| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পঞ্চম আধার
হয়ত কোন একদিন খোলা নদীর তীরে, হুহু করে উত্তাল সমীরণে ভাসতে ভাসতে আমার সুবাস...জেনে নিও বন্ধু.....আমি কে. আমি কে....
খুব ছোটবেলা থেকে আমি “ন” অক্ষর দিয়ে তৈরি একজন পুরুষ । “নীরিহ” “নীরপদ্রুপ” “নিষ্পাপ”, যেখানে আমার বন্ধুরা ছিল উদারমনা, সচেতন, স্মার্ট, কুল । তাদের গুণাবলী পাওয়া যেত ইংরেজী ডিকশনারিতে । আমার পদাবলী বাংলা ব্যাকরনের কারকের মত লবণহীন ।
তারা অনেক ছোটবেলা থেকে কার্টুন নেটওয়ার্ক, ষ্টার মুভিয, এইচ বি ও সেট ম্যাক্স দেখে সভ্য ।
আমি বাংলাদেশ বেতার শুনতাম বালিশের তলে দশ ব্যান্ডের রেডিও, লুকিয়ে সবার বিনোদন বন্ধু গাযি মাজহারুল এর ভারী নাকি কণ্ঠস্বর রোমাঞ্চিত দুপুর ।
পঞ্ছম শ্রেণীতে থাকতে আমার বন্ধুরা কলেজ এর বড় ভাই-আপুদের প্রেমাউপখ্যান এর সাথে বিশেষ অঙ্গ শ্রেণীবিভেদ করত । আমি পাটক্ষেতের প্রসঙ্গে ছেলেধরার কল্পিত কবন্ধ ঘোড়ার চিহী ঘোড়ার ভয়ে আতঙ্কিত ।
উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর পর আমার পদের ঝুলিতে আরেকটি শব্দ যোগ হল, “ন্যাকা” ।
আমার বন্ধুরা অবিরাম চুটকি বলে, ইয়া বড় ঝুটি দুলিয়ে, বাম হাতের চুটকি বাজিয়ে আপন চেহারার চাইতে অনেকগুন সুন্দর (!) ললনা বগলাদাবা করে বয়েজ বাথরুমের চিপাই, নাহলে কোন বন্ধুর রুমে চুটিয়ে ডেটিং করে দু দিন পর সে ললনার নাম উপধি দিত “স্লাট” । এর মানে খুজতে আমাকে সাইবার ক্যাফে যাওয়া লাগত !
নিজেদের হোস্টেল / মেস কক্ষে সুরার মদিরায়, গঞ্জিকার আশীর্বাদে আধ্যাত্মিকতার তলানী শুষে লালনের লিরিক এর মা-বাপ করে পাশের গলির আন্টির মেয়ের ঘুম হারাম করত । নীলছবি ছিল তাদের নিত্য নতুন কামকলার টিউটোরিয়াল ! আমি জানতাম ওটা বাবা আদমের নিষিদ্ধ গন্ধম ।
ক্রমশ তাদের চেতনা বিকশিত হতে লাগল, কথায় কথায় আমাকে বলত “জারক”
আমি হতবম্ভ “অ্যাঁ” !
আমাকে তারা উপদেশ দিত “কুল” হতে, আমি স-সংকোচে “কূল (বরই)” এর বীচি চুষতাম ।
তারা সচেতন । কুয়াশামগ্ন পউষ সন্ধ্যাই, আড্ডাবাজীর ধুম্রভেদ করে রাজনীতির ফাক ফোকরের তল্লাশি চালাত ।
আমি ঠাণ্ডা লাগার ভয়ে বাপের দেওয়া বছর কয়েক পুরান সোয়েটার গায়ে, মায়ের নিজ হাতে সেলাই করা ধুরা লেপের তলে মিষ্টি লাড্ডুর স্বপ্নে বিভোর ।
একদিন আমার ভেতরে সচেতন আত্মার পদচারন শূনে রোমাঞ্চিত । আমি ভাবতে শিখছি বন্ধুরা ততদিনে রাজপথের মাপজোক বাতলাতে আরম্ভ করেছে, দলের নেতা নেত্রীদের ।
খালি নাই শুনে আমি আতঙ্কিত হই । আমার যায়গা কোথায় ?
৭১ সালের মুক্তিযোধ্যাদের সাহসী গল্প আমাকে সুন্দর, সচ্ছল, পরীশীলীত দেশ গড়ার অঙ্গীকার কথা স্মরণ করিয়ে দিত ।
আমার বন্ধুরা অনেক আধুনিক, তাদের উদ্দিপনা ছিল রাজাকার নিধন আর পরী ঘেরা দেশ এর স্বপ্নে ।
আমার আক্ষেপ হত না , ধন্যবাদ জানাতাম বঙ্গবন্ধুকে । ঐ সময় গাদ্দারগুলারে সাধারন ক্ষমা না করলে আমাদের বন্ধুদের উদ্দিপনায় ভাটা পড়ত । এসব কারণে আমি তাঁকে মাঝে মধ্যে দূরদর্শী ভাবী ।
ভুলে ভালে আমার নিষ্পেষিত মন থেকে প্রশ্ন বের হয়ে যেত ……
“এরাই কি আগামীর নেতা/নেত্রীবৃন্দ?”
ভৎসনার বাক্যে সান্ত্বনা জুটত “তুই একটা ডাম্ব এস” ।
পরিশেষে আমি আমার এসহোল উচু করে নাক ডাকিয়ে স্বপ্নে সোনার বাংলা গড়তে ব্যাকুল । আমার বাংলায় সোনা মানে সোনালী ধানের শীষ দুলে উঠা দেখে মুগ্ধ দোয়েল পাখীর শীষধনী ! কারো শীৎকারের আবেগে দোলা পুরুষাঙ্গ না ।
আমার ভাবনায় বাংলা একটি ব্যাপ্ত শব্দ, যে শব্দের সম্প্রসারণ এক জীবনের সব স্বপ্নে শেষ হয় না ; অন্যদের মত কেরু অ্যান্ড কোং এর কয়েকমিলির সুরার বোতল নয় !
“নির্ভয়ে” “নিঃসংকোচে” সটান ভঙ্গিতে স্কুল জীবনে সোনার বাংলা গাইতাম, আজ সেরকম সটান মেরুদণ্ডের অভাবে আমি আমার প্রজন্ম্যের কলঙ্কিত “নপুংসক” ছাড়া আর কি?
২|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৫:০৩
পঞ্চম আধার বলেছেন: স্বপনচারিণী ধন্যবাদ আপনাকে । সময় নষ্ট করে পড়ার জন্য ।
৩|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৫:৫১
আজ আমি কোথাও যাবো না বলেছেন: ![]()
৪|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১১
পঞ্চম আধার বলেছেন:
:-&
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:০৯
স্বপনচারিণী বলেছেন: পোস্টে ভাললাগা রইল।ধন্যবাদ।