| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্লোন রাফা
আমি নিরপেক্ষ নই । আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।
শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ
সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা বেঁচে থাকাতেই সকল সমস্যা" ধরনের মন্তব্য। এই একটি লাইন থেকেই পুরনো অনেক জট আবার সামনে এসেছে।
২১ আগস্টের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না:
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি সরকার। আদালতের রায়ে সেই ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এসেছে। তখন থেকে আমাদের একটি ধারণা ছিল - স্বাধীনতা বিরোধী ও জঙ্গি গোষ্ঠী বিএনপিকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে টার্গেট করেছিল।
এখন প্রশ্নটা ঘুরে যাচ্ছে:
যদি আজ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মুখেই শেখ হাসিনা জীবিত থাকা নিয়ে আক্ষেপ শোনা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক - তাহলে কি শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশই কারো কারো প্রত্যাশা?
অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে দেশ পরিচালনার জন্য প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি বাংলাদেশে নতুন নয়। সেই কারণেই এই মন্তব্যকে মানুষ শুধু "মুখ ফসকানো কথা" হিসেবে নিতে পারছে না।
দুটি পক্ষের তত্ত্ব:
এতদিন আমরা মনে করতাম, বিএনপিকে ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষ শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। কিন্তু এখন উল্টো প্রশ্ন উঠছে - ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার আকাঙ্ক্ষা থেকে কি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিই কাম্য হয়ে উঠেছে কারো কারো কাছে?
আমার পর্যবেক্ষণ:
এটা কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশের বিষয় নয়, এটা গণতন্ত্রের প্রশ্ন। শেখ হাসিনা একটি রাজনৈতিক শক্তি, একটি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে, তার বেঁচে থাকাকেই সমস্যা হিসেবে দেখা - এটা সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ নয়।
সরকারের উচিত হবে জাহেদুর রহমানের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া। এটি যদি সত্যিই কথার কথা হয়ে থাকে, তবে প্রত্যাহার করা উচিত। আর যদি এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক দর্শন থাকে, তবে জনগণের তা জানার অধিকার আছে।
শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার ইতিহাস এ দেশে বহুবার হয়েছে। তাই তার নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো মন্তব্যই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ঠিক আছে, শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ইতিহাস ধরে ধরে একটি বিশ্লেষণমূলক ব্লগ তৈরি করে দিলাম:
---
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ধারাবাহিক ইতিহাস: কেন তার বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে?
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনটাই বারবার হত্যাচেষ্টার ইতিহাস। রাষ্ট্রীয় নথি, মামলার রায় ও সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রধান ঘটনাগুলো একসাথে দেখলে বোঝা যায়, কেন তার নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো মন্তব্য বাংলাদেশের মানুষ হালকাভাবে নেয় না।
১৯৮৮ - চট্টগ্রাম লালদিঘী ট্র্যাজেডি (২৪ জানুয়ারি)
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার ট্রাকে গুলি। ৭ জন আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত। টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা।
১৯৮৯ - ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বোমা হামলা (১১ আগস্ট)
রাতে বাসায় গ্রেনেড ও গুলি। শেখ হাসিনা বেঁচে যান।
১৯৯০-৯৪ - একাধিকবার হামলা
১৯৯১ সালে গ্রেনেড, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে ট্রেনে গুলি, ১৯৯৪ সালে নাটোরে জনসভায় গুলি।
২০০০ - কোটালীপাড়া বোমা (৭৬ কেজি বোমা)
শেখ হাসিনার জনসভাস্থলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা। বোমা ডিসপোজাল ইউনিট উদ্ধার করে। না হলে ইতিহাস অন্যরকম হতো।
২০০১-২০০৪ - বিএনপি-জামায়াত আমলে সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়
২০০১ সালে গোপালগঞ্জের গির্জায় বোমা
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ১৩টি গ্রেনেড। ২৪ জন নিহত, শেখ হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে যান, শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই মামলায় আদালতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, জঙ্গি সংগঠন হুজি এবং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার একাংশের সংশ্লিষ্টতার কথা রায়ে এসেছে।
বিশ্লেষণ: সমীকরণটা কোথায়?
এতদিন আমাদের বিশ্লেষণ ছিল - স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত ও জঙ্গিরা বিএনপিকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে সরাতে চায়। কারণ শেখ হাসিনা থাকলে যুদ্ধাপরাধের বিচার, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ফিরবে - এটা তারা চায়নি।
কিন্তু এখনকার বাস্তবতা ভিন্ন প্রশ্ন তৈরি করছে:
আজ যখন বিএনপি নিজেই রাষ্ট্রক্ষমতায় বা ক্ষমতার খুব কাছে, এবং তাদেরই উপদেষ্টা পর্যায়ের একজন ব্যক্তি যখন বলেন "শেখ হাসিনা বেঁচে থাকাতেই সমস্যা", তখন পুরনো তত্ত্বটা উল্টে যায়।
তাহলে কি এখন আর তৃতীয় পক্ষ নয়, সরাসরি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে, এমনকি জীবন থেকেও সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা কাজ করছে?
তারেক রহমান ও তার সরকারের অনেকেই যদি শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেন, তবে সেটা আর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকে না, সেটা হয়ে যায় অস্তিত্বের প্রশ্ন। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার সবচেয়ে সহজ পথ প্রতিপক্ষকে শেষ করে দেওয়া - এই অপরাজনীতি বাংলাদেশে বারবার ফিরে এসেছে।
উপসংহার:
শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা কারো দয়ার দান নয়। তিনি ২০ বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তাই তার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি একটি হুমকির বার্তা দেয়।
এটা মুখ ফসকানো কথা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে - তারা কি শেখ হাসিনা সহ সকল নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দেবে, নাকি শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখবে?
ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা যেমন ব্যর্থ হয়েছে। তার কন্যাকে মুছে ফেলা যাবেনা , ইংশাআল্লাহ্।
শেষ কথা: বাংলাদেশ কারো একার নয়, শেখ হাসিনা বিহীন বা তারেক রহমান বিহীন নয় - বাংলাদেশ সবার। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে প্রতিপক্ষের মৃত্যু কামনা - এই রাজনীতি থেকে বের হতে না পারলে খুনিরা নিশ্চয়ই নিঃশ্চিহ্ন হয়ে যাবে একদিন।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু॥
©somewhere in net ltd.