নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার অথবা অন্যদের লেখা

নর্দমার রাত, হিরন্ময় তাঁত

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২

i am looking for the face i had before the world was made. -yeats. © নির্ঝর নৈঃশব্দ্য [email protected] ছবি আঁকি আর কবিতা লিখি

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কবি তসলিমা নাসরিন এর ৪টি কবিতা

০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৪৯

বাঁচো



সত্য বললে কিছু লোক আছে খুব রাগ করে,

এখন থেকে আর সত্য বোলো না তসলিমা।

গ্যালিলিওর যুগ নয় এই যুগ, কিন্তু

এই একবিংশ শতাব্দীতেও

সত্য বললে একঘরে করে রাখে সমাজ,

দেশছাড়া করে দেশ।

গৃহবন্দী করে রাষ্ট্র,

রাষ্ট্র শাস্তি দেয়,

সত্য বোলো না।



তার চেয়ে মিথ্যে বলো,

বলো যে পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘোরে,

বলো যে সূর্যের যেমন নিজের আলো আছে, চাঁদেরও আছে,

বলো যে পাহাড়গুলো পৃথিবীর গায়ে পেরেকের মতো পুঁতে দেওয়া,

বলো যে পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে নারীকে বানানো,

বলো যে নারীর ঘাড়ের কী যেন একটা খুব বাকা।

বলো যে শেষ-বিচারের দিনে মানুষেরা সব কবর থেকে,

ছাই থেকে, নষ্ট হাড়গোড় থেকে টাটকা যুবক যুবতী হয়ে

আচমকা জেগে উঠবে, স্বর্গ বা নরকে অনন্তকালের জন্য জীবন কাটাতে যাবে।

তুমি মিথ্যে বলো তসলিমা।

বলো যে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের অগুণতি গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্ররাজি মিথ্যে,

মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মিথ্যে, মানুষ চাঁদে গিয়েছিল, মিথ্যে।



মিথ্যে বললে তুমি নির্বাসন থেকে মুক্তি পাবে,

তুমি দেশ পাবে, প্রচুর বন্ধু পাবে,

হাত পায়ের শেকল খুলে দেওয়া হবে, তুমি আলো দেখবে, আকাশ দেখবে।

একা একা অন্ধকারে হাঁমুখো মৃত্যুর মুখে ছুড়ে দেবে না তোমাকে কেউ।

তুমি সত্য বলো না তসলিমা,

বাঁচো।



____________________________________________



হাত



আবার আমি তোমার হাতে রাখবো বলে হাত

গুছিয়ে নিয়ে জীবনখানি উজান ডিঙি বেয়ে

এসেছি সেই উঠোনটিতে গভীর করে রাত

দেখছ না কি চাঁদের নীচে দাঁড়িয়ে কাঁদি দুঃখবতী মেয়ে !



আঙুলগুলো কাঁপছে দেখ, হাত বাড়াবে কখন ?

কুয়াশা ভিজে শরীরখানা পাথর হয়ে গেলে ?

হাত ছাড়িয়ে নিয়েছিলাম বর্ষা ছিল তখন,

তখন তুমি ছিঁড়ে খেতে আস্ত কোনও নারী নাগাল পেলে।



শীতের ভারে ন্যুব্জ বাহু স্পর্শ করে দেখি

ভালবাসার মন মরেছে, শরীর জবুথবু,

যেদিকে যাই, সেদিকে এত ভীষণ লাগে মেকি।

এখনও তুমি তেমন আছ। বয়স গেল, বছর গেল, তবু।



নিজের কাঁধে নিজের হাত নিজেই রেখে বলি :

এসেছিলাম পাশের বাড়ি, এবার তবে চলি।



____________________________________



বড় ভয়ে গোপনে গোপনে বাঁচি



মানুষের চরিত্রই এমন

বসলে বলবে না, বসো না

দাঁড়ালে, কি ব্যাপার হাঁটো

আর হাঁটলে, ছি: বসো।

শুয়ে পড়লে ও তাড়া - নাও উঠো,

না শুলেও স্বষ্তি নেই, একটু তো শোবে !

ওঠ বস করে করে নষ্ট হচ্ছে দিন

এখনো মরতে গেলে বলে ওঠে - বাঁচো

না জানি কখন ও বাঁচতে দেখলে বলে উঠবে - ছি: মরো!

বড় ভয়ে গোপনে গোপনে বাঁচি।

____________________________________



চরিত্র



তুমি মেয়ে,

তুমি খুব ভাল করে মনে রেখো

তুমি যখন ঘরের চৌকাঠ ডিঙোবে

লোকে তোমাকে আড়চোখে দেখবে।

তুমি যখন গলি ধরে হাঁটতে থাকবে

লোকে তোমার পিছু নেবে, শিস দেবে।

তুমি যখন গলি পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠবে

লোকে তোমাকে চরিত্রহীন বলে গাল দেবে।



যদি তুমি অপদার্থ হও

তুমি পিছু ফিরবে

আর তা না হলে

যেভাবে যাচ্ছ, যাবে।

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +৫/-৩

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৫৩

টিপু পাগলা বলেছেন: যদি তুমি অপদার্থ হও
জানলে জানান

২| ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৫৫

bangal manus বলেছেন: বাক্কা সুন্দর
ডিস্কো বান্দর

৩| ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৫৯

দ্যা ফ্রীল্যান্সার বলেছেন: অনবদ্য।

৪| ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:০০

আলী প্রাণ বলেছেন: একা একা অন্ধকারে হাঁমুখো মৃত্যুর মুখে ছুড়ে দেবে না তোমাকে কেউ।
তুমি সত্য বলো না তসলিমা,
বাঁচো।

৫| ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:২০

ঘোর বলেছেন: নারীসুলভ লেখা।

৬| ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১৪

অরণ্যানন্দ বলেছেন: :)

৭| ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:২২

মাহফুজশান্ত বলেছেন: মিথ্যা বললে কিছু লোক আছে খুব রাগ করে,
এখন থেকে আর মিথ্যা বোলো না তসলিমা।
গ্যালিলিওর যুগ, সব যুগ এবং
এই একবিংশ শতাব্দীতেও সত্য সত্যই,
মিথ্যা বললে একঘরে করে রাখে সমাজ,
দেশছাড়া করে দেশ।
গৃহবন্দী করে রাষ্ট্র,
রাষ্ট্র শাস্তি দেয়,
আর মিথ্যা বোলো না।

তার চেয়ে সত্য বলো,
বলো যে সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘোরে,
বলো যে সূর্যের যেমন নিজের আলো আছে, চাঁদের তেমন নেই,
বলো যে পাহাড়গুলো পৃথিবীর গায়ে পেরেকের মতো শক্ত করে গাথা,
বলো যে পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে নারী সৃষ্ট নয়,
বলো যে নারীর স্বভাব কোমল, তাই কঠিন আচরনে মনটা ভেঙ্গে যেতে পারে।
বলো যে শেষ-বিচারের দিনে মানুষেরা সব কবর থেকে,
ছাই থেকে, নষ্ট হাড়গোড় থেকে টাটকা যুবক যুবতী হয়ে
আচমকা জেগে উঠবে, স্বর্গ বা নরকে অনন্তকালের জন্য জীবন কাটাতে যাবে।
তুমি সত্য বলো তসলিমা।
বলো যে স্রষ্টার সৃষ্ট এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের অগুণতি গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্ররাজি সত্য,
মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সত্য, মানুষ চাঁদে গিয়েছিল, তাও সত্য।

সত্য বললে তুমি নির্বাসন থেকে মুক্তি পাবে,
তুমি দেশ পাবে, প্রচুর বন্ধু পাবে,
হাত পায়ের শেকল খুলে দেওয়া হবে, তুমি আলো দেখবে, আকাশ দেখবে।
একা একা অন্ধকারে হাঁমুখো মৃত্যুর মুখে ছুড়ে দেবে না তোমাকে কেউ।
তুমি আর মিথ্যা বলো না তসলিমা,
এবার বাঁচার মত বাঁচো।

৮| ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৫৩

মাহফুজশান্ত বলেছেন: তুমি মেয়ে ও মা
তুমি খুব ভাল করে মনে রেখো
তুমি যখন বেপর্দা ঘরের চৌকাঠ ডিঙোবে
লোকে তোমাকে আড়চোখে দেখবে।
তুমি যখন এলো-কেশে কোমড় দুলিয়ে গলি ধরে হাঁটতে থাকবে
লোকে তোমার পিছু নেবে, শিস দেবে।
তুমি যখন নির্লজ্য বেশে গলি পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠবে
লোকে তোমাকে চরিত্রহীন বলে গাল দেবে।

যদি তুমি অপদার্থ না হও
তুমি পর্দা করবে
আর তা না হলে
নাজেহাল তো তুমিই হবে।

৯| ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৫৯

মাহফুজশান্ত বলেছেন: এবার সত্য পথে সাহস নিয়ে বাঁচার মত বাঁচ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.