| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এফ রহমান
নিজেকে সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক ভাবি। পড়িই বেশী। মাঝে মাঝে লেখার ব্যর্থ চেষ্টা করি।
(দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিলো একটা গল্প অনুবাদ করার। ঠিক কোন গল্পটি অনুবাদ করবো বুঝতে বেশ সময় নিলাম। অবশেষে শুরু করলাম। ফিলিপ কে. ডিকের লেখা দ্যা গোল্ডেন ম্যান। আস্তে আস্তে পুরো অনুবাদ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। কেমন হচ্ছে আমার প্রথম অনুবাদ জানাতে ভূলবেন না।)
স্বর্ণমানব-০১
“সবসময় কি এরকম গরম পড়ে?” বিক্রয় কর্মী জিজ্ঞাসা করলো। কাউন্টার এবং দেয়ালের পাশের মলিন বুথে বসা সবাইকে সে জিজ্ঞাসা করলো। মধ্যবয়স্ক মোটা মানুষ, মুখে সহজাত হাসি, পরনে ধূসর রঙের স্যুট, ঘামে ভেজা সাদা শার্ট, গলায় বাধা নেকটাই ঝুলছে এবং মাথায় পানামা হ্যাট।
ওয়েট্রেস জবাব দিলো, “শুধু মাত্র গ্রীষ্মকালে।”
অন্যারা কেউ সেদিকে তাকালো না। একটা বুথে বসা কিশোর কিশোরী নিজেদের চোখে চোখ রেখে অপলকে তাকিয়ে আছে। দুজন শ্রমিক শিমের স্যুপ এবং রোল খাচ্ছে। জামার হাতা গুটিয়ে রাখায় তাদের পশম যুক্ত কালো হাত দেখা যাচ্ছে। একজন রোদে পোড়া কৃশকায় কৃষক, একজন নীল সূতির স্যুট পরা বয়স্ক ব্যবসায়ী যার সুন্দর বেশ ভূষার সাথে একটি পকেট ঘড়ি আছে, একজন ইঁদুরমুখো কালো ক্যাব চালক কফি পান করছে। একজন ক্লান্ত মহিলা ভেতরে এসে তার বোঝা গুলো নামিয়ে বসে পড়ে পা দুখানাকে শান্তি দিতে চাইছে।
বিক্রয়কর্মী সিগারেটের প্যাকেট বের করলো। সে উৎসুক চোখে ঘিঞ্জি ক্যাফের চারদিক দেখতে লাগলো। সিগারেট জ্বালিয়ে কাউন্টারে হাত রেখে দাঁড়িয়ে পাশের ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলো, “এই শহরের নাম কি?”
লোকটি ঘোৎঘোৎ করে বললো, “ওয়ালনাট ক্রিক”।
বিক্রয়কর্মী হাতের আঙুলে আলতো করে সিগারেট ধরে রেখে কিছু সময়ের জন্য ধীরে ধীরে তার কোকটুকু পান করলো। অতঃপর তার কোটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা চামড়ার ওয়ালেট বের করলো। বেশ সময় নিয়ে সে মনোযোগ সহকারে তাস এবং কাগজ, এক তাড়া চিঠি, ছেঁড়া টিকেট, বিবিধ জিনিস উলটে শেষে একখানা ছবি বের করে আনলো।
ছবিখানা বের করে প্রথমে সে দাঁত বের করে হাসলো, অতঃপর ঠোঁট টিপে হাসতে লাগলো। দাঁতে মৃদু আদ্র শব্দ হতে লাগলো। পাশে দাঁড়ানো লোকটিকে বললো, “এটা দেখেন”।
লোকটি খবরের কাগজ পড়ে যেতে লাগলো।
বিক্রয়কর্মী কনুই দিয়ে লোকটিকে হালকা ধাক্কা দিয়ে ছবি খানা তার দিকে এগিয়ে দিলো, “এটা দেখেন। আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?”
বিরক্ত হয়ে লোকটি খুব অল্প সময়ের জন্য ছবিটির দিকে তাকালো। ছবিতে কোমর উচু করা একজন নগ্ন মহিলাকে দেখা যাচ্ছে। খুব সম্ভবত বয়স পয়ত্রিশের কাছাকাছি হবে। মুখ ঘুরিয়ে রাখা। সাদা ও মোটা দেহ, স্ফীত স্থন।
“কখনো এমন কিছু দেখেছেন?” বিক্রয়কর্মী মৃদু হাসলো, তার ছোট্ট লাল চোখ নাচছে। তার হাসিতে কামুকতা ফুঁটে উঠলো এবং সে পূনরায় পাশের ব্যক্তিতে মৃদু ধাক্কা দিলো।
“আমি এটা আগেই দেখেছি”। অপ্রসন্ন ব্যক্তিটি খবরের কাগজ পড়ায় মনোযোগ দিলো।
বিক্রয়কর্মী লক্ষ্য করলো কৃষকার বৃদ্ধ কৃষক ছবিটির দিকে তাকিয়ে আছে। সে ভদ্রভাবে ছবিটি তার দিকে এগিয়ে দিলো। “এটা আপনার কেমন লাগছে? খুব ভালো জিনিস, তাইনা?”
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:২৬
এফ রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৪৩
প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: ভাল হয়েছে অনুবাদ।
চালিয়ে যান।