| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মওদুদ মোমেন মিঠু
ক্ষণকালের এ পৃথিবীতে সবচেয়ে সুস্পষ্ট ভবিষৎ “মৃত্যু”। তাই, এসো সে মৃত্যুকে মহান করে তুলি প্রতিদিন অন্তত একটি ভাল কাজের মধ্য দিয়ে। ধরায় আগমন : বিংশ শতাব্দীর শেষান্তে ধরা হইতে প্রস্থান : একবিংশ শতাব্দীর কোন একদিন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা : হিসাবশাস্ত্রে স্নাতক(সম্মান) ও স্নাতকোত্তর অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা : দোলনা হইতে শুরু, কবর পর্যন্ত চলবে..
সেদিন পত্রিকায় একটা খবর পড়লাম। নীলফামারীর, ঠনঠনিয়াপাড়া গ্রামের ৪০ বছর বয়সি কৃষক তাজুল ইসলাম কষ্টে আবাদ করা আলু রংপুরের তারাগঞ্জ হাটে গত সোমবার ৩টি বস্তায় ২৪০কেজি আলু ভরে হাটে বিক্রি করতে যান। প্রতি বস্তায় ৮০কেজী আলু ছিল। প্রতি বস্তা ৪০০টাকা (প্রতি কেজি ৫টাকা) দাম বলায় তাজুল হতভম্ব হয়ে পড়েন। বলতে থাকেন, " দাম না পাইলে এবার খাব কী? বাঁচব কেমন করে?" এরপরই তিনি ব্যথায় বুক চেপে ধরে আলুর বস্তার ওপর পড়ে যান। স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আলু বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি কেজি আলু ৫টাকা শুনে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন। কৃষক তাজুলের ছয় সদস্যের একটি সংসার রয়েছে।
প্রায় সময় লক্ষ্য করা যায়, কোন কোন সব্জি অধিক উৎপাদনের ফলে, চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সেই দ্রব্য তার ন্যায্য দাম হারায়। যার ফলশ্রুতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষককুল। এক্ষেত্রে সরকারের কৃষি বিভাগকে প্রতিবছর একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কোন ফসল এর কতটুকু চাহিদা, সে চাহিদা অনুসারে কৃষকদের বিভিন্ন ফসল চাষবাসে উৎসাহিত করা। লক্ষণীয় যে, এ মৌসুমে যে সব্জির দাম বেশী থাকে, কৃষকরা বেশী দাম পাবার আশায় পরের মৌসুমে সেই সব্জির দিকে ঝুকে পড়ে। আর তখনই অধিক যোগানের ফলে দাম পড়ে যায়। আর নি:স্ব হয় কৃষক।
আমার দেশের প্রতি ১০০ জন মানুষের মাঝে ৮০জন মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা অর্জন করে। আর এই কৃষকরা সবসময় তাদের ন্যয্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা শুধু জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির জন্য হৈচৈ করি। কিন্তু খেটে খাওয়া মেহনতী এই কৃষকরা যারা দিনরাত পরিশ্রম করে লাংগল চালিয়ে, গরু গুলোকে খাদ্য যুগিয়ে, ২০০টাকা রোজে একাধীক কামলা খাটিয়ে, নিজে ও নিজের বৌ ঝিরা ১বেলা খেয়ে না খেয়ে তাদের সুন্দর সময় গুলো সেখানে ব্যয় করে, বীজ বুনে, সার দিয়ে, পরিচর্যা করে, পানি দিয়ে, ফসল ফলায়। সেই ফসল বিক্রি করে সেই অর্থে তার স্ত্রী-সন্তানদের মুখে একটু খাবার তুলে দিবে, দিবে কোন তাতের শাড়ি, কাচের চুড়ি, শোধ করবে মহাজনের ঋণ। তারপর আবার নামবে নুতন ফসল ফলানোর সংগ্রামে ....
কিন্তু সেই ফসলের দাম দিয়ে যদি ফসল বাজারে আনার যাতায়াত খরচটাও না ওঠে .........তাহলে আমাদের সোনার ছেলেরা কিভাবে টিকে থাকবে। তাজুল ভাইতো মরে গিয়ে বেচেই গেলেন। কিন্তু এমন লক্ষ লক্ষ তাজুল বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে, ঋণ শোধ করতে না পারায় মহাজনীদের গালমন্দ শুনে, তারপরও তাজুলরা এই আমাদের জন্য ফসল ফলিয়ে যায়, এই সোনার বাংলার সোনার মাটিতে, সোনা ফলিয়ে যায় ................আর এভাবেই আমাদের কৃষক সমাজ দারিদ্রের দুষ্টুচক্রে পড়ে গরীব থেকে গরীব হতে থাকে। মাঝে আলু-পটলের মধ্যসত্তাভোগীদের পোয়াবার।
"মাথাল মাথায়, কাস্তে হাতে ওই কালো চাষা
ওরাই মায়ের আপন ছেলে-ওরাই মায়ের ভালোবাসা।" -গোলাম মোস্তফা
________________________________________________
সংবাদের সূত্র : শিরোনাম-"হাটেই মারা গেলেন কৃষক", প্রথম আলো, মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০১৩, পৃষ্ঠা ৩।” Click This Link
১৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:২২
মওদুদ মোমেন মিঠু বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। পৃথিবীর অনেক দেশে চাষীরা অনেক সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এই মানুষগুলো না পাচ্ছে কোন সম্মান, না পাচ্ছে তাদের টিকে থাকার নূন্যতম অধিকারটুকু। বড় কষ্ট হয়..............
২|
১৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৯
নীলতিমি বলেছেন: চুতিয়া দেশের চুতিয়া নাগরিক ! হাসিনা-খালেদা ছাড়া কিছু বোঝে না !
৩|
১৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:১৮
অাতিক বলেছেন: নীল তিমি চুতিয়া মানে কি?
৪|
১৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:২৪
ভুদাই আমি বলেছেন: দেশে কৃষি মন্ত্রী কি ঘাস কাটার জন্য বেতন গাড়ি খাচ্ছেন?
দেশে কৃষির একটা সুষ্ঠ নীতিমালা দরকার। সাও (SAAO)দের সঠিকভাবে কাজ করিয়ে নিতে হবে। এরাতো অফিসে বসেই সারা এলাকার রিপোর্ট করে ফেলে।।
অদ্ভুদ এই দেশ।। এক তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে দেশের মিডিয়ার এতো মাতামাতি। অথচ কোটি কোটি মানুষের জীবনের সাথে জড়িত এই কৃষিকে সবাই নাক সিটকায়।
তত্তাবধায়ক আসলেই কি আর না আসলেই কি? সাইদীর ফাসী হলেই কি আর না হলেই কি? আমাদের তো মাঠে কাজ করেই খেতে হবে। যাদের লাভ হবে তারা তো সুটকেসে করে টাকা নিয়ে বিদেশে মজায় আছেই।।
দেশ ও জাতি মুক্তি চাই।।
১৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:৩০
মওদুদ মোমেন মিঠু বলেছেন: আমাদের দেশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অথধনে অনেকগুলো বড়বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এব্ং তাদের অধীনে বৃহৎ সংখ্যক কর্মী বাহিনীকেও জনগন বেতন দিচ্ছে। কিন্তু আউটপুট !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! শুধু সদিচ্ছার অভাব। একটা সুষ্ঠু নীতিমালা থাকলে ও সে নীতিমালা বাস্তবায়নের চেষ্টায় ত্রুটি না থাকলে এ সোনার ফলানো চাষাদের দিন দিন এতো করুন অবস্থা হতো না...............
৫|
১৫ ই মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪০
রওনক বলেছেন: দেশে কৃষি মন্ত্রী কি ঘাস কাটার জন্য বেতন গাড়ি খাচ্ছেন?
না, তারা যুদ্ধাপরাধী বিচারে ব্যস্ত
১৬ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:৫৩
মওদুদ মোমেন মিঠু বলেছেন: ধন্যবাদ। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের পাশাপাশি তাকে তার মুল দায়িত্বের প্রতিও নজর দেয়া প্রয়োজন।
৬|
১৫ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:২৪
ইন্সিত বলেছেন: রওনক বলেছেন: দেশে কৃষি মন্ত্রী কি ঘাস কাটার জন্য বেতন গাড়ি খাচ্ছেন?
না, তারা যুদ্ধাপরাধী বিচারে ব্যস্ত
একটা সুষ্ঠ নীতিমালা দরকার।
১৬ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:০১
মওদুদ মোমেন মিঠু বলেছেন: প্রায়শই শোনা যায় কৃষি বিভাগের লোকজন খুব আলস্যের সাথে চাকুরি করেন। সপ্তাহে কয়েকদিন গিয়ে হাজিরা দিয়ে চলে আসেন।
মন্ত্রী মহোদয়, মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজাররা মাঠই পরিদর্শন করেন না শ্বশুর বাড়ী দর্শনে যান একটু তদারকি করেন। কেন চাষিদের এই দুরাবস্থা হবে তাদের জিজ্ঞাসা করেন?? তাদের গাফিলতি থাকলে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন.........যারা পরিকল্পনা/সিদ্ধান্ত গ্রহনমুলক কাজ করেন তাদের খামখেয়ালিপনা আছে কিনা একটু খতিয়ে দেখুন.............
৭|
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ২:১৫
রেজওয়ানা আলী তনিমা বলেছেন: আসলেই এসব দেখার কেউ নেই । সবাই শুধু বড় বড় প্রবৃদ্ধির সংখ্যাগুলোই দেখে। এই মাটির কাছাকাছি ''ছোটলোক''দের দেখার কেউ নেই । খুব খারাপ লাগলো।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৮
নীলতিমি বলেছেন: মধ্যসত্ত্বভুগীগুলারে স্রেফ খুন করা উচিত !