নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ওয়াটার স্করপিয়ন

আই এম নো বডি

ওয়াটার স্করপিয়ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন মিরন ভাই এবং কিছু বিশ্বকাপ কথন

০৩ রা জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:৪০

আমাদের এলাকার মিরন ভাই, পৈতৃক সূত্রে একজন পেশাদার আর্জেন্টাইন সমর্থক। তারা বাবা, চাচা, মামা থেকে শুরু করে পুরো পরিবারের সবাই মিলে আর্জেন্টিনার বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী। তার বাবা ম্যারাডোনার বিশাল বড় সমর্থক ছিলেন বলে ছেলে মেয়ে সবার নাম এর অদ্যাক্ষর ম দিয়ে রেখেছেন। ইচ্ছে ছিল ছেলে একদিন বড় হয়ে ম্যারাডোনার মত ফুটবলার হবে। তবে ঈশ্বরের ইচ্ছে ছিল ভিন্ন। মিরন ভাই ম্যারাডোনার মত ফুটবলটা খেলতে না পারলেও নেশা টা তার থেকে বেশি বৈ কম করেন না। ফলে মাঝে মাঝেই তাকে হাজতে কাটাতে হয়। তবে হাজতে কাটানো সময়টা তার মন্দ যায় না। তার সাথে যারা আটক থাকে তাদের নিয়ে আড্ডা দিয়েই সময় কাটিয়ে দেন। আর আড্ডার বিষয় তো একটাই, ফুটবল। আসলে কথা সুধু তিনিই বলেন আর বাকীরা সিগারেটের লোভে তার কথায় সায় দিয়ে যায়। ২০১৪ ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়া উপলক্ষে আজকে তার আগাম পার্টি চলছে। পার্টির মাঝখানে মিরন ভাই ভাষন দিতে উঠলেন, "প্রিয় আর্জেন্টাইন সমর্থক ভাই ও বন্ধুগন, প্রতিবছর আমার ইচ্ছে থাকে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের পর এরকম একটা পার্টির আয়োজন করবো। কিন্তু ফিফার পক্ষপাতিত্বের কারানে কখনো তা হতে পারে না। কিন্তু এবার আমি নিশ্চিত যে আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ জিতবে। কারন, এই দলের ১১ জনেই ১০ জনই এক একটা ম্যারাডোনা, আর বাকী একজন হলো মেসি। দলে যে পানি টানে সেও একটা ম্যারাডোনা। সে কারনে এইবার আর আমাদের......।" বক্তৃতার এই পর্যায়ে বেরসিক পুলিশ এসে উপস্থিত। নেশা করার অপরাধে মিরন ভাই সহ উপস্থিত সবাইকে হাজতে নিয়ে যাওয়া হলো।

আদালতে জজ সাহেব তাকে প্রকাশ্যে নেশা করার কারন জিগ্যেস করলে তিনি বলেন যে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় উপলক্ষে তিনি এই পার্টির আয়োজন করেছেন।

- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আপনি কি করে বুঝতে পারলেন যে আর্জেন্টিনা এবার চ্যাম্পিয়ন?

- মাননীয় আদালত, বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে আর্জেন্টিনার যে সমর্থক গোষ্ঠী আছে, তারা বছরের পর বছর ধরে যে ধৈর্য্য পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে তার মূল্য পুঁজিবাদী ফিফা কে এবার দিতেই হবে। ধৈর্য্য ধারন করতে করতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যে কোন মূল্যে এবার আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করতেই হবে। দরকার হলে প্রতি ম্যাচেই দুইটি করে বাধ্যতামূলক পেনাল্টির ব্যবস্থা করতেই হবে। তা না হলে ফিফা অভিমুখে লংমার্চ সহ আরও কঠিন কর্মসুচী দেয়া হবে।আর আমার গুরু ক সম্মান দেখানোর জন্য আমি নেশা করছি।

- আপনার গুরু কে?

- ম্যারাডোনা।



তার কথা শুনে আদালতে হাসির রোল উঠলো। জজ সাহেব নিজেও একজন আর্জেন্টাইন সমর্থক বলে মিরন ভাই এর প্রতি একটু বিশেষ দয়া অনুভব করলেন। সেই যুবক বয়স থেকে তিনি মিরন ভাই এর মত একটা পার্টি দেয়ার জন্য অপেক্ষা করে আছেন। কিন্ত এই শেষ বয়সেও অপেক্ষার প্রহর শুধু দীর্ঘই হচ্ছে। তিনি রায় ঘোষণা করলেন, "সকল বিষয়াদি বিবেচনা করে মাননীয় আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, জনাব মিরন মানসিক ভাবে অপ্রকৃতস্থ একজন মানুষ। তার সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।"

২০৩৪ সালের ১৪ই জুন।

বিশ বছর চিকিৎসা গ্রহনের পর মিরন ভাই আজকে সুস্থ হয়ে ফিরছেন। কাকতালীয়ভাবে আজকে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা হচ্ছে। মিরন ভাই রাস্তায় দোকানের সামনে খেলা দেখতে ভীড় করা লোকদের সাথে খেলা দেখতে দাঁড়িয়ে পরলেন। টিভির সামনে তার চোখ একটা দলকেই খুজে যাচ্ছে, কিন্তু.....................

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.