নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মহিউদ্দিন নসু

মনের কথা- সত্য কথা- বাস্তবতা- গবেষণা- সমস্যা- সম্ভাবনা- ইতিহাস- ঐতিহ্য- স্থাপত্য- ফোক কালচার সহ ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে লেখা-লিখি।

গোলাম মহিউদ্দিন নসু

মনের কথা- সত্য কথা- বাস্তবতা- গবেষণা- সমস্যা- সম্ভাবনা- ইতিহাস- ঐতিহ্য- স্থাপত্য- ফোক কালচার সহ ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে লেখা-লিখি।

গোলাম মহিউদ্দিন নসু › বিস্তারিত পোস্টঃ

দুর্দশা গ্রস্থ নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৪৫



গোলাম মহিউদ্দিন নসু,নোয়াখালী
“ ত্রিশ বছর থেকেই লেখা-লেখি চলছে।এ সব লেখার কেউ কোন দাম দিলো না। জায়গাটা এখনো পাবলিক লাইব্রেরীর নামে আসলো না। বর্ষায় ঘরে পানি ঢোকে। ওপর থেকে পানি পড়ে। আলমীরাগুলির প্রায় সব তলাগুলি নষ্ট। ২-৩ হাজার বই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। মুক্তি যুদ্ধের সময় ২-৩ হাজার বই খোয়া গেছে।এখনো অন্ততঃ ১৫-১৬ হাজার বই আছে। তত্বাবধানের অভাবে বইগুলো কোন কাজে লাগছে না। বার্ষিক ২৫ হাজার টাকা নগদ ও ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বই সরকারী ভাবে দেয়া হতো-দায়িত্ব অবহেলার দরুন তত্বাবধায়ক সরকার আমল থেকে তা বন্ধ হয়ে গেছ। শহরের সেরা লোক জন আর জেলা শহরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকলেও আজো এটির দৈন্য দশা।দুর্দশা গ্রস্থ। জরাজীর্ণ ঘর। নোয়াখালী বাসির জন্য এ সংবাদ দুঃখ জনক।”
৩৮ বছর কর্মরত পিয়ন নূরুল হুদা, ৫০ বছরের পাঠক লিয়াকত আলী(৭০) সহ পাঠকরা এসব কথাই বললেন।
নূরুল হুদা প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮/৯টা পর্যন্ত কাজ করে। চার হাজার দুইশ টাকা বেতন পায়।মাসে এক হাজার টাকা বেতনে একজন ঝাড়–দার আছে সাাপ্তাহে ২/৩দিন পরিস্কারের কাজ করে। সহকারী লাইব্রেরীয়ান আছে একজন । ৬ হাজার টাকা বেতন দেয়। অনুদান প্রাপ্ত ১১ লাখ টাকা ব্যাংকে মেয়াদি আমানত আছে, যার লাভের টাকা দিয়ে কর্মচারী বেতন, পাঠাগারের ৬টি পত্রিকার বিল, কারেন্ট বিল ইত্যাদি খরচ মিটানো হয়। লাইব্রেরীর বই গুলো বাইরে পড়তে দেয়া হয় না, লাইব্রেরী কার্ডও নেই। প্রায় সাতশ সদস্য।কেউ চাঁদা দেয় না।
নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরীর গঠনতান্ত্রিক বিধান মতে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি, জেলার কৃতিমান সাংবাদিক সামছুল হাছান মিরনকে সদস্য সচিব করে, সদস্য হিসাবে আছেন জেলা পুলিশ সুপার,নোয়াখালী সরকারি বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ, সুবর্নচর উপজেলা চেয়ারম্যান, নোয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান,নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র, জেলা শিক্ষা অফিসার,এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, মিয়া মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংবাদিক বিজন সেন ,সাং¯কৃতিকজন বিমলেন্দু মজুমদার, এডভোকেট কাজি এবিএম শাহজাহান শাহীন, অধ্যাপক জিনাত রেহানা। কিন্ত ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরের পরে আর কোন সভা হয়নি। কর্মকর্তারা কেউ পাঠাগারে বা অফিসে আসেন না। নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হলের এলাকায় এক একর ৩৩ শতাংশ জমিন গনপূর্তের মালিকীয় । মূল ঘরের ২১ শতক জায়গা দখলে থাকলেও আজো তা লাইব্রেরীীর মালিকানায় বন্দোবস্ত নেয়া হয়নি।
জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ক্ষমতাবানরা ব্যবস্থাপনা কমিটিতে থেকে পাবলিক লাইব্রেরীর এমন দশা হলে, কারা জেলার ভালমন্দ দেখেন্ এ প্রশ্ন সকল পাঠকের ও সচেতন মহলের।
নোয়াখালী টাউন হলের সেক্রেটারী নাজমূজ শাকিব পারভেজ জানালেন, নোয়াখালী টাউন হল-পাবলিক লাইব্রেরী কমপ্লেক্স নামে ৮ তলা একটি ভবন নির্মানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। জায়গাটি কমপ্লেক্সের নামে বন্দোবস্তের জন্য জেলা গনপূর্ত বিভাগের অনাপত্তি নিয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। যা চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসক গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করেছেন।
প্রসঙ্গ কথা ঃ নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠার শুরতেই ১১৯ বছর আগে, ১৮৯৬ সালে পুরানো শহর সোনাপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী। দুর্লভ হাজারো বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে শুরু হয় নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরীর পথ চলা। পুরানো শহর ‘সোনাপুর’ মেঘনায় ভেঙ্গে গেলে ১৯৪৫ সালে ‘মাইজদি’শহরে প্রধান সড়কের পাশে গনপূর্ত ভবনের মালীকিয় জায়গায় টিনসেড ঘর দিয়ে পূনঃপ্রতিষ্ঠা হয় নোয়াখলী লাইব্রেরী ও টাউন হল। পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব অবহেলায় পাঠাগারে বসার বেঞ্চ নেই, বই রাখার আলমীরাগুলো নষ্ট প্রায়। মূলঘরটিও জরাজীর্ন। জনহিতকর এ প্রতিষ্ঠানটি চরম অবহেলায় দুর্দশা গ্রস্থ। #

গোলাম মহিউদ্দিন নসু
নোয়াখালী
০১৭১৪৮৪০৮৯৪
তারিখ ঃ ৩০.১১.১৫


মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.