নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সমস্ত নিরবতা সেই শালিকের জন্য,যার বুক জুড়ে ধানের প্রেম

গর্তজীবি

নির্বাক আর্তনাদ, নিঃশব্দ চিৎকারগুলো কেউ শুনতে পায় না, আবৃত শুণ্যতা, অব্যাক্ত পরাজয়ের কান্না কেউ দেখতে পায় না ; তাই আমি এত সুখী ।

গর্তজীবি › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশে পারিবারিক/সামাজিক পর্যায়ে মেয়েদের অবস্থানে সত্যিই কি কোন পরিবর্তন এসেছে ?

০৯ ই জুন, ২০১৩ রাত ৩:০৫

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষ্যমতে বর্তমান বাংলাদেশের স্লোগান 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' । এই ডিজিটাল যুগে আমাদের দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতা বিশিষ্ট বেশকিছু পদে/গদিতে নারীরা আসীন । প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই, তবে এই সরকারের শাসনামলে প্রথমবারের মত -পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ( বদল হয়েছেন ) ও স্পিকার পদে নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে । এতে করে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিকভাবে নারীর মূল্যায়ন বৃদ্ধি পাওয়ার অনেক 'সম্ভাবনা ও স্বপ্নময় বাণী' শোনানো হয়েছিল । কিন্তু দিন গড়াতে থাকল সেই আগের নিয়মেই । তেমনভাবে এই দেশের নারী/তরুণী/কিশোরী/মেয়ে শিশুদের অবস্থানের কোন পরিবর্তনই হয়নি । বরঞ্চ কখনও কখনও এমন কিছু ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে যে নিশ্চিত নিরাপদ বলয়ে থেকেও নিজে একজন মেয়ে হয়ে জন্মানোকে ভয়ানক অভিশাপ ভেবে আতকে উঠেছি বারবার ! সে সব দুঃসহ ঘটনা কম বেশি অনেক আলোচিত হয়েছে, সেই টপিকে যাচ্ছি না ।



আমার এক সহপাঠীর কথা বলার জন্য এই লেখা । দেখতে-শোনতে সে যথেষ্ট সুশ্রী । বেশ ক'মাস ধরেই ওর বিয়ের কথাবার্তা চলছিল । মেয়েটির দু'মাস বয়সের সময় তার বাবা মারা যান । মা গ্রামের বাড়িতে থাকেন আর এখানে সে ভাই-ভাবীর সাথে থাকে । বড়ভাইয়ের পছন্দে যে পাত্র ঠিক করা হয়েছে মেয়েটির তাকে পছন্দ নয় । শুধু যে অপছন্দ তাই নয়, ওর নাকি ছেলেটির মুখের দিকেই তাকাতে ইচ্ছে হয় না ! পাত্র-পাত্রীর বয়সের পার্থক্য ১০-১২ বছর হবে ।

আন্টি তার মেয়েকে বলেছিলেন 'তুই একবার 'না' বল, এই বিয়ে আমি যেভাবেই হোক আটকাবো' ।

কিন্তু ভাই-ভাবীর সংসারে বেড়ে উঠা মেয়েটি সেই সাহস করে উঠতে পারেনি । কারণ হিসেবে জানাল যে এর ফলে ওর মা'কে অনেক কিছু সহ্য করতে হত, আর সেটা ও মেনে নিতে পারবে না ।

আমরা বান্ধবীরা ওকে বলেছিলাম ছেলেকে বলতে যে - এই বিয়ে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে হচ্ছে । [তখন সে যে উত্তরটা দিল তাতে খুব রাগ লাগছিল এই ভেবে যে - আমরা নিজেদের এত অসহায় ভাবি যে নিজেদের উপর বিশ্বাসের 'ব' টাও আমাদের মধ্যে নেই ! ] সে বলল - 'বাবা থাকলে আমার মতামতের মূল্য থাকত, ভাইদের পছন্দের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার মত পরিস্থিতি আমার নেই ।'

একজন জিজ্ঞাসা করল - 'যাকে তোর এত অপছন্দ, তার সঙ্গে সারাজীবন কিভাবে কাটাবি ?'

উত্তরে বলল - 'জানিনা, তবে কাটাতে তো হবেই !'

গত শুক্রবার সেই ছেলের সঙ্গেই ওর বিয়ে হয়েছে । দোয়া করি এই অপছন্দের মানুষটি ওর সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠবে । সেই সাথে আশা করি ওরা এমন একটি পরিবার গড়ে তোলবে যেখানে ওদের সন্তানেরা নির্ভয়ে তাদের মতামত জানাতে পারবে ।



বর্তমান সময়ে নগরবাসী একটা শিক্ষিত পরিবারে এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে যে একটি মেয়ে তার পছন্দ-অপছন্দ প্রকাশের সাহস করতে পারে না, তা আমার ভাবনার বাইরে ছিল । আরো বিস্মিত হই যখনি মনে পড়ছে, সে আমারই সহপাঠী, খুব কাছের জন ! সেই সাথে বারবার একটি প্রশ্ন মনে উঁকি দিচ্ছে - ও যদি মেয়ে না হয়ে ছেলে হত, তাহলেও কি এই বিয়েটা হত ? তবুও কি অনিচ্ছা সত্তেও এভাবে চুপচাপ ভাইয়ের পছন্দ মেনে নিত ?



আসল কথা হচ্ছে আমাদের সমাজ এখনও নারীর স্বাধীন (শালীন) চলাফেরা ও মত প্রকাশে অভ্যস্ত হতে পারেনি । রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন করে প্রকৃতপক্ষে কোন পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব নয়, তা আমাদের সমাজে প্রমাণিত সত্য । যতদিন না প্রতিটি ব্যাক্তি ও পরিবার অন্ততপক্ষে নারীর পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা-অনিচ্ছা জানার ও মেনে নেয়ার মানসিকতা অর্জন না করবে ততদিন এই 'নারী ক্ষমতায়ন' একটি ফাঁপা শব্দ হয়েই থাকবে ।

আমি মনে করি না যে এজন্য আমাদের মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন । আমরা কোন অসভ্য জাতি নই যে মানসিকতায় সমস্যা আছে/আমরা মুক্ত চিন্তা করতে পারি না ! শুধুমাত্র আমাদের সামান্য সহনশীলতা ও খানিকটা সচেতনতার দ্বারা এমন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব - যেখানে কিছু অসুস্থ মস্তিষ্কের জানোয়ার নারীকে শুধুই তাদের বিকৃত অভিলাষ পূরণের সামগ্রী ভাবারও সাহস করবে না, যেখানে একজন মা তার ৭ মাস/১১ বছর/২১ বছর বয়সী মেয়েটি চোখের আড়াল হতেই তার সম্ভ্রমহানির দুঃশ্চিন্তায় আতকে উঠবেন না, যেখানে আলাদা করে 'নারী অধিকার/নারীর মূল্যায়ন' কথাগুলোর কোন প্রয়োজন থাকবে না ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.