নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

good boy

খুজে ফিরি

গ্যাম্বিট কিং

boy

গ্যাম্বিট কিং › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফেসবুক নবী হইবার পুর্নাংগ টিউটোরিয়াল- নাস্তিকদের ভণ্ডামি উন্মোচোন

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:১২

ফেসবুক নবী হওয়া যেমন তেমন ব্যাপার নয়। এটি একটি অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য কাজ এবং অবশ্যই কৌশলগত ব্যাপার ও বটে। যদি এই দুইটা ব্যাপার আপনার মধ্যে থেকে থাকে তাহলে, হ্যাঁ, এই টিউটোরিয়াল আপনার জন্যই,। তবে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, যদি এই দুটো ব্যাপার আমার মধ্যে থেকে থাকে, তবে এ টিউটোরিয়ালের উপযোগিতা কি?



জ্বি জনাব, উপযোগিতা আছে। আমরা আপনাকে বলে দিব কিভাবে কি করলে আপনি হবেন একজন নবী। আপনি শুধু পরিশ্রমটা দিয়ে যাবেন, কৌশলটা আমরাই সামলাব। আমরা বাজি ধরে বলতে পারি, এই টিউটোরিয়াল অনুযায়ী কাজ করলে শুধু আপনি কেন, একটা গাধা ও নবী হতে পারবে। বিশ্বাস হচ্ছে না? প্রমান আপনাদের হাতের কাছেই আছে। জ্বি হ্যাঁ, কপি-পেস্ট নবীই আমাদের সেই গাধা।



তাহলে আর বসে থাকবেন কেন, বুদ্ধি থাকুক আর নাই থাকুক, আসুন অনুসরন করুন আমাদের এই টিউটোরিয়াল এবং হয়ে যান ফেসবুক নবী।



উপকরনসমুহ- প্রথমেই আপনার দরকার হবে একটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ হলে ভালো হয়। এই ছাড়া লাগবে বাংলা লেখা যায় এই ধরনের একটি মোবাইল ফোন। কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোন দুইটাতেই ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে। ল্যাপটপ থাকলে ওয়ারল্যাস ইন্টারনেট কানেকশন নেয়াটাই অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক।



কার্যপ্রনালী- কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন তো হল, এবার শুরু হবে আমাদের কৌশলগত কাজ সমুহ। আপনি শুধু ঠিকভাবে অনুসরন করে যাবেন মাত্র। omicronlab.com থেকে অভ্র ডাউনলোড করে নিন। ইন্টারনেটে বাংলা লিখতে পারে এমন লোকের অভাব নেই, যে কোন এক বন্ধু অথবা কাছের কারো কাছ থেকে শিখে নিন। তাও না পারলে মোবাইলে যেভাবে টেক্সট করেন, ঠিক একইভাবে বাংলা লেখার চেস্টা করুন। এভাবে এক মাস চেস্টা করলেই আপনি বাংলায় পি,এইচ,ডি সমতুল্য জ্ঞানী হয়ে যাবেন। আপনি এবং ডক্টর হুমায়ুন আজাদ তখন একই কাতারে। বাংলা লেখার সাথে সাথে আপনি ফেসবুকে একটি একাউন্ট ও খুলে নিন। এবার বিভিন্ন ব্লগে, ফোরামে ও নিক খুলে নিন।



ফেসবুকে নবী হবার একটা প্রাথমিক এবং গুরুত্বপুর্ন শর্ত হচ্ছে ফোকাস বা আলোচনার মধ্যে থাকা, এবার তা যেভাবেই হোক না কেন। মনে রাখবেন, এটা একটা যুদ্ধ। ভালোবাসা এবং যুদ্ধে সবকিছুই জায়েজ আছে। নাস্তিকতা, মানবতা, নারীবাদ ইত্যাদি হাল-আমলের ফ্যাশন। মানুষ এই ব্যাপারগুলান নিয়ে কথা বলতে এবং শুনতে খুব পছন্দ করে, তর্কাতর্কি হলে তো কথাই নেই। প্রথমেই শুরু করুন নাস্তিকতা দিয়ে, ইচ্ছেমতন ধর্মের শেকল ধরে টানাটানি করুন, চিন্তার বদ্ধ জানালায় লাত্থি মারতে থাকুন এবং সেই সাথে বলতে থাকুন “আমি,আমি,আমি,আমি,আমি...”। তারপরে ধীরে ধীরে বাকি বিষয়গুলো উন্মুক্ত করুন। মানবতা এবং নারীবাদ নিয়ে চিৎকার, চেঁচামেচি করতে থাকুন বয়স্ক বেশ্যাদের মতন খনখনে গলায়। “আমি,আমি,আমি,আমি,আমি...” করতে ভুলবেন না যেন। মনে রাখবেন, এই দুনিয়াতে নিজের ঢোল নিজে না পেটালে কোন শালা এসে আপনার ঢোল পিটিয়ে দিয়ে যাবে না।



ব্লগিং, ফেসবুক স্ট্যাটাসের সাথে সাথে আরো একটি গুরুত্বপুর্ন কাজ আছে। শ’চারেক ফেসবুক আইডি খুলে ফেলুন। নিজের স্ট্যাটাসে নিজে কমেন্ট করুন, লাইক দিন, গালাগালি করুন। খবরদার আসল আইডি দিয়ে গালাগালি করবেন না, এই আইডি দিয়ে শুধু মোলায়েম ভাষায় হুমকি দিতে থাকবেন, “আপনারা এইরকম করলে আমি কিন্তু আপনাদের ব্লক করতে বাধ্য হব। গালাগালি পরিহার করুন, যুক্তি দিয়ে কথা বলুন”, ইত্যাদি টাইপ। জানেনই তো, বাংগালী ক্যাচাল, হইহুল্লোড় টাইপ কর্মযজ্ঞ অতিরিক্ত মাত্রায় পছন্দ করে। রাস্তায় দুইজনে মারামারি করলে দর্শক থাকে পঞ্চাশজন কিংবা নিদেনপক্ষে রাস্তায় পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলাকালীন সময়ে, কন্ট্রাক্টর শ্রমিকদের গালি দিবেন কখন, তা শোনার জন্য গোটা বিশেক মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। আর এতো নাস্তিকতা, মানবতা, নারীবাদ চর্চা! “আমি, আমি, আমি, আমি, আমি...” করতে ভুললে চলবে না কিন্তু।



একটু নাদুস-নুদুস টাইপের এবং হাতে অঢেল সময় থাকলে এর সাথে একটা বোনাস কাজ ও করতে পারেন, শ’দুয়েক আই,ডি আরো খুলে রাখুন। ডয়েচ ভেলে’তে সেরা ব্লগার নির্বাচনে আপনি ও যে ডাক পাবেন না তার গ্যারান্টি কি! তাছাড়া কখন কোন গুরুত্বপুর্ন সময়ে কমেন্ট,লাইক,রিভার্স গেম খেলতে কাজে লেগে যায়, তাই বা কে বলতে পারে। কাজের কাজ হিসাবে, যাদের আপনার নবুওয়াতের পথে হুমকি মনে হবে, তাদের আপনি এই নিকগুলান দিয়ে এড করে নিন !



আপনি নারীবাদি হবেন কিন্তু সব নিক ছেলেদের নামেই খুলবেন, এ ঘোর অনাচার। অন্ততঃ একশ একাউন্ট খুলবেন মেয়েদের নাম দিয়ে। পারলে ছবি একটা জোগাড় করে দিবেন প্রোফাইল পিকচারে, না পারলে আম-জাম-কাঠাল যা কিছু একটা দিয়ে দিন। এদের দিয়ে “ভাইয়া, ভাইয়া, ভালো বলেছেন”। ইত্যাদি ইত্যাদি টাইপের লুতুপুতু কমেন্ট করান। অবাক হচ্ছেন? কি ভেবেছেন আলু-পেয়াজের দোষ আপনার একারই আছে? শপিং করতে গেলে দেখবেন যে দোকানে সেলসগার্ল আছে, সে দোকানে ভীড়, বিক্রি অন্য দোকান অপেক্ষা বেশী। বিপরীত লিংগের প্রতি আকর্ষন, জগতের চিরন্তন নিয়ম- আপনি অনুসরনকারী মাত্র।



কি কি লিখবেন, তা তো বললাম, কিন্তু কিভাবে এসব জোগাড় করে লিখবেন? প্রেশার বেড়ে গেছে? মাথাব্যাথা করছে?



না জনাব! চিন্তার কিছুই নাই, সমাধান হাতের কাছেই আছে, গুগল মামা তো আছেই আপনার সেবায় ২৪/৭। যা নিয়েই লিখতে চান, সার্চ দিন। দেখুন অনেকগুলো রেজাল্ট এসেছে, এর মধ্যে যুতমতন ২-৪টা লেখা নিয়ে এবার বসে যান। এ জায়গাটা একটু ক্রিটিকাল, একেবারে ব্রেইন অপারেশনের মতই। কোন লেখার মাথা নিন, কোন লেখার মধ্যাংশ নিন, আবার কোন একটার শেষাংশ নিন। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল আপনার মৌলিক লেখা। খবরদার ভুলে ও কোন লেখার পুরোটা একসংগে মেরে দিবেন না। ব্লগ-ফেসবুকে নিশ্চয়ই দেখেছেন অথবা শুনে থাকবেন কপি-পেস্ট নবীর জালিয়াতি ধরার ঘটনা। ঠেকে শেখার চাইতে দেখে শেখাটাই উত্তম। ন্যায়-অন্যায় যাই হোক, স্রোতের বিপরীতে নিজেকে রাখাটাই আলোচনায় থাকার আরেকটা কৌশল। তাই সময় বুঝে, পরিস্থিতি বুঝে স্ট্যাটাসের বিষয় নির্ধারন করতে হবে।



স্ট্যাটাসের নুন্যতম সাইজ হতে হবে এক নবী স্কেল। বুঝতে সমস্যা হচ্ছে? আপনার কম্পিউটারের মনিটরের দিকে তাকান। ঠিক আপনার মনিটরের সমান স্ট্যাটাস দিন। লেখার মতন কিছু না থাকলে ও, আকথা-কুকথা সব দিয়ে পূরণ করুন সাইজটুকুন বা নিদেন পক্ষে কোন লেখক, রাজনীতিবিদ, গুরুত্বপুর্ন যে কাউকে উদ্দেশ্য করে একচোট মিথ্যা তথ্য দিয়ে হলে ও মনিটর পূর্ন করুন । এর একটা পজিটিভ দিক আছে, ক্যাচাল বাড়বে, আপনার ফোকাসে থাকার শর্তটা ও পুরন হবে।



এরপরে আছে নিজেকে একটু প্রমানের তাগিদ। যেহেতু আপনি একটা গর্ধব, তাই মনুষ্য সমাজে মান-সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে হলে কিছু একটা বোঝাতে তো হবেই। বিদেশী ভদকার একটা খালি বোতল কিনে নিয়ে আসুন পুরানো ঢাকার কোন দোকান থেকে, সস্তার মধ্যেই পাবেন। বোতল এক হাতে বগলের কাছাকাছি ধরুন, এবার আরেক হাতে একটা বেনসন বিড়ি ধরিয়ে ফুকতে থাকুন এবং সে ছবি ফেসবুকে শেয়ার করুন। লোকে দেখুক, আপনি কত শরীফ আদমি! বিড়ি ফুকার সময় প্রতি টানে তিনবার করে দোয়ায়ে “আমি,আমি,আমি,আমি,আমি...” করতে ভুলবেন না যেন।



আপনি যে আপনার নীতির প্রতি অবিচল, তা বোঝাবেন কি করে? হাঃ হাঃ হাঃ, হতাশ হবেন না দয়া করে। সবার বন্ধু-বান্ধবের মাঝেই দুই-একটা বেশী রকমের সহজ-সরল ভাল মানুষ থাকে। এদের মধ্যেই একজনকে বেছে নিন। তক্কেতক্কে থাকুন কবে কখন তার সাথে তার গার্লফ্রেন্ডের ঝগড়া হয়। খবর কানে আসা মাত্রই দুই নবী স্কেল সাইজের একটা স্ট্যাটাস দিন।যা খুশী লিখে দিন, স্রেফ মরে গেছে এই টাইপের কিছু লেখা যাবে না। মেয়ে বেঁচে আছে দেখা গেলে আপনার সমস্যা হতে পারে। এইরকম বন্ধুকে গালাগালি করার মতন আরাম ও আর হয় না। আরামে আরাম হল, নীতির প্রতি অবিচল থাকা ও হল। “আমি,আমি,আমি,আমি,আমি...” করা ও হল।



নীতির প্রতি এই অবিচল থাকার সময়ে অনেক বাধা-বিঘ্ন আসবে, একদমই পাত্তা দেবেন না। কোন বন্ধু এইসবের প্রতিবাদ জানালে তাকে ঠারেঠুরে বুঝিয়ে দিন লাল,নীল,হলুদ,সবুজ,কালো সব ধরনের টুপিওয়ালা হ্যাকারদের সাথেই আপনার যোগাযোগ আছে। সেইসাথে একটা প্রচ্ছন্ন হুমকি দিন, আপনি ইচ্ছে করলেই একটা স্ট্যাটাস দিয়ে তাকে শুইয়ে দিতে পারেন।



এরপরের ধাপ হচ্ছে রিপ্লাই বা প্রতিউত্তর ধাপ। এই ধাপে আপনাকে শেখানো হবে, কিভাবে রিপ্লাই দিবেন। আপনি গাধা হতে পারেন, কিন্তু বাকি সবাইতো আর গাধা না। অথবা আপনি কুতুব-এ-এলাহি ও হতে পারেন, কিন্তু মনে রাখবেন বাপের উপরে ও বাপ আছে, কুতুবের উপরে ও কুতুব আছে। খুব জটিল সমস্যা মনে হচ্ছে? মাথা ঘুরাচ্ছে? বমি বমি লাগছে?



জনাব, এই সমাধানটাই বরং জলবৎ তরলং ! এইরকম পাকনা দেখলে দেরী না যে কোন একটা অজুহাত দেখিয়ে ব্লক করে ফেলুন। আবার অনেক পাকনা আছে, ভয়ংকর রকমের পিছলা এবং ধুর্ত। এদের আপনি ব্লক করতে পারবেন না, আসলে এরা আপনাকে সেই সুযোগই দিবে না। তাদের জন্য রয়েছে “স্লিপিং নিক” ফর্মুলা। যুত করতে পারছেন না? ধড়াম করে উড়ে এসে জুড়ে বসার ভঙ্গিতে তাদের স্ট্যাটাসে গেরিলা আক্রমন করুন। মাথায় যা আসে তাই সই, অপ্রাসংগিক হলে ও লিখুন। ছাইয়া নিক এইক্ষেত্রে সবচাইতে বেশী কার্যকরী। কিছুক্ষন উল্টা-পাল্টা কমেন্ট দিয়ে কেটে পড়ুন। বেশীক্ষন ত্যানা প্যাচাবেন না। মনে রাখবেন, ল্যাঞ্জা ইজ আ ডিফিকাল্ট থিং টু হাইড, একবার বেরিয়ে পড়লে মহা-মুস্কিলে পড়ে যাবেন।



যেইগুলান আপনার চাইতে একটু উন্নত প্রজাতির গাধা তারা কোন প্রশ্ন করলে তালগাছ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে যান। যারা যারা আপনার তালগাছে হাত বুলিয়ে যাবে, বুঝতে পারবেন এরাই আপনার উম্মত, বাইয়াত গ্রহন করছে।



ব্যাস ধীরে ধীরে জমে গেল আপনার শ-খানেক অথবা পঞ্চাশজন মুরীদ। এইভাবে হয়ে যান ফেসবুক নবী। তবে খুলে ফেলা ছয়শ’নিক দিয়ে ক্রমাগত লাইক, কমেন্টের এস্তেমাল করতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন, যে দোকানে মানুষ ভীড় বেশী দেখে সে দোকানেই তারা বেশী যায়। সাথে সাথে “আমি,আমি,আমি,আমি,আমি,আমি...” আবশ্যক, এ কাজ উম্মতদের উপরে ছেড়ে দেবেন না যেন ভুলে ও। মনে রাখবেন, তারা আপনার উম্মত, শালা-দুলাভাই না।



এই টিউটোরিয়াল হুবুহু অনুসরন যদি করে থাকেন তাহলে ইতিমধ্যেই আপনি হয়ে গেছেন একজন ফেসবুক নবী। আপনার জন্য রইল অশেষ অভিনন্দন এবং প্রানঢালা শূভেচ্ছা!





Click This Link

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:২০

মারুফ মুকতাদীর বলেছেন: হাসতেই আছি :D

২| ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:৩৯

পথহারা সৈকত বলেছেন: =p~ =p~ =p~ =p~ =p~ =p~ =p~ =p~ =p~ =p~

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.