| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ওডিসিয়াস
আমি একজন আমজনতা। তবে খাসজনতার কার্যকলাপের প্রতি আমি বিশেষ আগ্রহ প্রদর্শন করে থাকি। আইন নিয়ে আমার কারবার। ভাষার প্রতি রয়েছে আমার বিশেষ দূর্বলতা। টেকনোলজির প্রতি আগ্রহি। আর Social Networking এবং Blogging তো আছেই।
বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠি জেলার কলেজছাত্র লিমন হোসেনের পক্ষে-বিপক্ষে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেমেছেন।
আজ ঢাকার একটি দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, গতকাল রোববার লিমন এবং তাঁর মা হেনোয়ারা বেগম ও বাবা তোফাজ্জল হোসেনকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান তাঁর মগবাজারস্থ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে এ ব্যাপারে কথা বলেন।
এ সময় তিনি র্যাবের বিরুদ্ধে লিমনের মায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাব করেন। তা হলে লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা র্যাবের মামলাও তুলে নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপেজলার সাতুরিয়া গ্রামে নিজেদের বাড়ীর পাশে দিনের বেলায় র্যাবের গুলিতে আহত হয় একাদশ শ্রেণীর ছাত্র লিমন।
মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় । সেখান থেকে লিমনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পঙ্গু হাসপাতালের চিকিতসকেরা লিমনের জীবন বাঁচাতে ২৭ মার্চ তাঁর বাম পা ঊরুর নিচ থেকে কেটে ফেলেন।
পঙ্গুত্ববরণ করেই লিমনের কষ্টের শেষ হয়নি। তার পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটে; র্যাবের দায়ের করা মামলায় কারাগারে যেতে হয় এবং মাসের পর মাস মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে হয়।
চিকিতসা ও মামলার খরচ চালাতে তার পরিবার হয় সর্বস্বান্ত। ইতোমধ্যে র্যাবের সোর্স বলে পরিচিতরা তার উপর হামলা করে। পরিবারটি এখন গ্রাম ছাড়া।
বর্তমানে ঢাকায় চিকিতসাধীন লিমন রেডিও তেহহরানকে জানান, তার দুর্বিসহ জীবনের কথা। তিনি জানান, তাকে ও তার মা-বাবাকে ডেকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, র্যাবের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্যাতনের শিকার লিমনের পক্ষে না দাঁড়িয়ে নির্যাতনকারীর পক্ষে নিয়ে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন দেশের মানবাধিকার কর্মীরাও। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সম্পাদক জনাব আদিলুর রহমান তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, সরকারের প্রতি আনুগত্যের কারণে মিজানুর রহমানকে গতকালই নতুন করে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
২০১২ সালের ১০ জুলাই কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘লিমনের সঙ্গে রাষ্ট্র ইতিমধ্যে যে আচরণ করেছে, সেটা যথেষ্ট হয়েছে। কিন্তু মনে হচ্ছে, পঙ্গু, নিরস্ত্র, অতিদরিদ্র ছেলেটির প্রতি রাষ্ট্র বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করে চলেছে। এটা কেন করা হচ্ছে, কার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, কার অহমিকায় আঘাত করেছে—এটা বোধগম্য হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘লিমনের যে লড়াই, তা ন্যায্য ও ন্যায়সংগত। তার জয় হবেই। কিন্তু রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা-অভিযোগপত্র দায়ের করে চলছে। আমরা বলতে চাই: “লিমন, তুমি ভয় পেয়ো না, জাতীয় মানবাধিকার তোমার পাশে ছিল, আজও আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে।” আমরা শেষ পর্যন্ত দেখে যাব, এ দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় কি না।’
একই বছরের এপ্রিলে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, “এখন পর্যন্ত সরকারি কোন তদন্তেই লিমন যে সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এ অভিযোগের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাজানো দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে আমরা আশা করি নিম্ন আদালত থেকেই লিমন ন্যায়বিচার পাবে। তাকে সাজানো মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।”
ড. মিজান তার কথা রাখেননি কিংবা লিমনের পক্ষে আইনি পদক্ষেপও নেননি। ববং এখন তিনি র্যাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে লিমন ও তার পরিবারের ওপর মামলা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছেন- যা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পঙ্গু লিমনের বিরুদ্ধ অস্ত্র আইনে ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে র্যাবের দায়ের করা দু’টি মামলায় লিমনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে র্যাবের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে লিমনের মায়ের দায়ের করা মামলাটি থানা প্রথমে গ্রহণ না করলেও পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করে। কিন্তু পুলিশ ইতোমধ্যে সে মামলাটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করে লিমনের মা। সেটাও খারিজ করে দেন ঝালকাঠির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিশন দরখাস্তটি এখনো জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:০২
মেদভেদ বলেছেন: হায়রে মানবাধীকার চেয়ারম্যান, চেয়ারের লোভ এতোই...... যে, অপরাধীদের পক্ষ নিলে.....!!!!!!