| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাব্বির আহমাদ নাইম
ছবি তুলতে ভালবাসি কিন্তু ক্যামেরা নাই!! বলতে ইচ্ছে করে, লিখতে ইচ্ছে করে কিন্তু লেখা টা ঠিক ঠাক পারি না!! এখনও বেকার!! তাই বলা যেতে পারে সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নাই!!! ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখছি আর এখনও স্বপ্নের পেছনে ছুটছি। মা, কালপুরুষ, বিন্দুর ছেলে, শ্রীকান্ত, ছুটির ঘণ্টা পড়তে ভাল লাগে। কিন্তু পাঠ্য বই আমার দুই চোখের বিষ। মুভি দেখতে খুব ভালবাসি। জীবনে প্রচুর মুভি দেখেছি। টম হাঙ্কস, মেরিল স্ট্রিপ, ডেনজেল ওয়াশিংটন, রিচার্ড গিয়ারদের অভিনয় দেখতে ভালবাসি। ইচ্ছে আছে আকাশ ছোবার, দেখি পারি কি না!
লেখালেখির শুরু অনেক আগে হলেও হুমায়ূন আহমেদের নাটক লেখার শুরুটা হয়েছিল এখন থেকে প্রায় তিন দশক আগে। এই শুরুর দিকেরই নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’, যা জীবাননন্দ দাশের কবির লাইন থেকে নেওয়া বলে নিজেই স্বীকার করেছেন।
দর্শক মনে ঠাঁই নেওয়া ওই ধারাবাহিক নাটক লেখার পেছনে প্রণোদনা কী ছিল- হুমায়ুন আহমেদ নিজেই জানালেন, ‘একটি রঙিন টেলিভিশন কেনার জন্য’।
অনেকের মনেই ধাক্কা লাগতে পারে একথা শুনে এবং তা লেগেছিলও। অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ‘এইসব দিনরাত্রির’ অভিনয়শিল্পী আবুল খায়েরও।
তবে এই বিষয়ে নিজের অপকট স্বীকারোক্তি দিয়ে যান হুমায়ুন ১৯৮৫ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় (বর্তমানে বিলুপ্ত) প্রকাশিত এক লেখায়।
এই ধারাবাহিকের বিপুল জনপ্রিয়তায় একে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন হয়েছিল, আর তাতে নাটকে আসার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছিলেন হুমায়ুন, যিনি পরে দেশের টেলিভিশন নাটকে প্রবাদপুরুষ হয়ে ওঠেন।
“আমি যদি বলতাম, এইসব দিনরাত্রি লিখেছি জীবনের হাসি-কান্নাকে ফুটিয়ে তুলবার জন্য। জীবনের গভীরতম বোধকে দর্শকের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাহলে কবীর মামা (আবুল খায়ের) হয়তো খুশি হতেন। তবে আমার জন্য তা সত্য ভাষণ হত না”- সত্য ভাষণ এই নাট্যকারের।
এইসব দিনরাত্রির আগে বাংলাদেশ টেলিভিশনে আরো তিনটি নাটক প্রচারিত হয়েছিল হুমায়ুনের। তার প্রথমটি প্রচারের ক্ষেত্রে ‘আপস’র কথাও জানিয়ে গেছেন হুমায়ুন।
গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবে তখন পরিচিত হয়ে ওঠা হুমায়ুনের কাছে একটি নাটক চেয়েছিলেন বিটিভির প্রযোজক নওয়াজিশ আলী খান। হুমায়ুন তার প্রথম প্রহর উপন্যাসটি নাটক হিসেবে লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
যথাসময়ে লিখেও দেন এবং টিভি গাইডে তার প্রচারসূচিও ছাপা হয়ে যায়। কিন্তু নাটক পড়ে নওয়াজিশ আলী খান জানান, এটি প্রচার সম্ভবপর হচ্ছে না।
“তিনি বিব্রত হয়ে আমাকে জানালেন, নাটকটি প্রচার করা সম্ভবপর হচ্ছে না, কারণ এতে নিশানাথ নামে একটি হিন্দু চরিত্র আছে। আমি আকাশ থেকে পড়লাম, হিন্দু চরিত্র থাকলে সমস্যা কী? তিনি এক সময় বললেন, হিন্দু চরিত্রকে আপনি মুসলমান বানিয়ে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়।”
তবে এতে রাজি হননি হুমায়ুন। তবে অন্য একটি নাটক লিখে দেন হুমায়ুন, যা আবার প্রথম প্রহর নামেই প্রচারিত হয়।
আর এই কাজের বিষয়ে আত্ম সমর্থনে হুমায়ুন বলেন, “ভদ্রলোকের বিব্রত ও লজ্জিত মুখ দেখে আমি যে কাজটি করলাম, তা আত্মসম্মানবোধ রয়েছে, এমন কোনো লেখক করবেন না। আমি অন্য একটি নাটক লিখলাম, যা প্রথম প্রহর নামে প্রচাতি হল। এই লজ্জা আমি রাখি কোথায়?”
নিজের আচরণের বিষয়ে এভাবেই সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে গেছেন হুমায়ুন। প্রথম প্রহরের পর দিনের শেষে ও অসময় নামে আরো দুটি এক পর্বের নাটক লিখলেও তাকে তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল এইসব দিনরাত্রি, যা প্রযোজনা করেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
১৯৮৫ সালে নয় মাস ধরে চলা ওই নাটকের প্রতিটি পর্বের জন্য দর্শকের ছিল রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা, যদিও নাটক লেখায় তখন অনেকটাই নবীন হুমায়ুন।
পয়সার টানাটানিতে এইসব দিনরাত্রি নামে এক পর্বের নাটক নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের কাছে গেলে তিনি একে ধারাবাহিক করার পরামর্শ দেন, আর তাতে কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার এই শিক্ষক।
প্রথম রিহার্সালে অভিনয়শিল্পী ডলি জহুরের অসন্তোষ নিয়ে হুমায়ুন লিখেছেন, “ডলি জহুর নাটকটি পড়ে বিরক্ত স্বরে বললেন, ‘এটা কী রকম নাটক, প্রতিটি দৃশ্যই অসমাপ্ত’। আমার তো আক্কেল গুড়–ম। ভদ্রমহিলা আরো কী সব বলতে লগলেন। ,,,, আমি বিনীতভাবে বললাম, আপনি যদি আমাকে বুঝিয়ে দেন, তবে পরবর্তী নাটকগুলোতে আমি এই ত্রুটি সামলাতে চেষ্টা করব।”
এইসব দিনরাত্রি নয় পর্বের জন্য চূড়ান্ত হলেও জনপ্রিয়তা দেখে একে ১৮ পর্বে টেনে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন মুস্তাফিজুর রহমান। হুমায়ুনের কাছে পরামর্শ চাইলে তিনি রাজিও হয়ে যান। তবে এর বিপত্তিও টের পান পরে।
“এক সময় আমি অবাক হয়ে দেখলাম, বলার মতো আর গল্প খুঁজে পাচ্ছি না। কী সর্বনাশ! ভিক্ষা চাই না মা, কুত্তা সামলাও অবস্থা। জনপ্রিয়তা চাই না, নাটকটি ভালমতে শেষ করতে চাই। এবং এই জাতীয় ঝামেলায় আর জড়াতে চাই না।”
তবে টেলিভিশন নাটকে সেই যে জড়ানো, তা থেকে আর বের হতে পারেননি হুমায়ূন। শেষে চলচ্চিত্রের মতো বড় ক্যানভাসেও নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি।
সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের আমলে এইসব দিনরাত্রির বিভিন্ন সংলাপে প্রযোজকের কাঁচি চালানোও মেনে নিতে হয়েছিল হুমায়ুনকে। তবে পরের ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’-এ বিরুদ্ধ সময়েও টিয়া পাখির মুখে ‘তুই রাজাকার’ শব্দবন্ধটি জুড়ে দিয়েছেন এই কুশলী নাট্যকার।
এইসব দিনরাত্রির পর হুমায়ুনকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি, একের পর এক টিভি নাটক লিখে গেছেন। ধারাবাহিক লিখেছেন কোথাও কেউ নেই, আজ রবিবার, নক্ষত্রের রাত .....।
উপন্যাস প্রকাশিত কোথাও কেউ নেই খুব একটা আলোচনায় না উঠলেও সেটাই যখন নাটক হিসেবে প্রচারিত হল, তখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে। এই নাটকের চরিত্র ‘বাকের ভাই’র ফাঁসির বিরুদ্ধে পথেও নেমেছিল তখন মানুষ।
তবে জনপ্রিয়তার শুরুটা সেই এইসব দিনরাত্রি দিয়েই। আর তা কতটা জনপ্রিয় ছিল, তা বোঝা যায় দুটি ঘটনা দিয়ে।
মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, “রমজান মাসে এই নাটকের একটি পর্ব হয়েছিল। তবে তারাবির নামাজের জন্য তা না দেখতে পেয়ে পুনঃপ্রচারের অনুরোধ করে অসংখ্য টেলিফোন এসেছিল।”
আর হুমায়ুন লিখেছেন, “এক সন্ধ্যায় একজন ভদ্রলোক আমার বাসায় এসে উপস্থিত। তার মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা চলছিল, তাই এইসব দিনরাত্রির একটি পর্ব তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি। এখন সেই মেয়ে বলেছে, সে আর পরীক্ষা দেবে না। এখন আমি যদি বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাকে রাজি করাতে পারি।”
আজ যখন টেলিভিশনের সামনে দর্শকের চোখ কোনো চ্যানেলেই স্থির হতে চায় না, তখন এইসব দিনরাত্রির এই জনপ্রিয়তা অনেকটা রূপকথার মতোই শোনায়।
(সংগৃহীত)
কপিরাইটঃ বিডিনিউজ
সুত্রঃ লিঙ্ক
©somewhere in net ltd.