| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফয়সল ইসলাম
FOYSOL ISLAM
দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোন পক্ষ থাকা চলবে না। সরকারি দলসহ বিরোধী দল সকলেই হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত শক্তি। এমন দাবি আর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যশোর জেলা গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে যশোরে সমাবেশে বক্তারা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। যশোর গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে স্থানীয় নতুন খয়েরতলা মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য মোড় চত্বরে গতকাল বিকেলে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা আরো বলেন, জাহানারা ইমাম যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন আজ সে দায়িত্ব্ কাঁধে তুলে নিয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সকল শ্রেণী পেশার মনুষ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে এ দায়িত্ব শেষ না করে ঘরে ফেরার আর কোন সুযোগ নেই।
তারা আরো বলেন, মহান মুক্তিযদ্ধের সার্বজনীন স্লোগান ‘জয়বাংলা’। এ স্লোগান আজ তরুণ প্রজন্ম বুকে ধারণ করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ আজ তাদের পাশে। বিজয় তাদের সুনিশ্চিত। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বোভৌমত্ব বিরোধী শক্তি তরুণ প্রজন্মের এ জাগরণকে নস্যাৎ করতে নানা চক্রান্ত করছে। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের সাথে ঐকবদ্ধ হয়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সকল শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের এ হীন চক্রান্ত প্রতিহত করবে।
মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে যশোরের লাগাতার সমাবেশের গতকাল ছিল ৩৭তম দিন। এদিনে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আহবায়ক এড. কাজী আব্দুস শহীদ লাল। পবিত্র কোরান শরিফ, গীতা ও বাইবেল পাঠের পর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় সমাবেশ। এরপর যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে উপস্থিত সকলে উঠে দাঁড়িয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাতে শপথবাক্য পাঠ করেন।
বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এএইচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, জেলা সিপিবির সভাপতি এড. আবুল হোসেন, জেলা বাসদের সমন্বয়ক হাচিনুর রহমান, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, ন্যাপের সহসভাপতি খন্দকার গোলাম মোর্তজা মণি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, জেএসডির সভাপতি আব্দুস সালাম, বাসদের সমন্বয়ক হাচিনুর রহমান, জাসদের সহসভাপতি আহসান উল্লাহ ময়না, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি আমিরুল ইসলাম রন্টু, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজ্জাদ গণি খান রিমন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শফিকুজ্জামান, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নাসরিন আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহবায়ক উৎপল ঘোষ। সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম।
উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজু, ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এড. মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর গণজাগরণ মঞ্চের সদস্য সচিব সুকুমার দাস, সদস্য এড. মাহমুদ হাসান বুলু, শ্রমিক নেতা আজিজুল আলম মিন্টু, যশোর উদীচীর সভাপতি সোমেশ মুখার্জী, যশোর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপংকর দাস রতন, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী সুর, শেকড়ের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু, ঝিকরগাছা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মঞ্জুন্নাহার নাজনিন সোনালী, যশোর পৌর কাউন্সিলর রোকেয়া পারভীন ডলি প্রমুখ।
সমাবেশের আগে গণসংগীত পরিবেশন করেন সুরধুনী ও পুনশ্চের শিল্পীবৃন্দ। শেষে এটিএন নিউজে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় প্রচারিত কিশোরগঞ্জের সোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাস-উদের সাক্ষাতকার ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে স¤প্রচার করা হয়। সাক্ষাতকারে মওদুদী আদর্শের অনুসারী জামায়াতকে বর্জনের আহবান উপস্থিত সকলকে উজ্জীবিত করে। তারা সমস্বরে ‘জয় বাংলা- বাংলার জয়’, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান তোলে।
সমাবেশ সফল করতে বিকেল চারটা থেকে যশোরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার তরুণ প্রজন্মসহ মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ সমবেত হন নতুন খয়েরতলা মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য চত্বরে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগ দেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগানে তারা প্রকম্পিত করে তোলে সমাবেশস্থল।
তারা সম্মিলিত গগণবিদারী স্লোগান তোলে ‘তুমি কে আমি কে বাঙালী বাঙালী’, ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আর একবার, ‘জয় বাংলা’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই পক্ষ নিলে রক্ষা নাই’, ‘নতুন দিনের নতুন ভোর শাহাবাগ থেকে চিত্রা মোড়’, ‘আমার প্রিয় বাংলায় রাজাকারে ঠাঁই নাই, ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই’, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই’, ‘রাজীবের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ কর-করতে হবে।
এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বিগত দিনের মত গতকালও সমাবেশস্থলের অদূরে রাস্তার উপর ফুল ও প্রদীপের আল্পনায় ফুটে ওঠে বাংলাদেশের মানচিত্রের মাঝে ৭১ থেকে ২০১৩। যশোরের কৃষাণ আহমেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে এমন ব্যতিক্রম আল্পনা আর আলোক সজ্জায় দেশের প্রতি তার ভালবাসায় আরো উজ্জিবিত হয়েছে যশোরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিবাদী মানুষ।
২|
১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৪২
২০১৩ বলেছেন: চার জন লোক নিয়ে বিশাল আন্দলন, সেদিন যে দেখলাম সাইদির মুক্তির দাবিতে এর চেয়ে আক্ষরিক অর্থেই হাজারগুন লোকের মিছিল যশোরেই।
৩|
১৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ২:২০
সজল কির্ত্তনিয়া বলেছেন: যশোরের গণজাগরণ মঞ্চ দেখে বোঝার উপায় নাই - এটা গণজাগরণ মঞ্চ নাকি সর্ব ভারতীয় সমাবেশ! ভোদাইদের কান্ড কারখানা দেখে হাসমু ? না কাঁদমু?
হালা একখান ব্যানার বানাইছো তাও ভারতের পতাকার মত । বিশ্বাস না হলে মিলাইয় দেখেনতো :
ওরে হালার বেকুব - এখনতো পাবলিক কইবো ইন্ডিয়ান টাইমসের কথাই ঠিক। এরা ভারতের টাকায় ভারতীয় পতাকা লইয়া গনজাগরণ মঞ্চ চালাইতেছে।
কথায় আছে না - ল্যাঞ্জা ইজ ভেরী ডিফিকান্ট টু হাইড
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৩৮
মৃদুল সাংহাই বলেছেন: শুভকামনা।