নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমাদের কথা বলতে এসেছি। আমি বাংলাদেশের কথা বলবো।আমি পৃথিবির অবহেলিত মানুষের পক্ষে ।জয় বাংলার প্রতিটি শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। ৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষায় জিবন বাজী রেখে লড়াই করে যাবো।জিবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে ।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

ক্লোন রাফা

আমি নিরপেক্ষ নই । আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।

ক্লোন রাফা › বিস্তারিত পোস্টঃ

গণজাগরণের ১৩ পেরিয়ে আজও অনিশ্চিত বাংলাদেশ ‼️ প্রজন্মের ভুল পথে চলা .....!

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৫


গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা খুবই অকল্পনীয় ছিল/ ব্লগারদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ হঠাৎ করেই ডাক দিয়েছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিচার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সংকটের কারণেই ছিলো এই জাগরণ।আমারও সৌভাগ্য হয়েছিলো ।শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ডাকে অংশ নিয়ে ।ইতিহাসের ক্ষুদ্রতম বালু কনার মত একজন মানুষ হিসেবে স্বাক্ষর রাখার!
গণজাগরণ মঞ্চ আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি অর্জন ছিলো। আমাদের নৈতিকতা বোধ সম্পন্ন মানুষ হওয়ার গল্পের অংকুরিত বীজ ছিল গণজাগরণ মঞ্চ।
গণজাগরণ আমাদের প্রতিবাদ ও সাহসী হতে শিখিয়েছে।আমরা শিখেছি দেশপ্রেম ও দেশের জন্য নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ। কিন্তু সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারের একশ্রেণীর অসহযোগিতা এবং ধর্মান্ধতার সাথে লড়াই করে গণজাগরণ প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলেও লক্ষ কোটি মানুষের আত্মার স্পন্দন হয়ে আছে আজও।

গণজাগরণ ছিল মানুষের মুক্তির মঞ্চ।লক্ষ কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার এক অদ্ভুত শিহরণ। জনগণের ভিড় বাড়ার সাথে সাথে এই মঞ্চকে নিয়ে শুরু হয় অসাধু রাজনীতি। তথাকথিত দু - একজন ব্লগারের কথা বলে গণজাগরণ মঞ্চকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে ধর্মব্যাবসায়ী। সেই পুরোনো ধর্মান্ধ ভাইরাস জাতিকে চারদিক থেকে গ্রাস করে। দেশপ্রেমিকের মঞ্চকে আখ্যা দেয়া হয় নাস্তিকের মঞ্চ। স্বাধীনতাবিরোধীদের এই সুক্ষ্ম রাজনীতির বিকল্প রাজনীতি করতে ব্যর্থ হয় গণজাগরণ মঞ্চ।আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান এবং জামায়াত শিবিরের বাঁশেরকেল্লার অনবরত মিথ্যাচারের সামনে সেভাবে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি গণজাগরণ মঞ্চ।এর পেছনে দায়ি হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের নষ্ট রাজনীতি ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের নষ্ট মুখোশধারী রাজনীতি।

ব্লগার রাজীব হায়দার গণজাগরণ মঞ্চের মূখ্য কোন দায়িত্বে ছিলেন না, তিনি কোন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন না। কিন্তু ব্লগার রাজীব হায়দারকে কেন্দ্র করে গণজাগরণ মঞ্চকে নাস্তিক মঞ্চ বানিয়ে ধান্দাবাজিতে যুক্ত হলো বাংলাদেশের বিভিন্ন নষ্ট রাজনৈতিক দল। আমি যেমন গণজাগরণ মঞ্চের একজন কর্মী ছিলাম, একজন কবি যেমন হেঁটে হেঁটে গণজাগরণ মঞ্চে এসেছেন, সাত বছরের যে শিশুটি রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিয়েছে , যে নারী ঘরের কাজ ফেলে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, যে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা দিন রাত রাজাকারের ফাঁসি চেয়ে আল্পনা এঁকেছে, এরা কেউ নাস্তিক ছিলো না। দু- চারজন ব্লগারের জন্য আপনি গণজাগরণ মঞ্চকে নাস্তিকের মঞ্চ বললে, সেই মঞ্চে পিনাকীও ছিল। আজ লক্ষ্য করলেই দেখবেন , সেই নাস্তিক পিনাকীই হচ্ছে এখন জামায়াত ও হেফাজতের সবচেয়ে বড় আমীর ও মসজিদের ইমাম। এই তেঁতুল হুজুররা এমনি ভণ্ড। এজন্য এদের আরেক জাতীয় ইমাম হয় নাস্তিক ফরহাদ মজহার।এমনকি দেখবেন , এরা স্বঘোষিত নাস্তিক বদরুদ্দীন উমর এর ভীষণ ভক্ত। মূলত এই ধর্মব্যাবসায়ীরা হচ্ছে মুখোশধারী শয়তান।

থাবা বাবা ( রাজীব হায়দার) ছদ্মনামে ব্লগ লিখতেন । এমন কিছু ব্লগার ছদ্মনামে ব্লগ লিখতো। এদের সংখ্যা হিসেবে ১০-১৫ জন।আর ব্লগ লিখলেই যে নাস্তিক! এটা জাতির সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তিনিও একজন ব্লগার।কাবা শরীফের গিলাফ পরিবর্তন করা ভণ্ড মাহমুদুর রহমান সেও ব্লগ লিখে। অথচ ব্লগার মানেই তখন ট্যাগ দেয়া হলো নাস্তিক। জামায়াত শিবিরের এই নষ্ট রাজনীতির কাছে পরাজিত হয়েছিল লক্ষ কোটি মানুষের দেশপ্রেম। বাংলাদেশের মানুষের দেশপ্রেমের কাছে হেরে গিয়ে যুক্তির বদলে যুক্তি দিতে না পেরে জামায়াত শিবির শুরু করলো একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।মানুষ দেখলো জ-ঙ্গী জামায়াতের দানব চেহারা।

অভিজিৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ছিলো। একজন বিজ্ঞানীকে নৃশংসভাবে হত্যা করলো জামায়াত শিবির কারণ অভিজিৎ এর " বিশ্বাসের ভাইরাস " এর উত্তর আজও জামায়াত শিবিরের কাছে নেই। এমনি উত্তর দিতে না পেরে একদিন এই জামায়াত শিবিরের প্রেতাত্মারা আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে " কাফের " সাজিয়ে তার শাস্তি দাবি করেছে। সামান্য একটা কবিতা লেখার অপরাধে দাউদ হায়দারকে দেশছাড়া করেছে।অথচ রাসূল কে অপমান করে বিবি খাদিজা নিয়ে প্রেমের গল্প লেখা নাস্তিক ফরহাদ মজহার এখনও জামায়াত শিবিরের রাজনৈতিক আধ্যাত্মিক গুরু। এইসব পিনাকী ও ফ্রড মজহার নাস্তিক হয়েও জামায়াতের মসজিদের ইমামতি করতে পারে।কারণ এরাও চিন্তায় স্বাধীনতাবিরোধী।মূলত এদের নাস্তিকে কোন সমস্যা ছিলো না, এদের মূল সমস্যা ছিল মুক্তিযুদ্ধে।

এজন্য ওয়াশিকুর রহমান বাবু , নীলয় চ্যাটার্জি , অনন্ত বিজয় দাশদের হত্যা করা হয়। শুধুমাত্র গণজাগরণ মঞ্চে অংশগ্রহণ করার জন্য ২০১৩ সালে আমার উপরও হত্যার চেষ্টা চালায় জ-ঙ্গীরা। এভাবেই আমেরিকার অর্থায়নে জামায়াতে ইসলামী ও পাকিস্তানী আইএসআই এর তত্বাবধানে বাংলাদেশে সৃষ্টি করা হয় একদল উগ্র মৌলবাদী ইসলাম। সেদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে হেফাজত নেতারা বলেছিল , " তারা কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক নয়।" অথচ আজ লুঙ্গির তল থেকে জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতেই হেফাজতের ৫০১ ( অন্যর স্ত্রী নিয়ে ধরা খাওয়া আলেম) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের আমীর আবু তাহেরের পক্ষে ভোট চেয়ে বিএনপিকে হুমকি দিয়ে কথা বলে।এটাই হচ্ছে মুখোশধারী জামায়াত। এজন্য তখনি স্লোগান উঠেছিল -
" যাহাই হেফাজত , তাহাই জামায়াত।"
আজ হাড়ে হাড়ে এসব সত্যের আপনারা প্রমাণ পাচ্ছেন। কিন্তু সেদিন আমাদের নিরব কান্না , আমাদের চিৎকার কেউ শুনেনি। হাজার হাজার দেশপ্রেমিককে ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে। আমিও সেই দেশপ্রেমিকদের মধ্যে খুব নগণ্য একজন।

ওদের সমস্যা ব্লগারে ছিলো না, জামায়াতের সমস্যা নাস্তিকেও ছিলো না ; জামায়াতের মূল সমস্যা ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে । এজন্য আজ দেখবেন , বিখ্যাত কলামিস্ট শাহরিয়ার কবির কোন মানুষ হত্যা না করেও জেল খাটছেন বছরের পর বছর। নাট্যব্যক্তিত্ব বাকের ভাইরা একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চেয়েছেন। শুধুমাত্র এই অপরাধ নাট্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরকে কারাগারের ভেতরে করা হচ্ছে অকথ্য নির্যাতন।
অথচ আমাদের সরকার , আমাদের রাষ্ট্র ও তৎকালীন আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুষ এই জামায়াত শিবির নামক মুখোশধারী শয়তানদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়েছে।

স্টিফেন হকিং , রিচার্ড ডকিন্স , মহাকাশ বিজ্ঞানী কার্ল সেগান, আইনস্টাইন , দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেল এরা সবাই নাস্তিক। কিন্তু এদের কেউ কি হত্যা করেছে? ইউরোপের কোথাও শুনেছেন _ হকিং ও ডকিন্স এর বই পড়া যাবে না? পৃথিবীর কোন নামী বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে , চার্লস ডারউইনের " ইভ্যুল্যশন" পড়ানো যাবে না? কিন্তু আমাদের দেশে আমরা ২০১৪ সালের পর থেকে লক্ষ লক্ষ লোটা বিজ্ঞানী বানিয়েছি।এরা মাত্র ১৬ মাসে সমগ্র বাংলাদেশের তলা ফুটো করে দিয়েছে।এই ফুটো দিয়ে এখন " পাকিস্তান জিন্দাবাদ" ছাড়া আর কিছুই বের হয় না। এদের মগজ ভর্তি লোটা বিজ্ঞান , মাথার ভেতর যৌনতা আর পেটের মধ্যে খয়রাত ছাড়া আর কিছুই নেই।এমন বাংলাদেশে মানুষ জন্ম হবে কোথা থেকে?
এজন্য বাংলাদেশ এখন খয়রাতে পাকিস্তানের আপডেট ভার্সন ছাড়া আর কিছুই নয়।লোটা বিজ্ঞান আর এন্টারকটিক এন্টারটেইনমেন্ট মাইক বিজ্ঞানী ছাড়া এদের আর কিছুই নেই। এমনকি মসজিদের ভেতর পর্যন্ত ধর্ষিত হয়েছে শিশু।এই হচ্ছে মবের বাংলাদেশ, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের বাংলাদেশ , লোটা বিজ্ঞানের বাংলাদেশ ।এদের একমাত্র পরিচয় হচ্ছে আমেরিকার গোলাম আর পাকিস্তানের সৎ ভাই।

পাকিস্তান জিন্দাবাদ এর নামে "পটু জিন্দাবাদ" ছাড়া এদের মুখে আর কোন স্লোগান নাই।এই জামায়াত শিবির হচ্ছে জাতীয় ভাইরাস। এজন্য এদের মুখে ইসলাম আর পটুতে পাকিস্তান। এমন‌ ভণ্ডদের ইংরেজিতে বলে হিপোক্রেট জামায়াতে ইসলাম । মানুষের মুখোশে এরাই হচ্ছে মুখোশধারী শয়তানের আরেক রূপ।তাই এই হিপোক্রেটদের মুখে " পাকিস্তান জিন্দাবাদ" ছাড়া কোনদিনও দেশপ্রেমের একটা শব্দ জাতি কখনো শুনেনি, ভবিষ্যতেও শুনবে না।এরা বিজয় দিবস খেয়েছে , বই মেলা খেয়েছে , ক্রিকেট খেয়েছে , পোশাক শিল্পও ধ্বংস করে দিয়েছে।আর কিছুদিন পর এরাই সমগ্র বাংলাদেশ মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের নামে গিলে খাবে। পাকিস্তানে যেমন ২৮০ জন পাকিস্তানি সৈন্য মারা গেছে , মসজিদে মসজিদে বোমার বিস্ফোরণ হয় , ঠিক তেমনি হবে আগামীর বাংলাদেশে। এটা কোন গালগল্প নয় , এটাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রিয়েলিটি তথা বাস্তবতা।

সেই জাগরণের পতাকা ধরে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাবে মনে করেছিলাম। কিন্তু আজ প্রকাশ্যে দেখলাম প্রজন্মের ভুল পথে যাত্রা। বিগত সরকারের অবহেলায় হারিয়ে গেছে আমাদের নতুন জীবনের স্বপ্ন। এই ভুলের সংশোধন এখন বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু॥

গণজাগরণ মঞ্চ -
সত্য সবসময় সুন্দর

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.