভিন্ন শিবিরে স্থানান্তর করাই ছিল তাদের অন্যতম দ্বায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, “যেহেতু স্থানীয় সহযোগীরা (যেমন- রাজাকার) জেনেভা কনভেনশনের অন্তর্ভুক্ত নয়, এরা বাংলাদেশ সরকারের দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়বে”। [৩]

যুদ্ধাপরাধের বিচার
বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একেএম কামরুজ্জামান ২৪শে ডিসেম্বর ১৯৭১ ঘোষণা করেন যে বাংলাদেশ ইতমধ্যে ৩০ জন শীর্ষস্থানীয় পাকিস্তানী সরকারী কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে এবং গনহত্যায় সহযোগিতার জন্য অচিরেই তাদের বিচার হবে। এর দু’দিন পরই ২৬শে ডিসেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের গনহত্যার শিকার সাতজন বাংলাদেশী কর্মকর্তার পরিবার ভারতের কাছে আবেদন জানান যেন ভারত দোষী পাকিস্তানীদের বিচারে বাংলাদেশকে সহায়তা করে। জবাবে ভারতীয় কুটনীতিক দূর্গা প্রসাদ ধর কিছুটা অনিচ্ছার সাথে শুধু জানান যে “ভারত যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে আর্ন্তজাতিক আইনে তার কী কর্তব্য তা পরীক্ষা করে দেখছে”। [৪]

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কারামুক্তির পর দেশে ফিরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেন। ২৯শে মার্চ ১৯৭২ নিয়াজী এবং রাও ফরমান আলী-সহ ১১০০ পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীর বিচারের সরকারী পরিকল্পনা ঘোষনা করা হয়। [৫] সরকার দুইস্তর বিশিষ্ট একটি বিচার পরিকল্পনা পেশ করে যেখানে কিছু শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীর বিচারে দেশি-বিদেশি জুরি নিয়োগ; এবং অন্যদের জন্য শুধু দেশীয় জুরি নিয়োগের সীদ্ধান্ত হয়। [৬]

আর্ন্তজাতিক চাপ এড়াতে এসময় ভারত শুধু সেইসব পাকিস্তানী সৈন্যদের হস্তান্তর করতে রাজী হয় যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে ‘প্রাইমা ফেসিই কেস’ (prima facie case) হাজির করতে পারবে। [৭] এরপর বাংলাদেশ সরকারের সংগৃহীত প্রমানের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালের ১৪ই জুন ভারত সরকার নিয়াজীসহ প্রাথমিকভাবে ১৫০ জন যুদ্ধবন্দীকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের নিকট হস্তান্তরে সম্মত হয়। [৮]

ইন্দীরা গান্ধী ও জুলফিকার আলী ভুট্টর সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ১৯শে জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পুনরায় এই বিচারের কথা স্মরন করিয়ে দেন। ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের ওয়েব সাইটে সিমলার সম্পূর্ণ চুক্তিপত্রটি সংরক্ষিত থাকলেও, এই সিমলা চুক্তিতেই যুদ্ধাপরাধীর বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে অনেকেই ভুল করে থাকেন। [৯] মুলত কাশ্মীর সীমান্তসহ দ্বিপাক্ষিক কিছু বিষয়েই ২রা জুলাই ১৯৭২ সালে ভারত-পাকিস্তান সিমলা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে যুদ্ধাপরাধী বা বাংলাদেশ সম্পর্কে কোন বিষয়ই উল্লেখ করা হয়নি। [১০]

পাকিস্তানে বাঙালী নির্যাতন ও জিম্মি
যুদ্ধের সময় যে ৪ লক্ষ বাঙালী পাকিস্তানে আটকা পড়ে, পাকিস্তান সরকার তাদেরকে জিম্মি করে বাংলাদেশের বিচার বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করে। প্রায় ১৬ হাজার বাঙালী সরকারী কর্মকর্তা যারা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকা পড়ে এবং পরবর্তীতে চাকুরিচ্যুত হয়, তাদের পাকিস্তান ত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অনেক কর্মকর্তাকে ক্যাম্পে আটক করে রাখার কারনে বাংলাদেশ তখন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানায়। [১১]

এসময় পাকিস্তান সরকার পলায়নপর বাঙালীদের ধরিয়ে দেবার জন্য মাথাপিছু এক হাজার রুপি পুরষ্কার ঘোষনা করে। [১২] এধরনের ঘোষনার কারনে অনেক পাকিস্তানীই তখন পালানোর মিথ্যে অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী বাঙালীদের ধরিয়ে দেয়া শুরু করে। আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটি (আইসিআর)-এর তৎকালীন একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তানে জিম্মি বাঙালীদের দুর্বিষহ অবস্থা ফুটে উঠে। রিপোর্টে বলা হয়, শুধু “পাকিস্তান ত্যাগ করতে পারে এই অভিযোগে বাঙালীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে” এবং “হাজার হাজার বাঙালী বিনা বিচারে জেলে আটক আছে”। আন্তর্জাতিক ভাবে প্রচারিত এই রিপোর্টে আরো বলা হয়-
উদ্ধৃতি
“হয়রানি এবং বৈষম্যমূলক আচরন নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাঙালীদের উপরের শ্রেণীতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, যাদের এখন “নিগার” বা নিচুজাত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কিন্তু যারা ইতমধ্যেই বৈষম্যের চুড়ান্ত সীমায় অবস্থার করছে, ঐ সব সাধারনের উপরে যতটুকু অতিরিক্ত বৈষম্য করা হচ্ছে, তার প্রভাবও অনেক বেশি”। [১৩]

নিগ্রহ আর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য শত শত বাঙালী তখন রিক্ত হস্তে আফগানিস্তানের দুর্গম উপজাতি-শাসিত অঞ্চল দিয়ে পালিয়ে বাচার চেষ্টা করে। [১৪]পাকিস্তানে এই বাঙালী নির্যাতন যে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করার জন্যই, জুলফিকার আলি ভুট্ট পরবর্তীতে তা অংকোচেই প্রকাশ করেছেন।


[চলবে]

তথ্যসূত্র:
১. “Text of Indian Message”, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১৬/১২/১৯৭১, পৃ- ১৬
২. Reuters, (১৯৭১), “The Surrender Document” দি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত, ১৭/১২/১৯৭১, পৃ- ১
৩. “Bengalis Hunt Down Biharis, Who Aided Foe”, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ২২/১২/১৯৭১, পৃ- ১৪
৪. “India Weighs Bengali Plea To Try Pakistani Officials”, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ২৭/১২/১৯৭১, পৃ- ১
৫. “Bangladesh Will Try 1,100 Pakistanis”, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ৩০/০৩/১৯৭২, পৃ- ৩
৬. প্রাগুক্ত
৭. “India opens way for Dacca trials”. দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১৮/০৩/১৯৭২, পৃ- ১
৮. “India to Deliver 150 P.O.W.'s To Bangladesh to Face Trial”, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১৫/০৬/১৯৭২, পৃ- ১১
৯. দেখুন এসংক্রান্ত প্রথম আলো খবর এখানে: http://prothom-alo.com/detail/news/53366
১০. পূর্ণাঙ্গ চুক্তিপত্রটি দেখুন http://mea.gov.in/jk/sim-ag.htm
১১. “Pakistan Denies Charge”, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১৭/০৪/১৯৭২, পৃ- ৬
১২. “Official Reports 2,000 Bengalis Held in Pakistani Jails”, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১৩/১২/১৯৭২, পৃ- ৩
১৩. প্রাগুক্ত
১৪. “Wave of Bengalis fleeing Pakistan”, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১২/১১/১৯৭২, পৃ- ১০

http://www.sachalayatan.com/syeed_ahamed/32147

১০ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:০৪

াহো বলেছেন: Click This Link

১৮| ১০ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:৩৯

স্বাধীনচেতা৭১ বলেছেন: কালের কন্ঠ কপি পেষ্ট !
মিথ্যাচারে কালের কন্ঠ বর্তমানে ফাস্ট।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে সরকার বিরোধী দল নির্মূলে নেমেছে।
আর একটি মাত্র শব্দ "যুদ্ধাপরাধ" দিয়ে দেশের মানুষকে নাচিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচনের আগে এমনই একটি মন্ত্র ছিল " দশ টাকা কেজি চাল"। এখন তার অবস্থা দেখুন
ইতিহাস বিকৃত করে উপস্থাপন করা সহজ। কিন্তু বর্তমানে আপনাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রলীগকে আমরা ভালই দেখছি।
কে কি বলল তা বিশ্বাস না করে সত্যের সন্ধান করুন।

১৯| ১০ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:৪৮

াহো বলেছেন: পূর্ব পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তোলার আয়োজন করেন এবং ১৯৭২ সালে গোলাম আযম লন্ডনে 'পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি' গঠন করেন




Click This Link

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.