নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মহিউদ্দিন নসু

মনের কথা- সত্য কথা- বাস্তবতা- গবেষণা- সমস্যা- সম্ভাবনা- ইতিহাস- ঐতিহ্য- স্থাপত্য- ফোক কালচার সহ ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে লেখা-লিখি।

গোলাম মহিউদ্দিন নসু

মনের কথা- সত্য কথা- বাস্তবতা- গবেষণা- সমস্যা- সম্ভাবনা- ইতিহাস- ঐতিহ্য- স্থাপত্য- ফোক কালচার সহ ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে লেখা-লিখি।

গোলাম মহিউদ্দিন নসু › বিস্তারিত পোস্টঃ

অবহেলায় দুর্দিন কাটছে নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১১:৪২



গোলাম মহিউদ্দিন নসু,নোয়াখালী
“ ত্রিশ বছর থেকে লেখা-লেখি চলছে। এ সব লেখার কেউ কোন দাম দিলো না। জায়গাটা এখনো পাবলিক লাইব্রেরীর নামে আসলো না। এখনো বর্ষায় ঘরে পানি ঢোকে। ওপর থেকে পানি পড়ে। আলমীরার তলা গুলো প্রায় নষ্ট।এ যাবত প্রায় ২-৩ হাজার বই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। মুক্তি যুদ্ধের সময় ২-৩ হাজার বই খোয়া গেছে।এখনো অন্ততঃ ১৫-১৬ হাজার বই আছে। তত্বাবধানের অভাবে এগুলো কোন কাজে লাগছে না। বার্ষিক ২৫ হাজার টাকা নগদ ও ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বই সরকারী ভাবে দেয়া হতো-দায়িত্ব অবহেলার দরুন তত্বাবধায়ক সরকার আমল থেকে তা বন্ধ হয়ে গেছ। শহরের সেরা লোক জন আর জেলা শহরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকেও আজ তার দৈন্য দশা। জরাজীর্ণ ঘর। সত্যি নোয়াখালী বাসির জন্য এ সংবাদ দুঃখ জনক।”
এমন তথ্য নির্ভর কথাগুলো জানালেন, ৩৮ বছর কর্মরত পিয়ন নূরুল হুদা, ৫০ বছরের পাঠক ৭০ঊর্ব্ধ লিয়াকত আলী সহ ছোট বড় পাঠক জনরা।
পিয়ন নূরুল হুদার কাছ থেকে আরো জানা গেছে, পিয়ন হিসাবে প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮/৯টা পর্যন্ত সে কাজ করে। চার হাজার দুইশ টাকা বেতন পায়।মাসে এক হাজার টাকা বেতনে একজন ঝাড়–দার আছে সাাপ্তাহে ২/৩দিন পরিস্কারের কাজ করে।
লাইব্রেরীর বই গুলো এখন আর খুব একটা বাইরে পড়তে দেয়া হয় না, লাইব্রেরী কার্ড ব্যবহার পদ্ধতি নেই।সাতশ জনের মতো সদস্য থাকলেও কোন সদস্য চাঁদা আদায় হয় না। হুমায়ুন কবির নামে একজন সহকারী লাইব্রেরীয়ান এখনো আছে। তাকে ৬ হাজার টাকা বেতন দেয়া হচ্ছে। পূর্বে পাওয়া অনুদানের প্রায় ১১ লক্ষাধিক টাকা স্থানীয় একটি ব্যাংকে রাখা আছে। সেই আমানতের লাভের টাকায় কর্মচারী বেতন, পাঠাগারের ৬টি পত্রিকার বিল, কারেন্ট বিল ইত্যাদি খরচ গুলো মিটানো হয়।
খবর নিয়ে আরো জানা গেছে,নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরীর গঠনতান্ত্রিক বিধান মতে ব্যবস্থানা কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি, জেলার কৃতিমান সাংবাদিক সামছুল হাছান মিরনকে সদস্য সচিব করে, সদস্য হিসাবে আছেন জেলা পুলিশ সুপার,নোয়াখালী সরকারি বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ, সুবর্নচর উপজেলা চেয়ারম্যান, নোয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান,নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র, জেলা শিক্ষা অফিসার,এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, মিয়া মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংবাদিক বিজন সেন ,সাং¯কৃতিকজন বিমলেন্দু মজুমদার, এডভোকেট কাজি এবিএম শাহজাহান শাহীন, অধ্যাপক জিনাত রেহানা সদস্য হিসাবে রয়েছে। কিন্ত ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরের পরে আর কোন সভা হয়নি। কর্মকর্তারা কেউ পাঠাগারে বা অফিসে আসেন না। নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হলের এলাকায় এক একর ৩৩ শতাংশ জমিন গনপূর্তের মালিকানায় । মূল ঘরের ২১ শতক জায়গা দখলে থাকলেও আজো তা মালিকানার খতিয়ান করা বা বন্দোবস্ত নেয়া হয়নি। জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ক্ষমতাবানরা ব্যবস্থাপনা কমিটিতে থেকে ,৭০ বছরের পাবলিক লাইব্রেরীকে কোন জায়গার মালিক করা গেল না। বর্ষায় ওপর থেকে পানি পড়ে বই-পত্র নষ্ট হয়, পাঠকদের বসার দু’টি বেঞ্চ থাকলেও নড়বড়ে দশা। মেঝেতে পানি ঢুকে বই নষ্ট হয়- যা আছে তাও দেখবাল হয় না। তা হলে কারা জেলার ভালমন্দ দেখেন্ এ প্রশ্ন সকল পাঠকের ও সচেতন মহলের।
নোয়াখালী টাউন হলের সেক্রেটারী নাজমূজ শাকিব পারভেজ জানালেন, নোয়াখালী টাউন হল-পাবলিক লাইব্রেরী কমপ্লেক্স নামে ৮ তলা একটি ভবন নির্মানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। জায়গাটি কমপ্লেক্সের নামে বন্দেবস্তের জন্য জেলা গনপূর্ত বিভাগের অনাপত্তি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। যা চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসক গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরন করেছেন।
প্রসঙ্গ কথ নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠার শুরতেই ১১৯ বছর আগে, ১৮৯৬ সালে পুরানো শহর সোনাপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী। দুর্লভ হাজারো বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে শুরু হয় নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরীর পথ চলা। পুরানো শহর ‘সোনাপুর’ মেঘনায় ভেঙ্গে গেলে ১৯৪৫ সালে ‘মাইজদি’শহরের মাঝখানে প্রধান সড়কের পাশে গনপূর্ত ভবনের মালীকিয় জায়গায় টিনসেড ঘর দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় নোয়াখলী লাইব্রেরী ও টাউন হল। ব্যবস্থাপকদের দায়িত্ব সচেতনতার অভাবে পাঠাগারে বসার বেঞ্চ নেই, বই রাখার আলমীরাগুলো নষ্ট প্রায়। মূলঘরটিও জরাজীর্ন। জনহিতকর এ প্রতিষ্ঠানটি চরম অবহেলায় দুর্দিন কাটছে। দায়িত্বে থাকা কৃতিমানরা সচেতন হয়ে কৃতিত্ব অক্ষুন্ন রাখবেন । এ দাবী পাঠকসহ সকল শহরবাসীর-সচেতনজনদের।#

গোলাম মহিউদ্দিন নসু
নোয়াখালী
০১৭১৪৮৪০৮৯৪
তারিখ ঃ ১০/১৭.১০.১৫


মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.